পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

ইসলামের দৃষ্টিতে বর-কনের বয়সের পার্থক্য কতো হওয়া উচিৎ?

photoনিউজ ডেস্ক : মাওলানা মিরাজ রহমান: বর্তমানে মানুষ মেয়েদের অধিকারের ব্যাপারে অত্যন্ত অবহেলা করে। যেমন, বাচ্চা মেয়ের বিয়ে বয়স্ক পুরুষের সঙ্গে দেয়া। যার পরিণতি হলো স্বামী যদি মারা যায় তাহলে মেয়ের চরিত্র নষ্ট হয়। আবার কোথাও এই অবিচার হয়, ছোটো ছেলের সঙ্গে যুবতি মেয়ের বিয়ে দেয়। এখানে একটি বিয়ে হয়েছে বর ছোটো আর কণে বয়স্ক। দুইজনের বয়সের পার্থক্য এতো যদি মহিলার প্রথম সন্তান ছেলে হতো তাহলে বর তার সমবয়সী হতো। আমি এমনটা অপছন্দ করি। এই অপছন্দ ওয়াজিব বা হারামের পর্যায় নয়। বরং অপছন্দ স্বভাবসূলভ এবং বিবেকের। বয়সের সমতা হলে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের মাঝে আন্তরিকতা সৃষ্টি হয়। [দাওয়াতে আবদিয়্যাত আজলুল জাহিলিয়্যাত, পৃষ্ঠা-৩৫৬।]

স্বামী-স্ত্রীর বয়সের সমতা শরিয়তের বিধান : স্বামী-স্ত্রীর বয়সের সমতা রক্ষা করা আবশ্যক। বয়স স্বামী-স্ত্রীর মাঝে আচরণগত (স্বভাব ও দৈহিক) বিষয়। এক প্রকার শরয়ী বিষয়ও বটে। এ ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধানও লক্ষ্যণীয়।

কুরআন শরীফে ইরশাদ হয়েছে,

قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ أَتْرَابٌ

অর্থাৎ জান্নাতে হুরগণ (জান্নাতের রমণী) সমবয়সী হবে।

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে,

أَنشَأْنَاهُنَّ إِنشَاء فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا عُرُبًا أَتْرَابًا

আমি জান্নাতী নারীকে উত্তমরূপে সৃষ্টি করেছি। অতপর তাদেরকে করেছি চিরকুমারী। কামিনী সমবয়স্কা।

বয়সের ব্যবধানে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। আমি লক্ষ্য করেছি, বাচ্চাদের সঙ্গে বাচ্চাদের যেমন আন্তরিকতা হয় বড়দের সঙ্গে তেমন হয় না। হজরত ফাতেমা রা. এর বিয়ের প্রস্তাব সর্ব প্রথম হজরত আবু বকর রা. দেন। অতপর হজরত ওমর রা. প্রস্তাব দেন। কারণ, এটুকু যোগ্যতা ও সম্মান তাঁদের অর্জিত ছিলো। তাঁদের কন্যাদ্বয় রাসুলুল্লাহসাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সম্মাণিতা স্ত্রী ছিলেন। এখন তারা রাসুলুল্লাহসাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জামাতা সম্মান অর্জন করবেন। রাসুলুল্লাহসাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, انها لصغيرة সে অনেক ছোট। তাঁদের বয়স অনেক বেশি ছিলো। রাসুলুল্লাহসাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বয়সের কথা বিবেচনা করে তাঁদের আবেদন নাকচ করে দেন।

হজরত ফাতেমা রা. এর বিয়ের ঘটনা উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো, হজরত শায়খাইন রা. (আবু বকর ও ওমর) এর সঙ্গে বিয়ে দিতে রাসুলুল্লাহসাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আপত্তি ছিলো সে ছোট। বাচ্চা। এর থেকে বুঝা গেলো মেয়ের বয়স কম হলে স্বামীর বয়স বেশি হওয়া উচিৎ নয়। বয়সের অসমতায় বিয়ে দেয়াও ঠিক নয়। [দাওয়াতে আবদিয়্যাত আজলুল জাহিলিয়্যাত।]

হজরত ফাতেমা [রা.] -এর বিয়ের সময় বয়স ছিলো সাড়ে পনেরো বছর। হজরত আলী রা. বয়স ছিলো একুশ বছর। এর থেকে জানা যায়, বর-কণের বয়সের সমতা ঠিক রাখা উচিৎ। উত্তম হলো সমবয়সী স্বামী সমবয়সী স্ত্রী থেকে একটু বড় হবে। জ্ঞানীগণ বলেন, মেয়ে যদি একটু ছোট হয় তাহলে সমস্যা নেই। রহস্য হলো নারী অধীনস্থ হয় এবং কর্তৃত্বকারী। তাছাড়াও নারীর শারীরিক শক্তি ও সামর্থ থাকে দুর্বল। ফলে সে আগে বৃদ্ধা হয়ে যায়। যদি দুই-চার বছরের পার্থক্য থাকে তাহলে সমতা আসে। [হুকুকুল জাওযাইন, পৃষ্ঠা-৩৭০।]

Posted in ইসলাম | Comments Off on ইসলামের দৃষ্টিতে বর-কনের বয়সের পার্থক্য কতো হওয়া উচিৎ?

শবেবরাতের পরিচয়

file (3)ইসলাম ডেস্ক : শাবান মাস হলো আরবি বছরের অষ্টম এবং রমজান মাসের পূর্ব প্রস্তুতিমূলক মাস। এ মাসটি রমজানুল মুবারকের আগমনী বার্তা বহন করে মুসলিম উম্মাহর প্রাণে এক মহিমাপূর্ণ আনন্দের সঞ্চার করে। শাবান মাস থেকেই রমজান মাসের ফজিলত ও বরকত লাভের জন্য মহানবী সা:-এর সাথে সাহাবাগণও নফল রোজা, কুরআন তিলাওয়াত ও নানা ইবাদতের মাধ্যমে প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। এ মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি অতিশয় মর্যাদাপূর্ণ রাত হিসেবে উদযাপিত হয়ে থাকে। এ রাতটি ‘শবেবরাত’ হিসেবেই অধিক পরিচিত।

শবেবরাতের পরিচয়
‘শব’ ফারসি শব্দ। এর অর্থ রাত। আর ‘বারাত’ অর্থ নিষ্কৃতি বা মুক্তি। সুতরাং শবেবরাত অর্থ হচ্ছে নিষ্কৃতি বা মুক্তির রাত। মহানবী সা: এ রাতটিকে ‘লাইলাতুন নিছফি মিন শাবান’ (শাবান মাসের মধ্যরজনী) হিসেবে অভিহিত করেছেন। বাংলাভাষী মুসলিমদের কাছে রাতটি ভাগ্যরজনী হিসেবে সুপরিচিত।
আল-কুরআনে শবেবরাত
‘শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। আমি তো এ কিতাব নাজিল করেছি এক মুবারক রজনীতে; আমি তো সতর্ককারী। এ রজনীতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। আমার আদেশক্রমে, আমি তো রাসূল প্রেরণকারী’ (সূরা দুখান, ৪৪ : ২-৫)।
শবেবরাতের পক্ষে যেসব মনীষী কুরআনের এ আয়াতগুলো দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন, তাদের দলিলটি যথাযথ বলে মনে হয় না। কারণ ‘লাইলাতুম মুবারাকাহ’ দ্বারা ‘লাইলাতুল কদর’ অর্থ নেয়াটাই বেশি যুক্তিসঙ্গত। কেননা কুরআন মাজিদের দুই জায়গায় স্পষ্ট ও পরিষ্কার ভাষায় মহান আল্লাহ বলেছেন :
‘রমজান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে’ (সূরা বাকারা, ২:১৮৫)।
‘নিশ্চয় আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি মহিমান্বিত রজনীতে’ (সূরা কদর, ৯৭:১)।
তাই বলা যায়, আলোচ্য আয়াতে মুবারক রজনী বলতে ‘লাইলাতুল কদর’ বা কদরের রজনীই উদ্দেশ্য। শবেবরাত উদ্দেশ্য নয়।
হাদিস শরীফে শবেবরাত
হজরত আয়েশা রা: বলেন, এক রাতে আমি মহানবী সা:-কে বিছানায় খুঁজে পেলাম না। তাই আমি তাঁর তালাশে বের হলাম। আমি (মসজিদে নববীর পূর্ব পাশের) বাকী নামক কবরস্থানে তাঁকে আকাশের দিকে মাথা উঠানো অবস্থায় দেখতে পেলাম। তিনি বললেন, হে আয়েশা! তুমি কি ধারণা করছো যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সা: তোমার ওপর জুলুম করেছেন? আয়েশা রা: বলেন, আমি বললাম, আমি তদ্রƒপ ধারণা করিনি। তবে আমি ভেবেছিলাম, আপনি আপনার অন্য কোনো স্ত্রীর ঘরে গেছেন। মহানবী সা: বলেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাতে প্রথম আকাশে আসেন। অতঃপর তিনি কালব গোত্রের মেষপালের পশমগুলোর চেয়ে বেশি সংখ্যক লোককে ক্ষমা করেন’ (ইবনে মাজা, তিরমিজি)।
হজরত আলী রা: বলেন রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘যখন ১৫ শাবানের রাত আসে তখন তোমরা এ রাতে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করো এবং দিনে রোজা রাখো। কেননা সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর মহান আল্লাহ পৃথিবীর নিকটতম আকাশে আসেন। তার পর তিনি বলেন, আমার কাছে কেউ ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো। কেউ জীবিকার প্রার্থী আছে কি? আমি তাকে জীবিকা দেবো। কোনো রোগাগ্রস্ত আছে কী? আমি তাকে আরোগ্য দান করব। ফজর হওয়ার আগ পর্যন্ত এভাবে তিনি বলতে থাকেন’ (ইবনে মাজা)।
হজরত আবু মূসা আল আশআরী রা: থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘আল্লাহ ১৫ শাবানের রাতে আত্মপ্রকাশ করেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া অন্য সবাইকে ক্ষমা করে দেন’ (ইবনে মাজা)।
আলোচ্য হাদিসত্রয় পর্যালোচনা করে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, মহান আল্লাহ এ রাতে প্রথম আকাশে আগমন করে ওই সব পাপীকে ক্ষমা করেন, যারা এ রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত করেন। ক্ষমা প্রত্যাশীদের মধ্য থেকে মুশরিক এবং হিংসুকদের বাদ দেয়া হলেও মাজাহেরে হক কিতাবের ভাষ্য অনুযায়ী, আরো ১০ শ্রেণীর লোক আন্তরিকভাবে তওবা ছাড়া ক্ষমার আওতায় আসবে না। তারা হলো- ১. মা-বাবার অবাধ্যচারী ২. আত্মীয়তার সম্পর্ক কর্তনকারী ৩. মদপানে অভ্যস্ত ব্যক্তি ৪. জেনাকারী ৫. জুলুম করে কর আদায়কারী ৬. জাদুকর ৭. গণক ৮. বাদ্যযন্ত্র বাদক ৯. ভবিষ্যৎ বক্তা ১০. পরিধেয় বস্ত্র টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরিধানকারী।
হাদিসত্রয় সম্পর্কে কিছু কথা
উপরিউক্ত হাদিসত্রয়কে কেউ কেউ জইফ হিসেবে সাব্যস্ত করে বলেন যে, জইফ হাদিস অনুযায়ী আমল করা যাবে না। সুতরাং এ রাতের ইবাদত ভিত্তিহীন।
যারা এ ধরনের কথা বলেন তাদেরকে অর্বাচীন বলে মনে হয়। হাদিসের প্রসিদ্ধ ইমামগণের কেউই এ ধরনের কথা বলেননি। ইমাম আবু হানিফা র: বলেছেন, আমাদের ইজতিহাদভিত্তিক মতামতের বিপরীতে তোমরা যদি একটি জইফ হাদিসও পাও তবে আমাদের মত পরিহার করে জইফ হাদিস গ্রহণ করবে।
হাদিস শাস্ত্রের মূল নীতি অনুযায়ী দুর্বল হাদিসের সমর্থনে যদি সহিহ হাদিস থাকে তবে ওই দুর্বল হাদিস মোতাবেক আমল করা যাবে। শবেবরাতের সমর্থক হাদিসগুলোর সমর্থনে নি¤েœাক্ত সহিহ হাদিস বিদ্যমান।
‘মহান আল্লাহ প্রতি রাতের শেষভাগে নিকটবর্তী আকাশে এসে বান্দাদের সম্বোধন করে বলেন, কে আছো আমার কাছে প্রার্থনাকারী, আমি তার প্রার্থনা কবুল করব। কে আছো আমার কাছে কিছু চাওয়ার আমি তাকে তা দান করব। কে আছো আমার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী? আমি তাকে ক্ষমা করব’ (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজা)।
করণীয় কার্যাবলি
ষ সাধ্য অনুযায়ী ইবাদত বন্দেগি করা
ষ দান খয়রাতের হাত প্রসারিত করা
ষ বেশি পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করা
ষ নফল রোজা রাখা
ষ নিজের কৃত গুনাহ স্মরণ করে বেশি পরিমাণে তওবা করা
ষ মা-বাবার প্রতি সর্বদা দয়ার হাত প্রসারিত থাকবে এ প্রতিশ্র“তি করে তাদের প্রতি যতœবান হওয়া
ষ আত্মীয়স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা
ষ মদ, সুদ, ঘুষ পরিহার করার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করে হালাল উপায়ে অর্থ উপার্জনে সচেষ্ট হওয়া
ষ জেনা-ব্যভিচার পরিহার করে এর সাথে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কাজ পরিহার করা
ষ অন্যায়ভাবে অর্থ আদায় এবং আত্মসাৎ না করা
ষ গণকের কাছে ভাগ্যলিপি সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য যাওয়াকে চিরতরে বন্ধ করা
ষ অশালীন গান, বাদ্যযন্ত্রসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান বর্জনের মানসিকতা তৈরি করা
ষ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে মন্তব্য করা বা তা বিশ্বাস করা পরিহার করা
ষ পুরুষের টাখনুর নিচে পোশাক পরিধান বর্জন করা
ষ গীবত, চোগলখুরি, পরনিন্দা ইত্যাদি পরিহার করা।
এক কথায়, একজন পরিপূর্ণ মানুষ হওয়ার জন্য যা যা গুণ অর্জন প্রয়োজন শবেবরাতের ইবাদত বন্দেগি করার সাথে সাথে সে গুণগুলো অর্জনের দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করা।
বর্জনীয় কার্যাবলি
শবেবরাত একটি ফজিলতপূর্ণ রাত। এ রাতে শরিয়তের নির্দেশ মোতাবেক ইবাদত করলে বিপুল নেকি অর্জন হয়। কিন্তু কিছু ভাগ্যহত মুসলিম এ রাতে এমন কতকগুলো শরিয়তবিরোধী কাজ করেন, যার ফলে গুনাহ মাফ হওয়ার পরিবর্তে আরো নতুন গুনাহ যোগ হয়। যেমনÑ
ষ সারা রাত ইবাদত করে ফজর নামাজ না পড়ে ঘুমিয়ে পড়া
ষ আতশবাজি ফুটানো
ষ হালুয়া-রুটি বিতরণ
ষ সরকারি-বেসরকারি ভবনে আলোকসজ্জা করা
ষ কবরস্থানগুলোতে আগরবাতি, মোমবাতি জ্বালানো
ষ মৃত ব্যক্তিদের রূহ নিজেদের বাসস্থানে আসে এ ধারণা করা
ষ এ রাতে ঘুমানোকে অন্যায় মনে করা
ষ কমপক্ষে ১০০ রাকাত নামাজ পড়তেই হবে এ ধরনের ধারণা করা
ষ দলবেঁধে কবরস্থানে যাওয়াকে আবশ্যক মনে করা ইত্যাদি।
শেষ কথা
শবেবরাত আসে আবার চলে যায়। অনেক মুসলিম এ রাতটিকে নাজাত পাওয়ার উছিলা মনে করে সারা রাত ইবাদত করে থাকেন। তাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে; যাতে ফজরের নামাজ কাজা না হয় এবং ইসলামবিদ্বেষী কাজ করে ছাওয়াবের পরিবর্তে গুনাহ কামাই না হয়।
মনে রাখতে হবে, অনুষ্ঠানসর্বস্ব প্রাণহীন ইবাদতের কোনো মূল্য ইসলামে নেই। ইসলামের রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনকাঠামো।। তাই ভাগ্য উন্নয়ন এবং নাজাত লাভের জন্য দু-এক রাত জেগে ইবাদত করা বা তওবা ইস্তেগফার করাই যথেষ্ট নয়; বরং সামগ্রিক জীবনকেই কুরআন-সুন্নাহ মুতাবেক গঠিত ও পরিচালিত করতে হবে।

