পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

মামলা সংকটে ট্রাইব্যুনাল!

Posted on June 12, 2015 | in জাতীয় | by

traibunal_sm_211134272ঢাকা: মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলা সংকটে রয়েছে। দিন দিন মামলার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বিচারাধীন মামলা নেই বললেই চলে। এমনও সময় গেছে যখন একেকটি ট্রাইব্যুনালে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়টি মামলা কার্যতালিকায় থাকতো। এখন সেটি আর দেখা যাচ্ছে না। ২০১৪ সালে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেশ কিছু শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর হাই-প্রোফাইল মামলা নিষ্পত্তির পর সেই হারে নতুন মামলা না আসার কারণে ট্রাইব্যুনালে মামলার এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, ট্রাইব্যুনাল-২ এ একটি মামলা বিচারাধীন আছে। আগামী রোববার (১৪ জুন) পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের মো. ফোরকান মল্লিকের ওই মামলায় আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য রয়েছে। সম্ভবত ওই দিন মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়ে রায় ঘোষণা অপেক্ষমান (সিএভি) হয়ে যাবে। তবে এ ট্রাইব্যুনাল আলবদর বাহিনীর উদ্যোক্তা আশরাফ হোসেনসহ জামালপুর জেলার আটজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা এবং হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের দুই সহোদর মহিবুর রহমান বড় মিয়া ও মুজিবুর রহমান আঙ্গুর মিয়া এবং তাদের চাচাতো ভাই আব্দুর রাজ্জাক অন্য একটি মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। মিসকেস হিসেবে এ দু’টি মামলা থাকলেও ঈদের আগে এ ট্রাইব্যুনালে আর কোনো মামলা শুনানির জন্য দিনও ধার্য নেই। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনাল-১ এ দু’টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় বাগেরহাটের রাজাকার কমান্ডার সিরাজুল হক সিরাজ মাস্টার, খান আকরাম হোসেন ও লতিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরুর জন্য ১৫ জুন দিন ধার্য রয়েছে। আরেকটি মামলায় নেত্রকোনার মো. ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। আর বিচার শুরুর অপেক্ষায় আছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার রাজাকার কমান্ডার মো. নাসিরউদ্দিন আহমেদ ও তার ছোট ভাই মো. শামসুদ্দিন আহমেদসহ পাঁচ আসামির মামলা। তাদের বিরুদ্ধে এ ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসলে নিয়ে আগামী ২২ জুন থেকে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন। তবে প্রসিকিউটর ঋষিকেশ সাহা বলেন, ট্রাইব্যুনালে মামলার সংকট নেই। রেগুলার বেসিসে (নিয়মিতই) নতুন নতুন মামলা যুক্ত হচ্ছে। নতুন কি কি মামলা আসছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেসব মামলা আসছে তার বিস্তারিত তো বলা যাবে না। আরও ২১টি মামলা তদন্তাধীন আছে। এর মধ্যে থেকে বেশ কিছু মামলা অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাইব্যুনালে আসবে। তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান বলেন, ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা আগের চেয়ে কমলেও শিগগিরই কিছু মামলার তদন্ত শেষ করে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন বরাবর দাখিল করা হবে। তিনি বলেন, যশোরের মাওলানা সাখাওয়াতসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলার তদন্তের কাজ শেষের দিকে। আগামী রোববার (১৪ জুন) নাগাদ সেটির প্রতিবেদনও দাখিল করা হবে। এছাড়া আরো কিছু মামলার তদন্ত কাজ শেষের দিকে আছে বলেও জানান তিনি। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সরকার। এরপর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অসংখ্য মামলা এসে জমতে থাকে তদন্ত সংস্থায়। ট্রাইব্যুনালেও বৃদ্ধি পায় মামলার সংখ্যা। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠন করা হয় আরেকটি ট্রাইব্যুনাল। ২০১২ সালের ২২ মার্চ গঠন করা হয় দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালটি। এ দুই ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৯ মামলায় ২১ জনের বিচার শেষ হয়েছে। এর মধ্যে দু’জনের ফাঁসির রায় আপিলে বহাল থাকার পর কার্যকরও হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে ৯টি মামলার রায়ে নয়জন আসামির মধ্যে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি দু’জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে আসামি হাসান আলীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অথবা গুলি করে (ফায়ারিং স্কোয়াড) রায় কার্যকরের নির্দেশও রয়েছে।  আর ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে ১০টি মামলার ১২ জন আসামির মধ্যে সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড এবং চারজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুই ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক আমির গোলাম আযম, বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও আবদুস সুবহান, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা, মোহাম্মদ কামারুজ্জামান ও এ টি এম আজহারুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলী এবং সাবেক সদস্য (রোকন) আবুল কালাম আজাদ বাচ্চু রাজাকার। বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত একাত্তরের দুই ইসলামী ছাত্রসংঘ ও আলবদর নেতা চৌধুরী মাঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খানও জামায়াতের সাবেক নেতা। দণ্ডিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা মো. মোবারক হোসেনও একসময় জামায়াতের রোকন ছিলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও বিএনপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীম ছাড়াও দণ্ডিত হয়েছেন ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌর বিএনপির সহ সভাপতি ও পৌরসভার বহিষ্কৃত মেয়র জাহিদ হোসেন খোকন রাজাকার। জাতীয় পার্টির দণ্ডিতরা হচ্ছেন- এরশাদ সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার এবং পিরোজপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বার। এছাড়া স্থানীয় যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মাহিদুর রহমান ও আফসার হোসে চুটু এবং কিশোরগঞ্জের তাড়াইলের রাজাকার কমান্ডার হাসান আলী।
এসব দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। অন্যদিকে মাঈনুদ্দিন, আশরাফুজ্জামান, খোকন রাজাকার, জব্বার, বাচ্চু রাজাকার এবং হাসান আলী  পলাতক রয়েছেন। আর গোলাম আযম ও আলীম দণ্ড ভোগরত অবস্থায় মারা যান এবং রাজাকার সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা একেএম ইউসুফের বিচার চলাকালে মৃত্যু হয়।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud