May 4, 2026
গোপালগঞ্জ : অঝোরে কাঁদলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। পিতার কবর জেয়ারাতের সময় কোন সন্তান কি আর ঠিক থাকতে পারে? তবে নিজের জন্মদাতা পিতা নয়, অন্য পিতার জন্য কাঁদলেন এই বীর উত্তম। পিতা-পুত্রের এই টান রক্তের নয়, আত্মার। এর পেছনে রয়েছে স্পর্শকাতর অনেক স্মৃতি, আদর্শিক সম্পর্ক, লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস।
বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের রায়ে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিলের পর শুক্রবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যান কাদের সিদ্দিকী। পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে গিয়ে কান্না আর ধরে রাখতে পারলেন না পুত্র বঙ্গবীর।
‘৭৫-এ পিতা হত্যার প্রতিশোধ নিতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন তার বীর সন্তান কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান। দীর্ঘদিন নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৯০ সালের ১৮ ডিসেম্বর দেশে ফিরে নিজের হাতে এ সমাধি পরিষ্কার করেছিলেন তিনি। বানিয়েছিলেন কবরে যাওয়ার রাস্তাও।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার দুপুরের পর কাদের সিদ্দিকী টুঙ্গিপাড়ায় যান। গাড়ি থেকে নেমেই শেখ বাড়ি মসজিদে নামাজ পড়েন। এরপর বঙ্গবন্ধুর কবরের যে পাশে পা, সেখানে গিয়ে বসেন। অঝোরে কাঁদেন। অনেকক্ষণ নিশ্চুপ থেকে, মোনাজাত করে সোজা চলেন আসেন ঢাকা।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নেতা ফরিদ আহমেদ, যুব আন্দোলনের আহ্বায়ক হাবিব উন নবী সোহেল, টাঙ্গাইল জেলা ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি নিয়ন সিদ্দিকী প্রমুখ।
এদিকে বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত শেষে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ”যখনই মানসিক শান্তি প্রয়োজন হয়, চলে আসি বঙ্গবন্ধুর মাজারে।
মনোনয়নপত্র বাতিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ”মহামান্য হাইকোর্ট রায়ে আমাদের নির্বাচন কমিশন ট্রাইব্যুনালে যেতে বলেছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ট্রাইব্যুনাল তো নির্বাচনের পরে, আর আমাদের মামলা তো নির্বাচনের আগে। তাই আমরা ভেবে দেখছি কী করা যায়।”
নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্প্রতি পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক। আজ শনিবার দুপুরে সিলেটে একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। শহীদুল হক বলেন, সম্প্রতি সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকার পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত চলছে। দোষী প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কোনো পুলিশ সদস্য যদি অপরাধ করে থাকে, তবে এটা তার ব্যক্তিগত অপরাধ। এ অপরাধের দায় পুলিশ বাহিনীর ওপর বর্তাবে না। যেসব পুলিশ সদস্য অপরাধ করছে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, বরখাস্ত করা হচ্ছে, তদন্তের পর অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি প্রদান করা হচ্ছে। কোনো পুলিশ সদস্যই আইনের উর্ধ্বে নয়।
হিউম্যান রাইট্স অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) প্রথমবারের মতো সিলেটে প্রবাসীদের অধিকার বিষয়ক ‘প্রবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারের প্রথম সেশনে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)’-এর প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদের সভাপতিত্বে শহীদুল হক বলেন, ‘জনগণকে আরো বেশি করে সেবা দেওয়ার জন্য সারা দেশে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইজিপি বলেন, সারাবিশ্বে জঙ্গিবাদের প্রসার লাভ করেছে। বাংলাদেশের পুলিশ জনগণের সহায়তায় জঙ্গিবাদ দাবিয়ে রেখেছে। পুলিশ জঙ্গিদের ধরছে, বিস্ফোরক উদ্ধার করছে। বাংলাদেশ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জঙ্গিবাদ দমন করে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিটি সেক্টরে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশ অনেক সাফল্য অর্জন করেছে। শহীদুল হক আরো বলেন, দেশে প্রবাসী হেল্প ডেস্ক গঠন করা হয়েছে। ডেস্কের কার্যক্রম পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত টাকায় দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। এ জন্য প্রবাসীরা যেন মিথ্যে মামলায় হয়রানির শিকার না হন সেটা নিশ্চিতে এবং তাদের সকল সমস্যার সমাধানে সরকার আন্তরিক। আইজিপি বলেন, গত ৬ মাসে প্রবাসী ডেস্কে সরাসরি ২৬৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১৯৮টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া টেলিফোনের মাধ্যমে প্রায় ৭০০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এগুলোও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ তাইওয়ানে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৭তলা একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ধসে অন্ততপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ দিনের একটি মেয়ে শিশুও রয়েছে।

শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটি হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি দক্ষিণাঞ্চলীয় তাইনান শহর থেকে ৪৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ভূপৃষ্ঠের ২৩ কিলোমিটার গভীরে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা। মূল ভূমিকম্পটির পর আরো বেশ কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে বলে তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া ব্যুরো জানিয়েছে।
ভবনটিতে বহু মানুষ আটকা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে তড়িঘড়ি করে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। ভবন থেকে একজনকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। এরমধ্যে একজন শিশু এবং অপর একজন ৪০ বছর বয়সী পুরুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দমকল বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উদ্ধারকারীরা হাইড্রোলিক মই ও ক্রেন ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ১২০ জনেরও বেশিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।এদের মধ্যে অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তাইনান শহরের আরো কয়েকটি ভবন ভূমিকম্পে হেলে পড়েছে। কিন্তু দমকল বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের মানুষদের উদ্ধারের কাজটিই আগে করা হচ্ছে। দক্ষিণ তাইওয়ানের তাইনানে ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভবনে উদ্ধার তৎপরতা।পুরো তাইনান শহর থেকে মোট ১১৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে দমকল বিভাগ জানিয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে রাজধানী তাইপে ছাড়ার আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট মা ইং জেউ জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের ধারণা এখনো পরিষ্কার নয়। বিবিসি।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জিকা ভাইরাসের মহামারি নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে, তখন ভারতের একটি জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানি দাবি করল, জিকা ভ্যাকসিন তৈরির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে তারা। জিকা আতঙ্কের বিরুদ্ধে নিঃসন্দেহে এটি সুসংবাদ। ভারতের হায়দরাবাদের ‘ভারত বায়োটেক’ নামের ভ্যাকসিন ও বায়ো থেরাপি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বুধবার দাবি করেছে, জিকা ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে ব্যাপক অগ্রগতিতে আছে তারা। তারা গবেষণাগারে দুইটি ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছে। যার মধ্যে একটি প্রাণীর ওপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের উপযোগী হয়েছে। পরীক্ষা শেষ হলে তা মানবদেহে প্রয়োগ করা হবে। জিকা প্রতিরোধে এই ভ্যাকসিনে সফলতা পাওয়া যাবে বলে তারা দৃঢ় বিশ্বাসী।
ভারত বায়োটেক বড় বড় রোগের প্রতিষেধক নিয়ে কাজ করে এবং বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির সমাদর রয়েছে। গত বছর তারা জিকা ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির কাজে হাত দেয়। ভারত বায়োটেকের সিএমডি কৃষ্ণা এলা বলেছেন, আমাদের বিশ্বাস জিকাভ্যাক (জিকার ভ্যাকসিন) তৈরিতে আমরা সবার চেয়ে এগিয়ে আছি এবং সম্ভবত আমরাই প্রথম জিকাভ্যাকের প্যাটেন্টের জন্য প্রস্তাব দিতে যাচ্ছি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যের উল্লেখ করে কৃষ্ণা এলা বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ২৩ দেশে জিকা ভাইরাস ছড়িয়েছে। এর মধ্যে মহামারি আকার নিয়েছে ব্রাজিলে। ২০১৫ সালে দেশটিতে ৩ হাজার ৫৩০টি শিশু মাইক্রোসেফ্যালি নিয়ে জন্মেছে। মাইক্রোসেফ্যালি বলতে বোঝায় নবজাতকের মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হওয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মনে করে, ব্রাজিলে মাইক্রোসেফ্যালির জন্য জিকা ভাইরাস দায়ী। এডিস মশার কামাড়ে জিকা ভাইরাস সংক্রমিত হয়। মানবদেহে এডিসের কামড়ে ইয়োলো ফেভার, ওয়েস্ট নিল এবং ডেঙ্গুর ভাইরাস ছড়ায়।
জিকা ভাইরাসের মহামারি ঠেকাতে বিশ্বের চিকিৎসাসম্পর্কিত শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো জিকা ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে মাথা ঘামাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জিকা ভাইরাস প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে গবেষণামূলক কাজ করতে আহ্বান জানিয়েছেন। তথ্যসূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইন।
সংসদ প্রতিবেদক: বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যের অবাধ বাজার সুবিধা (জিএসপি) না দিলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি (টিকফা) কখনই কার্যকর হবে না। বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের শামীম ওসমানের সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী একথা বলেন। তোফায়েল আহমেদ বলেন, পোষাক শিল্পের উন্নয়নের জন্য আমাদের যা যা করণীয় আমরা তাই করেছি। পোষাক শিল্প নিয়ে যত মিটিং হয় তাদেরকে (যুক্তরাষ্ট্র) জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, আমরা অনেক উন্নতি করেছি, আরো করতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমার আর কী করবো, তা খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা এত কিছু করার পরও কেন তারা জিএসপি ফিরিয়ে দিচ্ছে না? বিষয়টি রাজনৈতিক। তোফায়েল আহমেদ বলেন, যদিও আমরা বার বার বলেছি, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন। জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে না দিলে টিকফা চুক্তি হবে না।
সংসদ প্রতিবেদক: আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ৭৫ হাজার একর জমিতে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান এবং আরো ৪০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় বৃদ্ধির উদ্দেশে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-৪ আসনের দিদারুল আলমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান। দিদারুল আলম জানতে চান বর্তমান সরকার বেসরকরি বিনিয়োগ বাড়াতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কি না। জাবাবে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের আমলে গৃহীত সব পদক্ষেপের বিস্তারিত উল্লেখ করে বলেন, বেজাকে এ পর্যন্ত ৪টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এগুলো হল- নরসিংদীর একে খান অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুন্সিগঞ্জের আবদুল মোমেন অর্থনৈতিক অঞ্চল, নারায়ণগঞ্জের মেঘনা ইকোনমিক জোন এবং মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন।
প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, বিদ্যমান বিনিয়োগ পরিবেশের সুযোগ গ্রহণ করে এ পর্যন্ত এ কে খান অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০ মিলিয়ন ইউএস ডলার, আবদুল মোমেম অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩০ মিলিয়ন ইউএস ডলার, মেঘনা ইকোনমিক জোন ৫৬ ইউএস ডলার, মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনে ১৮ দশমিক ৯২ ইউএস ডলারসহ মোট ২২০.৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে।
এর ফলে প্রায় লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এছাড়া বিনিয়োগ সংক্রান্ত পারষ্পরিক সম্পর্ক ও শিল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ৩১টি দেশে সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক পুঁজি বিনিয়োগে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। অনাবাসী বাংলাদেশিদের বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ইপিজেড সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ঈশ্বরদী ইপিজেডে নতুন ১২৮টি শিল্প প্লট তৈরি করা হয়েছে। মংলায় ৭৪টি শিল্প প্লট তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া শিল্পস্থাপনে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও রাস্তাঘাট সম্বলিত শিল্প প্লট প্রদান ও ঋণ সহয়তা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার থেকে: নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ড আর দ্বিতীয় ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে গ্রুপপর্বের তৃতীয় ম্যাচে নামার আগে স্বাগতিক বাংলাদেশকে কোনো ছাড় দেবে না বলে হুঙ্কার দিয়েছিল। আর টাইগার যুবাদের হুঙ্কারে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩২.৫ ওভারে মাত্র ৬৫ রানেই গুটিয়ে গেছে নামিবিয়া।
যুব বিশ্বকাপের চলমান আসরের ২১তম ম্যাচে সকাল নয়টায় মাঠে নামে স্বাগতিক বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ও নামিবিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দল। টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগারদের দলপতি মেহেদি হাসান মিরাজ। দুই দলের একাদশে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। টাইগারদের হয়ে বোলিং শুরু করেন আবদুল হালিম।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ফিরিয়ে দেন নামিবিয়ার ওপেনার ইয়াটনকে (৫)। দলীয় ৬ রানে প্রথম উইকেট হারানো নামিবিয়া দলীয় ১০ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট হারায়। দলপতি জেন গ্রিনকে (০) রান আউট করে ফিরিয়ে দেন জাকির হাসান।
ইনিংসের ১৩তম ওভারে সালেহ আহমেদ শাওন বোল্ড করেন নিকো ড্যাভিনকে। ৩২ বলে ১৯ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন ড্যাভিন। ১৬তম ওভারে মেহেদি হাসান মিরাজ ফেরান মিচেল ভ্যান লিনজেলকে। ব্যক্তিগত ৪ রান করে এলবির ফাঁদে পড়েন তিনি।
ইনিংসের ২১তম ওভারে শাওন তার দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন। দলীয় ৫১ রানের মাথায় নামিবিয়ার পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন জার্গেন লিন্ডে। এলবির ফাঁদে পড়ে বিদায় নেওয়ার আগে তিনি মাত্র ৪ রান করেন। ২৪তম ওভারে প্রথমবারের মতো বোলিং আক্রমণে আসেন আরিফুল ইসলাম। এসেই বোল্ড করেন সেট ব্যাটসম্যান লোহান লরেন্সকে। ৫২ বলে ১৭ রান করেন লরেন্স।
২৭তম ওভারে মেহেদি হাসান মিরাজ বল তুলে দেন সাঈদ সরকারের হাতে। দলপতির আস্থার প্রতিদান দিতে মেডেন উইকেট তুলে নেন সাঈদ। ৫ রান করা চার্ল ব্রিটসকে শান্তর তালুবন্দি করেন তিনি। দলীয় ৫৯ রানে নামিবিয়া তাদের সপ্তম ব্যাটসম্যানকে হারায়।
আরিফুল নিজের চতুর্থ আর ইনিংসের ৩০তম ওভারে ক্রিস্টিয়ান অলিভিয়ারকে (০) ফিরিয়ে দেন। ফলে, অষ্টম উইকেট হারায় নামিবিয়া। ৩২তম ওভারে কোয়েতজে রান আউট হন। আর পরের ওভারে মিরাজ ফেরান ভ্যান উইককে। ৩২.৫ ওভারে ৬৫ রানে গুটিয়ে যায় নামিবিয়া।
ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন। ১২-১৩ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড কালচারাল ফেস্টিভ্যাল-২০১৬ এ অংশ নিতে তার ভারত যাওয়ার কথা রয়েছে। ওয়ার্ল্ড ফোরাম ইথিকস ইন বিজনেস ও দ্য আর্ট অব লিভিং ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করছে। ইতিমধ্যে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন খালেদা জিয়া। এখনও ফেস্টিভ্যালে যোগদানের ব্যাপারে বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের কিছুই জানানো হয়নি। তবে দলটির একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারত সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং ক্ষমতাসীন বিজেপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়সূচি চূড়ান্ত করতে পারলেই আয়োজকদের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হবে।
জানা যায়, অতীতের সব ভুল-ভ্রান্তি দূরে ঠেলে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আস্থার সম্পর্ক গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে ধীরে ধীরে সম্পর্কোন্নয়নের কার্যক্রম চলছে। দলটির নেতাদের মতে, জনসমর্থন যতই থাকুক কূটনৈতিক সফলতা ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়া কঠিন। বিশেষ করে বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতের সমর্থন খুবই জরুরি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এ ধারণা তীব্র হয়। কারণ শুধু ভারতের সমর্থনের কারণেই আওয়ামী লীগ যেনতেন একটি নির্বাচন করে ক্ষমতায় টিকে আছে। ভারতের ক্ষমতায় বিজেপির আগমনে বিএনপি খুশি হলেও বাস্তবে তা কোনো কাজে আসেনি। যদিও বিজেপি সরকারকে আস্থায় আনতে বিএনপি সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিজেপির একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে বিএনপির হাইকমান্ডের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। সেই ভিত্তিতেই মোদি সরকারের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হচ্ছে বলে দাবি করেছেন দলটির একাধিক নীতিনির্ধারক।
২০১২ সালের শেষের দিকে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ভারত সফরে যান। সে সময় তিনি দেশটির রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কংগ্রেস ও বিজেপি নেতাদের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ বৈঠক করেন। তবে ওই সফরে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা হয়নি। সফরকালে খালেদা জিয়া বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করে ভারতীয় কর্তাব্যক্তিদের প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলেন বিএনপি সরকার গঠন করলে ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মাটি কোনো সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করতে দেবে না। কিন্তু ২০১৩ সালের ৪ মার্চ ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফরে এলে খালেদা জিয়া তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। ভারতীয় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক হরতাল ও নিরাপত্তাজনিত অজুহাতে বাতিল করেন তিনি। এটি ছিল বিএনপির একটি বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত। সেজন্য বিএনপির সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেয়। ফলে দুঃসময়ে বিএনপি ভারত সরকারের কোনো সহানুভূতি পায়নি। এ ধরনের কোনো ভুল যাতে না হয় সেদিকে বিএনপি এখন সতর্ক।
বিএনপি মনে করে, ভারত অবশ্যই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাদের নীতি বদলাতে বাধ্য হবে। কারণ একটি বিশেষ দলের জন্য ভারত তার স্বার্থ বিসর্জন দেবে না। ইতিমধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন বিশেষ কোনো দলের সঙ্গে নয়, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় ভারত।
ভারতের আস্থা অর্জনে বিএনপির উদ্যোগ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই ভারতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক মজবুত। রাজনৈতিক অঙ্গনে একটা ভুল বার্তা রয়েছে যে, ভারতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ভালো নয়। মানুষের এ ভুল ভাঙাতেই ভারতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ককে জোরদার করা প্রয়োজন।
নিউজ ডেস্ক: জ্বালানি তেলের দাম কমায় বিদ্যুতের উৎপাদন খরচও কমেছে। কিন্তু বিদ্যুতের দাম না কমিয়ে উল্টো বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ গত বছর প্রতি ইউনিট (১ কিলোওয়াট) ছিল ৬ টাকা ২৭ পয়সা। এ বছর তা কমে ৫ টাকা ৮০ পয়সা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত জ্বালানি (ফার্নেস) তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করা হলে খরচ আরও কমবে। এই অবস্থায় আরও একবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও বিতরণ কোম্পানিগুলো এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এর মধ্যে পিডিবি বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রির জন্য বিদ্যুতের পাইকারি দাম ২৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। গত পাঁচ বছরে ছয়বার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। সর্বশেষ বাড়ানো হয়েছে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ম তামিম বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় না করার কোনো যুক্তি নেই। সরকার ফার্নেস তেলের দাম সমন্বয় করে বিদ্যুতের দাম না বাড়ালে দেশের প্রায় সব মানুষ উপকৃত হবে। বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য আমদানি করা কোনো পণ্যের দামই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কমে না। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে কালক্ষেপণ ছাড়াই দেশে পণ্যের দাম বাড়ানো হয়। আটা-ময়দা থেকে ভোজ্যতেল কিংবা জ্বালানি তেল—সব পণ্যের ক্ষেত্রে এ কথা প্রযোজ্য।
জানতে চাইলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি হোসেন খালেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘পৃথিবীর সব জায়গাতেই এখন জ্বালানির দাম কম। তাই কিছুটা হলেও বিদ্যুতের দাম কমানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু সরকার আবারও একই ভুল করতে যাচ্ছে। এতে করে পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং সক্ষমতা কমছে। এমনটি হলে অন্য প্রতিযোগী দেশের সঙ্গে টিকতে পারব কি না সন্দেহ আছে।’
হোসেন খালেদ আরও বলেন, ‘সরকারের উচিত ব্যবসা করার খরচ বৃদ্ধির ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করে সেগুলো বন্ধ করা। শুধু বিদ্যুতের সিস্টেম লস বন্ধ করলেই অনেকটা সমাধান হয়ে যেত। গ্যাস-বিদ্যুতের এত এত চোরাই সংযোগ, এগুলো থামানো হচ্ছে না কেন? আমরা যারা নিয়মিত বিল দিচ্ছি, তাদের ঘাড়েই কেন বাড়তি দাম চাপানো হচ্ছে?’ বিদ্যুৎ কীভাবে সাশ্রয়ী করা যায়, সরকারের সেই চিন্তা করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গত দেড় বছরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ৮০ শতাংশের বেশি। কিন্তু দেশে এখন পর্যন্ত কমানো হয়নি। এমনকি সরকার কমানোর কথা ভাবছেও না। ফলে দাম কমার সুবিধা থেকে দেশ বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রতি লিটার অকটেনের উৎপাদন খরচ ৫০ টাকারও কম। সরকার বিক্রি করছে ৯৯ টাকা। পেট্রলের উৎপাদন ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যেও ব্যবধান প্রায় একই রকম।
সরকার দেশে ডিজেল বিক্রি করছে ৬৮ টাকা লিটার। অথচ ডিজেলের আমদানি মূল্য পড়ছে প্রতি লিটার ৪০ টাকার কম। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত ফার্নেস তেল সরকার বিক্রি করছে প্রতি লিটার ৬২ টাকা। ক্রয়মূল্য বর্তমানে ২৫ টাকার মতো।
গত বছরের অক্টোবরে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের মে থেকে ২০১৫ সালের মে পর্যন্ত সময়ে বিশ্ববাজারে সয়াবিন তেলের দাম কমেছে ১৯ শতাংশ। বাংলাদেশে কমেছে ৬ শতাংশ। বিশ্ববাজারে দাম ১০ টাকা কমলে দেশে কমে ১ টাকা ১০ পয়সা।
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর জন্য এবার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাতে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডেসকো) ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ; ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ৮ দশমিক ৮৬; পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ১০ দশমিক ৭৬ এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ দাম বাড়ানোর কথা বলেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পিডিবি এবং বিইআরসির নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দাম বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে বিইআরসির সদস্য সেলিম মাহমুদ বলেন, প্রস্তাবগুলো নিয়ে কমিশনের কর্মকর্তারা কাজ করছেন। পিডিবির সূত্র জানায়, ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক দ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কয়েকটিতে মালিকদের সরাসরি আমদানি করা জ্বালানি ব্যবহৃত হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমেছে। তাঁরা তেল ব্যবহার করছেন আন্তর্জাতিক বাজারদর অনুযায়ী আমদানি করে। তাতে বর্তমানে প্রতি লিটার ফার্নেস তেলের দাম পড়ছে ২৫ টাকার মতো। আর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়ছে ছয় টাকারও কম।
ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক অন্য কেন্দ্রগুলো ব্যবহার করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সরবরাহ করা জ্বালানি। তার আমদানি মূল্য কম হলেও বিপিসি বিক্রি করছে সরকার নির্ধারিত দামে, প্রতি লিটার ৬২ টাকা দরে। এই কেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ করা জ্বালানির দামও আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করা হলে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ আরও কমত। ফলে দাম বাড়ানোর দরকার হতো না। সরকারেরও কোনো ক্ষতি হতো না।
মন্ত্রণালয় ও পিডিবির সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানি (ফার্নেস) তেলের দাম সমন্বয় করার জন্য তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেছে। কারণ, জ্বালানির দাম সমন্বয় না করায় বিদ্যুৎ কিনতে প্রতি মাসে বাড়তি যে টাকা দরকার হয়, তার সংস্থান করা পিডিবির জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এই টাকা নিয়মিত কিংবা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনের সময় পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তাও নেই।
সরকার ইতিমধ্যে ভাড়াভিত্তিক ও দ্রুত ভাড়াভিত্তিক ১১টি বিদ্যুৎ কোম্পানিকে তাদের নিজ নিজ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। এই কেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদনক্ষমতা প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট। বেসরকারি এই কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে সামিট পাওয়ার লিমিটেড।
জানতে চাইলে সামিট গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইপিপিএ) সভাপতি মুহম্মদ লতিফ খান বলেন, তাঁরা সর্বশেষ জ্বালানি তেল (ফার্নেস) আমদানি করেছেন প্রতি লিটার ২৫ টাকারও কম দামে। ফলে তাঁদের উৎপাদিত প্রতি ইউনিট (১ কিলোওয়াট) বিদ্যুতের দাম পড়ছে ছয় টাকার কম। তাঁরা এখন সরকারের কাছে ওই দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করছেন।
অন্যদিকে যে কোম্পানিগুলো নিজেরা তেল আমদানি করছে না, তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সরকার নির্ধারিত দামে জ্বালানি তেল সরবরাহ করছে বিপিসি। অর্থাৎ প্রতি লিটার ৬২ টাকা দরে। ফলে তাদের উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়ছে প্রায় ১৫ টাকা।
এভাবে সরকার কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল বেশি দামে বিক্রি করে মুনাফা করছে। অন্যদিকে ওই কেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ বেশি দামে কেনার জন্য ভর্তুকি দিচ্ছে। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও পিডিবির কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সরবরাহ করা জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজার দর অনুযায়ী নির্ধারণ করে দিলে এভাবে এক হাতে মুনাফা এবং আরেক হাতে ভর্তুকি দেওয়ার অর্থহীন কসরত করার কোনো দরকার হতো না। এতে সরকারের তেমন কোনো লাভ কিংবা ক্ষতিও হতো না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেলের দাম সমন্বয় না হওয়ায় পিডিবিকে এখনো বছরে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। এই টাকা শেষ পর্যন্ত সরকারকেই ভর্তুকি দিতে হবে। তবে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এটি তাঁর মন্ত্রণালয়ের একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়।
পিডিবির সূত্র জানায়, গত বছর বিদ্যুৎ খাতে সরকার ভর্তুকি (নাকি ঋণ?) দিয়েছে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। কিন্তু ভাড়াভিত্তিক কয়েকটি কেন্দ্র থেকে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম দামে (প্রতি ইউনিট ছয় টাকারও কম) পাওয়ায় এ বছর ভর্তুকির পরিমাণ অনেক কমে আসবে। আর যদি ভাড়াভিত্তিক সব কেন্দ্রের জন্য জ্বালানির দাম সমন্বয় করে দেওয়া হয়, তাহলে বিদ্যুৎ খাতে আর ভর্তুকির হয়তো প্রয়োজনই হবে না।
ওই সূত্রমতে, পিডিবি সব কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনে বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে বিক্রি করছে প্রতি ইউনিট গড়ে প্রায় পাঁচ টাকা দরে। তেলভিত্তিক প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হলে প্রতি ইউনিটের উৎপাদন খরচও বিক্রয়মূল্যের প্রায় সমানই পড়বে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম বলেন, তাঁদের হিসাবেও জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হলে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্য সমান হওয়ার কথা। সে ক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে যুক্তিহীন পদক্ষেপ। কারণ, অধিকাংশ লোক বিদ্যুৎ ব্যবহারের আওতায় আছে। যারা নেই, তারাও বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে।
সুত্র…. প্রথম আলো
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গুপ্তচর সন্দেহে লোবাননে গত মঙ্গলবার আটক ইসরায়েলী শকুনটিকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীবাহিনীর মধ্যস্থতায় ইসরায়েলে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। ইসরায়েলী কর্তৃপক্ষ জানায়, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে যে শকুনটি লেবাননের গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়েছিল অবশেষে তা তারা ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার লেবাননের একটি গ্রামের বাসিন্দারা শকুনটি আটক করে। পাঁচ ফিট ছয় ইঞ্চি প্রশস্ত ডানাবিশিষ্ট এই শকুনটি ইসরায়েলের একটি বন্যসংরক্ষাণাগার থেকে লেবাননে যায়। পরবর্তীতে সেখানকার গ্রামবাসীরা গোয়েন্দা সন্দেহে এটিকে আটক করে। শকুনটির লেজে গোয়েন্দাগিরি কাজে ব্যবহৃত একটি যন্ত্র সংযুক্ত থাকায় এটিকে সন্দেহ করে তারা। ইসরায়েলের বন্যপ্রাণি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি ছিল তাদের অভয়ারণ্যে সংরক্ষিত একটি শকুন। মধ্যপ্রাচ্যে শকুন পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এটিকে গত বছর স্পেন থেকে আনা হয়েছিল। এক মাস আগে ইসরায়েল-অধিকৃত গোলান মালভূমির ‘গামলা অভয়ারণ্যে’ শকুনটিকে মুক্ত করে দেয়া হয়।

ইসরায়েলের তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা মূলত পাখিটিকে নিয়ে গবেষণা করছিল। আর এ কারণেই এর পাখায় ইন্টারনেট-সংযুক্ত স্থান শনাক্তকারী একটি ‘জিপিএস ট্রান্সমিটার’ লাগানো ছিল এবং পায়ে ‘তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয় ইসরায়েল’ লেখা সংবলিত একটি ধাতুও ছিল। লেবাননের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গ্রামবাসীর হাতে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে শকুনটি ধরা পড়ার পর তারা বুঝতে পারে, এটি আসলে কোনো গুপ্তচর নয়। কারণ পাখিটি ছিল খুবই দুর্বল এবং আহত।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলী গুপ্তচর সন্দেহে আটক এটিই প্রথম কোন শকুন নয়। এর আগে ২০১১ সালেও একবার সৌদি আরবের হায়াল শহরে এমনই একটি শকুন আটক করা হয়েছিল। বিষয়টি পরে ইসরায়েলী কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনায় করে মিমাংসা করা হয়।