May 2, 2026
নিউজ ডেস্ক: রাজধানীতে বেপরোয়া হয়ে উঠছে কয়েকটি হিজড়া গ্রুপ। কয়েকটি এলাকায় নবজাতক ভূমিস্ট হলেই বাসায় মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় হিজড়ারা। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, মারামারিসহ নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে তারা। এমনকি তাদের হাতে খুনের ঘটনাও ঘটছে। আবার তারা সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অনেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদকের কারবারও চালাচ্ছে। দিনের বেলায় চাঁদা ওঠানোর পাশাপাশি রাতে পতিতাবৃত্তির নামে ছিনতাইও করছে অনেকে। পাড়া-মহল্লায় আছে তাদের সোর্স। নবজাতক সন্তান জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গে হিজড়ারা তথ্য পেয়ে যায় সহজেই। চাঁদা তোলে অনেকেই কোটিপতির বনে গেছেন। তাদের আছে ঢাকায় বাড়ি-গাড়ি। বাংলামেইলের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে হিজড়াদের নানা অপকর্মের তথ্য।

তবে হিজড়াদের দাবি, তারা সমাজে অবহেলিত। তাদের কেউ সুনজরে দেখছে না। তাদের বাঁচার জন্য দেশে নেই কোনো নীতিমালা। সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। যার ফলে তারা চাঁদাবাজি করা ছাড়া কোনো বিকল্প পথ খুঁজে পাচ্ছে না।
এদিকে, বাংলাদেশে কজন হিজড়া আছে তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে প্রায় ৫০ হাজারের মতো হিজড়া বসবাস করছে। তারমধ্যে শুধু ঢাকাতেই বসবাস করছে অন্তত ১৫ হাজার।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ‘হিজড়াদের ব্যাপারে অনেক অভিযোগ আসে তা সত্য। আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি না। তবে কেউ যদি ভয়ঙ্কর ধরনের অপরাধ করে তাহলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’
সর্বশেষ মঙ্গলবার উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে চাঁদা তোলা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের গুলিতে মানিক ওরফে সেঁজুতি (২৮) নামে এক হিজড়া আহত হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেজুতির অভিযোগ- হিজড়া কচি, সীমা, স্বপ্না ওরফে খায়রুল ও শম্পা দুটি মোটরসাইকেলে এসে তাদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়।
পুলিশের উত্তরা বিভাগের এডিসি আব্দুস সালাম বলেন, ‘ওদের (হিজড়া) নিজেদের বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে।’
সূত্র জানায়, চাঁদাবাজি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এর আগে খিলক্ষেত ও তুরাগের কামারপাড়া এলাকায় দুই দফায় গুলির ঘটনা ঘটেছে। একপক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে মামলাও করেছে। অনেক হিজড়ার কাছে অবৈধ অস্ত্রও আছে।
একাধিক ভুক্তভোগী জানায়, ঢাকার বনশ্রী, খিলগাঁও, মতিঝিল, উত্তরা, মোহাম্মপুর, আদাবর, গুলশান, বনানী, মহাখালী, ফকিরাপুল, আরামবাগ, লালবাগ, শান্তিনগর, মধুবাগ, মিরপুর, মধ্যবাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, রামপুরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভাগ করে হিজড়ারা চাঁদাবাজি করে আসছে। আবার তাদের মধ্যে আছে ভুয়া হিজড়াও। এদের নেপথ্যে নিয়ন্ত্রণকারীদের অধিকাংশ ভুয়া।
২০০৯ সালের ২৫ আগস্ট দক্ষিণখান থানায় মখলেছ নামের এক হিজড়া আটজন হিজড়ার বিরুদ্ধে জিডি করেন। জিডি নম্বর ১২৯৬। ওই আটজন হলেন- রাহেলা, সোনিয়া, স্বপ্না, হায়দার, কচি, শারিকা, সোনালী ও আলো হিজড়া। বাদি মকলেছের বাড়ি ওই থানাধীন ফায়দাবাদ এলাকায়। জিডিতে উল্লেখ করে- ‘উল্লেখিত নামধারীরা আমাদের দিয়ে অন্যায়ভাবে জনগণের কাছ থেকে টাকা তোলার জন্য আমাদের হয়রানি করে থাকে। আমরা চাঁদা তুলতে না গেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ ছাড়া নানা অসামাজিক কাজ করতে বলে আমাদের। আমরা প্রাণনাশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’ ওই স্বপ্নার বিরুদ্ধেই মঙ্গলবার গুলি করার অভিযোগ উঠেছে।
এই স্বপ্নার বিরুদ্ধে পুরুষদের হিজরা বানানোরও আভিযোগ আছে। সুমি নামের এক ‘হিজড়া’ বলেন, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পূর্ব করাাইল এলাকার সুমন নামের এক কিশোর ছিলেন তিনি। রাজধানীর কাওরানবাজারে এসে অভাবে পড়ে হিজড়া দলে চলে যান। প্রায় বছর দশেক আগে স্বপ্না হিজড়া গ্রুপের সদস্যদের নজরে পড়েন তিনি। স্বপ্না তাকে দেখায়, হিজড়ারা তার চাইতেও কত বেশী টাকা আয় করছে। কত বিলাসী জীবনযাপন করছে তারা।
একপর্যায়ে স্বপ্না তাকে হিজড়া হওয়ার প্রস্তাব দেয়। তাই বেশি টাকা আয়ের আশায় অপারেশন করে পুরুষ থেকে তৃতীয় লিঙ্গে রূপান্তরিত হয় সুমন। নাম হয় সুমি হিজড়া। এরপর চাঁদাবাজি, মাদকব্যবসা, ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ করতে হচ্ছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই জীবন আর ভালো লাগে না।’ পরিবারের সাথে তার কোনো যোগাযোগ নেই বলে জানান সুমন ওরফে সুমি হিজড়া।
সূত্র জানায়, হিজড়া তৈরি করে স্বপ্না নিয়ন্ত্রণ করছে চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা এবং ছিনতাইসহ নানা অপরাধ। তিনি সুমি ছাড়াও রবিউল থেকে চুমকি, শান্ত থেকে শান্তা কিংবা মাসুদ থেকে মাসুমাদের তৈরি করেছেন। এরা সবাই একটি বয়স পর্যন্ত ছেলে ছিলেন। তাদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র নানান প্রলোভন দেখিয়ে অস্ত্রপ্রচার ও হরমোন ইনজেকশন পুশ করে তৃতীয় লিঙ্গে রূপান্তর করে।
এদিকে ঢাকা জেলার ধামরাই এলাকার রোম আমেরিকান হাসপাতাল নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে প্রতিমাসে পুরুষাঙ্গ কেটে হিজড়া বানানো হচ্ছে বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে। তাছাড়া রাজধানীর শ্যামলী ও খুলনার ফুলতলার কয়েকটি ক্লিনিকেও লিঙ্গ কেটে হিজড়া করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বপ্না হিজড়া বলেন, ‘জোর করে বা টাকা দিয়ে কাউকে হিজড়া বানানো যায় না। আমি যদি হিজড়া না হই তাহলে হিজড়ারা আমাকে কেন মানবে।’ স্বপ্নার দাবি, তার দলের ২৭ থেকে ৮০ জন রয়েছে। যারা প্রকৃত হিজড়া। ‘যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তারা নিজেরাই নানা অপরাধে জড়িত। পুলিশের কাছে খোঁজ নিলে আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যাবে না’, বলেন স্বপ্না।
সুমি, শান্তা, মাসুমা, চুমকি হিজড়া জানান, তারা নিজেদের মধ্যে সাংকেতিক ভাষায় কথা বলেন। যেসব ভাষায় কথা বলা হয় তার মধ্যে কয়েকটি হলো- চাম দেখ (গাড়ির ভেতরে ভালভাবে দেখ, কি-কি আছে)। ‘পান্তির কাছে কি থাপ্পু (টাকাসহ আর কি-কি আছে)? উত্তরে তারা বলে, আক্কা থাপ্পা (অনেক টাকা)। তখন জিজ্ঞেস করা হয়- কুনকুন (মোবাইল ফোন) আছে কিনা? ঝান্নিমাসি (সোনার চেইন), গিয়ানি মাসি (ল্যাপটপ) আছে কি না?
তারা আরো জানান, হিজড়া ছিনতাইকারীরা এসব সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালায়। সর্দার যখন তার শীষ্যদের ছিনতাই কাজে পাঠায় তখন মোবাইল ফোনে এভাবেই তাদের মধ্যে কথোপোকথন হয়। সুন্দরী নারী সেজে তারা যখন অপারেশনে নামেন তখন এমন সাংকেতিক ভাষায় কথা হয় সর্দারের সঙ্গে। নারী সাজিয়ে তাদেরকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করে টার্গেট করা ব্যক্তিদের নির্জন স্থানে নিয়ে সবকিছু কেড়ে নেয়া হয়। তাদের টার্গেট থাকে ধনাঢ্য পরিবারের উঠতি বয়সের যুবক অথবা ব্যবসায়ী অথবা মোটা বেতনে চাকরি করেন এমন লোকজন। কারণ এরা মানসম্মানের ভয়ে ছিনতাইয়ের শিকার হলেও তা প্রকাশ করেন না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, টঙ্গী শিল্পাঞ্চলে বর্তমানে প্রায় দুই শতাধিক হিজড়া বসবাস করছে। তাদের একাধিক গ্রুপ রয়েছে। তুরাগ, উওরা, উওরখান, দক্ষিণখান থানা এলাকায় আছে অন্তত ২০টি গ্রুপ। দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ, কাঁঠালতলা, কোর্টবাড়ী, আজমপুর কাঁচাবাজার, কসাইবাড়ী, আশকোনা এলাকায় আছে ৪০টি গ্রুপ। একেকটি গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ১০ থেকে ১২ জন। গ্রুপগুলোর মধ্যে রাহেলা, স্বপ্না, কল্পনা হিজড়ার কয়েকটি বাড়ি রয়েছে। রাহেলা হিজড়া থাকেন দক্ষিণখান। তার একটি পাঁচ তলা বাড়ি আছে। ওই বাড়িতে হিজড়ারা বসবাস করে।
তুরাগের কামারপাড়া, রাজাবাড়ী, ধউর, রানাভোলা, বাউনিয়া এলাকায় থাকে ১০টি গ্রুপ। তাদের গ্রুপ প্রধান হচ্ছেন কচি হিজড়া। সবাই তাকে গুরু মা বলে ডাকেন। বর্তমানে তিনি কোটিপতি বনে গেছেন। তার আছে দুটি বাড়ি।
মোহাম্মদপুর ও আদাবরে আছে ১২টি গ্রুপ। এ গ্রুপের প্রধান হচ্ছেন- সুইটি। আদাবরে তার নামে আছে একটি বাড়ি।
টঙ্গী এলাকার হিজড়া সর্দারনী কাকলী, আলাদী, কল্পনা হিজড়া জানান, আমরা কোনো অন্যায় অত্যাচার করি না। বাড়ি বাড়ি ঘুরে তুলা তুলে ও নাচগান করে টাকা উপার্জন করি। ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার সাথে আমরা জড়িত নই। প্রকৃত হিঁজড়ারা কখনো চাঁদাবাজি করে না। এক শ্রেণির সুবিধাভোগী পুরুষ সহজ উপায়ে অধিক অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যে ভারতে গিয়ে যৌনাঙ্গ অপারেশন করে হিজড়ার বেশ ধরে- তারাই চাঁদাবাজির ব্যাপারে বেপরোয়া। এদের সবার গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী-সন্তান রয়েছে।
খিলক্ষেত এলাকায় হিজড়াদের দল নেতা নাজমা হিজড়ার অধীনে রয়েছে ৪০ জন হিজড়া। ৩০ বছর আগে পুরুষাঙ্গ কেটে হিজাড়া হয়েছে নাজমা। সে এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে বেশ পরিচিত। প্রায় অর্ধ কোটি টাকা বিভিন্ন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের কাছে তার সুদে দেয়া আছে। সবমিলিয়ে বর্তমানে তার মাসিক আয় প্রায় দুই লাখ টাকা। ফায়দাবাদ, খিলক্ষেত ও গাজীপুর বোর্ডবাজার এলাকায় তার তিনটি বাড়ি ছাড়াও একাধিক প্লট রয়েছে। বটতলা ক১৮৩/৫নং মায়ের দোয়া নাজমা ভিলায় থাকেন নাজমা হিজড়া। এটি তার নিজের বাড়ি। খিলক্ষেত নামার বউরা এলাকায় আছে দু’টি প্লট।
ধলপুর এলাকার আবুল হিজড়ারও দুটি বাড়ি আছে। গোলাপবাগ এলাকার ১৩/বি/১ নম্বর নম্বর পাঁচ তলা ও ধলপুর লিচুবাগানে একটি চারতলা ভবনের মালিক তিনি।
উত্তরার মাসকট প্লাজার ব্যবসায়ী আবদুর রহমান ও রহিমউল্লাহ বলেন, হিজড়াদের অত্যাচারে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড চালাতে পারছি না। প্রশাসন উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যাবে।
তবে হিজড়াদের নিয়ে গবেষণা করা সংগঠন বন্ধু সোস্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সহকারী ব্যবস্থাপক মশিউর রহমান বললেন ভিন্ন কথা। তার মতে, হিজড়া একদিকে অবহেলিত আরেকদিকে বেপরোয়া তা সত্য। তারা যখন হিজড়া হয়ে যায় তখন তাদের পরিবারের সান্নিধ্য আর পায় না। ফলে তারা অন্য একটি জগতে চলে যায়। সেখানে তারা বাঁচার জন্য চেষ্টা করে।
তিনি আরো বলেন, সরকারের উচিত হিজড়াদের ব্যাপারে এগিয়ে আসা। সমাজের দশজনের সঙ্গে যেন তারা মিলেমিশে চলতে পারে সেই জন্য সরকারের উদ্যোগ নেয়া উচিত। আবার যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে সরকার হিজড়াদের বেঁচে থাকার জন্য নানা উদ্যোগ নিলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কিছু হিজড়াকে ট্রাফিকের দায়িত্বে দেয়ার কথা থাকলেও তা কাগজকলমেই সীমাবদ্ধ। তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের লোক হিসেবে সরকার স্বীকৃতি দিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকই জাতীয় পরিচয়পত্রও পেয়েছেন। কিন্তু তাতেও তাদের বিশেষ কিছু হচ্ছে না।
বাংলামেইল
নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের বিষয়ে আলোচনা করতে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধি দলের। তিন দিনের সফরে আসা এই প্রতিনিধি দল দেশের শীর্ষ দুই দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন। এছাড়াও দ্রুত সময়ের মধ্যে সব দলের অংশগ্রহণে একটি জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তাব তারা রাখতে পারে বলেও জানা গেছে।

জানাগছে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় সংসদের স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তবে সফরসূচিতে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কোনো সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় রাখা হয়নি।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির চেয়রাম্যান সংসদ সদস্য জাঁ ল্যামবার্ট। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন- লেবার পার্টির সংসদ সদস্য রিচার্ড হাওতি, দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটের সংসদ সদস্য আইভান স্টিফেনস এবং দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য ও যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ পার্টির সদস্য সাজ্জাদ করিম।
বুধবার সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসং সঙ্গে বৈঠক দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করবে ইইউ প্রতিনিধি দল। এরপর বাণিজ্যমন্ত্রী তোয়ায়েল আহমেদ ও পরবর্তীতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক হবে।
সন্ধ্যায় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তারা। প্রতিনিধি দলটি বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। তবে ঢাকা ছাড়ার আগে তারা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন।
২০১৪ সালের পর এবারই ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কোন প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসছে। এর আগে ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রানা প্লাজা ধসের পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের পরিস্থিতি কেমন তা দেখতে জিন ল্যাম্বার্টের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ২০১৪ সালের মার্চে ঢাকা সফর করেছিল।আস
ক্রীড়া প্রতিবেদক; ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এশিয়া কাপের দল ঘোষণা হবে কাল। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, দলে থাকছেন না ড্যাসিং ওপেনার তামিম ইকবাল খান। তার পরিবর্তে দলে নেওয়া হচ্ছে ইমরুল কায়েসকে।সৌম্য সরকারের সঙ্গে ইমরুল কায়েসকেই ওপেন করতে দেখা যাবে এশিয়া কাপে।
সামনে টি-২০ বিশ্বকাপ বিধায় এবার এশিয়া কাপ হেবে টি-২০ ফরমেটে। ২৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করবে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে বরাবরই ভালো খেলে থাকেন তামিম। তাই এই ম্যাচটা খেলেই সন্তান সম্ভাবনা স্ত্রীর পাশে থাকতে ব্যাঙ্ককে যেতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু টুর্নামেন্টে শুধু এক ম্যাচ খেলাকে কিছুটা ‘ঝামালা’ মনে করছেন কোচ হাথুরাসিংহে। তাই পুরো এশিয়া কাপেই যাতে তামিমকে ছুটি দেওয়া হয় সেজন্য বোর্ড ও নির্বাচকদের বলে দেন এ শ্রীলঙ্কান কোচ।
বর্তমানে পাকিস্তান সুপার লিগে ব্যস্ত আছেন তামিম ইকবাল। খেলছেন করাচী কিংসের হয়ে। পিএসএল শেষ করে দেশে ফিরে তারপরও যাবেন ব্যাঙ্ককে। সেখানে সন্তান সম্ভাবা স্ত্রীকে সঙ্গ দিবেন। এ মাসের শেষ দিকে বাবা হওয়ার কথা রয়েছে তামিমের।
ইনজুরির কারণে গত এশিয়া কাপও খেলা হয়নি তামিমের। এবার খেলা হচ্ছে না পারিবারিক কারণে। যদিও খুব করে এবারের এশিয়া কাপ খেলতে চেয়েছিলেন এ মারকুটে ওপেনার।
ঢাকাটাইমস
সংসদ প্রতিবেদক: জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধন করতে সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনকে প্রমাণস্বরূপ বিভিন্ন কাগজপত্র বা দলিলাদি যাচাই করে নিতে হয়। যাদের কাগজপত্র ঠিক থাকে তারা একদিনেই কাজ শেষ করে যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন সংসদকার্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার সরকার দলীয় ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের (নেত্রকোনা-৫) প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধনে যেসব নাগরিক সংশোধনের স্বপক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য দলিলাদি দাখিল করতে পারেন না, সেসব ক্ষেত্রে সময় লাগে বা সম্ভব হয় না। ওই সব নাগরিক ভোগান্তির অভিযোগ করেন। তাই জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের প্রচণ্ড ভোগান্তি হচ্ছে- এ অভিযোগ সত্য নয়।
মন্ত্রী আরো জানান, ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬ লাখ ১৩ হাজার ২৮৯ জন ব্যক্তি তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য আবেদন করেছেন। যা মোট নিবন্ধিত ভোটারের ০ দশমিক ৬১ শতাংশ। এই আবেদনকারীদের মধ্যে মাত্র ২৪ হাজার ৫৩২টি আবেদন করণিক ভুলজনিত, যা মোট ভোটারের ০ দশমিক ০২ শতাংশ মাত্র এবং বাকি ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫৭টি আবেদনকারীর আবেদন মূলত তথ্য পরিবর্তনজনিত যা ভোটারের ০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বেশির ভাগ আবেদনই জন্ম তারিখ, নিজের নাম, পিতা-মাতার নামের আমূল পরিবর্তনজনিত বিধায় প্রমাণস্বরূপ সংশ্লিষ্ট দলিলাদির প্রয়োজন হয় যারা তা দিতে পারেন না তাদের সিদ্ধান্ত পেতে সময় লাগে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সও কমবেশি করার দাবি আসে। বর্তমানে মানুষের সুবিধার জন্য স্ব স্ব এলাকার উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে আবেদন জমা ও সংশোধিত কার্ড প্রদান করা হচ্ছে।
এছাড়া জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের কার্যালয়ের ওয়ান স্টপ সার্ভিসেস ছাড়াও প্রতিটি থানা নির্বাচন অফিসে বেশ কিছুদিন থেকে এ সেবা প্রদান শুরু হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি জানান, গত ১৫ ডিসেম্বর নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের গেজেট জারির কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য ২ লাখ ৬৫ হাজার ১৪৮টি আবেদন জমা পড়েছে। তারমধ্যে ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৩২টি আবেদনের তথ্যাদি ইতোমধ্যেই সংশোধন করে ভোটারদের সংশোধিত জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়েছে। বাকিদের অল্প সময়ের মধ্যে দেয়া হবে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (পিরোজপুর-৩) মো. রুস্তম আলী ফরাজীর অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে বিভিন্ন প্রশিক্ষণে নিয়মিত ভারতে পাঠানো হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণে কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। এ সব প্রশিক্ষণে আরো বেশি সংখ্যক কর্মকর্তা প্রেরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।
স্পোর্টস ডেস্ক: শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ৯৭ রানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত যুবারা। যুব আসরে এ নিয়ে চতুর্থবার ফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো ভারতীয়রা। মিরপুরে শেরে-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) সেমিফাইনালের এ ম্যাচে লঙ্কান যুবাদের এক রকম হেসে-খেলেই হারালো রাহুল দ্রাবিড়ের শিষ্যরা। দলটির নয় উইকেটে করা ২৬৭ রানের বিপরীতে ৪২.৪ ওভারে ১৭০ রানে গুটিয়ে যায় লঙ্কান দ্বীপ রাষ্ট্রটির তরুণরা।
২৬৮ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভারতীয় বোলারদের তোপে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলঙ্কান যুবারা। দলের হয়ে কোন ব্যাটসম্যানই ছুঁতে পারেননি হাফ সেঞ্চুরির কোঠা। সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন কামিন্দু মেন্ডিস। আর ৩৮ রান আসে শাম্মু আশানের ব্যাট থেকে। এছাড়া দলের ছয় ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্কের ঘরে না যেতে পারলে দুইশো রানই পার করা হয়নি দলটির। ভারতীয় যুবাদের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট পান মায়ানেক দাগার। আর দুটি করে উইকেট পান আভেশ খান। একটি করে উইকেট দখল করেন খলিল খান, রাহুল বাথাম ও ওয়াশিংটন সুন্দর।

এর আগে টসে হেরে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৬৭ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ফাইনালে যাওয়ার লক্ষ্যে এ ম্যাচটিতে ভারতীয় যুবাদের হয়ে সর্বোচ্চ ৭২ রান করেন আনমলপ্রিত সিং।
তবে শুরুটা ভালো করতে পারেনি দলটি। দলীয় ২৭ রানের মধ্যেই দুই ওপেনার রিশাব পান্ত ও ইশান কিশানকে হারায় তারা। কিন্তু তৃতীয় উইকেট জুটিতে সরফরাজ খানকে সঙ্গে নিয়ে ৯৬ রানের জুটি গড়ে বিপদ সামাল দেন আনমলপ্রিত।
আনমলপ্রিত ৯২ বলে ছয় চার ও এক ছয়ে সর্বোচ্চ ৭২ রান করে আউট হন। ৫৯ রান আসে সরফরাজের ব্যাট থেকে। দুই ওপেনার বাজে খেললেও দায়িত্বটা ভালোই কাঁধে নেন মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানরা। পঞ্চম উইকেটে নামা ওয়াশিংটন সুন্দর করেন ৪৩ রান। আর পরের ব্যাটসম্যান আরমান জাফরের ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান।
লঙ্কান যুবাদের মধ্যে ১০ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট পান আশিথা ফার্নান্দো। আর দুটি করে উইকেট পান লাহিরু কুমারা ও থিলান নিমেশ।
আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুব দলের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে জয়ী দলের সঙ্গে ফাইনাল ম্যাচটি (১৪ ফেব্রুয়ারি) খেলবে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় যুবারা।
ঢাকা: উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ৩ এপ্রিল। মঙ্গলবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচী প্রকাশ করেছে। সূচী অনুযায়ী ৩ এপ্রিল তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হবে ৯ জুন। প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা ১১ জুন থেকে শুরু হয়ে ২০ জুনের মধ্যে শেষ হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে কেউ মশাবাহিত জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে সরকার তার চিকিৎসার ভার নেবে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানিয়েছেন। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “যে কোনো রোগী চিহ্নিত হলে সমস্ত চিকিৎসা ব্যয় আমরাই দেব। ডাক্তারের কাছে আমরা নিয়ে যাব। তারপর ফলোআপ করব। দেশে জিকা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলেও জানান মন্ত্রী।
‘জিকা ভাইরাস: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট’-বিষয়ে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। গতবছর ব্রাজিলে নতুন করে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর খোঁজ মেলার পর মাত্র চার মাসের মধ্যে বহু দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে। এর বাহক এডিস এজিপ্টি মশা। জিকা ভাইরাসে সচরাচর মৃত্যুর ঘটনা দেখা যায় না। এর লক্ষণও সবসময় স্পষ্ট থাকে না। এই ভাইরাস সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে এসেছে নবজাতকদের নিয়ে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, গর্ভবতী মা জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার অনাগত শিশুর মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হতে পারে, মস্তিষ্কের গঠন থাকতে পারে অপূর্ণ। এ রোগকে বলে মাইক্রোসেফালি।এ ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক বা ওষুধ নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিকে বিশ্রাম ও বেশি করে তরল খাবার খেতে পরামর্শ দেওয়া হয়। জিকা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এক সপ্তাহ আগে বিশ্বময় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
সংসদে জিকা ভাইরাস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সর্বশক্তি নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন জানিয়ে লিখিত বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “জনগণের প্রতি আহ্বান, আপনারা আশ্বস্ত থাকুন। এই ভাইরাস দেশে কোনোভাবেই সংক্রমিত হতে পারবে না। সরকার জিকা ভাইরাস প্রতিরোধে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা জরুরি অবস্থা ঘোষণার দুইদিনের মধ্যে সব সিভিল সার্জন এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাকে ইমেইলের মাধ্যমে জিকা সম্পর্কিত তথ্য উপাত্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। নাসিম বলেন, “এরই মধ্যে জিকা ভাইরাস সংক্রমণ সংক্রান্ত জাতীয় কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং জরুরি অবস্থা মোকাবেলার জন্য ‘প্রিপেয়ার্ডনেস প্লান’ করা হয়েছে।
“সব আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারে মেডিকেল টিমের কার্যক্রম নিশ্চিত করা হয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে জিকা ভাইরাস স্ক্রিনিং মনিটর করতে ওয়েব ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং সম্ভাব্য জিকা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে এডিস মশা নিধনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় সরকারের উদ্যোগে সমন্বিত কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।” মন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে গণমাধ্যমে জিকা ভাইরাস সংক্রান্ত সংবাদ প্রচার করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দীন মো. নূরুল হক বলেন, “কুর্মিটোলায় (কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল) ২০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড করা আছে।
“আমি এরই মধ্যে পরিচালককে বলে দিয়েছি, জিকার জন্য সেম ওয়ার্ড ফাংশন থাকবে। কোনো লোক জ্বর নিয়ে দেশে আসলে তাকে এই ওয়ার্ডে আনতে হবে। সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সে এখানেই থাকবে। সুস্থ হলে তাকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আমরা তা ফলোআপ করবে।” ইতোমধ্যে জিকা ভাইরাস দেখা গেছে এমন দেশ থেকে কেউ বাংলাদেশে আসলে এই ফলোআপের মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলে জানান তিনি।
নিউজ ডেস্ক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃতির ঘটনায় চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এমএ লতিফের বিরুদ্ধে এবার রাষ্ট্রদ্রোহ ও তথ্য-প্রযুক্তি আইনে দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে আদালতে। আজ সকালে মহানগর হাকিম ফরিদুল আলমের আদালতে অভিযোগ করা হয়। এর মধ্যে ফৌজদারি দ-বিধির ১২৪ ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগটি করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কেএম বেলায়েত হোসেন। আর তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় অন্য অভিযোগটি দায়ের করেছেন যুবলীগের সাবেক নেতা সাইফুদ্দিন আহমেদ রবি, যিনি একই ঘটনায় এর আগে হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছিলেন।
গত ৩০শে জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চট্টগ্রাম সফরের আগে নিজের নির্বাচনী এলাকায় সড়কের পাশে নিজের ছবির মাথা কেটে বঙ্গবন্ধুর ছবির সঙ্গে সংযোজিত করে কয়েক ডজন বিলবোর্ড লাগান লতিফ। বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়।
নিউজ ডেস্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশ, গণতন্ত্র, আর রাষ্ট্র সর্বপরি এই জনপদ এক গভীর রাজনৈতিক সংকটে আচ্ছন্ন। এজন্য দেশের বিপন্ন গণতন্ত্র রক্ষায় আজ ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। নির্বাচিত নয় এমন সরকারের দুঃশাসনে মানুষের আজ জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।
আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল আরো বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙ্গে পড়েছে। পুলিশের আচরণে মানুষ আতঙ্কিত। তারপরও পুলিশ প্রধান বলছেন তাদের দায় পুলিশ বাহিনী নিবে না। তাহলে নির্যাতিত মানুষ কার কাছে যাবেন ?
তিনি বলেন, এ সরকার গণতন্ত্র হত্যা করেছে। বাক স্বাধীনতা ও ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। মিডিয়াকে ন্যাক্কারজনকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে লিখতে পারছে না। কেউ লিখতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি জেকে বসেছে।
একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বলছেন তিনি নাকি প্রধান বিচারপতিকেই মানেন না। চরম দলীয়করণের কারণে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। কোন জায়গায় শৃঙ্খলা নেই।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকার কর্তৃত্বপরায়ন হয়ে দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। তিনি বলেন, এ থেকে মানুষ পরিত্রাণ চায়, বাঁচতে চায়।
ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই প্রেক্ষাপটে ঝিনাইদহের জেলা সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ। দেশে ন্যায় পরায়ণ শাসন কায়েম করতে বিএনপিকে আজ সুসংগঠিত করতে হবে। সম্মেলনে জেলার ৬ উপজেলার শত শত নেতাকর্মী অংশ গ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মো. শাহজাহান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাসাস সাধারণ সম্পাদক মনির খান, সাবেক এমপি শহিদুজ্জামান বেল্টুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
ঢাকা: আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে অনূর্ধ্ব-১৯ যুব বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। ম্যাচ শেষে ট্রফি তুলে দিতে ওইদিন উপস্থিত থাকবেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সভাপতি জহির আব্বাস। একই সাথে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন রাজধানীর এক হোটেলে বাংলাদেশ যুব দলের সাথে এক মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেয়ার আগে এ কথা জানান। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আইসিসি সভাপতি জহির আব্বাস ফাইনাল ম্যাচে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে থাকবেন। নিয়মানুযায়ী তিনি চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও থাকবেন ফাইনাল ম্যাচে।’
মজার ব্যাপার হলো, সেমিফাইনালের দিনই আসতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু মেহেদি হাসান মিরাজের দল প্রধানমন্ত্রীকে ফাইনাল ম্যাচের দিন মাঠে চাচ্ছে। তাই পরিবর্তন করে তাকে ফাইনালে আসার অনুরোধ করা হলে অনুরোধ রেখেছেন তিনি। প্রসঙ্গত, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সেমিফাইনাল খেলতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। প্রতিপক্ষ সোমবারের কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে জয়ী দল। সূত্র : প্রিয়.কম