 

Posted in ইসলাম | Comments Off on শবেবরাতের পরিচয়

পবিত্র কোরআনের নামে কসম করে তা ভাঙ্গলে কি করতে হবে?

untitled-9_186772ডেস্ক রিপোর্ট : দুই বছর পূর্বে চাচাত ভাইদের সাথে ঝগড়া হওয়ায় আমি কুরআন মজীদ হাতে নিয়ে বলেছিলাম, কুরআন মজীদের কসম, আমি চাচাত ভাইদের বাড়িতে আর যাব না। এখন তাদের সাথে আমার ঝগড়া মিটে গেছে। কুরআন মজীদের নামে কসম করলে তা কার্যকর হয় কি না এবং আমি তাদের বাড়িতে গেলে আমার কসম ভঙ্গ হবে কি না?

জ্বী, কুরআন মজীদের কসম করলে কসম সংঘটিত হয়ে যায়। তাই আপনি চাচাত ভাইদের বাড়ি গেলে কসম ভেঙ্গে যাবে এবং কাফফারা আদায় করা ফরয হবে। কসমের কাফফারা হল, দশ জন মিসকীনকে দুই বেলা তৃপ্তি সহকারে খানা খাওয়ানো। অথবা প্রত্যেককে এক জোড়া কাপড় দেওয়া। আর তা সম্ভব না হলে এক নাগাড়ে তিন দিন রোযা রাখা। উল্লেখ্য, কসম একমাত্র আল্লাহ তাআলার নামেই করা যায়। আল্লাহ তাআলার নাম ব্যতীত অন্য কোনো জিনিসের কসম করা নাজায়েয। এমনকি কুরআন মজীদের কসম করাও নিষিদ্ধ। [বাদায়েউস সানায়ে ৩/৬৩; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৮৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৫৩]

Posted in ইসলাম | Comments Off on পবিত্র কোরআনের নামে কসম করে তা ভাঙ্গলে কি করতে হবে?

পানিতে ভাসমান মসজিদ!

King Hassan II Mosque, Casablanca, Moroccoডেস্ক রিপোর্ট : প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যানের কথা শুনলে মনে হয় বিশাল এক বাগান যেন শূন্যে ঝুলে আছে আর বাতাসে দোল খাচ্ছে। আসলে ব্যাপারটা কিন্তু তা নয়। তেমনই দূর থেকে দেখলে মনে হবে ভেসে আছে কিন্তু আসলে ভেসে নেই, এমন একটি মসজিদ আছে মরক্কোয়। বাদশাহ দ্বিতীয় হাসান এ মসজিদটি তৈরি করেছেন ক্লাসাবাঙ্কা শহরে।

মসজিদটির নির্মাণ কাজ করেন ফরাসি কোম্পানি বয়গিসের প্রকৌশলীরা। আর এর নকশা তৈরি করেছিলেন বাদশা হাসানের ফরাসি স্থপতি মিশেল পিনচিউ।

