May 27, 2026
ঢাকা: সবজি হিসেবে টমেটোর কোনো জুড়ি নেই। একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবারে জন্য গোটা বিশ্বেই টমেটো সমাদৃত। এছাড়া টমেটোতে থাকা ভিটামিন এ, বি, সি, কে, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, লাইকোপিন, ক্রোমিয়ামসহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান মানব দেহের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। গবেষণায় দেখা গেছে দিনে অন্তত ১টি টমেটো শরীরের ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ভিটামিন সি’র অভাব দূর হয়। টমেটোর পুষ্টিগুণ বা উপকারিতার আরো অনেক কিছুই আমরা জানি। কিন্তু টমেটো নিয়ে যা আমরা অনেকেই হয়তো জানি না এমন কিছু অজানা তথ্য পাঠকের জন্য…
১. আপনারা কি খাদ্যযুদ্ধের কথা শুনেছেন? যদি না শুনে থাকেন তবে জেনে নিন ‘বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্য যুদ্ধ’ টমেটো কেন্দ্রিক। তবে তা খাওয়ার জন্য নয়। টমেটো একে অন্যের গায়ে নিক্ষেপ করা হয়। আনুমানিক ৪০ টন ওজনের ১৫০,০০০টি টমেটো নিক্ষিপ্ত করা হয় একটি টমেটো উৎসবে। আর টমেটো উৎসবের নিয়ম হলো টমেটো নিক্ষেপ করার আগে এগুলোকে চটকিয়ে নিতে হবে।
৩. উদ্ভিদবিদ্যায় টমেটো একটি ফল কিন্তু মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এর রায়ে বলা হয়েছে টমেটো একটি সবজি।
৪. টমেটো নিউ জার্সির প্রধান সবজি এবং আরকানের প্রধান ফল ও সবজি।
৫. আমেরিকায় পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ওজনের টমেটোটি উৎপাদিত হয়েছে,যার ওজন প্রায় ৩.১৫কেজি।
৬. ক্যালিফোর্নিয়ায় পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক টমেটো উৎপাদিত হয়।
৭. ব্রিটিশ এবং উত্তর আমেরিকার ১৮২০ জন পর্যন্ত লোক মনে করেন যে টমেটো বিষাক্ত।
৮. টমেটো একটি বিষাক্ত ফলওয়ালা বুনো গাছের সদস্য এবং এর পাতাও বিষাক্ত।
৯. ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে আধা ইঞ্চি টমেটো সস বোতলে ভরতে এক সেকেন্ড সময় লাগে।
১০. টমেটো জুস ওহিওর একটি রাষ্ট্রীয় পানীয়।
১১. একজন ব্যক্তির জন্য একটি টমেটো গাছ ১৫ কেজি টমেটো উৎপাদন করতে পারে।
১২. টমেটো ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে।
১৩. কখনোই টমেটো ফ্রিজে সংরক্ষণ করা উচিত নয় কারণ এতে টমেটোর পুষ্টিমান কমে যায়।
নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী : সরকারের দুর্নীতির শ্বেতপত্র তৈরি হচ্ছে লন্ডনে। ওই শ্বেতপত্রে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, শেখ হাসিনা পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়সহ গত আওয়ামী লীগ সরকারের ও বর্তমান সরকারের টপ শতাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এমপির দুর্নীতির তথ্য। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ওই দুর্নীতির শ্বেতপত্র তৈরি করাচ্ছেন। এই জন্য কাজ করছে লন্ডনে ও দেশে একাধিক টিম। তারা গোপনেই কাজটি করছেন। তারা দেশ থেকে নানাভাবে তথ্য সংগ্রহ করছেন। তার এই এ্যাসাইনমেন্টে নিয়োজিত সদস্যরা এই সংক্রান্ত সব তথ্য সংগ্রহ করে পাঠিয়ে দিচ্ছে লন্ডনে। দেশে থাকা টিম বিভিন্ন সরকারি দলের মন্ত্রী ও নেতাদের তথ্য সংগ্রহ করে সেই সঙ্গে প্রমাণ সংগ্রহ করে তা পাঠাচ্ছেন। প্রাপ্ত সকল তথ্য সংকলিত করেই সেটা প্রকাশ করা হবে। তারেক রহমানের ঘনিষ্ট একটি সূত্র লন্ডন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুর্নীতর শ্বেতপত্র প্রকাশ করার জন্য এটি প্রায় তৈরি গেছে। কাজ শেষ। এখন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। সময় অনুকূলে বিবেচনা করে প্রকাশ করা হবে। প্রথমটিতে থাকছে গত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী, তার পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতির বিষয় ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও এপিএসদের ব্যাপারে তথ্য। প্রধানমন্ত্রীর ওই সময়ের তিনজন প্রভাবশালী উপদেষ্টার দুর্নীতিরও তথ্য রয়েছে। গত সরকারের পাঁচ বছরের শাসনামলকে আলাদা করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। আর একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে বর্তমান সরকারের দুর্নীতি নিয়ে। এনিয়ে কাজ চলছে। যে সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতি হচ্ছে এর সবগুলো বিষয়ই তারা বের করেছে। এরমধ্যে তারা যে শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে যাচ্ছে এরমধ্যে বিদ্যুৎ খাতের ও টেলি যোগাযোগ খাতের বেশি দুর্নীতির তথ্য রয়েছে। কোন মন্ত্রণালয় থেকে কে কি পরিমাণ সম্পদ লুটপাট করেছে, এর সঙ্গে জড়িত কারা তাদের তালিকাও প্রকাশ করা হবে।
তারেক রহমানের ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের ১০০ জনের বেশি মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী এমপির দুর্নীতির তথ্য লন্ডন থেকে সরকারের বিরুদ্ধে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করবেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার ঘনিষ্ট একটি সূত্র বলেছে, তার এই শ্বেতপত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন দুর্নীতির কথা থাকবে।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও সরকারের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করার কথা নিশ্চিত করেছেন। বাহ্মণবাড়িয়াতে তিনি ভাষণ দেয়ার সময় বলেছেন, সরকারের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। আর দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হলে তারা রেহাই পাবেন না। সরকারের সমলোচনা করেছেন। তিনি তাদেরকে আগাম পাসপোর্ট বানিয়ে রেখে ও ভিসা টিকিট লাগিয়ে রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন। সেটা করা না হলে পালাবারও সময় পাবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
সূত্র জানায়, তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন শ্বেতপত্রে এমন কোন তথ্য যাতে না থাকে যেই সব অভিযোগের কোন সত্যতা নেই। যে সব অভিযোগ সত্য ও ওই সব অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ ও নথি রয়েছে সেই সব দুর্নীতির তথ্য শ্বেতপত্রে প্রকাশ করা হবে। আর যেগুলোর নথি প্রমাণ এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি কিন্তু দুর্নীতি হয়েছে ওই সব অভিযোগ রেখে দিয়ে এর স্বপক্ষে প্রমাণ যোগাড় করার জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে পরে হলেও তিনি তা প্রকাশ করবেন। কিন্তু এমন কোন দুর্নীতির শ্বেতপ্রকাশ করতে চান না যাতে করে কোন অভিযোগ মিথ্যে প্রমাণিত হয়। সূত্র জানায়, এই দুর্নীতি প্রকাশ করার জন্য বিভিন্ন স্তরের বিএনপি সমর্থিত কর্মকর্তাদের সহায়তাও পাচ্ছেন তারা।
এদিকে সূত্র জানায়, দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করার পাশাপাশি দেশে যে অনিয়ম, অত্যাচার, নির্যাতন, বিভিন্ন নেতা কর্মীদের নামে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা, তাদের উপর নির্যাতন করা হয়েছে সেই সব চিত্র তুলে ধরবেন। পাশাপাশি আলোচিত যে সব হত্যাকান্ডের ঘটনায় সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাও তুলে ধরবেন। এছাড়াও বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ড, অপহরণ, গুমসহ বিভিন্ন তথ্যও তারা বই আকারে প্রকাশ করবেন।
সূত্র জানায়, বিএনপি আগামীতে ক্ষমতাসীন হতে পারলে দুর্নীতির বিচার করা ছাড়াও যাতে করে বিভিন্ন ঘটনার বিচার করা সম্ভব হয় এই জন্য তারা এখন থেকে সব সংগ্রহে রাখছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, সরকার ওই সব নথিপত্র নষ্ট করে ফেলতে পারে। এছাড়াও হত্যা ও গুমের একটি তালিকাও প্রকাশ করবেন তিনি। সূত্র জানায়, শিগগিরই এই শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে।
সূত্র জানায়, আলোচিত দুর্নীতির ঘটনার মধ্যে ২০০৯-২০১৪ পর্যন্ত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রীদের দুর্নীতির চিত্র, গত পাঁচ বছর, চলতি সরকারের নয় মাসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির চিত্র ও হিসাব, শেয়ার বাজারে সিন্ডিকেট করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা, ওই ঘটনার পরিকল্পানাকারী ও সুবিধাবাদীদের দুর্নীতির চিত্র, পদ্মাসেতু প্রকল্পের দুর্নীতি, হলমার্ক কর্তৃক সোনালী ব্যাংক থেকে টাকা আতœসাৎ করার ঘটনা, ডেসটিনি কর্তৃক দুর্নীতি, বিসমিল্লাহ গ্র“প কর্তৃক সরকারি ব্যাংক থেকে লুটপাটের ঘটনা, কুইক রেন্টাল কেন্দ্র স্থাপনে দুর্নীতি, রি পাওয়ারিংয়ের দুর্নীতি, বেসিক ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা আতœসাৎ করার ঘটনাসহ বিভিন্ন ব্যাংকের দুর্নীতি এর সঙ্গে সরকারের যেসব মন্ত্রী ও উপদেষ্টা ও সরকারি দলের নেতারা জড়িত তাদের ব্যাপারেও দুর্নীতির তালিকা, এর সঙ্গে জড়িতদের তালিকাও দেয়া হবে শ্বেতপত্রে। এছাড়া এই যাবতকালে বিমানবন্দর ও স্থল বন্দর দিয়ে যে সব টাকা পাচার হয়েছে, যারা কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অষ্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর সহ বিভিন্ন দেশে টাকা পাচার করে সম্পদ গড়েছেন ও সুইস ব্যাংকে টাকা পাচার করেছেন তাদের ব্যাপারেও তথ্য তুলে ধরবেন।
সূত্র জানায়, দুর্নীতির বিভিন্ন চিত্র ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হবে। কি কারণে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা বিএনপি জামায়াত সহ ২০ দলীয় জোটের নেতা কর্মীদের উপর হামলা করেছে, নির্যাতন করেছে, বিএনপির ইলয়াস আলী সহ বিভিন্ন নেতা কর্মী ও সাধারণ মানুষকে গুম, হত্যা, অপহরণ করেছে, মিথ্যা মামলায় দিয়ে নেতা কর্মীদের আটক রাখে, এই জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেয়ার কর্মকর্তা, ও ওই নির্দেশ বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তাদের তালিকাও করা হয়েছে। ওই সব কর্মকর্তাদের কারা কি সুবিধা পেয়েছেন সেই ব্যাপারেও তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এই সরকারের আমলে নারায়ণগঞ্জের সাতখুনের ঘটনা সহ আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হত্যার নেপথ্যের কাহিনীও প্রকাশ করবে। সেই সঙ্গে সাংবাদিক সাগর রুনীর হত্যাকান্ডের পেছনের খবরও রয়েছে, এরসঙ্গে জড়িতদেরও পরিচয় প্রকাশ করবে, বিএনপি ক্ষমতাসীন হলে তাদের ব্যাপারেও ব্যবস্থা নিবেন। এছাড়াও বিএনপির আন্দোলন চলাকালে বিএনপির নেতা কর্মীদের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যে সব হামলা হয়েছে ওই সব ঘটনারও বিচার করবে। প্রতিষ্ঠানে হামলা এমন ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের একটি তালিকা তারেক রহমানের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির এক নেতা।
সূত্র জানায়, বিএনপির নেতা কর্মীদের হয়রানি করে ও আটকে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কী পরিমাণ টাকা নিয়েছেন তারও তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার সময় তার সম্মান নষ্ট করার জন্য যেসব কর্মকর্তারা কাজ করেছেন, তাকে অপমান করেছেন ওই সব কর্মকর্তার নামেও তারা তথ্য প্রকাশ করবেন, ওই সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিবে ক্ষমতাসীন হতে পারলে। বিচার বিভাগের দুর্নীতি তুলে ধরবেন। এই জন্যও একটি তালিকা করেছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও বিচারের রায়ের ব্যাপারেও তারা তথ্য তুলে ধরবেন। এছাড়াও বিডিআরের ঘটনার পেছনের ব্যক্তিদের পরিচয়ও শ্বেতপত্রে তুলে ধরা হবে। ইন্ধনদাতাদের তালিকাও রয়েছে তাদের হাতে। কেন নাসির উদ্দিন পিন্টুকে আসামি করা হয়েছে সেই ঘটনাও তুলে ধরা হবে। এছাড়াও এই ঘটনার পেছনের ঘটনা তুলে ধরে ওই ঘটনায় যারা বিচারের বাইরে রয়ে গেছে তা তুলে ধরে এই ঘটনায় মামলা করে বিচার করার জন্য চেষ্টা করবে। সেই তথ্যও তুলে ধরবে।
সূত্র জানায়, তারেক রহমান দুর্নীতির যে শ্বেতপত্র প্রকাশ করছেন এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক নেতা, কর্মী, সন্ত্রাসী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নাম, অনেকের ভিডিওচিত্র, স্থিরচিত্র এবং কথোপকথনের টেপও সংগ্রহ করিয়েছেন। সেগুলোও প্রকাশ করাবেন। কথোপকথনের টেপগুলা ইউটিউবে ও সামজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্কেও ছেড়ে দিবেন। সূত্র জানায়, দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করার জন্য তারেক রহমানের নিজস্ব সেল রয়েছে। তারা লন্ডনে কাজ করছেন। দেশে সরকারি কর্মকর্তাদের কেউ কেউ, ব্যাংক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার বিএনপি-জামায়াত সমর্থক সদস্যরা, সাংবাদিকদেরও কেউ কেউ কাজ করছেন। তারা ছবি ও ভিডিও দিয়েও সহায়তা করছেন।
বিএনপির সিনিয়র একজন নেতা বলেন, গত সরকার ও এই সরকারের আমলে কত দুর্নীতি হয়েছে এর কোন হিসাব নেই। বিশেষ করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করার জন্য যে টাকা লেনদেন হয়েছে সেই চিত্রও তারেক রহমান তুলে ধরবেন। ইতোমধ্যে ওই তালিকাও সংগ্রহ করেছেন বলে একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে। তিনি জানান, এটা লন্ডন থেকেও প্রকাশ করা হতে পারে। দেশ থেকে প্রকাশ করা হলে যিনি করবেন তিনি সরকারের রোষানলে পড়বেন বিবেচনা করেই এটা করতে চাইছেন। তবে একটি সূত্র জানায়, বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার পথ সুগম হলেই এই দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। যাতে করে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে ভাল করতে না পারে। ক্ষমতাসীন হল দুর্নীতির বিচার করা ছাড়াও এর আগে তারা আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে পরাজিত করার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে চাইছে।
আন্তর্জাতিক: ভারতের দিল্লি চিড়িয়াখানায় বাঘ দেখতে এসে বাঘের শিকার হয়েছেন এক ভাগ্যহত দর্শনার্থী। ২০ বছর বয়সী ওই তরুণের নাম মাকসুদ।
যে উঁচু দেয়াল দিয়ে বাঘকে আটকে রাখা হয় সেই দেয়ালের ওপর থেকে ভেতরে পড়ে যাওয়ার পর বাঘটি তাঁকে কামড়ে হত্যা করে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে বহু দর্শনার্থীর সামনে এই রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। বাঘের আক্রমণে মাকসুদের নিহত হওয়ার ঘটনা এক দর্শনার্থী তাঁর মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, বেলা একটার দিকে মাকসুদ ১৮ ফুট উঁচু প্রাচীর থেকে বাঘের থাকার জায়গার পাশে শুকনো পরিখায় পড়ে যান। কয়েকজন দাবি করেন, দর্শনার্থীরা যেখান থেকে বাঘ দেখতে পান সেই সীমানাপ্রাচীর খুবই নিচু হওয়ায় মাকসুদ পড়ে গেছেন।এক দর্শনার্থীর মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পরিখার মধ্যে ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে কাঁপছিলেন মাকসুদ। তাঁর কয়েক ফুট সামনেই বাঘটি দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় মাকসুদকে হাতজোড় করে কাঁপতে দেখা যাচ্ছিল।
এই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণকারী বিট্টু বলেন, বাঘটিকে পাথর ছোড়ার আগ পর্যন্ত এটি ওই ব্যক্তির ওপর আক্রমণ করেনি। ওই তরুণ যখন বাঁচার জন্য দৌড় দেন তখনই বাঘটি তাঁর ঘাড় কামড়ে ধরে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৃত্যুর আগে ওই তরুণ ১০-১৫ মিনিট ভীষণ যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে বাঁচানোর কোনো চেষ্টাই করেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন, যেসব বন্দুক থেকে চেতনানাশক ওষুধ ছুড়ে পশুকে অচেতন করা যায় তেমন বন্দুক বা প্রয়োজনীয় লোকজনকে ডেকে পাঠানোর মতো ওয়্যারলেস সেট নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে ছিল না। তবে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
চিড়িয়াখানার পরিচালক অমিতাভ অগ্নিহোত্রি বলেন, ওই তরুণ বাঘের থাকার জায়গার সীমানা বেষ্টনী অতিক্রম করে লাফ দিয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ওই সীমানা বেষ্টনী ‘একেবারে নিরাপদ’। আর কোনো দর্শনার্থীর পক্ষেই সীমানা দেয়াল অতিক্রম না করে সেই পরিখায় পৌঁছানো সম্ভব নয়।
বার্তা সংস্থা এপি জানায়, অবশেষে বাঘকে ভয় দেখিয়ে একটি ছোট খাঁচায় ঢোকায় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তার পরও ঘটনাস্থলে মাকসুদের মৃতদেহ দুই ঘণ্টা পড়েছিল।
ডেস্ক রিপাের্ট: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার জাতিসংঘে জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। এতে দেওয়া ভাষণে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপতা মোকাবেলা করে টেকসই উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের নেওয়া বিভিন্ন সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সামনে তুলে ধরেন। এ সময় তিনি অনুন্নত দেশ হিসাবেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নিজস্ব খাত থেকে তার সরকারের ৩৮৫ মিলিয়ন (৩৮ কোটি ৫০ লাখ ) ডলার বরাদ্দের কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ জলবাযু পরিবর্তনের বিরূপতা মোকাবেলায় কতগুলো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশে এখন প্রায় ৩২ লাখ পরিবার সৌরবিদ্যুত ও প্রায় ১৫ লাখ পরিবার উন্নত চুলা ব্যবহার করে। এছাড়াও বিরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশ-সহিষ্ণু বিভিন্ন জাতের ধান উদ্ভাবনসহ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদী অ্যাকশান প্ল্যান বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে সৃষ্ট অকাল বন্যা, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততার বিরূপ প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, এর কারণে বাংলাদেশে খাদ্যশস্য বিশেষ করে ধান ও গম উৎপাদন হুমকির মুখে। অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, তারা চিরায়ত বংশানুক্রমিক পেশাও হারিয়ে ফেলছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সংক্রান্ত গবেষণার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) গড়ে ২ থেকে ৩ ভাগ কমে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এ সময় সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ডা. দীপু মনি এমপি ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আবদুল মোমেন। এর আগে সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বিশ্বনেতাদের প্রতি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় তাদের দৃঢ় অবস্থান ঘোষণার আহ্বান জানান। বান কি মুন বলেন, এমন ঘোষণা আসতে হবে যা গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমাবে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সক্ষমতা বাড়াবে। একই সঙ্গে ২০১৫ সালের মধ্যে একটি অর্থবহ চুক্তি নিশ্চিত করার পক্ষে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রকাশ ঘটাবে।
জাতিসংঘের ৬৯তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি এয়ারপোর্টে নামেন।
এয়ারপোর্টে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আবদুল মোমেন। মিসেস মোমেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেন। এয়ারপোর্ট থেকে ম্যানহাটানের গ্রান্ড হায়াত হোটেলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা। এর আগে রোববার রাত নয়টা ৪৫ মিনিটে শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ। আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশের আইজি, তিন বাহিনীর প্রধান। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, খাদ্যমন্ত্রী মো. কামরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হোসেন তওফিক ইমাম, অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দীপু মণি।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব, সিনিয়র সচিব, প্রেসসচিব, পররাষ্ট্র সচিব, নৌ, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও শ্রমসচিবসহ, উচ্চ পর্যায়ের বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিকগণ ছাড়াও রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে (সাইডলাইনে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কাতারের আমীর তামিম বিন মোহাম্মদ আল থানি, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী মিস এরনা সলবার্গ, বেলারুশের প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিয়াসনিকোভিচ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালার সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করবেন।
২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান এবং ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সফর শেষে ২৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ছাড়ার পর ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর লন্ডনে ২ দিনের যাত্রাবিরতি করে ২ অক্টোবর সকালে দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সাভার প্রতিনিধি : সাভারে সাবিনা আক্তার (২৫) নামে স্কুল শিক্ষিকার হাতের কব্জি কেটেছেন তার স্বামী। ওই শিক্ষিকাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাভার পৌর এলাকার উত্তর চাপাইন মহল্লায় মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। কব্জি হারানো ওই শিক্ষিকা বলেন, ‘শেরপুর এলাকার হিরা মিয়া নামে এক গার্মেন্টসকর্মীর সঙ্গে দেড় বছর আগে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামীর সঙ্গে সাভার পৌর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করি।’ সাবিনা জানান, বিয়ের কয়েক মাস পরই তার স্বামী গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। মঙ্গলবার সকালে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তার স্বামী দা দিয়ে ডান হাতের কব্জি কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। পরে যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনাস্থল থেকে শিক্ষিকার বিচ্ছিন্ন কব্জিটি উদ্ধার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেন, ‘কব্জিটি উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্বামী পলাতক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিশেষ প্রতিনিধি:নাক, কান ও গলার চিকিৎসায় রোবট দিয়ে অপারেশন করা হবে। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক আগে থেকেই রোবটের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা চালু হলেও বাংলাদেশে এখনও চিকিৎসাসেবায় রোবটের উল্লেখযোগ্য ব্যবহার নেই। সম্প্রতি ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের নাক, কান ও গলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজিবুল হক যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভিয়া মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে রোবটিক সার্জারির ওপর উন্নত প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরেছেন। এখন থেকে তিনি রোবটের সহায়তায় নাক, কান ও গলার অপারেশন করবেন। নাক, কান ও গলার ক্ষেত্রে এই রোবটের ব্যবহার চিকিৎসাক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ উল্লেখ করে ডা. রাজিবুল হক বলেন, ‘মানবদেহে যে সব অপারেশন সরাসরি করা কঠিন, সে সব অপারেশনের জন্যই রোবটের সাহায্য নেওয়া হয়ে থাকে। রোবট যন্ত্র সে সব জায়গায় সুক্ষ্ম ও সুন্দরভাবে অপারেশন করতে সক্ষম। এ ছাড়া চিকিৎসক অপারেশন এলাকা থ্রিডির মাধ্যমে দেখতে পান বলে ক্ষতস্থান সুক্ষ্মভাবে তার চোখে ধরা পড়ে।’ জানা গেছে, উন্নত দেশে বিভিন্ন ধরনের যেমন অর্থপেডিক, হৃদরোগ, মুত্রথলি ইত্যাদি সার্জারিতে রোবটের ব্যবহার হয়ে থাকে। এ সব ক্ষেত্রে কোনো কোনো সময় ৬ মিলিমিটার পর্যন্ত দেহ ছিদ্র করার প্রয়োজন হয়। কিন্তু নাক, কান, গলার চিকিৎসায় রোবটের যন্ত্র মানবদেহে ঢোকানো হয়। এক্ষেত্রে কোনো ছিদ্রের প্রয়োজন হয় না।
ঢাকা : পেশাগত জীবনের চিন্তা-ভাবনা আপতত বাদ; মুশফিকুর রহিমের চারপাশে এখন কেবল শুভ পরিণয়ের আবহ। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও তার পরিবারের ব্যস্ত সময় কাটছে বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজনে। এই তো আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধান; এরপরই জান্নাতুল কিফায়াত মন্ডির সঙ্গে গাঁটছাড়া বাধবেন মুশফিক। ‘এলিজিবল ব্যাচেলর’ মুশফিক প্রবেশ করবেন দাম্পত্য জীবনে। পাত্রী জান্নাতুল কিফায়াত মন্ডি প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষে পড়াশোনা করছেন। সম্পর্কে তিনি জাতীয় দলের ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের শ্যালিকা। গত বছর অক্টোবরে মন্ডিকে আংটি পরিয়েছেন মুশফিক। আর বুধবার, মানে ২৪ সেপ্টেম্বর এই জুটির গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান। বিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বিবাহত্তোর সংবর্ধনা। বলার অপেক্ষা রাখে না যে বিয়ের সফল আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে দুই পরিবারকে। বুধবার বিমানবাহিনীর ফ্যালকন কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে মুশফিক-মন্ডি গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানটি। এর আগে দ্য রিপোর্টের সঙ্গে কথা বলেছেন মুশফিকের বাবা মাহবুব হামিদ। জানিয়েছেন, ‘ঢাকা ছাড়াও মুশফিকের বিয়ে নিয়ে বগুড়ায় একটা ঘরোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করব ১০ অক্টোবর। সেখানে পারিবারিক আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত করা হবে। দুই পরিবারের আত্মীয়-স্বজনেরা মিলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।’
অতিথি হিসেবে কাদের দাওয়াত করা হয়েছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে মুশফিকের বাবা বলেছেন, ‘এটা আসলে বলতে চাই না। এভাবে বললে অনেকে ভাবতে পারেন অহংকার প্রকাশ করছি। তবে এতটুকু বলতে পারি, আমরা আমাদের সাধ্যমতো বিয়ের অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছি। এতে আত্মীয়-স্বজনরা এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা রয়েছেন। আশা করি সবাই বিয়েতে আসবেন এবং আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন।’ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়কের বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা ও সাবেক বিরোধী দলের নেতাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনেককেই দাওয়াত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মাহবুব হামিদ বলেছেন, ‘নেতা-নেত্রীদের মধ্যে অনেককেই দাওয়াত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকেও দাওয়াত দিয়েছি। কিন্তু উনি জাতিসংঘের সাধারণ সভার ব্যস্ততার কারণে থাকতে পারবেন না। সাবেক বিরোধীদলীয় নেতাকেও দাওয়াত করেছি। উনি আসবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন শুনছি জামালপুর ওনার বিশেষ অনুষ্ঠান আছে। সুতরাং উনি আসতে পারবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়। এ ছাড়া এরশাদ সাহেব এবং রওশন এরশাদকেও দাওয়াত করেছি। উনারাও আসবেন বলে কথা দিয়েছেন।’ জাতীয় দলের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদেরও দাওয়াত করা হয়েছে। এই বিষয়ে দ্য রিপোর্টকে তিনি বলেছেন, ‘সাবেক দলের সাবেক অধিনায়ক ও তারকাদের সবাইকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিসিবির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সবাইকেও দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। দোয়া করবেন যেন সব আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে পারি।’ মুশফিকের বাবার মতে, ‘সকাল (মঙ্গলবার) থেকেই ব্যস্ত সময় পার করছি।
’ নিজের হাতে কিছু না করলেও এদিক-সেদিকে নানান কাজ কর্মের তদারকি করতে হচ্ছে তাকে। বলেছেন, ‘খুব ব্যস্ততার মধ্যে আছি। ছেলের বিয়ে বলে কথা; অনুষ্ঠান বাইরে হলেও ইতোমধ্যে অনেক আত্মীয়-স্বজন চলে এসেছে বাসায়। তাদের খাওয়া-দাওয়া, সাজ-সজ্জ্বা… সব মিলিয়ে অনেক কিছুর আয়োজন; আমার দুই ছেলে এবং মেয়েসহ সবাই ব্যস্ত।’
জাতীয় দলের অধিনায়কের বিয়ে বলে কথা। স্বাভাবিকভাবেই একটা কৌতূহল থেকে যায় সবার-মুশফিকের বিয়ের কেনাকাটা কেমন হয়েছে? উত্তরে অধিনায়কের বাবা বলেছেন, ‘ঢাকা থেকে কিছু জিনিস কেনা হয়েছে; আবার বাইরে থেকে কিছু জিনিস আনা হয়েছে। সব মিলেই অনেক কেনাকাটা হয়েছে। সাধ্যের মধ্যে যতটুকু করা সম্ভব সবটুকুই করব আমরা।’
উল্লেখ্য, গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানটির পুরো আয়োজন করছে ওয়েডিং ডায়েরি নামক একটি প্রতিষ্ঠান। কিছুদিন আগে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে মুশফিকের চুক্তি হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার : চট্টগ্রামে পোশাককর্মীকে অপহরণ ও গণধর্ষণের মামলায় ৬ ধর্ষককে দু’বার করে যাবজ্জীবন দণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. রেজাউল করিম মঙ্গলবার এ রায় দিয়েছেন। আসামিরা হলেন- নেজাম উদ্দিন, কামাল উদ্দিন, জাহাঙ্গীর প্রকাশ জানে আলম, মো. সুমন, জানে আলম ও জাহাঙ্গীর। তাদের মধ্যে নেজাম উদ্দিন ও কামাল উদ্দিন ছাড়া বাকি চারজনই পলাতক। পৃথক পৃথক অভিযোগে দুইবার যাবজ্জীবন দণ্ড ও দুইবার ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। আদালতের নথি থেকে জানা গেছে, গণধর্ষণের শিকার ২২ বছরের ওই নারী পোশাককর্মী চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কালুরঘাট এলাকার রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলে চাকরি করতেন। ২০০৬ সালের ১৫ মে রাত সাড়ে ৯টায় কারখানা ছুটির পর হেঁটে পশ্চিম গোমদন্ডির বাড়িতে যাওয়ার পথে আরাকান সড়কের মাদ্রাসার কাছে পৌঁছলে আসামিরা তাকে জোররপূর্বক টেম্পুতে তুলে নেয়। এর পর নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে গণধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ২০০৬ সালের ১৬ মে বোয়ালখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ধর্ষিতার চাচাতো বোন। ২০০৭ সালের ১৭ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২০০৭ সালের ২৬ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি পিপি জেসমিনা আক্তার বলেন, ‘১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার আদালত এ রায় দেন। আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭, ৯ (১) ও ৯ (৩) ধারায় আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত প্রত্যেককে দুবার করে যাবজ্জীবন অর্থাৎ ৬০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। একটি সাজাভোগ শেষে আরেকটির মেয়াদ শুরু হবে বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন।’ আদালত রায়ে উল্লিখিত জরিমানার টাকা ৬ মাসের মধ্যে জেলা কালেক্টরকে আদায় করে তা ভিকটিমকে দেওয়ার জন্য আদেশ দেন।
১। নারিকেল তেল /অলিভ অয়েল দিয়ে তুলার বল ভিজিয়ে নিয়ে চোখের উপরে নিচে সহ সারা মুখে হাল্কা ম্যাসাজ করে মুখে মেক আপ,ও ধুলো ময়লা তুলে নিন।
২।ভালো মানের ক্লেঞ্জার দিয়ে মুখে হাল্কা ম্যাসাজ করে নিন ১ মিনিট মত। এবার তুলার বল ভিজিয়ে পুরো মুখ টা মুছে ফেলুন।
৩।কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখটা ধুয়ে ফেলুন। ফেস ওয়াশ ব্যাবহার করতে পারেন।
৪।এবার নরম তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে নিন।
৫।ভালো আন্টি এজিং /ফেয়ারনেস/আকনে কিউর টোনার তুলয় করে চেপে চেপে সারা মুখে লাগিয়ে নিন।কাজটা হাত দিয়েও করতে পারেন।
৬।হেলথি আই জেল আঙ্গুলের মাথায় নিয়ে অলতো করে চোখের চারিদিকে চেপে চেপে লাগিয়ে নিন।
৭।ত্বক শুষ্ক/ তৈলাক্ত যা ই হোক না কেন, সঠিক মানের ময়সচারাইজার প্রতিটি ত্বকের জন্য জরুরি। ত্বক শুষ্ক হলে গাঢ় কোন ময়সচারাইজার সারা মুখে লাগান।ত্বক তৈলাক্ত হলে অই ময়সচারাইজার এর সাথে কয়েক ফোটা পানি মিশিয়ে নেবেন।
৮।ঘুমোনোর আগে আলাদা ঢিলেঢালা পোশাক পরে ঘুমোতে যান। স্বপ্নে কেও আসুক না আসুক চুল গোড়া থেকে আচড়ে হাল্কা বেধে নিন।
৯। সব শেষে ভাল মানের লিপজেল ঠোটে লাগিয়ে পরিষ্কার বিছানায় অল্প আলোয় হাল্কা মিউজিক চালিয়ে বা একটা বই নিয়ে পড়তে পড়তে ঘুমীয়ে যান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমাকে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দীনও ভয় দেখিয়েছিল। আমাকে দেশ থেকে বের করতে পারেনি। হাসিনার গ্রেফতারের ভয়কে আমি ভয় পাই না। আমাকে বন্দি করার আগে নিজেদের পথ পরিষ্কার করে রাখবেন। পালানোর ভিসা রেডি করে রাখবেন। যাতে চটপট চলে যেতে পারেন। কারণ তখন পালানোর পথ থাকবে না। জনগণ, দেশের আলেম-ওলামা, সাধারণ মানুষ আপনাদের রাস্তা বন্ধ করে দেবে।’ খুন, গুম, দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর মামলা-নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা বাতিলসহ নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ২০ দলীয় জোট আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। খালেদা জিয়া তার নামে হওয়া মামলা প্রসঙ্গে বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় হাসিনার নামে কত মামলা হয়েছিল। আমাদের নামেও হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর নিজের ও দলের নেতাদের মামলা তুলে নিয়েছে। আমাদের মামলা তোলেনি। এখন ভয় দেখায় গ্রেফতারের। কিন্তু আমি গ্রেফতারের ভয় পাই না। ওয়ান ইলেভেনের সময় তারা আমাকে দেশের বাইরে পাঠাতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি যাইনি। এ দেশের মাটি ও মানুষকে ছেড়ে আমি কোথাও যাব না।
বিএনপি চেয়ারপারসন আওয়ামী লীগকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি জেলে যেতে ভয় পাই না। তবে পরের বিষয়টি ভেবে রাখবেন। আমাদের কাছে সব তথ্য আছে। কীভাবে বাঁচবেন? তাই জেলখানার ভয় দেখাবেন না।’ বিচারপতিদের অভিশংসন আইন বাতিল না হলে হরতালের চেয়েও কঠিন কর্মসূচি খালেদা জিয়া সমাবেশের উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ঈদের পর যে কর্মসূচি দেওয়া হবে, তাতে আপনারা সাড়া দেবেন। আমি যেখানেই থাকি, আপনাদের সঙ্গেই থাকব। আমাকে যাই করুক, আমাদের দল আছে, জনগণ আছে।’ খালেদা জিয়া বলেন, ‘অভিশংসন আইন বাতিল করতে হবে। বিচারপতিদের ভয় দেখানোর জন্যই এ আইন করা হয়েছে। বিচারকদের হাত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এটা বন্ধ করুন। এই আইন বাতিল না করলে একদিন হরতাল নয়, যে কোনো কর্মসূচি দিতে আমরা প্রস্তুত।’ খালেদা জিয়া বলেন, ‘বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা নেই, সরকার যা বলে সেই ভাবেই রায় দিতে হয়। সংবিধানের নতুন সংশোধনীর ফলে এখন বিচার বিভাগকে ভয় দেখিয়ে সরকার রায় করাবে। সরকারের পছন্দমতো রায় না দিলে অভিশংসন আইনে বিচারকদের অপসারণ করা হবে। বিচার বিভাগ স্বাধীন করার কথা বললেও স্বাধীন করা হয়নি। আজকে দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে তারা। বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কিন্তু জনগণ তা মানবে না।’
আওয়ামী লীগ হলো যা পাই তাই খাই
দুর্নীতি ও লুটপাটের জন্য এ সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে- এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মানে হাঁটি হাঁটি খাই খাই, যা পাই তাই খাই। আওয়ামী লীগের কাছে দেশ বড় নয়, দেশের মানুষও বড় নয়। এ দলের কাছে সবচেয়ে বড় হচ্ছে টাকা ও ক্ষমতা। তারা মানুষের জমিজমা, হাটবাজার, নদীনালা সবকিছু দখল করছে।’
খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দুর্নীতি ও লুটপাটের কথা যাতে প্রকাশ না হয়, জনগণ যাতে জানতে না পারে, সে জন্য সাংবাদিকদের ভয় দেখাতে অবৈধ সম্প্রচার নীতিমালা করা হয়েছে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘বিনা ভোটে ক্ষমতায় বসে একের পর এক অবৈধ আইন করছে সরকার। জনগণের টাকা লুট করছে। এক দিন জনগণের কাঠগড়ায় জবাবদিহি করতে হবে তাদের।’
তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। বিদ্যুতের উৎপাদন নিয়ে জনগণকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। কুইকরেন্টালের নামে জনগণের টাকা লুট করছে সরকার।
সাত খুনের ঘটনায় আ’লীগ সভানেত্রী সব জানেন
খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, ‘নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় কারা জড়িত, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী সব জানেন। ওই ঘটনার সঙ্গে তার যোগসূত্র রয়েছে। র্যাবের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জিয়া ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তিনি কীভাবে পদে থাকেন। তাকে ধরলেই সব বেরিয়ে যাবে, তাই তাকে ধরা হচ্ছে না। তার বিচার করতে হবে।’
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, এ সরকার কীভাবে র্যাবকে অন্যায়-অত্যাচারের কাজে ব্যবহার করছে। আমরা র্যাব গঠন করেছিলাম সন্ত্রাস দমনের জন্য। সন্ত্রাস দমনও করেছিলাম। কিন্তু তাদের দিয়ে এ সরকার মানুষ ধরে নিয়ে হত্যা করছে। এখন পর্যন্ত আমার দলের ৩১০ জনকে হত্যা করা হয়েছে, ৫৬ জনকে গুম করা হয়েছে। র্যাব পচে গেছে। গ্যাংগ্রিণ হয়ে গেছে। এদের ফেলে দিতে হবে। এদের রাখা যাবে না।’
অর্থমন্ত্রীকে খালেদা জিয়ার ধন্যবাদ
খালেদা জিয়া বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী দেরিতে হলেও স্বীকার করেছেন, ব্যাংকগুলোর অবস্থা খারাপ। আওয়ামী লীগ সত্য বলে না। কিন্তু তিনি সত্য প্রকাশ করলেন, এই জন্য তাকে ধন্যবাদ। শেয়ারবাজার থেকে ৪৮ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে তারা। কুইকরেন্টাল পাওয়ার করেছে। কিন্তু ঢাকায় বিদ্যুতের অবস্থা আসে আর যায়। এতে ভতুর্কি দিয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা কিন্তু বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়েনি।’
তিনি বলেন, ‘এ সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াবে বলে কুইকরেন্টাল করেছে। কিন্তু বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়েনি। তারা দাবি করে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা। কিন্তু উৎপাদন সাড়ে ৬ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুতের অভাবে কলকারখানা বাসাবাড়িতে নতুন সংযোগ দিতে পারে না। কিন্তু দফায় দফায় দাম বাড়ায়। কমিশন পেতে বিদেশ থেকে ডাবল দামে সার আমদানি করা হচ্ছে। অথচ তারা বলেছিল, কৃষকদের বিনামূল্যে সার দেবে।’
দেশে লুটপাট ও দুর্নীতির নানা চিত্র তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এভাবে চলতে পারে না। এগুলোর বিহিত করতে হবে। এই আওয়ামী লীগের আমলে পিলখানায় ৫৭ জন অফিসারকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি, বিচার হয়নি। পিলখানায় এতকিছু হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সরকারপ্রধান কিছু জানেন না। ঘটনার সময় তিনি বাড়ি বদল করেছিলেন। এর উদ্দেশ্য মানুষের বুঝতে বাকি থাকে না।’
খালেদা জিয়া বলেন, “মাহমুদুর রহমান সত্য কথা বলত। তাই তাকে বন্দি করে রেখেছে, তার কাগজ ‘আমার দেশ’ বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ যেন তারা মানুষের কথা বলতে না পারে। এখন সম্প্রচার নীতি করছে সাংবাদিকদের ভয় দেখাতে। বিশিষ্ট নাগরিকরা সত্য কথা বলেন টিভি টকশোতে। ভয় দেখিয়ে তাও বন্ধ করতে চায় সরকার।”
দেশের শিক্ষার মানের অবনতি প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, ‘শিক্ষার উন্নয়নে এ সরকার অনেক দাবি করে। শিক্ষার যা উন্নতি হয়েছে, তা আমাদের সময়। আমরা নকল বন্ধ করেছি। স্কলারশিপ দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘এখন শিক্ষার্থীরা শুধু পাস করে যায়। দেশে এখন মেধাশূন্যতা দেখা দিয়েছে। এভাবে চললে কোনো প্রতিযোগিতাতেই তারা টিকতে পারবে না। দেশের মেধাকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশে এখন সার উৎপাদন হয় না। সরকার বিদেশ থেকে সার আনে, কেননা এতে কমিশন পাওয়া যায়। কয়েক দিন আগে খবরে দেখলাম- মসজিদ, এতিমখানা, মন্দিরের টাকা মেরে দিয়েছে আওয়ামী লীগের লোকজন।’
এ সরকার টাকা দেখলে লোভ সামলাতে পারে না উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এ সরকার মানুষের জন্য কাজ করে না, টাকা দেখলে নিজেদের লোভ সামলাতে পারে না। বিদেশী প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি কোটি টাকা নেয় কিন্তু কাজ করে না। রাস্তা করার নামে তারা কোটি কোটি টাকা নিয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ করছে না।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকজন খালবিল পর্যন্ত ভরাট করে ফেলছে, বাড়িঘর দখল করে ফেলছে। কিন্তু তাদের কেউ কিছু বলছে না।’
খালেদা জিয়া আরও বলেন, ‘টিভিতে আমাদের কথা প্রচার পায় না। বিটিভি আওয়ামী লীগের টিভি। তাদের কথা ছাড়া প্রচার করে না। এখন বেসরকারি টিভিগুলোকেও আয়ত্তে নেওয়ার চেষ্টা করছে।’
সরকার নিজেরাই সংবিধান লঙ্ঘন করছে
খালেদা জিয়া বলেন, ‘এ সরকার অনির্বাচিত সরকার, অবৈধ সরকার। সরকার নিজেরাই সংবিধান লঙ্ঘন করে চলেছে, যার জন্য আজ দেশের এ দূরাবস্থা। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি। প্রতিদিন খুন, গুম ও রাহাজানি হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকলে জামায়াত স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘জামায়াতকে এখন অপবাদ দেওয়া হচ্ছে তারা নাকি খারাপ। অথচ এরা এক সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিল। জামায়াত ছিল তাদের বন্ধু। তখন জামায়াত ছিল স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি। আর এখন তারা হয়ে গেছে রাজাকার। এদের নাম আওয়ামী লীগ।’
২০ দলীয় জোট শক্তিশালী হচ্ছে এমন দাবি করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০ দলীয় জোট ভাঙবে না, শক্তিশালী আছে, থাকবে। যারা দেশপ্রেমিক তারা এই জোটে আছেন। তারা কখনও দালালদের সঙ্গে যেতে পারেন না। তারা এই দুর্দিনে বেশি ঐক্যবদ্ধ হবেন।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘শেখ হাসিনা বলেন, তার দলের সকলকে কেনা যায় শুধু তাকে ছাড়া। আপনি তো বহু আগেই বিক্রি হয়ে গেছেন। ৮৬-তেই বিক্রি হয়েছিলেন এরশাদের কাছে। চট্টগ্রামের জনসভায় আপনি বলেছিলেন, যারা নির্বাচনে যাবে তারা জাতীয় বেইমান। এরশাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আপনি জাতির সঙ্গে বেইমানি করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে আপনি জাতীয় বেইমান হিসেবে জাতির কাছে পরিচিত হয়েছেন।’
সরকারকে ‘খুনি’ আখ্যায়িত করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এ সরকারের হাতে সেনাবাহিনীর রক্ত, তাদের হাতে আলেমদের রক্ত, বিএনপির নিরীহ নেতাকর্মীদের রক্ত ও সাধারণ মানুষের রক্ত লেগে আছে। ক্ষমতায় থাকার এখতিয়ার তাদের নেই।’
তিনি বলেন, ‘আলেমরা শাপলা চত্বরে গিয়েছিলেন তাদের ঈমানী দাবি নিয়ে। তাদের হাতে ছিল জায়নামাজ, তসবিহ আর কোরআন। তারা বলেছিল তাদের নেতা আল্লামা শফি সাহেব এসে বক্তব্য দিলেই তারা চলে যাবেন। কিন্তু শেষ রাতে এই আলেমদের ওপর সরকার হামলা করল। বহু আলেমকে হত্যা করে লাশ গুম করল, কোরআন শরিফ পোড়াল। হাসরের মাঠে আল্লাহ তাদের মাফ করবেন না।’
বিএনপিপ্রধান বলেন, ‘শুধু আলেম বা মুসলমান নয়; আওয়ামী লীগের হাতে কোনো ধর্মের লোকই নিরাপদ নয়। কক্সবাজারের বৌদ্ধদের ওপর তারা হামলা চালিয়েছে। আগুন দিয়ে তাদের উপাসনালয় পুড়িয়ে দিয়েছে। সারাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর জুলুম-নির্যাতন করছে। তাদের মন্দির দখল করা হচ্ছে। এরা খুনি সরকার।’
তিনি জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, “আপনারা কি ভোট দিয়েছিলেন?’ জনতা তীব্র নিনাদ তুলে সমস্বরে আওয়াজ দেন ‘না’, ‘না’। তাহলে কী করে এই অনির্বাচিত সরকার সংসদে বসে থাকে। তারা কীভাবে লম্বা লম্বা কথা বলে আর আইন পাস করে। তাদের সব আইন অবৈধ। এ সব আইন বাতিল করা হবে।”
তিনি একটি পত্রিকা তুলে ধরে বলেন, ‘এই পত্রিকায় বের হয়েছে, গত এক মাসে শতকরা ১৯ ভাগ কর্মসংস্থান কমেছে। ৮২ ভাগ বিদেশী বিনিয়োগ কমেছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আর বিনিয়োগ করতে আসছে না।’
পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনারা নিরপেক্ষ ব্যবহার করবেন। অন্যায়ভাবে মিছিল-মিটিংয়ে গুলি চালাবেন না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে দেখিয়ে দিতে চাই, জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। তরুণদের এ অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রতিবাদ করতে হবে, আন্দোলন করতে হবে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।’
হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেননের দিকে ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘তারা কোনো নির্বাচনে জিতে নাই। নৌকায় উঠে জিতেছে। এখন শুনছি তারা হজ করতে যাচ্ছেন। তারা এত এত মানুষ মেরেছে, আল্লাহর ঘরে গিয়ে তওবা করে এসে যদি ভালো হয়।’
তিনি বলেন, ‘মুফতি ফজলুল হক আমিনী সাহেব ছিলেন নামকরা আলেম, ভালো বক্তা, দেশপ্রেমিক। তিনি সত্য কথা বলতেন। তাকে দীর্ঘদিন গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। ঘরে বসে থাকতে থাকতে তিনি মারা যান।’
জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও পৌর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহম্মদ ইসহাক, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, জাগপার সভাপতি সফিউল আলম প্রধান, ইসলামী ঐক্যজোটের সভাপতি আব্দুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, এনডিপির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এনপিপির চেয়ারম্যান ডা. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এলডিপির মহাসচিব ডা. রেদওয়ান আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল হাসানাত আমিনী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, সাম্যবাদী দলের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, ডিএলের সাধারণ সম্পাদক সাঈফুদ্দিন মনি প্রমুখ।
খালেদা জিয়া সকাল সাড়ে ১১টায় তার গুলশানের বাসভবন থেকে এ জনসভায় যোগদানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। নয়াপল্টন, যাত্রাবাড়ী, নরসিংদী হয়ে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পথপরিক্রমা শেষে স্থানীয় সার্কিট হাউসে পৌঁছান। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হন। তিনি ৪টা ১৭ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে সন্ধ্যা ৬টা ২ মিনিটে বক্তব্য শেষ করেন।
এদিকে খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিণত হয়েছিল জনারণ্যে। জনসভার মাঠ এবং শহরের বিশাল অংশজুড়ে ছিল মানুষের ঢল। ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অবধি সড়কের স্থানে স্থানে মানুষ ছিল স্লোগানমুখর, ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
খালেদা জিয়া রাত ৮টার দিকে স্থানীয় সার্কিট হাউসে বিশ্রাম শেষে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।