পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

রমজানে বিশেষ অফার নিয়ে অনলাইনে মীনাবাজার

meena_2_645526059নিউজ ডেস্ক
ঢাকা: এখন থেকে স্মার্টফোনে মীনাবাজারের যে কোনো পণ্যের অর্ডার দেওয়া যাবে। রমজানে কেনাকাটার ঝক্কি এড়াতে ঘরে বসেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বাজার অর্ডার করলে তা ক্রেতার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে এ সুপারশপ।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ক্ষেত্রেও রমজানে বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ঢাকায় মীনাবাজারের সবক’টি আউটলেটে এ সুযোগ থাকছে।
শুক্রবার (১২ জুন) থেকেই রমজানের অফার ও সুপারমার্কেট শপিং অ্যাপ চালু করছে মীনাবাজার। রমজানে প্রতিকেজি মিনিকেট চাল তারা ৪২ টাকা থেকে কমিয়ে দিচ্ছে ৪০ টাকায়। এছাড়া ভিওলা সয়াবিন তেল ৪শ’ ৮০ টাকা থেকে কমিয়ে ৪শ’ ৬০ টাকা (৫ লিটার), ১শ’ ১৭ টাকার মসুর ডাল (কেজি) ১শ’ ১৪ টাকা,  ১শ’ ৩০ টাকার কাজী ফার্মস এগ (১২ পিস) ১শ’ ১৭ টাকা, আলু ও পেঁয়াজ প্রতি ৫ কেজির প্যাকে ১৫ টাকা ছাড় ও প্রতিপিস মুরগী ১০ টাকা ছাড়ে পাওয়া যাচ্ছে রাজধানীতে মীনাবাজারের যে কোনো আউটলেটে।
একই সঙ্গে প্রতিকেজি শসায় ১০ টাকা, বেগুনে ১০ টাকা, দেশি কাঁচামরিচে ১৫ টাকা, তেলাপিয়া মাছে ১৫ টাকা ও প্রতিপিস দেশি লেবুতে ২ টাকা ছাড় থাকছে।
ইফতার সামগ্রীর দামও হাতের নাগালেই রাখছে মীনাবাজার। অফার চলাকালে প্রতিকেজি সাদা চিনি ৪১ টাকা থেকে কমিয়ে ৪০ টাকা, ২শ’ ৯৫ টাকার প্রতিকেজি ক্রাউন খেজুর ২শ’ ৬৫ টাকা, ৪০ টাকার এসিআই পিওর হালিম মিক্স ২৫ টাকা (২০০ গ্রাম), ৮২ টাকার মুড়ি ৭২ টাকা (৫০০ গ্রাম), ৪২ টাকার প্রাণ চিড়া ৩৮ টাকা (৫০০ গ্রাম), ৫শ’ ২৫ টাকার মার্কস মিল্ক ৪শ’ ৮০ টাকা (১ কেজি), ৫শ’ ১০ টাকার প্রাণ চিনিগুড়া চাল ৪শ’ ৮৫ টাকা (৫ কেজি), ৪০ টাকার প্রাণ এইচ টি মিল্ক ৩৭ টাকা, ২শ’ ৫০ টাকার ফানটার জুস ২৩০ টাকা (১ লিটার), ৪শ’ ৭৫ টাকার ট্যাং ৪শ’ ২৫ টাকায় (৭৫০ গ্রাম) পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া মীনা অরগানিক সরিষার তেল (৫০ মি.লি.), কেমিকেলমুক্ত হিমসাগর আম, মাল্টা ও ল্যাংড়া আমের প্রতিকেজিতে থাকছে ১০ টাকা ছাড়।
মীনাবাজারের একটি আইটলেটের ম্যানেজার এ বিষয়ে বলেন, শুক্রবার সকাল থেকেই অনলাইনে পণ্য অর্ডার ও রমজানের অফারটি চালু হচ্ছে। ক্রেতারা সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ঘরে বসে বাজার অর্ডার করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ১ হাজার টাকার পণ্য অর্ডার করলেই ফ্রি হোম ডেলিভারি দেওয়া হবে।
হোম ডেলিভারির জন্য ফোন করতে চাইলে যোগাযোগ করা যেতে পারে- ধানমণ্ডি ২৭- ০১৮৪১৭০০৭৯০, এলিট সেন্টার ০১৮৪১৭০০৭৯২, ওয়ারি ০১৮৪১৮০০৭৭৭, শান্তিনগর ০১৮৪১৬০০৭৭৭, উত্তরা ০৬- ০১৮৪১৯০০৭৭৭, আসাদ এভিন্যু ০১৮৪১৭০০৭৯১, মোহাম্মদীয়া হাউজিং ০১৮৪১৭০০৭৯৪, বনশ্রী ০১৮৪১১৫০৭৭৭, ইস্কাটন ০১৮৪১৪০০৭৭৭, গুলশান ও বনানী ০১৮৪১৭০০৭৭৭ নম্বরে।
তিনি আরও বলেন, কাঁচা বাজারের ক্ষেত্রে আমরা সরাসরি মাঠ থেকে পণ্য সংগ্রহ করি। আমরা প্রতিটি পণ্যের গুণগত মান ঠিক রাখা ও দাম সাধ্যের মধ্যে রাখার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিই।

Posted in ব্যবসা-অর্থনীতি | Comments Off on রমজানে বিশেষ অফার নিয়ে অনলাইনে মীনাবাজার

রেলক্রসিং না মরণফাঁদ!

Rajshahi_rail_crossing_pict_857518213রাজশাহী: পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১ হাজার ২৪৯টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে ১ হাজার ২৮টি রেলক্রসিং এখনও অরক্ষিত। সুরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের সংখ্যা মাত্র ২২১টি। এর অধীনে কেবল রাজশাহী নগরীর রয়েছে ২৮টি রেলক্রসিং। তার মধ্যে আবার অরক্ষিতের সংখ্যা ১১টি। অরক্ষিত এসব রেলক্রসিংয়ের মধ্যে ৭৫৭টির অনুমোদন দিলেও রেল কর্তৃপক্ষ সবগুলোতে এখনও পাহারাদার নিযুক্ত করতে পারেনি আর্থিক কারণে। তাই অরক্ষিত ক্রসিংয়ে নেই কোনো গেটম্যান ও গেট ব্যারিয়ার। নেই ডিভাইস পদ্ধতির সিগন্যাল সিস্টেমও। একরকম বাধ্য হয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এসব রেলক্রসিং পার হচ্ছে শত শত মানুষ ও যানবাহন। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এই রেলক্রসিংগুলো যেন এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত দুই বছরে নগরের রেলক্রসিংয়েই প্রাণ গেছে ১৩ জনের।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর থেকে নাটোরের আবদুল্লাহপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত লেভেল ক্রসিং (গেইট) রয়েছে ৮৭টি। এর মধ্যে রেলওয়ের অরক্ষিত ক্রসিংয়ের সংখ্যা ২৫টি, অনুমোদিত ও সুরক্ষিত রেলক্রসিং ৬২টি। আর কেবল নগরের মধ্যেই ২৮টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে ১১টি অরক্ষিত ও অনুমোদিত ক্রসিংয়ের সংখ্যা ১৭টি।
নগর এলাকার মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেলক্রসিং, ভদ্রা, গৌরহাঙ্গা, দড়িখরবোনা, বর্ণালী, বহরমপুর রেলক্রসিং, কোর্ট রেলগেট, চারখুঁটার মোড়, কাশিয়াডাঙ্গা রেলক্রসিংসহ ১৭টি ক্রসিং রেলের অনুমোদিত। এসব গেটে রেলওয়ের নিয়োগ দেওয়া গেটম্যানরা কর্মরত থাকেন। তবে নগরের রাজপাড়া থানার চারখুঁটার মোড়ে গেটটি বৈধ হলেও সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয়নি কোনো গেটম্যানকে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পারমানেন্ট ওয়ে ইন্সপেক্টর (পিডাব্লিআই/ওয়ে) পরিমল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, নগরে ১১টি ক্রসিং অরক্ষিত রয়েছে। এসব অনুমোদিত রেলক্রসিং ছাড়াও স্থানীয়রা তাদের চলাচলের সুবিধার্থে নিজেদের মতো করে রেলক্রসিং তৈরি করেছেন। এসব ক্রসিংয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব রেলওয়ের নয়।
তিনি বলেন, যেসব ক্রসিং অবৈধ সেগুলোতে নিজ দায়িত্বে পার হওয়ার মতো সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডে দেওয়া থাকে। ওইসব রেলক্রসিং দিয়ে সাধারণ পথচারী তাদের নিজের দায়িত্বে দুইপাশ ভালোভাবে দেখে পার হতে হবে। এ সব দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে রেলওয়ে কোনো ধরনের দায়ভার থাকে না। এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরের একটি অনুমোদিত ক্রসিংয়ের গেটম্যান অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন পর রেললাইনে সংস্কার হওয়ার কারণে নগরের মধ্যে দিয়ে ট্রেন চলাচলের গতি বেড়েছে। প্রায় সময় ঘটছে প্রাণহানি। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রেলক্রসিংগুলোর দিকে তেমন কোনো নজর দেন না। নগরের অনেক রেলক্রসিং আছে যেগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম। প্রতি ৮ ঘণ্টায় একজন করে গেটম্যান থাকার কথা থাকলেও অনেক রেলক্রসিংয়ে ২৪ ঘণ্টায় দু’জন থাকছে। রাজশাহী জিআরপি থানায় দায়েরকৃত অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা সূত্রে জানা যায়, গত প্রায় দুই বছরে নগর এলাকার রেলক্রসিংয়ে ১৩ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ২০১৩ সালের মে মাস থেকে ২০১৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন এলাকার রেলক্রসিংয়ে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) খায়রুল আলম জানান, কেবলমাত্র আর্থিক কারণে রেল কর্তৃপক্ষ সবগুলোতে এখনও পাহারাদার নিযুক্ত করতে পারেনি। এছাড়া জনবল সঙ্কটও রয়েছে। তবে বিষয়গুলো মাথায় রেখে জনবল বাড়াতে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে ।

Posted in জাতীয় | Comments Off on রেলক্রসিং না মরণফাঁদ!

টাওয়ার হ্যামলেটসের নতুন মেয়র জন বিগস

John+Biggsনিউজ ডেস্ক : বাঙালি অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসে ‘জালিয়াত’ লুৎফুর রহমান যুগের অবসানের পর ভোটে জিতে নতুন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন লেবার পার্টির প্রার্থী জন বিগস। আগের নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি ও কারচুপি প্রমাণিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় এই কাউন্সিল নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়।
শুক্রবার সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তা জন বিগসকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। টাওয়ার হ্যামলেটসের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে ফলাফল ঘোষণার তথ্য ও ছবিও প্রকাশ করা হয়। বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এ নির্বাচনে মেয়র পদের দশ প্রার্থীর মধ্যে লেবার পার্টির জন বিগস পেয়েছেন ৩২ হাজার ৭৫৪ ভোট।
গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিতর্কিত বাংলাদেশি লুৎফুর রহমানের কাছে হেরেছিলেন বিগস। ওই ভোটে জালিয়াতির জন্য আদালতের আদেশে মেয়র পদ হারাতে হয়  লুৎফুরকে। তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। নিজে ভোটে দাঁড়াতে না পেরে লুৎফুর এবার মেয়র পদে সমর্থন দেন রাবিনা খান নামে আরেক বাংলাদেশিকে, যিনি লুৎফুরের সময়ের কাউন্সিলর। নির্বাচনে রাবিনা পেয়েছেন ২৬ হাজার ৩৮৪ ভোট, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
এবার নির্বাচনে ৬৮ হাজার ১৩৮ ভোটের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে টাওয়ার হ্যামলেটসের ফলাফলে জানানো হয়।

Posted in আন্তর্জাতিক | Comments Off on টাওয়ার হ্যামলেটসের নতুন মেয়র জন বিগস

দেশব্যাপী জামায়াতের বিক্ষোভ শনিবার

Jamat_B_Logo_403582025ঢাকা: সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও দলের শীর্ষ নেতারাসহ আটক সব নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে শনিবার (১৩ জুন) সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াত।  বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।  ‘আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার’ উল্লেখ করে বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে জামায়াত ইসলামীকে নিশ্চিহ্ন করার যে ষড়ষন্ত্র করছে তার অংশ হিসেবেই মুজাহিদসহ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে।
বিবৃতিতে তিনি শনিবারের ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে জামায়াতের নেতাসহ দেশবাসীর সহযোগিতা চান।

Posted in রাজনীতি | Comments Off on দেশব্যাপী জামায়াতের বিক্ষোভ শনিবার

কুমিল্লায় পেট্রোলবোমায় দগ্ধ বাসযাত্রীর ঢামেকে মৃত্যু

Boma_sm_244434430ঢাকা: কুমিল্লার চান্দিনায় ইউনিক পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের ঘটনায় রঞ্জিত শর্মা (৫৯) নামে এক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) ভোররাত ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত রঞ্জিত শর্মা চট্টগ্রামের মিরশরাই উপজেলার সাইরাখালী গ্রামের মৃত হরিমোহন শর্মার ছেলে। তিনি রাঙামাটি সরকারি কলেজের শিক্ষক ছিলেন।
তার ভাগ্নে জহর লাল শর্মা ডাক্তারের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঢামেক বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে ভোররাত ৪টায় তার মৃত্যু হয়। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
উল্লেখ্য, ২ জুন দিনগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলা গেটে পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে চলন্ত বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। এতে সাত যাত্রী আহত হন।

Posted in জাতীয় | Comments Off on কুমিল্লায় পেট্রোলবোমায় দগ্ধ বাসযাত্রীর ঢামেকে মৃত্যু

সানির স্বামী আমাকে হুমকি দিচ্ছে: সেলিনা

celina-jaitley-picture-600x902বিনোদন ডেস্ক : ভারতীয় অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি দাবী করছেন, সানি লিওনিকে বাড়ি ভাড়া দিয়ে ভীষণ দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তাকে। বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার পরও সানির স্বামী ড্যানিয়েল ওয়েবার তাকে নানা ভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে যাচ্ছেন বলেও দাবী করেন সেলিনা।
আড়াই বছরের ইজারা শেষ হবার পর সেলিনা জেটলির অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে দিয়েছেন সানি লিওনি। বলিউড হাঙ্গামাকে সেলিনা বলেন, সানি লিওনি আর তার স্বামী আমার ফ্ল্যাট ছেড়ে যেতে রাজি হননি বলে আমাকে দুই ছেলে নিয়ে আড়াই বছর ধরে এক হোটেলে থাকতে হয়েছে। তাদের ইজারার মেয়াদ শেষ হলে আমি গিয়ে দেখি, আমার সুন্দর ফ্ল্যাটটি পুরো ধ্বংস করে দিয়েছেন তারা।
আমার ফ্ল্যাটে রাখা যাবতীয় শৌখিন আসবাবপত্রগুলো বারান্দায় রেখে নষ্ট করেছেন সানি। এমনকি রেফ্রিজারেটর এবং ওয়াশিং মেশিনও অকেজো অবস্থায় পেয়েছি আমি। স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছি, সানি লিওনি এবং তার স্বামী অনেক নোংরাভাবে জীবনযাপন করেন।
সাবেক এই পর্ন তারকা জুটিকে ‘অকৃতজ্ঞ’ বলে অভিহিত করেন সেলিনা। জানান, ২০১২ সালে যখন প্রথম ভারতে এসেছিলেন সানি, তখন কেউ তাকে বাড়ি ভাড়া দিতে রাজি হননি।
“যখন কেউ তাদের ঘর ভাড়া দিতে রাজি হননি, তখন আমি তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই। এখন আমি নিজেই অনুশোচনায় ভুগছি।
এছাড়া সেলিনা জানান, সানির স্বামী ড্যানিয়েল তার স্বামীকে একাধিকবার অকথ্য ভাষায় ই-মেইল পাঠিয়েছেন।
সেলিনা বলেন, “ড্যানিয়েল প্রচণ্ড জেদি এবং রুক্ষ প্রকৃতির একজন ব্যক্তি। তিনি আমার স্বামীকে বেশ কয়েকটি খারাপ ভাষার ই-মেইল পাঠিয়েছেন। আসলে সানি এবং তার স্বামীর উপর এখন বিনোদন জগতের সবাই বিরক্ত। তাদের কাজকর্ম কেউই ভালো চোখে দেখছেন না।
অবশ্য সেলিনার অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ড্যানিয়েল। তিনি বলেন, এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগের বিপরীতে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই। আমি শুধু বলতে চাই, আমরা দুজন এখন কাজ নিয়ে অনেক ব্যস্ত, অন্যদিকে তাকানোর সময় নেই আমাদের।
ভারতীয় রিয়ালিটি শো ‘বিগ বস’-এ অংশ নিয়ে হিন্দি বিনোদন জগতে প্রবেশ করেন সানি। ২০১২ সালে প্রথম মুক্তি পায় তার প্রথম সিনেমা ‘জিসম টু’। এর আগ পর্যন্ত কানাডায় পর্নগ্রাফিক চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

Posted in বিনোদন | Comments Off on সানির স্বামী আমাকে হুমকি দিচ্ছে: সেলিনা

যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

4444ঢাকা: ৬ দিনের সফরে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ১০টা ০২ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ছাড়েন। হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান- বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, চিফ হুইফ আ স ম ফিরোজ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞাসহ তিন বাহিনীর প্রধানগণ।
আগামী ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্য থেকে সরাসরি সিলেট বিমানবন্দরে নামবেন, ওইদিন তিনি সিলেট অবস্থান করবেন। ১৮ জুন প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। এর আগে ৬ দিনের যুক্তরাজ্য সফরের বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী। ভারতের সঙ্গে স্থলসীমা চুক্তির বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন অর্জনের জন্য আগামী ১৪ জুন লন্ডনে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেবেন বলে জানিয়েছেন শামীম চৌধুরী। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এটাই শেখ হাসিনার প্রথম লন্ডন সফর।

Posted in জাতীয় | Comments Off on যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

তিনি এলেন, দেখলেন, জয় করতে পারলেন কি?

tarek-samsur-rehman1নরেন্দ্র্র মোদি বাংলাদেশে এসেছিলেন বিশাল এক সম্ভাবনা জাগিয়ে। আবার চলেও গেলেন একরাশ প্রতিশ্র“তি দিয়ে। কিন্তু কতটুকু জয় করতে পারলেন বাংলাদেশের মানুষের মন? বলার অপেক্ষা রাখে না, রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র্রে তিনি যখন বাংলাদেশের সালমা, সাকিব, নিশাত আর ওয়াসফিয়াদের প্রশংসা করছিলেন, তখন আমার মনে হয়েছিল, ভিন্ন এক ভারতীয় নেতাকে আমরা দেখছি। তিনি সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা চান। তিনি সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে চলতে চান। তার সেই মনোমুগ্ধকর ভাষণ আমাকে স্মরণ করিয়ে দিল ১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট ওয়াশিংটনে কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আদায়ের অন্যতম নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের সেই বিখ্যাত উক্তি উই হ্যাভ এ ড্রিম। আমি তুলনা করতে চাই না। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি যখন বলেন, সূর্য এখানে আগে ওঠে, এরপর আলো আমাদের (ভারত) এখানে যায়। এখানে যত আলোই হোক, আলো আমাদের ওখানেও যায়। একজন কবি, একজন রাজনীতিক নরেন্দ্র মোদি ঢাকায় মানুষকে কাছে টেনেছেন, এটা অস্বীকার করা যাবে না। সেই ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭২ সালের মার্চে ঢাকায় এসে এরকম এক উষ্ণ আতিথেয়তা পেয়েছিলেন। তারপর ভারতের কত প্রধানমন্ত্রী এলেন, গেলেন। সম্পর্কের কোনো উন্নতি হয়নি। মনমোহন সিংও এসেছিলেন। কিন্তু কেউই সেই প্রত্যাশা জাগাতে পারেননি। এবার ঢাকায় এসে মোদি যে প্রত্যাশার ঢেউ জাগিয়ে গেলেন, ভারত কি এটা ধরে রাখতে পারবে? আমলাতন্ত্রের ম্যারপ্যাঁচে এই সম্ভাবনার কি মৃত্যু ঘটবে? আগামী দিনগুলোই বলবে মোদি কতটুকু আন্তরিক। তবে আমার ধারণা, বাংলাদেশের মানুষ তার ওপর আস্থা রেখেছে।
এটা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, কিছু আশ্বাস-প্রতিশ্র“তি দিয়ে নরেন্দ্র মোদি তার ঢাকা সফর শেষ করেছেন। তার এ সফরে ইতিবাচক দিক যেমন আছে, তেমনি আছে নেতিবাচক দিকও। তবে তুলনামূলক বিচারে নেতিবাচক দিকই বেশি। টিপাইমুখ বাঁধ হবে না- এটা যৌথ ঘোষণায় স্থান পেয়েছে। এর পেছনে বাংলাদেশের পরিবেশবাদী আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি ভারতীয় পরিবেশবাদীদেরও কৃতিত্ব দিতে হবে। তারাই সেখানে জনমত সৃষ্টি করেছিলেন। তবে এ ব্যাপারে ভারতে যে চুক্তিটি হয়েছিল, তার ভবিষ্যৎ কী, সেটা একটা প্রশ্ন বটে। আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে না- এমন স্বীকারোক্তি নেই। তবে বলা হয়েছে, ভারত এমন কিছু করবে না যাতে বাংলাদেশের ক্ষতি হয়। এটা একটা কূটনৈতিক ভাষা। ভারতের উচ্চ আদালতের একটি রায় আছে এ ব্যাপারে। রায়ে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল। ভারত এখন সেই রায়টি কীভাবে বাস্তবায়ন করে, সেটাই দেখার বিষয়।
মোদির সঙ্গে খালেদা জিয়া দেখা করেছেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের আপত্তিকে মোদি বিবেচনায় নেননি। এটাই হচ্ছে তার রাজনীতির বৈশিষ্ট্য। ঢাকায় এসে তিনি বলেছিলেন, ভারতে সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্থলসীমানা চুক্তি তিনি সংসদের উভয় কক্ষে পাস করিয়ে নিয়েছিলেন। সব দলের সঙ্গে পরামর্শ করার এই যে মানসিকতা, সেই মানসিকতারই প্রতিফলন ঘটল বাংলাদেশে। এটা বাংলাদেশের নেতাদের জন্যও একটি মেসেজ হতে পারে। সব দলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই জাতীয় ঐক্য নিশ্চিত করা সম্ভব। মোদি পেরেছেন ভারতে। রাজ্যসভায় তার দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও সেখানে তিনি সবার সমর্থন নিশ্চিত করতে পেরেছিলেন। কিন্তু আমরা পারিনি।
নরেন্দ্র মোদির এই সফর ও যৌথ ঘোষণাপত্র সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে তা বলা যাবে না। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বেশকিছু বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় তা এক ধরনের হতাশার জন্ম দেবে- এটা অস্বীকার করা যাবে না। প্রথমত, তিস্তার পানিবণ্টনের ব্যাপারে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় আমাদের তা হতাশ করেছে। মমতা ব্যানার্জি ঢাকায় এসেছিলেন আবারও। কিন্তু তা বাংলাদেশের স্বার্থে নয়, পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থেও নয়। তিনি এসেছিলেন মোদির অনুরোধে এবং মোদির স্বার্থে। এবারও আমরা তার কাছ থেকে কোনো কমিটমেন্ট পেলাম না। বরং তিনি বাংলাদেশ আত্রাই নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করে নিয়েছে- কলকাতায় এ অভিযোগ তুলে তিস্তার পানিবণ্টনের বিষয়টি থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর একটি অপচেষ্টা চালালেন। দীর্ঘ প্রায় ৪৩ বছরের যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকের ইতিহাসে ভারতের পক্ষ থেকে কখনও এ ধরনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। এবার হল। উদ্দেশ্য পরিষ্কার- মমতা সম্ভাব্য তিস্তা চুক্তির পেছনে ছুরিকাঘাত করতে চান।
দ্বিতীয়ত, ৬৫ দফা যৌথ ঘোষণাপত্রে অঙ্গীকার করা হয়েছে যে, ২০২১ সালে বাংলাদেশ যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করার পরিকল্পনা করছে, সেখানে ভারত অংশীদার হতে চায়। অংশীদার হওয়া এক বিষয়, আর বিদ্যুতের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে চলে যাওয়া অন্য বিষয়। এখন পরিস্থিতি কী সেদিকেই যাচ্ছে না? দুটি ভারতীয় কোম্পানির (রিল্যায়েন্স ও আদানি) সঙ্গে ৪ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যাপারে চুক্তি হয়েছে। এতে কি বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষিত হয়েছে? হলে কতটুকু হয়েছে? রিল্যায়েন্স করবে এলএনজি প্ল্যান্ট। তরলকৃত গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। কিন্তু অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ লাইন টেনে নেয়ার দায়িত্বটি বাংলাদেশের। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম কিংবা চুক্তির বিস্তারিত আমরা জানি না। বিদ্যুৎ বিভাগের ওয়েবসাইটেও তা প্রকাশ করা হয়নি। আর আদানি গ্রুপ ভারতীয় কয়লায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এটা সবাই জানে, ভারতীয় কয়লা নিকৃষ্টমানের। অথচ আমাদের ৫টি কয়লা খনিতে যে কয়লা পাওয়া যায়, তা উন্নতমানের, বিটুমিনাস কয়লা। প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের কয়লা দিয়ে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র করা হল না কেন? উপরন্তু আমাদের দেশে এখন অনেক উদ্যোক্তা রয়েছেন, যারা বিদ্যুৎ সেক্টরে বড় বিনিয়োগ করতে পারেন। তাদের কেন এ সুযোগটি দেয়া হল না? উন্মুক্ত টেন্ডারেও দুটি ভারতীয় কোম্পানিকে এ কাজ দেয়া হয়নি। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে এবং মোদির ব্যক্তিগত আগ্রহেই এ কাজ ভারতীয় কোম্পানি পেয়েছে। এটা এখন অনেকেই জানেন, আদানি গ্রুপ গুজরাটের ব্যবসায়ী গ্রুপ। তাদের সঙ্গে মোদির ব্যক্তিগত সখ্য রয়েছে। মোদির নির্বাচনী প্রচারণায় এই শিল্পগোষ্ঠীর অবদান ছিল অনেক। এখন তারা বাংলাদেশে একটি কাজ পেল। হয়তো অনেকেই জানেন না, আদানি গ্রুপ বাংলাদেশে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণেও আগ্রহ দেখিয়েছিল। অথচ এ কাজে এদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। রিল্যায়েন্স গ্রুপের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
তৃতীয়ত, ভারত যে ২০০ কোটি ডলার ঋণের প্রতিশ্র“তি দিয়েছে, তাতে বাংলাদেশ কতটুকু লাভবান হবে? এ ঋণ নেয়া হবে সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটের আওতায়। আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি সাপ্লায়ার্স ক্রেডিটে নেয়া ঋণ ভালো ঋণ নয়। এতে করে ঋণ দেয়া দেশের কাছে দায়বদ্ধতা বরং ভারতীয় স্বার্থই রক্ষা করবে বেশি। সম্প্রতি ভারতের পত্রিকা টাইমস অব ইন্ডিয়াও একই ধরনের মন্তব্য করেছে। তারা বলেছে, ঋণের অর্থ যেসব প্রকল্প ব্যয় করা হবে, তার কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও সেবা ভারত থেকে কিনতে হবে। অর্থাৎ ঋণের দায় বাংলাদেশের, আর সুদাসল ছাড়াও রফতানি ব্যবসা হবে ভারতের। এ ঋণের টাকায় যেসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে, তাতে ভারতের ৫০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। দেখা যাবে, এসব প্রকল্পে যে জনবল ও পণ্য দরকার হবে (ঠিকাদার, ইস্পাত, সিমেন্ট, ইট, যন্ত্রপাতি, ইঞ্জিনিয়ার), তা সরবরাহ করবেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এমনকি অদক্ষ জনশক্তিও আসতে পারে। অথচ এসব পণ্য বাংলাদেশ উৎপাদন করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা বিদেশেও রফতানি হয়। আমাদের দক্ষ জনশক্তি (ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট) আছে। কিন্তু আমরা তাদের এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারব না। তাই আমরা কখনও বলি না সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট একটি ভালো ঋণ। একসময় সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো এ ধরনের ঋণ দিত (তারা অবশ্য বার্টার ট্রেড করত; আমাদের পণ্য নিত বিনিময়ে)। ভারত কিন্তু তা করবে না। বার্টার ট্রেডে ভারতের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা হয় না।
মোদির সফরের প্রাক্কালে আমাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। যেমন বলা যেতে পারে তিস্তাসহ সব নদীর পানিবণ্টন, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, আঞ্চলিক যোগাযোগ বা কানেকটিভিটি, ভারতের স্থলবন্দরগুলোতে ওয়্যার হাউস নির্মাণ, এলসি ওপেন করার ব্যাপারে ভারতের সাতবোন রাজ্যে অবস্থিত ব্যাংকগুলোতে সুযোগ দান, কান্ট্রি অব অরিজিনের ঝামেলা দূর করা, ওষুধের ক্ষেত্রে ভারতের নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা, ভিসা সহজীকরণ এবং শুল্ক-অশুল্ক বাঁধা দূর করা। এতে কোনো একটি ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট অগ্রগতি হয়েছে, তা বলা যাবে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আশাবাদ ও প্রতিশ্র“তি দেয়া হয়েছে। এতে করে আমাদের স্বার্থ রক্ষিত হবে কম।
আরও একটি কথা- যৌথ ঘোষণাপত্রে একটি উপ-আঞ্চলিক জোট বিবি আইএন (বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল) গঠনের কথা বলা হয়েছে। পাঠকদের একটু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, এ ধরনের একটি উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রস্তাব ভারত অনেক আগেই দিয়েছিল। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেবগৌড়ার বাংলাদেশ সফরের সময় (জানুয়ারি ১৯৯৭) ভারত এই ৪টি দেশ নিয়ে (ভারতের সাতবোন রাজ্য) একটি উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছিল। পরবর্তীকালে এই উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন নাম হয় দক্ষিণ এশীয় উন্নয়ন চতুর্ভুজ (এসএজিকিউ)। ১৯৯৭ সালের এপ্রিলে কাঠমান্ডুতে চার দেশের পররাষ্ট্র সচিবদের যে বৈঠক হয়েছিল, তাতে এসএজিকিউ গঠনের সিদ্ধান্তও হয়েছিল। সার্ক সম্মেলনেও এসএজিকিউ গঠনে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখন এসএজিকিউর পরিবর্তে আমরা পেলাম বিবি আইএন। এটা অনেকেই জানেন, শুধু ভারতের কারণেই সার্ক বিকশিত হতে পারছে না। সার্কের একটি সম্ভাবনা থাকলেও তা বিকশিত হয়নি। এখন বিবি আইএন বাস্তবায়িত হলেও সেখানে ভারতের কর্তৃত্ব ও প্রভাব বাড়বে। ভারত তার সাতবোন রাজ্যের উন্নয়নে এই উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতাকে ব্যবহার করবে। আর এতে ধীরে ধীরে সার্ক একটি অকার্যকর সংগঠনে পরিণত হবে। উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ১২-১৪ মে মালেতে স্বাক্ষরিত সাফটার (সাউথ এশিয়ান ফ্রি-ট্রেড অ্যারেঞ্জমেন্ট) ভবিষ্যৎও এখন অনিশ্চিত। সাফটা অনুযায়ী ২০০১ সালের মধ্যেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে কোনো ধরনের ট্যারিফ, প্যারা-ট্যারিফ থাকার কথা নয়। সাফটায় বাংলাদেশকে কম উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছিল। এতে করে বাংলাদেশী পণ্য ভারতে প্রবেশের ব্যাপারে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ তা পাচ্ছে না। আসলে বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্যের একটি বড় বাজার সৃষ্টি হয়েছে। এখন কানেকটিভিটি চুক্তিটি দ্বিপক্ষীয়ভাবে বাস্তবায়িত হওয়ায় সাতবোন রাজ্যে বাংলাদেশী পণ্যের যে বিশাল বাজার রয়েছে, তা হুমকির মুখে পড়বে। দ্বিপাক্ষিকতা কোনো ভালো অ্যাপ্রোচ হতে পারে না। বহুপক্ষীয়ভাবেই সমস্যার সমাধান ও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ প্রাপ্তিকে আমরা সমর্থন করেছি এবং যৌথ ঘোষণাপত্রেও তা আছে। কিন্তু এতে করে অনেক প্রশ্নের জন্ম হতে পারে এখন। এক. জাপান এতে অখুশি হতে পারে। কারণ জাপানও স্থায়ী সদস্যপদ পেতে চায়। আমাদের জাপানকেও সমর্থন করা উচিত। জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক আমাদের অর্থনৈতিক কূটনীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। জাপানের সঙ্গে আমাদের স্বার্থ অনেক বেশি। দুই. ভারতের স্থায়ী সদস্যপদে চীনের আপত্তি রয়েছে। এখন ভারতকে বাংলাদেশের সমর্থন চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে একটি ঝুঁকির মাঝে ঠেলে দিল। চীন অসন্তুষ্ট হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া আমাদের ঠিক নয়। চীনের সঙ্গে আমাদের স্বার্থ বেশি। চীন সফর করে প্রধানমন্ত্রী একটি ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্র নীতি পরিচালনা করে আসছিলেন, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছিল। কিন্তু এখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিতে একটু টিল্ট পলিসি, অর্থাৎ ভারতের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা লক্ষণীয়। সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ কাজ চীনকে না দেয়া (এ পরিকল্পনা ভারতের আপত্তির কারণে বাতিল হয়েছে), কিংবা বিসিআইএম জোটকে (বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার) গুরুত্ব না দিয়ে বিবি আইএনকে গুরুত্ব দেয়ায় চীনের সঙ্গে সম্পর্ক শীতল হতে বাধ্য। বিসিআইএম জোট বিকশিত না হলে (যা এখন কাগজে-কলমে থেকে যেতে পারে) আশিয়ানভুক্ত দেশে সঙ্গে আমাদের স্বার্থ বিঘিœত হবে। আমাদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হবে না।
নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য আর প্রতিশ্র“তির রেশ যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরও কিছুদিনের জন্য থেকে যাবে, তা অস্বীকার করা যাবে না। নরেন্দ্র মোদি যখন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তার বক্তৃতায় আমাদের দেশের সাকিব-নিশাতদের কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দেন, তখন একটা ধারণা জন্ম হয় যে, তিনি বাংলাদেশকে সমমর্যাদার দৃষ্টিতে দেখতে চান। আমরা এমনটাই চাই। ভারতের ২,৩০৮ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি থেকে আমরাও উপকৃত হতে চাই। দেখতে চাই নিজেদের উন্নত দেশ হিসেবে। কিন্তু ভারতের আমলাতন্ত্রের মানসিকতায় আদৌ পরিবর্তন আসবে কি-না, সেটাই বড় প্রশ্ন এখন। নরেন্দ্র মোদির দেয়া প্রতিশ্র“তি যদি বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না। ভারত যদি শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখে, বাংলাদেশের স্বার্থ না দেখে, তাহলে দিল্লির প্রতি অবিশ্বাস আরও বাড়বে। ব্যবসাবান্ধব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামীতে বাংলাদেশের স্বার্থ কতটুকু দেখবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন এখন।
ড. তারেক শামসুর রেহমান : অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

Posted in নির্বাচিত কলাম | Comments Off on তিনি এলেন, দেখলেন, জয় করতে পারলেন কি?

মামলা সংকটে ট্রাইব্যুনাল!

traibunal_sm_211134272ঢাকা: মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলা সংকটে রয়েছে। দিন দিন মামলার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বিচারাধীন মামলা নেই বললেই চলে। এমনও সময় গেছে যখন একেকটি ট্রাইব্যুনালে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়টি মামলা কার্যতালিকায় থাকতো। এখন সেটি আর দেখা যাচ্ছে না। ২০১৪ সালে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেশ কিছু শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর হাই-প্রোফাইল মামলা নিষ্পত্তির পর সেই হারে নতুন মামলা না আসার কারণে ট্রাইব্যুনালে মামলার এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, ট্রাইব্যুনাল-২ এ একটি মামলা বিচারাধীন আছে। আগামী রোববার (১৪ জুন) পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের মো. ফোরকান মল্লিকের ওই মামলায় আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য রয়েছে। সম্ভবত ওই দিন মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়ে রায় ঘোষণা অপেক্ষমান (সিএভি) হয়ে যাবে। তবে এ ট্রাইব্যুনাল আলবদর বাহিনীর উদ্যোক্তা আশরাফ হোসেনসহ জামালপুর জেলার আটজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা এবং হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের দুই সহোদর মহিবুর রহমান বড় মিয়া ও মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়া এবং তাদের চাচাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাক অন্য একটি মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। মিসকেস হিসেবে এ দু’টি মামলা থাকলেও ঈদের আগে এ ট্রাইব্যুনালে আর কোনো মামলা শুনানির জন্য দিনও ধার্য নেই। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনাল-১ এ দু’টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় বাগেরহাটের রাজাকার কমান্ডার সিরাজুল হক সিরাজ মাস্টার, খান আকরাম হোসেন ও লতিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরুর জন্য ১৫ জুন দিন ধার্য রয়েছে। আরেকটি মামলায় নেত্রকোনার মো. ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। আর বিচার শুরুর অপেক্ষায় আছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার রাজাকার কমান্ডার মো. নাসিরউদ্দিন আহমেদ ও তার ছোট ভাই মো. শামসুদ্দিন আহমেদসহ পাঁচ আসামির মামলা। তাদের বিরুদ্ধে এ ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসলে নিয়ে আগামী ২২ জুন থেকে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন। তবে প্রসিকিউটর ঋষিকেশ সাহা বলেন, ট্রাইব্যুনালে মামলার সংকট নেই। রেগুলার বেসিসে (নিয়মিতই) নতুন নতুন মামলা যুক্ত হচ্ছে। নতুন কি কি মামলা আসছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেসব মামলা আসছে তার বিস্তারিত তো বলা যাবে না। আরও ২১টি মামলা তদন্তাধীন আছে। এর মধ্যে থেকে বেশ কিছু মামলা অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাইব্যুনালে আসবে। তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান বলেন, ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা আগের চেয়ে কমলেও শিগগিরই কিছু মামলার তদন্ত শেষ করে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন বরাবর দাখিল করা হবে। তিনি বলেন, যশোরের মাওলানা সাখাওয়াতসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলার তদন্তের কাজ শেষের দিকে। আগামী রোববার (১৪ জুন) নাগাদ সেটির প্রতিবেদনও দাখিল করা হবে। এছাড়া আরো কিছু মামলার তদন্ত কাজ শেষের দিকে আছে বলেও জানান তিনি। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সরকার। এরপর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অসংখ্য মামলা এসে জমতে থাকে তদন্ত সংস্থায়। ট্রাইব্যুনালেও বৃদ্ধি পায় মামলার সংখ্যা। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠন করা হয় আরেকটি ট্রাইব্যুনাল। ২০১২ সালের ২২ মার্চ গঠন করা হয় দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালটি। এ দুই ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৯ মামলায় ২১ জনের বিচার শেষ হয়েছে। এর মধ্যে দু’জনের ফাঁসির রায় আপিলে বহাল থাকার পর কার্যকরও হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ৯টি মামলার রায়ে নয়জন আসামির মধ্যে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি দু’জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আসামি হাসান আলীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অথবা গুলি করে (ফায়ারিং স্কোয়াড) রায় কার্যকরের নির্দেশও রয়েছে।  আর ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে ১০টি মামলার ১২ জন আসামির মধ্যে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড এবং চারজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুই ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক আমির গোলাম আযম, বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও আবদুস সুবহান, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা, মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও এ টি এম আজহারুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী এবং সাবেক সদস্য (রোকন) আবুল কালাম আজাদ বাচ্চু রাজাকার। বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত একাত্তরের দুই ইসলামী ছাত্রসংঘ ও আলবদর নেতা চৌধুরী মাঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খানও জামায়াতের সাবেক নেতা। দণ্ডিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা মো. মোবারক হোসেনও একসময় জামায়াতের রোকন ছিলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীম ছাড়াও দণ্ডিত হয়েছেন ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌর বিএনপির সহ সভাপতি ও পৌরসভার বহিষ্কৃত মেয়র জাহিদ হোসেন খোকন রাজাকার। জাতীয় পার্টির দণ্ডিতরা হচ্ছেন- এরশাদ সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার এবং পিরোজপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বার। এছাড়া স্থানীয় যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মাহিদুর রহমান ও আফসার হোসে চুটু এবং কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের রাজাকার কমান্ডার হাসান আলী।
এসব দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। অন্যদিকে মাঈনুদ্দিন, আশরাফুজ্জামান, খোকন রাজাকার, জব্বার, বাচ্চু রাজাকার এবং হাসান আলী  পলাতক রয়েছেন। আর গোলাম আযম ও আলীম দণ্ড ভোগরত অবস্থায় মারা যান এবং রাজাকার সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা একেএম ইউসুফের বিচার চলাকালে মৃত্যু হয়।

Posted in জাতীয় | Comments Off on মামলা সংকটে ট্রাইব্যুনাল!

পাঁচ হাজার বিচারক চায় আইন কমিশন

law_nd_order__sm_340276666ঢাকা: পাহাড়সম মামলাজট কমাতে পাঁচ হাজার বিচারক চান আইন কমিশন। আর প্রধান বিচারপতি চান তিন হাজারের অধিক বিচারক। রাজশাহী জেলা আদালত পরিদর্শনের পর সম্প্রতি এক রিপোর্টে এমন মতামত দিয়েছেন আইন কমিশন।
অপরদিকে দ্বায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে আইনজীবী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের দেওয়া সংবর্ধনায় মামলাজট কমাতে বর্তমান সংখ্যার দ্বিগুণ বিচারকের কথা বলেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা)। বিচারিক আদালতে বিচারকের সংখ্যা এখন প্রায় এক হাজার সাতশ’ জন। অন্যদিকে সকল জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ সকল প্রকার ট্রাইব্যুনালে ১৭ লাখ ৭ হাজার ৯শ’ ৯৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রয়েছে ১০ লাখ ৫ হাজার ৩শ’ ৮০টি মামলা। সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হওয়ার পর ঢাকা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী জেলা জজ আদালত পরিদর্শনে যান। এসব আদালতের বিভিন্ন মামলার ওপর গবেষণা করে প্রত্যেকবারই মামলাজট কমাতে সুপারিশসহ প্রতিবেদন তৈরি করেন। এসব প্রতিবেদনে বার বারই বিচারক সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলেছেন তিনি।পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক বিচারক নিয়োগের কথাও উল্লেখ করেছেন। এমনকি তিনি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ সাবেক কয়েকজন প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে একটি আলোচনায়ও অংশ নিয়ে এ প্রস্তাব ছেন।  সর্বশেষ রাজশাহী জেলা পরিদর্শনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে বিরাজমান বিপুল মামলাজট সংক্রান্ত সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ন্যূনতম পাঁচ হাজার বিচারক এই মুহূর্তে নিয়োগ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন আইন কমিশন। উল্লেখ্য বর্তমানে নিম্ন আদালতে ফৌজদারি ও দেওয়ানি মোকদ্দমার সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ এবং নিষ্পত্তির তুলনায় নতুন মামলা দায়েরের আধিক্যের কারণে এ সংখ্যা প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। মামলাজট কমাতে আইন কমিশনের এসব সুপারিশের মধ্যে কিছু কিছু বাস্তবায়নে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। জারি করেছেন বিভিন্ন নির্দেশনা। এ নিয়ে কথা বলেছেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। গত ১৮ জানুয়ারি প্রথম কর্মদিবসে তিনি আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, সুপ্রিম কোর্টে ৯৪ জন বিচারপতি এবং জেলা কোর্টে সতেরশ’ বিচারক রয়েছেন। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টে সাড়ে তিন লাখ এবং জেলা কোর্টে প্রায় ২৫ লাখের মতো মামলা রয়েছে। এসব মামলা নিষ্পত্তিতে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। আর তা বর্তমানের সংখ্যার চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ হতে হবে।

Posted in জাতীয় | Comments Off on পাঁচ হাজার বিচারক চায় আইন কমিশন

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud