পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

অশুভ শক্তি অপতৎপরতা শুরু করেছে : সেতুমন্ত্রী

প্রতিবেদক: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশ-বিদেশি একটি অশুভ শক্তি দেশের উন্নয়নের বিরুদ্ধে অপতৎপরতা শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে একটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ছাত্রলীগ আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৬৯তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ’পুরস্কার নিচ্ছেন, জাতিসংঘে বারাক ওবামার সঙ্গে কো-চেয়ার করছেন, একই সারিতে আমরা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে দেখে গর্ববোধ করছি, ঠিক তখনি দেশ বিদেশি একটি অশুভ শক্তি এদেশের উন্নয়নের বিরুদ্ধে অপতৎপরতা শুরু করেছে। নতুবা কোন অজানা অজুহাতে অস্ট্রেলিয়া তাদের পূর্বনির্ধারিত দেশ সফর স্থগিত করেছে।12074882_1119310484763809_3954917462117469714_n

মন্ত্রী বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সফর স্থগিত করা, গুলশানের মতো অভিজাত এলাকায় বিদেশি নাগরিক সিজারকে হত্যা আর বিভিন্ন দূতাবাস থেকে স্ব স্ব দেশের নাগরিকদের নিরাপদে চলার নিদের্শ দেয়া কোন দিকে ইঙ্গিত করে। হঠাৎ করে এদেশে নিরাপত্তা নিয়ে কেন এতো প্রশ্ন? এটা কি সে শক্তি, যারা ৯৮ সালে বাংলাদেশে মিনি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে অপতৎপরতা করেছিল।

তিনি বলেন, রাজনীতির খেলা এখন ক্রিকেটেও শুরু হয়েছে। কিন্তু দেশের বিরুদ্ধে এ অশুভ চক্রান্ত কখনো মেনে নেয়া হবে না। রাজনীতির খেলা ক্রিকেটে চলবে না। এদেশের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের মনে আঘাত দিতে একটি অশুভ শক্তি দেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশ বর্তমান পরিস্থিতি খুবই চ্যালেঞ্জিং। এ মুহূর্তে নেতাকর্মীদেরকে ধৈর্য্যরে সঙ্গে ঠান্ডা মাথায় দায়িত্ব পালন করতে হবে। অযথা দায়িত্ব জ্ঞানহীন অযৌক্তিক কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিষয়গুলো মাথায় রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সবাইকেই ঐক্যবদ্ধভাবে এ অপশক্তিকে রুখতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমাদের অনুধাবন করতে হবে বঙ্গবন্ধু কেমন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, ত্রিশ লাখ মানুষ কেন তাদের রক্ত দিয়েছেন। সে স্বপ্ন এবং উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তোমাদের কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘তোমাদের শুধু ছাত্রলীগের ইতিহাস স্মরণ করলে চলবেনা বরং তোমাদের ছাত্রলীগের সে সোনালী ঐতিহ্য অনুসরণ করতে হবে।’ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এ কে এম এনামুল হক শামীম, ঢাবি সভাপতি আবিদ আল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।

Posted in জাতীয় | Comments Off on অশুভ শক্তি অপতৎপরতা শুরু করেছে : সেতুমন্ত্রী

বৃটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সফর স্থগিত

ঢাকা: যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুগো সোয়ারের ঢাকা সফর স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ৩রা অক্টোবর ঢাকা সফরে আসার কথা ছিল তার। কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল তার। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এর সূচি ছিল। এছাড়া সফরকালে ব্রিটিশ উন্নয়ন সংস্থা- ডিএফআইডি’র অর্থায়নে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পও পরিদর্শন করার কথা ছিল বৃটিশ মন্ত্রীর। ঢাকা ইতালিয়ান নাগরিক হত্যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে নিজ দেশের নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে বৃটেন। এছাড়া ওই হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে দেশটির পক্ষ থেকে।হুগো-সোয়ার

Posted in জাতীয় | Comments Off on বৃটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সফর স্থগিত

