পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

গোপীবাগে ৬ খুন, চার আসামি ৪দিনের রিমান্ডে

Gopibagh_211213স্টাফ রিপোর্টার; রাজধানীর গোপীবাগে কথিত পীরসহ ৬ খুনের ঘটনায় তিন মামলায় চার আসামিকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। বুধবার ওই চারজনকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে গোপীবাগের হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। এ সময় গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আবুয়াল খায়ের মাতুব্বর আসামিদের ১০ দিন করে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন। শুনানি শেষে মহানগর হাকিম ইউনূস খান চার দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেন। ৪ আসামি হলেন- জিয়াউল ইসলাম, আল আমিন, আজমির ও গোলাম সারওয়ার। গত বছরের ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ৬৪/৬ নম্বরে চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার বাসায় মুরিদ সেজে ঢুকে কথিত পীর লুৎফর রহমান ফারুক, তার ছেলে সারোয়ার ইসলাম ফারুক ওরফে মনির, পীরের খাদেম মঞ্জুর আলম মঞ্জু, মুরিদ মো. শাহিন, রাসেল ও মুজিবুল সরকারকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

Posted in জাতীয় | Leave a comment

কম খরচে ভালো থাকবেন কিভাবে

urlঢাকা: জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে কম খরচে গুছিয়ে সংসার চালানো নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ। এই কাজটি যিনি রপ্ত করতে পারেন তাকে অবশ্যই সুগৃহিণীর খেতাব দিতে হবে। আর সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সামাল দিয়ে ভবিষ্যৎ জীবনে আর্থিক সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা । ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ, জরুরি চিকিৎসা, অতিথিদের আপ্যায়ন তো লেগেই আছে।
এসবের মধ্যে কখনো পারিবারিক বা নিজের আলাদা চাহিদাও রয়েছে। সারা বছরের কান্তি, টেনশন থেকে দূরে রেখে মনের আনন্দের জন্য মাঝে মধ্যে বেড়াতে যাওয়াও দরকার। এজন্য দরকার সঞ্চয়। ভাবছেন নিশ্চয়ই, এত কিছু সামাল দিয়ে আবার সঞ্চয় করাও সম্ভব নাকি? হ্যাঁ, সম্ভব। আর সে জন্য দরকার পরিকল্পনা। একটু বুঝেশুনে খরচ তাহলেই অনেক কিছু সম্ভব।

প্রাথমিক প্রস্তুতি
প্রথমেই আয়, ব্যয়, ধার এবং সঞ্চয়ের একটা হিসাব করে ফেলি। মাসের প্রথম ছুটির দিনে পরিবারের সবাইকে একসাথে নিয়ে পরিবারের বাজেট ঠিক করুন। বড়রা তো নিশ্চয়ই, বাড়ির খুদে সদস্যদের বিশেষ করে টিনএজার ছেলে মেয়েদেরও এই মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে বলুন। সাথে একটি নির্দিষ্ট ডায়েরি রাখুন, যেখানে শুধুই মাসের খরচের হিসাব লেখা থাকবে। খরচের একটা খসড়া করে ফেলুন। প্রথমেই দেখে নিন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস এবং মেইনটেন্যান্সের খাতে কতটা খরচ হতে পারে।

মাসের বাঁধাধরা খরচের টাকা যেমন ইলেকট্রিক বিল, বাজার খরচ, ফোনের বিলের টাকা, কাজের লোকের মাইনে, ছেলেমেয়ের স্কুল, টিউশন ফি এবং আরো অন্যান্য খরচ আলাদা ভাগ করে নিন। সম্ভব হলে আলাদা আলাদা খামে ভরে, ওপরে নাম লিখে রাখুন। এতে বাড়তি খরচ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।

এরপর ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন যেখানে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা করুন যাতে হঠাৎ কোনো প্রয়োজনে সমস্যা না হয়। তবে সব মাসেই যে খরচ আর সঞ্চয়ের অনুপাত এক রকম হবে তা নয়। কিন্তু শুরুটা আগে করতে হবে। কোনো মাসে বাজেটের অতিরিক্ত খরচ হতেই পারে। সে ক্ষেত্রে যদি খরচ বেশি হয়ে যায় কিভাবে সেই ঘাটতিটা পুষিয়ে নেয়া উচিত সেটা নিয়েও মিটিংয়ে আলোচনা করুন। আগে থেকে তৈরি থাকলে পরিস্থিতি সামাল দিতে সুবিধা হবে। এ ছাড়াও যতটা সম্ভব খুঁটিয়ে মাসের খরচার হিসাব রাখুন। প্রতি মাসে কোন খাতে বেশি খরচ হচ্ছে সে দিকে লক্ষ রাখুন।

ফ্যামিলি বাজেটে সবচেয়ে বেশি খরচ সাধারণত হয়ে থাকে খাওয়াদাওয়ায়। যখন বাজেট ঠিক করবেন, খেয়াল রাখবেন এই খাতে যেন অপ্রয়োজনীয় খরচ না হয়।

অনেক সময় খবরের কাগজ বা ম্যাগাজিনে নানা ধরনের ডিসকাউন্টের বিজ্ঞাপন থাকে। বহু বড় গ্রসারি দোকান খাবারের ওপর আকর্ষণীয় ছাড় দিয়ে থাকেন যেমন ৫ কেজি চালের সাথে ১ কেজি আটা ফ্রি বা ৩ লিটার তেলের ওপর ২০ শতাংশ ছাড় ইত্যাদি। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী এই অফারগুলো কাজে লাগাতে পারেন।

প্রতি মাসে বাড়ির সব ইলেকট্রনিক মেইনটেন্যান্স কাজ করান। এতে জিনিসপত্রও ভালো থাকবে এবং ইলেকট্রিক বিলও কম উঠবে। প্রয়োজন না পড়লে সব ঘরের আলো, পাখা চালিয়ে রাখবেন না। অতিরিক্ত পানি খরচের দিকেও নজর দিন। অযথা কল খোলা যেন না থাকে। পানি ও গ্যাসের অপচয় সম্পর্কে বাড়ির সবাইকে সচেতন করুন।

কেনাকাটা করার সময়
দোকান বাজার করতে গিয়ে টাকা খরচ করার জন্য হাত নিশপিশ করে? যতটা বাজেট ঠিক করে গিয়েছিলেন অবধারিতভাবে তার থেকে বেশি খরচ করে চলে আসেন? আসলে পরিবারের জন্য শপিং হোক বা দৈনন্দিন বাজার, পছন্দের সাথে সাধ্যের সামঞ্জস্য রাখা অত্যন্ত জরুরি।

বাজার করতে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় জিনিসের একটি নির্দিষ্ট লিস্ট বানিয়ে নিন, যাতে দোকানে গিয়ে অযথা বাড়তি খরচ না করে ফেলেন, কারণ অনেক সময় বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে গেলে চোখের সামনে নানা রকম অত্যাধুনিক জিনিস দেখে মন চঞ্চল হয়ে যেতেই পারে। যে জিনিসের প্রয়োজন আপনার একেবারেই নেই, তাও হয়তো হুট করে কিনে ফেলেন। অবশ্যই লিস্ট সাথে রাখুন। একটা দোকানে ঢুকেই সব জিনিস একসাথে কিনে ফেলবেন না। দু-তিনটি দোকান ঘুরে দেখে তবেই জিনিস কিনুন। কোনো একটি দোকানে যে জিনিসের দাম হয়তো বেশি, অন্য কোনো দোকানে তাই কম দামে পেয়ে যেতে পারেন। অনেক সময় আবার আমরা কিছু ব্র্যান্ড ব্যবহার করতে করতে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে যাই যে, সেসব পন্যর দাম বেড়ে গেলেও আমরা খুব একটা পাত্তা দিই না। যার ফলে অবধারিতভাবে আমাদের মাসিক বাজেটও বেড়ে যায়। তাই মাঝে মধ্যে অন্য ব্র্যান্ডের জিনিস ব্যবহার করে দেখতে পারেন। প্যাকেজিংয়ের ওপরও প্রডাক্টের দাম নির্ভর করে। কম আকর্ষণীয় দেখতে প্রডাক্টের দাম তুলনামূলক কম হয়, কিন্তু কোয়ালিটি প্রায় একইরকম থাকে, তাই এরকম প্রডাক্ট একবার পরীক্ষা করে দেখতে ক্ষতি কী।

খুচরো পরিমাণে জিনিস না কিনে একসাথে বেশ কিছুটা পরিমাণে জিনিস কিনলে দাম তুলনায় অনেকটাই কম পড়ে। মাসের শুরুতেই ঠিক করে নিন মোটামুটি আপনাকে কী কী কিনতে হবে। মাসে একবার হাউজহোল্ড গুডস যেমন তেল সাবান বা বাথরুমের জিনিসপত্র কিনুন। আর তরকারি, সবজি, মাছ, গোশত, ডিমজাতীয় জিনিস সপ্তাহে একবার কিনুন।

রোজকার কেনাকাটা করতে যাওয়ার সময় শিশুদের সাথে না আনাই ভালো। শিশুরা নিজেদের পছন্দমতো জিনিসের জন্য স্বাভাবিকভাবেই বায়না ধরে যা অনেক সময় হয়তো বাধ্য হয়ে কিনেও দিতে হয়। ফলে বাজেটে টান পড়ে যেতে পারে। যদি শিশুকে সাথে নিয়েই আসতে হয়, তা হলে তাদের একটু কড়া হাতেই সামাল দিতে হবে। তারা যেন অকারণে কোনো জিনিসের জন্য বায়না না ধরে, তা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করুন।

রোজকার ব্যবহারের ব্যাগ, জামা কিংবা জুতো একটু দাম দিয়ে ভালো কোয়ালিটির কিনুন। এতে জিনিস অনেক দিন বেশি টিকবে। বড় বড় দোকানে যত ডিসকাউন্ট চলে, সেই সময় নিজেদের প্রয়োজনের এবং উপহারের জিনিস কিনে রাখুন। এতে দাম অনেকটাই কম পড়ে।
রান্নাঘরের বাজেট
সম্ভব হলে দুই-তিন দিনের মেনু আগে থেকে ঠিক করে নিন। এতে সময়ের সাথে সাথে জিনিসের অহেতুক অপচয়ও কমবে।
রান্না শুরু করার আগে প্রয়োজনীয় সব জিনিস গুছিয়ে নিন। গ্যাস জ্বালিয়ে খুঁজতে বসবেন না। এতে গ্যাসের অকারণ অপচয় হয় যা রাষ্ট্রের সম্পদ ধ্বংসের শামিল। রান্না করার আগে উপকরণের পরিমাণের দিকে বিশেষ নজর দিন। অনেকেরই অভ্যেস আছে বেহিসেবিভাবে বেশি জিনিস নেয়া। ফলে খাবার নষ্ট হয় যা একেবারেই কাম্য নয়। সে জন্য প্রথম থেকেই একটু সতর্ক থাকলে এই অসুবিধের সম্মুখীন হতে হবে না।

খাবারের ব্যাপারে বাড়ির প্রত্যেকেরই নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দ রয়েছে। কিন্তু প্রত্যেকের জন্য আলাদা পদ রান্না করতে গেলে খরচ আর সময় দুইই নষ্ট হবে। রেসিপি বই বা অন্য কারো পরামর্শ নিয়ে চেষ্টা করুন ঘরোয়া রান্নাই সুস্বাদু করে তুলতে। মাঝে মধ্যে এক- আধটা সারপ্রাইজ আইটেম রেঁধে চমকে দিতে পারেন, তবে সেটা নিয়ম করে তুলবেন না। না হলে বাজেট বেড়ে যেতে পারে।
লবঙ্গ, দারুচিনি, এলাচের মতো দামি মসলা ব্যবহার করার আগে সেগুলো ভালো করে গুঁড়ো করে নিন। সামান্য নুন বা চিনি মিশিয়ে রান্নায় ব্যবহার করুন। তা হলে ফেভার ভালো ছড়ানোর সাথে সাথে মসলার সাশ্রয়ও ঘটবে।
চাল বা ডাল ভালোভাবে স্টোর না করলেও ভীষণ পোকা ধরে যায়। ফলে ফেলে দেয়া ছাড়া আর উপায়ও থাকে না। তাই চাল-ডাল কেনার পরপরই ভালো করে পরিষ্কার করে রোদ দিয়ে কৌটাতে ভরে রাখুন।

গম কৌটা বা টিনে ভরার আগে কয়েক চিমটে নুন এবং নিম পাতা রেখে দিন। সহজে পোকা ধরবে না। একবারে অনেকটা গম স্টোর করতে হলে কয়েকটা শুকনো মেথি পাতা ওর মধ্যে দিয়ে দিন। সহজে নষ্ট হবে না।
সুজিতে যাতে পোকা না ধরে সে জন্য সামান্য তেলে সেটা ভেজে নিয়ে এয়ারটাইট টিনে ভরে রাখুন।
বিস্কুট মচমচে রাখার জন্য কৌটার ভেতরে ব্লটিং পেপার রাখুন। ব্লটিং পেপার আর্দ্রতা শুষে নিয়ে বিস্কুট ভালো রাখবে।

যানবাহনে খরচ কমান
যানবাহনে খরচ কমানোটা বোধহয় সম্ভব নয়, তাও চেষ্টা করুন অপেক্ষাকৃত কম খরচের বাহনে চড়তে। যেখানে বাসে করে যাওয়া সম্ভব, সেখানে ট্যাক্সিতে চড়বেন না। হাঁটার সুযোগ থাকলে রিকশায় না চড়ার চেষ্টা করুন।

নিমন্ত্রণ বা উপহার বাছার সময় বাজেট কন্ট্রোল
বিয়ে, জন্মদিন বা আকিকাহর অনুষ্টানে বন্ধুবান্ধবদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ লেগেই থাকে। খালি হাতে তো আর যাওয়া যায় না। প্রত্যেক মাসে এই বাড়তি খরচ এড়ানো যায় না। তবে চেষ্টা করলে উপহার বাছার সময় একটু সতর্ক থাকতে পারেন। যে সময় বিভিন্ন শপিং মলে নানারকম অফার চলে, সেই সময় কফি মগ, টি সেট, ট্রে, টাওয়েল, বেডশিট, পিলো কভার সেট কিনে রাখতে পারেন।
নিজের হাতে ব্যাগ, কুশন কভার, চকোলেট বা ঘর সাজানোর জিনিস তৈরি করে উপহার দিতে পারেন। সাশ্রয় তো হবেই, আর হাতে তৈরি জিনিসের কদর তো সবসময়ই আলাদা।

সন্তানকে টাকার মূল্য বোঝান
বাবা-মা তো সন্তানের সুযোগ-সুবিধার দিকে নজর রাখবেনই, তবে তাই বলে সন্তান যখন যা চাইবে তাই হাজির করে দিতে হবে তার কোনো মানে নেই। সন্তানকে দায়িত্বশীল করে তুলুন। পকেটমানি নিশ্চয় দেবেন, তবে টাকার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে ভুলবেন না।
সন্তানকে সেভিংয়ের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানান। এতে ও পকেটমানি থেকে সেভ করতে আগ্রহ পাবে। ওকে একটা সুন্দর পিগি ব্যাংক উপহার দিন। মাসে একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা ওকে পকেটমানি হিসেবে দিন।

সন্তানের সাথে একটি জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট খুলুন। আপনার সাথে ওকেও ব্যাংকে নিয়ে যান। চেকবই, পাসবইয়ের ব্যবহার শেখান। ইন্টারেস্ট বা সুদের হিসাবও বুঝিয়ে দিন। মাসে মাসে অ্যাকাউন্টে জমানোর জন্য একটা টাকার অঙ্ক দিন। এই সেভিংস পরে ওর কাজে আসতে পারে।
ছেলেমেয়ে যদি পড়াশোনার পাশাপাশি কোনো পার্টটাইম কাজ করতে চায়, বাধা না দিয়ে উৎসাহ দিন। প্রাইভেট টিউশন, কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হয়ে পার্টটাইম কাজ, ফ্রি ল্যান্স জার্নালিজম বা ফটোগ্রাফির মতো কাজ পড়াশোনার সাথে চালানো খুব একটা কঠিন নয়। এতে ওর দায়িত্ববোধ বাড়বে। আয় এবং কাজের অভিজ্ঞতা দুই-ই জমা হয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে এতে যেন ওর পড়াশোনায় অথবা কেরিয়ারের কোনোরকম ক্ষতি না হয়।
ফোনের ব্যবহার
অনেকে অকারনেই ফোনে কথা বলতে অভ্যস্ত। প্রতিটি শব্দ উচ্চারনের সাথে সাথে যে টাকা দিতে হচ্ছে তা যেনো আমরা ভুলেই যাই। সেলফোন বা ল্যান্ডলাইন ফোনের ব্যবহার সীমিত রাখুন। গল্প করার জন্য ফোন ব্যবহার করবেন না। কাজ না থাকলে ফোন করে অহেতুক টাকা নষ্ট করবেন না। মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে চিন্তাভাবনা করে স্কিম নির্বাচন করুন। ফোন বিল নিয়ন্ত্রণ করতে প্রি-পেইড সার্ভিস বাছতে পারেন। নির্দিষ্ট খরচের ওপর চলে গেলে ফোন করা কমিয়ে দিন। মাসের শুরুতেই ফোনের জন্য একটা বাজেট নির্দিষ্ট করে নিন।
বাড়ির সব আলো, পাখা একসাথে জ্বালিয়ে রাখবেন না। সিলিংয়ে ফ্লাডলাইট ব্যবহার করবেন না। ঘরে উজ্জ্বল রঙ করান, আলোর ব্যবহার কম হবে। বাড়ি থেকে বেরুবার আগে দু’বার চেক করে নিন, সব আলো পাখা বন্ধ করেছেন কি না। অনেক সময় আমরা গিজার বন্ধ করতে ভুলে যাই। এতে অনেকটা ইলেকট্রিসিটি নষ্ট হয়, যা পরোক্ষভাবে আপনার নির্ধারিত বাজেটের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক সময় আবার ড্রইংরুমে টিভি চালিয়ে আমরা রান্নাঘরে কাজ করতে চলে যাই। এই অভ্যেস কিন্তু একেবারেই ভালো নয়। ঠিক সেই রকমই কম্পিউটার বা ল্যাপটপ চালিয়ে রেখে অন্য কোনো কাজ করবেন না। এই ছোট ছোট সতর্কতা মানলে আপনার মাসিক বাজেট আপনার নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।
বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজনকে খাওয়াতে চাইলে বাড়িতে নিমন্ত্রণ করুন। একান্তই যদি বাইরে খাওয়াতে হয়, তা হলে মেনু নির্বাচনে সচেতন থাকুন।

Posted in লাইফস্টাইল | Leave a comment

শিশুরা বেশি বেশি টিভি দেখলে

urlশিশু চিকিৎসকরা যতটুকু মনে করেন, তার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর শিশুদের বেশি বেশি সময় টেলিভিশনের পর্দার সামনে বসে থাকা। নতুন পাওয়া তথ্য-পরিসংখ্যান মতে, বেশি সময় টেলিভিশন দেখলে শিশুদের রক্তচাপ বেড়ে যায় এমনকি সে শিশু যদি বেশি মোটা না হয়।
১১১ জন বালক-বালিকার ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, বেশি সময় টিভি দেখে যেসব শিশুদের তাদের সিসটোলিক ব্লাড প্রেসার ৬-৭ শতাংশ বেড়ে যায়। দিনে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে যেসব শিশু টিভি দেখে তাদের বেলায় এমনটি ঘটতে দেখা গেছে।
আর রক্তচাপ এই মাত্রায় বেড়ে যাওয়া স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ফেলার জন্য যথেষ্ট এ অভিমত মিসিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জো আইজেনম্যানের। তিনি পরামর্শ রেখে বলেন, আপনার শিশুর হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে তাদের টিভি দেখার সময় দুই ঘণ্টার মধ্যে সীমিত করে ফেলুন। হাঁটার মতো কর্মকাণ্ডে শিশুকে দিনে ১ ঘণ্টা লাগিয়ে রাখুন।

পঙ্গুত্ব ভালোবাসা শেষ করে দেয় না
যুক্তরাষ্ট্রে উতাহ অঙ্গরাজ্যের ব্রিগহাম ইয়ং বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, পঙ্গুত্ব স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার প্রেম আরো গভীরতর করে। জেরিমি ইয়োর্গেসন ১২ বছরের ৩৬-৭৫ বছর বয়সী এক হাজার ২০০ লোক খুঁজে পেয়েছেন, যাদের বৈবাহিক জীবনের সুখ আরো বেড়েছে, যখন ওই দম্পতির কোনো একজন স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, যদি যুগল জীবনে একজন শারীরিক সীমাবদ্ধতার শিকার হন, তখন অন্য জন আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, ‘এ থেকে বোঝা যায় পঙ্গুত্ব হচ্ছে একটি দ্বিমুখী পথ, যেখানে কিছু বিয়োগের মধ্য দিয়ে অবাক করা কিছু বিষয় জীবনে এসে যোগ হয়।’ তবে কেন পঙ্গুত্ব স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ককে আরো গভীর করে তোলে, এর কোনো কারণ বোঝা যায়নি। মনস্তত্ত্ববিদ্যার এ ক্ষেত্রে অনেক কিছুই করার বাকি।

ওজন কমানোর ওউন্ডার ড্রাগ
শিগগিরই বাজারে আসছে ওজন কমানোর ‘অবাক করা ওষুধ’ তথা ওউন্ডার ড্রাগ। হতে পারে আপনি ওষুধ খেয়ে শরীরের ওজন কমাতে আগ্রহী। যদি তাই হয় আপনি নিশ্চয় জানেন এ ক্ষেত্রে আপনার আমার জন্য কোনো ম্যাজিক বুলেট নেই। এখন যেগুলো আছে, সেগুলোর আছে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কিন্তু শিগগিরই বাজারে আসছে নতুন ওজন কমানোর ওষুধ Qnexa, এটি যুক্তরাষ্ট্রে অনুমোদন লাভ করেছে। মনে করা হচ্ছে, এই Qnexa কার্যকারিতার দিক থেকে বাজারের আর সব ওষুধকে ছাড়িয়ে যাবে। ওষুধটি অন্যান্য দেশেও শিগগিরই অনুমোদন লাভ করতে যাচ্ছে।

এক হাজার ২০০ মুটিয়ে যাওয়া রোগীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, যারা এই নতুন ওষুধ সর্বোচ্চ মাত্রায় ব্যবহার করেছেন, তারা গড়ে এক বছরে সাড়ে ১৬ কেজি করে ওজন কমিয়েছেন। হারানো এই ওজন মোটামুটিভাবে শরীরের ওজনের ১৪.৭ শতাংশ। এটি বড় মাপে ওজন কমানোর একটা উদাহরণ। অপর দিকে সে তুলনায় পরীক্ষায় দেখা গেছে, Xenical (orlistal)  অথবা Reductil (Sibutramine)  ব্যবহার করলে গড়ে একজন ওজন কমে মাত্র ১৫ কেজি।
ছহবীধ-র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও খুবই কম। এ ক্ষেত্রে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, হাত-পায়ের আঙুল শিরশির করা হচ্ছে অতি পরিচিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মুটিয়ে যাওয়া রোগবিষয়ক গবেষক ড. আর্থার ফ্র্যাঙ্ক বলেন, ছহবীধ-র ফলাফল খুবই আশাব্যঞ্জক। উল্লেখ্য, তিনি উল্লিখিত গবেষণায় সংশ্লিষ্ট ছিলেন না।

ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার
এমন কোনো ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার ছিল না যেটাকে আপনি বলবেন যৌনতার জন্য পুষ্টিকর বা সেক্সি নিউট্রিয়েন্ট। হঠাৎ করে এটি হয়ে উঠেছে সুপারস্টার। উৎপাদনকারী তা এখন যোগ করছেন দইয়ে, সিরাপে এবং এমনকি কৃত্রিম মিষ্টিকারকেও। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এখনো নিশ্চিত নন যে, এসব ফাইবার খাবারের মান বাড়ায়। এখন তা চেষ্টা করে দেখার অপেক্ষায় এবং তা পরীক্ষা করে দেখার মতো বিষয়ও।

হ্যাঁ, আপনি প্রচুর ফাইবার খেতে পারেন। এতে বিতর্ক নেই যে, হাই ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার একটি শক্তিশালী জীবন রক্ষাকারী। জানা গেছে, এটি হৃদরোগের ও ডায়াবেটিস রোগের ঝুঁকি কমায় এবং মুটিয়ে যাওয়া থেকেও রক্ষা করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমায়। ক্ষুদ্রান্তে ক্যান্সার সৃষ্টির ঝুঁকিও কমায়।

কিন্তু নতুন এ খাবার ধর্তব্যে না-ও আসতে পারে। কারণ এগুলো বেশির ভাগেই ব্যবহার হয় ‘রংড়ষধঃবফ’ ভরনৎব যা বের করে আনা হয়েছে সেই খাবার থেকে, যাতে মূলত এটি ছিল বললেন পুষ্টি বিশেষজ্ঞ টারা গিডাস।
ইনসুলিন, পলিডেক্সট্রোস ও মালেটাডেক্সট্রিনের মতো আইসোলেটেড ফাইবার হচ্ছে ফ্লেবারহীন এবং তা দই ও থিরাপকে আঠালো করে তোলে না। এর দোষের দিক হলো, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, এটি দীর্ঘমেয়াদের রোগে উপকারী কি না। অতএব এক গ্লাস ফাইবারসমৃদ্ধ আঙুরের রস খেয়েই দেখুন না। তবে ভুলবেন না এতে বেশি করে শস্যদানা শিমের বীচি ও ফল যোগ করতে যেগুলো সুপ্রমাণিত জীবন রক্ষাকারী।

কাজের সময়টা কি একটু কমিয়ে আনতে চান? ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে চেষ্টা করুন। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখেছেন, এই ই-ব্রেক সময় নষ্ট করার চেয়ে বরং কাজে মনোযোগ ও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে তোলে।
‘যারা কাজের মধ্যে মজা করার জন্য নেট সার্ফিং করে অফিসের কাজের সময়ের ২০ শতাংশের কম সময় এই নেট সার্ফিংয়ে যারা কাটায় তারা সবচেয়ে বেশি উৎপাদনশীল। তাদের উৎপাদনশীলতা অন্যদের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি।’ বলেছেন উল্লিখিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপণন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ড. ব্রেন্ট কুকার। কুকারের মতে, ইন্টারনেট হচ্ছে মনোযোগ নষ্ট হওয়ার রোগের ওষুধ। মাত্র ২০ মিনিট ইন্টারনেটে কাজ করলে কাজে আবার মনোযোগ ফিরে আসে।

আপনার কি কলোনোস্কোপি করার সময় হয়েছে?

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সময়টা এ ক্ষেত্রে একটা বিবেচ্য বিষয়। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের গবেষকরা পর্যালোচনা করে দেখেছেন তিন হাজার ৬ শ’রও বেশি কলোনোস্কোপির ফলাফল। তারা দেখেছেন চিকিৎসকরা পলিপস ডিটেকশন করতে পারেন সবচেয়ে ভালোভাবে সকাল বেলায় পরিচালিত পরীক্ষার সময়। পলিপস রূপ নিতে পারে ক্যান্সারে।

এই পলিপস পাওয়া গেছে ২৯ শতাংশ রোগীর মধ্যে, যাদের পরীক্ষা করা হয়েছিল সকাল বেলায়। আর যাদের পরীক্ষা করা হয় বিকেলে তাদের ২৫ শতাংশের মধ্যে পলিপস পাওয়া যায়। আসলে এই পলিপস পাওয়ার হার আস্তে আস্তে সময় কমতে থাকে বেলা বাড়ার সাথে সাথে। দিনের প্রথম ঘণ্টার পলিপস পাওয়া যায় ৩৪ শতাংশের মধ্যে আর শেষ ঘণ্টায় পাওয়া যায় ২২ শতাংশ রোগীর মধ্যে।

হতে পারে ডাক্তারদের পরিশ্রান্ত হয়ে যাওয়ার কারণেও তা ঘটতে পারে। ডাক্তারের কাজের শেষ ঘণ্টাগুলোতে পরীক্ষায় ততটা মনোযোগ নাও দিতে পারেন। এ অভিমত ডাক্তার মধুসূদন সরকারের। ফলে এ ক্ষেত্রে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার।

Posted in জতীয় সংসদ | Leave a comment

ভারতীয় মহাশূন্য যানের মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ

73491_isro-700উৎক্ষেপণের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ভারতের মঙ্গলযান বুধবার সকালে মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে প্রবেশ করেছে। প্রথমবারের চেষ্টাতেই মঙ্গলের মাটিতে পা দিয়ে রেকর্ড গড়েছে ভারতের মহাশূন্য গবেষণা সংস্থার (ইসরো) এই মঙ্গল যান। দেশবাসীকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

মঙ্গলে এ পর্যন্ত ৫১ বার অভিযান হয়েছে। এর মধ্যে ২১ বার অভিযান সফল হয়েছে। আমেরিকা, রাশিয়া, ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা মঙ্গলে সফল অভিযান করতে পেরেছে। তবে প্রথমবারই কেউ সফল হয়নি। এক্ষেত্রে সফল দেশ একমাত্র ভারত।

বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮ টা ২ মিনিটে মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করে ভারতের মহাশূন্য যান। ভারতের এই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে ইসরোর দপ্তরে স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি ছাড়াও রেল মন্ত্রী সদানন্দ গৌড়া, বেসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জি এম সিদ্ধেশ্বরী, ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার চেয়ারম্যান ড. কে রাধাকৃষ্ণ ও শীর্ষ বৈজ্ঞানিক ইউ আর রাও উপস্থিত ছিলেন।

ভারতের মঙ্গলযান মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশের পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরোর বিজ্ঞানী ও দেশবাসীকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘ভারত সফলভাবে মঙ্গলে প্রবেশ করে আজ ইতিহাস তৈরি করেছে।’

গত বছরের ৫ নভেম্বর ব্যাঙ্গালোরের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধবন মহাকাশ কেন্দ্র থেকে পিএসএলভি-সি ২৫ রকেটে চেপে মঙ্গলগ্রহে পাড়ি জমায় মঙ্গলযান। এর পরে বেশ কিছু দিন পৃথিবীর চার পাশে পাক খেতে খেতে নিজের গতি বাড়াতে থাকে এ মহাশূন্য যান। সবশেষে ১ ডিসেম্বর লালগ্রহের দিকে ছুটতে শুরু করে এটি। দশ মাস ধরে প্রায় ৬৬ কোটি ৬০ লাখ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলের কাছাকাছি পৌঁছে যায় মঙ্গলযান।

ইসরো জানিয়েছিল, বুধবার সকালেই মঙ্গলের অভিকর্ষের বলয়ে ঢুকবে মঙ্গলযান। পৃথিবীর চারপাশের গ্রহের প্রবল টান মোকাবেলা করে মঙ্গলযানকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে বসিয়ে দেয়ার দায়িত্ব¡ সামলাবে মহাকাশযানের ল্যাম ইঞ্জিন।
তারপর আশা আর আশঙ্কার দোলাচলে প্রতিটা মুহূর্ত কেটেছে ইসরোর বিজ্ঞানীদের। অবশেষে বুধবার সকালে আসলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। মঙ্গলের চার পাশে নির্দিষ্ট কক্ষে বসল মঙ্গলযান। ইতিহাসে নাম উঠল ইসরোর।

Posted in আন্তর্জাতিক | Leave a comment

বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির দায়ে যুবকের ৭ বছরের দণ্ড

20.3_29457ঢাকা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কটূক্তির দায়ে এক যুবককে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাইবার অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম শামসুল ইসলাম আজ বুধবার এ রায় দেন। তন্ময় মল্লিক নামে সাজাপ্রাপ্ত এই যুবকের বাড়ী খুলনার দাকোপ থানার গুরকাঠি গ্রামে। তার বাবার নাম তুলসি মল্লিক। সাত বছর দণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায়ের আগে তাকে আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, তন্ময় মল্লিক প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে গান রচনা করে তা মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে প্রচার করেন। এই ঘটনায় দাকোপ থানার এসআই জয়নাল আবেদিন বাদি হয়ে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা করেন। চলতি বছরের ১৯ মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাইবার ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় বিভিন্ন সময়ে ট্রাইব্যুনালে ১০ জন স্বাক্ষী দেন।

Posted in সারা দেশ | Leave a comment

‘ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পিত’ কেরাণীগঞ্জে চার খুন

কেরাণীগঞ্জ থেকে: দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের একই পরিবারের চারজন খুনের ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ। খুনিরা ঠাণ্ডা মাথায় বাসায় ঢুকে মুখ ও  হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে পরিবারটিকে। বুধবার বেলা সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবুর রহমান এসব কথা বলেন। খুনিদের ধরতে বাসা থেকে যথেষ্ট আলামত পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। তবে নিহত পরিবারের নাম-পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। এদিকে বাসা থেকে আলামত হিসেবে একটি ভাঙ্গা মোবাইল সেট, মানিব্যাগ, মাদক সেবনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় বাসার কেয়ারটেকার সোহেল ও স্থানীয় সিএনজিচালক আক্কাসকে আটক করা হয়েছে। কলাকান্দি এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল দেওয়ান জানান, সিএনজিচালক আক্কাসের মাধ্যমে কেয়ারটেকার সোহেল ২ মাস আগে বাসাটি ভাড়া দেয় পরিবারটিকে।24-09-14-4 Murder_Keranigonj-1 copy 24-09-14-4 Murder_Keranigonj-5 copy

তিনি আরো জানান, সকালে তার ভাগ্নে কাজী স্বপন ফোন দিয়ে জানায় এলাকার ছয়তলার দ্বিতীয়তলায় চারজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। তিনি ফোন পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে আসেন। বাসার দরজা খুলে তিনি গন্ধ পেয়ে ভেতরের প্রবেশ করেন। এরপর বাসার একটি কক্ষের ভেতর খাটের নীচে দুইটি লাশ দেখতে পান। এরপর খাট জাগিয়ে আরো দুই বাচ্চার লাশ দেখতে পান। প্রতিটি লাশের মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিলো। এদিকে এলাকার বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে মেম্বার বলেন, ‘তিন মাসের মধ্যে চারটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে আট নম্বর ওয়ার্ড থেকে। এই এলাকায় প্রায়ই এরকম লাশ উদ্ধার হয়।’

এদিকে বাসায় গিয়ে দেখা গেছে, শুধু কিছু কম্বল এবং একটি চৌকি পড়ে আছে। এই চৌকির নীচেই লাশগুলো ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ হাজার টাকা মাসিক ভাড়ায় সাতজন থাকার কথা বলে তারা বাসাটিতে ওঠেন। ঘটনার এক সপ্তাহ পর্যন্ত বাসাটিতে সাতজনই ছিল। সোহেলের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বাসায় উঠার আগে ভাড়াটিয়া পুরুষ সদস্য নিজেকে কাঁচামালের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। আব্দুল্লাহপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন।

বাসাটির দু’তলার ভাড়াটিয়া পাপিয়া আক্তার জানান, দুই মাস আগে তারা বাসাটি ভাড়া নেয়। তবে বেশির ভাগ সময় তাদের বাসাটি তালাবদ্ধ থাকত। তারা কারো সঙ্গেই কথা বলতেন না। ভাড়াটিয়ার বাচ্চারাও বাসার বাইরে খেলতে আসত না। তাদের নামও তিনি জানেন না। গত ২/৩ দিনে পাশের বাসা থেকে কোনো চিৎকার বা কান্নার আওয়াজ পেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো আওয়াজ আমি পাইনি।

Posted in জাতীয় | Leave a comment

তাহসান-তিশার ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’

Tisha-Tahsanবিনােদন ডেস্ক; ভালোবাসা ও যুদ্ধ নিয়ে শুরু হয় গল্প। কাহিনীর শেষেও তা। কারণ একটা মানুষের মনে ভালোবাসার পাশাপাশি যেন ঘৃনা ও ক্রোধ বাড়তে থাকে। এবার তিশা ও তাহসান খানকে নিয়ে পরিচালক ইমরাউল রাফাত একটি নাটক রচনার পাশাপাশি পরিচালনা করছেন। যার নাম ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’। সম্প্রতি উত্তরার বিভিন্ন লোকেশনে এর চিত্রায়ন শেষ হয়েছে। এ নাটকটি নিয়ে রাফাত বলেন, ‘প্রেম ভালোবাসার গল্প না এটি। একটি ছেলে মেয়ের পড়াশুনার পাশাপাশি থাকছে মারামারি, ঝগড়া-বিবাদের গল্প। যেমন একই ক্লাসে কে প্রথম হবে সেটা নিয়ে ঝগড়া। যে কোনো কাজে প্রতিযোগিতায় পাশাপাশি তাহসান ও তিশার জয়ী হবার প্রবণতাসহ নানা চমক থাকছে এখানে।’ এখানে তাহসান রাফি এবং তিশাকে সোনিয়া চরিত্রে অভিনয় করেছেন। টম ক্রিয়েশনের প্রযোজনায় বাংলাভিশনে ঈদের তৃতীয় দিন রাত ৮টায় প্রচার হবে ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’।

Posted in বিনোদন | Leave a comment

মোমের আলোয় চলবে পাখা

চট্টগ্রাম: নাগরিক জীবনে লোডশেডিং নিত্তনৈমিত্তিক ঘটনা। গরমে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় অতিষ্ট থাকে লোকজন। ব্যাঘাত হয় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠে মোমবাতি। এতে আলোর চাহিদা কিঞ্চিৎ মিটলেও গরমে মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে পড়ে। যদি মোমের আলোয় পাখাও ঘুরে তাহলে কেমন হয়? নিশ্চয় চোখ কপালে তুলে বলবেন কিভাবে সম্ভব? সে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী দীপ্ত সরকার। তার উদ্ভাবিত প্রযুক্তিতে মোমবাতি আলো ছড়ানোর পাশাপাশি চালাবে পাখাও।

কাচের চেম্বারে মোমবাতির রাখার দুই মিনিটের মধ্যে ঘুরে উঠবে পাখা। এটি একনাগাড়ে ১০হাজার ঘণ্টা পর্যন্ত চলবে। ‘সম্প্রতি ‘ডিজাইন অ্যান্ড ফেবরিকেশন অব এ টার্মোইলেক্ট্রিক জেনারেটর পাওয়ারড বাই ক্যান্ডেললাইট’’ শিরোনামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন দীপ্ত সরকার। তিনি বলেন,‘আমরা প্রতিনিয়ত বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিদ্যুৎ যোগান দেওয়া কোনভাবে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিনিয়ত লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় ভুগছে লোকজন। এ যন্ত্রণা থেকে নিস্তার পেতে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তরা জেনারেটর বা আইপিএসের উপর নির্ভর করে। কিন্তু গরমের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পান না নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত লোকজন। কারণ জেনারেটর কিংবা আইপিএস কেনার সামর্থ্য তাদের অনেকেরই নেই।’ “নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত লোকজনের কথা চিন্তা করে বিকল্প বিদ্যুৎ উৎসের চিন্তা করতে থাকি। একপর্যায়ে মোমবাতির তাপ শক্তি দিয়ে ফ্যান চালানোর পরিকল্পনাটি মাথায় আসে।”FALIAK8HEXSGBOS.LARGE_630016146 IMG_0083_288891341

দীপ্ত সরকার বলেন,‘বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেই আমরা মোমবাতি ব্যবহার করি। মোমবাতি থেকে আলো ও তাপ দুটিই পাই। কিন্তু আলো ব্যবহার করলেও তাপ শক্তি কোন কাজে লাগানো হয় না। থার্মোইলেক্ট্রিক যন্ত্রের মাধ্যমে এ তাপ শক্তি দিয়ে ছোট আকারের একটি ফ্যান চালানো সম্ভব।’ তিনি বলেন,‘বাণিজ্যিকভাবে এটি উৎপাদনে খরচ পড়বে মাত্র দেড় হাজার টাকা। থার্মোইলেক্ট্রিক যন্ত্র দিয়ে টানা ১০হাজার ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে।’ এক টুকরো কাঠ, একটি কাচের বাক্স, একটি থার্মোইলেকট্রিক কুলার, বেশ কিছু অ্যালুমিনিয়ামের পাত, একটি ফ্যান, একটি ইলেকট্রিক মোটর ও লোহারপাত দিয়ে এটি তৈরি করা যাবে বলে জানান তিনি।

প্রকল্পটির তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের সহকারি অধ্যাপক সানাউল বারী। তিনি বলেন,‘দেশে যে হারে লোডশেডিং হয় তার উদ্ভাবিত প্রযুক্তিটি খুবই কাজে আসবে। কারণ এটির লাইফ টাইম প্রায় ১০হাজার ঘণ্টা। প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসলে প্রযুক্তিটি স্বল্প খরচে বাণিজ্যিভাবে তৈরি করা সম্ভব। তখন এটি আরো মোডিফাই করা যাবে।’ তিনি বলেন,‘কনসেপ্টটি অনেক আগের হলেও ব্যবহারিকভাবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এ প্রথম বাস্তবায়ন করেছে দীপ্ত সরকার। সম্ভবত দেশেও প্রথম। এর আগে অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস্তবায়ন হয়েছে কি না তা আমার জানা নেই।’

Posted in তথ্যপ্রযুক্তি | Leave a comment

মাহাসড়কে আইন অমান্য করে পালিয়ে যাবার দিন শেষ!

10550936_931422346872862_1536861042773346014_nঢাকা: রাজধানী থেকে গাড়ি ছুটিয়ে চলেছেন। দুর্ঘটনা ঘটিয়ে মহাসড়কে উঠেই বাড়িয়ে দিলেন গাড়ির গতি। ভাবখানা এমন যে, এবার আপনাকে পায় কে! না। এ ভাবনার দিন শেষ। গাড়ির চাকা রাজধানীর গাবতলী ছাড়িয়ে ঢাকা আরিচা মহাসড়কে ওঠা মাত্রই আপনার গতিবিধি আর গাড়ি চলে এসেছে পুলিশের নজরদারীর মধ্যে। তেমনিভাবে যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাই, গাড়ি চুরির মতো অপরাধ কিংবা মহাসড়কে গাড়ি ভাংচুর, জননিরাপত্তা বিঘ্ন বা পেট্রোল ঢেলে গাড়িশুদ্ধ মানুষ পুড়িয়ে মারলেও এখন আর নিস্তার নেই। অন লাইনেই পুলিশ হেডকোয়ার্টাসে বসে পর্যবেক্ষণ করা যাবে সড়কের পরিস্থিতি। নিরাপত্তাহীন মহাসড়ককে আরো নিরাপদ করতেই নিবিড়ভাবে এ ধরনের নজরদারীর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বুধবার দুপুর থেকে। সুইচ টিপে ঢাকা জেলা পুলিশের উদ্যোগে আশুলিয়ার বাইপাইল পুলিশ বক্সে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার। দে ও পূজায় ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার, সাভার বাসস্ট্যান্ড, নবীনগর, ধামরাই থানার ইসলামপুর এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশুলিয়া, বাইপাইল, কবীরপুর ও চন্দ্রায় বসানো হয়েছে আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) ক্যামেরা।

ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার মতোই নিবির পর্যবেক্ষণে থাকা এসব ক্যামেরার বৈশিষ্ট হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেখানেই থাকুন না কেন অফিসে বসে কিংবা চলন্ত অবস্থায় মুঠোফোনেই দেখতে পাবেন সড়কের পরিস্থিতি। পুলিশের অর্থায়নে নয় বরং কমিউনিটি পুলিশের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠির সহায়তায় এ কাজটি বাস্তবায়ন করেছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, ঢাকা আরিচা মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ। পরীক্ষামূলকভাবে এ উদ্যোগে আমরা সাড়া পাচ্ছি। আইজিপি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করায় এ কার্যক্রম আরো গতি লাভ করবে বলেও জানান তিনি। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় নেয়া এ উদ্যোগের সুফল জনগণ ভালোভাবেই উপভোগ করবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা

।এ উদ্যোগের সম্প্রাসারণ করতে ইতোমধ্যে মানিকগঞ্জের প্রবেশ সীমানা অর্থাৎ ঢাকা জেলার শেষ সীমানা ধামরাইয়ের বারোবাড়িয়ায় ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। একটি নির্দিষ্ট সাইটে ঢুকে নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড দিয়ে থানা, পুলিশ বক্স কিংবা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সবখানেই স্থাপিত মনিটরে দেখা যাবে সড়কের হাল। আর এই কার্যাক্রমের নিয়ন্ত্রণ করা হবে কেন্দ্রিয়ভাবেই।এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার জানান, সড়কে নিরাপত্তার পাশাপাশি কেউ জ্বালাও পোড়াওয়ের কিংবা গাড়ি ভাংচুরের মতো ফৌজদারী অপরাধ করে পালাতে পারবে না। তাকে ধরা পড়তেই হবে। আইনের আওতায় আসতে হবে। তিনি জানান, তথ্য প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে এভাবে কেন্দ্রিয়ভাবে সড়ক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করায় অপরাধ প্রবণতা অনেক কমে আসবে। মানুষ স্বস্তিতে সড়ক ব্যবহার করতে পারবে। পর্যায়ক্রমে গোটা সড়ক নেটওয়ার্কে এ ধরনের ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আসাদুজ্জামান মিয়া বাংলানিউজকে জানান, কোথাও যানজট সৃষ্টি হলে এখন অফিসে বসেই তা মনিটরিং করা যাবে।

কর্তব্য পালনে কেউ অবহেলা করছে কি’না তাও নজরদারীতে আসবে। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, ঢাকা জেলার উত্তরাঞ্চলের ৪টি প্রবেশ দ্বারসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি পয়েন্টে ইন্টারনেট প্রোটোকল ক্যামেরা (আইপি) বসানো আছে। পর্যায়ক্রমে এ ধরনের ক্যামেরার সংখ্যা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে।ঢাকা জেলার পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আজিম জানান, ঈদ ও পূজায় ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আইপি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও বছর জুড়েই তা চলবে।তবে পুলিশ প্রধানের মতো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এই উদ্যোগ সড়ক মহাসড়কের পরিস্থিতিকে আরো উন্নত করবে। মহাসড়কে নজরদারীর পাশাপাশি কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যের কার্যক্রমকে জবাবদিহীতার আওতায় আনবে।

Posted in জাতীয় | Leave a comment

কুরবানির কিছু জরুরি মাসায়েল

urlতামীম রায়হান: ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ। মুসলিম উম্মাহর সার্বজনীন দু’টি উৎসবের অন্যতম একটি এই ঈদ। ঈদুল আজহার প্রধান আকর্ষণ পশু কুরবানি করা। নিজের অর্থে কেনা পশুটি আল্লাহর নামে উৎসর্গ করে জবাই করার মাধ্যমে একজন প্রকৃত মুসলমান মূলত নিজেকে আল্লাহর কাছে সমপর্ণের শিক্ষা নেয়। পশু কুরবানির অনেক ফজিলত রয়েছে। দু’টি পর্বে কুরবানির পশু কেনা ও জবাই সংক্রান্ত ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হবে। মঙ্গলবার দেওয়া হলো ১২টি মাসআলা।

১ মাসআলা: যার ওপর ছদকা ফিতর ওয়াজিব তার ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব। আর যে এমন সম্পদশালী নয় তার ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব হবে না। কিন্তু ওয়াজিব না হওয়া সত্ত্বেও যদি করতে পারে, তবে সওয়াব পাবে।

২ মাসআলা: মুসাফিরের ওপর (যখন সে তার ঘরবাড়ি ও এলাকার বাইরে সফরে থাকে) কুরবানি ওয়াজিব নয়।

৩ মাসআলা: ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সন্ধ্যা পর্যন্ত এই তিনদিন কুরবানি করার সময়। এই তিন দিনের মধ্যে যেদিন ইচ্ছা সেদিনই কুরবানি করা যায়; কিন্তু প্রথম দিন সবচেয়ে উত্তম, তারপর দ্বিতীয় দিন ও তারপর তৃতীয় দিন।

৪ মাসআলা: ঈদুল আজহার নামাজের আগে কুরবানি করা জায়েজ নয়। ঈদের নামাজের পর কুরবানি করতে হবে।

৫ মাসআলা: ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কুরবানি করা জায়েজ। সূর্যাস্তের পর আর কুরবানি হবে না।

৬ মাসআলা: কুরবানির তিনদিনের মধ্যে যে দু’টি রাত অন্তুর্ভূক্ত, সেই দুই রাতেও কুরবানি করা জায়েজ। কিন্তু রাতের বেলায় জবাই করা ভালো নয়। যদি কোনো একটি রগ কাটা না হয় তবে কুরবানি জায়েজ হবে না।

৭ মাসআলা: কেউ জিলহজের ১০ বা ১১ তারিখে সফরে ছিল বা গরীব ছিল, কিন্তু ১২ তারিখে সূর্যাস্তের আগে সে বাড়ি এসেছে বা কোনোভাবে সম্পদশালী হয়েছে অথবা কোথাও ১৫ দিন থাকার নিয়ত করেছে, এসব অবস্থায় তার কুরবানি ওয়াজিব হবে।

৮ মাসআলা: নিজের কুরবানির পশু নিজ হাতে জবাই করা মুস্তাহাব। যদি নিজে জবাই করতে না পারে, তবে অন্যের দ্বারা জবাই করা যাবে। কিন্তু নিজে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ভালো। মেয়েরা পর্দার ব্যাঘাত হয় বলে যদি সামনে উপস্থিত না থাকতে পারে, তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই।

৯ মাসআলা: কুরবানি করার সময় মুখে নিয়ত করা ও দোআ উচ্চারণ করা জরুরি নয়। শুধু মনে চিন্তা করে নিয়ত করে মুখে শুধু বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে জবাই করলে তার কুরবানিও জায়েজ হবে। কিন্তু স্মরণে থাকলে জায়েজ হলেও উক্ত দোআ দু’টি পড়া বেশি উত্তম।

১০ মাসআলা: কুরবানি শুধু নিজের পক্ষ থেকে ওয়াজিব হয়। এমন কি অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান যদি সম্পদের মালিক হয়, তবুও তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব নয় ও মা-বাবার উপরও ওয়াজিব নয়। যদি কেউ সন্তানের পক্ষ থেকে কুরবানি করতে চায়, তবে তার নফল কুরবানি হবে। কিন্তু অপ্রাপ্তবয়স্কের সম্পদ থেকে কিছুতেই কুরবানি হবে না।

১১ মাসআলা: বকরী, পাঠা, খাসি, ভেড়া, দুম্বা, গাভি, ষাঁড়, বলদ, মহিষ, উট এই ধরনের গৃহপালিত পশু দিয়ে কুরবানি করা জায়েজ। হরিণ ও অন্যান্য হালাল বন্যপশু দিয়ে কুরবানি আদায় হবে না।

১২ মাসআলা: গরু, মহিষ ও উট- এই তিন প্রকার পশুতে সাতজন পর্যন্ত অংশীদার হয়ে কুরবানি করতে পারে। তবে কুরবানি জায়েজ হওয়ার জন্য শর্ত হলো- কারো অংশ যেন সাত ভাগের এক ভাগের চেয়ে কম না হয় ও কারো যেন শুধু গোশত খাওয়ার নিয়ত না থাকে, সবারই যেন কুরবানির নিয়ত থাকে। অবশ্য যদি কারো আকিকার নিয়ত থাকে, তবে সেটাও জায়েজ হবে। কিন্তু যদি একজনেরও শুধু গোশত খাওয়ার নিয়ত থাকে, কুরবানির বা আকিকার নিয়ত না থাকে, তবে কারো কুরবানিই জায়েজ হবে না। এমনিভাবে যদি মাত্র একজনের অংশ সাতভাগের এক ভাগের চেয়ে কম হয়, তবে অংশীদারদের সবার কুরবানি নষ্ট হয়ে যাবে।

Posted in ইসলাম | Leave a comment

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud