April 16, 2026

জেলা প্রতিনিধি : পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে ইদানিং আহরহ ঘটছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বগুড়ায় অনার্স প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র।
শুক্রবার বগুড়া শহরের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে সরেজমিনে ঘুরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের এ দৃশ্য দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে বেশ সমালোচনা করতে দেখা গেছে। তবে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ বিষয়টি জানা নেই বলে বলেছেন।
শুক্রবার বগুড়ায় তিনটি সরকারি ও একটি বেসরকারি কলেজে ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীদের এক যোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ, সরকারি শাহ সুলতান কলেজ, সরকারি মজিবর রহমান মহিলা কলেজ ও সুখানপুকুর সৈয়দ আহমদ ডিগ্রি কলেজ।
পরীক্ষা চলাকালে সরেজমিনে বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে সংঘবদ্ধ চক্রটি। এরপর নির্দিষ্ট স্থানে বসে প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে তা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রার্থীদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিট আগেও পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে মেসেজ আকারে প্রশ্নের উত্তর আসতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে বগুড়ার কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি কলেজের শিক্ষক, সরকার দলীয় কিছু ছাত্র নেতা ও মেধাবী ছাত্ররা সরাসরি জড়িত। ১শ’ নম্বরের নৈর্ব্যত্তিক পরীক্ষার মধ্যে বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানের জন্য ৫০ নম্বরের উত্তর তৈরি করে তা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে চক্রটি।
পরীক্ষার আগের দিন এই চক্রটি তাদের নিয়োজিত দালালদের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা এবং মোবাইল ফোন নম্বর নিয়ে রাখে। পরীক্ষা শুরুর পর প্রার্থীদের কাছে ফাঁস করা প্রশ্নের উত্তর পাঠিয়ে দেয়া হয়।
সকালে পরীক্ষা শুরুর পর বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্রের সামনে দেখা গেছে, স্বনামধন্য এক কলেজের জনৈক শিক্ষক একই প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় কেন্দ্রের সামনে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে দর কষাকষি করছেন। বিষয়টি নিয়ে সেখানে সমালোচনা শুরু হলে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষকে ঘটনাটি জানান অভিবাবকরা। পরে অধ্যক্ষের হস্তক্ষেপে ওই শিক্ষক স্থান ত্যাগ করেন।
শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় বগুড়ার ওই তিনটি সরকারি ও বেসরকারি কলেজের ছয় হাজার ৪৭১টি আসনের বিপরীতে ১৫ হাজার ৫৭৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।
ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিককে মুখোমুখি যুক্তির লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার আহবান জানিয়েছে দ্বিতীয়বার ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২য় বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ বন্ধ করার পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যে যুক্তি দেখিয়েছেন তা সঠিক নয় দাবি করে শিক্ষার্থীরা এ আহবান জানায়। শুক্রবার বিকেলে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে উপাচার্যকে এ চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ঢাবিসহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২য় বার ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ এবং ৭ ডিসেম্বর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পুলিশদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করে শিক্ষার্থীরা। সমাবেশে ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ঢাবির উপাচার্য যে সকল যুক্তি দেখিয়ে ২য় বার ভর্তির পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার সব যুক্তিই খণ্ডনযোগ্য। তাই আমাদের দাবি উপাচার্য যেন আগামী রোববার সকাল দশটায় আমাদের সঙ্গে বসেন। গণমাধ্যম এবং সকলের উপস্থিতিতে তিনি (ঢাবি উপাচার্য) প্রমাণ করুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত যৌক্তিক নাকি আমাদের দাবি যৌক্তিক।

নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী তামজীদ বলেন, ওই দিন আমরা প্রথমে ঢাবির উপাচার্যকে অনুরোধ করব আমাদের যুক্তিগুলো গণমাধ্যমসহ সকলের উপস্থিতিতে খণ্ডন করুন। যদি তিনি আমাদের সঙ্গে কথা না বলতে চান তবে আমরা তার কার্যালয় ঘেরাও করব এবং তাকে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে বাধ্য করব। জনি হাসান রাজু নামে অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আগামী রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নয় ঢাবি উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করবো। কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঢাবি উপাচার্যেরই সব থেকে সম্পৃক্ততা বেশি। তিনি চাইলেই আমাদের দাবি আদায় সম্ভব। এ সময় প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ধানমন্ডি বয়েজ হাইস্কুল থেকে মিছিল নিয়ে ইডেন কলেজ, পলাশী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে গেলে পলাশীর মোড়ে পুলিশ প্রথমে শিক্ষার্থীদের বাধা দিলেও স্লোগান না দেয়ার শর্তে তাদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে দেয়। পরে বেলা আড়াইটা থেকে দেড় ঘণ্টা ধরে সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা।
ঢাকা: ৩৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় ৯৮২২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন আর আগামী বছরের ২৬ জানুয়ারি থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ ই ম নেছারউদ্দিন এ ফল প্রকাশের কথা জানান। দুই হাজার ৫২টি পদে নিয়োগের জন্য ২০১৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ৩৪তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে পিএসসি। ওই বছরের ২৪ মে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এক লাখ ৯৬ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেন প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল ৮ জুলাই প্রকাশ করা হয়। এতে ১২ হাজার ৩৩ জন উত্তীর্ণ হন। এ পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো প্রিলিমিনারিতে কোটাপদ্ধতি চালু করায় অনেক মেধাবী বঞ্চিত হন। অপেক্ষাকৃত কম নম্বর পেয়ে আদিবাসী ও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় অনেকেই উত্তীর্ণ হন। এ নিয়ে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে ১০ জুলাই ফল পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয় পিএসসি।
এরপর ১৪ জুলাই প্রচলিত পদ্ধতিতে সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে মোট ৪৬ হাজার ২৫০ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। পরে ২৮০ জন আদিবাসী আদালতে রিট করে লিখিত পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পান। এত বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা নেয়া নিয়ে সংকটে পড়ে পিএসসি। চলতি বছরের মার্চে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত শাহজালাল হলে তল্লাশী চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ২টি পিস্তল, ৬ রাউন্ড গুলি, ২০টি রামদা এবং অন্তত ২০ টি লোহার রড ও চাপাতি। রোববার ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর পুলিশ এ তল্লাশী চালায়। বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত এ অভিযান চলে। অভিযান শেষে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মো. শহীদুল্লাহজানান, শাহজালাল হলের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশী চালিয়ে এসব অস্ত্র উদ্ধার হয়। “তল্লাশী চলাকালে হলের অধিকাংশ কক্ষই তালাবদ্ধ ছিল। তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে এসব অস্ত্রশস্ত্র পাওয়া যায়।”

অভিযানে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত এই হলে জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মওদুদীর লেখা তাফহীমুল কোরআনসহ বেশ কিছু বই উদ্ধার হয় বলেও জানান তিনি। তল্লাশী অভিযানে আটক রুবেল দে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। সে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত বগিভিত্তিক সংগঠক ভার্সিটি এক্সপ্রেসের (ভিএক্স)। পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের পর রুবেল দে শাহজালাল হলের একটি কক্ষের বাইরে তালা লাগিয়ে ভেতরে অবস্থান করছিলেন। তল্লাশী চলাকালে তাকে আটক করা হয়। রুবেল দে’কে এর আগে সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা নাসির হায়দার বাবুলকে জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্চনার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দু’বার সাময়িক বহিষ্কার হয়েছিলেন।
ঢাকা: বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার পাস নম্বর ৪০ থেকে কমিয়ে ২০ করার জন্য সরকারের উপর প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের চাপ প্রয়োগ অব্যাহত থাকায় ভবিষ্যত চিকিৎসকদের মান নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে দেশের স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ। বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের মালিকদের অব্যাহত চাপের মুখে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় রোববার এ ব্যাপারে বৈঠক করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা। চিকিৎসাবিদ্যা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা যদিও বলছেন, ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের মানের বিষয়টি বিবেচনায় এনে ভর্তি পরীক্ষার পাস নম্বর না কমিয়ে বরং বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর ভর্তি ও টিউশন ফি কমানো উচিত। যাতে আরো অধিক ছাত্র মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়। তবে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশনের দাবির ব্যাপারে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়ুবুর রহমান বলেন, রোববারের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। ‘দেখি বৈঠকে কি সিদ্ধান্ত হয়’।

বৈঠকে স্বাস্থ্য সচিব, অতিরিক্ত সচিব, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সেক্রেটারিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্স সম্পন্ন করতে একজন ছাত্রকে ১৪ থেকে ২০ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়। বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল এসোসিয়েশনের সভাপতি এম মোয়াজ্জেম হোসাইন গত ৭ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষার নম্বর ৪০ থেকে কমিয়ে ২০ করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের ৪৯টি বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ৬ হাজার ৬০৫টি আসনের বিপরীতে চলতি সেশনে ছাত্র ভর্তি হতে পেরেছে মাত্র ১২’শ ছাত্র। এই প্রথমবারের মতো মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় ১’শ নম্বরের মধ্যে পাস মার্ক ৪০ করায় চলতি বছর ৬৬ হাজার ৯৮৭ জন ছাত্রের মধ্যে পাশ নম্বর পয়েছে মাত্র ২২ হাজার ৯৮৭ জন।
মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে প্রতি সেশনে ১০ হাজার ৬’শ জন ছাত্রের ভর্তির সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের মহাসচিব এম ইকবাল আরসালান বলেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মালিকদের স্বার্থ বিবেচনায় যদি পাস নম্বর কমিয়ে আনা হয় তাহলে তা ভবিষ্যত চিকিৎসকদের মানের উপর প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন,পাশ নম্বর কমিয়ে আনার পরিবর্তে যদি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা শিক্ষা ব্যয় কমিয়ে আনা হয়, তাহলে তারা আরো বেশি ছাত্র পাবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিএমএ’র সাবেক সভাপতি রাশিদ ই মাহবুব বলেন, মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার পাস নম্বর যদি কমিয়ে আনা হয় তাহলে গোটা চিকিৎসা শিক্ষার মানও কমে যাবে। তিনি বলেন, অনেক ‘‘অনাকাঙ্খিত’’ বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ রয়েছে যেখানে ভর্তি ও টিউশন ফি অনেক বেশি হওয়ায় ছাত্র সংকট প্রায় লেগেই থাকে। তিনি, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মালিকদের দাবির সমালোচনা করে বলেন, চিকিৎসা বিদ্যায় অধিক ব্যয় না করে মান সম্পন্ন শিক্ষা দেয়া সম্ভব নয় এমন দাবি করা হলেও প্রকৃতপক্ষে ভালো ছাত্রদের মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ না দিলে ভালো বা মানসম্পন্ন চিকিৎসক আশা করা যায় না।সুত্র…..নিউএজ
কুড়িতেই মেডিকেল পরীক্ষায় পাস !
নিউজ ডেস্ক: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সরকার। ১৩ই ডিসেম্বর থেকে ১২ই জানুয়ারি পর্যন্ত এ পদে আবেদন করা যাবে। আবেদন ফি ধার্য করা হয়েছে ১৬৬ টাকা ৫০ পয়সা। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় অস্থায়ীভাবে ১৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।
আবেদনের জন্য প্রার্থীদের http://dpe.teletalk.com.bd এবং www.dpe.gov.bd ওয়েবসাইটে লগ-ইন করতে হবে।
এছাড়া বিস্তারিত তথ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (www.dpe.gov.bd) এ পাওয়া যাবে।
নিউজ,ঢাকা: মঙ্গলবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ অন-লাইন পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার পাইলট প্রজেক্ট উদ্বোধন উদ্বোধনকালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, “এ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য হচ্ছে ঙগজ পদ্ধতি উঠিয়ে দিয়ে অন-লাইনের মাধ্যমে পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিক্ষকদের নিকট হতে নম্বরপত্র সংগ্রহ করে পরীক্ষা ব্যবস্থা সম্পন্ন করা। এর ফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল দেয়া সম্ভব হবে। এই পাইলট পদ্ধতি সফল হলে ধীরে ধীরে সকল পরীক্ষা এর অর্ন্তভূক্ত করা হবে এবং সেশন জট মুক্ত করা হবে।”
উলেখ্য, আজ ২০১৪ সালের বিএসসি ইন কম্পিউটার সায়েন্স ১ম বর্ষ ১ম সেমিস্টার পরীক্ষা সারাদেশে ৭টি কে্েন্দ্র অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় ৯২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। উক্ত পরীক্ষায় এ পাইলট প্রজেক্টটি ব্যবহার করে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত পরীক্ষার্থীদের হাজিরা ভিসি মহোদয় তাঁর নিজ অফিস কক্ষে বসে
অন-
লাইনের মাধ্যমে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।
এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো
-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আসলাম ভূঁইয়া, প্রফেসর ড. মুনাজ আহমেদ নূর, রেজিস্ট্রার, পরিচালক (আইসিটি) এবং শিক্ষক- কর্মকর্তাবৃন্দ।
চৌদ্দগ্রাম : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে শনিবার রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের বৌ-ভাতের দাওয়াত খেতে বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা মাদরাসা শিক্ষক সমিতি। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে স্বয়ং রেলমন্ত্রীই শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয় এমন কাজ পছন্দ করেন না বলে জানা গেছে। অতি উৎসাহী কতিপয় মাদরাসা শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে এমন কাণ্ড ঘটেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, গত ১ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশের ন্যায় চৌদ্দগ্রামেও স্কুল ও মাদরাসায় বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়। এরই মধ্যে মাদরাসায় গত ১ ডিসেম্বর সোমবার আরবি প্রথম পত্র, ২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার আরবি দ্বিতীয় পত্র, ৩ ডিসেম্বর বুধবার কোরআন, ৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার আকাইদ ও ফিকহ পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু ৪ ডিসেম্বর পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে মাদরাসাগুলোতে ৬ ডিসেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিতব্য গণিত বিষয়ের পরীক্ষা আগামী ১৭ ডিসেম্বর বুধবার অনুষ্ঠিত হবে জানানো হয়।
পরীক্ষা বন্ধের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় শিক্ষকরা রেলমন্ত্রীর বৌ-ভাতের দাওয়াতে যাবেন। এমন খবর শিক্ষার্থীরা অভিভাবকের কাছে বললে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অথচ উপজেলার মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে যথারীতি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন অভিভাবক শুক্রবার ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, কারো বৌ-ভাতের দাওয়াতে যেতে বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ হতে কখনও শুনি নাই। ছেলে-মেয়েরা অতি উৎসাহী ওই শিক্ষকদের থেকে কোন আদর্শিক শিক্ষা পাবে না বলেও মন্তব্য করেন অভিভাবকরা। অপরদিকে সচেতন মহলের প্রশ্ন- ‘রেলমন্ত্রী কি তার বৌ-ভাতের জন্য বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ করতে বলেছেন? ছেলে-মেয়েদেরকে আগে রুটিন দিয়ে দাওয়াতের অজুহাতে পরীক্ষা বন্ধ করা এটা কোন ধরনের শিক্ষা? এটা শুধুমাত্র হীন মানসিকতার বহি:প্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন অনেকে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও চলতি বছর জামায়াতের হরতাল এবং আন্দোলনের কারণে বেশ কয়েকটি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়।
এ নিয়ে সরকারের অধিকাংশ মন্ত্রীই আন্দোলনকারীদের ধিক্কার জানান। রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকও শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয় এমন কাজ পছন্দ করেন না। চৌদ্দগ্রাম মাধ্যমিক পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আয়েশা খানম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দেয়া রুটিন অনুযায়ী শনিবার যথারীতি গণিত বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে’। শুক্রবার বিকেলে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাদরাসা শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারি ও চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার নজমিয়া ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ একেএম সামছুদ্দিন বলেন, ‘বার্ষিক পরীক্ষাতো, এমনিতেই বন্ধ দিয়েছি। উপজেলার সবগুলো মাদরাসার পরীক্ষা কেন বন্ধ-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা কি জন্য বন্ধ দিয়েছে আমি জানি না। এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কানিজ আফরোজ জানান, পরীক্ষা বন্ধের বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে খোঁজ নিচ্ছি।
সুত্র……শীর্ষ নিউজ
নিউজ ডেস্ক: আমাদের সবারই লেখাপড়ার বিষয়ে কিছু বাজে অভ্যাস থাকে। নিজের বিষয়ে এ সমস্যার কথা আপনার জানা থাকতেও পারে, নাও পারে। এই বদভ্যাসের প্রতিদান শেষ পর্যন্ত পরীক্ষার ফলাফলের মধ্য দিয়ে পাওয়া যায়। তাই এ থেকে মুক্তি পাওয়া জরুরি। এখানে জেনে নিন, এমনই ৭টি বদভ্যাস যা শিক্ষাজীবনে হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
১. প্রতিকূল পরিবেশে লেখাপড়া করা : সব পরিবেশে লেখাপড়া করা যায় না। প্রতিকূল পরিবেশ যেকোনো দিক থেকে হতে পারে। যে চেয়ারে বসেছেন সেটি হয়তো মোটেও স্বস্তিকর নয়। কিছুক্ষণ পরই পিঠে ব্যথা হয়ে যেতে পারে। আবার যেখানে পড়ছেন তার আশপাশে হয়তো প্রচুর আওয়াজ। সেখানে পড়াশোনা সম্ভব নয়।
২. চিন্তার সাগরে ভেসে যাওয়া : পড়ার টেবিলে বসে হঠাৎ চিন্তার অতলে তলিয়ে যাওয়া বাজে অভ্যাস। গুরুত্বপূর্ণ পড়া বোঝার সময় যদি কোনো অন্তরঙ্গ কথোপকথন বা বাজে কোনো সমস্যার সমাধানের চিন্তায় ডুবে যান, তাহলে পড়ার বাকি কাজটুকু সারা অসম্ভব হয়ে যাবে।
৩. ভুল পার্টনার বেছে নেওয়া : অনেকে লেখাপড়ার গ্রুপ বা পার্টনার বেছে নেন। জটিল বিষয় নিয়ে একসঙ্গে পড়লে বেশ সুবিধা হয়। একে অপরকে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু পার্টনার বাছাইয়ে ভুল হলেই সেরেছে, লেখাপড়া মাথায় উঠবে। যার লেখাপড়ায় আগ্রহ নেই বা যার সঙ্গ পাওয়ামাত্রই আপনি অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তাকে নিয়ে পড়ার কাজ হবে না।
৪. অতিরিক্ত কম বা বেশি নোট নেওয়া : ক্লাসে শিক্ষক যা বলেন তার সম্পর্কে খুব বেশি বা কম নোট নেওয়া উচিত নয়। বেশি কম নোট নিয়ে কোনো লাভ হয় না। আবার অনেক বিস্তারিত নোট নিলে আসল বিষয় গুলিয়ে ফেলবেন। কাজেই নোট নিতে হবে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু।
৫. বইয়ের তথ্য হাইলাইট করা : তথ্য সংগ্রহ বলতে যদি শুধু বইয়ের নানা তথ্য হাইলাইট করা বোঝেন, তবে বিপদ। অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি বা সেমিস্টারের পড়া বইয়ে দাগিয়ে শেষ করা যায় না। এতে শুধু কোনো নির্দিষ্ট অংশই চোখে পড়ে, গোটা বাক্যটাও দেখা হয় না।
৬. একগাদা বিষয় একযোগে পড়া : পড়ার টেবিলে বসে যদি অতিরিক্ত বিষয় একযোগে পড়া শুরু করেন, তাহলে কোনোটিই পড়া হবে না। যত বেশি বিষয় নিয়ে বসবেন, লেখাপড়ায় জটিলতা তত বেশি সৃষ্টি হবে।
৭. গড়িমসি করা : এটাকে লেখাপড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বাজে অভ্যাস বলা যায়। যে বিষয়টি পড়তে হবে তা গড়িমসি করে রেখে দেওয়া সবচেয়ে ক্ষতিকর। কাল সময় রয়েছে, কাজেই আজ থাক- এভাবে পড়াশোনা এগিয়ে নেওয়া যাবে না। অথবা পড়ার সময় মনে হলো, নতুন জামার ডিজাইন করাটা খুবই জরুরি এবং তা নিয়ে বসে পড়লেন। আর এতেই যথেষ্ট বিড়ম্বনায় পড়ে যাবেন।
সূত্র : ইন্টারনেট

ঢাকা: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ‘যেহেতু আমিই দায়িত্বে আছি, তাই প্রশ্ন ফাঁসের দায় আমাকেই নিতে হবে। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, এমন কোনো খবর জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে এখনো আসেনি।’
সচিবালয়ে পিএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
, ‘আপনাদের (সাংবাদিক) কাছ থেকে এবং বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় খবর এসেছে যে, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের কোনো কোনো জায়গায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ মিল আছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ফেসবুকেও এ ধরনের প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দেয়া হচ্ছে। বলা হয়েছে, ‘আমরা ফাঁস করেছি এবং আরো করবো। এটা তারা কোন উদ্দেশ্যে করছে তা জানি না।’
প্রশ্নপত্রের শতভাগ মিল আছে এমন প্রশ্নপত্র আমাদের কাছে আছে, সে ক্ষেত্রে আপনি কী ব্যবস্থা নেবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা হুট করে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। এর আগে খোঁজ নিতে হবে কোন অঞ্চলে এর কতোটা প্রভাব পড়েছে। কতেটা ফাঁস হয়েছে। এরপর উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ফাঁসের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের কোনো দুর্বলতা আছে কি না এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘নিশ্চয়ই আছে। তা না হলে ফাঁস হলো কীভাবে? আজ মন্ত্রণালয়ের বৈঠক আছে। বৈঠকে প্রশ্ন ফাঁসের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
ফাঁসের দায় নেবে কে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমিই দায়িত্বে আছি, তাই প্রশ্ন ফাঁসের দায় আমাকেই নিতে হবে। ভালোরও দায়ও আমাকে নিতে হবে, মন্দটার দায়ও আমাকে নিতে হবে।’