May 8, 2026
বিনোদন প্রতিবেদক।।
একের এক বিদেশি তারকাদের এনে বাণিজ্যিক অনুষ্ঠান করে আসছে বিভিন্ন আয়োজক প্রতিষ্ঠান। সাম্প্রতিক ও চলতি বছরের অনুষ্ঠানগুলোর প্রতিটিতেই ছিল দর্শক-শ্রোতা-সংবাদকর্মীদের অসন্তোষ। যার চূড়ান্ত রূপ নিল মঙ্গলবার গ্রিন অ্যাপল কমিউনিকেশনস নামের নামসর্বস্ব একটি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনের মধ্য দিয়ে।
একটি ফ্যাশন শো’র জন্য মুম্বাই থেকে উড়িয়ে নিয়ে আনা বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতির সামনেই সাংবাদিকদের ওপর লাঠিচার্জ করা হয়েছে এদিন সন্ধ্যায়। রক্তাক্ত করা হয়েছে অনলাইন পোর্টাল বিডি নিউজের সংবাদকর্মী জয়ন্ত সাহা, তানজিল আহমেদ জনি ও অপর সাংবাদিক রেজাউল করিমকে। তাদের হামলার হাত থেকে বাদ যায়নি দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ার উপস্থিত সাংবাদিকরা। এসময় হামলার শিকার হন প্রথম আলো, বাংলা মেইল, বাংলা ট্রিবিউনসহ বেশ কিছু গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা। হামলার হাত থেকে বাঁচাতে ধস্তাধস্তিতে আহত হন বাংলা ট্রিবিউনের ফটোসাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন।
ঘটনার সূত্রপাত অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে। দিনভর সাংবাদিকদের সংবাদ সম্মেলনের কথা বলা হলেও ফ্যাশন শো’র শেষে তা আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলন শুরুর দিকে কিছু টিভি মিডিয়ার সাংবাদিক প্রবেশ করলেও আটকে দেওয়া হয় প্রিন্ট, অনলাইন ও কয়েকটি টিভি চ্যানেলের সংবাদকর্মীদের।
উপস্থিত এক সাংবাদিক ঘটনার বিবরণে বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনের জন্য সাংবাদিকরা ভেতরে ঢুকতে চাইলে প্রথমে বাধা দেওয়া হয়। কারণ চানতে চাইলে তর্ক শুরু করে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিশেষ বাহিনী। এর পর পেছন থেকে গ্রিন অ্যাপল কমিউনিকেশনস-এর এক কর্মকর্তা বলেন, কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তার কাছে কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, টিভি ক্যামেরা ও কয়েকজন ফটোগ্রাফার ভেতরে নিয়েছি। আর নেওয়া সম্ভব নয় কারণ প্রেস কনফারেন্সের জন্য বড় জায়গায় আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।’
হামলা সম্পর্কে ওই সাংবাদিক বলেন, ‘সে কর্মকর্তাকেই যখন প্রশ্ন করা হয়, বিকালে দুইবার তাহলে কেন সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ডেকে এনে বাতিল করা হলো? পরে কেনইবা এমন জায়গার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যেখানে কথা বলার সুযোগ নেই? প্রতিষ্ঠানের সে কর্মকর্তা বলেন, বেশি কথা বললে লাঠিচার্জ করা হবে। এর পর পরই বিডি নিউজের জয়ন্ত সাহার জামার কলার ধরে সামনে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। লাঠি দিয়ে তার ঘাড়ে ও পায়ে আঘাত করতে থাকে নিরাপত্তাকর্মীরা। এসময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন অন্য সংবাদকর্মীরা। তখন কেউ যেন ছবি তুলতে না পারে এ জন্য প্রথমে ক্যামেরায় আঘাত করা হয়। পরে ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে হামলাকারীরা।’
জানা গেছে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালাতে নির্দেশ দেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের রাকিব নামে একজন।
এভাবে কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি চলতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শী অন্য সাংবাদিক জানান, এসময় দূর থেকে গ্রিন অ্যাপল কমিউনিকেশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সানজিদা লুনা বিষয়টি দেখেন। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীদের থামানোর জন্য সে মুহূর্তে কোনও উদ্যোগ তিনি নেননি।
ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, বাংলা ট্রিবিউন, বিডি নিউজ, বাংলা নিউজ, বাংলা মেইল, প্রিয় ডট কম, এশিয়ান টিভি, যমুনা টিভি, বাংলাভিশন, একাত্তর টিভি ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির একাধিক সংবাদকর্মী। সংঘর্ষের সামনে দিয়েই সেসময় পরিণীতি চোপড়া অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
এদিকে আহত বিডি নিউজের দুই সাংবাদিকের মধ্যে জয়ন্ত বেশ যখম হয়েছেন। আঘাত পাওয়ায় তার পায়ের বেশ কিছু অংশ দিয়ে রক্তপাত হয়ে দেখা গেছে। জয়ন্ত জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে জিডি করবেন। এরপর অফিসিয়াল আলোচনার মাধ্যমে মামলার প্রস্তুতিও নিতে পারেন বলে জানান।
এদিকে ঘটনাস্থলেই গ্রিন অ্যাপল কমিউনিকেশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সানজিদা লুনার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে আর পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে ফোন ও মেসেজ দিয়ে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনও সাড়া দেননি।
ঢাকা: আজ আদরের ছোট মেয়ে মনি আক্তারের বিয়ের দিন। যাত্রাবাড়ীর কাজলায় থাকা বড় মেয়ে শিল্পী আক্তারের বাসায় বিয়ের সব আয়োজন ও বন্দোবস্ত চলছিল। জরুরি বাজার সদাই হয়ে গেছে অনেক আগেই। আজ টুকিটাকি কেনাকাটা বাকি ছিল। তাই বাবা জালাল উদ্দিন (৫৫) ছুটে এসেছিলেন নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে। তিনি লঞ্চের নামডাক সারেং। মহা আনন্দে, ধুমধাম করে ছোট মেয়ের বিয়ে দেবেন-এমন স্বপ্নই ছিল বাবার চোখে। বিয়েতে সমবয়েসি বিয়াই-বেয়াইনের সঙ্গে কত খুনসুটিইনা করবেন। দিন শেষে কন্যার বিদায়লগ্নে গর্বে ফুলে ওঠবে বাবার বুক। আর পিতৃবিচ্ছেদে কাতর কন্যা সে বুক ভাসাবে কান্নায়। কিন্তু না। সে স্বপ্ন দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছে একটি ঘাতক বাস। সারেং বাবা এখন নিথর পড়ে আছেন মর্গে।
বুধবার সকাল পৌনে ৯টা দুর্ঘটনাটি ঘটে যাত্রাবাড়ীর কাজলা বাস স্টেশনে। নিহত জালাল উদ্দিনের ভাতিজা আব্দুর রশিদ জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে জালাল উদ্দিন সাতসকালেই যাত্রাবাড়ী এসেছিলেন। টুকিটাকি কেনাকাটা করে তিনি আবার নারায়ণগঞ্জ ফিরছিলেন তার অন্য ভাইদের নিয়ে আসতে। কাজলা স্টেশনে বাসে ওঠতে গিয়ে পেছন থেকে আরেকটি বাস এসে তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে পৌনে ১০টার দিকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
বড় মেয়ে শিল্পী জানান, জালাল উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাটের নামকরা সারেং। তিনি লঞ্চেই থাকতেন। তার বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দির সিরাজচরে। তার বাবার নাম সারু মিয়া। তারা তিনবোন এক ভাই। দুই বোনের আগেই বিয়ে হয়েছে। তাদের মা কাজল বেগম মারা যান দুই বছর আগে। ছোটবোনের হবু স্বামী রুবেল হাসানের বাড়িও যাতাবাড়ীতে। তাই যাত্রাবাড়ীর তার নিজ বাসাতেই বিয়ের বন্দোবস্ত হচ্ছিল।
শিল্পী জানান, বাবা জালাল উদ্দিন সকালে একবার এসে দেখা দিয়েই তাড়াহুড়ো করে আবার নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছিলেন তাদের আত্মীয়স্বজনকে আনতে। কিন্তু বাবা আর ফিরলেন না।
ছোট মেয়ে মনির আজ সব আনন্দ অপরিমেয় শোকে ছেয়ে গেছে। হাসপাতালে বাবার মৃতদেহের পাশে সজল চোখে নির্বাক ও নিস্তব্ধ হয়ে বসে ছিলেন মনি। যেন শোকে সত্যিকার অর্থেই পাথর হয়ে গেছেন। নিজের বিয়ের লগ্নে পিতার এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি। দু’হাতে বাবার স্নেহের স্পর্শ পাওয়ার আকুলতায় তার ফ্যাকাশে ও উদভ্রান্ত, সজল চোখ বিদ্ধ হয়ে আছে পিতার শবদেহের দিকে।
নিজস্ব প্রতিনিধি কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফে বাংলাদেশের জলসীমায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)।
এতে বিপ্লব নামে এক বিজিবি সদস্য গুলিবিদ্ধে হয়েছেন। এ ঘটনায় আবদুর রাজ্জাক নামে আরেক বিজিবি সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন জানিয়েছে বিজিবি।
বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নিলা ইউনিয়নের জাদিমুড়া এলাকা সংলগ্ন নাফ নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
টেকনাফ ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু জার আল জাহিদ জানান, ভোরে বিজিবির একটি দল নাফ নদীতে টহল দিচ্ছিল। এসময় বিজিপির ট্রলার নিয়ে আসা একদল অস্ত্রধারীকে বাংলাদেশের জলসীমায় একটি ট্রলারে তল্লাশি চালাতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের বাধা দেয়।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অস্ত্রধারীরা বিজিবির সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে সিপাহি বিপ্লব গুলিবিদ্ধ হন।
সুনামগঞ্জ থেকে: সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের একটি গ্রাম আশাউড়া। বেশ কয়েক বছর ধরে এ গ্রামে উৎপাদিত হচ্ছে ফরমালিনমুক্ত সুস্বাদু আনারস। আর এখানকার উৎপাদিত আনারস নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন বসে ফরমালিনমুক্ত আনারসের হাট। বিষমুক্ত এ আনারসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে জেলাজুড়ে।

দেখা গেছে, মওসুমি ফল কিনতে ফরমালিনের জন্য যখন ক্রেতারা দ্বিধায় থাকেন তখন আশাউড়া গ্রামের এ আনারস নিঃসন্দেহে কিনছে তারা। ফরমালিনমুক্ত হওয়ায় আনারসের বিক্রিও বেশি। প্রতিদিন আনারস হাটে লক্ষাধিক টাকার উপর বিক্রি হয়।
আনারস বাগান মালিকরা জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর আনারসের ফলন বিপর্যয় হয়েছে। সেচের অভাবে ফলন নেমে এসেছে অর্ধেকে। আনারসের আকারও হয়েছে ছোট। সরজমিন ঘুরে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছর আগে এখানে আনারস চাষ শুরু হয়।
বাগান মালিকরা নিজ উদ্যোগেই আনারসের চাষ শুরু করেন। আশাউড়া ও দর্পগ্রামের ২শ’ হেক্টর জমিতে কালেংগা বা করাতি জাতের স্থানীয় এই আনারসের চাষ হয়। কেন আনারসের ফলন বিপর্যয় হয়েছে এ বিষয়ে বাগান মালিকরা জানান, ফাল্গুন মাসে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় এ বছর আনারসের ফলন অর্ধেকে নেমে এসেছে। আনারসের আকারও হয়েছে ছোট। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। তারা জানান, আনারস বাগানে প্রয়োজনীয় সেচ প্রদানের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করলে এ সমস্যা হতো না।
সরকারি উদ্যোগে গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবি তাদের। আশাউড়া গ্রামের আনারস চাষি মকবুল মিয়া জানান, এখানের আনারস খুবই মিষ্টি হয়। তাই রসালো আনারসের কদর সুনামগঞ্জের বাইরেও ব্যাপক। আনারস চাষি জুবের আহমদ জানান, একশ’ আনারস তারা প্রথমদিকে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করেন। পরে তা কমতে কমতে এক হাজার টাকায় আসে। ফরমালিনমুক্ত সুস্বাদু এখানকার আনারসের বাজারজাতকরণেরও রয়েছে সমস্যা।
সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় উৎপন্ন আনারস দু’দফা নৌকা বদল করে আনারস বাজারে বিক্রির জন্য আনা হয়। হাটবাজারগুলোতে চাষীরা সরাসরি আনারস বিক্রি করতে না পারায় স্বত্বভোগীরা বেশি লাভ করছে। আব্দুল মতিন নামে আনারস চাষী জানান, আমরা কষ্ট করে বাগানে আনারস ফলাই। আমরা আনারস বিক্রি করে যা পাই পাইকাররা তার চেয়েও বেশি লাভ করে। দেখা গেছে, জেলার ১শ’ ২০ কি.মি. সীমান্ত এলাকায় ছোট ছোট পাহাড়ঘেরা গ্রাম রয়েছে।
এ গ্রামগুলোতে আনারস চাষের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু কৃষি অফিস কোন উদ্যোগ না নেয়ায় এর সমপ্রসারণ হচ্ছে না। আনারস বাগান মালিকরা বলেন, বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষের সঠিক উদ্যোগ এখনও নিচ্ছে না স্থানীয় কৃষি অফিস। উদ্যোগ নিলে উপকৃত হতেন বাগান মালিকরা।
এখানকার আনারস সুনামগঞ্জের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করা যেত। বাণিজ্যিকভাবে কেন আনারস চাষের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক স্বপন কুমার সাহা জানান, আনারস চাষ নিয়ে একটি প্রকল্প চালু ছিল।
বর্তমানে এ প্রকল্প বন্ধ থাকায় সম্প্রসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও লোকবল সংকট রয়েছে বলে তিনি জানান। সৌজন্য….মানবজমিন
ফিচার ডেস্ক : আমরা বাঙালি মেয়েরা সবচাইতে বেশী লজ্জা নিজের শরীরকে ঘিরেই পাই। নারী হিসাবে এই লজ্জাই আমাদের সৌন্দর্য। কিন্তু হ্যাঁ, অমূলক লজ্জা কখনো আপনার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না। আজও আমাদের দেশে বহু নারী লজ্জার কারণে স্তন বা জরায়ু ক্যান্সারের মত ভয়াবহ অসুখকে লুকিয়ে রাখেন। অসংখ্য নারী নিজের ওজন, ত্বকের রঙ বা সৌন্দর্য নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগে ভুগে নিজেকে বঞ্চিত করেন ও সমাজ দ্বারা নিগৃহীত হন। এই শরীরটি আপনার, একে সম্মান ও ভালোবাসা দিতে হবে আপনাকেই। চলুন, আজ জেনে নিই নিজের শরীরের সাথে জড়িত কোন বিষয়গুলো নিয়ে মোটেও লজ্জিত বোধ করবেন না।
১) জন্মের পর পরই আমাদের দেশের মেয়েদের শরীরে কালো আর ফর্সা হবার তকমা এঁটে দেয়া হয়। কালো বা শ্যামলা মেয়ের বিয়ে হবে না, বিয়েতে যৌতুক দিতে হবে অনেক বেশী ইত্যাদি অমূলক ধারণা যুগে যুগে চলে আসছে এই সমাজে। আর তাই তো কালো ত্বকের মেয়েদের জীবন কেটে যায় হীনমন্যতায় ভুগে ভুগে। গায়ের রঙ কখনো একজন নারীর পরিচয় হতে পারে না! মাথা উঁচু করে সদর্পে বাঁচুন। আপনার পরিচয় আপনার ত্বকের রঙে নয়।
২) ত্বকের রঙের পরই আসে ওজনের কথা। এই সমাজ কালো মেয়ে তো তাও সহ্য করে নেয়, কিন্তু ওজন বেশী মেয়েকে কেউই মেনে নিতে চায় না। একজন নারীর একমাত্র সম্বল কি কেবল তাঁর দেহ? আর সেই দেহের কাজ কি কেবলই পুরুষকে তুষ্ট করা? উত্তর অতি অবশ্যই “না”। নারীর পরিচয় তাঁর দেহ নয়, সেই দেহ দিয়ে পুরুষের মন ভোলানো নারীর কাজ নয়। নিজের ওজন নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগবেন না কখনোই।
৩) নারীরা আরও যে জিনিসটি নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগেন, সেটি হচ্ছে তাঁর স্তন। স্তন দুটিকে আরও একটু বড়, আরও একটু সুন্দর করার চেষ্টা সারা পৃথিবীর নারীরা মগ্ন। কেন? কারণ পুরুষের চোখে বড় স্তন আকর্ষণীয়! নিজের স্তনের আকৃতি নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগা একেবারেই আত্মবিশ্বাস হীনতার পরিচয়। এটা পরিহার করুন।
৪) অসুখ স্তনে হোক বা গোপন অঙ্গে, কখনো লজ্জা পেয়ে অসুখ চেপে রাখবেন না। আমাদের দেশে অসংখ্য নারী কেবলমাত্র লজ্জাস্থানে অসুখ হয়েছে বলে ডাক্তারের কাছে যান না। বছরের পর বছর অসুখ নিয়ে বেঁচে থেকে নিজেকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেন। এই ভুলটি আপনি যেন করবেন না ভুলেও।
৫) সারাজীবন লোকে আপনাকে “খাটো” বা “বেঁটে” বলেছে? এই সমস্যাটা পুরুষদের মাঝে অনেক বেশী হলেও নারীদের ক্ষেত্রেও কম নয়। মনে রাখবেন, সৃষ্টিকর্তা সকলকেই বিশেষ ভাবে বানিয়েছেন। আর তিনি যেভাবে তৈরি করেছেন সেটা নিয়েই সকলের খুশি থাকা উচিত।
৬) পুরুষেরা টেকো বা ভুঁড়ি ওয়ালা হলে তাঁদেরকে তো কেউ কিছু বলে না। তাহলে একজন নারীর পেট মোটা বা মাথায় চুল কম থাকলে কেন তাঁকে হীনমন্যতায় ভুগতে হবে? পৃথিবীর সকলেরই নানান রকম শারীরিক ত্রুটি আছে, আমরা কেউইই নিখুঁত নই। তাই নিজের শরীরকে নিজে মনের কষ্ট বাদ দিন।
৭) পিরিয়ড! এই ব্যাপারটি নারী দেহের খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার এবং প্রকৃতির এই নিয়মকে এড়িয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই। পিরিয়ডের কথা ফলাও করে প্রচার করার কিছু নেই, কিন্তু তাই বলে পিরিয়ড জনিত কোন স্বাস্থ্য সমস্যা লুকিয়ে রাখারও কোন মানে নেই। লুকিয়ে রাখা মানেই নিজের সর্বনাশ ডেকে আনা।
