May 7, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের হজ ফ্লাইট রোববার শুরু হয়েছে। সকালে চার শতাধিক হজযাত্রী নিয়ে বিমানের প্রথম হজ ফ্লাইট জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী মতিউর রহমান বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে উদ্বোধনী ফ্লাইটের হজযাত্রীদের বিদায় জানান।
আজ বেলা ২টা ৩৫ মিনিটে ও রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় হজ ফ্লাইট ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া রাত ১২টার নিয়মিত ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহন করা হবে।
বিমানের মুখপাত্র মহাব্যবস্থাপক খান মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকেও চলতি বছর যথারীতি প্রয়োজনীয় সংখ্যক হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে।
এবার বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জনের হজ পালনের কথা রয়েছে। এঁদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ২ হাজার ৬০০ জন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৫১ হাজার হজযাত্রী পরিবহন করবে। এবার ইকোনমি ক্লাসে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া ১ হাজার ৫১৫ ডলার ও বিজনেস ক্লাসে ২ হাজার ৫০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হবে অন্যান্য কর।
ইকোনমি ক্লাসের প্রত্যেক হজযাত্রী বিনা মূল্যে সর্বাধিক দুটি করে ৩২ ও বিজনেস ক্লাসে সর্বাধিক দুটি করে ৪২ কেজি ওজনের ব্যাগ এবং কেবিন ব্যাগে সাত কেজি মালপত্র নিতে পারবেন। প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য ৫ লিটার জমজমের পানি ঢাকায় নিয়ে আসা হবে এবং তা ঢাকা ফেরার পর হাজিদের দেওয়া হবে।
রংপুর অফিস : নীলফামারীর সৈয়দপুরে পুলিশের পিকআপভ্যানে ঢাকাগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কা লাগায় চার কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন সৈয়দপুর থানার ওসিসহ কমপক্ষে ৯ পুলিশ সদস্য। উপজেলার ঠেলাপীর রেলক্রসিংয়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত পুলিশ সদসরা হলেন- কনস্টেবল শামসুল আলম (৫৫), মাইদুল ইসলাম (৩৫), শরিফুল ইসলাম (৪৫) ও কনস্টেবল ফারুক (৪০)। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নীলফামারী জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুমের অপারেটর মো. আবু তাহের জানান, রাতে সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টহল দল সৈয়দপুরের ঠেলাপীর রেলক্রসিং পার হচ্ছিল। এ সময় নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে ঢাকাগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় পুলিশ ভানটি ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই কনস্টেবল শামসুল আলম নিহত হন। খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে সৈয়দপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই কনস্টেবল মাইদুল ইসলাম ও শরিফুল মারা যান। এ ছাড়া শনিবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনস্টেবল ফারুক মারা যান।
আবু তাহের আরও জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এএসআই আব্দুল আজিজের একটি পা কেটে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া সৈয়দপুর থানার ওসি ইসমাইল হোসেন, এসআই নাজমুল হোসেন, কনস্টেটবল সাদ্দাম, রিপন, কবির এবং পুলিশভানচালক মোকছেদ আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
ঢাকা: ‘ওই দিনের ডিউটি শেষে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম তা খেয়াল নেই। হঠাৎ টেলিফোন মিস্ত্রি আমাকে উঠিয়ে (জাগিয়ে তুলে) বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সাহেব আপনাকে ডাকছেন।’’ তখন সময় ভোর সাড়ে ৪টা কি ৫টা। চারদিকে আকাশ ফর্সা হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু ফোনে আমাকে বললেন, ‘‘সেরনিয়াবাতের বাসায় দুষ্কৃতকারী আক্রমণ করেছে।’’ আমি জলদি পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করলাম। অনেক চেষ্টার পরেও পুলিশ কন্ট্রোল রুমে লাইন পাচ্ছিলাম না। তারপর গণভবন এক্সচেঞ্জে লাইন লাগানোর চেষ্টা করলাম। এরপর বঙ্গবন্ধু ওপর থেকে নিচে নেমে এসে আমার কাছে জানতে চান পুলিশ কন্ট্রোল রুম থেকে কেন কেউ ফোন ধরছে না। এ সময় আমি ফোন ধরে হ্যালো হ্যালো বলে চিৎকার করছিলাম। তখন বঙ্গবন্ধু আমার হাত থেকে রিসিভার নিয়ে বললেন, ‘‘আমি প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিব বলছি।’’ এ সময় দক্ষিণ দিকের জানালা দিয়ে একঝাঁক গুলি এসে ওই কক্ষের দেয়ালে লাগল। তখন অন্য ফোনে চিফ সিকিউরিটি মহিউদ্দিন কথা বলার চেষ্টা করছিলেন। গুলির তাণ্ডবে কাচের আঘাতে আমার ডান হাত দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। এ সময় জানালা দিয়ে অনর্গল গুলি আসা শুরু হলে বঙ্গবন্ধু শুয়ে পড়েন। আমিও শুয়ে পড়ি।’

বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারী (রেসিডেন্ট পিএ) আ ফ ম মোহিতুল ইসলামের এজাহারে এভাবেই বর্ণনা করা হয় ১৪ আগস্ট দিবাগত রাতের ঘটনা।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘কিছুক্ষণ পর সাময়িকভাবে গুলিবর্ষণ বন্ধ হলে বঙ্গবন্ধু উঠে দাঁড়ালেন। আমিও উঠে দাঁড়ালাম। উপর থেকে কাজের ছেলে সেলিম ওরফে আবদুল বঙ্গবন্ধুর পাঞ্জাবি ও চশমা নিয়ে এলো। পাঞ্জাবিও চশমা পরে বঙ্গবন্ধু বারান্দায় এসে দাঁড়ালেন। তিনি (বঙ্গবন্ধু) বললেন, ‘‘আর্মি সেন্ট্রি, পুলিশ সেন্ট্রি এত গুলি চলছে তোমরা কি কর?’’ এ সময় শেখ কামাল বলল, ‘‘আর্মি ও পুলিশ ভাই আপনারা আমার সঙ্গে আসুন।’’ কালো পোশাক পরা একদল লোক এসে শেখ কামালের সামনে দাঁড়ালো। আমি (মোহিতুল) ও ডিএসপি নূরুল ইসলাম খান শেখ কামালের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। নূরুল ইসলাম পেছন দিক থেকে টান দিয়ে আমাকে তার অফিস কক্ষে নিয়ে গেল। আমি ওখান থেকে উঁকি দিয়ে বাইরে দেখতে চেষ্টা করলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে আমি গুলির শব্দ শুনলাম। এ সময় শেখ কামাল গুলি খেয়ে আমার পায়ের কাছে এসে পড়লেন। কামাল ভাই চিৎকার করে বললেন, ‘‘আমি শেখ মুজিবের ছেলে শেখ কামাল, ভাই ওদেরকে বলেন।’’
মোহিতুল ইসলামের এজাহারের বর্ণনায় বলেন, ‘আক্রমণকারীদের মধ্যে কালো পোশাকধারী ও খাকি পোশাকধারী ছিল। এ সময় আবার আমরা গুলির শব্দ শোনার পর দেখি ডিএসপি নূরুল ইসলাম খানের পায়ে গুলি লেগেছে। তখন আমি বুঝতে পারলাম আক্রমণকারীরা আর্মির লোক। হত্যাকাণ্ডের জন্যই তারা এসেছে। নূরুল ইসলাম যখন আমাদের রুম থেকে বের করে নিয়ে যাবার চেষ্টা করছিলেন তখন মেজর বজলুল হুদা এসে আমার চুল টেনে ধরলো। বজলুল হুদা আমাদের নিচে নিয়ে গিয়ে লাইনে দাঁড় করালো। কিছুক্ষণ পর নিচে থেকে আমরা বঙ্গবন্ধুর উচ্চকণ্ঠ শুনলাম।’
মোহিতুল ইসলামের বর্ণনায় আরও উঠে আসে, ‘বিকট শব্দে গুলি চলার শব্দ শুনতে পেলাম আমরা। শুনতে পেলাম মেয়েদের আর্তচিৎকার, আহাজারি। এরই মধ্যে শেখ রাসেল ও কাজের মেয়ে রুমাকে নিচে নিয়ে আসা হয়। রাসেল আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে, ‘‘আমাকে মারবে না তো।’’ আমি বললাম না, তোমাকে কিছু বলবে না। আমার ধারণা ছিল অতটুকু বাচ্চাকে তারা কিছু বলবে না। কিছুক্ষণ পর রাসেলকে তার মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রুমের মধ্যে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর মেজর বজলুল হুদা বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা মেজর ফারুককে বলে, অল আর ফিনিশড।’
ঢাকা: ১৫ আগস্টের প্রথম প্রহরে দলীয়ভাবে কেক কাটেননি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তবে পারিবারিকভাবে কেক কেটেছেন খালেদা জিয়া। প্রতিবছর ১৫ আগস্টের প্রথম প্রহর রাত ১২টা ১ মিনিটে নেতা-কর্মীদের নিয়ে কেক কেটে জন্মদিন উদ্যাপন করলেও এবার তা করেননি খালেদা জিয়া।
শুক্রবার রাত ১২টার কিছুক্ষণ পর গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় বেগম জিয়ার দুই ভাইয়ের স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ৭০তম জন্মদিনের কেক কাটেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। শীর্ষ নিউজ জানায়, রাত ১২টার একটু আগে খালেদা জিয়ার ভাই সাঈদ ইস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন সাঈদ ছোট একটি কেক নিয়ে বাসভবনে আসেন। এরপর অপর ভাই শামীম ইস্কান্দারের স্ত্রী কানিজ ফাতেমাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও সেখানে আসেন। এরপরই কেট কাটা হয়।
জাতীয় শোক দিবসে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি জন্মদিন পালন না করার আহবান জানানো হচ্ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে জাতীয় শোক দিবসে বিএনপি নেত্রীকে কেক কেটে জন্মদিন পালন না করার কথা বলেছিলেন। তবে আওয়ামী লীগের আহবান কিংবা জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বেগম জিয়া ১৫ আগস্টের প্রথম প্রহরে দলীয়ভাবে কেক কাটেননি কি না এব ব্যাপারে তার দলের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
তবে খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে শনিবার মহিলা দল কেক কাটবে জানিয়েছেন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা। বিএনপির দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছিল, শনিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে জন্মদিনের কেক কাটতে পারেন খালেদা জিয়া। তবে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যদি বেগম জিয়া কেক না কেটে থাকেন তাহলে তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও অন্য রাজনৈতিক দলের প্রতি সহনশীলতার একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর এ দিনটিকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হয়। একই দিনে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতারা। এদিনটিতে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ছাড়াও দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানান।
বেশ কয়েক বছর ধরে জাতীয় শোক দিবসে বেগম জিয়ার কেক কেটে জন্মদিন পালনের সমালোচনা করে আসছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। তবে এবার কেক কেটে জন্মদিন পালন না করার বিষয়টি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কিভাবে গ্রহণ করেন তা দেখার বিষয়। বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, সাধারণত শুক্রবার ও ছুটির দিনে বিএনপির চেয়ারপারসন তার কার্যালয়ে যান না। বিএনপির পক্ষ থেকে সব সময় বলা হয়, খালেদা জিয়া নিজ থেকে জন্মদিন পালন করেন না। এটি নেতা-কর্মীদের আবেগের বিষয়। সম্প্রতি দলের মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপনও এই বক্তব্য দিয়েছেন।
এদিকে লন্ডন থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের নাতি (তারেক রহমানের বড় মেয়ে) জাইমা রহমান দাদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
মাদারীপুর প্রতিনিধি: জেলার মস্তফাপুরে দুই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগের মামলায় রকিব শিকদার (১৯) নামে আরও এক জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের ত্রিভাগী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রকিব মস্তফাপুর ইউনিয়নের কামাল শিকদারের ছেলে। এর আগে একই ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে শিপন ও রফিকুল নামে দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- রানা, উজ্জ্বল, মেহেদী ও সাজিদ। বৃহস্পতিবার বিকালে স্কুল থেকে ফেরার পথে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া ও হ্যাপীকে চার বখাটে অপহরণ করে ধর্ষণের পর তাদেরকে বিষ খাইয়ে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের তিয়ানজিন বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২১ দমকল কর্মী রয়েছেন। শনিবার নগরীর উত্তরাঞ্চলীয় ডেপুটি প্রধান এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বুধবার রাতে তিয়ানজিন বন্দরের কাছে একটি রাসায়নিক গুদামে শক্তিশালী জোড়া বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সাত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৭১ জনের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। তাই নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা বিস্ফোরণের সময় গুদামে ঠিক কি মজুদ ছিল তা সনাক্ত করতে না পারায় বিষাক্ত পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিস্ফোরণের পর চীনের সামরিক বাহিনীর ২১৭ সদস্যের পরমাণু ও বায়োকেমিক্যাল বিশেষজ্ঞের একটি দলকে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাতাসে বিষাক্ত গ্যাসের পরিমাণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং ‘স্থানীয়দের জন্য এটা নিরাপদ’।
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে অবশেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি উন্মোচন করা হয়েছে। এত দিন সেখানে বঙ্গবন্ধুর কোনো প্রতিকৃতি ছিল না। ১৫ আগস্ট (শনিবার) সকাল নয়টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাব ভবনের ভেতরে এই প্রতিকৃতি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, সাংবাদিক নেতা কুদ্দুস আফ্রাদসহ নেতারা।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি উন্মোচন শেষে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর প্রতি জানানো হয় শ্রদ্ধা। দোয়া ও মোনাজাত হয়। পরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান বলেন, এই জমি (জাতীয় প্রেসক্লাবের) বঙ্গবন্ধু দান করেছেন। এত দিন বারবার উদ্যোগ নেওয়ার পরও এখানে তাঁর প্রতিকৃতি স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত এবার হলো। এর মধ্য দিয়ে সাংবাদিক সমাজ গ্লানি ও লজ্জা থেকে রেহাই পেল।
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ শনিবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনী গার্ড অব অনার দেয়। এ সময় বিশেষ মোনাজাত ও পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত হয়।
সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে জাতীয় শোক দিবসে প্রধানমন্ত্রী সেখানে যান। সাড়ে সাতটার দিকে তিনি বনানী কবরস্থানে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য ও নিহত অন্যদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সেখানে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করা হয়।
সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ফাতিহা পাঠ ও সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার প্রদানসহ বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া মাহফিল হবে। সারা দেশে সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হবে।
বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন শোক দিবসের অনুষ্ঠানমালা সরাসরি সম্প্রচারসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। পোস্টার, সচিত্র বাংলাদেশের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ ও বিতরণ এবং বঙ্গবন্ধুর ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলসহ জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সংগতি রেখে কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, কবিতাপাঠ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, হামদ ও নাত প্রতিযোগিতা এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি: জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের দুই দিনের কর্মসূচি রয়েছে। আজ সূর্যোদয়ের সময় বঙ্গবন্ধু ভবন, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ছয়টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে এবং সাড়ে সাতটায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা।
১০টায় টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতিহা পাঠ, মোনাজাত হবে। বেলা ১১টায় মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিল, দুপুরে অসচ্ছল, দুস্থ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ, বাদ আসর মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হওয়ার কথা।
কাল রোববার বেলা সাড়ে তিনটায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা হবে। এতে সভাপতি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।
এ ছাড়া সিপিবি, গণফোরাম, জাসদ, ন্যাপ ও গণতন্ত্রী পার্টি এবং আওয়ামী লীগের সব সহযোগী সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে।
বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি : রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পাঁচজন নিহত হয়েছে। আহত হন এক সেনা সদস্য। আজ শনিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। সেনাবাহিনী বলছে, নিহত ব্যক্তিরা ইউপিডিএফ ও জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র সদস্য। সংগঠন দুটি এই দাবি অস্বীকার করেছে। ঘটনাস্থল থেকে সাতটি অস্ত্র ও ৫১৩টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের নাম রূপায়ন চাকমা। অন্য চারজনের নাম জানা যায়নি। সেনাবাহিনীর ভাষ্য, নিহত ব্যক্তিরা সবাই সেনাবাহিনীর পোশাকে ছিলেন। আহত সেনা সদস্য হলেন কর্পোরাল লিয়াকত আলী। তাঁকে সেনাবাহিনীর চিকিৎসকেরা চিকিৎসা দিয়েছেন।
বাঘাইহাট সেনা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলী হায়দার সিদ্দিকীর ভাষ্য, ঘটনাস্থল থেকে দুটি চাইনিজ রাইফেল, তিনটি এসএলআর (এন ১৬), একটি এসএমজি ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। ৫১৩টি গুলি পাওয়া গেছে।
বাঘাইহাট সেনা জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলী হায়দার সিদ্দিকীর ভাষ্য, নিহত সন্ত্রাসীরা চুক্তিবিরোধী হিসেবে পরিচিত ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) ও সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) সশস্ত্র সদস্য। তিনি বলেন, বাঘাইছড়ি উপজেলা সদর থেকে চার কিলোমিটার দূরে রূপকারী ইউনিয়নের বড়আদাম গ্রামে ২০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অবস্থান করছে বলে তারা গোপন সূত্রে খবর পান। ভোরে চারদিক থেকে সন্ত্রাসীদের ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী। খবর পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়ে পালানোর চেষ্টা চালায়। এ সময় সেনা সদস্যরা পাল্টা গুলি ছোড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা ‘বন্দুকযুদ্ধ’ চলে। পরে ঘটনাস্থল থেকে সেনাবাহিনীর পোশাক পরা পাঁচ সন্ত্রাসীর লাশ উদ্ধার করা হয়। বন্দুকযুদ্ধে সেনাবাহিনীর এক সদস্য আহত হন।
ইউপিডিএফের তথ্য বিভাগের প্রধান নিরন চাকমা বলেন, নিহত ব্যক্তিরা তাদের সদস্য না।
জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত চাকমা বলেন, ‘আমাদের কোনো সশস্ত্র সদস্য নেই। আমাদের সদস্য হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’
নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদতবার্ষিকী আজ। শোকাবহ ১৫ই আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। জাতির জন্য কলঙ্কময় এক দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে জাতি হারিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ঘাতকরা নির্মমভাবে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে ইতিহাসের এক কলঙ্কময় অধ্যায়ের জন্ম দেয়। পাষণ্ড ঘাতকের বুলেট থেকে রেহাই পায়নি ছোট্ট শিশু রাসেলও। বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের ৪০তম শাহাদতবার্ষিকীতে শোক আর শ্রদ্ধায় পুরো জাতি স্মরণ করবে তাদের। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আর বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবিও উচ্চারিত হবে শোক দিবসের নানা অনুষ্ঠানে।

