May 8, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট : ছোট পর্দার জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী অর্চিতা স্পর্শীয়া। ২০১১ সালে বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেল হিসেবে মিডিয়ায় যাত্রা শুরু। একই বছর ‘অরুণোদয়ের তরুণ দল’ নাটকে রকস্টার চরিত্রে অভিনয় করে আলোচিত হন। এখন মডেলিং আর অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত তিনি।
সম্প্রতি স্পর্শীয়ার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে অনলাইন তথা ফেসবুকে। পিঠখোলা সেই ছবিতে মন্তব্যের ঝড় বইছে। কেউ কেউ স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করলেও সমালোচনাই হচ্ছে বেশি। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপও করছেন অনেকে।
জানা যায়, টিজেড’স স্টোর নামে একটি গয়না বিক্রিকারী প্রতিষ্ঠানের মডেল হন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির নেকলেস পরা একটি ছবি বৃহস্পতিবার স্পর্শীয়ার ফেসবুক ফ্যানপেজে আপলোড করা হয়। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে মন্তব্যের ঝড়। তবে স্পর্শীয়ার দাবি ফ্যানপেজটি তিনি পরিচালনা করেন না। স্পর্শীয়া কিংবা টিজেড’স-এর পক্ষ থেকে ছবিটি শেয়ার করা হয়নি বলে জানা গেছে। কয়েক মাস আগে তোলা ছবিটি বৃহস্পতিবার কে বা কারা ফেসবুকে আপলোড করেছে তারা জানেন না।
এ ব্যাপারে স্পর্শীয়া দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘প্রথমত এটা আমিই। তবে এটা ন্যুড ছবি নয়। ছবির সামনের দিকটা আমি আজকেই ফেসবুকে আপলোড করব। দ্বিতীয়ত এটা আমার ফেসবুক পেজ থেকে আপলোড করা হয়নি। ওই পেজটি আমি নিয়ন্ত্রণ করি না। ফেসবুকে আমার আইডি ছাড়া আর কোনো পেজ নেই। যেভাবেই হোক ছবিটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আমার আপত্তি নেই। আর বাজে মন্তব্যের ব্যাপারে কিছু বলার নেই। কারণ সবার দেখার চোখ এক নয়।’
বিনোদন ডেস্ক : নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি মানুষের আকর্ষণ বরাবরের। এই আকর্ষণের আবর্তে পড়েই অনেকে খুব কম বয়সে পৃথিবীতে আসার রহস্য নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতেই হঠাৎ করে পর্ন ‘আবিষ্কার’ করে ফেলেন। আজকের স্মার্টফোন-ল্যাপটপের যুগে পর্ন দেখাটা তো ভীষণ সহজ হয়ে গিয়েছে। তবে জানেন কি, এই পর্নের নেপথ্যে কত বড় একটা ইন্ডাস্ট্রি কাজ করে? এর বার্ষিক লাভের পরিমাণই বা কত? সম্প্রতি টাইমস অফ ইন্ডিয়া এ নিয়ে একটা ইনফোগ্রাফিক্স প্রকাশ করে, যাতে এমন তথ্য রয়েছে যা পড়লে আপনার মাথা ঘুরে যেতে পারে।
কি করম সেই তথ্য এক বার দেখে নিন:
মোবাইলে প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন পর্ন সার্চ করেন।
বিশ্বের প্রায় ২৪ শতাংশ মানুষ এটা স্বীকার করেন, যে তাঁদের মোবাইলে পর্ন VDO রয়েছে।
মোবাইলে Sex Chat করার সংখ্যা বছরে প্রায় ২৫ শতাংশ করে বাড়ছে।
ইন্টারনেটে পর্ন দেখিয়ে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের ব্যবসা করে বিভিন্ন অ্যাডাল্ট ওয়েবসাইট।
১০ জনের মধ্যে ৯ জনই ইন্টারনেটে শুধুমাত্র ফ্রি পর্ন দেখেন, বা অবৈধ কপি করা VDO দেখতেই বেশি পছন্দ করেন।
অনলাইনে পর্ন দেখার জন্য প্রতি সেকেন্ডে ৩ হাজার মার্কিন ডলার রোজগার করে ওয়েবসাইটগুলি।
১৮ বছর হওয়ার আগেই ১০ জনের মধ্যে ৯ জন পুরুষ এবং ১০ জনের মধ্যে ৬ জন মহিলা পর্নোগ্রাফি VDO দেখে ফেলেন।
প্রায় ৬৯% পুরুষরা এবং ৫৫% মহিলারা ইন্টারনেটে সমলিঙ্গের Sex VDO দেখেন।
ইন্টারনেটে ২ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি পর্ন সাইট রয়েছে।
৮৩% পুরুষ এবং ৫৭% মহিলারা অনলাইনে গ্রুপ Sex দেখা পছন্দ করেন।
ইন্টারনেটে প্রচুর ফ্রি পর্ন সাইটের কারণে ২০০৭ সালের পর থেকে বিশ্ব জুড়ে প্রায় ৫০% আয় কমে গিয়েছে পর্ন ওয়েবসাইটগুলির।
পুরুষরা গড়ে ১২ বছর বয়সেই এ বিষয়ে বেশ অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন।
পর্নোগ্রাফিযুক্ত কনটেন্ট নিয়ে সারা বিশ্বে প্রতি দিন ২ হাজার ৫০০ কোটি ই-মেল পাঠানো হয়।
শুধুমাত্র মোবাইল পর্ন সাইটগুলি চলতি বছরে ২৮০ কোটি মার্কিন ডলার লাভ করবে বলে অনুমান।
মার্কিন মুলুকেই প্রতি দিন ৪ কোটি মানুষ ইন্টারনেটে পর্ন দেখেন।
রবিবার বিশ্ব জুড়ে সব থেকে বেশি মানুষ পর্ন দেখেন।
ইন্টারনেটে ৪টির মধ্যে ১টি সার্চ হয়ে থাকে পর্নের বিষয়ে। বিশ্বে প্রতিদিন যত জিনিস ডাউনলোড করা হয়, তার এক তৃতীয়াংশই Porn.
প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন পুরুষ কাজের জায়গায় পর্ন দেখে থাকেন।
ডেস্ক রিপোর্ট : ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বর মাসের রাত। স্বামী প্রহলাদ চন্দ্র দে’র সাথে প্রতিদিনের মত একই রুমে ঘুমাতে যান সীমা মিত্র। রাত আনুমানিক ১টার দিকে হঠাৎ সীমার আর্ত চিৎকারে জেগে ওঠে পাশের বাড়ির কয়েকজন। দেয়াল টপকে প্রবেশ করে বাড়ির ভেতর।
সীমাকে তারা ঘরের মধ্যে আবিষ্কার করে আগুনে জ্বলন্ত অবস্থায়। স্বামী প্রহলাদ তখনো বাড়িতে আছেন তবে তার শরীরে আগুনের কোন আঁচ লাগেনি। সীমাকে উদ্ধার করে প্রতিবেশীরাই প্রথমে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে খবর পায় তার পরিবার। সীমার ভাইয়ের ছেলে শুভাশিস মিত্র সেদিন সীমার পাশে হাসপাতালে ছিলেন।
তিনি বলছিলেন “ আমার ফুফু রাতে ঘুমাতে যায়। রাত একটার দিকে তার চিৎকারে পাশের বাসার কয়েকজন আসেন। কিন্তু আমার ফুফুর স্বামী দরজা খোলেননি। পরে তারা প্রাচীর টপকে ঘরে ঢোকে। আশ্চর্যের বিষয় হল আমার ফুফা বাসায় ছিল, সে নির্বিকার এবং তার কোন ক্ষতি হয়নি। আমরা খবর পেয়ে হাসপাতালে যেয়ে দেখি আমার ফুফুর শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে”।
হাসপাতালে নেওয়ার তিনদিন পর মারা যান সীমা মিত্র। মারা যাওয়ার সময় সীমা ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এধরনের আচমকা মৃত্যু আর তার কারণ জানা না থাকায় হতবিহবল হয়ে পরে সীমার পরিবার। পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে, তদন্তে বেরিয়ে আসে সীমার স্বামীর আরেকজন নারীর সাথে সম্পর্ক থাকার বিষয়টি।
গত বছরের মে মাসে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার গোপীপাড়ায় দেবর ও ননদের হাতে বেধড়ক মারপিটের শিকার হন তিন সন্তানের মা মিনু আরা বেগম। খবর পেয়ে তার ভাই কামরুল হাসান ঘটনাস্থলে যান। উদ্ধার করেন বোনকে।

তিনি বলছিলেন “সেদিন আমার বোন রান্না ঘরে কাজ করছিল, তার স্বামী যেয়ে তাকে মারা শুরু করে, পরে তার দেবর-ননদ এসে গ্রিলের সাথে বেঁধে মারে। আমি খবর পেয়ে বোনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই”।
মিনু আরা বেগম তিনদিনের মাথায় মারা যান হাসপাতালে। ভাই কামরুল হাসানের ভাষায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে ঘটে এই হত্যাকাণ্ড। এ ধরনের পারিবারিক বিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ডের খবর সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হচ্ছে হরহামেশা।
স্বামীর হাতে স্ত্রী, স্ত্রীর হাতে স্বামী, ভাইয়ের হাতে ভাই,বাবা-মার হাতে সন্তান, সন্তানের হাতে বাবা মাকে মারার ঘটনার খবর চাঞ্চল্য তৈরি করে। এর কোন কোন টি- খবরের পাতায় স্থান পায়, আর বেশির হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কোন খবর হয় না।
বাংলাদেশ পুলিশের এক পরিসংখ্যান বলছে পারিবারিক কলহের জের ধরে গত পাঁচ বছরে প্রায় ১০ হাজার নারী, পুরুষ ও শিশু হত্যার মামলা হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলছিলেন বছরে মোট হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ হচ্ছে পারিবারিক হত্যাকাণ্ড।
নিহত ব্যক্তির কোন শিশু সন্তান বেঁচে থাকলে মামলা গুলো সমঝোতার দিকে গড়াচ্ছে
তিনি বলছিলেন “ ২০১০ সালে পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছিল ১৬৭৫টি, ২০১১ সালে ১৬৮৮টি এবং ২০১২ সালে ১৫৩৫। সুতরাং টোটাল যে হত্যাকাণ্ড হচ্ছে দেশে তার ৩৯-৪০ শতাংশ হচ্ছে এই পারিবারিক হত্যাকাণ্ড”।
গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ীর পূবালী এলাকার এক বাড়িতে গৃহবধূ সুরভী আক্তারকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন তাঁর স্বামী সাজ্জাতুল ইসলাম রাসেল। পরদিন থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।
কক্সবাজারে গত মে মাসে এক ব্যক্তি তার তিন মেয়েকে শিরশ্ছেদ করেন পারিবারিক অশান্তির জেরে, তিনিও পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। গত বছরের ১৩ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুরে সালাহউদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ীকে হত্যার পর থানায় ফোন করে খবর দেন তাঁর স্ত্রী লাবনী আক্তার। পুলিশ লাবনীকে গ্রেপ্তার করে । এসব ঘটনা গণমাধ্যমে খবর হলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কোন কারণে মতের অমিল হলে বা বিরোধ হলে সেটা কেন হত্যার পর্যায়ে যাচ্ছে? বা মানুষের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের খুন করার এই প্রবণতা কেন? এসব বিষয় নিয়ে আমি কথা বলেছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিয়াউর রহমানের সাথে।
অধ্যাপক রহমান বলছিলেন “ বাংলাদেশের যে ট্র্যাডিশনাল ভ্যালু নিয়ে দীর্ঘদিন চলতো সেখান থেকে হঠাৎ করে জাম্প করেছে, সাথে যোগ হয়েছে গ্লোবালাইজেশন”। “ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও আকাশ সংস্কৃতির কারণে এবং দ্রুত কম্পিউটার, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দ্রুত মডার্ন ভ্যালুস গুলো বাংলাদেশের সোসাইটির মধ্যে চলে আসছে” উল্লেখ করছিলেন তিনি। তিনি বলছিলেন “এসব কারণ আলটিমেটলি একটা সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি হচ্ছে। এটা একটা বড় কারণ এছাড়া, মানুষের হাতে এখন টাকা পয়সা চলে এসেছে। ফলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্কের নতুন রূপ দেখতে পাচ্ছি”।
গত কয়েক বছরের ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দাম্পত্য কলহ, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ক, যৌতুক, মাদকাসক্ত এসব বিষয় রয়েছে হত্যাকাণ্ড গুলোর মূল কারণ হিসেবে।
২০১০ সালে সম্পত্তি ও টাকা পয়সা নিয়ে বিরোধের জের ধরে বাবা মোঃ. শহিদুল্লাহকে ঘুমন্ত অবস্থায় কুপিয়ে খুন করেন ছেলে বদরুল। চলতি মাসের ২২ তারিখে খুলনার একটি আদালত বদরুলকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। কিন্তু এ ধরনের রায় আসতে সময় লাগে বেশ কয়েক বছর। পরিবারের এক সদস্যের হাতে যখন আরেক সদস্য নিহত হন তখন সেই মামলা চূড়ান্ত রায় বা মামলার নিষ্পত্তি কি পরিমাণ হচ্ছে?
পারিবারিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন আইনজীবী শাহিন মমতাজ বলছিলেন, এর কোন পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও দীর্ঘ দিনের পর্যবেক্ষণে তিনি দেখেছেন বেশির ভাগ মামলা কয়েক বছর পর পরিবারের মধ্যেই আপোষ-রফা করে ফেলার হার সবচেয়ে বেশি।
তিনি বলছিলেন “ প্রথমত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হত্যাকাণ্ড হলে যদি কোন শিশু জীবিত থাকে তাহলে সে মামলা অবধারিত ভাবে মিউচুয়ালের দিকে যেতে দেখেছি। এছাড়া বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘ সময় লাগার কারণে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তাৎক্ষনিক যে মানসিক অবস্থা থাকে সেটা কেটে যায়। ৫/৭ বছর পর তারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে আদালতে মামলা তুলে নেয় বেশির ভাগ ক্ষেত্রে। আর ১০/১৫ বছর ধরে মামলা চালিয়ে রায় পাওয়া পর্যন্ত খুব কম মামলা চলে বলে আমাদের কাজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি”।
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় দ্রুত বিচারের বিধান রয়েছে। তবে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা হত্যার শিকার হলে সেটা খুনের মামলা হিসেবেই পরিচালিত হয়। ফলে অন্যান্য খুনের মামলার মত পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের বিচার চলে।
পুলিশের অপরাধ বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলছিলেন এটি একটি সামাজিক অপরাধ হলেও আলাদা করে বিচার পরিচালনা করার জন্য বিশেষ কোন ব্যবস্থা এখনো বাংলাদেশে নেই। তাছাড়া অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার কাজ করতে যেয়ে আরও দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যে পড়ে যায় এই মামলাগুলো।
শুরুতে সীমা মিত্রের কথা বলছিলাম- তার হত্যাকাণ্ডের রায় হয়েছিল ঘটনার ২০ বছর পর। আদালতে প্রমাণিত হয় স্বামী প্রহলাদ চন্দ্র দে’র বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জেনে যাওয়া এবং না মেনে নেওয়ার কারণেই স্বামীর হাতে খুন হন সীমা মিত্র। প্রহলাদ মিত্রের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।
আর মিনু আরা বেগমের স্বামীসহ আরো আটজনকে আসামী করে মামলা করা হয়। যাদের মধ্যে ৭ জন এখন জামিনে বাকি একজন পলাতক। এখন মামলা লড়ছেন তার ভাই কামরুল হাসান। তবে এই দুই ঘটনার যে বিচারিক প্রক্রিয়া- সেটা, হাতেগোনা ঘটনা গুলোর মতই। কারণ পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সমঝোতা করে ফেলার ঘটনা যেন বেশি উদাহরণ সৃষ্টি করছে । -বিবিসি বাংলা
ডেস্ক রিপোর্ট : আগে বলা হতো যেসব যুগল একসঙ্গে খেলাধুলা করেন তাদের বিয়ে বেশিদিন স্থায়ী হয়। কিন্তু গবেষকরা এখন বলছেন সুখি দাম্পত্য নিশ্চিত করার জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকর পন্থা হল নগ্ন হয়ে শোয়া।
সম্প্রতি ব্রিটেনে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৭ শতাংশ যুগল- যারা নগ্ন হয়ে বিছানায় যান তারা যে ৪৮ শতাংশ যুগল পায়জামা পরে বিছানায় যায় তাদের চেয়ে অনেক বেশি সুখি। ওই জরিপে ১ হাজার ব্রিটিশ দম্পতি অংশগ্রহণ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নগ্ন হয়ে বিছানায় গেলে যুগলদের পরস্পরের শারীরিক স্পর্শ অনেক বেশি কোমল অনুভুত হয়। এর ফলে নিজেদের মধ্যে অনেক খোলামেলা বোঝাপোড়া হয় ও ঘনিষ্ঠতা গাঢ় হয়। যার পরিণতিতে দাম্পত্য জীবনে সুখ বাড়ে।
তবে সুখি দাম্পত্যের ক্ষেত্রে আলাদা বেডরুম, আলাদা বাথরুম, ঝগড়া-ঝাটি ও সহবাস প্রভৃতিরও ইতিবাচক ভূমিকা সম্পর্কিত আলাদা আলাদ তত্ত্ব রয়েছে।
জোড়া ডেট: বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন কোনো যুগল যদি অন্য আরেকটি যুগলের সঙ্গে নিজেদের প্রেম-রোমান্সের কথা শেয়ার করতে পারেন তাহলে তারা সুখি হন। ফলে অন্য যুগলের সঙ্গে জোড়া ডেটিংয়ে গেলে সুখও দ্বিগুন হয়ে যাবে। ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ডের মনোবিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন জোড়া ডেটিংয়ে যুগলরা নিজেদের মাঝে আরো বেশি ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সুযোগ পান এবং নিজেদের সম্পর্কে আরো বেশি জানতে পারেন।
ওই গবেষণার প্রধান অধ্যাপক জিওফ্রে গ্রিফ বলেন, ‘যেসব যুগলের যুগল বন্ধু আছে তারাই দাম্পত্য জীবনে বেশি সুখি হন ও দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন লাভ করেন।’ তবে জোড়া ডেটিংয়ের বিপদও আছে। তিনি বলেন, আমরা কিছু যুগলের সাক্ষাৎকার নিয়ে জানতে পেরেছি জোড়া ডেটিংয়ে গিয়ে কোনো যুগলের একজনের সঙ্গে অপর যুগলের কোনো সদস্যেরও সম্পর্ক হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আলাদা বাথরুম: ডায়নাস্টি তারকা জোয়ান কলিনস জীবনে পাঁচবার বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। ফলে দাম্পত্য বিষয়ে তার বিশেষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ৮১ বছর বয়সী ওই তারকা বলেন, আমি কোনো স্বামীর সাথে একই বাথরুমে প্রবেশ করিনি। এমনকি আমি মনে করি যুগলদের জন্য আলাদা আলাদা বাথরুম থাকা দরকার।
এছাড়া তিনি, যুগল সদস্যদের পরস্পরের জীবনে হস্তক্ষেপ না করারও পরামর্শ দেন। ভারতীয় ফ্যাশন কনসালট্যান্ট সাবিনা চোপড়াও মুম্বাই মিররকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোয়ান কলিনসের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘দু’জন মানুষের মাঝে একটু দূরত্ব বজায় রাখার মানেই কিন্তু এমন নয় যে তারা পরস্পরের সঙ্গ উপভোগ করছেন না। আর পুরুষরা বাথরুমে ঢুকলে একটু ভয়ানক আচরণই করে বটে।’
গায়ের গন্ধ: হলিউড অভিনেত্রী গোল্ডি হন (৬৮) তার স্বামী কুর্ট রাসেল (৬৩) এর সঙ্গে ঘর করছেন ৩০ বছর ধরে। তিনি বলেন, দাম্পত্য জীবন দীর্ঘ হওয়ার একটি বড় সূত্র হলো পরস্পরের গায়ের গন্ধ পছন্দ হওয়া। গায়ের গন্ধ পছন্দ হলে পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাও বাড়ে।
আলাদা বিছানা: আলাদা বিছানায় ঘুমালে পরস্পরের বদঅভ্যাসগুলো থেকে মুক্ত থাকা যায়। ইউনিভার্সিটি অব সুরিতে একটি স্লিপ ল্যাবরেটরি চালান ড. নেইল স্ট্যানলি। তিনি বলেন, দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য একই বিছানায় ঘুমাতে হবেই এমন কোনো কথা নেই। এটা একটা আজগুবি কথা। আর যেসব দম্পতির সদস্যরা অনেক বেশি ক্লান্ত হয়ে বিছানায় যায় তাদের মধ্যে তালাকের হার বেশি। হলিউডের একটু ভিন্ন ধরনের যুগল টিম বার্টন ও হেলেনা বোনহাম কার্টার একসঙ্গে একই বিছানায় ঘুমান না। এমনকি প্রকৃতপক্ষে তারা পাশাপাশি দুটো আলাদা বাড়িতে বসবাস করেন। কারণ টিম বার্টন ঘুমানোর সময় নাক ডাকেন।
ঝগড়া করা: দীর্ঘদিন ধরে সংসার করছেন এমন কোনো যুগল যদি বলেন যে তারা ঝগড়া করেন না। তাহলে বিশ্বাস করবেন না। কারণ ঝগড়া করা স্বাস্থ্যকর।
সপ্তাহে তিন দিন সহবাস করা: একটি যথাযথ দাম্পত্য জীবন লাভের গুপ্ত কথা হলো- সপ্তাহে অন্তত তিনদিন মোট অন্তত সাতবার যৌন সহবাস করা। যুক্তরাষ্ট্রে চালানো এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ১ হাজার বিবাহিত যুগলের উপর চালানো ওই গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব যুগল সপ্তাহে অন্তত ১০ বার পরস্পরকে চুম্বন করে, টিভি সেটের সামনে বসে পরস্পরকে সপ্তাহে অন্তত ছয়বার গাঢ় আলিঙ্গন করে এবং মাসে অন্তত ১০ বার অর্থপূর্ণ সংলাপ করে তারা দাম্পত্য জীবনে অনেক সুখি।
স্বাস্থ্য ডেস্ক : সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক কিংবা দুপুর-রাতের খাবারে ডিমের একটা মেন্যু ঘুরেফিরে যেন আসবেই। আর ব্যাচেলরদের জীবনে সহজে রান্নার সহজ মেন্যু হিসেবে ডিম তো প্রায় ‘জাতীয় খাদ্য’ই বটে! মানুষের দেহের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে ডিমরে দ্বিতীয় আর নেই বললেই চলে। অবশ্য ডিম পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ খাবার হওয়ার কারণও রয়েছে।
কি কি আছে ডিমে:
প্রায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদার্থ রয়েছে ডিমের ভেতর। আর এ কারণে ডিমকে বলা হয় পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ পুষ্টিকর খাবার।
ডিমে প্রায় ১১ ধরনের ভিটামিন, প্রচুর আমিষ ও খনিজ পদার্থ রয়েছে।
একটি ডিমে রয়েছে প্রায় ৫ গ্রাম চর্বি, যার পুরোটাই কুসুমে। তবে ক্ষতিকর চর্বিও আছে, যার পরিমাণ দেড় গ্রামের মতো।
পুষ্টির উৎসের ভেতর ডিমের অবস্থান সবার উপরে বললেই চলে। কারণ ডিমের ভেতর বিদ্যমন আমিষ সহজপ্রাপ্য এবং খুবই উপকারী।
পুষ্টিগতভাবে ডিম প্রোটিন ও কোলিনের উৎকৃষ্ট উৎস।
অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এক গবেষণায় জানিয়েছে, যারা সুষম খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত, তাদের প্রতিসপ্তাহে ৬টি ডিম খেতে কোনো ক্ষতি নেই।
স্বাস্থ্য ডেস্ক : ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর একথা জানেন না এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ, সিগারেটের প্যাকেটের গায়েই লেখা থাকে সতর্কীকরণ ‘স্মোকিং কিলস’। কিন্তু এবার গবেষকরা পুরুষ ধূমপায়ীদের জন্য আরো ভয়ঙ্কর তথ্য দিয়েছেন। আপনার ফুসফুসের ক্ষতি করে বা হার্টের বারোটা বাজিয়ে দেবে বা ক্যানসার হবে গোছের সতর্কতার কথা বলা হচ্ছে না। আরও ভয়ংকর কিছু, যা শুনলে যে কোনও পুরুষ অন্তত দু-বার ভাববেন, ধূমপান করার আগে।
কারণ গবেষকরা বলছেন, নিয়মিত ধূমপানে পুরুষাঙ্গ ক্রমশ ছোট হতে থাকে। তা আপনি হেসে উড়িয়ে দিতে পারেনই। আপনার খালি চোখে ধরা না-ও পড়তে পারে। কিন্তু, ঘটনা হল ঘটনাই। সমীক্ষা রিপোর্টও তাই। সিগারেটের এই সাইডএফেক্টের গবেষণা রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে বস্টন ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ মেডিসিন।
ধূমপায়ী ২০০ পুরুষের ওপর টানা কিছু দিন ধরে গবেষণার পর, রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়। তাতে দেখা গিয়েছে ধূমপায়ী প্রত্যেক পুরুষের কাছ থেকে পাওয়া ফিডব্যাক এক-ই। প্রত্যেকেই একবাক্যে স্বীকার করেছেন পুরুষাঙ্গা ছোট হয়ে যাওয়ার কথা।
ছোট মানে, স্বাভাবিক অবস্থায় পুরুষাঙ্গের যে মাপ, তা ছোট হয়ে যাওয়ার কথা বলছেন না গবেষকরা। কিন্তু, যৌন উত্তেজনায় পুরুষাঙ্গ যতটা দীর্ঘ আগে হত, ক্রমে তা আর হবে না। ক্রমে পুরুষাঙ্গ সঙ্কুচিত হয়ে পড়বে।
এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও দিয়েছেন গবেষকরা। পুরুষাঙ্গ হচ্ছে ইলাস্টিকের মতো। উত্তেজনায় স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কয়েক গুণ বাড়ে। এবং, বাড়টা নির্ভর করে পুরুষাঙ্গ বা PENIS-এ রক্তসঞ্চালনের ওপর। ধূমপানে হার্টের যেমন ক্ষতি হয়, তেমনি ক্ষতি হয় PENIS-এর রক্তসংঞ্চালন পথের। ফলে, রক্তসঞ্চালনের পথে বাধা সৃষ্টি হয়। যে কারণে, যৌন উত্তেজনাতেও আগের মতো পুরুষাঙ্গ আর বাড়ে না।
বিনোদন ডেস্ক : সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে বলিউড সুপারস্টার সালমান খান অভিনীত ছবি ‘সুলতান’-এর টিজার। যথারীতি ‘প্রথম লুক’ দেখানোর পর বলিপাড়ায় ব্যাপক আলোচনা আর আগ্রহ তৈরি করেছে ছবিটি।তবে কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে সালমান খান থাকলেও এখনো ঠিক হয়নি কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রটি। তবে শোনা যাচ্ছে প্রিয়াঙ্কার অনুরোধে ‘সুলতান’ ছবিতে সালমানের সঙ্গী হিসেবে থাকতে পারেন তার চাচাতো বোন পরিনীতি চোপড়া!
জানা গেছে, ‘সুলতান’ ছবিতে সালমান খানের বিপরীতে অভিনয়ের জন্য কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র হিসেবে নির্মাতা ও প্রযোজকের প্রথম পছন্দ ছিলো প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।কিন্তু প্রিয়াঙ্কার কাছে ছবিটির প্রস্তাব নিয়ে গেলে ‘মেরি কম’ খ্যাত এই অভিনেত্রী ছবিটিতে অভিনয়ে অপারগতা জানান। এবং ‘সুলতান’ টিমকে তার পরিবর্তে চাচাতো বোন পরিনীতিকে নেয়ার অনুরোধ করেন।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়, নির্মাতা আলী আব্বাস জাফর ‘সুলতান’-এ কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রের জন্য প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে প্রস্তাব করেন, কিন্তু প্রিয়াঙ্কা নির্মাতাকে তার জায়গায় চাচাতো বোন পরিনীতিকে নেয়ার অনুরোধ করেন।
সূত্রমতে এখনো ‘সুলতান’-এ কে হচ্ছেন সালমানের সঙ্গিনী, তা এখনো স্পষ্ট জানাননি নির্মাতা আলী আব্বাস জাফর। শীঘ্রই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ছবির অভিনেত্রী চূড়ান্ত না হলেও ২০১৬ সালের ঈদে ছবিটি মুক্তি দেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে নির্মাতা আলী আব্বাস জাফর।
বিনোদন ডেস্ক : ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন খেলোয়ার আজহারউদ্দিনের আত্মজীবনী নিয়ে বলিউডের আসন্ন আলোচিত সিনেমা ‘আজহার’। আর এই সিনেমাতেই ইমরান হাশমির স্ত্রী হিসেবে থাকছেন বলিউডের আবেদনময়ী অভিনেত্রী নার্গিস ফাখরি।
জানা গেছে, ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটার আজহার উদ্দিনের বৈচিত্রময় জীবন নিয়ে এন্টনি ডি সুজা নির্মান করছেন একটি আত্মজৈবনিক সিনেমা। আর এই সিনেমার মূল চরিত্রে অভিনয় করছেন ইমরান হাশমি; আর আজহারউদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী বলিউড অভিনেত্রী সংগীতা বিজলানির চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন আবেদনময়ী স্টাইলিশ অভিনেত্রী নার্গিস ফাখরি।
সূত্র জানিয়েছে, অনেক ভাবনা চিন্তার পর ‘আজহার’-এর জন্য আমরা নার্গিস ফাখরিকেই চুক্তিবদ্ধ করেছি। স্টাইল আর গ্ল্যামারে তাকে সংগীতা বিজলানির সাথে খুব চমৎকার মানিয়ে যাবে, সে এই চরিত্রটি খুব সুন্দর ফুটিয়েও তুলতে পারবে।কারণ তার মধ্যে সেই স্পৃহা এবং ট্যালেন্টটা আমরা দেখতে পেয়েছি’।
নার্গিস ফাখরিকে আজহারের স্ত্রী সংগীতা বিজলানির চরিত্রে নেয়ার আগে ভারতের প্রথম সারির একাধিক অভিনেত্রীর কথা শোনা গিয়েছিলা।
উল্লেখ্য, বলিউড অভিনেত্রী সংগীতা বিজলানিকে ১৯৯৬ সালে বিয়ে করেছিলেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার আজহারউদ্দিন। ২০১০ সালে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।
বিনোদন প্রতিবেদক : আসছে ঈদ। রোজার মাসে তারকাদের ব্যস্ততার তাই কমতি নেই।ঈদ অনুষ্ঠানমালা নিয়ে প্রত্যেকেই ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের জীবনে রোজার প্রভাব কেমন তা জানতেই আমরা মুখোমুখি হয়েছিলাম কিছু ব্যস্ততম তারকার সঙ্গে।
ইউনিটে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ইফতার বা সেহেরি করি: ওমর সানি
রোজার সময় শুটিংয়ে সাধারনত ১১ টার আগে যেতে পারি না।যদি এফডিসিতে হয় তাহলে যেতে যেতে বারটা বাজে।এখন অনেক রাত জেগে কাজ করা যায়।একটা বিষয় না বললেই নয় আগে রাজ্জাক ভাই,আলমগীর ভাই ববিতা আপাদের সঙ্গে কাজ করতাম তখন সবাইকে বলত একসঙ্গে ইফতার করতে।এখন দেখি যে যার মত করে ইফতার করে।একসঙ্গে ইফতার বা সেহেরি খাওয়ার বিষয়টি মিস করি।রোজার মধ্যে শুটিং থাকলে একটু কষ্টই হয়।কারণ এ মাসটাতো অন্যান্য মাসের থেকে আলাদা।আমি ইউনিটে থাকলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ইফতার বা সেহেরি করি।
রোজাকে কেন্দ্র করে আলাদা প্রস্ততি নিতে হয়: মিশা সওদাগর
সাধারনত বছরের অন্যান সময়গুলো যেভাবে কাটাই তার থেকে কিছুটা ভিন্নভাবে জীবনযাপন করতে হয়।কারণ রোজাকে কেন্দ্র করে আলাদা প্রস্ততি নিতে হয়।সবসময় শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়।এছাড়া শুটিং থাকলে সেসময় ইউনিটের সবার সঙ্গে একসাথে ইফতার বা সেহেরি খাওয়ার আনন্দই অন্যরকম।এছাড়া রোজার সময় চেহারায় কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।কারণ সারাদিন রোজা রাখলে একটু দুর্বলতা কাজ করে।তারপরও পেশাদারিত্বের কারণে চালিয়ে যেতে হয়।
আমি নিজের হাতে ইফতারের খাবার তৈরি করি:ফাহমিদা নবী
রোজার দিনগুলো বেশ ভালোই কাটছে আল্লাহর রহমতে। আগে ইফতারের সময় কাছের মানুষের বাসায় দাওয়াত থাকতো কিন্তু জ্যামের জন্য এখন এখন সেহরিতে দাওয়াত থাকে। সেহরিতে তাই বাসার পাশাপাশি বিভিন্ন দাওয়াতেও যেতে হয়। তবে আমি ইফতার পরিবারের সঙ্গে করি। আমি নিজের হাতে ইফতারের খাবার তৈরি করি। আর আমাদের ভাই-বোনদের বাসা পাশাপাশি হওয়াতে আমরা প্রায় প্রতিদিন একসঙ্গে সবাই ইফতার করার চেষ্টা করি। এভাবেই এখন পর্যন্ত রোজার দিনগুলো কেটেছে। আশাকরি সামনের দিনগুলোও এভাবে কাটবে ইনশাল্লাহ।
রোজা রেখে শুটিং করাটা একটু কষ্টই বটে:চঞ্চল চৌধুরি
এ বছর ফিল্মের কাজের জন্য একটু আরামে আছি।এছাড়া আগের বছরের ঈদের আগে বেশ ব্যস্তে সময় কেটেছে।এবছর সেরকম কোন ব্যস্ততা নেই।কারণ সব ভাবনা আয়নাবাজিকে ঘিরেই।এরপর সন্ধ্যার দিকে ইফতারের পর এক ঘন্টার একটা বিরতি থাকে।রাতে কাজের ক্ষেত্রে একটা প্রেসার থাকে।এছাড়া রোজা রেখে শুটিং করতে গেলে চেহেরায়ও একটা ছাপ পড়ে যায়।যেটা পরিচালক তার ক্যামেরায় দেখতে পারেন।তারপরও সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে নিজেকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে।রোজা রেখে শুটিং করাটা একটু কষ্টই বটে।আমারে ক্ষেত্রে দেখা যায় সারাদিন শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকলে পোশাকের ক্ষেত্রে সকালে দেখা যায় একরকম আবার বিকেলে বা রাতে যখন বা্সায় ফিরি তখন দেখা যায় আরেকরকম পোশাক পরে ফিরছি।এছাড়া শুটিং ইউনিটের সকলের সঙ্গে ইফতার বা সেহেরী খাওয়ার আনন্দই আলাদা।এ বিষয়টা আমার কাছে খুবই ভালো লাগে।একটা পরিবারের মত হয়ে থাকা।
সবার সঙ্গে ইফতার করা থেকে বঞ্চিত হই: হাসিন রওশন
রমজান মাসে আমি সাধারণত সেহরি খাওয়ার পর ঘুমাতে যাই। পরের দিন শুটিং থাকলেও,এ নিময় মেনে চলি।তাছাড়া রমজানে ঈদের নাটকের শুটিং থাকে। ফলে প্রায় প্রতিদিনই সকাল সকাল বাসা থেকে বের হতে হয়।তবে খুব সকালে শুটিং থাকলেও সেহরিটা একটু আগেই সেরে,ঘুমিয়ে পরি।’
আমার কাছে রোজায় সবচেয়ে আর্কষণীয় বিষয় ইফতার। সাধারণত শুটিয় ইউনিটেই ইফতার করে থাকি। এ কারণে বাসায় বসে সবার সঙ্গে ইফতার করা থেকে বঞ্চিত হই। তবে এটা ঠিক শুটিং এ থাকলেও, ইফতার আয়োজনে কমতি থাকে না।’
রোজার মাঝামাঝি থেকে শুরু করি ঈদের প্রস্তুতি :মারিয়া নূর
আমি সাধারণত রোজা রাখি।তবে কাজের মধ্যে থাকলে রোজা রেখেছি বলে মনেই হয় না। তাছাড়া রোজায় সবচেয়ে বড় পরির্বতন ঘটে ঘুমে। অনেক সময় সকাল সাড়ে ৭টায় শুটিং ইউনিটের গাড়ি বাসায় চলে আসে। তখন স্বাদের ঘুম ফেলে রেখেই শুটিং এর উদ্দেশ্যে রওনা দেই।
আমি রান্না করতে অনেক পছন্দ করি। এ কারণে সেহেরি কিংবা ইফতারে সময় পেলে নতুন কোন ডিশ রান্না করি।আর রোজার মাঝামাঝি থেকে শুরু করি ঈদের প্রস্তুতি।বিশেষ করে শপিং নিয়েই ব্যস্ততা থাকে অনেক বেশি।
শপিং আর ঈদ নাটকেই কাটে পুরো মাস:বাঁধন
রোজার মাস মানেই ঈদের শপিং আর ঈদের নাটক। এই দুটো নিয়েই কেটে যায় একটি মাস। তবে ইফতার, সেহেরি আর শুটিং করতে গিয়ে অনেক সময়ই হাঁপিয়ে উঠি। তবে ইফতারের পর কিছুটা বিশ্রাম পাই।
রোজার মধ্যে শুটিং করতে হয়েছে: আরেফিন রুমি
রোজায় আমার জীবনের রুটিনে কোন পরিবর্তন আসছে বলে মনে হচ্ছে না আমার। অন্য সময়ও আমি যখন ঘুমাই কিংবা যখন কাজ করি এখনও ঠিক তখনই সেসব কাজ করছি। পার্থক্য এই যে তখন হয়ত যে কোন সময় যা ইচ্ছে খেতে পারতাম এখন সেটা হচ্ছে না। আমি সাধারণত আমার পরিবারের সঙ্গেই সেহরি এবং ইফতার করি। রাতে কাজের ফাঁকে একসময় সেহরিটা শেষ করি এরপর ঘুমিয়ে উঠতে উঠতে দুপুর হয়ে যায়। ঘুম থেকে উঠে ছেলেকে সময় দিই, নিজের কাজ করি। এভাবে ইফতারের সময় চলে আসে। ঈদে ‘কিছু কথা আকাশে পাঠাও’ শিরোনামে আমার একটি ভিডিও অ্যালবাম প্রকাশিত হচ্ছে। এজন্য রোজার মধ্যে শুটিং করতে হয়েছে। এটা একটু কষ্টকর ছিল। তবে আল্লাহর রহমতে সবকিছু ভালোভাবে শেষ করতে পেরেছি। অল্পকিছু শুটিং এখনও বাকি আছে। ইনশাল্লাহ সেগুলোও ভালোভাবে শেষ করতে পারবো।
রোজার আমার প্রতিটি দিন ব্যস্ততায় কাটছে:ইমরান
ঈদে ‘বলতে বলতে চলতে চলতে’ শিরোনামে আমার তৃতীয় একক অ্যালবাম প্রকাশিত হচ্ছে সংগীতা থেকে। এখন পর্যন্ত রোজার আমার প্রতিটি দিন ব্যস্ততায় কাটছে। এই ব্যস্ততার মাঝে কখন যে সারাটাদিন কেটে যাচ্ছে তা বুঝতেই পারছি না। আমি সাধারনত রাতে কাজ করি। এরপর দিনে ঘুম থেকে উঠতে উঠতে একটি দেরী হয়ে যায়। আর যেহেতু একক অ্যালবামের কাজ করছি তাই ঘুম থেকে উঠেই আবার কাজ করতে বসে যাই। সেহরি সাধারণত বাসাতেই আব্বু-আম্মু-বোনের সঙ্গে করি। ইফতার কখনও বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে করি কখনও বাসায় করি। তবে আজ সেহরিতে অনেক মজা হয়েছে। গান বাংলার আয়োজনে সেহরি পার্টিতে পরিচিত অনেকের সঙ্গে দেখা হয়েছে।মুহূর্তটি অনেক প্রাণবন্ত ছিল।
বিনোদন প্রতিবেদক : ঈদ মানেই নতুন ছবি। বিগত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও মুক্তির দৌড়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি ছবির নাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চারটি ছবি মুক্তি পাবে বলে নিশ্চিত করেছেন পরিবেশকরা। ছবিগুলো নিয়ে আমাদের আজকের এ আয়োজন…
শাকিব-অপুর ‘লাভ ম্যারেজ’

শাহীন সুমনের পরিচালনায় ‘লাভ ম্যারেজ’ ছবিটি এবারের ঈদে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রধান দুইটি চরিত্রে অভিনয় করছেন শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। রোমান্টিক গল্পে ছবিটি এখনও সেন্সর বোর্ডে জমা দেয় হয়নি। কারণ হিসেবে নির্মাতা বলেন,‘ছবির কিছু কাজ বাকি থাকায় এখনও সেন্সরে জমা দেয়া হয়নি। তবে দুই একদিনের মধ্যে তা সম্ভব হবে।’
মাহি অভিনীত বহুল আলোচিত ‘অগ্নি-২’

ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত ‘অগ্নি টু’ ছবিটি শুরু থেকেই আলোচনায় রয়েছে।‘অগ্নি’ ছবির সিক্যুয়াল ‘অগ্নি-২’ তে অভিনয় করেছেন মাহিয়া মাহি,কলকাতার রাজা গোস্বামী ওম, আশীষ বিদ্যার্থী, টাইগার রবি প্রমুখ। অগ্নির নাম ভূমিকায় আবারও দেখা যাবে মাহিকে। মূলত অ্যাকশনধর্মী গল্পে নির্মিত হয়েছে ছবিটি। ছবিটি প্রযোজনা করেছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। অ্যাকশন ও রোমান্টিক ঘরানার এই ছবিটি সম্প্রতি সেন্সর বোর্ডে জমা দেয়া হয়েছে। আগামী ৮ জুলাই দুপুরে ছবিটির সেন্সর শো অনুষ্ঠিত হবে।
পরী মনির ভক্তদের জন্য ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’

ঈদের জন্য এসএ হক অলীক নির্মাণ করছেন ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ ছবিটি। এ ছবির মূল তিনটি চরিত্রে অভিনয় করছেন শাকিব খান, পরীমণি ও ববি। মূলত রোমান্টিক গল্প হলেও এতে পারিবারিক নানা ঘটনা এবং ভালোবাসার জন্য ত্যাগ স্বীকারের বিষয়টি গল্পে স্থান পেয়েছে। এই ছবিটিও সেন্সরের জন্য জমা দেয়া হয়েছে। আগামী ৭ জুলাই ছবিটির সেন্সর শো অনুষ্ঠিত হবে।
বিগ বাজেটের ‘পদ্ম পাতার জল’

ঈদের প্রথম ছবি হিসেবে বেশ কয়েকদিন আগেই সেন্সরে জমা পড়ে ‘পদ্ম পাতার জল’। ছোটপর্দার নির্মাতা তন্ময় তানসেন পরিচালিত এই ছবির গল্প গড়ে উঠেছে এক বাইজির সঙ্গে জমিদার পুত্রের প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। গল্প লিখেছেন লতিফুল ইসলাম ও তন্ময় তানসেন। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন ইমন, মিম, নিপুণ, অমিত হাসান, তারিক আনাম খান, নিমা রহমান প্রমুখ। এদিকে ছবির নির্মাতা জানান,গত বুধবার সেন্সরবোর্ড থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ছবিটি।
এদিকে ঈদের সম্ভাব্য ছবি হিসেবে উপরে উল্লেখিত চারটি ছবির কথা শোনা গেলেও, শেষ মূহুর্তে মুক্তির তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে এই চারটি ছবির মধ্যে দুই একটা বাদও পরতে পারে। যা গত কয়েক বছরের ঈদের ছবির তালিকা দেখলেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
এদিকে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে ৩১৮টি প্রেক্ষাগৃহ রয়েছে। ফলে ঈদ মৌসুমে একাধিক ছবি মুক্তি দিলে হুমকির মুখে পড়তে পারে বিনিয়োগ। প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা কম থাকায় কোন ছবিই ভাল ব্যবসা করতে পারে না।তবে ঈদ মানেই যেহেতু দর্শকদের জন্য অন্যরকম কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা তেমনি নির্মাতাদেরও প্রানান্ত চেষ্টা চলছে ঈদের আনন্দে নিজের ছবি নিয়ে সামিল হওয়ার…
তো,দেখা যাক কি হয়…