পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

মোবাইল নিয়ে ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টায় আটক ৩

Mobileঢাকা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অভিনব পন্থায় মোবাইল নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টাকালে তিনজনকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুক্রবার বেলা আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে তল্লাশির সময়ই তারা ধরা পড়ে। আটকরা হল- মানিক চন্দ্র, ইমরান হোসেন ও হোসেন আহমেদ। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মাদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির চেষ্টা করায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের পরীক্ষা বাতিল করা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। , ২৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে বি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এবার এই ইউনিটে ৭১০টি আসনের (মানবিক-৪৯০টি, বিজ্ঞান- ১৪৫টি, বাণিজ্য ও অন্যান্য- ৭৫টি) বিপরীতে ৫০ হাজার ৫শ’ ৫১ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। ফলে প্রতি আসনের বিপরীতে এবার প্রায় ৭১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

Posted in শিক্ষা ও সংস্কৃতি | Leave a comment

শিক্ষাখাতে আরও বিনিয়োগ চান শিক্ষামন্ত্রী

emঢাকা: আধুনিক প্রজন্মকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে শিক্ষাখাতে আরও বিনিয়োগ চান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। রোববার বিকেলে ইউএনএসপিএ’র বিতর্ক প্রতিযোগীতার চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান। ডিবেট ফর ডেমক্রেসির আয়োজনে ডিবেট ফেস্টিভালের এ চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) অডিটোরিয়ামে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দরকার আধুনিক নতুন প্রজন্ম। আধুনিক নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা দরকার। তাই আমি শিক্ষা ক্ষেত্রে আরও আরও বিনিয়োগ চাই। বিতর্ক প্রতিযোগীতায় চ্যাম্পিয়ান হয়েছে ভিকারুননেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

Posted in শিক্ষা ও সংস্কৃতি | Leave a comment

রাবিতে ফুটবল খেলার সময় সংঘর্ষে আহত ১

রাবি প্রতিনিধি : index_36958রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আন্তঃবিভাগ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করেছে প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াররা। এ সময় আরো দুইজন আহত হয়। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়াম মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ ও দর্শন বিভাগের মধ্যে খেলা চলছিল। খেলায় ফাউল করাকে কেন্দ্র করে ইংরেজি বিভাগের খেলোয়াড়রা দর্শন বিভাগের খেলোয়াড় সোহেল রানাকে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় উভয় দলের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে আরো দুই জন আহত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ খেলা সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। এ ঘটনায় স্টেডিয়ামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Posted in শিক্ষা ও সংস্কৃতি | Leave a comment

শিশুর সুন্দর নাম রাখতে ইসলামের নির্দেশনা

ইসলাম ডেস্ক : শিশুর জন্মের পর তার জন্য একটি সুন্দর ইসলামী নাম রাখা প্রত্যেক মুসলিম পিতা-মাতার কর্তব্য। মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মুসলিমদের ন্যায় বাংলাদেশের মুসলিমদের মাঝেও ইসলামী সংস্কৃতি ও মুসলিম ঐতিহ্যের সাথে মিল রেখে শিশুর নাম নির্বাচন করার আগ্রহ দেখা যায়। এজন্য তাঁরা নবজাতকের নাম নির্বাচনে পরিচিত আলেম-ওলামাদের শরণাপন্ন হন। তবে সত্যি কথা বলতে কী এ বিষয়ে আমাদের পড়াশুনা একেবারে অপ্রতুল। তাই ইসলামী নাম রাখার আগ্রহ থাকার পরও অজ্ঞতাবশত আমরা এমনসব নাম নির্বাচন করে ফেলি যেগুলো আদৌ ইসলামী নামের আওতাভুক্ত নয়। শব্দটি আরবি অথবা কুরআনের শব্দ হলেই নামটি ইসলামী হবে তা নয়। কুরআনে তো পৃথিবীর নিকৃষ্টতম কাফেরদের নাম উল্লেখ আছে।
ইবলিস, ফেরাউন, হামান, কারুন, আবু লাহাব ইত্যাদি নাম তো কুরআনে উল্লেখ আছে। তাই বলে কী এসব নামে নাম বা উপনাম রাখা ঠিক হবে?
ব্যক্তির নাম তার স্বভাব চরিত্রের উপর ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে বর্ণিত আছে। শাইখ বকর আবু যায়েদ বলেন, ঘটনাক্রমে দেখা যায় ব্যক্তির নামের সাথে তার স্বভাব ও বৈশিষ্ট্যের মিল থাকে। এটাই আল্লাহর তাআলার হেকমতের দাবি। যে ব্যক্তির নামের অর্থে চপলতা রয়েছে তার চরিত্রেও চপলতা পাওয়া যায়। যার নামের মধ্যে গাম্ভীর্যতা আছে তার চরিত্রে গাম্ভীর্যতা পাওয়া যায়। খারাপ নামের অধিকারী লোকের চরিত্রও খারাপ হয়ে থাকে। ভাল নামের অধিকারী ব্যক্তির চরিত্রও ভাল হয়ে থাকে।
রাসূল (সা.) কারো ভাল নাম শুনে আশাবাদী হতেন। হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় মুসলিম ও কাফের দুপক্ষের মধ্যে টানাপোড়নের এক পর্যায়ে আলোচনার জন্য কাফেরদের প্রতিনিধি হয়ে সুহাইল ইবনে আমর নামে এক ব্যক্তি এগিয়ে এল তখন রাসূল (সা.)সুহাইল নামে আশাবাদী হয়ে বলেন- সুহাইল তোমাদের জন্য সহজ করে দিতে এসেছেন।সুহাইল শব্দটি সাহলুন (সহজ) শব্দের ক্ষুদ্রতা নির্দেশক রূপ। যার অর্থ হচ্ছে- অতিশয় সহজকারী। বিভিন্ন কবিলার ভাল অর্থবোধক নামে রাসূল (সা.)আশাবাদী হওয়ার নজির আছে। তিনি বলেছেন: গিফার (ক্ষমা করা) কবিলা তথা গোত্রের লোকদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিন। আসলাম (আত্মসমর্পণকারী/শান্তিময়)কবিলা বা গোত্রের লোকদেরকে আল্লাহ শান্তি দিন।
নিম্নে আমরা নবজাতকের নাম রাখার ক্ষেত্রে অনুসরণযোগ্য কিছু নীতিমালা তুলে ধরব:
এক: নবজাতকের নাম রাখার সময়কালের ব্যাপারে রাসূল (সা.)থেকে তিনটি বর্ণনা রয়েছে। শিশুর জন্মের পরপরই তার নাম রাখা। শিশুর জন্মের তৃতীয় দিন তার নাম রাখা। শিশুর জন্মের সপ্তম দিন তার নাম রাখা। এর থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, ইসলাম এ বিষয়ে মুসলিমদেরকে অবকাশ দিয়েছে। যে কোনোটির উপর আমল করা যেতে পারে। এমনকি কুরআনে আল্লাহ তাআলা কোনো কোনো নবীর নাম তাঁদের জন্মের পূর্বে রেখেছেন মর্মে উল্লেখ আছে।
দুই: আল্লাহর নিকট সবচেয়ে উত্তম নাম হচ্ছে আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে রাসূল (সা.)বলেছেন – إِنَّ أَحَبَّ أَسْمَائِكُمْ إِلَى اللَّهِ عَبْدُ اللَّهِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ অর্থ-তোমাদের নামসমূহের মধ্যে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছে- আব্দুল্লাহ (আল্লাহর বান্দা) ও আব্দুর রহমান (রহমানের বান্দা)।এ নাম দুটি আল্লাহর প্রিয় হওয়ার কারণ হল- নাম দুটিতে আল্লাহর দাসত্বের স্বীকৃতি রয়েছে। তাছাড়া আল্লাহর সবচেয়ে সুন্দর দুটি নাম এ নামদ্বয়ের সাথে সম্বন্ধিত আছে। একই কারণে আল্লাহর অন্যান্য নামের সাথে আরবী আবদ (বান্দা বা দাস) শব্দটিকে সমন্ধিত করে নাম রাখাও উত্তম।
তিন: যে কোনো নবীর নামে নাম রাখা ভাল। যেহেতু তাঁরা আল্লাহর মনোনীত বান্দা। হাদিসে এসেছে নবী (সা.)বলেছেন- তোমরা আমার নামে নাম রাখ। আমার কুনিয়াতে (উপনামে) কুনিয়ত রেখো না। নবী (সা.)এর কুনিয়ত ছিল- আবুল কাসেম। নবী করীম (সা.)তাঁর নিজের সন্তানের নাম রেখেছিলেন ইব্রাহিম। কুরআনে কারীমে ২৫ জন নবী-রাসূলের নাম বর্ণিত আছে মর্মে আলেমগণ উল্লেখ করেছেন। এর থেকে পছন্দমত যে কোনো নাম নবজাতকের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে।
চার: নেককার ব্যক্তিদের নামে নাম রাখাও উত্তম। এর ফলে সংশ্লিষ্ট নামের অধিকারী ব্যক্তির স্বভাবচরিত্র নবজাতকের মাঝে প্রভাব ফেলার ব্যাপারে আশাবাদী হওয়া যায়। এ ধরনের আশাবাদ ইসলামে বৈধ। এটাকে তাফাউল (تَفَاؤُلٌ) বলা হয়। নেককার ব্যক্তিদের শীর্ষস্থানে রয়েছেন রাসূল (সা.)এর সাহাবায়ে কেরাম। তারপর তাবেয়িন। তারপর তাবে-তাবেয়িন। এরপর আলেম সমাজ।
পাঁচ: আমাদের দেশে শিশুর জন্মের পর নাম রাখা নিয়ে আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা দেখা যায়। দাদা এক নাম রাখলে নানা অন্য একটা নাম পছন্দ করেন। বাবা-মা শিশুকে এক নামে ডাকে। খালারা বা ফুফুরা আবার ভিন্ন নামে ডাকে। এভাবে একটা বিড়ম্বনা প্রায়শঃ দেখা যায়। এ ব্যাপারে শাইখ বাকর আবু যায়দ বলেন, নাম রাখা নিয়ে পিতা-মাতার মাঝে বিরোধ দেখা দিলে শিশুর পিতাই নাম রাখার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত।[সূরা আহযাব ৩৩:৫]
শিশুর পিতার অনুমোদন সাপেক্ষে আত্মীয়স্বজন বা অপর কোনো ব্যক্তি শিশুর নাম রাখতে পারেন। তবে যে নামটি শিশুর জন্য পছন্দ করা হয় সে নামে শিশুকে ডাকা উচিত। আর বিরোধ দেখা দিলে পিতাই পাবেন অগ্রাধিকার।
ছয়: কোনো ব্যক্তির প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য তাকে তার সন্তানের নাম দিয়ে গঠিত কুনিয়ত বা উপনামে ডাকা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বড় সন্তানের নামের পূর্বে আবু বা পিতা শব্দটি সম্বন্ধিত করে কুনিয়ত রাখা উত্তম। যেমন- কারো বড় ছেলের নাম যদি হয় উমর তার কুনিয়ত হবে আবু উমর (উমরের পিতা)। এক্ষেত্রে বড় সন্তানের নাম নির্বাচন করার উদাহরণ রাসূল (সা.) এর আমল থেকে পাওয়া যায়। এক সাহাবীর কুনিয়াত ছিল আবুল হাকাম। যেহেতু হাকাম আল্লাহর খাস নাম তাই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পরিবর্তন করে দিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমার ছেলে নেই? সাহাবী বললেন, শুরাইহ, মুসলিম ও আব্দুল্লাহ। তিনি বললেন: এদের মধ্যে বড় কে? সাহাবী বললেন: শুরাইহ। তখন রাসূল (সা.)বললেন- তোমার নাম হবে: আবু শুরাইহ।
সাত: যদি কারো নাম ইসলামসম্মত না হয়; বরঞ্চ ইসলামী শরিয়তে নিষিদ্ধ এমন নাম হয় তাহলে এমন নাম পরিবর্তন করা উচিত। যেমন- ইতিপূর্বে উল্লেখিত হাদিস হতে আমরা জানতে পেরেছি একজন সাহাবীর সাথে ‘হাকাম’ শব্দটি সংশ্লিষ্ট হয়েছিল, কিন্তু হাকাম আল্লাহর খাস নামসমূহের একটি; তাই রাসূল (সা.) তা পরিবর্তন করে দিয়ে তাঁর নাম রেখেছেন আবু শুরাইহ।
মহিলা সাহাবী যয়নব (রা.)এর নাম ছিল বার্‌রা (بَرَّةٌ -পূর্ণবতী)। তা শুনে রাসূল (সা.)তাঁকে বললেন তুমি কি আত্মস্তুতি করছ? তখন রাসূল (সা.)তাঁর নামও পরিবর্তন করে ‘যয়নব’ রাখলেন।
আট: সাম্প্রতিককালে আমাদের দেশে বাংলা শব্দে নাম রাখার প্রবণতা দেখা যায়। ইসলামী নীতিমালা লঙ্ঘিত না হলে এবং এতদঅঞ্চলের মুসলিমদের ঐতিহ্যের সাথে সাংঘর্ষিক না হলে এমন নাম রাখাতে দোষের কিছু নেই।‘আল-মাউসুআ আলফিকহিয়া কুয়েতিয়া’ তথা কুয়েতস্থ ফিকহ বিষয়ক বিশ্বকোষ গ্রন্থে বলা হয়েছে- নাম রাখার মূলনীতি হচ্ছে- নবজাতকের যে কোনো নাম রাখা জায়েয; যদি না শরিয়তে এ বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকে। কিন্তু অনন্ত, চিরঞ্জীব, মৃত্যুঞ্জয় এ অর্থবোধক নাম কোনো ভাষাতেই রাখা কোনো অবস্থায় জায়েয নয়। কারণ নশ্বর সৃষ্টিকে অবিনশ্বর সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর গুণাবলীতে ভূষিত করা জায়েয নেই।
ইসলামে যেসব নাম রাখা হারাম
এক: আল্লাহর নাম নয় এমন কোনো নামের সাথে গোলাম বা আব্দ (বান্দা) শব্দটিকে সম্বন্ধ করে নাম রাখা হারাম। যেমন- আব্দুল ওজ্জা (ওজ্জার উপাসক), আব্দুশ শামস (সূর্যের উপাসক), আব্দুল কামার (চন্দ্রের উপাসক),আব্দুল কালাম (কথার দাস), আব্দুল কাবা (কাবাগৃহের দাস), আব্দুন নবী (নবীর দাস), গোলাম নবী (নবীর দাস), আব্দুস শামছ (সূর্যের দাস), আব্দুল কামার (চন্দ্রের দাস), আব্দুল আলী (আলীর দাস), আব্দুল হুসাইন (হোসাইনের দাস), আব্দুল আমীর (গর্ভনরের দাস), গোলাম মুহাম্মদ (মুহাম্মদের দাস), গোলাম আবদুল কাদের (আবদুল কাদেরের দাস)ইত্যাদি। তবে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায় নামের মধ্যে আব্দ শব্দটা থাকলেও ডাকার সময় আব্দ শব্দটা ছাড়া ব্যক্তিকে ডাকা হয়। যেমন আব্দুর রহমানকে ডাকা হয় রহমান বলে। আব্দুর রহীমকে ডাকা হয় রহীম বলে। এটি অনুচিত। আর যদি দ্বৈত শব্দে গঠিত নাম ডাকা ভাষাভাষীদের কাছে কষ্টকর ঠেকে সেক্ষেত্রে অন্য নাম নির্বাচন করাটাই শ্রেয়। এমনকি অনেক সময় আল্লাহর নামকে বিকৃত করে ডাকার প্রবণতাও দেখা যায়। এ বিকৃতির উদ্দেশ্য যদি হয় আল্লাহকে হেয় করা তাহলে ব্যক্তির ঈমান থাকবে না। আর এই উদ্দেশ্য না থাকলেও এটি করা অনুচিত।
দুই: অনুরূপভাবে যেসব নামকে কেউ কেউ আল্লাহর নাম মনে করে ভুল করেন অথচ সেগুলো আল্লাহর নাম নয় সেসব নামের সাথে আব্দ বা দাস শব্দকে সম্বন্ধিত করে নাম রাখাও হারাম। যেমন- আব্দুল মাবুদ (মাবুদ শব্দটি আল্লহর নাম হিসেবে কুরআন ও হাদীছে আসেনি; বরং আল্লাহর বিশেষণ হিসেবে এসেছে), আব্দুল মাওজুদ (মাওজুদ শব্দটি আল্লাহর নাম হিসেবে কুরআন ও হাদীছে আসেনি)।
তিন: মানুষ যে উপাধির উপযুক্ত নয় অথবা যে নামের মধ্যে মিথ্যাচার রয়েছে অথবা অসার দাবী রয়েছে এমন নাম রাখা হারাম। যেমন- শাহেনশাহ (জগতের বাদশাহ) বা মালিকুল মুলক (রাজাধিরাজ) নাম বা উপাধি হিসেবে নির্বাচন করা। সাইয়্যেদুন নাস (মানবজাতির নেতা) নাম রাখা। একই অর্থবোধক হওয়ার কারণে মহারাজ নাম রাখাকেও হারাম বলা হয়েছে।
চার: যে নামগুলো আল্লাহর জন্য খাস সেসব নামে কোন মাখলুকের নাম রাখা বা কুনিয়ত রাখা হারাম। যেমন- আল্লাহ, আর-রহমান, আল-হাকাম, আল-খালেক ইত্যাদি। তাই এসব নামে কোন মানুষের নাম রাখা সমীচীন নয়। পক্ষান্তরে আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে যেগুলো শুধু আল্লাহর জন্য খাস নয়; বরং সেগুলো আল্লাহর নাম হিসেবেও কুরআন হাদিসে এসেছে এবং মাখলুকের নাম হিসেবেও এসেছে সেসব নাম দিয়ে মাখলুকের নাম রাখা যেতে পারে।
কুরআনে এসেছে- قَالَتِ امْرَأَةُ الْعَزِيزِ অর্থ- আল আযিযের স্ত্রী বলেছেন[সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৫১]।
যেসব নাম রাখা মাকরুহ
এক: এমন শব্দে দিয়ে নাম রাখা যার অনুপস্থিতিকে মানুষ কুলক্ষণ মনে করে। যেমন- কারো নাম যদি হয় রাবাহ (লাভবান)। কেউ যদি রাবাহকে ডাকে, আর রাবাহ বাড়িতে না থাকে তখন বাড়ির লোকদেরকে বলতে হবে রাবাহ বাড়িতে নেই। এ ধরনের বলাকে সাধারণ মানুষ কুলক্ষণ মনে করে। অনুরূপভাবে আফলাহ (সফলকাম), নাজাহ (সফলতা) ইত্যাদির নামের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। নবী (সা.) এই ধরনের নাম রাখতে নিষেধ করেছেন। পরবর্তীতে নিষেধ না করে চুপ থেকেছেন।
দুই: যেসব নামের মধ্যে আত্মস্তুতি আছে সেসব নাম রাখা মাকরুহ। যেমন, মুবারক (বরকতময়) যেন সে ব্যক্তি নিজে দাবি করছেন যে তিনি বরকতময়, হতে পারে প্রকৃত অবস্থা সম্পূর্ণ উল্টো। অনুরূপভাবে রাসূল (সা.)এক মহিলা সাহাবীর নাম বার্‌রা (পূন্যবতী) থেকে পরিবর্তন করে তার নাম দেন যয়নব। এবং বলেন: তোমরা আত্মস্তুতি করো না। আল্লাহই জানেন কে পূন্যবান।
তিন: দাম্ভিক ও অহংকারী শাসকদের নামে নাম রাখা। যেমন- ফেরাউন, হামান, কারুন, ওয়ালিদ। শয়তানের নামে নাম রাখা। যেমন- ইবলিস, ওয়ালহান, আজদা, খিনজিব, হাব্বাব ইত্যাদি।
চার: যে সকল নামের অর্থ মন্দ। মানুষের স্বাভাবিক রুচিবোধ যেসব শব্দকে নাম হিসেবে ঘৃণা করে; ভদ্রতা ও শালীনতার পরিপন্থী কোন শব্দকে নাম বা কুনিয়ত হিসেবে গ্রহণ করা। যেমন, কালব (কুকুর) মুররা (তিক্ত) হারব (যুদ্ধ)।
পাঁচ: একদল আলেম কুরআন শরীফের মধ্যে আগত অস্পষ্ট শব্দগুলোর নামে নাম রাখাকে অপছন্দ করেছেন। যেমন- ত্বহা, ইয়াসীন, হামীম ইত্যাদি।
ছয়: অনুরূপভাবে আল্লাহর সাথে আব্দ (দাস) শব্দ বাদে অন্য কোন শব্দকে সম্বন্ধিত করা। যেমন- রহমত উল্ল্যাহ (আল্লাহর রহমত)। শায়খ বকর আবু যায়দের মতে রাসূল শব্দের সাথে কোন শব্দকে সম্বন্ধিত করে নাম রাখাও মাকরূহ। যেমন- গোলাম রাসূল (গোলাম শব্দটিকে যদি আরবী শব্দ হিসেবে ধরা হয় এর অর্থ হবে রাসূলের চাকর বা বাছা তখন এটি মাকরূহ। আর যেসব ভাষায় গোলাম শব্দটি দাস অর্থে ব্যবহৃত হয় সেসব ভাষার শব্দ হিসেবে নাম রাখা হয় তখন এ ধরনের নাম রাখা হারাম যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।)
আল্লাহর নামের সাথে আব্দ শব্দ সম্বধিত করে কিছু নির্বাচিত নাম:
আব্দুল আযীয (عَبْدُ الْعَزِيْزِ- পরাক্রমশালীর বান্দা), আব্দুল মালিক (عَبْدُ الْمَالِكِ-মালিকের বান্দা), আব্দুল কারীম (عَبْدُ الْكَرِيْمِ-সম্মানিতের বান্দা), আব্দুর রহীম (عَبْدُ الرَّحِيْمِ-করুণাময়ের বান্দা), আব্দুল আহাদ (عَبْدُ الْأَحَدِ- একক সত্তার বান্দা), আব্দুস সামাদ (عَبْدُ الصَّمَدِ- পূর্ণাঙ্গ কর্তৃত্বের অধিকারীর বান্দা), আব্দুল ওয়াহেদ (عَبْدُ الْوَاحِدِ-একক সত্তার বান্দা), আব্দুল কাইয়্যুম (عَبْدُ الْقَيُّوْمِ-অবিনশ্বরের বান্দা), আব্দুস সামী (عَبْدُ السَّمِيْعِ-সর্বশ্রোতার বান্দা), আব্দুল হাইয়্য (عَبْدُ الْحَيِّ-চিরঞ্জীবের বান্দা), আব্দুল খালেক (عَبْدُ الْخَالِقِ-সৃষ্টিকর্তার বান্দা), আব্দুল বারী (عَبْدُ الْبَارِيْ-স্রষ্টার বান্দা), আব্দুল মাজীদ (عَبْدُ الْمَجِيْدِ-মহিমান্বিত সত্তার বান্দা) ইত্যাদি।
নবী ও রাসূলগণের নাম
সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হচ্ছেন আমাদের নবী মুহাম্মদ (مُحَمَّدٌ); তাঁর অন্য একটি নাম হচ্ছে- আহমাদ (أَحْمَدُ)। শ্রেষ্ঠতম পাঁচজন রাসূলের নাম হচ্ছে- নূহ (نُوْحٌ), ইব্রাহীম (إبْرَاهِيْمُ), মুসা (مُوْسَى), ঈসা (عِيْسَى) ও মুহাম্মদ (مُحَمَّدٌ)। এগুলো ছাড়াও কুরআনে কারীমে আরো কিছু নবী ও রাসূলের নাম এসেছে সেগুলো হচ্ছে- হুদ (هُوْدٌ), সালেহ (صَالِحٌ), শুআইব (شُعَيْبٌ), দাউদ (دَاوُدُ), ইউনুস (يُوْنُسُ), ইয়াকুব (يَعْقُوْبٌ), ইউসুফ (يُوْسُفُ), ইসহাক (اِسْحَاقٌ), আইয়ুব (أَيُّوْبُ), যাকারিয়া (زَكَرِيَّا), লূত (لُوْطٌ), হারুন (هَارُوْنٌ), ইসমাঈল (اِسْمَاعِيْلُ), ইয়াহইয়া (يَحْيى), যুল-কিফেল (ذُو الْكِفْلِ), আল-ইসাআ (اَلْيَسَع), আদম (آدم) ও একজন নেককার বাদশাহ হিসেবে ‘যুলকারনাইন’ (ذُو الْقَرْنَيْنِ) ইত্যাদি।
index_36616
সাহাবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হচ্ছেন- চারজন খলিফা। মর্যাদা অনুযায়ী তাঁদের সুপরিচিত নাম বা উপনাম হচ্ছে- আবু বকর (أَبُوْ بَكْر), উমর (عُمَرُ), উসমান (عُثْمَانُ), আলী (عَلِيٌّ)। এর পরের মর্যাদায় রয়েছেন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত বাকী ৬ জন সাহাবী। তাঁদের নাম হচ্ছে- আব্দুর রহমান (عبد الرحمن), যুবাইর (الزبير), তালহা (طَلْحَةُ), সাদ (سَعْدٌ), আবু উবাইদা (أَبُوْ عُبَيْدَةُ), সাঈদ (سَعِيْدٌ)। এরপর মর্যদাবান হচ্ছেন- বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীগণ। বিশিষ্ট সাহাবী যুবাইর ইবনুল আওয়াম রাদিয়াল্লাহু আনহ তার ৯ জন ছেলের নাম রেখেছিলেন বদরের যুদ্ধে শহীদ হওয়া ৯ জন সাহাবীর নামে। তাঁরা হলেন- আব্দুল্লাহ (عَبْدُ الله), মুনযির (مُنْذِرٌ), উরওয়া (عُرْوَةُ), হামযা (حَمْزَةُ), জাফর (جَعْفَرٌ), মুস‘আব (مُصْعَبٌ), উবাইদা (عُبَيْدَةُ), খালেদ (خَالِدٌ), উমর (عُمَرُ)।
মেয়ে শিশুর আরো কিছু সুন্দর নাম
রাসূল (সা.)এর স্ত্রীবর্গ তথা উম্মেহাতুল মুমিনীন এর নাম: খাদিজা (خَدِيْجَةُ), সাওদা (سَوْدَةُ), আয়েশা (عَائِشَةُ), হাফসা (حَفْصَةُ), যয়নব (زَيْنَبُ), উম্মে সালামা (أُمِّ سَلَمَة), উম্মে হাবিবা (أُمِّ حَبِيْبَة), জুওয়াইরিয়া (جُوَيْرِيَةُ), সাফিয়্যা (صَفِيَّةُ)।
রাসূল (সা.)এর কন্যাদের নাম: ফাতেমা (فَاطِمَةُ), রোকেয়া (رُقَيَّةُ), উম্মে কুলসুম (أُمُّ كلْثُوْم)। আরো কিছু নেককার নারীর নাম- সারা (سَارَة), হাজেরা (هَاجِر), মরিয়ম (مَرْيَم)।
মহিলা সাহাবীদের নাম- রুফাইদা (رُفَيْدَةُ -সামান্য দান), আমেনা (آمِنَةُ -প্রশান্ত আত্মা), আসমা (أَسْمَاءُ -নাম), রাকিকা (رَقِيْقَةٌ-কোমলবতী), নাফিসা (نَفِيْسَةُ-মূল্যবান), উমামা (أُمَامَةُ- তিনশত উট), লায়লা (لَيْلى -মদ), ফারিআ (فَرِيْعَةُ -লম্বাদেহী), আতিকা (عَاتِكَةُ -সুগন্ধিনী), হুযাফা (حُذَافَةُ-সামান্য বস্তু), সুমাইয়্যা (سُمَيَّةُ -আলামত), খাওলা (خَوْلَةُ-সুন্দরী), হালিমা (حَلِيْمَةُ -ধৈর্য্যশীলা), উম্মে মাবাদ (أم مَعْبَد-মাবাদের মা), উম্মে আইমান (أمَّ أَيْمَن-আইমানের মা), রাবাব ( رَبَاب-শুভ্র মেঘ), আসিয়া (آسِيَةُ-সমবেদনা প্রকাশকারিনী), আরওয়া (أرْوَى -কোমল ও হালকা), আনিসা (أنِيْسَةُ -ভাল মনের অধিকারিনী), জামিলা (جَمِيْلَةُ-সুন্দরী), দুর্‌রা (دُرَّة-বড় মতি), রাইহানা (رَيْحَانَة-সুগন্ধি তরু), সালমা (سَلْمى-নিরাপদ), সুআদ (سُعَاد-সৌভাগ্যবতী), লুবাবা (لُبَابَة-সর্বোত্তম), আলিয়া (عَلِيَّةُ-উচ্চমর্যাদা সম্পন্না), কারিমা (كَرِيْمَةُ-উচ্চবংশী)।
মেয়েদের আরো কিছু সুন্দর নাম- ছাফিয়্যা (صَفِيَّةُ), খাওলা (خَوْلَةُ), হাসনা (حَسْنَاء-সুন্দরী), সুরাইয়া (الثُّرَيا-বিশেষ একটি নক্ষত্র), হামিদা (حَمِيْدَةُ-প্রশংসিত), দারদা (دَرْدَاءُ), রামলা (رَمْلَةُ- বালিময় ভূমি), মাশকুরা (مَشْكُوْرَةٌ-কৃতজ্ঞতাপ্রাপ্ত), আফরা (عَفْرَاءُ-ফর্সা)।
ছেলে শিশুর আরো কিছু সুন্দর নাম
উসামা (أسامة-সিংহ), হামদান (প্রশংসাকারী), লাবীব (لبيب-বুদ্ধিমান), রাযীন (رزين-গাম্ভীর্যশীল), রাইয়্যান (ريَّان-জান্নাতের দরজা বিশেষ), মামদুহ (مَمْدُوْح-প্রশংসিত), নাবহান (نَبْهَان- খ্যাতিমান), নাবীল (نَبِيْل-শ্রেষ্ঠ), নাদীম (نَدِيْم-অন্তরঙ্গ বন্ধু), ইমাদ (عِمَاد- সুদৃঢ়স্তম্ভ), মাকহুল (مكحول-সুরমাচোখ), মাইমূন (مَيْمُوْن- সৌভাগ্যবান), তামীম (تَمِيْم-দৈহিক ও চারিত্রিকভাবে পরিপূর্ণ), হুসাম (حُسَام-ধারালো তরবারি), (بَدْرٌ-পূর্ণিমার চাঁদ), হাম্মাদ (حَمَّادٌ-অধিক প্রশংসাকারী), হামদান (حَمْدَانُ-প্রশংসাকারী), সাফওয়ান (صَفْوَانُ-স্বচ্ছ শিলা), গানেম (غَانِمٌ-গাজী, বিজয়ী), খাত্তাব (خَطَّابٌ-সুবক্তা), সাবেত (ثَابِتٌ-অবিচল), জারীর (جَرِيْرٌ- রশি), খালাফ (خَلَفٌ- বংশধর), জুনাদা (جُنَادَةُ- সাহায্যকারী), ইয়াদ (إِيَادٌ-শক্তিমান), ইয়াস (إِيَاسٌ-দান), যুবাইর (زُبَيْرٌ- বুদ্ধিমান), শাকের (شَاكِرٌ-কৃতজ্ঞ), আব্দুল মুজিব (عَبْدُ الْمُجِيْبِ- উত্তরদাতার বান্দা), আব্দুল মুমিন (عَبْدُ الْمُؤْمِنِ- নিরাপত্তাদাতার বান্দা), কুদামা (قُدَامَةُ- অগ্রণী), সুহাইব (صُهَيْبٌ-যার চুল কিছুটা লালচে) ইত্যাদি।

Posted in শিক্ষা ও সংস্কৃতি | Leave a comment

দৃষ্টিহীনদের দৃষ্টি যেখানে…

9.gifদৃষ্টিহীনদের দৃষ্টি যেখানে… 9ঢাকা: জীবনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্না বিজড়িত স্মৃতি সহজ ভাষায় সাবলীলভাবে লিপিবদ্ধ করা বা চলমান জীবনে দেখা-অদেখা, জানা-শোনা, কাল্পনিক-বাস্তব নিজ বা অন্যের জীবন গাথা অথবা এলোমেলো ভাবনাগুলো এক রশিতে বেঁধে সাজিয়ে-গুছিয়ে লিখে প্রকাশ করাই কবিতা। একজন সাহিত্যিক তার ভাষায় এভাবেই কবিতার রূপায়ন করেছেন। যদি তাই হয় তাহলে কী একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কখনো কবি হয়ে উঠতে পারেব না?
জ্ঞানদান
দৃষ্টিহীনদের দৃষ্টি যেখানে… 7ঢাকার মিরপুরে ব্যাপ্টিস্ট মিশন ইন্টিগ্রেটেড স্কুল। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ স্কুলে এখন শিক্ষা নিচ্ছে ৮০ জনেরও বেশি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। ব্যাপ্টিস্ট মিশন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সুমায়রা মিম। তার ক্লাসের সব বন্ধুরাই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।

শিক্ষকরাও অনেকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী5.gif
দৃষ্টিহীনদের দৃষ্টি যেখানে… 5এ স্কুলে সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম থাকায় স্বাভাবিক দৃষ্টি সম্পন্ন মিম পড়াশুনা করছে এখানে। ক্লাসের সব বন্ধুরা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হলেও ওদের সঙ্গে পড়াশুনা করতে ভালোই লাগে তার। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ স্কুলের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠদান চলে। এ স্কুলের শিক্ষকদের মধ্যেও কেউ কেউ আছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।
ব্রেইল পড়া
দৃষ্টিহীনদের দৃষ্টি যেখানে… 2বাংলাদেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫০ হাজারের মতো। অবশ্য ব্যাপ্টিস্ট মিশন স্কুলের দুই শিক্ষার্থী মিলে একটি ব্রেইল বই পড়তে হয়। বাংলাদেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মাঝে বইয়ের অভাব অনেক বেশি। সহজলভ্য না হওয়ায় বেশিরভাগ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা তাই বইয়ের সঙ্কটে থাকেন।
অ্যাসিডে ঝলসে যাওয়া নমিতা
দৃষ্টিহীনদের দৃষ্টি যেখানে… 4ব্যাপ্টিস্ট মিশন স্কুলের শিক্ষিকা নমিতা। স্বাভাবিক চোখ নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন তিনি। স্কুলে পড়ার সময় বখাটেদের ছোঁড়া অ্যাসিডে ঝলসে যায় মুখ, হারান চোখও। এরপরও থামেনি তার পথ চলা। লেখাপড়া শেষ করে এখন তিনি শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মাঝে।
হাতের কাজেও তারা পাকা
দৃষ্টিহীনদের দৃষ্টি যেখানে… 6ব্যাপ্টিস্ট মিশন স্কুলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি শেখানো হয় হাতের কাজও। শিক্ষার্থীরা অনেক আগ্রহ নিয়ে এসব কাজ শেখেন। অনেক প্রতিষ্ঠানও কিনে নিয়ে যায় তাদের তৈরি জিনিসপত্র।
ফিজিওথেরাপি
দৃষ্টিহীনদের দৃষ্টি যেখানে… 3ব্যাপ্টিস্ট মিশন স্কুলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদেরকে দেয়া হয় ফিজিওথেরাপিও। কারণ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অনেকেরই শারীরিক কিছু সমস্যা থাকে, যেগুলো এই ফিজিওথেরাপির মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব।
হোস্টেলেই থাকে শিক্ষার্থীরা
দৃষ্টিহীনদের দৃষ্টি যেখানে… 8ব্যাপ্টিস্ট মিশন স্কুলের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই আবাসিক। স্কুলের অ্যাকাডেমিক ভবনের পাশেই লাগোয়া একটি ভবনে থাকার জায়গা এসব শিক্ষার্থীদের। তাই স্কুল শেষে হোস্টেলে ফিরে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা।

Posted in শিক্ষা ও সংস্কৃতি | Leave a comment

ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ: ৮০ শতাংশ পরীক্ষার্থীই ফেল!

downloadঢাকা:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীন ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এ নিয়ে হতাশার চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রায় ৮০ শতাংশ পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় পাস মার্ক তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এই ফলাফল ঘোষণা করেন। গত শুক্রবার ১,১৭০ আসনের বিপরীতে ৪৮ হাজার ৫৭ জন ভর্তিচ্ছু পরীক্ষায় অংশ নেন। এদের মধ্যে ৯ হাজার ৯০৬ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। সে হিসেবে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৬১ শতাংশ। শিক্ষার্থীরা মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে ফিরতি এসএমসে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট  http://admission.eis.du.ac.bd/ থেকে ফল জানতে পারবেন। এসএমএসে ফল জানতে যে কোন মোবাইল অপারেটর থেকে GA লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে তা ১৬৩২১ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে। গত শুক্রবার ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধ শুরু হয়। ওই পরীক্ষায় মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে জালিয়াতির চেষ্টার অভিযোগে আট শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশে দেয়া হয়।
Posted in শিক্ষা ও সংস্কৃতি | Leave a comment

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি, আটক ৭

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের অধীন ‘গ ইউনিটের’ ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে সাত পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাঁদের মোবাইলে খুদেবার্তায় প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাজধানীর ছয়টি কেন্দ্র থেকে তাঁদের আটক করা হয়। আটক করা শিক্ষার্থীরা হলেন শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজ কেন্দ্র থেকে

05-09-14-DU Admission Test-5

সানজানা বিনতে বশির, বদরুন্নেসা কলেজ কেন্দ্র থেকে ফয়সাল কবির, আজিমপুর অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে আহাদুর রহমান, ধানমন্ডির আইডিয়াল কলেজ থেকে আরিফুল ইসলাম, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে নুরুল আফসার, আজিমপুর গার্হস্থ্য কলেজ থেকে মেহেদী হাসান ও এরশাদ হক। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক এম আমজাদ আলী বলেন, পরীক্ষা চলাকালে ওই সাত পরীক্ষার্থীর মোবাইলে বাইরে থেকে খুদেবার্তার মাধ্যমে পাঠানো প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেছে। এসব পরীক্ষার্থীকে আটক করে পরীক্ষা কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসব শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন, অতিরিক্ত সিম কার্ড, প্রবেশপত্র, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ড জব্দ করা হয়। আটক হওয়া শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা ইউসিসি, ইউনিএইড (কিরণ-কবির-সুমন) ও প্যারাগন কোচিং সেন্টারের শিক্ষকদের সহায়তায় এই জালিয়াতি করতে চেয়েছিলেন।

Posted in শিক্ষা ও সংস্কৃতি | Leave a comment

‘খোলা আকাশের নিচে আমরা, শিক্ষামন্ত্রী আপনি কোথায়’

89825_1ঢাকা: শিক্ষার্থীদের হাতে প্ল্যাকার্ড। লেখা, ‘আমাদের বিদ্যালয় আমরাই বাঁচাব’, ‘বিদ্যালয় দখল করা চলবে না, বন্ধ কর’, ‘খোলা আকাশের নিচে আমরা, শিক্ষামন্ত্রী আপনি কোথায়’। মুখে ছিল স্লোগান ‘সামাজিক বিদ্যালয়ে আমরাই থাকব’, ‘শিক্ষা আমার অধিকার, শিক্ষা কোনো পণ্য নয়’, ‘ছাত্র কেন রাজপথে, শেখ হাসিনা জবাব চাই’। বেলা ১১টার কিছু সময় পর রাজধানীর বেইলি রোডের সামাজিক শিক্ষাকেন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের দৃশ্য এটি। রাজধানীর ২৮টি বিদ্যালয়ের ভূমি দখলের প্রতিবাদে এবং ভেঙে ফেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পুনর্নির্মাণের দাবিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা মহানগর সংসদ সেখানে ছাত্র গণসমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করে। সমাবেশ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া ভেঙে ফেলা স্কুলের ভবনগুলো ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুনর্নির্মাণ ও ভূমি সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে এই প্রতিনিধি বলেন, বেলা ১১টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এর কিছুটা পরে শুরু হওয়া সমাবেশের শুরুতেই রাস্তায় অবস্থান করা নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে পুলিশের কথা-কাটাকাটি হলে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আয়োজকেরা রাস্তার একপাশে ত্রিপল বিছিয়ে অবস্থান করতে চাইলে পুলিশ তাতেও বাধা দেয়। পরে রাস্তায় অবস্থান করতে দিলেও পুলিশ মাইক ব্যবহারে বাধা দেয়। মাইক ছাড়া বক্তারা বক্তব্য দিলেও সমাবেশের শেষের দিকে মাইক ব্যবহার করতে চাইলে পুলিশ আবার বাধা দেয়। আয়োজকেরা দাবি করেন, রাজধানীর ৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমাবেশে অংশ নেয়; যার মাত্র একটি কলেজ। সমাবেশে আসার কারণ জানতে চাইলে নীলক্ষেত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সাকিবুল ইসলাম বলে, ‘শিক্ষা তো সবার জন্য। বন্ধুদের স্কুল ভেঙে ফেলছে, তাই আন্দোলন করতে আসছি।’ সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের যে রীতি তার প্রতিফলন হচ্ছে বিদ্যালয় ভেঙে মার্কেট নির্মাণ। শিক্ষার্থীরা আবার রাজপথে নামবে, সরকার ’৬২-র শিক্ষা আন্দোলন দেখবে বলেও দাবি করেন বক্তারা। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শান্তিনগর মোড় পর্যন্ত গেলে সেখানেই সমাবেশের সমাপনী ঘোষণা করেন সমাবেশের সভাপতি ঢাকা মহানগর ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি বিধান বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আহসান খান, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ, ছাত্র ইউনিয়নের নেতারা, অভিভাবকেরা, কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রমুখ। উৎসঃ প্রথম আলো

Posted in শিক্ষা ও সংস্কৃতি | Leave a comment

স্কুল গেছে তিস্তায়, ক্লাস গোয়াল ঘরে

হুমায়ুন কবীর: স্কুলভবন তিস্তায় বিলীন হয়ে যাওয়ার পর খোলা আকাশের নিচেই পাঠদান চলছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। গত ১৭ জুলাই বিদ্যালয় ভবনের একাংশ তিস্তার ভাঙনে বিলীন হওয়ার পর বাকিটা নিলামে বিক্রি করে দেয়া হয়। তখন থেকে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির বাড়ির উঠানে ত্রিপল টাঙিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বেঞ্চ পেতে যেখানে শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছেন তার পাশেই রয়েছে গোয়াল ঘর; বৃষ্টি হলে ওই ঘরে গরুর সঙ্গেই আশ্রয় নিতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষাও নেয়া হয়েছে দায়সারাভাবে। বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র খোলা আকাশের নিচে ফেলে রাখায় তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সোহেল রানা বলেন, “আমাদের প্রাথমিক সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষা নভেম্বরে। কিন্তু ক্লাস ঠিকমত হয় না।” উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র রায় বলেন, “শিক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন করতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ দেখে আমরা হতবাক। এভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চলে না।” বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম মুকুল জানান, তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলার পরও পাঠদানের একটা সুষ্ঠু ব্যবস্থা করা যায়নি। “নভেম্বরে প্রাথমিক সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষা। সভাপতি তার বাড়িতে ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কিন্তু সেখানেও জায়গা কম। গোয়াল ঘরের পাশে খোলা জায়গায় ত্রিপল টাঙিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে।”

RANGPUR-1 RANGPUR-2

প্রধান শিক্ষক জানান, ওই উঠোনে স্কুলের ৩৪৫ জন শিক্ষার্থীকে জায়গা দেয়া সম্ভব না। তাই পর্যায়ক্রমে একটি করে শ্রেণির পাঠদান চলছে। “গরুর মলমূত্রে অবস্থা খুবই খারাপ। বৃষ্টি হলে গরুর সঙ্গেই আশ্রয় নিতে হয়।” বিদ্যালয়ের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, স্কুল নদী ভাঙনের মুখে পড়লে তখনই সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সবাই বলেছেন ‘দেখছি’। এরপর গত ১৬ জুলাই ভবনটি হেলে পড়ে। “১৭ জুলাই সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যালয়ের অবকাঠামো বিক্রির জন্য দুই লাখ টাকা নির্ধারণ করা হলেও পরে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ৫০ হাজার একশ টাকায় দ্বিতল ভবনটি কিনে নেন। বিকেলে ভবনের একাংশ নদীতে ভেঙে পড়ে।” বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম আসাদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “বিদ্যালয় ভবন নিমার্ণের জন্য প্রথম পর্যায়ে এক লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। কোথায় ভবন হবে সে স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। স্থান নির্ধারণ হয়ে গেলেই নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।” কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম ঢুষমারা চর। তিস্তা নদীবেষ্টিত এ গ্রামে ৪৫০ পরিবারের বাস। ১৯৪০ সালে গ্রামটিতে প্রতিষ্ঠা করা হয় ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০০৫ সালে একতলা এবং ২০১১ সালে দ্বিতল ভবন নির্মিত হয়।

Posted in জাতীয়, শিক্ষা ও সংস্কৃতি | Leave a comment

ইবিতে পুলিশ ছাত্রলীগ সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ আহত ২৫

IU_bg1_429694674কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের সঙ্গে সংর্ঘষে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশসহ ছাত্রলীগের ২৫ কর্মী আহত হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। রোববার দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা, রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিবির। মিছিল শেষে তারা চলে গেলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা পাল্টা মিছিল বের করে। এ সময় উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের ‍গাড়ি প্রশাসন ভবনের কাছে মিছিলের সামনে পড়লে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। দ্রুত পাশে থাকা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তারা গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তারা চলে যাওয়ার পর পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে জড়িয়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড রাবার ও টিয়ারশেল ছুড়ে। এ সময় পুলিশের গুলিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী, ছাত্রলীগ কর্মী ও ৫ পুলিশসহ ২৫ জন আহত হন। গুলিবিদ্ধদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে মিছিল বের করে ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। এব্যাপারে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল রেজা বলেন, কিছু উচ্ছৃংখল শিক্ষার্থী প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিলে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আব্দুল হাকিম সরকার জানান, পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য সকল ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Posted in শিক্ষা ও সংস্কৃতি | Leave a comment

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud