May 4, 2026
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার কেরানীগঞ্জে শিশু আবদুল্লাহ হত্যার সন্দেহভাজন মূল হোতা মোতাহার হোসেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। র্যাবের দাবি, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চিতাখোলা এলাকায় গতকাল রোববার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। আবদুল্লাহর মায়ের বড় মামা ছিলেন মোতাহার হোসেন। অর্থাৎ, সম্পর্কে তিনি শিশুটির নানা।
র্যাব-১০ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মহিউদ্দিন জানান, গতকাল গভীর রাতে তাখোলা এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছিল র্যাবের একটি দল। এ সময় মোটরসাইকেলে করে দুজন যাওয়ার সময় র্যাব তাঁদের থামার সংকেত দেয়। মোটরসাইকেল আরোহীরা র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে র্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে।
এতে একজন আহত হন। অপরজন মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান। আহত ব্যক্তিকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মকর্তা তাঁকে মৃত ঘোষণা করে। পরে নিহত ব্যক্তির সঙ্গে থাকা পরিচয়পত্র থেকে জানা যায়, তিনি কেরানীগঞ্জে শিশু আবদুল্লাহ হত্যা মামলার মূল আসামি মোতাহার হোসেন।
গত ২৯ জানুয়ারি দুপুরে কেরানীগঞ্জের রুহিতপুর ইউনিয়নের মুগারচর গ্রামের পশ্চিম মুগারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মো. আবদুল্লাহ
(১১) নিখোঁজ ছিল। তাকে খুঁজতে থানা-পুলিশ হয়েছে।
চলেছে বিস্তর খোঁজখবর করা। একপর্যায়ে মুঠোফোনে তাকে অপহরণের দাবি করে দুই দফায় দুই লাখ টাকা নেয় অপহরণকারীরা। এরপরও শিশুটিকে ফেরত দেয়নি তারা। ২ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার আবদুল্লাহদের বাড়ির মাত্র ১০০ গজ পশ্চিমে মোতাহার হোসেনের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে প্লাস্টিকের ড্রামে ভরা আবদুল্লাহর গলিত মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
ঘটনার পর থেকে মোতাহার পলাতক ছিল।
লাশ উদ্ধারের পর স্থানীয় সাংসদ ও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম মুগারচর গ্রামে আবদুল্লাহর বাড়িতে যান। তিনি এ হত্যা মামলা তিন থেকে চার মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির আশ্বাস দেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজও যান শিশুটির বাড়িতে।
তিনি এ হত্যার বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, এ হত্যাকাণ্ডের খুনি মোতাহার বাংলাদেশের যে প্রান্তে থাকুক না কেন, তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।
ঢাকা : আগামী দুই বছরে বাংলাদেশ থেকে আরো ৩ লাখ কর্মী নেবে কাতার। কর্মী নিয়োগে নামাজিদের অগ্রাধিকার দিতে বলেছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মীদের পরিশ্রমেরও উচ্চসিত প্রশংসা করেছেন দেশটির নীতি নির্ধারকরা।
কাতারে তিনদিনের সফর শেষে রোববার দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার ইফতেখার হায়দারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মী নেয়ার ক্ষেত্রে নামাজির প্রশ্নটা এলো কেন? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘তারাই আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিল তোমাদের দেশের লোক নামাজি কি না। আমরা তাদের বলেছি, হ্যাঁ অধিকাংশ মানুষই নামাজি।’
তিনি বলেন, ‘আগে কাতার সরকার জানতো বাংলাদেশ ৭৫ শতাংশ মুসলিমের দেশ। কিন্তু আমরা তাদের বলেছি, বাংলাদেশের ৯৫ ভাগই মুসলিম। তখন তারা বলেছেন- তোমরা আমাদের ভাই। তোমাদের দেশ থেকে অধিক সংখ্যক দক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মী নিতে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।’
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘কাতার সফরকালে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন নাসের বিন খলিফা আল থানি এবং প্রশাসনিক উন্নয়ন, শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ড. ঈসা সাদ আলজাফালি আল নুয়াইমির সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ জিরো টলারেন্স বলেও কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং প্রশাসনিক উন্নয়ন, শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রীকে জানানো হয়েছে।’
দক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মী নিতেই দেশটির বেশি আগ্রহ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কাতারের প্রশাসনিক উন্নয়ন, শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আমাদের বলেছেন- তারা বাংলাদেশ থেকে বিক্রয়কর্মী, নার্স, ডাক্তার, প্রকৌশলী ও অফিস কর্মচারীসহ সকল খাতে কর্মী নিতে চায়।’
বেতন-ভাতা এবং অভিবাসন ব্যয় কত হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা উভয় দেশের যৌথ কমিটি বসেই ঠিক করবে। দেশটিতে বর্তমানে ন্যূনতম বেতন ৭শ রিয়াল, তা বৃদ্ধি করে ১২শ রিয়াল করারও প্রস্তাব করা হয়েছে।’
নুরুল ইসলাম বিএসসি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘বিদায়ী ২০১৫ সালে এক লাখ ২৩ হাজার ৯৬৫ কর্মী গেছে কাতারে। ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠেয় ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে। এ জন্য দেশটিতে নির্মাণকর্মী, সেবাখাত ও বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এমনো হতে পারে চলতি বছরে দুই লক্ষাধিক কর্মী যেতে পারে কাতারে।’
তিনি বলেন, ‘আগামী দুই বছরে তিন লক্ষাধিক কর্মী যাবে দেশটিতে। এসব কর্মী নিতে আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় উভয় দেশের যৌথ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএিইটি) মহাপরিচালক বেগম শামসুন নাহার, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাস, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আব্দুর রউফসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিনোদন: পশ্চিমবঙ্গের নানা জায়গায় পোস্টার টাঙ্গানো হয়েছে ’হিরো ৪২০’ ছবিটির। যেটি আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে। যৌথ প্রযোজনার এই ছবিতে নায়ক ওমের
বিপরীতে রয়েছেন দুজন নায়িকা। এদের একজন কলকাতার রিয়া সেন, অন্যজন বাংলাদেশের নুসরাত ফারিয়া। এই ছবির সুত্রেই আলোচনা চলছে কে বেশি হট। কাকে ছাড়িযে যাবেন কে ? শোনা যাচ্ছে, নুসরাত এই ছবিতে বেশ খোলামেলা অভিনয় করেছেন। বেশ কয়েকটি সাহসী দৃশ্যও রয়েছে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের ‘আশিকী’ ছবিতে অভিনয় করেছেন নুসরাত। এ অভিনেত্রী নিজেও কলকাতার একটি সংবাদপত্রে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, প্রত্যেক ছবিতে চুমুর দৃশ্য রাখছেন পরিচালকরা। আমি নিজেও তাই ভাবি আমি কি টলিউডের ইমরান হাশমি হয়ে উঠছি ? টলি ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের খবর, নুসরাত বোল্ড দৃশ্যে বেশ সাবলীল। তাই টলি ছবির নতুন বাজি এই নুসরাত। তিনি ছাড়াও জয়া আহসানকে নিয়েও এপারে জোর আলোচনা। পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘রাজকাহিনী’তে একটি বোল্ড দৃশ্যে অভিনয় করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন জয়া। তা নিয়ে দু পারেই জোর আলোচনা হয়েছে। কিন্তু নায়িকা তা আমলে আনেন নি। আর তাই টলিউডের আরেকটি ছবিতে জয়াকে দেখা যাবে বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে। অরিন্দম শীলের শবর গোয়েন্দা সিরিজের পরবর্তী ছবিতে থাকছেন জয়া। অবশ্য পলিচালক জানিয়েছেন, ঘনিষ্ঠ দৃশ্যগুলি তৈরি হবে শিল্প সুষমার দিকে নজর রেখে। এই ছবিতে গোয়েন্দা শবরের চরিত্রে অভিনয় করছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। আরও কয়েকজন বাংলাদেশী অভিনেত্রীর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকজন প্রযোজক ও পরিচালকদের কথা চলছে। আর সব কটি ছবিই হবে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি। স্বাভাবিকভাবেই এই সব ছবিতেও থাকবে অনেক বোল্ড দৃশ্য। সেই সব দৃশ্যের প্রয়োজনেই কি বাংলাদেশের অভিনেত্রীদের চাহিদা বাড়ছে এপারে, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মানবজমিন
নিজস্ব প্রতিবেদক: অবসরে যাওয়ার পর হাতে লেখা রায় ও আদেশগুলো গ্রহণের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দিয়েছেন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী। তিনি দাবি করেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে এগুলো গ্রহণ করা একান্ত আবশ্যক। গত ৪ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কাছে তিনি এই চিঠিটি দেন। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কার্যালয় বলছে, এ ধরনের কোনো চিঠি তারা হাতে পাননি। 
চিঠিতে বলা হয়েছে, অবসরে যাওয়ার পর বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর কাছে যেসব মামলার রায় ও আদেশ লেখা বাকি ছিল তা তিনি শেষ করেছেন। এ জন্য তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার কাছে এগুলো নেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে বিচারপতি আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা সেগুলো গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতির নির্দেশ অনুসারে কোনো অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির লেখা রায় ও আদেশ গ্রহণ করা যাচ্ছে না। চিঠিতে আরও বলা হয়, শামসুদ্দিন চৌধুরী অবসরে যাওয়ার পর তাঁর কার্যালয় তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। সব অফিস স্টাফ ও সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ জন্য তিনি রায়গুলো টাইপ করতে পারেননি।
প্রথম আলাে
বিনোদন ডেস্ক: চমকে যাওয়ার মতো খবর। থমকে যাওয়ার মতোও! বলিউড তারকা রণবীর কাপুর ও ক্যাটরিনা কাইফের মন দেওয়া-নেওয়ার সম্পর্কের পাট চুকে যাওয়ার গুঞ্জন ভিত্তিহীন হয়ে পড়লো একটি মন্তব্যে! সবরকম গুজনের মুখে তালা দিয়ে ৩২ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী জানালেন, কারও সঙ্গেই তার ব্রেকআপ হয়নি!
এবিপি লাইভকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘ধুম থ্রি’ তারকা ক্যাটরিনা বলেছেন, ‘ব্রেক-আপ! কে বলেছে আমার প্রেম ভেঙেছে? কারও সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার কথা আমি কখনও বলিনি। তাছাড়া কারও সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক ছিলো বা আছে, এমন কথাও উল্লেখ করিনি কোথাও।’
রণবীর-ক্যাটরিনা কেউই নিজেদের প্রেম কিংবা ছাড়াছাড়ি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তাই ক্যাট এমন মন্তব্য করায় তাকে দোষ দিতে কিংবা মিথ্যুক বলতে পারছেন না কেউ। চলতি বছরের শুরুতেই রণবীর-ক্যাটরিনার ছাড়াছাড়ির খবর বেরিয়ে পড়ে। প্রেম ভেঙে যাওয়ার গুঞ্জন ছড়ানোর পর কয়েকটি অনুষ্ঠানে একে অপরকে এড়িয়ে গেছেন দু’জনে।
এবারের ভালোবাসা দিবস কেমন কাটবে জানতে চাইলে ক্যাটরিনা জানান, সারাদিন অভিষেক কাপুর পরিচালিত ‘ফিতুর’-এর সহশিল্পী টাবুর সঙ্গেই কাটবে তার। এখন এ ছবির প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। এটি মুক্তি পাবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এতে আরও আছেন বলিউড অভিনেতা আদিত্য রয় কাপুর।
পেশাগত নয়, ব্যক্তিগত ঝামেলার কারণে বারবার খবরের শিরোনামে আসছে ক্যাটরিনার নাম। সম্প্রতি পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশিত খবরগুলো পড়লে খারাপ লাগে। ক্যাটরিনা কাইফ বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ অভিনেত্রীর একজন- আমি চাই, আমাকে নিয়ে এমন খবর হোক।’
সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা: বুধরাজনীতির চেনা ছকেই পা ফেলেছেন খালেদা জিয়া আর তার দল বিএনপি। এখন দলটির একমাত্র রাজনীতি একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকে কটাক্ষ করা। আর কোনও রাজনীতি নেই দলটির। দলের চেয়ারপারসন প্রথমে বলেছেন, তারপর এখন নেতা পাতিনেতারাও বলছেন। এটাই প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লেগেছেন যে, মুখে যতই মুক্তিযুদ্ধের কথা বলুক, দলটির আসল রাজনীতি স্বাধীনতাবিরোধীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর পর দলের জন্য এই পথটি আরও স্বচ্ছ হয়েছে।
রাজনীতির চেনা পথের পথিক এই দল। এর নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন তারা নিজেরাই জরিপ করে দেখবেন কত শহীদ হয়েছেন একাত্তরের যুদ্ধে। বিএনপির জন্য অবশ্যই এটি প্রকল্প। কারণ আর কোনও কাজ নেইতো এখন। সংসদে নেই, মানুষকে পেট্রোলবোমায় পোড়ানোর রাজনীতি ব্যর্থ হওয়ার পর এখন আন্দোলেনেও নেই। তাই এখন এই প্রকল্প। জ্বালানি তেলের দাম সরকার কমায় না, বিএনপি নীরব, গ্যাস সংকট হয়, বিএনপি নীরব, দুর্নীতি কমে না বলে টিআইবি রিপোর্ট দেয়, বিএনপি নীরব। সরব শুধু স্বাধীনতা যুদ্ধের মীমাংসিত এই সত্যকে কলুষিত করায়। আশা করছি, এমন আকর্ষণীয় প্রকল্পে বিনিয়োগেরও অভাব হবে না। দেশের মানবতাবিরোধী অপরাধীরা আছেন, তাদের অর্থ আছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান আছে, কিন্তু তার চেয়ে বেশি আছে আরেকটি দেশ, পাকিস্তান। এমন প্রকল্পে পাকিস্তান নিশ্চয়ই অর্থ বিনিয়োগ করবে, কারণ তারাই সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিতর্কিত হলে। বিতর্কিত, তাও আবার এমন এক দলের মাধ্যমে, যে দলটির প্রতিষ্ঠাতা নাকি আবার স্বাধীনতার ঘোষক!
রাজনীতির স্রোতে বিএনপি নিজেই নিজেকে এমন এক জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে যে, তারা খেলছেন পুরোনো ছকে। খালেদা জিয়া এবং তার ছেলে তারেক রহমান রাজনীতি করতেই এসেছেন। কাজেই খেলার নিয়মটি দ্রুত রপ্ত করে নেওয়ার আবশ্যিকতা তারা জানেন। তাই এই খেলায় তাদের কৌশল, স্বাধীনতাবিরোধী সব জোটের একক মালিক হওয়া, যেমনটি শুরু করেছিলেন জিয়াউর রহমান নিজে যুদ্ধাপরাধীদের জেলে থেকে ছেড়ে দিয়ে, গোলাম আযমকে দেশে এনে, স্বাধীনতার সেøাগান বদলে দিয়ে, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে, স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রিত্ব দিয়ে।
দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রথমে বলেছেন এবং তার সঙ্গে আরও কদর্যভাবে গলা মিলিয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এবং আশ্চর্যজনকভাবে দুজনেই বলেছেন বিজয়ের মাসে, দুজন মানবতারোধী অপরাধীর ফাঁসি কার্যকরের পর পাকিস্তানের তীর্যক বাংলাদেশবিরোধী, বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী বক্তব্যের পর পর। মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করার এমন প্রেক্ষাপট কেবল বিএনপিই পেয়ে থাকে।
বাংলাদেশে সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ বিএনপির প্রতি দুর্বল। শেখ হাসিনার সামান্য কথায় তারা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান, এবার তারা নিশ্চুপ। তবে কি তারা এই বক্তব্যে বিভ্রান্ত হননি, নাকি বিভ্রান্ত হয়ে শোকে পাথর হয়েছেন?
বিএনপি, জামাতসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের কাছে শহীদের সংখ্যা কেবল একটি সংখ্যা। কিন্তু এর সঙ্গে সমগ্র জাতির স্পর্ধা ও ভালোবাসা জড়িত। এর সঙ্গে দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দেওয়া লাখ লাখ শহীদের স্বজনদের আবেগ ও বেদনা জড়িত। এর সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের অহঙ্কার জড়িত।
বিএনপি নেত্রী, তার ছেলে এবং দলের কোনও কোনও নেতা প্রায়ই আবার বলে থাকেন বঙ্গবন্ধু (তারা বঙ্গবন্ধু বলেন না, যেমন বলে না জামাতে ইসলামী) শেখ মুজিব স্বাধীনতা চাননি। প্রশ্ন হলো, যদি তিনি না চেয়ে থাকেন, স্বাধীনতাটা এলো কিভাবে? একাত্তরের ১ থেকে ২৫ মার্চ বাংলাদেশ কার নির্দেশে চলেছে? শেখ মুজিব না পাকিস্তান বাহিনীর? জিয়াউর রহমান কার নামে ২৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন? কার নামে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন? একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় যে সরকারটি গঠিত হয়েছিল, সেটিই বা কার নেতৃত্বে? বংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে হয়েছে, আকস্মিকভাবে কোনও মেজরের ডাকে নিশ্চয়ই নয়। তাহলে তো সব ইতিহাসই মিথ্য।
প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন, খালেদা জিয়া যা বলেছেন, তার রাজনৈতিক প্রভাব বুঝতে পেরে দলের নেতারা এ নিয়ে আর উ”চবাচ্য করবেন না। কিন্তু প্রতিদিন বিএনপি নেতারা যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ পরিবার, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অপমান করে বক্তব্য রাখছেন, তাতে একথা জলের মতো পরিষ্কার যে, তারা রাজনীতি করছেন স্বাধীনতাবিরোধীদের খুশি করার জন্যই।
তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, ৩২ বছর ধরে বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন খালেদা জিয়া। কখনও শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি। আজ তুলছেন? কারণ দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে, যা এই দলটির আদর্শের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায়, অস্বস্তির বিষয়। বিএনপি নেতারা বলেন, তারাও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চান, তবে সেটি আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে। কিন্তু ক্ষমতায় থাকতে তারা সেই বিচার তারা করেননি। এদেশে মানুষ জানে জামায়াতের নেতা গোলাম আযমের বিচারের দাবিতে শহীদজননী জাহানারা ইমামসহ যে ২৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক গণ-আদালত গঠন করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদোহ মামলা দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া।
সম্প্রতি মানবতাবিরোধী দায়ে বাংলাদেশে দুই রাজনীতিকের মৃত্যুদ- কার্যকর হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের সরকার ও রাজনৈতিক মহল যেসব মন্তব্য করেছে, তা ছিল খুবই উস্কানিমূলক। এর মাধ্যমে একাত্তরের পরাজিত পাকিস্তান নিজেদের অপরাধই শুধু আড়াল করছে না, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধটাকেও তারা অস্বীকার করছে। দুঃখজনকভাবে পাকিস্তানের এই অবস্থানকে সমর্থন করে যাচ্ছেন বিএনপি নেত্রী, তার সাহাবিরা।
পাকিস্তান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার আলবদরদের হাতে নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা কমিয়ে দেখাতে তৎপর ছিল, এখনও আছে। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ভাড়াটে লেখকদের দিয়ে ভূয়া ইতিহাসও মাঝে মধ্যে লিখিয়েছে। কিন্তু এবার সম্ভবত সবচেয়ে খুশি পাকিস্তান, কারণ বাংলাদেশের একজন নেত্রী, সাবেক প্রদানমন্ত্রী, যেকোনওভাবেই হোক একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, তাদের মতো করে বাংলাদেশের ইতিহাস বলছে। রাজনীতি করতে গিয়ে, সরকার বিরোধিতা করতে গিয়ে, পাকিস্তানের পক্ষে এমন স্পষ্ট অবস্থান নিকট অতীতে দেখা যায়নি।
স্বাধীনতার ৪৫ বছরে আমরা। এখনও কত ঘটনা, কত কাহিনি অনুদ্ঘাটিত। কত মানুষ এখনও স্বজনের অপেক্ষায়। সেই স্বজনহারা মানুষদের শুধু অন্তরে আঘাত নয়, খালেদা জিয়া আর দল পাকিস্তান ও দালালদের স্বার্থ হাসিলের জন্য নতুন করে লড়াই শুরু করেছেন। কিন্তু যে নীতি দেশের মৌলিক চেতনার সঙ্গে যায় না, তার পুনর্বিবেচনা জরুরি। বোঝা দরকার ক্ষমতা এখনও অলীক দূরত্বে। বাংলাট্রিবিউন
লেখক: পরিচালক বার্তা, একাত্তর টেলিভিশন
জব্বার হোসেন: কাল সকালে আমার বিরুদ্ধে যদি শ্লীলতাহানির, যৌন হয়রানির কোনো অমূলক অভিযোগ ওঠে, তাতে মোটেও বিস্মিত হবো না আমি। কেননা, বিস্মিত হতে যে সময়টুকু লাগে, তারচেয়েও অধিক কম সময়ে অভিযুক্তকে হয়রানি করা সহজ এক্ষেত্রে। অভিযোগ করলেই হলো। সত্যাসত্য প্রমাণ, সেতো অনেক সময় বাকি। ততক্ষণে অভিযুক্তের ১২টা, ২৪টা, ৩৬টা, ৪৮টা- যা বাজার তারচেয়েও অনেক বেশি বেজে যায়। প্রচলিত আইনের ধারা, উপধারার ফাঁকফোকরের কারণে, কে কোথায় কিভাবে সুবিধে নিচ্ছে, অসুবিধেয় পড়ছে কে, ভুগছে কে ভোগাচ্ছে কাকে, কে রাখে সে খবর! আর নারী হলে তো কথাই নেই। আমি নির্যাতিত, আমি ভিক্টিম, আমি শ্লীলতাহানির, যৌন হয়রানির শিকার এমনটি বলতেই যা সময় লাগে, ভোগাতে সময় লাগে তারচেয়ে আরও অনেক কম।
যৌন অভিযোগ দুর্দান্ত এক অস্ত্র। নারীর জন্য, পুরুষের জন্যও। যে কোনো মারণাস্ত্রের চেয়েও তা কম ভয়ঙ্কর নয়, কোনো অংশে। যে কোনো মেয়েকে দুঃশ্চরিত্র বলার চেয়ে সহজ কাজ জগতে দ্বিতীয়টি নেই। পুরুষের ক্ষেত্রেও তাই। যে কোনো পুরুষকে লম্পট, দুঃশ্চরিত্র বলে ফেললেই হলো, আর শ্লীলতাহানি বা যৌন হয়রানির চেষ্টার অভিযোগ সেতো আরও ভয়ঙ্কর। এতে শ্লীলতাহানি বা যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটাতে হয় না। কেননা ঘটেনি বা ঘটবার আগপর্যন্ত তো ‘সবটাই চেষ্টা’ বলে চালিয়ে দেওয়া সহজ। চেষ্টা বড়ই বায়বীয় একটি শব্দ। আর আইনি ভাষায় ‘এমন চেষ্টা’ আরও ভয়াবহ। যৌন অভিযোগের এ হাতিয়ার নতুন নয়, পুরনো। এর কোনো পূর্ব-পশ্চিম নেই। ধর্ম-অধর্ম নেই। রাজনীতি-অরাজনীতি নেই। জাতপাত নেই- করলেই হলো। ইতালির বারলুসকুনি, আইএমএফের প্রেসিডেন্ট ট্রসকান থেকে শুরু করে কে নয়, যৌন হয়রানির অভিযোগের শিকার?
২.
আমাদের একটি দার্শনিক দারিদ্র্য আছে। কোনো ঘটনাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে চাই না আমরা। আতশকাঁচের তলে ফেলি না। বাইরে থেকে যা দেখা যায়, যা শোনা যায়, যা বলা হয়, তাই বুঝতে চাই- এর বাইরে কিছু নয়। এটিই আমাদের দর্শনগত ত্রুটি ও দুর্বলতা। আমাদের মিডিয়ার অবস্থাও তথৈবচ। বাণিজ্যিক মিডিয়া শ্রোতের অনুকূলেই সাঁতার কাটে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা তো বিলুপ্তপ্রায়। বরং কি জাতীয় শব্দে, সংবাদ পরিবেশনে দ্রুত পাঠক, দর্শক ধরা যাবে, অনলাইনে হিট বাড়বে, তাতেই ব্যস্ত সবাই। কখনও কখনও সাংবাদিকতার ন্যূনতম নৈতিকতার সীমাটিও মানতে চাই না।
গত কদিন আগে পুলিশের এসআই রতন হালদারের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির খবরটিতে দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়। প্রথমে দুএকটি, পড়ে বেশ কয়েকটি খবরের কাগজ, অনলাইন পড়ে আমার মধ্যে বেশ কিছু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যুবদল নেতা সজীব আহমেদ রানার স্ত্রী ফারহানার বর্ণনায় ঘটনাটি ঘটেছে আদাবর থানা এলাকায়। অথচ তিনি অভিযোগ করতে গিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানায়। থানার পুলিশ তার মামলাটি নিতে চাননি বলে অভিযোগ করেছেন। আদালতে গিয়ে মামলা করেছেন। কিন্তু থানায় ডিউটিরত প্রত্যেক পুলিশের নাম-পরিচয় জানা যায়, অথচ মামলাটি কোন পুলিশ নিতে চায়নি তা তিনি কেন জানাননি? তিনি তো চ্যালেঞ্জ করতে পারতেন, কেননা ঢাকার প্রতিটি থানা এখন সিসি টিভির আওতাভুক্ত। সিসি টিভির ফুটেজেই তো অস্বীকৃতি জানানো পুলিশকে শনাক্ত করা যেতো। ফারহানা জানিয়েছেন, তাকে রাস্তায় গতিরোধ করে এসআই রতন এবং দুই পুলিশ সদস্য। ইয়াবা আছে এই সন্দেহের কথা বলে পাশের একটি দোকানে নিয়ে যায়। অথচ যমুনাসহ আরও কয়েকটি টেলিভিশনের খবরে দেখেছি প্রত্যক্ষদর্শী দোকানিরা তা অস্বীকার করেছেন।
তবে পুলিশের বিরুদ্ধে পুলিশ বিভাগের আচরণটি রীতিমতো বিস্মিত করার মতো। ঘটনার সত্যতা বা অভিযোগ প্রমাণের অনেক আগেই রতন হালদারকে বরখাস্ত করেন তেজগাঁও জোনের ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার। জানা যায়, বিস্ফোরক আইনে চার্জশিট দেওয়া মামলার আসামির স্ত্রীকে রাস্তায় আটকে কথা বলতে কেন গেলেন এমন যুক্তিতেই তিনি বরখাস্ত করেছেন রতন হালদারকে। অভিযুক্ত রতনের যুক্তি, তিনি পলাতক আসামি যুবদলের সন্ত্রাসী রানা, যিনি ইয়াবা রানা হিসেবেও পরিচিত, তার হদিস জানতে চেয়েছেন তার স্ত্রী ফারহানার কাছে। পাশাপাশি ফারহানা নিজেও ইয়াবা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত, সোর্স মারফত এমন তথ্য পেয়েই ফারহানার গতিরোধ করেন তিনি। থানায় যেতে বলেন, কিন্তু কোনো নারী পুলিশ সদস্য না থাকায় ফারহানাকে আর থানায় নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফারহানা এসআই রতন হালদারকে ‘দেখে নেব কিভাবে চাকরি করিস’ বলে শাসান। রতন হালদার তা তার ঊর্ধ্বতনকে জানান এবং থানায় এসে হুমকির জিডি করেন।
৩.
একজন ডিসি বিপ্লব কুমার সরকার অভিযোগ প্রমাণের আগেই শাস্তি দিয়েছেন রতন হালদারকে। অপরাধ প্রমাণের আগেই অপরাধী বানিয়ে দিয়েছেন তাকে। কোনো কোনো মিডিয়ার আচরণও তাই। প্রায় বেশির ভাগ অর্ধ শিক্ষিত মিডিয়ার ‘এবার এসআইএর যৌন হয়রানি’, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে পুলিশের শ্লীলতাহানী’, ‘এসআই রতন শ্লীলতাহানী করলেন এক ছাত্রীর’ এমন সব শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছে। ‘অভিযুক্ত’ শব্দটি ব্যবহারের প্রয়োজনও মনে করেনি এসব অর্ধশিক্ষিত প্রতিবেদকেরা। নাকি শ্লীলতাহানীর, যৌন হয়রানির একটি দৃশ্যকল্প ভেবে পুলক পেতে ও পাঠকদের পুলকিত করতে চেয়েছিলেন তারা, সেটিও বিবেচ্য।
আবার অনেকেই লিখেছেন ‘ভুক্তভোগী’ ফারহানা আক্তার। ফারহানা অভিযোগকারী, অভিযোগ প্রমাণের আগে তিনি ভুক্তভোগী কি অভুক্তভোগী সেই সিদ্ধান্ত কী করে নেই আমরা। কখনও কখনও মিডিয়া কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের আগেই তাকে শাস্তির মঞ্চে দাঁড় করায়। অশিক্ষা, অর্ধশিক্ষা, ‘বিশেষ শিক্ষা’র কারণে এমনটি মিডিয়াতে হরহামেশাই ঘটে থাকে। এমন ঘটনা এর আগেও দেখা গেছে।
আমি বলছি না, অভিযুক্তদের কেউ স্বর্গ থেকে আসা আশ্চর্য দেবদূত। মানুষের পক্ষে তা হওয়া সম্ভব নয়, প্রয়োজনও নেই। কিন্তু যে অভিযোগগুলো ঢালাওভাবে, একতরফাভাবে করা হয়েছে, এখানে কোথায় যেন যুক্তির ফাঁক, কোথায় যেন মিথ্যের প্রলেপ আছে মনে হয়।
মানবিক বিশ্বে কেউ-ই যেন হয়রানির শিকার না হয়, দুর্ভোগ না পোহায়, যৌন অযৌন কোনো মিথ্যে অস্ত্রের শিকার কেউ হোক চাই না। সততার সঙ্গে, শ্রম ও মেধার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে এসে, হয়রানির বিরুদ্ধে লড়তে এসে কেউ যেন নিজেই হয়রানির শিকার না হয়, হলে এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কিছুই নেই।
লেখক: উপ-সম্পাদক, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, মিডিয়াওয়াচ, পরিচালক, বাংলাদেশ সেন্টার ফর, ডেভেলপমেন্ট জার্নালিজম এন্ড কমিউনিকেশন, সদস্য, ফেমিনিস্ট ডটকম যুক্তরাষ্ট্র
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কোনো সদস্যের বাড়াবাড়ি সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনার প্রেক্ষাপটে শুক্রবার রাতে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনে সিএমপির বিশেষ কল্যাণ সভায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
সভায় নগর পুলিশের বিভিন্ন এলাকার উপ-কমিশনার এবং বেশিরভাগ থানার ওসিসহ প্রায় আটশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সিএমপি কমিশনার জলিল মণ্ডল বলেন, “পুলিশের জ্ঞাতার্থে বলছি, আপনাদের ক্ষমতা সীমিত ও আইনানুগ। লাঠি-বন্দুক উঁচু করবেন না। এটা কখনও কাম্য নয়। মাটির সাথে মিশে গিয়ে মানুষকে সেবা দিতে হবে।
“এই সেবা দেওয়ার কাজ করলে জনগণের মধ্যেই অনেক বন্ধু পেয়ে যাবেন। সিএমপিতে খারাপের কোনো স্থান নেই। আমাদের নজরদারি সবখানে আছে। শুধু আমাদের নয়, মিডিয়ার চোখও পুলিশের ওপর আছে।”
মানুষ এখন অনেক সচেতন মন্তব্য করে সিএমপি কমিশনার বলেন, “পুলিশের বাড়াবাড়ি সহ্য করা হবে না। বেশি বাড়াবাড়ির কোনো সুযোগ নেই।”
রাতে টহল দেওয়ার সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “রাতের অন্ধকারে অপরাধ করে যদি মনে করেন, কেউ দেখল না তাহলে ভুল করবেন।
“তথ্য-প্রমাণ হাতে পাওয়া কঠিন নয়। অকাজ করলে ধরা পড়তেই হবে। পুলিশের জন্ম মানুষের সেবা করার জন্য, অত্যাচার করার জন্য নয়।”
সিএমপি কমিশনার এসময় ‘চাকরি করি বেতন পাই’- এমন মানসিকতা পরিবর্তনেরও আহ্বান জানান।
সভায় অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক ও প্রশাসন) এ কে এম শহীদুর রহমান এবং অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য্য উপস্থিত ছিলেন।
নরসিংদী: মাধবদী পৌরসভা নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ডে অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল ও প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে পরাজিত কাউন্সিলর প্রার্থী মো. ওবায়দুর রহমান টিটু বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় বিবাদী করা হয়েছে প্রধান নির্বাচন কশিনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, নরসিংদী জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোরশেদ রহমান, রিটার্নিং কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, নরসিংদী সদর নির্বাচন কমিশনার নজরুল ইসলাম, প্রিজাইডিং অফিসার মো. জয়নাল আবেদীন, বিজয়ী কাউন্সিলর মো. শেখ ফরিদ ও অন্য পরাজিত প্রার্থী মো. ইসমাইলকে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সিইসি দেশের মেয়াদ উত্তীর্ণ পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য তফসিল ঘোষণা করেন। সে মোতাবেক তিনি সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনার কাছে মাধবদী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে তাকে পানির বোতল প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। মামলার বিবাদী শেখ ফরিদ উট পাখি প্রতীক ও মো. ইসমাইল পাঞ্জাবি প্রতীক বরাদ্দ পান।
গত ৩১ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হলে শেখ ফরিদ উট পাখি প্রতীকে পরাজিত হবে বুঝতে পেরে অন্য প্রার্থী মো. ইসমাইলের (পাঞ্জাবি প্রতীক) যোগসাজসে সন্ত্রাসী নিয়ে ভোটকেন্দ্রে হামলা চালায়। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তা মাধবদী পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করেন।
এর প্রেক্ষিতে বাদী নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন। পরে স্থগিত পৌরসভায় নির্বাচন কমিশনার ১২ জানুয়ারি পুনরায় ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণা করেন।
ভোটগ্রহণের দিন কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ ফরিদ (উট পাখি) তার লোকজন নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করে ককটেল, বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উট প্রতীকে সিল মারেন। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক তিনি বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন। পরে ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি শান্ত হলে সাধারণ ভোটাররা পুনরায় ভোট দেন। বিকাল ৪টার পর বাদী মো. ওবায়দুর রহমান টিটুর এজেন্ট আমিনুল ইসলামের সামনে ভোট গণনা হলে তার প্রতীক (পানির বোতল) জয়ী হয়। উট প্রতীকের এজেন্ট বিষয়টি বুঝতে পেরে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও পুলিশের যোগসাজসে পানির বোতলের ভোট উট পাখি প্রতীকের বান্ডেলের মধ্যে ঢুকিয়ে তার এজেন্টের কোনো স্বাক্ষর ছাড়াই এক হাজার ৪০৪ ভোটে উট পাখি প্রতীক বিজয়ী হয়েছে বলে ঘোষণা করেন। তার পানির বোতল প্রতীকে ৮১৫ ভোট প্রাপ্ত ঘোষণা করলেও মোট দুই হাজার ৯০৭ ভোটের মধ্যে কত ভোট বাতিল হয়েছে এবং তৃতীয় জন কত ভোট পেয়েছেন তা ঘোষণা করা হয়নি।
এ বিষয়ে তিনি গত ১৭ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আবেদন জানালেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ অবস্থায় তিনি পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানান।
নিবিলা: র্নিমাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘থার্ড পারসন সিংগুলার নাম্বার’ সিনেমার মাধ্যমে ঢাকাই সিনেমায় অভিষিক্ত হন ছোট পর্দার প্রিয় মুখ নুসরাত ইমরোজ তিশা। পরবর্তীতে সেই একই নির্মাতার ‘টেলিভিশন’ সিনেমাতেও অভিনয় করেন তিনি। তারেক মাসুদের ‘রানওয়ে’ সিনেমায় অতিথি চরিত্রেও দেখা গেছে তাকে। এবার তাকে দেখা যাবে একেবারেই বাণিজ্যিক ধারার সিনেমায়। বহুমুখী এই শিল্পী বলছেন, সিনেমার কোনো রকমফের নেই তার কাছে।

বিকল্প ধারা থেকে বাণিজ্যিক ধারায় এসে ক্যারিয়ারকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিলেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিশা বলেন, “এখানে ঝুঁকি নেয়ার কি আছে! কোনোটা বাণিজ্যিক সিনেমা আর কোনোটা ধ্রুপদী সিনেমা – এসবে আমি মোটেই বিশ্বাসী নই। সিনেমা তো সিনেমাই। ভালো সিনেমা কিংবা খারাপ সিনেমা। আমি ভালো সিনেমায় কাজ করতে ইচ্ছুক। ভালো নিমার্তা, ভালো স্ক্রিপ্ট ও ভালো কনসেপ্ট হলে আমি সকল ধারার সিনেমায় কাজ করবো।”
শামিম আহমেদ রনির ‘মেন্টাল’ ও অনন্য মামুনের ‘অস্তিত্ব’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বাণিজ্যিক সিনেমাতে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন তিশা। দর্শক যদি মিষ্টি মেয়ে তিশাকে লাস্যময়ী নায়িকা হিসেবে গ্রহণ না করেন – এমন প্রশ্নের জবাবে বললেন,“ আমি আমার দিক থেকে ভালো সিনেমায় সব সময়ই কাজ করে যাবো। আজ পর্যন্ত দর্শকরা আমার কাজের প্রশংসা করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন বলে আমার বিশ্বাস। কারন আমি দর্শকের ভরসা ভাঙার মতো কোনো কিছুই করবো না।”
‘মেন্টাল’ সিনেমায় শাকিবের বিপরীতে একজন সাংবাদিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিশা। আর ‘অস্তিত্ব’ সিনেমায় আরেফিন শুভর বিপরীতে তাকে দেখা যাবে অটিস্টিক এক তরুণীর চরিত্রে। রূপালী পর্দার ব্যস্ততায় ছোট পর্দাকে কিছুটা কম সময় দিচ্ছেন এই অভিনেত্রী। তবে তিশার ভক্তদের জন্য সুখবর রয়েছে। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ইমরাইল রাফাতের ‘তোমায় ভেবে লেখা’ নাটকে অভিনয় করেছেন তিশা। নাটকটিতে তাকে দেখা যাবে তাহসানের বিপরীতে।