মসজিদটিকে যে কারণে ভাসমান মসজিদ বলা হয় সেটা হলো, মসজিদটির তিনভাগের একভাগ আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর অবস্থিত। দূরের কোনো জাহাজ থেকে দেখলে মনে হয়, ঢেউয়ের বুকে মসজিদটি দুলছে আর মুসল্লিরা যেন নামাজ পড়ছেন পানির ওপর।

মসজিদটি কিন্তু ছোটখাটো নয়। এখানে প্রায় ১ লাখ মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। এর মিনারের উচ্চতা ২০০ মিটার! আর মেঝে থেকে ছাদের উচ্চতা ৬৫ মিটার। মসজিদের ছাদটি প্রতি ৩ মিনিট পরপর যান্ত্রিকভাবে খুলে যায়। ফলে মসজিদের ভেতরে প্রাকৃতিক আলো ও মুক্ত বাতাস প্রবেশ করতে পারে। তবে বৃষ্টির সময় ছাদটি খোলা হয় না। মসজিদটি এতই বড় যে, এর মূল কাঠামোর ভেতর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গির্জা সেন্ট পিটার্সকেও অনায়াসে বসিয়ে দেয়া যাবে।
২২.২৪ একর জায়গার ওপর অবস্থিত এ মসজিদের মূল ভবনের সঙ্গেই আছে লাইব্রেরি, কোরআন শিক্ষালয়, ওজুখানা এবং কনফারেন্স রুম। ২৫০০ পিলারের ওপর স্থাপিত এ মসজিদের ভেতরের পুরোটাই টাইলস বসানো। শুধু তাই নয়, কোথাও কোথাও আবার সোনার পাত দিয়ে মোড়া। মসজিদ এলাকার আশপাশে সাজানো আছে ১২৪টি ঝরনা এবং ৫০টি ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি। এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৮৭ সালের আগস্টে। প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক ও কারুশিল্পীর দিনে দুই শিফট শ্রমের ফলে প্রায় সাত বছরে নির্মিত হয় এ মসজিদ। মসজিদটির উদ্বোধন করা হয় ১৯৯৩ সালের ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর দিন।
অত্যাধুনিক এ মসজিদটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে তৎকালীন ৮০ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা!

Posted in ইসলাম | Comments Off on পানিতে ভাসমান মসজিদ!

কোরআনে কেন ভুল নেই!

624fb0fdf539abdb6de1b7767e283988পিস টিভির প্রশ্নোত্তর পর্বে ড. জাকির নায়েককে প্রশ্ন করা হয়, আপনি বলেছেন কোরআনে কোনো ভুল নেই। আমি কোরআনে ব্যাকরণগত ভুল দেখতে পাচ্ছি। আপনি এ বিষয়ে কি বলবেন? উত্তরে ড. জাকির নায়েক বলেন, এর কয়েকটি উত্তর রয়েছে।
আরবি ভাষার সাহিত্যের সর্বোচ্চ গ্রন্থ হচ্ছে কোরআন। আর আরবি ভাষার সকল ব্যাকরণ এসেছে কোরআন থেকে। কোরআন হচ্ছে আরবি ভাষার ব্যাকরণের মূলগ্রন্থ। আর যেহেতু কোরআন ব্যাকরণের মূলগ্রন্থ তাই কোরআনে কোনো ভুল থাকতে পারে না।
আরবি ভাষায় ব্যাকরণ মাঝে মাঝেই বদলে যায়। আরবীয় গোত্রে যে শব্দটা স্ত্রী বাচক অন্য গোত্রে সে শব্দটা পুরুষ বাচক। একই শব্দ; তবে গোত্রভেদে ব্যাকরণ পরিবর্ত হয়। এমনকি শব্দের লিঙ্গও বদলে যায়। তাহলে কি আপনি এ পরিবর্তিত ব্যাকরণ দিয়ে কোরআনের ব্যাকরণ পরীক্ষা করবেন?
এ ছাড়াও কোরআনের ভাষা এত উঁচু মানের যে এর কাছাকাছি কোনো সাহিত্য নেই। যেমন কোরআনে নুহ নবীর সম্প্রদায় সম্পর্কে বলা হয়েছে, তারা তাদের সকল নবীকে ত্যাগ করেছিল। অথচ ইতিহাস থেকে আমরা জানি মাত্র একজন নবী তাদের নিকট পাঠানো হয়েছিল। তাহলে কি কোরআনে সকল নবী উল্লেখ করাটা ব্যাকরণগত ভুল! আপনি আমি মনে করতে পারি ব্যাকরণগত ভুল। কিন্তু যারা আরবি ভাষা জানেন তারা বলেন, পৃথিবীর সকল নবীদের হেদায়াতের বাণী একটাই যে ইশ্বর একজন। এটা তাওহিদ ও আল্লাহরও বাণী। আর লুত ও নুহ নবীর লোকজন তাদের নবীকে ত্যাগ করে পরোক্ষভাবে সকল নবীকেই ত্যাগ করেছিল। এ কারণেই কোরআনে সকল নবীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ হচ্ছে ভাষার অলঙ্কার। ইউটিউব থেকে

Posted in ইসলাম | Comments Off on কোরআনে কেন ভুল নেই!

কাঙ্ক্ষিত পরিবার গঠনে করণীয়

Wholesale_BG_554899543মানুষ হিসেবে আমরা সবাই সুখপ্রত্যাশী। সুতরাং সুখ নিশ্চিত করতে হলে সুস্থ ও সমৃদ্ধ পরিবার গড়ে তুলতে হবে। চেষ্টা করতে হবে কোনো সন্তান যেন বাবা-মায়ের আদর-যত্ন এবং মায়া-মমতা থেকে বঞ্চিত না হয়। এ ঘাটতি কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।

আমরা জানি, একটি পরিবার থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি-শৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। কারণ সমাজের প্রতিটি মানুষ কোনো না কোনো পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মানুষ তার পরিবার থেকেই সমাজ ও রাষ্ট্রের রীতিনীতির সঙ্গে প্রাথমিক পরিচয় লাভ করে। পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় হলে সামাজিক সম্পর্কে এর প্রভাব পড়ে। এ কারণে পরিবারে স্বামী-স্ত্রী এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের সুসম্পর্ক অত্যন্ত জরুরি। বাবা-মাসহ পরিবারের বড় সদস্যদের আচার-আচরণ শিশুদের ওপর প্রভাব ফেলে এবং সে অনুযায়ীই তারা অন্যদের সঙ্গে আচরণ করে। পরিবারে সুখ ও শান্তি বিরাজ করলে সন্তানরা পরিবারবিমুখ হয় না এবং তাদের বিপথে যাওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়। এ কারণে পরিবার গঠন তথা বিয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। তাই পবিত্র ইসলামে বর বা কনে নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাদের ইমান ও নৈতিক চরিত্রের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

সুখী পরিবারের আরেকটি মূলনীতি হলো সমঝোতার মনোভাব। স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করতে হবে। যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পরস্পরের পছন্দ-অপছন্দের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। বিয়ের আগ পর্যন্ত একজন মেয়ে ও ছেলে পিতা-মাতার তত্ত্বাবধানে অফুরন্ত স্নেহ-মমতাময় ভিন্ন এক পরিবেশে জীবনযাপন করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাবা-মা তাদের সন্তানদের কোনো ধরনের দুঃখ-কষ্টে পড়তে দেন না। কিন্তু বিয়ের পর শুরু হয় নতুন এক জীবন। দাম্পত্য জীবনে অনেক সময়ই পরিবারের অন্য সদস্যদের কল্যাণে ব্যক্তিগত স্বার্থ ইত্যাদি জলাঞ্জলি দিতে হয়। এ কারণে আলেম-ওলামাসহ বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে একমত যে, সুস্থ ও সুন্দর দাম্পত্য জীবনের জন্য ধৈর্য, আত্মত্যাগ ও প্রেম-ভালোবাসার মতো অনেক গুণের সমন্বয় থাকা জরুরি। ইসলাম পরিবারের ভিত্তিকে শক্তিশালী ও সুসংহত রাখতে পারস্পরিক বিরোধ এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেয়। ইসলাম মনে করে, স্বামী-স্ত্রী হচ্ছে পরস্পরের অতি আপনজন। তারা একে অপরের সব দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে অবহিত। কিন্তু তারা কখনোই পরস্পরের ব্যক্তিগত দোষ-ত্রুটি অন্যের সামনে প্রকাশ করে না।

বস্তুত পরিবার হলো একটি বড় ধরনের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এই কেন্দ্রের প্রশিক্ষক হলেন বাবা-মা। সন্তানরা বাবা-মায়ের কাছ থেকে পারিবারিক ও সামাজিক সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানলাভের পাশাপাশি জীবনযাপনের প্রস্তুতি সম্পর্কেও প্রশিক্ষণ পায়। শিশু-কিশোররা এই পরিবার থেকেই ভালোবাসা, আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার মতো মহৎ গুণগুলো আত্মস্থ করে। সন্তানরা তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে আচার-আচরণ ও শ্রদ্ধাবোধ শেখে, যা তার পরবর্তী জীবনের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকে। এ কারণে সন্তানদের কাছ থেকে প্রাপ্য শ্রদ্ধা ও সম্মান পেতে হলে নিজেদের সদাচারী হতে হবে এবং নিজেদের পক্ষ থেকে অন্যকে সম্মান দেখানো শিখতে হবে। যে পরিবারের সন্তানরা তার বাবা-মাকে শ্রদ্ধা করে না, সম্মানের আসনে সমাসীন করে না, সেই পরিবারে আর যাই হোক প্রকৃত সুখ আসে না। মূলত ওই সন্তানের বাবা-মা যদি তার দাদা-দাদি ও নানা-নানির প্রতি সদয় আচরণ করে, তাহলে পরিবারের শিশুরাও তা থেকে শেখে এবং ভবিষ্যতে তারাও বাবা-মায়ের প্রতি সদাচারী হয়। আর এভাবেই একটি পরিবারে সুখ ও শান্তির সুবাতাস প্রবহমান হতে থাকে।

গত কয়েক দশক ধরে বিশ্বজুড়েই বিয়ের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ও পারিবারিক জীবন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। জায়গা করে নিয়েছে কিছু অনৈতিক আচরণ। যার কারণে পরিবার ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেঙে যাচ্ছে। ফলে বাবা-মা উভয়ের স্নেহ-মমতায় বেড়ে ওঠার সৌভাগ্য হচ্ছে না অনেক শিশুর। তাদের কারও শুধু বাবা আছে অথবা মা। যা ওই শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য কোনোভাবেই সহায়ক নয়। পরিবার ব্যবস্থার এমন পরিণতির পরিপ্রেক্ষিতে বিয়ের পরিমাণ কমছে ও তালাকের পরিমাণ বাড়ছে।

ইসলাম ধর্ম ব্যক্তিস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার পক্ষে সর্বদা কথা বলে। তাই তো সমাজে কোনো কুপ্রথা ছড়িয়ে দেওয়ার অধিকার কোনো ব্যক্তির নেই বলে ঘোষণা করেছে ইসলাম। ইসলামের বিধানে, স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি দায়িত্ববোধ ও সহযোগিতার মধ্য দিয়েই দাম্পত্য জীবন সুখী ও সমৃদ্ধ হয়। ইসলাম স্বামীর ওপর স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততির ভরণপোষণের দায়িত্ব দিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে তাদের পারস্পরিক অধিকার মেনে চলতে বলেছে। সে সঙ্গে ইসলাম নারীর প্রতি সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব দিয়ে তাকে পরিবারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মতো কঠিন দায়িত্বের বাইরে রেখেছে। এক কথায় ইসলাম, পরিবারের সব সদস্যকে একে অপরের প্রতি দায়িত্বশীল হতে বলেছে। ইসলাম ব্যক্তিস্বার্থে নৈতিকতাসহ পরিবারের বৃহত্তর স্বার্থকে ক্ষুন্ন করার অধিকার কাউকে দেয়নি।

ইসলামে পরিবার ব্যবস্থায় পরিবারের এক সদস্যের সাফল্য-ব্যর্থতা ও উন্নতি-অবনতি অপর সদস্যের সাফল্য-ব্যর্থতা ও উন্নতি-অবনতি হিসেবে গণ্য হয়। এখানে ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা ও আনন্দ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায় না। পরিবারের সব সদস্যের সার্বিক কল্যাণকে ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে স্থান দেওয়া হয়। এই পারিবারিক রূপরেখায় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের যেমন কিছু অধিকার রয়েছে, তেমনি কিছু দায়িত্বও রয়েছে। যে দায়িত্ববোধ মানুষের মনে সৃষ্টি করে সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা, জন্ম দেয় নৈতিকতা, যা একটি কাঙ্ক্ষিত সুখী পরিবারের মূল চালিকাশক্তি।

Posted in ইসলাম | Comments Off on কাঙ্ক্ষিত পরিবার গঠনে করণীয়

বাংলাদেশি হাফেজ নাহিয়ান কায়সারের বিশ্বজয়

ঢাকা: মিশরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ২২তম আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় ৭০ টি 0_78906দেশের মধ্যে এবারো প্রথম হয়েছে বাংলাদেশি ক্ষুদে হাফেজ মোহাম্মদ নাহিয়ান কায়সার। সে একাধিকবার আন্তর্জাতিক পুরুস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকার যাত্রাবাড়ী তাহফিজুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদরাসার ছাত্র। হাফেজ নাহিয়ান কায়সার বাগেরহাট জেলার উৎকুল গ্রামের ঐতিহ্যবাহী এক আলেম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। তার পিতা মাওলানা কারী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান রাজধানী ধানমন্ডির একটি মসজিদের ইমাম ও খতিব। নাহিয়ান কায়সার ভবিষ্যতে একজন বড় আলেম হতে চায়। কায়রোতে প্রথম স্থান অধিকারীর নাম ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রী মুখতার জমা, দুবাই আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতা কম্পিটিশনের প্রধান এবং রাবেতা আলমে ইসলামীর প্রধান আবদুল বাসকাত। মিশরে ২২তম আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ৭০টি দেশ থেকে ১০০ জনের অধিক প্রতিনিধি অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণদের আগামী রমজানে পুরস্কার দেওয়া হবে। পুরস্কার অনুষ্ঠানে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল সিসি উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

Posted in ইসলাম | Comments Off on বাংলাদেশি হাফেজ নাহিয়ান কায়সারের বিশ্বজয়

৩০ হাজার জন হজে যেতে পারবেন না

go-makkah-hajj-oumra-yhai82ঢাকা: এ বছর মোয়াল্লেম ফি দেওয়া ৩০ হাজার জন হজে যেতে পারবেন না। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন করা ১০ হাজার জনও রয়েছেন। ১ লাখ ৭ হাজার ৫৮ জন হজ পালন করতে পারবেন। মঙ্গলবার(২১ এপ্রিল’২০১৫) ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের উপস্থিতিতে সচিবালয়ে ধর্মসচিব চৌধুরী মো. বাবুল হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন। রেজিস্ট্রেশন না করে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ায় সৃষ্ট জটিলতায় তারা হজে যেতে পারছেন না। আর সরকারও তাদের দায়ভার গ্রহণ করবে না বলেও জানান তিনি।

Posted in ইসলাম | Comments Off on ৩০ হাজার জন হজে যেতে পারবেন না

১৬ মে পবিত্র শবে মেরাজ

news_picture_1374_merajইসলাম ডেস্ক: বাংলাদেশের আকাশে রোববার(১৯ এপ্রিল’২০১৫) ১৪৩৬ হিজরি সনের পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়নি। ফলে ২০ এপ্রিল জমাদিউল সানি মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং ২১ এপ্রিল থেকে রজব মাস শুরু হবে। সে মোতাবেক ১৬ মে শনিবার দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ পালিত হবে। রোববার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য সচিব সামীম মোহাম্মদ আফজাল। সভায় অন্যদের মধ্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ শহিদুজ্জামান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন) মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী, প্রধান তথ্য অফিসার তছির আহাম্মদ, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক গোলাম শফিউদ্দিন, মাদ্রাসা-ই-আলীয়ার অধ্যক্ষ প্রফেসর সিরাজউদ্দিন আহমাদ, ঢাকা জেলার এডিসি মোঃ জসিম উদ্দিন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের পারচালক মোঃ শাহ আলম, স্পারসোর পিএসও মোঃ শাহ আলম, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, শেষনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়ত লাভের একাদশ বর্ষের রজব মাসের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে মহান আল্লাহর বিশেষ মেহমান হিসেবে আরশে আজিমে আরোহণ করেন। এ রাত অতি পবিত্র ও মহান আল্লাহর অফুরন্ত রহমত-বরকতে সমৃদ্ধ। মুসলিম জাহানের কাছে এ রাতের তাৎপর্য অপরিসীম।

Posted in ইসলাম | Comments Off on ১৬ মে পবিত্র শবে মেরাজ

ইসলাম হবে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বিশ্বাস

পিউ রিসার্চ-এর ভবিষ্যদ্বাণী
নিউজ ডেস্ক: বিশ্বে ২০৫০ সাল নাগাদ মুসলিম জনসংখ্যা হবে খ্রিস্টানদের প্রায় সমান। ইসলাম হবে এ গ্রহের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বিশ্বাস। বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে করা এক হিসাবে (প্রজেকশান) এমনটিই দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পিউ রিসার্চ’-এর ধর্মীয় রূপরেখাবিষয়ক ভবিষ্যদ্বাণীতে এ কথা বলা হয়েছে। সারা বিশ্বের জন্মহার, যুব জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা এবং ধর্মান্তরের পরিসংখ্যানের তথ্যের ভিত্তিতে এ ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে পিউ রিসার্চ।
muslim-a
গবেষণায় দেখা যায়, ‘আগামী চার দশকে খ্রিস্টানরা সবচেয়ে বড় ধর্মীয় গোষ্ঠীই থাকবে, তবে ইসলাম অন্য যেকোনো প্রধান ধর্মের চেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।’ প্রতিবেদনের লেখক ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, ২০৫০ সাল নাগাদ মুসলিম জনসংখ্যা হবে ২৭৬ কোটি। ওই সময়ে খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর লোক হবে ২৯২ কোটি। এটি হবে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ২৯ দশমিক ৭ ও ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১০ সালে পৃথিবীতে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ১৬০ কোটি। খ্রিস্টান ছিল ২১৭ কোটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সাল নাগাদ তৃতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠী হবে হিন্দুরা। তাদের সংখ্যা হবে পৃথিবীর জনসংখ্যার ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ। কোনো ধর্মে বিশ্বাসী নয়, এমন লোকের সংখ্যা হবে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ।

গবেষণা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মুসলিমদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হবে। এখানে তারা বাড়তি সুবিধা হিসেবে যুব জনগোষ্ঠীর সংখ্যার আধিক্যের সঙ্গে পাবে উচ্চ প্রজনন হার। গবেষণায় বলা হয়, ইন্দোনেশিয়াকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে বেশি মুসলমানের বসবাস হবে ভারতে। যদিও দেশটিতে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠই থাকবে। এতে আরো বলা হয়, ইউরোপের মোট জনগোষ্ঠীর ১০ শতাংশই মুসলমান। বর্তমান প্রবণতা চলতে থাকলে ২০৭০ সালের পর সবচেয়ে জনপ্রিয় ধর্মবিশ্বাস হবে ইসলাম।

Posted in ইসলাম | Comments Off on ইসলাম হবে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বিশ্বাস

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud