May 6, 2026
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকার গুলশানে গতকাল সোমবার ইতালীয় নাগরিককে হত্যা করার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর ইন্টারনেটভিত্তিক তৎপরতা নজরদারি করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এমন ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ গতকাল এ তথ্য জানায়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার সকালে বলেন, আইএসের কথিত দাবি সত্য নাকি বিভ্রান্তিকর, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে পুলিশ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। ডিএমপির কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া গতকাল লেন, কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, এ ব্যাপারে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ মনে করছে, এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
গতকাল সন্ধ্যার দিকে গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় দুর্বৃত্তের গুলিতে ইতালির নাগরিক তাবেলা সিজার (৫০) নিহত হন। গুলশানে অনেক লোকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আইএসের দাবির বিষয়টি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, উগ্র জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের নামে এক অনলাইন বিবৃতিতে হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে। তাবেলা সিজার নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আইসিসিও-বাংলাদেশ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রুফস প্রকল্পের ব্যবস্থাপক বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। আইসিসিও সারা বিশ্বে খাদ্যনিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে কাজ করে। পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় গুলশান ২ নম্বরের ৯০ নম্বর সড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন সিজার। এ সময় তিন যুবক মোটরসাইকেলে তাঁকে অনুসরণ করে। একপর্যায়ে দুজন মোটরসাইকেল থেকে নেমে তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি গুলি ছোড়ে। তিনটি গুলিই তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয়। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। লোকজন তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সন্ধ্যা সাতটার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান গতকাল বলেন, সম্ভাব্য আলামত সংরক্ষণ করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহত ব্যক্তির কাছ থেকে কিছু খোয়া যায়নি বলে মনে হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা পূর্বপরিকল্পনা থেকে ঘটে থাকতে পারে। পুলিশ জানায়, তাবেলা সিজার আইসিসিও-বিডির যে কার্যালয়ে চাকরি করতেন, সেটি গুলশান-২-এর ৩০ নম্বর সড়কে অবস্থিত। ৫৪ / ৫১ নম্বর সড়কের একটি ফ্ল্যাটে তিনি একাই থাকতেন। এর আগে ২০১২ সালের ৫ মার্চ মধ্যরাতে গুলশানের ১১৭ নম্বর সড়কে নিজের বাসার কাছে গুলিবিদ্ধ হন সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তা খালাফ আল আলী। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গুলশান থানার উপপরিদর্শক মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর এ মামলায় পাঁচ আসামিকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেন আদালত। আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
এম এ মানিক: কয়েকজন মন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে জঙ্গিবাদের জিকিরে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দল প্রভাবিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপি দলের মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন। সোমবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেসবিফ্রিংয়ে তিনি এ দাবি করেন। বিএনপির সহদফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন স্বাক্ষরিত সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ড. রিপন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ কয়েকজন মন্ত্রী ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে থেকে বিভিন্ন সময়ে দেশে জঙ্গিবাদের জিকির তুলেছিলেন।
এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে জঙ্গি ধরা, তথাকথিত উগ্রবাদী বই-পুস্তক উদ্ধারের যে কাহিনী সময়ে সময়ে প্রচারিত হয়েছে,তার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি আস্থাহীনতা ও আশঙ্কার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের এই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে বলে আমরা মনে করি। তিনি বলেন, এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী নিরাপত্তা প্রশ্নে যা বলেছেন, তার সঙ্গে আমরা একমত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষও মনে করে, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনো তৎপরতা নেই। বাংলাদেশ ধর্মীয় সহনশীল একটি রাষ্ট্র। এখানে ধর্মীয় উগ্রবাদের কোনো অস্তিত্ব নেই।
প্রেসব্রিফিংয়ে ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, সোমবার অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল। কিন্তু ‘নিরাপত্তা নেই’ এ কথা বলে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সে দেশের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিষয়ক অধিদফতর ডিএফএটি বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেছেন, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চায় তারা। সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মুখপাত্র রিপন বলেন, আমরা মনে করি, বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিনা ভোটের সরকার তাদের শাসন ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করা এবং অনতিবিলম্বে জনগণের অবাধ ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নতুন নির্বাচন দেওয়ার দাবিকে অস্বীকার করে ‘ধর্মীয় উগ্রপন্থাকে ঠেকানোর জন্য এ সরকার ব্যস্ত’ এমন ধারণা দিয়ে পশ্চিমাদের সহানুভূতি নেওয়ার একটি অপচেষ্টা লক্ষ করা গেছে।
তিনি বলেন, আমরা বরাবরই বলেছি, এ ধরনের প্রোপাগান্ডা এক পর্যায়ে দেশের ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং বাস্তবে হয়েছেও তাই। প্রেসব্রিফিংয়ে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ভারত, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর পর নতুন ইমেজে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ছক কষছে এবং নিজেদের সর্বোত্তম পারফর্মান্স (ক্রীড়া নৈপুণ্য) প্রদর্শনে উজ্জীবিত। কিন্তু যখন দিনক্ষণ, ভেন্যু সবকিছু ঠিকঠাক তখন অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর নিরাপত্তার প্রশ্নে অনিশ্চিত হওয়ায় আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে এবং ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে আমরা খুব দুঃখ পেয়েছি।
তিনি বাংলাদেশ জঙ্গিমুক্ত দেশ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, আমরা আবারও উল্লেখ করতে চাই, বাংলাদেশ নিয়ে অস্ট্রেলীয় পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিষয়ক অধিদফতরের দেওয়া পর্যবেক্ষণ প্রকৃত তথ্যভিত্তিক নয়- এটা আমাদের বিশ্বাস। ড. রিপন বলেন, আমরা আশা করবো, বাংলাদেশ সম্পর্কে যে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়েছে এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পর্কে সরকার সচেতন থাকবে এবং এর বিপরীতে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টিতে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে। অস্ট্রেলিয়ার পর্যবেক্ষণকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষের বাংলাদেশ বিষয়ক পর্যবেক্ষণ যদিও আমরা বাস্তবতা বিবর্জিত বলে মনে করি, তথাপিও দেশের মানুষের মধ্যেও এর ফলে এক ধরনের শঙ্কা সৃষ্টি হতে পারে। সরকারকে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. রিপন বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে শুধু বিদেশিদের নয়, দেশের মানুষকেও আশ্বস্ত করার দায়িত্ব সরকারের।
অস্ট্রেলীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাবি করে তিনি বলেন, অস্ট্রেলীয় সরকারের বাংলাদেশ বিষয়ক এই পর্যবেক্ষণে কারণে ধর্মীয় সহনশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রশ্ন উঠে এসেছে। সে কারণে অবিলম্বে এ ধরনের নেতিবাচক ধারণার বাইরে বাংলাদেশকে নিয়ে এসে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে নতুন করে ব্র্যান্ডিং করা দরকার। এজন্য সরকার ও বিরোধী দলগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে।
এ জন্য বাংলাদেশে সুশাসন, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া, দেশে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাজনীতির অবাধ চর্চায় বাধা না দেওয়া, সরকারি দল, বিরোধীদলের মধ্যে গণতান্ত্রিক আচরণ, সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করা এবং অনতিবিলম্বে দেশে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহনণ একটি অবাধ নির্বাচনের আয়োজনের দাবি জানান বিএনপির এই নেতা।
ডা. রিপন বলেন, আমরা মনে করি, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সুশাসন, আইনের শাসন, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনকারী রাষ্ট্রে কখনোই কোনো ধরনের উগ্রপন্থা মাথাচাড়া দিতে পারে না।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহে ট্রেনে কাটা পড়ে এক যুগ্ম সচিবের মৃত্যু হয়েছে। রণজিৎ চন্দ্র সরকার (৫৫) নামে ওই কর্মকর্তা সবশেষ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। জেলা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আহাদ এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, সকাল সোয়া ১১টার দিকে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠতে গিয়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন রণজিৎ। পরে তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। জানা যায়, তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা জেলায়। রণজিৎ সরকার ছুটি শেষে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা থেকে ট্রেনে করে ঢাকায় ফিরছিলেন।
এ সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। গত ২০ সেপ্টেম্বর অধিদফতরের পরিচালক হিসেবে যোগ দেন তিনি। নিহত রণজিৎ সরকার প্রশাসন ক্যাডারের নবম ব্যাচের কর্মকর্তা। তার মৃত্যুতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার ও মন্ত্রণালয়ের সচিব শোক প্রকাশ করেছেন।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে অভিযান চালিয়ে একে-২২ রাইফেলসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেছে র্যাব ও কোস্টগার্ড। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার সকাল ছয়টার দিকে এই অভিযান শুরু হয়। দুপুরেও সন্দ্বীপের হারামিয়া ও সেনের হাট এলাকায় এ অভিযান চলছিল। র্যাবের গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক মাকসুদুল আলম জানান, অভিযানে একটি একে-২২ রাইফেলসহ ১৯টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন বলেন, ‘গোপন সংবাদে এ অভিযান চালানো হচ্ছে। অস্ত্র উদ্ধারে এখনো অভিযান চলছে।’ উদ্ধার অস্ত্রের মধ্যে একে-২২ রাইফেল ছাড়াও পিস্তল, রিভলভার, একনলা বন্দুক ও গুলি রয়েছে। আটকদের বিষয়ে পরে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানান মিফতাহ উদ্দিন।
ঢাকা: মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার ফল বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে ১ অক্টোবর ঢাকা চলো কর্মসূচী ঘোষণা করেছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। এর আগে দুপুরে তারা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি ছিল। একই দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে কর্মসূচী পালন করেন। পরে মিছিল করে তারা শাহবাগের দিকে আসার পথে পুলিশ বাধা দিলে আন্দোলনরতরা শাহবাগ থানার সামনে সড়কে বসে পড়েন।
নিউজ ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফরে এলে তাদের ভিভিআইপি নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এর পরও দলটি যদি বাড়তি নিরাপত্তা চায় সেটিও দেওয়া হবে। অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে দেশটির প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ কথা বলা হয়েছে। সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টার দিকে বৈঠকটি শুরু হয়। অবশ্য এই বৈঠকের পরও অস্ট্রেলিয়া দলের বাংলাদেশ সফর নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল তা এখনো কাটেনি। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান।
আর অস্ট্রেলিয়া প্রতিনিধি দলের ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার গ্রেক উইলকক। তবে এই বৈঠকে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল বাংলাদেশে আসছে কি না সে ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি দলটির এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ারও এখতিয়ার নেই। দুপুরে গ্রেক উইলকক বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত পদক্ষেপগুলো জানানো হয়েছে। এটি অস্ট্রেলিয়া সরকার ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে জানানো হবে। সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধি দল সফরে নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা তাদের অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।’ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল কবে আসবে বা আসবে কি না এ বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। বৈঠকে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে মূলত আলোচনা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কি ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে তা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়েছে, ক্রিকেট দলকে ভিভিআইপি নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
এর পরও যদি তারা বাড়তি নিরাপত্তা চায় সেটিও দেওয়া হবে। নাজমুল হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলা যাবে না এটা বিশ্বাস করি না। বাংলাদেশ নিরাপদ দেশ। তাদের আমরা আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছি, বলেছি ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম। নিরাপত্তা দুর্বলতার অপবাদ আমরা মেনে নিতে পারি না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি তারা (অস্ট্রেলিয়া) কোথা থেকে পেয়েছে সে ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিনিধি দল তা জানাতে চায়নি। আরেক প্রশ্নের জাবে তিনি বলেন, প্রতিনিধি দলের কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার নেই।
ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৬৯তম জন্মদিন আজ। বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছার প্রথম সন্তান তিনি। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের মধুমতি নদী তীরের প্রত্যন্ত পাড়াগাঁ টুঙ্গিপাড়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
শেখ হাসিনা বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ৮ দিনের সরকারি সফরে তিনি নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন।
জাতিসংঘের এই অধিবেশনে শেখ হাসিনা দুটি পুরষ্কারে ভূষিত হন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে যুগান্তকারী উদ্যোগের জন্য আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার। শনিবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) কাছ থেকে আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনার হাতে ওই পুরস্কার তুলে দেন আইটিইউর মহাসচিব হোউলিন ঝাও। পুরস্কারটি শেখ হাসিনা বাংলাদেশের তরুণদের উৎসর্গ করেছেন। রবিবার রাতে (নিউইর্য়ক সময়) তিনি চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ পুরস্কার গ্রহণ করেন।
এর আগে রাষ্ট্র পরিচালনায় দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং সাফল্যের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে তিনি ‘সাউথ সাউথ’ ও সেরেস পদকসহ অন্যান্য পুরস্কারে ভূষিত হন। বাংলাদেশে নারী ও শিশুর উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য ইউনেস্কো থেকে শান্তির বৃক্ষ (ট্রি অব পিস) অভিধায়ও সিক্ত হন। শেখ হাসিনার ডাক নাম হাসু। দাদা শেখ লুৎফর রহমান ও দাদি সাহেরা খাতুনের অতি আদরের নাতনি শেখ হাসিনার শৈশব-কৈশোর কেটেছে দাদা-দাদির কোলে-পিঠে মধুমতি নদীর তীরে টুঙ্গিপাড়ায়। তাঁরা পাঁচ ভাই-বোন। অপর চারজন হচ্ছেন শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা এবং শেখ রাসেল। ভাই-বোনদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও রেহানা ছাড়া কেউই জীবিত নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে পিতা বঙ্গবন্ধু এবং মাতা ফজিলাতুন্নেছাসহ সবাই ঘাতকদের হাতে নিহত হন।
পিতাকে খুব একটা কাছে না পেলেও শৈশব-কৈশোর আনন্দেই কেটেছে শেখ হাসিনার। গ্রামবাংলার ধুলোমাটি আর সাধারণ মানুষের সাথেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। গ্রামের সাথে তাই তাঁর নাড়ির টান। শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু হয় টুঙ্গিপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরিবারকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। তখন পুরনো ঢাকার রজনী বোস লেনে ভাড়া বাসায় তাঁরা ওঠেন। বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হলে সপরিবারে ৩ নম্বর মিন্টু রোডের বাসায় তারা বসবাস শুরু করেন। শেখ হাসিনাকে ঢাকা শহরে টিকাটুলির নারী শিক্ষা মন্দিরে ভর্তি করা হয়। এখন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি শেরেবাংলা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ নামে খ্যাত। শুরু হয় তাঁর শহর বাসের পালা তথা নগর জীবন।
শেখ হাসিনা ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেন। ওই বছরেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। শেখ হাসিনা ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজে পড়ার সময় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রলীগের নেত্রী হিসেবে তিনি আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন এবং ৬-দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু উত্থাপিত ৬-দফা দাবিতে পূর্ববাংলায় এক অভূতপূর্ব জাতীয় জাগরণ সৃষ্টি হয়। শাসকগোষ্ঠী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। শুরু হয় প্রচণ্ড দমন-নির্যাতন। আটক থাকা অবস্থাতেই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। তাঁর জীবন ও পরিবারের ওপর নেমে আসে গভীর বিপদাশংকা ও দুঃসহ কষ্ট। এই ঝড়ো দিনগুলোতেই বঙ্গবন্ধুর আগ্রহে ১৯৬৮ সালে পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সাথে শেখ হাসিনার বিয়ে হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের করাচিতে নিয়ে যাওয়ার পর গোটা পরিবারকে ঢাকায় ভিন্ন এক বাড়িতে গৃহবন্দী করে রাখা হয়।
অবরুদ্ধ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই শেখ হাসিনা গৃহবন্দী অবস্থায় তাঁর প্রথম সন্তান জয়-এর মা হন। ১৯৭২ সালের ৯ ডিসেম্বর কন্যা সন্তান পুতুলের জন্ম হয়। ১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হবার আগে ছোট বোন শেখ রেহানাসহ শেখ হাসিনা ইউরোপ যান। হেগ-এ অবস্থানকালে তিনি সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর নিহত হবার খবর পান। তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফেরার কোনো পরিবেশ না থাকায় তিনি ইউরোপ ছেড়ে স্বামী-সন্তানসহ ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। শেখ হাসিনার পরবর্তী ইতিহাস একবিংশ শতকের অভিযাত্রায় তিনি কিভাবে বাঙালি জাতির কাণ্ডারি হয়েছেন তার ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন সেই স্বপ্ন রূপায়নের দায়িত্ব নিয়ে বাঙালি জাতির আলোর দিশারী হওয়ার ইতিহাস।
১৯৮১ সালের ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাঁকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আর ওই বছরেরই ১৭ মে দীর্ঘ ৬ বছর প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের পরে তিনি পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে সরকার গঠন করে এবং সে বছরের ২৩ জুন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি সপ্তম জাতীয় সংসদে বিরোধীদলের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও ওই হামলায় ২৪ জন নিহত এবং পাঁচশ’ নেতা-কর্মী আহত হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশী আসন নিয়ে বিশাল বিজয় অর্জন করে। এই বিজয়ের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
পরবর্তিতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
শুধু জাতীয় নেতাই নন, তিনি আজ তৃতীয় বিশ্বের একজন বিচক্ষণ বিশ্বনেতা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন নতুন ভূমিকায়। সাম্প্রদায়িকতা উদার প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক বিজ্ঞানমনস্ক জীবনদৃষ্টি তাঁকে করে তুলেছে এক আধুনিক, অগ্রসর রাষ্ট্রনায়কে।একবিংশ শতাব্দীর অভিযাত্রায় তিনি দিন বদল ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাণ্ডারি। এই অভিযাত্রায় তিনি বাঙালির জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং ভরসাস্থল। শেখ হাসিনা সাহিত্য চর্চা ও সৃজনশীল লেখায় নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। ওরা টোকাই কেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জন্মদিনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশন উপলক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘজীবন কামনা করে ফুলের তোড়া উপহার দেওয়া হবে।
এ ছাড়াও বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিকাল ৪টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১২টায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এবং প্যাগোডা, গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপসনালয়ে বিশেষ প্রার্থণা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিভিন্ন এতিমখানাসহ দুস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করবে।
এ ছাড়াও শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষক লীগ, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা, আওয়ামী ওলামা লীগসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি আজ এক বিবৃতিতে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে সভাপতি শেখ হাসিনার ৬৯তম শুভ জন্মদিন পালন করার জন্য দলের সকল শাখা, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থক-শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য ডেস্ক: এখন থেকে চুমুতে মিলবে অ্যালার্জি সমস্যার সমাধান। সহযোগীকে নিবিড় চুমুতে মিটে যাবে অ্যালার্জির সমস্যা। মজার এ তথ্য প্রকাশ করে ‘ইগ’ নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জাপান ও স্লোভাকিয়ার বিজ্ঞানীরা। ‘ইগ’ নোবেলে এ বছর বেরিয়ে এসেছে ১০টি মজার তথ্য।
গত বৃহস্পতিবার রাতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইগ’ নোবেলএর ২৫তম আসর অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজ্ঞানীরা ছাড়াও যোগ দেন অধ্যাপক, শিক্ষার্থী এবং প্রকৃত নোবেল বিজয়ীরাও। সেখানেই জাপান এবং স্লোভাকিয়ার বিজ্ঞানীরা চুমুর বিস্ময় ক্ষমতা তুলে ধরে ‘ইগ’ নোবেল মেডিসিন বিভাগে সেরা মনোনীত হন।
বিজ্ঞানীদের দাবি, ‘নিবিড় চুমু’ ত্বকের অনেক সমস্যার সমাধান ঘটায়। তবে চুমু কী উপায়ে ত্বকের সমস্যা দূর করে তার ব্যাখ্যা সম্মেলনে দেননি ওই দুই দেশের বিজ্ঞানীরা। তাদের গবেষণার ফল হাভার্ডের সায়েন্স জার্নালে শীঘ্রই প্রকাশ হবে।
এদিকে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, ‘ইগ’ নোবেল আবার কী? এটি হলো অন্য ধরনের গবেষণাকে প্রণোদনা যোগাতে ‘নোবেল’ পুরস্কারের আদলে গড়া অন্য আরেক শাখা। হাস্যকর অনেক বিষয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ‘বৈজ্ঞানিক সত্য’ প্রতিবছর বিজ্ঞানীরা বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন।
চলতি বছর গবেষণায় পাওয়া উল্লেখযোগ্য মজার তথ্যের মধ্যে রয়েছে- মুরগির পেছনের অংশে লাঠি লাগিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন কীভাবে ডাইনোসরেরা হাঁটাচলা করত। তারা দেখিয়েছেন, ‘হুহু’ শব্দটি পৃথিবীর সব ভাষাতেই রয়েছে। উত্তর আফ্রিকার এক রাজা ৩০ বছরে কীভাবে ৮৮৮ সন্তানের বাবা হয়েছেন তা অংক কষে বের করেছেন ‘ইগ’ নোবেল পাওয়া বিজ্ঞানীরা।
বছর খানেক আগে বিজ্ঞানীরা বরফের ওপর দিয়ে হাঁটার সহজ উপায় তুলে ধরে ‘ইগ’ নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। বরফে চলতে বিশেষ জুতোর বদলে সাধারণ জুতোর বাইরে মোজা পরে নিলে একই সুবিধা পাওয়া যায় জানিয়েছিলেন তারা।
বিনোদন ডেস্ক: আবারও সাহসী ভূমিকায় দেখা যাবে টালিউড অভিনেত্রী পাওলি দামকে। সুভাষ সেহগাল পরিচালিত ‘ইয়ারা সিলি সিলি’ নামে হিন্দি ছবিতে অভিনয় করছেন তিনি।
রীনা ভূষণ সুরি ও নিনা সুভাষ সেহগালের যৌথ প্রযোজনায় তৈরি এই ছবিটির বিষয় সাহসিকতা। ছবিটিতে বেশ কিছু নগ্ন দৃশ্য রয়েছে। তবে পাওলি অপ্রতিরোধ্য। পাওলির মতে, সাহসিকতা তৈরি হয় শিক্ষা থেকেই।
পাওলি জানিয়েছেন, একজন সাহসী না ভীতু, তা নির্ভর করে তার শিক্ষা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর। শিক্ষাই পারে মেয়েদের একটি পৃথক বৃহত্তর সমাজ গড়তে তোলার কাজে সহায়তা করতে। এর মাধ্যমেই সমাজের শিখরে উঠতে পারবেন নারীরা। সেইজন্যই প্রয়োজন সর্বস্তরের শিক্ষা। তাই জীবনে সাহসী হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।
এর আগেও সাহসী দৃশ্যে দেখা গেছে পাওলিকে। ২০১১ সালে ‘ছত্রাক’ ছবিতে নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করায় চরম বিতর্কের সম্মুখীন হতে হয় তাকে। ‘হেট স্টোরি’-তেও সাহসী দৃশ্যে তার অভিনয় সমালোচনার মুখে পড়ে।
ঢাকা: মেয়াদ বাড়ছে বাংলাদেশি পাসপোর্টের। বতর্মানে ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট ইস্যুর নিয়ম থাকলেও শিগগিরই এই মেয়াদ দ্বিগুণ করে ১০ বছর করা হচ্ছে। আর বাড়তি মেয়াদের সঙ্গে দ্বিগুণ করা হচ্ছে পাসপোর্ট ফিও। তবে পাতা বাড়ছে না পাসপোর্টে। তাই মেয়াদ দ্বিগুণ হলেও ৪৮ই থাকছে পাসপোর্টের পাতা। তবে বর্ধিত মেয়াদের পাশাপাশি বিদ্যমান পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট পাওয়ার সুবিধাও বহাল থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সূত্রমতে, সাধারণ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ৫ হাজার ৫শ’ এবং জরুরি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ১১ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে গ্রাহকদের। তবে এর সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করে জরুরি পাসপোর্ট গ্রহিতাকে মোট দিতে হবে ১২ হাজার ৬শ’ ৫০ টাকা। আর সাধারণ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ভ্যাটসহ মোট জমা দিতে হবে ৬ হাজার ৩শ’ ২৫ টাকা।
কিন্তু বিভিন্ন প্রয়োজনে যাদের বেশি বেশি বিদেশ সফর করতে হয় তাদের পক্ষ থেকে পাসপোর্টের পাতা বাড়ানোর জোর দাবি থাকলেও আপাতত সেদিকে নজর দিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে ব্যস্ত বিদেশ সফরকারীদের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পাতা শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনা আরো বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
পাসপোর্ট অধিদপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ৩৩ শতাংশ পাসপোর্ট ফি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। সে প্রস্তাবে সাধারণ এবং জরুরি পাসপোর্টের ফি ১ হাজার টাকা করে বাড়ানোর কথা বলা হয়। কিন্তু রাজস্ব আয় বাড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের চেয়ে ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৩ শতাংশ বর্ধিত ফি নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এন এম জিয়াউল আলম বলেন, মূলতঃ পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর সে কারণেই ফিও বাড়ছে। সরকারের অর্থ বিভাগ এরইমধ্যে বর্ধিত ফি এর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। কিছুদিনের মধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
তিনি বলেন, এক্ষেত্রে পাঁচ বছর মেয়াদী পাসপোর্ট রাখারও সিদ্ধান্ত হতে পারে। অর্থাৎ কেউ চাইলে ৫ বছর বা ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট নিতে পারবেন। তবে সবকিছু নির্ভর করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের উপর। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি আমরা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি শ্রমিক রফতানিকারক মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো পাসপোর্টের মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করে আসছিল। মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত শ্রমিকদের ভিসা নবায়ন করতে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ মাস মেয়াদ থাকতে হয়। এ কারণে সাড়ে চার বছর পরই শ্রমিকদের পাসপোর্ট নবায়নের প্রয়োজন পড়ে। হাতে লেখা পাসপোর্টের সময় বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেই মেয়াদ শেষে পরবর্তী ৫ বছরের জন্য পাসপোর্ট নবায়ন করা যেতো। কিন্তু এমআরপির এই যুগে শুধু ঢাকা থেকেই পাসপোর্ট ছাপানো হয়।
পরে তা কূটনৈতিক ব্যাগের মাধ্যমে দূতাবাসগুলোতে পাঠানো হয়, যাতে প্রায় মাস দুয়েকের মত সময় লেগে যায়। সেসব পাসপোর্ট চালু করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর সাপেক্ষে বিতরণ করতে কেটে যায় আরও এক-দু সপ্তাহ। এসব কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। এই পাসপোর্ট নবায়নের ঝামেলায় পড়ে চাকরি ক্ষেত্রে অন্য দেশের কর্মীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়েও পড়তে হয় বাংলাদেশি শ্রমিকদের। শুধু পাসপোর্টের মেয়াদ কম থাকায় চাকরিচ্যুতির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা যায়।
এদিকে মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত পাসপোর্টের বিদ্যমান ৪৮ পাতা রাখার সিদ্ধান্ত বহাল আছে। তবে প্রয়োজনে পাসপোর্টের পাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও আসতে পারে বলে জানান পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।