দিবসটি উপলক্ষে সরকারিভাবেও বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করা হবে। আওয়ামী লীগ আগস্টের শুরু থেকে ৪০ দিনের শোক কর্মসূচি পালন করে আসছে। জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দিবসটি উপলক্ষে আজ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও শাখা কার্যালয়ে ওড়ানো হবে কালো পতাকা। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। রেডিও ও টেলিভিশনে প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। সকালে বঙ্গবন্ধু ভবন থেকে শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন। দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন।
১৯৭৫ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে নিজ বাসভবনে সপরিবারে শহীদ হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার সঙ্গে সেদিন প্রাণ হারান তার প্রিয় সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তিন ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, সেনা কর্মকর্তা শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেল, নবপরিণীতা দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, আরও প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ আবু নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, মেয়ে বেবি সেরনিয়াবাত, শিশু পৌত্র সুকান্ত বাবু, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি, তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী আরজু মনি, নিকট আত্মীয় শহীদ সেরনিয়াবাত, আবদুর নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল প্রমুখ। পুরো জাতি আজ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে এই দিনের ঘটনায় শাহাদতবরণকারী সবাইকে স্মরণ করবে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে। সেদিন বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
স্বাধীন সংগ্রামের জন্য একটি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা, মরণপণ সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করা এবং স্বাধীনতার পর একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গঠনে ভূমিকা রেখে বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠেছিলেন একটি ইতিহাস, জাতির স্বাধীন সত্তা আর ঐক্যের প্রতীক। তার ইস্পাত-কঠিন নেতৃত্বই জাতিকে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ছিনিয়ে আনার প্রেরণা যুগিয়েছিল। পাকিস্তানি শাসকদের অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম-নিপীড়ন থেকে মানুষকে মুক্তি দিয়েছিলেন তিনি। পাকিস্তানি শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘোষণা করেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে তার এই আহ্বান বরণ করে নিয়েছিল স্বাধীনতাকামী বাঙালি। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালো রাতের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ওই রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তার ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দীর্ঘ নয় মাস তাকে পাকিস্তানের কারাগারে আটকে রাখা হয়। কারাগারে থাকাবস্থায় তার মাথার ওপর ঝুলেছিল মৃত্যুর খড়গ। তবুও স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করেননি মহান এই নেতা। এ কারণে পাকিস্তানের স্বৈরশাসককেও নতি স্বীকার করতে হয়েছে তার কাছে। মুক্তিযুদ্ধ শেষে বাঙালির প্রিয় এই নেতাকে তারা দেশে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়।
সরকারি কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে অর্ধনমিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন। এ ছাড়া বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার এবং সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে।
সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ধানমন্ডির ৩২নং রোডে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার প্রদান শেষে অনুষ্ঠিত হবে মোনাজাত ও কোরআন তেলওয়াত। এ ছাড়াও ১৫ই আগস্টে শাহাদাতবরণকারী বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য ও অন্যান্য শহীদের বনানী কবর স্থানে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করা হবে। এদিন সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফাতেহা পাঠ, প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণ ও সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি: আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয়ের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সব স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে বনানী কবরস্থানে ১৫ই আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল। একই দিনে টুঙ্গিপাড়ায় সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হবে। এ কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত থাকবেন।
এদিন বাদ জোহর দেশের সকল মসজিদে মিলাদ মাহফিল হবে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে সর্বধর্ম প্রার্থনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। বাদ আসর বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হবে। আওয়ামী লীগের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৬ই আগস্ট বিকাল ২টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করবেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। মহানগর আওয়ামী লীগ, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, মহিলা যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন শোক দিবস উপলক্ষে অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
বঙ্গবন্ধুর ৩৯তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মহিফিল, সাড়ে ১০টায় বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, বেলা ১১টায় বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ‘ইসলাম প্রচার ও প্রসারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অবদান’ শীর্ষক আলোচনাসভা, দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জুমার নামাজের পর মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, বিকাল ৪টায় একই স্থানে শোকগাথা আলোচনা সভা, সন্ধ্যা ৭টায় মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণ করা হবে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পালন করার জন্য দলের সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সংস্থাসমূহের সকল স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সব শাখার নেতৃবৃন্দকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে দিবসটি স্মরণ ও পালন করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সারা দেশে ব্যাপক আয়োজনে দিবসটির বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করবে।
সরকারি কর্মসূচি: জাতীয় শোক দিবসে সরকারি কর্মসূচির মধ্যে আছে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে অর্ধনমিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন। এ ছাড়া বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ধানমন্ডির ৩২নম্বর রোডে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার প্রদান শেষে অনুষ্ঠিত হবে মোনাজাত ও কোরআনখানি। এ ছাড়াও ১৫ই আগস্টে শাহাদতবরণকারী বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য ও অন্য শহীদের বনানী কবরস্থানে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ফাতেহা পাঠ, প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণ ও সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার প্রদানসহ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি: আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সব স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে বনানী কবরস্থানে ১৫ই আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে টুঙ্গিপাড়ায় সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। বাদ জোহর দেশের সকল মসজিদে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে সাংবাদিক সমাজের পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে সর্বধর্ম প্রার্থনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। বাদ আছর বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে আগামীকাল বিকাল ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনাসভা। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।
মহানগর আওয়ামী লীগ, আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, মহিলা যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন শোক দিবস উপলক্ষে অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ ছাড়াও ১৫ই আগস্ট বাদ আসর দেশের সব ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলায় মিলাদ মাহফিল এবং মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। বঙ্গবন্ধুর ৪০তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামিক ফাইন্ডেশন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের শাহাদতবরণকারী সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনায় পবিত্র কোরআনখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ৪০তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নেয়া কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।