May 8, 2026
ঢাকা: আজ আদরের ছোট মেয়ে মনি আক্তারের বিয়ের দিন। যাত্রাবাড়ীর কাজলায় থাকা বড় মেয়ে শিল্পী আক্তারের বাসায় বিয়ের সব আয়োজন ও বন্দোবস্ত চলছিল। জরুরি বাজার সদাই হয়ে গেছে অনেক আগেই। আজ টুকিটাকি কেনাকাটা বাকি ছিল। তাই বাবা জালাল উদ্দিন (৫৫) ছুটে এসেছিলেন নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাট থেকে। তিনি লঞ্চের নামডাক সারেং। মহা আনন্দে, ধুমধাম করে ছোট মেয়ের বিয়ে দেবেন-এমন স্বপ্নই ছিল বাবার চোখে। বিয়েতে সমবয়েসি বিয়াই-বেয়াইনের সঙ্গে কত খুনসুটিইনা করবেন। দিন শেষে কন্যার বিদায়লগ্নে গর্বে ফুলে ওঠবে বাবার বুক। আর পিতৃবিচ্ছেদে কাতর কন্যা সে বুক ভাসাবে কান্নায়। কিন্তু না। সে স্বপ্ন দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছে একটি ঘাতক বাস। সারেং বাবা এখন নিথর পড়ে আছেন মর্গে।
বুধবার সকাল পৌনে ৯টা দুর্ঘটনাটি ঘটে যাত্রাবাড়ীর কাজলা বাস স্টেশনে। নিহত জালাল উদ্দিনের ভাতিজা আব্দুর রশিদ জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে জালাল উদ্দিন সাতসকালেই যাত্রাবাড়ী এসেছিলেন। টুকিটাকি কেনাকাটা করে তিনি আবার নারায়ণগঞ্জ ফিরছিলেন তার অন্য ভাইদের নিয়ে আসতে। কাজলা স্টেশনে বাসে ওঠতে গিয়ে পেছন থেকে আরেকটি বাস এসে তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে পৌনে ১০টার দিকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
বড় মেয়ে শিল্পী জানান, জালাল উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ লঞ্চঘাটের নামকরা সারেং। তিনি লঞ্চেই থাকতেন। তার বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দির সিরাজচরে। তার বাবার নাম সারু মিয়া। তারা তিনবোন এক ভাই। দুই বোনের আগেই বিয়ে হয়েছে। তাদের মা কাজল বেগম মারা যান দুই বছর আগে। ছোটবোনের হবু স্বামী রুবেল হাসানের বাড়িও যাতাবাড়ীতে। তাই যাত্রাবাড়ীর তার নিজ বাসাতেই বিয়ের বন্দোবস্ত হচ্ছিল।
শিল্পী জানান, বাবা জালাল উদ্দিন সকালে একবার এসে দেখা দিয়েই তাড়াহুড়ো করে আবার নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছিলেন তাদের আত্মীয়স্বজনকে আনতে। কিন্তু বাবা আর ফিরলেন না।
ছোট মেয়ে মনির আজ সব আনন্দ অপরিমেয় শোকে ছেয়ে গেছে। হাসপাতালে বাবার মৃতদেহের পাশে সজল চোখে নির্বাক ও নিস্তব্ধ হয়ে বসে ছিলেন মনি। যেন শোকে সত্যিকার অর্থেই পাথর হয়ে গেছেন। নিজের বিয়ের লগ্নে পিতার এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি। দু’হাতে বাবার স্নেহের স্পর্শ পাওয়ার আকুলতায় তার ফ্যাকাশে ও উদভ্রান্ত, সজল চোখ বিদ্ধ হয়ে আছে পিতার শবদেহের দিকে।