May 6, 2026
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের মিনায় পদদলিত হয়ে নিহত হাজির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার একশ’ ৬৫ জন।বিশ্বের ৩০টি দেশের হাজির এ ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে বিভিন্ন দেশের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ সংখ্যা জানা গেছে। খবর এএফপির।
সৌদি সরকার ৭৭০ জন হাজি নিহতের কথা বলেছিল।ইরান বলছে, মিনায় অন্তত ৪ হাজার ৭০০ হাজি নিহত হয়েছেন। হাজি নিহতের দিক থেকে সবার আগে রয়েছে ইরান। ইরানি হাজি মারা গেছেন ৪৬৪ জন। এরপরেই রয়েছে নাইজেরিয়া। দেশটির হাজি নিহত হয়েছেন ১৯৯ জন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত বাংলাদেশি হাজির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৭ জনে। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ আছেন ৫৩ জন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মক্কার মিনায় হজ্জের শেষ সময় শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়তে যাওয়ার পথে পদদলিত হয়ে শত শত হাজি মারা যান।
এর আগে পবিত্র মসজিদুল হারামে বিশাল একটি ক্রেন ভেঙে অন্তত একশ’ ১০ জন নিহত ও দুইশ’র বেশি হাজি আহত হয়েছিলেন। এছাড়া, ২১ সেপ্টেম্বর দুটি হোটেলে আগুন লাগার ঘটনায় বহু হাজি আহত হন। এসব ঘটনায় সৌদি আরব মারাত্মক সমালোচনার মুখে পড়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: এশিয়ার নিকৃষ্ট বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে নবম স্থানে রয়েছে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিমানবন্দরের স্থানটি পেয়েছে নেপালের কাঠমান্ডু ত্রিভুবন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গত বছরও একই অবস্থানে ছিল।
স্লিপিং ইন এয়ারপোর্ট নামের একটি অনলাইন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতি বছরের মতো ২০১৫ সালে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে ভালো এবং নিকৃষ্ট এয়ারপোর্টগুলোর তালিকায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে স্থান পাওয়া বিমানবন্দরগুলো হল- উজবেকিস্তানের তাশখন্দ এয়ারপোর্ট (দ্বিতীয়), আফগানিস্তানের কাবুলের হামিদ কারজাই এয়ারপোর্ট (তৃতীয়), ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি এয়ারপোর্ট (চতুর্থ), পাকিস্তানের ইসলামাবাদের বেনজির ভুট্টো এয়ারপোর্ট (পঞ্চম)। চীনের গুয়াংজু এয়ারপোট (ষষ্ঠ), ভারতের চেন্নাই এয়ারপোর্ট (সপ্তম), ফিলিপাইনের ম্যানিলা নিনোয় এয়ারপোর্ট (অষ্টম), বাংলাদেশের ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) এয়ারপোর্ট (নবম), শ্রীলঙ্কার কলম্বোর বন্দরনায়েক এয়ারপোর্ট (দশম)।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়াতে মার্কিন ও রুশ যুদ্ধবিমানের অনিচ্ছাকৃত সংঘর্ষ এড়াতে এক সমঝোতা চুক্তি সাক্ষর করেছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।
সিরিয়াতে ইসলামিক স্টেটের অবস্থানের উপর হামলা চালানোর সময় দু পক্ষের বিমান এক অপরের খুব কাছে চলে আসার পর এই সমঝোতা হলো। যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেটিতে বিমান বাহিনীর সদস্যদের জন্য স্পষ্ট দিক নির্দেশনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র।
গত সপ্তাহে রুশ ও মার্কিন বিমান দুর্ঘটনাবশত একই যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করে এবং পরস্পরের খুব কাছে চলে আসে।
সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখ থেকে সিরিয়ায় সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে রাশিয়া।
একে অপরকে ভুল করে আক্রমণ করে বসা এড়াতে সেপ্টেম্বর থেকেই মার্কিন ও রুশ কর্তৃপক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছানোরও চেষ্টা করছিল।
পেন্টাগনের মুখপাত্র পিটার ব্রুক বলেছেন, সমঝোতায় ঠিক কি লেখা রয়েছে, মস্কোর অনুরোধে, তা অপ্রকাশিত থাকবে।
তবে, এই চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশে যুদ্ধরত সেনারা পরস্পরের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ করবে এবং তাদের মধ্যে ‘গ্রাউন্ডে’ বা যুদ্ধক্ষেত্রে একটি হটলাইন থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদক ওয়াশিংটন ডিসি থেকে জানাচ্ছেন, নতুন এই সমঝোতায় বিমান হামলা, তার লক্ষবস্তু ও গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে কিছু বলা হয়নি। শুধু নিরাপদ দূরত্ব রাখার বিষয়টিতেই জোর দিয়েছে। তাই তা কতটা কার্যকর হবে সেটি নিশ্চিত নয়।
আইএস নয় এমন লক্ষ্যবস্তুর উপরেও রাশিয়া বিমান হামলা করছে বলে পশ্চিমাদেশগুলো দাবি করে আসছে।
তবে এই দাবি সবসময়ই নাকচ করেছে রাশিয়া।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুজন নিহত হয়েছেন। র্যাবের এক সদস্যসহ আহত হয়েছেন চারজন। র্যাবের দাবি, চরমপন্থী দলের সদস্যদের সঙ্গে ওই ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়।
র্যাবের ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে সদর উপজেলার চরাঞ্চলের গুগড়া ইউনিয়নের মহিষা গ্রামে এই ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়। নিহত দুজন হলেন সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আকবর হোসেন (৪৫) ও মহিষা গ্রামের মনু মিয়া (৩৫)। আহত ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার রায়হান (৪০), চাঁন মিয়া (৩৫) ও ফরিদ (৩৫)। তাঁদের টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। র্যাবের আহত সদস্য মনিরুল ইসলামকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
র্যাব-১২ এর ৩ নম্বর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকীর জানান, নিষিদ্ধঘোষিত চরমপন্থী দলের কিছু সদস্য মহিষা গ্রামে শাহাদাত হোসেনের বাড়িতে অবস্থান করছে বলে খবর পাওয়া যায়। রাতে র্যাব ওই বাড়িটি ঘিরে তাঁদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায়। এ সময় বাড়ির ভেতর থেকে গুলি ছোড়া হয়। র্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ঢাকা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে সতর্কতা নবায়ন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, দেশটি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আগেও ষড়যন্ত্র করেছে, এখনও সেই ধারা অব্যাহত রাখছে বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় উঠে আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা নবায়ন প্রসঙ্গটি।

বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো যড়যন্ত্র করছে কি না তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মন্ত্রিসভাকে জানান, দেশের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিদেশিদের জন্য নিরাপত্তা আগের চেয়ে আরও বাড়ানো হযেছে। সরকারি নিরাপত্তায় বিদেশিরা নিরাপদবোধ করছেন। ঢাকার বাইরে নিয়োজিত থাকা কিছু পশ্চিমা নাগরিককে নিয়ে আসা হয়েছে রাজধানীতে। নতুন করে সতর্কতা জারির মতো কোনো পরিস্থিতি দেশে নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মন্ত্রী ঢাকাটাইমসকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ১৯৭১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের অনেক বিরোধিতা করেছে। তারা আমাদের পক্ষ না হয়ে পাকিস্তানিদের হয়ে কাজ করেছে এবং নৌবহর পাঠিয়েছে। তখনও তারা বাংলাদেশে বিরুদ্ধে কিছু করতে পারেনি, এখনও পারবে না।”
প্রধানমন্ত্রীর পর বৈঠকে উপস্থিত সিনিয়র কয়েকজন মন্ত্রীও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দেশটি “ষড়যন্ত্রের” ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান কেউ কেউ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী মন্ত্রিসভাকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো তথ্যের ভিত্তিতে সতর্কবার্তা দেয়নি। তারা এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দুই বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে তাদের নাগরিকদের ভ্রমণে সতর্কতা জারি করে। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে। তবে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক হয়ে আসার পর গত শনিবার রাতে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা বার্তা দেওয়া হয় আবার। এতে বিদেশিদের ওপর হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। মার্কিন এই নতুন সতর্কবার্তায় ক্ষুব্ধ হয় বাংলাদেশ সরকার। সরকারের কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রী এর কড়া সমালোচনা করেন। এটাকে মার্কিন যুক্তরাষ্টের বাড়াবাড়ি এবং নতুন ষড়যন্ত্র বলেও আখ্যায়িত করেন তারা।
তবে গতকাল রবিবার ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া ব্লুম বার্নিকাট এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো সতর্কবার্তা দেয়নি। আগের সতর্কবার্তা নবায়ন করা হয়েছে মাত্র।
নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক প্রায় ৯০ জন বাংলাদেশী নাগরিক টেক্সাসের এলপাসো কারাগারের ডিটেনশন সেন্টারে আমরণ অনশন করছেন।
বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত চতুর্থ দিনের মতো চলা এই অনশনে নড়েচড়ে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকারসহ দেশী-বিদেশী মানবাধিকার সংগঠনগুলো। দীর্ঘদিন কারাগারে যথাযথ আইনী সহায়তা না পাওয়া এবং জোর করে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রতিবাদে এই অনশন করছেন তারা। প্রথম দিনের অনশনে ৪৬ জন অংশ নেন। চতুর্থ দিনে তা এসে দাঁড়ায় ৬০ জনে। যদিও এরই মধ্যে ১১ জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে।
কারাগারে বন্দী বাংলাদেশীদের পক্ষে অনশনরত মাহবুবুর রহমান নামে এক ব্যক্তির পাঠানো চিঠি থেকেই অনশনের খবরাখবর প্রথম প্রকাশ পায়। কারাগার থেকে পাঠানো চিঠিতে মাহবুবুর রহমান উল্লেখ করেন, প্রায় ৮৫-৯০ জন বাংলাদেশী এলপাসোর ডিটেনশন সেন্টারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ভুল রিপোর্টে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রচলিত আইনী সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এ নিয়ে চলতি বছরের ২৯ মে দ্য রিপোর্টেও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়, যেখানে তুলে ধরা হয় টেক্সাসের কারাগারে বন্দী বাংলাদেশীদের দুর্বিষহ যন্ত্রণার কথা।
এরই মধ্যে গত ২৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের ফয়েজ আহম্মেদ নামে একজন বন্দীকে জোর করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এর পর থেকেই বন্দী বাংলাদেশীদের মাঝে দেশে ফেরত পাঠানোর আতঙ্ক শুরু হয়। ফলে তারা আমরণ অনশন শুরু করেন।
গত ১৪ অক্টোবর বুধবার থেকে প্রথমে ৪৬ জন অনশন শুরু করেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৭ অক্টোবর শনিবার চতুর্থ দিনের কর্মসূচিতে ছিলেন প্রায় ৬০ জন। টানা না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন এদের অনেকে। যদিও কয়েকজনকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
আমরণ অনশনের সবশেষ পরিস্থিতি জানতে যোগাযোগ করা হয় এর মূল উদ্যোক্তা মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে, যিনি শুরু থেকেই দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে চলেছেন।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে টেলিফোনে সবশেষ ঘটনার বিবরণে মাহবুবুর রহমান দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘আমাকে এখন ডিটেনশন সেন্টারের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা চার দিন কোনোকিছুই খাইনি। বুধবার যখন আমরা অনশন শুরু করি তখন থেকেই কর্তৃপক্ষ অনশন ভাঙ্গার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছে।’
মাহবুব আরও বলেন, ‘অনশনকালে বেশ কয়েকজনকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অন্য জায়গায়। তবে স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিবাদে ১১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ, কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে। আমি কিছুই খাচ্ছি না এবং খাব না, যতক্ষণ না মুক্তি দেয়া হয়।’
বিনােদন ডেস্ক: নতুন পরিচয়ে ঢাকার চলচ্চিত্রে পথচলা শুরু করতে যাচ্ছেন চিত্রনায়িকা ববি। শিগগিরই নিজেরই গল্প ভাবনায় নিজের প্রযোজিত চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি। তার প্রযোজনার প্রথম এ চলচ্চিত্রের নাম ‘প্রেমলীলা’। বর্তমানে এটির স্ক্রিপ্টের কাজ চলছে। তা শেষ হলেই শুরু হবে শুটিং। ববির দেয়া তথ্যমতে এটি নির্মাণ করবেন ‘মেন্টাল’খ্যাত পরিচালক শামীম আহম্মেদ রনি। এতে ববির বিপরীতে থাকবেন সুপারস্টার শাকিব খান। এদিকে ববি বর্তমানে ব্যস্ত আছেন ইফতেখার চৌধুরীর নির্দেশনায় ‘মালটা’ চলচ্চিত্রের কাজ নিয়ে। এতে তার বিপরীতে আছেন ভারসাল শেঠ। এরই মধ্যে চলচ্চিত্রটির কিছু অংশের শুটিং হয়েছে।
শিগগিরই পুরো ইউনিট আবারও ব্যাংকক যাবে চলচ্চিত্রটির শুটিংয়ে। ববিকে গত ঈদে সর্বশেষ সিনেমার পর্দায় দেখা গেছে বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ‘রাজা বাবু’ চলচ্চিত্রে। এতে তিনি শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন। সর্বাধিক ১৬০টি সিনেমা হলে এ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছে। ববি বলেন, অনেক সাড়া পেয়েছি এবং এখনও পাচ্ছি চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করে। এর আগে শাকিব খানের সঙ্গে ‘হিরো দ্যা সুপারস্টার’ ও ‘রাজত্ব’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও এ রকম সাড়া পেয়েছি আমি। তবে আমি বিশ্বাস করি ‘রাজা বাবু’ আরও বেশ কিছুদিন দর্শক হলে গিয়ে দেখবেন। কারণ এর গল্প এবং নির্মাণশৈলীসহ এতে সবার অভিনয় খুব ভাল হয়েছে।
আমি সবসময়ই কৃতজ্ঞ পরিচালক বদিউল আলম খোকনের প্রতি। তিনি তার ভাল ভাল চলচ্চিত্রগুলোতে আমাকে রাখার চেষ্টা করেন। প্রযোজনায় সম্পৃক্ত হওয়া প্রসঙ্গে ববি বলেন, আমি মনে করি প্রযোজনায় আসাটা ভাল। কারণ এখন এমন অনেক প্রযোজক আসছেন যারা একবার ছবি প্রযোজনা করে পরে আর এ কাজটি করতে চান না। আমি যদি সাহস করে প্রযোজনায় আসি তাহলে অন্য অনেকেই হয়তো চলচ্চিত্র প্রযোজনা করতে উৎসাহ পাবেন। উল্লেখ্য, ববি অভিনীত প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ইফতেখার চৌধুরীর ‘খোঁজ দ্যা সার্চ’। এতে তিনি অনন্ত জলিলের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন। এরপর তার অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে ‘দেহরক্ষী’, ‘ফুল অ্যান্ড ফাইনাল’, ‘ইঞ্চি ইঞ্চি প্রেম’, ‘রাজত্ব’, ‘হিরো দ্যা সুপারস্টার’, ‘আই ডোন্ট কেয়ার’, ‘স্বপ্ন ছোঁয়া’ ও ‘অ্যাকশান জেসমিন’।
ঢাকা: বাংলাদেশে মার্কিন নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সতর্কতা জারি করাকে ‘বাড়াবাড়ি’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। রোববার সকালে শেখ রাসেলের ৫১তম জন্মদিন উপলক্ষে বনানীতে শেখ রাসেলসহ ১৫ আগস্ট নিহত সকল শহীদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এ সতর্কতা জারি বাড়াবাড়ি। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সতর্কতা জারির মতো পরিস্থিতি বর্তমানে বাংলাদেশে নেই বলেও মন্তব্য করেন সরকারের এই প্রভাবশালী মন্ত্রী।
শেখ রাসেলের জন্মদিন আওয়ামী লীগসহ সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের হালনাগাদ করা নিরাপত্তাবিষয়ক বার্তায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি দুই বিদেশী হত্যার পর বাংলাদেশে পশ্চিমা নাগরিকদের ওপর আবারও সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে, তাদের কাছে এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে বলে মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে। ফলে বাংলাদেশে ভ্রমণ বা চলাফেরার সময় মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে দেশটি।
মার্কিন দূতাবাসের বার্তায় আরো বলা হয়, বাংলাদেশে বিদেশীদের নিরাপত্তা বাড়াতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো অসাধারণ পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু এখনও ‘বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য’ সন্ত্রাসী হুমকি রয়েছে।
শনিবার হালনাগাদ করা এক বার্তায় মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশ ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের আবারো সতর্ক করে দিয়েছে ঢাকায় আমেরিকান দূতাবাস। শনিবার সন্ধ্যায় হালনাগাদ করা আমেরিকান দূতাবাসের নিরাপত্তা বার্তায় এই পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে পশ্চিমা নাগরিকদের উপর আবার সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে, তাদের কাছে এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে বলে মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে। ফলে বাংলাদেশে ভ্রমণ বা চলাফেরার সময় মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে দেশটি।
মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তা বার্তা
শনিবার প্রকাশিত ওই বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দুজন বিদেশী নাগরিককে হত্যার দায় স্বীকার করেছে আইএসআইএল। ভবিষ্যতেও মার্কিন নাগরিকসহ পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিকরা হামলার শিকার হতে পারে বলে তথ্য রয়েছে।
যদিও বাংলাদেশে বিদেশীদের নিরাপত্তা জোরদার করতে বাড়তি পদক্ষেপ নিয়েছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। কিন্তু সন্ত্রাসের হুমকি রয়ে গেছে বলে মার্কিন দূতাবাস দাবি করেছে।
বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক হোটেলগুলোতে আয়োজিত বড় জমায়েতসহ অন্যান্য স্থানেও হামলা হতে পারে। তাই বাংলাদেশে ভ্রমণরত বা বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার জন্য বিশেষভাবে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
দূতাবাসের সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জনসমাগমের স্থানে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। পায়ে হেটে, রিক্সায়, সাইকেলে বা কোন খোলা বাহনে চলাচল করা যাবে না। এমনকি দূতাবাসের নিরাপত্তা শাখার লিখিত অনুমতি ছাড়া কোন আন্তর্জাতিক হোটেলসহ বাংলাদেশের বড় কোন সমাগমে যেতেও নিষেধ করা হয়েছে।
এর আগেও মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্ক বার্তা দিয়েছিল দেশটির দূতাবাস।
সূত্র : বিবিসি
নিউজ ডেস্ক: দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। হঠাৎ করে সরকার কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলো, কেন ডিসেম্বর থেকে মার্চ এই
সময়টা পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য বেছে নেয়া হলো, সেই ‘মোটিভ’ বোঝার চেষ্টা করছে দলটি। নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে লন্ডন সফররত দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফেরার পর। তবে দলটির নেতারা বলছেন, শেষতক সরকারি দলকে তারা ফাঁকা মাঠে গোল দিতে রাজি নয়।
গত ১২ অক্টোবর স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন দলীয় প্রতীকে করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন আগামী ডিসেম্বরে পৌরসভা ও মার্চে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা জানিয়েছে। সরকারের হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে বিশেষজ্ঞ মহল ‘একদলীয় ব্যবস্থা পাকাপোক্ত হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন। বিএনপি তাৎক্ষণিকভাবে এ সিদ্ধান্তকে ‘দুরভিসন্ধিমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। দলের মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর বর্তমান সরকারের নৈতিক ভিত্তি যখন প্রশ্নবিদ্ধ, সব দলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে নিরপে সরকারের অধীনে দ্রুত একটি জাতীয় নির্বাচনের দাবি যখন সব মহলের, তখন সে দাবিকে পাশ কাটিয়ে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজনের পেছনে সরকারের উদ্দেশ্য মহাদুরভিসন্ধিমূলক।
সরকার প্রধানত তিনটি কারণে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে মনে করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। প্রথমত. জাতীয় নির্বাচনের দাবিকে ধামাচাপা দেয়া, দ্বিতীয়ত. আন্দোলন দমনে তৃণমূলেও দলীয় নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত করা এবং তৃতীয়ত. যেকোনো উপায়ে নির্বাচনের ফলাফল অনুকূলে নিয়ে দেশে-বিদেশে সরকারের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়া।
বিএনপির সিনিয়র এক নেতা নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য যে সময়টা বেছে নেয়া হয়েছে, তাও উদ্দেশ্যমূলক। সরকার মনে করছে, বিএনপি দল গুছিয়ে ডিসেম্বর নাগাদ আবারো ঘুঁরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের দ্বিতীয় বছর পূর্তিকে ঘিরে যাতে বিএনপি কোনো কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামতে না পারে, সেজন্য নির্বাচনের মধ্যে বিরোধী নেতাকর্মীদের ব্যস্ত রাখার কৌশল নেয়া হয়েছে। সরকারের এসব কৌশল আমলে নিয়েই তারা এখন পাল্টা কৌশল নির্ধারণ করবেন।
দলের যুগ্ম মহাসচিব মো: শাহজাহান নয়া দিগন্তকে বলেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার উদ্দেশ্য হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের গণদাবিকে ধামাচাপা দেয়া। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তাকে পাশ কাটানো। তিনি বলেন, দমন-পীড়ন চালিয়ে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে নানা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে, কিন্তু তা সম্ভব হবে না।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে নির্বাচনে যেতে পারে বিএনপি। কেন্দ্রীয়ভাবে এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি। মো: শাহজাহান জানিয়েছেন, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তবে দলটির একাধিক নীতিনির্ধারক ও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যাওয়ার প।ে তাদের মতে, বিগত দুই দফা ব্যর্থ আন্দোলনের পর তৃণমূলে স্থবিরতা নেমে এসেছে। মামলা-হামলায় জর্জরিত অনেক নেতাকর্মী এখনো আত্মগোপনে। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দলের সাংগঠনিক গতি ফিরে আসবে। তৃণমূল পুনর্গঠনেও গতি আসবে। নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে নেতাদের মাঝে সৃষ্টি হবে প্রতিযোগিতা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের সমর্থন নিশ্চিত করতে নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার উদ্যোগ নেবেন। সব মিলিয়ে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলে একটা চাঙ্গাভাব ফিরে আসবে বলে মনে করছেন বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরে পৌরসভা নির্বাচন হবে এমনটি ধরে নিয়েই সংশ্লিষ্ট এলাকার নেতারা নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে অনেকেই নির্বাচন করবেন বলে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তাদের মতে, নানা বিরোধিতা সত্ত্বেও অতীতে সব ক’টি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি। সর্বশেষ ঢাকা উত্তর, দণি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী দেয় দলটি।
বিএনপির একজন নীতিনির্ধারক বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিলে হার-জিত যাই হোক উভয়ই বিএনপির জন্য ইতিবাচক হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির প্রার্থীদের ব্যাপক জয় হবে। একই সঙ্গে সরকারের জনপ্রিয়তা নেই তাও প্রমাণিত হবে। অপর দিকে সরকার কারচুপি করলে আবারো প্রমাণিত হবে এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই কোনোভাবেই আওয়ামী লীগকে খালি মাঠে গোল দেয়ার কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।উৎসঃ নয়া দিগন্ত