বিনােদন ডেস্ক: মডেল-অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম ছুটছেন রুপালি পর্দা জয়ের নেশায়। ‘সুইটহার্ট’ রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়। সম্প্রতি প্রথম যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘রকেট’-এর মহরত হয়ে গেল। যাত্রা শুরু করেছিলেন ‘আমার আছে জল’ ছবি দিয়ে। প্রথম বাণিজ্যিক ছবি করেন শাকিব খানের বিপরীতে ‘আমার প্রাণের প্রিয়া’।

মাঝে অনেক দিন ছিলেন ছোটপর্দামুখী। কিন্তু এবার টুকটাক বিজ্ঞাপন ছাড়া কেবল বড় পর্দার দিকেই মনোনিবেশ করেছেন। সম্প্রতি নবাগত পরিচালক শফিক হাসানের ‘রক’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন মিম। এ ছবিতে তার বিপরীতে ভারতের একাধিক নায়ক অভিনয় করবেন বলে জানা যায়।
সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, এ ছবির জন্য মিম যাচ্ছেন সুদূর চীন সফরে। পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ প্রাচীরের এ প্রাচীন ভূমিতে শুটিংয়ের ডেট ফেলেছেন পরিচালক। আর সেখানেই যাবেন মিম। এরইমধ্যে ছবির পরিচালক সবকিছু গুছিয়ে এনেছেন। আগামী ১৯ জুন শুটিং করতে ঢাকা ছাড়বেন মিম। এই মুহূর্তে ছবির গান নিয়ে ব্যস্ত আছেন তিনি।
তবে গানের রেকর্ডিং পেছালে শুটিংও পেছাতে পারে। কিন্তু ছবির চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে চীনে তাকে যেতেই হবে। কলকাতার জনপ্রিয় নায়ক সোহমের বিপরীতেও অভিনয় করছেন মিম। বাংলাদেশের লিপু কিবরিয়া ও কলকাতার রানা সরকার ‘রকেট’ নামের এ ছবিটি যৌথভাবে প্রযোজনা করছেন।
ঢাকা: সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে দলের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকার প্রতিক্রিয়ায় এবং তিনিসহ আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর ২৪ ঘণ্টার হরতাল চলছে।
বুধবার ভোর ৬টা থেকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত দেশব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করছে দলটি।
মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, ফার্মেসি ইত্যাদি হরতালের আওতামুক্ত থাকবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
বিবৃতিতে মকবুল আহমাদ বলেন, সরকার জামায়াতকে নিশ্চিহ্ন করতে নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করে বিচারের নামে প্রহসনের আয়োজন করে। আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ সরকারি ষড়যন্ত্রের শিকার। এ রায়ে মুজাহিদ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তিনি জুলুমের শিকার হয়েছেন। দেশের জনগণও এ রায়ে হতাশ হয়েছে।
হরতালের সমর্থনে সকালে রাজধানীর কয়েকটি এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বিচ্ছিন্নভাবে ঝটিকা মিছিল করেছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। তবে এসময় কোন নাশকতার ঘটনা ঘটেনি। মিছিলকারীর আইনশৃঙ্খলার চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব মিছিল করে বলে জানায় আমাদের প্রতিনিধিরা।
এদিকে হরতালকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে প্রায় দেড় শতাধিক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে নাশকতার পরিকল্পনা অভিযোগে আটক করা হয়।
হরতালে নাশকতা মোকাবেলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জামায়াতের হরতাল ঘোষণার পরপরই রাজধানীর ৪৯ থানা কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনতে বলা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিমকোর্ট এলাকাসহ যেসব এলাকা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বিশেষ করে মগবাজার, পল্টন, খিলগাঁও, মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, ধানমণ্ডিসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে উঁচু ভবনের ছাদে পুলিশের টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কের সামনে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
ডিএমপির উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, হরতালে যেখানে যে মাত্রার ফোর্স প্রয়োজন সেখানে সে মাত্রার ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। গোয়েন্দাদের পর্যবেক্ষণ ও পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে হরতালে রাজধানীতে বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেন, হরতাল প্রত্যাখ্যান করে ঢাকা শহর ও আশপাশের জেলাগুলোতে বাস-মিনিবাস চলাচল অব্যাহত রাখা হবে। তবে যাত্রী পাওয়াসাপেক্ষে আন্তঃজেলা রুটের গাড়িও চলাচল করবে। হরতালের দিন গাড়ি চলাচলে যাতে কোনো বাধার সৃষ্টি না হয় সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা: ভারত-বাংলাদেশ প্রথম একদিনের ম্যাচের আগে আগামীকাল বুধবার ২৪ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী৷ এ প্রেক্ষাপটে বাড়তি নিরাপত্তা দাবি করেছে সফররত ভারতীয় দল৷
ভারতীয় দলের নিরাপত্তা আগেও বেশ ছিল। তবে নতুন দাবির প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়েছে৷ কলকাতাভিত্তিক আনন্দবাজার গ্রুপের এবিপি আনন্দের এক খবরে বলা হয়েছে, মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে হেলিকপ্টার নিয়ে চলেছে জোরদার মহড়াও৷
বাংলাদেশ ও ভারত মোট তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে।
নিউজ ডেস্ক: কোপা আমেরিকায় জয়ের মুখ দেখেছে আর্জেন্টিনা। মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে) তারা ১-০ গোলে হারিয়েছে শক্তিশালী উরুগুয়েকে।
চিলিতে অনুষ্ঠানরত ম্যাচে প্রথমার্ধের খেলা গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে দলকে জয়ের বন্দরে পৌছে দেন ম্যাঞ্চেস্টার সিটির প্রাণভোমড়া সার্জিও অ্যাগুয়েরো। খেলার ৫৬ মিনিটে বুলেট গতির হেডে তিনি দুর্দান্ত গোলটি করেন। জয় পরাজয় নির্ধারিত হয় ওই গোলেই।
এ জয়ে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে প্যারাগুয়েকে টপকে বি-গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে আর্জেন্টিনা।
একই রাতে গ্রুপের অপর খেলায় জ্যামাইকার বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় পেয়েছে প্যারাগুয়ে। আর্জেন্টিনার সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গত আসরের রানার্স আপ দলটি।
এ জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালের ছাড়পত্র যোগাড়ে আর্জেন্টিনার পথ এখন অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। কেননা, গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল দল জ্যামাইকা। অন্যদিকে, গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে একে অন্যের মুখোমুখি হবে গত আসরের দুই ফাইনালিস্ট উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় টিনবোঝাই একটি ট্রাক খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুজন।
আজ বুধবার ভোররাতে উপজেলার আছিমতলা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুরের রতন, ঢাকার কেরানীগঞ্জের শাহজাহান ও বিক্রমপুরের রফিক। তাঁদের বয়স ৩৫-৪৫ বছরের মধ্যে।
নিহত তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে মির্জাপুরের গোড়াই হাইওয়ে থানার পুলিশ। আহত দুজনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গোড়াই হাইওয়ে থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবিরের জানান, ঢেউটিন বোঝাই ট্রাকটি ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে সিরাজগঞ্জ যাচ্ছিল। মির্জাপুরের আছিমতলা এসে ট্রাকের চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে ট্রাকটি মহাসড়কের পাশে ২৫-৩০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। হতাহত হওয়া ব্যক্তিরা ট্রাকের পেছনের অংশে যাত্রী হয়ে উঠেছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা হবে।