মা-মেয়েকে খুনের দায়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামে বাসায় ঢুকে নৃশংসভাবে মা ও মেয়েকে খুনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরী বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এ আদেশ দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, আবু রায়হান ও শহীদুল ইসলাম। আবু রায়হান (২৭) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হাবিলদার আবুল বাশারের ছেলে। আর শহীদুল ইসলাম হলেন নগরীর খুলশী এলাকার একটি রেস্টহাউসের গাড়ি চালক। রায় ঘোষণার সময় আদালতে তারা উপস্থিত ছিলেন। এসময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তারা একে অপরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।1891006_492683357498567_840893466_n

২০১৪ সালের ২৪ মার্চ চট্টগ্রামের ডবলমুরিং আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর সড়কের যমুনা ভবনের চতুর্থ তলায় ভাড়া বাসায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট রেজাউল করিমের স্ত্রী রেজিয়া খাতুন (৪৯) ও তার মেয়ে সাইমা আক্তারকে (১৭) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই রেজাউল করিম বাদী হয়ে ডবলমুরিং থানায় আবু রায়হানের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতপরিচয় দুই-তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ রায়হান ও শহীদুলকে গ্রেফতার করে। ২৫ মে দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে ডবলমুরিং থানার পুলিশ।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে আবু রায়হান সায়মা নাজনীন ও তার মা সায়রা খাতুনকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করেন। এ হত্যাকাণ্ডে তার বন্ধু শহীদুল ইসলাম সহযোগিতা করেন। শহীদুলকে ১০ হাজার টাকায় ভাড়া করেন রায়হান। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মো. আইয়ুব খান জানান, ৩০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়ে আদালত মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদী পক্ষ।

Posted in সারা দেশ | Comments Off on মা-মেয়েকে খুনের দায়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড

সাকা-মুজাহিদের মৃত্যু পরোয়ানা কেন্দ্রীয় কারাগারে

ঢাকা: একাত্তরে আলবদর বাহিনীর অন্যতম নেতা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যু পরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের লাইব্রেরিয়ান তাপস চন্দ্র রায় ও মো. সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি দল লাল কাপড়ে মোড়ানো মৃত্যু পরোয়ানা জারি কারাগারে নিয়ে যান। এর আগে আজ দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আনোয়ারুল হক এবং অন্য দুই বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী সাকা-মুজাহিদের মৃত্যু পরোয়ানায় সই করেন। এরপরই লাল সালুতে মোড়া এই মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় কারাগারে। এ মৃত্যু পরোয়ানা সাকা এবং মুজাহিদকে পড়ে শোনানো হবে।death-warrent-saka-muzahid_331232

বুধবার দুপুরে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি বহাল রেখে আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। এরপর সন্ধ্যায় রায়ের কপি যুদ্ধাপরাধ বিচার ট্রাইব্যুনালে পৌঁছে দেন সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এখন আসামিপক্ষ আপিল বিভাগের রায় রিভিউ (পুনর্বিবেচনার) আবেদন করবেন। আর এ আবেদনের জন্য তারা ১৫ দিনের সময় পাবেন। ১৫ দিনের মধ্যে আসামিপক্ষ রিভিউ আবেদন করলে আপিল বিভাগ তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করবেন। রিভিউ নিষ্পত্তির পর যে রায় বহাল থাকে তা কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন মুজাহিদ এবং ২৯ জুলাই সাকা চৌধুরীর আপিল খারিজ করে সংক্ষিপ্ত রায় দেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। বেঞ্চের অপর তিন সদস্য হচ্ছেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। চার বিচারপতির স্বাক্ষরের পর বুধবার মুজাহিদের ১৯১ পৃষ্ঠার এবং সাকা চৌধুরীর ২১৭ পৃষ্ঠার ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ হয়।

২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মুজাহিদের মামলার রায় দেন। ওই রায়ে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টি প্রমাণিত হয়েছিল। এর মধ্যে ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে তাকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনকে হত্যার অভিযোগটি বুদ্ধিজীবী হত্যার মধ্যে পড়ে যাওয়ায় ট্রাইবু্যুনাল এ বিষয়ে আলাদা কোনো সাজা দেননি। সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হত্যার বিষয়টি মামলায় এক নম্বর অভিযোগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা ছিল। ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ পৃথক চারটি (৩, ৫, ৬ ও ৮নং) অভিযোগে সাকা চৌধুরীকে ফাঁসির আদেশ দিয়ে রায় দেন। এছাড়া তিনটি (২, ৪ ও ৭নং) অভিযোগে তাকে দেয়া হয় ২০ বছর করে কারাদণ্ড। দুটি (১৭ ও ১৮নং) অভিযোগে দেয়া হয় ৫ বছর করে কারাদণ্ড।

Posted in জাতীয় | Comments Off on সাকা-মুজাহিদের মৃত্যু পরোয়ানা কেন্দ্রীয় কারাগারে

মিনা ঘটনায় ৪১ বাংলাদেশীর মৃত্যু: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

নিউজ ডেস্ক: মিনায় পদদলিত হওয়ার ঘটনায় ৪১ জন বাংলাদেশীর মরদেহ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এদের মধ্যে ১৮ জনের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। ১২ জনের শুধু নাম জানা গেছে এবং বাকি ১১ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, সৌদি আরবের মিনায় গত বৃহস্পতিবার পদদলিত হয়ে ৭৬৯ হাজী নিহত ও ৯৩৪ জন আহত হয়েছেন। হজের আনুষ্ঠানিকতায় মিনায় ‘শয়তানের স্তম্ভে’ পাথর ছুড়ে মারতে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

Saudi emergency personnel and Hajj pilgrims load a wounded person into an ambulance at the site where at least 450 were killed and hundreds wounded in a stampede in Mina, near the holy city of Mecca, at the annual hajj in Saudi Arabia on September 24, 2015. The stampede, the second deadly accident to strike the pilgrims this year, broke out during the symbolic stoning of the devil ritual, the Saudi civil defence service said. AFP PHOTO / STR        (Photo credit should read STR/AFP/Getty Images)

 

তবে মিনায় হজের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে পদদলিত হয়ে এক হাজারের বেশি হাজী মারা গেছেন এমন অভিযোগে এখনও অটল বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। তবে সেদিনের দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে ব্যাখ্যা দিয়েছে দেশটি। সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বুধবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতিমধ্যে প্রকাশ করা প্রায় এগারোশ জনের ছবির মধ্যে মসজিদে ক্রেন ভেঙে পড়া ও হজ চলাকালে বিভিন্ন কারণে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের ছবিও রয়েছে। তবে এ নিয়ে সৌদি আরবের ওপর বিভিন্ন দেশের চাপ অব্যাহত রয়েছে।

Posted in জাতীয় | Comments Off on মিনা ঘটনায় ৪১ বাংলাদেশীর মৃত্যু: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একযোগে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

 নিউইয়র্ক : সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস জঙ্গিবাদকে মানব সভ্যতার অস্তিত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দু’টি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একযোগে কাজ করার জন্য সকল দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বশান্তি ও উন্নয়নের পথে এটি প্রধান অন্তরায়। সন্ত্রাসীদের কোন ধর্ম নেই, সীমানা নেই। সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদ একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সকল রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আজ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে ভাষণে এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা আমাদের নৈতিক সাহস ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সন্তান ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ জীবন এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যত রেখে যাওয়ার সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামষ্টিক অঙ্গীকার অনুযায়ী একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উন্নত বিশ্ব গড়ে তুলতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে দারিদ্র্য, অসমতা, সন্ত্রাস, সহিংসতা, জঙ্গিবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন, সংঘাত এবং বিদ্বেষ ও বৈষম্য থাকবে না।UN_General_Assembly_939020a

তিনি বলেন, আমি নিজে সন্ত্রাস এবং সহিংস জঙ্গিবাদের শিকার। আমার পিতা বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তিন ভাই এবং অন্যান্য নিকট আত্মীয়দের ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমি নিজেও কমপক্ষে ১৯ বার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ, সহিংস জঙ্গিবাদ এবং মৌলবাদের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, বাঙালি জাতির গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে যারা লিপ্ত রয়েছে, সেসব চরমপন্থী ও স্বাধীনতা-বিরোধী শক্তির মোকাবেলায় আমরা সদা-তৎপর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি টেকসই, শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধশালী সমাজ প্রতিষ্ঠায় আমাদের যে আকাক্সক্ষা সেখানে কেউ যাতে পিছিয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ।
শেখ হাসিনা বলেন, সমাজে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতিষ্ঠিত না হলে আমরা টেকসই উন্নয়নও নিশ্চিত করতে পারব না। এজন্য আমরা শান্তি সমুন্নত রাখতে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, এই চেতনা থেকেই আমরা দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি। যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, ধর্ষণ এবং গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং সহনশীলতা বজায় রাখার ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। যুগ যুগ ধরে এই চর্চা আমাদের সামাজিক কাঠামোরই অংশ হয়ে উঠেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, চার দশকেরও বেশি আগে, বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর প্রথম বক্তৃতায় ‘‘শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান, সামাজিক ন্যায়বিচার, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, বঞ্চনা ও আগ্রাসনমুক্ত একটি বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার” স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর সেই উদাত্ত আহ্বান আজও আমাদের জাতীয় উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিম-লে সম্পৃক্ততার পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা বর্তমানে এমন এক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এগুচ্ছি যেখানে দারিদ্র্য, অসমতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির পরিবর্তে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এর আগে আমি ‘রূপকল্প-২০২১’ উপস্থাপন করেছিলাম। এর মাধ্যমে আমরা একটি মধ্যম-আয়ের, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি অর্থাৎ ’ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে চাই। উন্নয়নের পথে যেভাবে আমরা দৃপ্ত পদক্ষেপে অগ্রসর হচ্ছি, তাতে আমি বিশ্বাস করি, অচিরেই আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আমরা সীমিত সম্পদ দ্বারা বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম দারিদ্র্য হ্রাসকারী দেশ হিসেবে নিজেদের পরিচিত করতে সক্ষম হয়েছি। দারিদ্র্যের হার ১৯৯১ সালে যেখানে ৫৬.৭ শতাংশ ছিল, বর্তমানে তা ২২.৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই এমডিজি-১, ২, ৩, ৪, ৫ এবং ৬ অর্জন করেছে অথবা অর্জনের ক্ষেত্রে সঠিক পথেই এগুচ্ছে। বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও গত ৬ বছরে জিডিপি’র গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-’৬ থেকে ২০১৪-’১৫ পর্যন্ত রপ্তানি আয় এবং প্রবাসীদের রেমিটেন্স প্রেরণের পরিমাণ ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় সাড়ে ৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে চলতি অর্থবছরে ২৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ইউএনডিপি’র নিজস্ব মানবসম্পদ উন্নয়নের দেশ থেকে মধ্যম সারিতে উন্নীত হয়েছে এবং বিশ্ব ব্যাংকের মান অনুযায়ী নিজস্ব আয়ের দেশ থেকে নিজস্ব মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মনে করি, বিপুল সংখ্যক যুব সম্প্রদায়কে মানবসম্পদে পরিণত করার জন্য বিনিয়োগ করা হলে তা ভবিষ্যতে সুফল বয়ে আনবে। এজন্য আমার সরকার শিক্ষা এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। আমরা ৬ষ্ঠ থেকে স্নাতক পর্যন্ত ১ কোটি ৩৪ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও উপবৃত্তির আওতায় এনেছি।

ঝরে পড়া রোধে মেয়েদের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষাকে সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা হয়েছে। এ বছরের প্রথমদিনেই আমরা সারাদেশে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত ৩২৬.৩৫ মিলিয়ন পাঠ্যবই বিনামূল্যে বিতরণ করেছি। ২০১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১.৫৯ বিলিয়ন পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়েছে। সমগ্র বিশ্বে এ ধরণের উদ্যোগ সম্ভবত এটাই প্রথম।

তিনি বলেন, আমরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল কেন্দ্র স্থাপন করছি। এগুলো থেকে জনগণ ২০০-এর বেশি সেবা গ্রহণ করছেন। গ্রামাঞ্চলে স্থাপিত তথ্যপ্রযুক্তির সাথে সংযুক্ত প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদনমুখী সম্পদে নারীর প্রবেশাধিকার এবং জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের ফলাফল দৃশ্যমান হচ্ছে। একইভাবে আমরা আমাদের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন এবং সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, অটিজম ও অন্যান্য বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার আদায়ে জাতিসংঘে আমরা নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করছি। আমাদের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টারই ফলেই এটা সম্ভব হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- জলবায়ু পরিবর্তন। এটি একটি মারাত্মক উন্নয়ন হুমকি হিসেবে আবির্র্ভূত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ কার্যকরভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব না হলে, আমাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টা এগিয়ে নেওয়া কোনভাবেই সম্ভব হবে না। নতুন উন্নয়ন এজেন্ডায় পরিস্কারভাবে বলা হয়েছে আমাদের এই ধরিত্রী, এর প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং জলবায়ু সংরক্ষণের জন্য সকল কার্যক্রম বাস্তবায়নে সকলের দৃঢ় প্রত্যয় থাকতে হবে। আমাদের সামনে সামান্যই সুযোগ অবশিষ্ট আছে। এ বিশ্বকে নিরাপদ, আরও সবুজ এবং আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে আমাদের অবশ্যই সফল হতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে- সার্ক, বিমস্টেক এবং বিসিআইএম-ইসি-এর মত আঞ্চলিক সংস্থা প্রতিষ্ঠায় নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করে চলেছে। এছাড়া, বাংলাদেশ, ভূটান, ভারত এবং নেপালের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য আমরা অবকাঠামো উন্নয়নের পদক্ষেপ নিয়েছি।

তিনি বলেন, অভিবাসন এবং মানব চলাচল আজ নতুনভাবে ইতিহাস এবং ভৌগলিক পরিসীমা নির্ধারণে নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০৩০ উন্নয়ন এজেন্ডায় উন্নয়নের জন্য অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপযোগ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অভিবাসনের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত কয়েক বছরে শান্তিরক্ষা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম প্রধান শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ গর্বিত।

শেখ হাসিনা বলেন, এ পর্যন্ত আমাদের সাহসী শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যগণ বিশ্বের ৪০টি দেশের ৫৪টি মিশনে নিয়োজিত রয়েছেন। আমরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বচ্চো সংখ্যক নারী পুলিশ সদস্য নিয়োজিত করার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছি। জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশের অবদান জাতিসংঘের শান্তি অন্বেষায় আমাদের বিশ্বস্ত অংশীদার করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি আমরা আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত এবং মিয়ানমারের সঙ্গে স্থল এবং সমুদ্র সীমানা সমস্যা সংক্রান্ত সমস্যাগুলির শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। গত ৩১ জুলাই মধ্যরাতে আমরা ভারতের সাথে ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় করেছি।

যার মাধ্যমে প্রায় ৫০ হাজার রাষ্ট্রবিহীন ছিটমহলবাসী তাঁদের পছন্দের রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পেরেছেন। তাঁদের দীর্ঘদিনের মানবেতর জীবনের অবসান হয়েছে। এ কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে আমরা সমগ্র বিশ্বের কাছে কূটনৈতিক সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সমর্থ হয়েছি।

সুত্র: বাসস

– See more at: http://www.bd24live.com/bangla/article/62925/index.html#sthash.6iTLXwrm.dpuf

Posted in জাতীয় | Comments Off on সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একযোগে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার থেকে বাসের নতুন ভাড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা ও আশপাশের পাঁচ জেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাস-মিনিবাসের নতুন ভাড়া বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হচ্ছে। এতে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে এক টাকা ৭০ পয়সা ও মিনিবাসের ভাড়া এক টাকা ৬০ পয়সা আদায় করা হবে। বর্তমানে বাসে এক টাকা ৬০ পয়সা ও মিনিবাসে এক টাকা ৫০ পয়সা হারে আদায় করা হয়।BDbus_boarding_6MB

বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া আগের মতোই ৭ টাকা এবং মিনিবাসের ভাড়া ৫ টাকা থাকছে। সিএনজি অটোরিকশার নতুন ভাড়া আগামী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে। ইতিমধ্যে নতুন ভাড়ার গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। তবে পরিবহন শ্রমিকরা এখনো নতুন ভাড়ার চার্ট পাননি বলে জানিয়েছেন। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিলোমিটার প্রতি ১০ পয়সা বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীপ্রতি ভাড়ায় তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। যাত্রীপ্রতি এক থেকে পাঁচ টাকা ভাড়া বাড়তে পারে।

ভাড়ার নতুন হার নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ জেলায় চলাচলকারী বাসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে যাত্রীদের আশঙ্কা, নতুন ভাড়া আদায়ের নামে গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা রয়েছে। অতীতে কিলোমিটারে ভাড়া পাঁচ পয়সা বৃদ্ধি করলে আদায় করা হয় অতিরিক্ত পাঁচ টাকা। প্রতিবারই ভাড়া বাড়ানোর সময় যাত্রী হয়রানি এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। ভাড়া নিয়ে পরিবহন কর্মীদের মাধ্যমে যাত্রীদের নাজেহাল হওয়ার নজির রয়েছে। এবার কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি ১০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, দুই মহানগরীর রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটি আজ ভাড়ার নতুন চার্ট সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়ে দেবে।

Posted in জাতীয় | Comments Off on বৃহস্পতিবার থেকে বাসের নতুন ভাড়া

টাইগারদের নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতেছে বিশেষ মহল!

রামিন তালুকদার: এই মুহূর্তে কথা ছিল মাঠে অস্ট্রেলিয়ানদের অনুশীলন দেখার। ফটোগ্রাফারদের মুহুর্মুহু ক্লিকের শব্দে মুখরিত হতো মিরপুরের আকাশ। একজন ক্রীড়া প্রতিবেদক হিসেবে মাঠের কোণে অবস্থান নিতাম অস্ট্রেলিয়ান কোন খেলোয়াড়ের একটু কথা বা মাঠের খেলার তথ্য সংগ্রহ করার জন্য। কিন্তু হঠাৎই পরিবেশ বদলে গেল। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে আসছে বলে ঈদের ছুটি ভালোভাবে না কাটিয়ে যান্ত্রিক নগরী ঢাকায় প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে শুনতে হয়, আসছে না অস্ট্রেলিয়া। তাও কিনা পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অজুহাতে?Ramin-Writter20150930151720

শুনে তখন এক গাল হেসেছিলাম। বাংলাদেশকে বাঘের মতই ভয় পেলো বুঝি অসিরা! এখন নিরাপত্তার অজুহাতে পাড় পেতে চায়। উপমহাদেশের দুই পরাশক্তি পাকিস্তান ও ভারত যেখানে বাংলাদেশে এসে নাকানি চুবানি খেয়ে গেল তাতে ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। তার উপর দক্ষিণ আফ্রিকাকেও নাস্তানুবাদ করেছে টাইগাররা। আর তাই অ্যাসেজ হেরে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের হারিয়ে বাংলাদেশে আসতে হলে বুকের পাটা বড় হওয়াই চাই। তার উপর আবার অসি দলের সেরা তারাকারা মড়কের মত ইনজুরিতে পড়ছে।

কিন্তু এই ভবনাটা মিলিয়ে গেল ইতালিয়ান নাগরিক তাবেলা সিজারকে হত্যা করার পর। আর তাও ঘটলো যখন অস্ট্রেলিয়া তাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যখন শন ক্যাননের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়ান নিরাপত্তা প্রতিনিধি দল ঢাকায় অবস্থান করছে। এটা কিসের আভাস? এটা কোন ষড়যন্ত্র নয়তো?

অস্ট্রেলিয়ান নিরাপত্তা প্রতিনিধি দলকে ‘ভিভিআইপি’ নিরাপত্তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। চার স্তরের নিরাপত্তা প্রদানের আশ্বাসের পরেও মন গলছে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও জানিয়েছেন, এতকিছুর পরেও তাদের মন যদি না গলে তাহলে ধরে নেবো অন্য কোন কারণ আছে। সম্ভাব্য কোন আন্তর্জাতিক কূটচাল থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। বলেছেন, এতো নিরাপত্তা দেওয়ার পরেও যদি অস্ট্রেলিয়া না আসে আমি অন্তত বিশ্বাস করব না যে ওরা নিরাপত্তার কারণেই আসছে না। ধরে নেব অন্য কোনো কারণ আছে।

অন্য কি কারন হতে পারে? বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের ভয় অথবা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশ যত ভালোই খেলুক টাইগারদের ভয় পাওয়া অস্বাভাবিকই পেশাদার অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের জন্য। সরাসরি না বললেও বিসিবি সভাপতি আন্তর্জাতিক যে কূটচালের ইঙ্গিত দিয়েছেন তা কোন ভাবেই উড়িয়ে দেয়া যায় না। আর তা হলে বাংলাদেশের জন্য তা বিরাট অশনি সংকেত।

ক্রিকেট বাংলাদেশিদের কাছে কতটা পবিত্র কতটা আবেগের তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। টেস্ট ক্রিকেটে ঢোকার পর থেকে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে নীবিরভাবে সমর্থন জুগিয়ে এসেছেন দেশের হাজারো ক্রিকেটভক্তরা। একের পর পর লজ্জাজনক হারের পরও মুখ ফেরাননি তারা। একটা আশা নিয়েই মাঠে আসতেন একদিন এই টাইগাররাই ক্রিকেট বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। দাপটের সঙ্গে সব প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার সমর্থকরা সেই নীবির ভালবাসার প্রতিদান পাচ্ছিলেন।

টানা তিনটি ওয়ানডে সিরিজ দাপটের সঙ্গেই জিতে নেয়। পাকিস্তান, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মত দল গুলোর বিপক্ষে জয় তুলে বুঝিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ আগামী দিনে ক্রিকেট পরাশক্তি হতে যাচ্ছে। এর আগে জিম্বাবুয়েকে সব সংস্করণে ধবলধোলাই করে টাইগাররা জানিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে এখন অস্ট্রেলিয়া-আফ্রিকাকেই মানায়। শুধু দেশের মাটিতেই নয়, ২০১৫ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মাঠে দাপটের সঙ্গেই লড়াই করেছে টাইগাররা। ইংল্যান্ডকে হারানোর পাশাপাশি স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সমান তালে লড়েছে মাশরাফিরা। ভারতের বিপক্ষের আম্পায়ারদের একাধিক ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে স্বপ্ন ভঙ্গ না হলে হয়তো আরও লম্বা হতে পারতো টাইগারদের বিশ্বকাপ মিশন।

সারা বিশ্বই যখন এক বাক্যে স্বীকার করে নিয়েছে বাংলাদেশ আর আগের বাংলাদেশ নেই। এরা আগামীদিনের পরাশক্তি তখনই এক অশুভ ছায়া গ্রাস করতে চাইছে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে থামাতে নতুন চালে নেমেছে বিশেষ এক কুচক্রী মহল। এর আগেও বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সুযোগ পাওয়ায় ঈর্ষান্বিত হয়ে নানা নাটক করেছে কিছু মহল। সে যাত্রা বাংলাদেশ পাড় করলেও এবার পড়েছে আরও বড় সংকটে। দেশ থেকে ক্রিকেটকে বিদায় করার স্বার্থে নেমেছে তারা। পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তানকে দেখলেই বুঝা যায় একটি দেশে ক্রিকেট না থাকলে তার কি অবস্থা হয়। অসহায়ের মত ডেকে ডেকেও তাদের দেশে যেতে রাজি করাতে পারছে না কোনো দেশকে। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অনেকটা এক ঘরে হয়ে পড়া পাকিস্তানের ক্রিকেটের মত করতে চাচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা।

অথচ বাংলাদেশ এর আগে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মত বড় আসর সাফল্যের সাথে আয়োজন করেছে। পাশাপাশি এশিয়া কাপের আয়োজন করেও প্রশংসিত হয়েছে তারা। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা তো দূরের কথা ন্যূনতম অভিযোগও আসেনি। কিন্তু হঠাৎ করেই শুরু হয়ে গেল জঙ্গি তৎপরতা, ইতালিয়ান নাগরিক হত্যা। যদিও দেশে এখন জঙ্গি তৎপরতা নেই বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আর তা হলে সিজার হত্যার পিছনে লুকিয়ে রয়েছে কোন বড় হাত। পাকিস্তানের মত জঙ্গি ইস্যুকে পুঁজি করে ষড়যন্ত্রকারীরা চাইছে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে চিরতরে নিভিয়ে দিতে।

ভিত্তিহীন এই অভিযোগ থেকে যদি দ্রুত বেরিয়ে না আসতে পারে বাংলাদেশ তাহলে আগামী দিনে এ দেশের ক্রিকেটের জন্য আরো বড় দুর্যোগ অপেক্ষা করছে। কারন জঙ্গি ইস্যু ভাইরাসের মতই ছড়ায়। ক্রিকেট ছাড়িয়ে ইতোমধ্যেই অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলে চলে গেছে এই ভাইরাস। খুব শীগগিরই হয়তো অন্য কোনো দেশ থেকে একই অভিযোগ তোলা হবে। বাংলাদেশ সফর নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে সতর্ক করার পাশাপাশি বাংলাদেশে তাদের নাগরিকদেরও সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। তাই এই এক রকম অসহায় হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট কারণ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির হাতে নেই, রয়েছে কথিত তিন মোড়লের হাতে বন্দি। বাংলাদেশে যখন অস্ট্রেলিয়া দল আসবে ঠিক তখনই বাংলাদেশের মেয়েরা সফর করতে দেশ ছাড়ে বিশ্ব ক্রিকেট থেকে এক প্রকার নির্বাসিত পাকিস্তানে। মোড়লদের কেউ কেউ বাংলাদেশের এই সফরকে ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। তাই মেয়েদের দল পাকিস্তানে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশে না আশাকে ভাবিয়ে তুলেছে বাংলাদেশের হাজারো সমর্থকদের। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এই নিয়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা।

Posted in নির্বাচিত কলাম | Comments Off on টাইগারদের নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতেছে বিশেষ মহল!

কমছে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি

নিজস্ব প্রতিবেদক: মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি কমছে। বিষয়টি বর্তমানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিকে এ তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য নাজমুল হক প্রধান সাংবাদিকদের বলেন, বিআরটিএ (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি কমানোর একটি প্রস্তাব দিয়েছে।30-09-15-Tide Security_Gulshan-4

কমিটি মনে করে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি যুক্তিসংগত হারে কমানো উচিত। মন্ত্রণালয় বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে। বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি ৪০ শতাংশ বাড়ানো হয়। বিআরটিএ নিবন্ধনের এই ফি কমানো এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত ৪০ শতাংশ নিবন্ধন ফি মওকুফ করার সুপারিশ করেছে। বর্তমানে ৮০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি ১৩ হাজার ৯১৩ টাকা, ১০০ সিসি পর্যন্ত ১৯ হাজার ৬৬৩ টাকা এবং ১০০ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের ২১ হাজার ২৭৩ টাকা লাগে।

এর মধ্যে ডিজিটাল নম্বরপ্লেটের ফি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কমিটির সভাপতি মো.একাব্বর হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, নাজমুল হক প্রধান, মনিরুল ইসলাম ও লুৎফুন নেছা অংশ নেন।

Posted in ব্যবসা-অর্থনীতি | Comments Off on কমছে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন ফি

এবার সালমাদের ক্যাপে ‘ভুল’ লোগো

12079471_899121046841059_5569957870285955284_nনিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচে ক্রিকেটাররা প্রতিনিধিত্ব করেন নিজের দেশের। প্রচলিত নিয়ম হচ্ছে এসব ম্যাচে খেলোয়াড়দের ক্যাপে থাকে নিজের দেশের ক্রিকেট বোর্ডের লোগো। আর অনুশীলুনের সময় পরিহিত ক্যাপে থাকে স্পনসরের লোগো। অথচ পাকিস্তানে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সালমাদের ক্যাপে দেখা গেল স্পনসর ‘রবি’র লোগো। আর টেলিভিশন পর্দায় এমন দৃশ্য দেখে সমালোচনা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে। এ বিষয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরি বলেন, ‘ভুল যখন হয়েছে,কাউকে না কাউকে দায় নিতেই হবে। ভুলটা আমাদেরই। আসলে মেয়েদের যাওয়া নিয়ে শেষদিকে অনেক তাড়াহুড়ো করে সবকিছু করতে হয়েছে। এর ফাঁকে এটা হয়ে গেছে, ভুলক্রমে চোখে পড়েনি।’ যদিও পাকিস্তান সফরে সালমাদের যাওয়া নিয়ে আলাপ আলোচনা চলছিলো অনেকদিন ধরেই। শেষ মুহূর্তে তাড়া-হুড়ার অজুহাত এমন অব্যবস্থাপনার পেছনে কতোখানি গ্রহণযোগ্য তা নিয়ে তাই প্রশ্ন থেকেই যায়!

Posted in খেলাধুলা | Comments Off on এবার সালমাদের ক্যাপে ‘ভুল’ লোগো

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud