March 10, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট : দুর্নীতিতে সবাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নিমজ্জিত বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
বৃহস্পতিবার সকালে সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আরো বলেন, ক্ষমতাবানরাই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করে।
আগামী ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে দেশে দুর্নীতি থাকবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই কিন্তু দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। আমরা সবাই যদি এরমধ্যে না থাকতাম তাহলে দুর্নীতি চলতে পারতো না। দুর্নীতি করেন এমন কিছু ব্যক্তি যাদের হাতে ক্ষমতা আছে। এই ক্ষমতার প্রয়োগের সময় মূলত তারা দুর্নীতি আশ্রয় গ্রহণ করেন।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন সরকারি চাকরিজীবীদের খাবার নিয়ে চিন্তা করতে হতো। এখন সে অবস্থা নেই। এখন চাকরিজীবীরা সচ্ছলভাবে চলতে পারেন।’
দুদকের হটলাইন সার্ভিস চালুর প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে সাধারণ জনগণ সহজেই নালিশ করতে পারবেন। প্রযুক্তি দেশের দুর্নীতি দমনে অনেক সুযোগ করে দিয়েছে। সেগুলো আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘৮ থেকে ১০ বছরে মধ্যে সব ধরনের দুর্নীতি চলে যাবে। দুদক চাইলে অনেক কিছু করতে পারে। দুর্নীতিকে তাড়াতাড়ি রোধ করা সম্ভব নয়।’
ডেস্ক রিপোর্ট : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ নাতি, প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৪৭তম জন্মদিন আজ। ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা দেশের বিশিষ্ট পরমানু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া ও মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সজীব ওয়াজেদ জয় ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ জন্য তিনি কোনও বেতন গ্রহণ করছেন না। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আধুনিকায়নের ব্যাপারে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন এ প্রযুক্তিবিদ।
সম্প্রতি টেলিভিশনে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে ‘লেটস টক’ নামের একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠান করে বেশ জনপ্রিয়তা পান তিনি।
আইসিটি খাতে বিশেষ দক্ষতার জন্য ২০০৭ সালে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ইয়াং গ্লোবাল লিডার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন সজীব ওয়াজেদ। এছাড়াও ২০১৬ সালে তিনি অর্জন করেন আইসিটি ফর ডেভলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড।
ডেস্ক রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘প্রকৃতি যে আপদই ডেকে আনুক না কেন, জনগণ সচেতন থাকলে সবকিছুই মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।’ বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী কারিগরি দক্ষতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট আইডিইবি এবং কারিগরি-ভোকেশনাল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ভোসিপিএসসি’র যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ। আগাম বন্যায় এবারে হাওর অঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে উজানের ঢলের পানিতে বাংলাদেশের ব্যাপক এলাকা বন্যায় প্লাবিত এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড় ধসে জানমালের ক্ষতি হয়েছে। আমাদের সরকারের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় এসব দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা করতে পেরেছি এবং করে যাচ্ছি।’
উপস্থিত প্রকৌশলীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠা ও সততার ওপর নির্ভর করছে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন। কাজের সঠিক মান নিয়ন্ত্রণে আপনারা কোনোভাবেই আপোস করবেন না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের কল্যাণে প্রযুক্তির গণমুখী ব্যবহার জীবনমানে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে আবারও উন্নত দেশগুলোতে ক্রমেই কর্মক্ষম জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। বাড়ছে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা। বাংলাদেশের ৪৯ শতাংশ মানুষের বয়স ২৪ বছর বা তার নিচে। আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সদ্ব্যবহার করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের আগে দেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষার্থী ছিল শতকরা এক দশমিক আট ভাগ। সরকারের নানাবিধ পরিকল্পনায় তা এখন শতকরা ১৪ ভাগে উন্নীত হয়েছে। এ শিক্ষা ২০২০, ২০৩০ এবং ২০৪০ সালে ২০, ৩০ এবং ৫০ ভাগে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার । আমরা জাপান, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া, মালয়েশিয়াসহ উন্নত দেশের মতোই কারিগরি শিক্ষাকে যুগোপযোগী শিক্ষায় রূপান্তর করতে সচেষ্ট রয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনা বলেন, ‘সরকারি উদ্যোগে দেশে ৩টি মহিলা পলিটেকটিক ইনস্টিটিউটসহ ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং বেসরকারি পর্যায়ে সরকার অনুমোদিত ৪৬৭টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনা করছে। সরকারি প্রতিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে দ্বিতীয় শিফট চালু রয়েছে। বাকি ২৩ জেলায় আমরা বিশ্বমানের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন করার পরিকল্পনা নিয়েছি। বিভাগীয় শহরে আরও ৪টি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে মহিলা কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন করা হবে। ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে দক্ষ মাবসম্পদ সৃষ্টির কার্যক্রম চালু আছে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দক্ষ জনশক্তিই একটি দেশ ও জাতির সামষ্টিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে সক্ষম। জ্ঞানভিত্তিক দক্ষতা ও প্রায়োগিক দক্ষতার সমন্বয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষাকে ঢেলে সাজাতে হবে।’
ডেস্ক রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আাওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ কে এম শামীম ওসমান বলেছেন, ‘দেশকে বাঁচাতে হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে হবে। এ জন্য ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’
আগামী ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা উপলক্ষে সোমবার (২৪ জুলাই) বিকালে শহরের ইসদাইরস্থ বাংলা ভবন কমিউনিটি সেন্টারে এক প্রস্তুতি সভায় শামীম ওসমান এসব কথা বলেন।
শামীম ওসমান আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে হারানোর ক্ষমতা কেউ রাখে না। কারণ রাজপথে গড়ে ওঠা অনেক ত্যাগি নেতাকর্মী এই দলে রয়েছে।’
নির্বাচন প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের দোসর আর আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যাকারী কোনও দলকে নির্বাচনে দাওয়াত দেওয়ার কোনও যৌক্তিক কারণ আমি খুঁজে পাই না। নির্বাচনে বিএনপি আসবে কি আসবে না অথবা তাদের নির্বাচনে নিয়ে আসার দায়িত্ব আওয়ামী লীগের না।’
তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না এলে দেশে আবারও জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটবে, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুটপাট হবে এবং দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় যথার্থই বলেছেন, শুধু উন্নয়ন কর্মকাণ্ডই প্রধান নয়, এর সঙ্গে প্রয়োজন সঠিক প্রচারণা।’
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে শামীম ওসমান বলেন, বিএনপি’র ভেতরে যে সবাই খারাপ তা নয়, বিএনপিতে দুইটি শ্রেণি আছে। একটি শ্রেণি আছে যারা বঙ্গবন্ধুকে বঙ্গবন্ধুই বলতে চায় কিন্তু ভয়ে বলে না। আরেক শ্রেণি আছে, যারা পুনরায় ২১ আগস্ট ঘটাতে চায়, ২০১৪ সালের মতো আগুনে পুড়িয়ে এদেশের সাধারণ মানুষকে মারতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘যারা বঙ্গবন্ধুকে বঙ্গবন্ধু বলতে চায় তারা রাজনীতি করলে আমার কোনও আপত্তি নাই। তবে জনগণকে ঠিক করে দিতে হবে তারা কাদেরকে রাজনীতি করার সুযোগ দিবেন।’
ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ বাদলের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের সদস্য চন্দন শীল, যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল প্রমুখ।
সভায় আগামী ১ আগস্ট থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত র্যালি, আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল, কাঙ্গালিভোজসহ নানা কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে আগামী ১ আগস্ট নগরীতে শোক র্যালি করা হবে। সভায় ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর সোনারগাঁ, শহরসহ আশপাশের বিভিন্ন থানা এলাকার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বাংলাট্রিবিউন।
ডেস্ক রিপোর্ট : দেশ ও জাতির উন্নয়নে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।
সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে শিল্পভবনে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি। শিল্পমন্ত্রী বলেন, দক্ষ সিভিল সার্ভিস হচ্ছে জনপ্রশাসনের মূলভিত্তি।
এ জন্য জনকল্যানে সরকারের নেয়া কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির উপরও গুরুত্বারোপ করেন আমির হোসেন আমু।
ডেস্ক রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হজযাত্রীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যেন বিশ্বে সম্মানজনকভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে আপনারা সেজন্য দোয়া করবেন। আমাদের এতিম দুই বোন ও আমাদের নাতি-নাতনিদের জন্য দোয়া করবেন। আমরা যেন সুস্থ থাকতে পারি।’ শনিবার (২২ জুলাই) সকালে রাজধানীর আশকোনায় হজ ক্যাম্প থেকে ‘হজ ২০১৭’ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধনকালে তিনি এসব বলেন।
যারা এ বছর হজ পালন করতে যাচ্ছেন তাদেরকে দেশের জনগণের জন্য মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র রওজা মোবারকে গিয়ে দোয়া পড়ারও আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।
ইসলামের নামে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িতদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ইসলাম পবিত্র ধর্ম, মানবতার ধর্ম। ইসলাম ধর্মে নারীদের সবচেয়ে বেশি অধিকার রয়েছে। সুতরাং এই ধর্মকে কলুষিত করার মতো কোনও কাজ করবেন না।’
শেখ হাসিনার দাবি, এমন দিনও গেছে এ দেশের মানুষ একবেলা খেতে পারেনি। তার সরকার মানুষকে দু’বেলা খাওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার কথায়, ‘আমাদের লক্ষ্য একজন মানুষও না খেয়ে থাকবে না। দোয়া করবেন প্রত্যেক মানুষকে যেন ঘরবাড়ি তৈরি করে দিতে পারি। কেউ গৃহহীন থাকবে না, প্রত্যেক ঘরে আলো জ্বলবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি করে দেওয়া হচ্ছে, আগামীতেও এটা অব্যাহত থাকবে। আপনাদের যেন আমরা আরও সেবা করতে পারি সেজন্য দোয়া করবেন।’
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তখন জার্মানিতে থাকায় বেঁচে যান। নিজেদের দুই বোনকে এতিম উল্লেখ করে ওই ঘটনা মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
ডেস্ক রিপোর্ট : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদে রদবদল আনা হয়েছে। দলের আইনবিষয়ক সম্পাদক আবদুল মতিন খসরুকে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিমকে আইনবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই পরিবর্তন আনেন। এই প্রসঙ্গে আবদুল মতিন খসরু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ফোন করে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।’
এদিকে, বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘আমাকে দলের আইনবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমান দায়িত্ব পালনের আগপর্যন্ত আবদুল মতিন খসরু ছয়বছর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এর আগে তিনি ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারে আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য।
পেশাজীবনে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেলহত্যার মামলার আইনজীবী ছিলেন তিনি। ওয়ান-ইলেভেনের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনজীবী হিসেবে আইনি সহায়তা দিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অভিযোগে আগৈলঝাড়ার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক সালমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী অ্যাডভোকেট ওবায়েদ উল্লাহ সাজুকে আওয়ামী লীগ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে কেন স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার সন্ধ্যায় অ্যাডভোকেট সাজুকে সাময়িক বহিষ্কারের এই নির্দেশ দেওয়া হয়। গণভবনে উপস্থিত থাকা আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দলের গঠনতন্ত্রের ৪৭ (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অ্যাডভোকেট ওবায়েদ উল্লাহ সাজুকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।’
এর আগে গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভায় অংশ নিতে যাওয়া নেতারা ইউএনও তারেক সালমানের প্রসঙ্গ তোলেন। এ সময় অ্যাডভোকেট সাজু সম্পর্কে জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে থাকা নেতাদের বলেন, ‘তার বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিন।’
ইউএনওর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী সাজু বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও নগর আওয়ামী লীগের ধর্ম-বিষয়ক সম্পাদক।
বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিছু লোক আওয়ামী লীগ হয়ে আমাদের দলে ঢুকে, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়ে দল ও সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে। তাই সবাইকে সাবধান হতে হবে। কাউকে দলে নেওয়ার আগে তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানা উচিত। তার উদ্দেশ্য কী, সেটাও ভালো করে জানা উচিত। কারও বিষয়ে বিস্তারিত না জেনেও তাকে দলে নিয়ে পদ-পদবি পর্যন্ত দিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে, এগুলো যারা করছেন, তারা অমার্জনীয় অপরাধ করছেন। মনে রাখতে হবে, তারা আসেন পদ নিতে, তারা পদ নিয়ে দলের ও সরকারের ক্ষতিই করবেন।’
ডেস্ক রিপোর্ট : দলে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রক্রিয়া জানিয়েছেন খোদ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিভিন্ন দল থেকে আসা নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়াসহ পদ-পদবি পাওয়ার ঘটনায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভায় তিনি এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন। বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, অনুপ্রবেশের ঘটনা নিয়ে দলীয় নেতাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘যারা বিভিন্ন দল থেকে আওয়ামী লীগে ঢোকেন, তারা বিশেষ একটি উদ্দেশ্য নিয়ে এসে নানা অপকর্ম করেন। আর দোষ পড়ে দলের ওপরে।’
তিনি বলেন, ‘কোথায় কারা ঢুকেছেন, কাদের মাধ্যমে ঢুকেছেন, কী অপকর্ম করছেন, এসব তথ্য আমার কাছে আছে। আরও তথ্য আসছে।’ কারা, কোথায় অনুপ্রবেশ করেছেন, কার মাধ্যমে দলে ঢুকেছেন, দলীয় পদ পেয়েছেন, তাদের একটি তালিকা করে জমা দেওয়ার জন্য দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দল ভারী করে বদনাম কেনার দরকার নেই। এমন এলাকা আছে, শুধু দলেই নেওয়া হয়নি, দলের গুরুত্বপূর্ণ পদও দিয়ে দেওয়া হয়েছে এই অনুপ্রবেশকারীদের।’
ইউএনও সালমানের বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওবায়েদ উল্লাহ সাজু কে? দলে তার অবদান কী? আজ অতি উৎসাহী হয়ে যে ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি, তাতে কী হয়েছে? দল ও সরকারকে তিনি বিব্রত করেছেন।’
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) রাতেও দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে কথা বলে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।’
দলের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা বলেন, ‘দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও অন্য সম্পাদকমণ্ডলীর নেতাদের সঙ্গে দলের ভেতরে এসব বিশৃঙ্খলা নিয়ে শিগগিরই কথা বলবেন দলীয় সভাপতি। এসব বিশৃঙ্খলা নিয়ে তিনি বিশেষ কিছু নির্দেশনা দেবেন বলেও জানা গেছে। অন্য দল থেকে কাউকে দলে না নিতেও প্রাথমিক নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে শিগগিরই বৈঠক ডেকে সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে দলীয় সভাপতি কঠোর নির্দেশনা দেবেন বলেও সূত্র জানায়।
গত ২০ মে গণভবনে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায়ও অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সভায় তিনি বলেছেন, ‘নিজস্ব গ্রুপ ও দল ভারী করার স্বার্থে আবর্জনা দলে টেনে আনবেন না। আমার কাছে তথ্য আছে, দল ভারীর জন্য অন্য দল থেকে সুবিধাবাদীদের দলে টানা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মনে রাখবেন, তারা দলে ঢোকেন কমিশন খাওয়ার লোভে। দলে ঢুকে এরা এত বেশি শক্তিশালী হয়ে যান যে, তাদের কনুয়ের গুঁতায় আমার দলের নিবেদিতরা টিকতে পারেন না।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক ও ফারুক খান বলেন, ‘দলের অনেক বিষয় নিয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের সাধারণ সম্পাদককে একটি তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছেন।’
ডেস্ক রিপোর্ট : দৃষ্টি সবার লন্ডন সফররত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দিকে। নির্বাসিত পুত্র তারেক রহমানের কাছে তিনি এখন রয়েছেন। তার এই দীর্ঘ সফরকে শুধুমাত্র পারিবারিক সফর হিসাবে সরকারের ওপর মহল থেকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল দেখছেন না। এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীরাও মনে করছেন, এটি শুধু নিছক পরিবারের সঙ্গে একত্রিত হওয়ার সফর নয়। চলমান রাজনীতিতে বিদ্যমান পরিস্থিতি ও আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলের কলাকৌশল নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় কর্মতৎপরতা সৃষ্টির নানমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের নেপথ্যে রয়েছে।
দলের অনেকে মনে করেন এখানে অনেকের মনোনয়ন ভাগ্যও নিশ্চিত হবে। তারাও অনেকে দর্শন দিতে যাচ্ছেন লন্ডনে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুল আওয়াল মিন্টু, ঢাকা উত্তরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী পুত্র তাবিদ আওয়ালসহ সেখানে গেছেন। পিতা-পুত্র সহসাই হয়তো চলে আসবেন, কিন্তু আব্দুল আওয়াল মিন্টু সফরসঙ্গী হওয়ায় এর রাজনৈতিক তাৎপর্য বেড়েছে।
৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা ও রাজনীতির নেপথ্যে আব্দুল আওয়াল মিন্টু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। একজন ওয়েল কানেকটেড পারসন হিসাবে পরিচিত আব্দুল আওয়াল মিন্টুর অভিজ্ঞতাও অনেক।
এদিকে, গুঞ্জন রয়েছে বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে কি করছেন, কাদের সঙ্গে কথা বলছেন তা সময়ে সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবহিত হচ্ছেন। ঢাকা থেকে পেশাদার সোর্স আগেই লন্ডন গেছেন। সেই সুবাদে বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন তৎপরতা সময়ে সময়ে শেখ হাসিনা জানতে পারছেন।
প্রসঙ্গত, ১৫ জুলাই যুক্তরাজ্য সফরে যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ২০০৬ সালে ক্ষমতা হারানোর পর যুক্তরাজ্যে খালেদা জিয়ার এটি তৃতীয় সফর। এর আগে ২০১৫ সালে ১৬ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন। এছাড়া ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে ফেরার পথে লন্ডনে গিয়েছিলেন। ওই সময়ে লন্ডনে বড় ছেলে তারেক রহমানসহ তার পরিবারের সঙ্গে দুই মাসেরও অধিক সময় কাটিয়েছিলেন। এবারো সেখানে প্রায় দুমাসই কাটাতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে।