পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

রসুনের অনন্য ১২ গুণ

কাজী আরিফ আহমেদ: কাঁচা কিংবা রান্নায় যে কোনভাবেই খাওয়া যায় রসুন। খাবারের ঘ্রাণ ও স্বাদ বাড়ানোর মসলার পাশাপাশি রসুনের নানা ঔষধি গুণ রয়েছে। তবে রসুন কাঁচা খাওয়ায় সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। কারণ, রান্নার সময় এর গুরুত্বপূর্ণ বহু ঔষধি গুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই রান্নায় ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিন অন্তত একটি কাঁচা রসুন খাওয়ার অভ্যাস করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। উপমহাদেশে হাজার হাজার বছর আগে থেকেই রসুন ভেষজ ওষুধ হিসেবে নানা রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রসুনে রয়েছে ‘অ্যালিসিন’, যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাক বিরোধী এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানে সমৃদ্ধ। নানা ভিটামিন ও পুষ্টি-উপাদানেও সমৃদ্ধ এটি। রসুনে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, বি২ ও সি। এতে আরও আছে, প্রোটিন, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, কপার, আয়রন, সেলেনিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং আরও বহু পুষ্টি উপাদান। প্রতিদিন একটি ছোট্ট রসুন আপনার স্বাস্থ্যকে সুরক্ষা দিতে যথেষ্ট। রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আপনাকে প্রাণবন্ত থাকতেও সাহায্য করবে রসুন। নিচে রসুনের ১০টি স্বাস্থ্য-উপকারিতা তুলে ধরা হলো:
Garlic_Press_and_Garlic
১) রক্তে কোলেস্টেরোলের মাত্রা কমায়: গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৯০০ মিলিগ্রাম রসুন কোলেস্টেরোলের মাত্রাকে কমায় এবং রক্তবাহী ধমনীতে প্লাক বা ক্ষতিকর সাদা পদার্থ গঠন ৫ থেকে ১৮ শতাংশ কমাতে সাহায্য করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকে বলিরেখা বা ভাঁজ প্রতিরোধ করে। রক্তে খারাপ কোলেস্টেরোল (এলডিএল) নানাবিধ ক্ষতির কারণ। লিভার বা যকৃতে অতিরিক্ত এলডিএল উৎপাদন প্রতিরোধ করে রসুন এবং ভালো কোলেস্টেরোলের (এইচডিএল) মাত্রাকে অক্ষুণœ রেখে খারাপ কোলেস্টেরোলকে কমায় এবং শরীরে কোলেস্টেরোলের মাত্রায় ভারসাম্য আনে। সেক্ষেত্রে নিয়মিত কাঁচা রসুন খাওয়ার অভ্যাসটাকে ভালোভাবে রপ্ত করতে হবে।
২) হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে: হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে রসুনের বিকল্প খুব কমই আছে। হার্ট-অ্যাটাক প্রতিরোধেও দারুণ কার্যকরী এটি।
৩) রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে ও হাইপারটেনশন প্রতিরোধে: উচ্চ রক্তচাপ কমায় রসুন। রক্তবাহী ধমনী ও শিরাকে প্রসারিত করার মাধ্যমে রক্তপ্রবাহকে স্বাভাবিক করে। এটি রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রসুন খেয়ে আপনি আপনার রক্তচাপ কমাতে পারেন এবং হাইপারটেনশনের ঝুঁকি থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারেন।
৪) হাড় মজবুত করতে: পুরুষ ও নারী উভয়ের হাড়ের ক্ষয়রোধ করে রসুন। তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে এস্ট্রোজেনের মাত্রা বৃদ্ধি করে হাড় মজবুত করায় বিশেষ ভূমিকা রাখে এটি।
৫) বাতের ব্যথা কমাতে: পুরনো ও দীর্ঘস্থায়ী বাতের ব্যথার সমস্যাতেও কাজ করে এটি। বিভিন্ন ধরনের বাতের ব্যথা ও প্রদাহ কমায় এবং বাতজনিত কারণে সৃষ্ট অন্যান্য উপসর্গকে নিয়ন্ত্রণ করে রসুন।
৬) ওজন কমাতে: শরীরে চর্বি উৎপন্নকারী কোষের গঠনকে নিয়ন্ত্রণ করে এটি। এ কোষগুলো শরীরের স্থ’ূলতার জন্য দায়ী। রসুনে অপরিহার্য উপাদান হিসেবে তেল থাকায়, তা মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে। তাই কাঁচা ও রান্নায় ব্যবহৃত রসুন খাওয়ার অভ্যাসে আপনার ওজনটাও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
৭) ডায়াবেটিস প্রতিরোধে: রক্তে চিনির মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে রসুন। ডায়াবেটিসে ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়িয়ে রক্তের সুগারের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে আনে। অন্যদিকে, নিয়মিত রসুন খাওয়ার মাধ্যমে ডায়াবেটিস প্রতিরোধও করা সম্ভব।
৮) ক্যান্সার প্রতিরোধে: ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে রসুন। বিশেষ করে পরিপাকতন্ত্রের ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে এর। রসুন সুনির্দিষ্ট কিছু টিউমারের বৃদ্ধি রোধ করে এবং কিছু টিউমারের আকারও ছোট করতে ভূমিকা রাখে। রসুনের অ্যালাইল সালফার উপাদান ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রোধ করে। ক্যান্সার কোষ শরীরে বিস্তার লাভও করতে পারে না। কারও পারিবারিক ইতিহাসে ক্যান্সারের রোগী থাকলে, তাদের প্রতিদিন রসুন খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
৯) হজমশক্তি বাড়ায়: রসুন হজমশক্তি বাড়ায়। পেটের অভ্যন্তরে স্বস্তি ও আরাম অনুভূত হয়। গ্যাসের সমস্যা দূর করে। পুষ্টি উপাদানসমূহ ভালোভাবে হজমে সহায়তা করে। শরীরের বিষাক্ত বর্জ্য ও অন্যান্য উপাদান বের করে দিতে রসুন লিভারকে সক্রিয় করে। একই সঙ্গে লিভারকেও সুস্থ-সবল রাখে। পাকস্থলি বা বুকে জ্বালাপোড়া প্রতিরোধ করে রসুন।
১০) অ্যালার্জি দমনে: রসুনের ভাইরাসবিরোধী ও দহন প্রতিরোধী উপাদানসমূহ বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জি দমন করে। বছরের যে সময়ে অ্যালার্জি বেশি হয়, সে সময় নিয়মিত রসুন খাওয়ার অভ্যাস আপনাকে মুক্তি দিতে পারে। কাঁচা রসুনের রস বের করে সেটা সরাসরি শরীরে প্রয়োগ করা যায়।
১১) কাশি ও ঠাণ্ডা লাগা সারাতে: ভিটামিন সি ও বি৬, খনিজ উপাদান সেলেনিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এর ব্যাক্টেরিয়ারোধী উপাদানও কাশি ও গলার অন্যান্য প্রদাহের জন্য কার্যকর। ফুসফুসের জন্যও উপকারী এটি। অ্যাজমা বা হাঁপানির চিকিৎসায়ও ব্যবহৃত হয় রসুন। তাছাড়া ঠা-াজনিত সমস্যাতেও কাজ করে এটি।
১২) দাঁত ব্যথা সারাতে: রসুনে ব্যাকটেরিয়ারোধী, বেদনানাশক ও সাময়িকভাবে অনুভূতি লোপকারী উপাদান থাকায়, তা দাঁতের ব্যথা সারাতে সাহায্য করে। রসুনের তেল তৈরি করে বা রসুনের কোয়া ছেঁচে নিয়ে তা আক্রান্ত দাঁত ও তার চারপাশের মাড়িতে প্রয়োগ করলে, তাৎক্ষণিকভাবে দাঁত ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। স্বাভাবিকভাবেই, মাড়িতে একটু জ্বালাপোড়া বোধ হবে।

Posted in জতীয় সংসদ | Comments Off on রসুনের অনন্য ১২ গুণ

গর্ভাবস্থায় পুষ্টি

during-pregnancy-630x210জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ: আসফিয়া আজিম: গর্ভবতী হওয়ার পরপরই যে প্রশ্নগুলো মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে শুরু করে তার একটি হল গর্ভকালীন ডায়েট। বিশেষ এই শারীরিক অবস্থায় কোন ধরনের খাবার খাওয়া যাবে, কোনটি যাবে না, কোন খাবারটি বেশি পরিমাণে, কোনটা কম করে খেতে হবে— এমন নানান প্রশ্নে মন আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। পাশাপাশি আত্মীয়, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষীদের হরেক রকম উপদেশ। কোনটা মানবো, কোনটা শুনব, কোনটাকে পাশ কাটাব, এই নিয়ে হরেক দ্বিধাদ্বন্দ্ব।

এসব দ্বিধা ভুলে জেনে নিন গর্ভাবস্থায় একজন নারীর কী কী পুষ্টির প্রয়োজন এবং তা ঠিক কতটা পরিমাপে।

‘পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট’-এর চার্টটি আপনাকে সঠিক খাবার ঠিক ঠিক পরিমাণে বেছে নিতে সাহায্য করবে।

স্বাভাবিক স্বাস্থ্য

কিলো ক্যালরি: ২০০০

প্রোটিন (গ্রাম): ৪০। ক্যালসিয়াম (মি.গ্রা.) ৪৫০।  আয়রন (মি.গ্রা.) ২৮। ভিট-বি-১ (মি.গ্রা.) ১.০। ভিটা বি-২ (মি.গ্রা.) ১.১। নায়াসিন (মি.গ্রা.) ১৩.২। ভিটা সি (মি.গ্রা.) ৩০। ভিটা-ডি (মাইক্রো) ২.৫। ফলিক অ্যাসিড (মাইক্রো) ২০০।

গর্ভাবস্থায় কিলো ক্যালরি

১ম তিন মাস: ২০০০+১৫০। ২য় ও ৩য় তিন মাস: ২০০০+৩৫০।

প্রোটিন (গ্রাম): ৪০+১৪। ক্যালসিয়াম (মি.গ্রা.) ৪৫০+৬৫০।  আয়রন (মি.গ্রা.) ২৮+৫। ভিট-বি-১ (মি.গ্রা.) ১.০+০.১। ভিটা বি-২ (মি.গ্রা.) ১.১+০.২। নায়াসিন (মি.গ্রা.) ১৩.২+১.৯। ভিটা সি (মি.গ্রা.) ৩০+২০। ভিটা-ডি (মাইক্রো) ২.৫+৭.৫। ফলিক অ্যাসিড (মাইক্রো) ২০০+২০০।

কী কী প্রয়োজন

প্রোটিন: গর্ভাবস্থায় শরীরে প্রোটিনের চাহিদা বৃদ্ধি পায় প্রায় এক তৃতীয়াংশ। স্বাভাবিক অবস্থায় শরীরে যে পরিমাণ প্রোটিনের দরকার, এই সময় তা বেড়ে যায় অনেকটা। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় যেন অতিরিক্ত ১৪ গ্রাম প্রোটিন থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাভাবিক অবস্থায় আপনার খাদ্যতালিকায় যেসব খাবার ছিল, তার সঙ্গে অতিরিক্ত একটি ডিম, এক বাটি ডাল বা শিমের দানা অথবা এক ঠোঙা বাদাম গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

একটি ডিম থেকে ছয়-সাত গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। বাদাম থেকে পাওয়া যায় আট গ্রামের মতো প্রোটিন। শিমের দানা ও ডাল থেকেও ১৪ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়।

ক্যালসিয়াম: স্বাভাবিক অবস্থায় যতটুকু ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন, গর্ভাবস্থায় এর প্রয়োজন বেড়ে যায় প্রায় ২০০ মি.গ্রামের মতো। গর্ভস্থ ভ্রূণের বৃদ্ধি, নিজের শরীরের দেখভাল এবং বুকের দুধ তৈরিতে অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন।

দুধ, দই, পনির থেকেই এই অতিরিক্ত চাহিদা পূরণ করা যায়। বাটা মাছ, রুই মাছ ইত্যাদিতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ অনেক বেশি। তবে বেশিরভাগ শুঁটকি মাছ, বিশেষ করে চিংড়ি মাছের শুঁটকিতে, ক্যালসিয়ামের পরিমাণ এতটাই বেশি যে সামান্য পরিমাণে খেলেও এটি গর্ভাবস্থায় দৈনিক চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

আয়রন: গর্ভের শিশু তার আয়রন পেয়ে থাকে মায়ের শরীর থেকে। জন্মের পর প্রথম ছয় মাস যেহেতু শিশু কেবল মায়ের দুধ খায় এবং মায়ের দুধে যেহেতু আয়রন থাকে না, ফলে এই ছয় মাস সময়কালের প্রয়োজনীয় আয়রন শিশু নিজের শরীরে জমা করে রাখে তার জন্মের আগেই। আর শিশু তার প্রয়োজনীয় এই আয়রন শোষণ করে মায়ের শরীর থেকে। তাই মায়ের শরীরে যদি আয়রনের ঘাটতি হয় তখন শিশু আর জমা রাখার মতো আয়রন পায় না; যার ফলে জন্মের পরপরই সে আক্রান্ত হয় রক্তাল্পতায়। এ জন্য গর্ভাবস্থায় আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এত দরকারি।

আয়রনের সবচেয়ে ভালো উৎস ‘রেড মিট’। এ ছাড়া কচুতেও প্রচুর আয়রন পাওয়া যায়। ফলের মধ্যে কাঁচাআম, পাকা তেঁতুলে আয়রনের পরিমাণ বেশি। শুঁটকি মাছ থেকেও প্রচুর আয়রন পাওয়া যায়। এছাড়া ফুলকপির আগাসহ খেলেও আয়রনের চাহিদা পূরণ হয়।

ভিটামিন বি-১, বি-২ ও নায়াসিন: ভিটামিন-বি পরিবারভুক্ত ছয়টি ভিটামিনের মধ্যে গর্ভাবস্থায় চাহিদা বেড়ে যায় ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিন, বি-২ বা রিবোফ্লাবিন ও বি-৩ বা নায়াসিনের। বি-ভিটামিন ডায়জেস্টিভ সিস্টেমকে চালু রাখে। ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চামড়ার শুষ্কভাব কমিয়ে সতেজ রাখে। গর্ভাবস্থায় যেহেতু হরমোনের পরিবর্তনের কারণে পেট, কোমর, গলা-এসব জায়গার চামড়ার রং পরিবর্তন হয়, পেটের চামড়া স্ফিত হওয়ায় টান লাগে, তাই বি-ভিটামিন এই সময় চামড়ার দেখভালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

‘রেড মিট’, কলিজা, ডিম, কলা, কিডনি, বিনস, পালংশাক, কাঠবাদাম ও দুধে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি পাওয়া যায়।

ভিটামিন সি: আয়রন শোষিত হওয়ার জন্য ভিটামিন সির প্রয়োজন। এ জন্য ডাক্তার বা পুষ্টিবিদেরা আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরপরই লেবু, কমলা, বাতাবিলেবু বা আমলকী খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় পাওয়া যাচ্ছে ভ্রূণের মানসিক বৃদ্ধিতে ভিটামিন-সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিটামিন-সি ফলিক অ্যাসিডকে কার্যকর করে তোলার চালিকাশক্তি।

গর্ভের শিশুর মাংসপেশি ও হাড় গঠনের কোলাজেন প্রোটিনের প্রয়োজন। ভিটামিন-সি কোলাজেন তৈরিতেও সাহায্য করে।

ভিটামিন ডি: ভিটামিন ডি মায়ের শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের সুষম ব্যালেন্স শিশুর হাড় ও দাঁত তৈরিতে সাহায্য করে। সে কারণে গর্ভবস্থায় ডিম, দুধ, পনির, দুই ও ছোট মাছ খাওয়া খুব দরকার এবং বেশি পরিমাণে।

ফলিক অ্যাসিড: স্বাভাবিক অবস্থার থেকে দ্বিগুণ পরিমাণে ফলিক অ্যাসিডের প্রয়োজন গর্ভবতী অবস্থায়। ফলিক অ্যাসিড খুব বেশি পরিমাণ পাওয়া যায় ব্রোকলি, ডাল ও পালংশাকে। এছাড়া, বাঁধাকপি, ফুলকপি, কমলা, মটরশুঁটি ও হোলগ্রেইন রুটিতেই ফলিক অ্যাসিডের পরিমাণ ভালো।

মনে রাখা প্রয়োজন, গর্ভাবস্থায় প্রায় সব ধরনের পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজনীয়তাই বেড়ে যায়। কোনো কোনো ভিটামিন বা মিনেরালের চাহিদা দ্বিগুণ বা তিনগুণও হয়ে পড়ে। তবে সব ধরনের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে গেলে যে পরিমাণ খাবার খাওয়া দরকার তা সব সময় খাওয়া সম্ভব হয় না। এ কারণে গর্ভাবস্থায় এমন খাবার বেছে নেওয়া জরুরি, যাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনেরাল পাওয়া যায়। এতে করে পরিমাণে কম খেলেও পুষ্টির ঘাটতিতে কোনো কমতি হবে না।

Posted in জতীয় সংসদ | Comments Off on গর্ভাবস্থায় পুষ্টি

খাবারে ফ্যাট? এ বিষয়ে প্রচলিত ৯টি ভুল ধারণা

urlস্বাস্থ্য ডেস্ক: খাবার বিষয়ে বহুদিন ধরে কিছু ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। প্রোটিন এবং কোলেস্টরেল বিষয়ে জেনে নিন এমনই ৯টি ভুল ধারণা যা আমাদের মাঝে প্রচলিত।
১. নিম্নমাত্রার ফ্যাট এবং উচ্চমাত্রার কার্ব সমৃদ্ধ খাবার মানব জাতির জন্যে সবচেয়ে ভালো খাবার নয়। কিন্তু বহুদিন ধরে এটা ভুল হিসেবে মেনে আসছি আমরা। কম ফ্যাটের খাবার খেতে গিয়ে মানুষ মাংস, মাখন এবং ডিমের মতো ভালো খাবার কম খাচ্ছেন। এ কারণে তারা বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবার খাচ্ছে যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আবার বহু গবেষণায় দেখা গেছে, নিম্নমাত্রার ফ্যাট খাওয়াতে দেহে ক্ষতিক এলডিএল কোলেস্টরেলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
২. উচ্চ কোলেস্টরেলসমৃদ্ধ খাবার ভালো নয় বলেই জানেন সবাই। এই নিয়মটি মেনে চলার কারণে মানুষ ডিম খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। অথচ এটি বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্যকর খাবারের একটি। এর কোলেস্টরেল দেহে এইচডিএল (উপকারী) কোলেস্টরেলের মাত্রা বাড়ায় যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
৩. হার্ট অ্যাটাকের জন্য দেহে অপকারী কোলেস্টরেলের মাত্রাই যথেষ্ট বলে মনে করেন অনেকে। কিন্তু এটা বড় একটি ভুল। যথেষ্ট কম এলডিএল কোলেস্টরেল থাকা সত্ত্বেও অন্য কারণে হার্ট অ্যাটাকের সম্মুখীন হয়েছেন বহু রোগী। এর জন্য দেহের অন্যান্য সমস্যা কারণ হতে পারে।
৪. প্রক্রিয়াজাত বীজ ও ভেজিটেবল ওয়েল স্বাস্থ্যকর বলেই মনে করি আমরা। যেহেতু শিমের বীচি বা এ ধরনের খাবার স্বাস্থ্যকর, তাই অনেকেই ভাবেন যে প্রক্রিয়াজাত বীচি ও ভেজিটেবল ওয়েল ভালো। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, এসব সয়াবিনসহ অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত তেলে পলিআনস্যাটুরেটেড ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড থাকে তা দেহের জন্য ক্ষতিকর।
৫. সম্পৃক্ত ফ্যাট হৃদরোগ সৃষ্টি করে বলে জানি আমরা। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, সম্পৃক্ত ফ্যাট মূলত দেহে ক্ষতিকারক কোলেস্টরেল তৈরি করে না। কাজেই এটি হৃদরোগের কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে না। এর জন্য অন্যান্য বিষয় দায়ী থাকে যা আমরা বিবেচনা করি না।
৬. স্যাটুরেটেড ফ্যাট এবং ট্রান্স ফ্যাট দুটোর মধ্যে তেমন পার্থক্য নেই বলেই জানি আমরা। কিন্তু ট্রান্স ফ্যাট মূলত এমন এক ফ্যাট যা রাসায়নিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। এটি যে প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় তা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এটাই দেহের জন্য ক্ষতিকর ফ্যাট বলে বিবেচিত হয়।
৭. ফ্যাট খেলেই মোটা হয়ে যাবেন বলে মনে করেন নিশ্চয়। কিন্তু এটি ভুল ধারণা। ফ্যাট মূলত দেহের ত্বকের নিচে নরম হয়ে জমা হয়। বেশি খেলে বেশি জমবে। এটি থেকে ক্যালরি আসে। কিন্তু এটি স্থূলতা তৈরি করে না।
৮. প্রক্রিয়াজাত মার্গারিন মাখনের চেয়ে ভালো বলে জানি আমরা। কিন্তু প্রক্রিয়াজাত মার্গারিন মোটেও ভালো নয়। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত ভেজিটেবল ওয়েল এবং ট্রান্স ফ্যাট থাকে যা দেহের জন্য ক্ষতিকর।
৯. প্রক্রিয়াজাত নিম্নমাত্রার ফ্যাট স্বাস্থ্যকর বলে মনে হয়। কিন্তু তা ভুল ধারণা। এই নিম্নমাত্রার ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। আর চিনি যে ক্ষতিকর তা সবাই জানেন। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

Posted in জতীয় সংসদ | Comments Off on খাবারে ফ্যাট? এ বিষয়ে প্রচলিত ৯টি ভুল ধারণা

‘ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েই গেছে’

নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম আফ্রিকায় জাতিসংঘের ইবোলা প্রতিরোধ বিষয়ক মিশনের প্রধান টনি ব্যানবারি বলেছেন, এখনো পশ্চিম আফ্রিকা থেকে পৃথিবীর অন্য স্থানে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার বড় ঝুঁকি রয়েই গেছে। আঞ্চলিক পর্যায়ে ছড়ানোর ঝুঁকি ছাড়াও রোগটি আকাশ পথে ভ্রমণের মাধ্যমে দূরবর্তী এশিয়া, লাতিন আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের মতো স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এজন্য ইবোলায় আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা দরকার।
সোমবার আফ্রিকার ইবোলা আক্রান্ত দেশ সিয়েরালিয়নের রাজধানী ফ্রিটাউনে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য মতে, বর্তমানে ইবোলা আক্রান্তদের ২০ শতাংশই সংক্রমিত হচ্ছে রোগটিতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের শেষকৃত্য সম্পাদনের সময়। আফ্রিকার দেশগুলোর ধর্মীয় কিছু আচার পালন এবং মরদেহ গোসল করানোর সময় এ সংক্রমণ হয়ে থাকে। তাই ইবোলা আক্রান্তদের ৭০ শতাংশকে চিকিৎসার আওতায় আনা ও রোগটিতে নিহতদের ৭০ শতাংশের নিরাপদ শেষকৃত্য সম্পাদনকে ইবোলা নিয়ন্ত্রণের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
untitled-1_102098_0
ব্যানবারি গত অক্টোবরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে জানান, ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা সফলভাবে মোকাবেলা করা গেলে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। ইবোলা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এ লক্ষ্য পূরণ হয়েছে কি না সোমবার এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে ব্যানবারি বলেন- গায়ানা, সিয়েরালিওন ও লাইবেরিয়ার মতো সবচেয়ে বেশি ইবোলা আক্রান্ত দেশে আমাদের বেশিরভাগ লক্ষ্যই অর্জিত হচ্ছে। তবে সিয়েরালিওনের রাজধানী ফ্রিটাউন ও পোর্ট লোকো শহরের মতো কিছু এলাকায় আমরা সফল হচ্ছি না। এসব এলাকায় আরও বেশি করে গুরুত্ব দিতে হবে আমাদের। ইবোলা নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘ ব্যবস্থা না নিলে বর্তমানের পরস্থিতি আরও খারাপ হতো বলেও দাবি করেছেন তিনি।

ইবোলায় নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা ৬ হাজার ৯২৮ জনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে বলে গত ২৯ নভেম্বর ডব্লিউএইচও’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ইবোলা ভাইরাসে বর্তমানে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ শ’ লোক মারা যাচ্ছেন। আর রোগটিতে আক্রন্তের সংখ্যা ১৬ হাজারের বেশি।

Posted in জতীয় সংসদ | Comments Off on ‘ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েই গেছে’

গর্ভাবস্থায় যা খাওয়া উচিত নয়

pregnant-woman-in-greenনিউজ ডেস্ক: গর্ভাবস্থায় নারীদের অনেক নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হয়। এর মধ্যে খাবারের দিকে নজর দিতে হয় বেশি। কারণ এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো গর্ভবতী মায়েদের একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। কারণ এই খাবারগুলোই গর্ভপাতের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। জেনে নিন এমন কিছু খাবার সম্পর্কে।
১. গর্ভবতী মায়েদের তাদের গর্ভধারণের প্রথম তিন মাসে আনারস একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। আনারসে ‘ব্রোমেলাইন’ নামের এক ধরণের উপাদান থাকে। এটি মায়ের ডায়েরিয়া, এলার্জি থেকে শুরু করে গর্ভপাতের কারণও হতে পারে। তাই গর্ভকালীন সময়ে এই ফল খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেয়া উচিত।
২. অত্যাধিক ক্যাফেইন মায়ের হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়াও এটি অনিদ্রাও মাথা ব্যথার উদ্রেক করতে পারে। এর ফলে প্রিম্যাচিওর বেবি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক সময় ক্যাফেইনের কারণে গর্ভপাতও হতে পারে।
৩. চিকিৎসকেরা গর্ভধারণের প্রথম দিকে আনারসের পাশাপাশি কাঁচা পেঁপে খেতেও নিষেধ করেন। কারণ এতে বিভিন্ন রকমের এনজাইম থাকে যা গর্ভপাতের সহায়ক।
৪. গর্ভকালীন সময়ে পনির জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এতে বিভিন্ন রকমের ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলোও গর্ভপাত ঘটাতে পারে।
সূত্র : ইন্টারনেট

Posted in জতীয় সংসদ | Comments Off on গর্ভাবস্থায় যা খাওয়া উচিত নয়

মিলনের মুহূর্তে সঙ্গীর চোখের ভাষা বলে দেবে ‘গ্লান্স’

1398140764._67791নিউজ ডেস্ক: অন্তরঙ্গ ভালোবাসার মিলনের সেই শুভক্ষণে কেমন দেখতে লাগে ভালোবাসার মানুষটিকে আর তার চোখে আপনাকে? মাঝেমধ্যে কি ভাবনার জোয়ার দোলা দেয় অবচেতন মনে তা নিয়ে? হ্যাঁ,আপন মনে ভাবনার দিন বুঝি এবার ফুরলো গ্রাহক সেবায় নতুন কিছু নিয়ে হাজির হচ্ছে গুগল গ্লাস।
গুগল গ্লাসে খুব তাড়াতাড়ি আসছে নতুন আইফোন অ্যাপ ‘গ্লান্স’। মিলনের সময় আপনার সঙ্গীর চোখে আপনাকে কেমন দেখতে লাগে, ও আপনার সঙ্গীকে আপনার চোখে কেমন দেখতে লাগে তার ছবি তুলবে এই নতুন অ্যাপ। এর জন্য গুগল গ্লাস পরে নিয়ে আপানকে শুধু বলতে হবে ‘ওকে গ্লাস, ইটস টাইম’। তাহলেই গুগল গ্লাস একে অপরের চোখে আপনাদের স্ট্রিম করতে শুরু করবে। আর যখন বন্ধ করতে চান তখন বলতে হবে ‘ওকে গ্লাস, পুল আউট’।

গত বছর লন্ডনে ৩ জনের একটি দল এই অ্যাপ তৈরি করেন। অন্তরঙ্গ মুহূর্তে গুগল গ্লাসের ব্যবহার নিয়ে ছিল এই প্রকল্প। এই অ্যাপের সাহায্যে যৌনমিলন এক নতুন ধরণের অভিজ্ঞতা তৈরি করবে বলে মনে করছেন কারিগররা। আর যদি পরেও এই মুহূর্ত উপভোগ করতে চান তাহলে সেভ করে রাখতে পারেন এই লাইভ স্ট্রিমিং।
সূত্র: জি নিউজ

Posted in জতীয় সংসদ | Comments Off on মিলনের মুহূর্তে সঙ্গীর চোখের ভাষা বলে দেবে ‘গ্লান্স’

বেশি দইয়ে মেদ বাড়ার আশঙ্কা

নিউজ ডেস্ক: ডায়েটিং প্রেমীদের পছন্দের খাবার দই। কারণ এটি খেলে ওজনও ঠিক থাকে, আবার ত্বকের জেল্লাও বাড়ে। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না যে, মাত্রাতিরিক্ত দই খেলে ওজন তো কমবেই না উল্টে কিছুদিন মেদ বাড়বে। তখন আপনি নিজেকেই চিনতে পারবেন না।
নজর দিন ক্যালোরিতেyogurt
ওজন নিয়ন্ত্রণে সবার প্রথম পছন্দ লো-ফ্যাট দই। আর এতে প্রোটিনের মাত্রা খুব কম থাকে। কিন্তু আমাদের শরীরে প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তাও অস্বীকার করা যায় না। যদি এক প্যাকেট লো-ফ্যাট দইয়ে ১০০ ক্যালোরির সাথে মাত্র ছয় গ্রাম প্রোটিন থাকে, তাহলে শরীরের কোনো লাভই হয় না। আসলে ওজন কমাতে গেলে ক্যালোরির সাথে সঙ্গে অন্য বিষয়েও খেয়াল রাখতে হয়।
বেশি দই খাওয়া
দই খেলে ওজন কমার সম্ভাবনা থাকে ঠিকই, কিন্তু বেশি খেলেই হিতে বিপরীত। ওজন ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকবে। সুতরাং প্রতিদিন শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত মাত্রায় দই খান।
দইয়ের সঙ্গে অন্য কিছু মেশানো
অনেকেই দইয়ের সঙ্গে কিছু না কিছু মিশিয়ে খেতে পছন্দ করেন। যে যতই ডায়েটিং করুক দই-চাট, মিষ্টি দই বা দইয়ের মধ্যে একগুচ্ছ মিষ্টি ফল বা ড্রাই ফ্রুটস মিশিয়ে খাবার মজাটাই আলাদা। আর এতেই শুরু হয় যাবতীয় গোলমাল। দইয়ের সাথে ফল মিশিয়ে খেলে সম্ভাবনা থাকে অ্যাসিডিটির। আর বলা বাহুল্য এতে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
ফ্যাট ফ্রি দই খাওয়া

ডেয়ারি প্রোডাক্ট হওয়ার দরুণ দইয়ে অল্প পরিমাণে হলেও শর্করার উপস্থিতি মজুত থাকে। আর প্যাকেটের দইয়ে মিষ্টত্ব বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত মাত্রায় মিষ্টি মেশানো হয়। তাই প্যাকেটের দই কেনার সময় দেখে নিন তাতে চিনির মাত্রা ১৮ গ্রামের কম আছে কি না অথবা উপকরণে সবচেয়ে প্রথম নামটা চিনির নেই তো! তাহলে ভুলেও তা কিনবেন না। এক্ষেত্রে প্রোটিনের মাত্রাটাও দেখে নেয়া জরুরি।

Posted in জতীয় সংসদ | Comments Off on বেশি দইয়ে মেদ বাড়ার আশঙ্কা

জেনে নিন চেনা লেবুর ৬ টি অজানা ব্যবহার

 আমাদের খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে তোলা এবং আমাদের তেষ্টা মেটানোর জন্য লেবুর রস পান করার মধ্যেই লেবুর কার্যকারিতা সীমাবদ্ধ নয়। লেবুর আরও অনেক ব্যবহার রয়েছে। এইসকল ব্যবহার সম্পর্কে আমরা অনেকেই হয়তো জানি না। আজকে চলুন দেখে নেয়া যাক আপনার হাতের কাছের লেবুটি দিয়ে আপনি কি কি কাজ করে ফেলতে পারেন।

১) কাপড় থেকে কালির দাগ তোলা

কাপড় থেকে কালির দাগ তুলতে দাগের ওপরে লেবুর খণ্ড ভালো করে ঘষে নিন। লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড দাগ দূর করে দেবে নিমেষেই। এরপর ভালো করে কাপড় ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে নিন। ব্যস, সমস্যার সমাধান।

২) নখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি

অনেক সময় নানা ধরণের কাজ করার ফলে হাতের নখ মলিন ও ফ্যাকাসে হয়ে যায়। দাগও পড়ে যায় নখে। এইসকল সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নখন লেবুর রসে ডুবিয়ে রাখুন মাত্র ১০ মিনিট। ফিরে পাবেন নখের হারানো উজ্জ্বলতা।

৩) ব্ল্যাকহেডস থেকে মুক্তি

রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে প্রতিদিন নাকের দুপাশ ও নাকে লাগিয়ে নিন লেবুর রস। পরের দিন সকালে উঠে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে প্রতিদিন করতে থাকলে রোমকূপের গোঁড়া ছোটো হয়ে আসবে এবং ব্ল্যাকহেডের সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি মিলবে।

৪) সাদা কাপড়ের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে

সাদা কাপড় বেশ কয়েকবার ধোয়া হলেই হলদে ভাব চলে আসে। এই সমস্যার সমাধান পেতে ২ মগ পানিতে আধা কাপ লেবুর রস মিশিয়ে কাপড় কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন। এরপর ভালো করে পানিতে ধুয়ে নিন। দেখবেন সাদা কাপড়ের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরে এসেছে।

৫) গলা ব্যথা ও সর্দি থেকে মুক্তি

একটি লেবু মাঝামাঝি কেটে নিয়ে চুলার ওপরে ধরুন। যখন লাবুর কাটা অংশের রঙ বাদামী হয়ে যাবে তখন লেবুটি চিপে ১ চা চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে পান করে নিন। অথবা ৪ চা চামচ লেবুর রস, ১ কাপ মধু ও আধা কাপ অলিভ অয়েল মিশিয়ে ৫ মিনিট চুলায় রেখে গরম করে নিন। এই মিশ্রণটি ঠাণ্ডা হলে প্রতি ২ ঘণ্টায় ১ চা চামচ পান করুন। সমস্যার দ্রুত সমাধান পাবেন।

৬) খুশকি থেকে মুক্তি

২ কাপ পানিতে ২ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন ভালো করে। এই মিশ্রণটি দিয়ে প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর চুল ধুয়ে ফেলবেন। লক্ষ্য রাখবেন মিশ্রণটি যেনো মাথার ত্বকে বেশি লাগে। খুব দ্রুতই খুশকির সমস্যা থেকে রেহাই পাবেন।

সূত্রঃ হেলথডাইজেস্ট

 

Posted in জতীয় সংসদ | Comments Off on জেনে নিন চেনা লেবুর ৬ টি অজানা ব্যবহার

কন্টাক্ট লেন্স: ঝুঁকি ও সাবধানতা

ঢাকা: গবেষণায় দেখা গেছে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীদের চোখে সংক্রমণের প্রধান কারণ চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে না চলা। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান/অ্যালামিকন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সমস্যা লেন্সের নয়, বরং যাঁরা এই লেন্স ব্যবহার করেন তাঁদের নিজেদের! চোখের চিকিৎসকের পরামর্শ এবং লেন্স ব্যবহারের নিয়ম-কানুন ঠিকঠাক না মানার কারণেই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন মানুষজন। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের এক সাম্প্রতিক গবেষণায়ও এমন তথ্যই উঠে এসেছে। কিন্তু কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারকারী সবাই কি ঝুঁকিতে আছেন? দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে এই প্রতিবেদন থেকে জেনে নিন কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারের নানা ঝুঁকি এবং সেসব প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সাবধানতা।
7b186b14-ca3a-400c-baa8-1c1d550aeb26contact lens image
ঝুঁকি ও সমস্যা
চোখে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি সংক্রমণ। আর চোখে সংক্রমণের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হলো কেরাটিটিস। ব্যাকটেরিয়া এবং অন্যান্য জীবাণুর কারণে এই সংক্রমণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, চোখের চিকিৎসকের পরামর্শ মানেন না বলেই এমন সংক্রমণের শিকার হন বেশির ভাগই। যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৫ ভাগ ব্যবহারকারীই লেন্স খোলা বা পরার আগে হাত ধুয়ে নেন না। অন্যান্য গবেষণায় দেখা গেছে, মাসে লেন্স ব্যবহারের সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে এক থেকে দেড়গুণ বেশি সময় লেন্স পরে থাকেন অনেকেই। এ ছাড়া, স্বল্প মেয়াদে (দুই সপ্তাহ) ব্যবহারযোগ্য লেন্স দুই থেকে আড়াইগুণ বেশি সময় ধরে ব্যবহার করেন অনেকেই।

ভুলে গেলে চলবে না যে, কন্টাক্ট লেন্স একটা স্পর্শকাতর ‘মেডিকেল ডিভাইস’। স্টেরিলাইজ করা ছোট্ট পাত্রে বিশেষ তরলের মধ্যে রাখা এই লেন্স মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে নিজেই দূষিত হয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাজ্যের আঙ্গিলা রাসকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিশন অ্যান্ড আই রিসার্চ ইউনিটের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক রজার বাকলি বলেন, সংক্রমণের সবচেয়ে বড় কারণ রাতে কন্টাক্ট লেন্স পরে ঘুমাতে যাওয়া। কন্টাক্ট লেন্স পরে ঘুমালে কর্নিয়ায় সংক্রমণ ২০ গুণ বেড়ে যেতে পারে। লেন্স পরা অবস্থায় চোখের পাতা বন্ধ থাকায় কর্নিয়া অক্সিজেন সংকটে পড়ে। এ কারণে জীবাণু মোকাবিলায় দুর্বল হয়ে পড়ে চোখ।

কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারে করণীয়

১. সব সময়ই লেন্স পরা এবং খোলার আগে অবশ্যই হাত ভালো করে সাবান বা কোনো জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। হাত ধোয়ার পর হাত শুকিয়ে নিয়ে শুকনো হাতেই লেন্স পরতে বা খুলতে হবে।

২. কন্টাক্ট লেন্স কখনোই গোসলের পানি বা অন্য কোনো পানিতে ভেজানো ঠিক না। কারণ পানিটা নিজেই সংক্রমিত হয়ে অতি ক্ষুদ্র জীবাণু লেন্সে লেগে থেকে কর্নিয়ার আলসার সৃষ্টি করতে পারে।

৩. গোসল বা সাঁতারের আগে লেন্স খুলে নিতে হবে। এমনকি পানি রোধক ‘ওয়াটার-টাইট গগল্স’ চোখে পরার আগেও লেন্স খুলে নিতে হবে।

৪. ভুলেও কন্টাক্ট লেন্স থুতুতে ভিজিয়ে রাখা যাবে না বা থুতুর সংস্পর্শে আনা যাবে না। কেননা মুখের ভেতর এবং থুতুতে বহু ব্যাকটেরিয়া থাকে। এই ব্যাকটেরিয়ার অনেকগুলোই আমাদের পরিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও চোখের জন্য নয়।

৫. চোখে আইলাইনার বা মাশকারা ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই আগে লেন্স পরে নিয়ে তারপর চোখের মেকআপ করতে হবে।

৬. আপনার চোখ যদি লালচে হয়ে ওঠে, চোখ যদি জ্বালা-পোড়া করতে থাকে, তাহলে দেরি না করে লেন্স খুলে নিন। চোখের চিকিৎ​সকের কাছে যান। আর সব সময়ই লেন্সের বিকল্প হিসেবে আপনার সঙ্গেই চশমা রাখুন।

৭. অনলাইনে কন্টাক্ট লেন্স কেনার সুযোগ বেড়েছে। কিন্তু সাবধান। চোখের চিকিৎসকের পরামর্শপত্র অনুযায়ী আপনার জন্য উপযোগী লেন্সের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েই লেন্স কিনুন।

Posted in জতীয় সংসদ | Comments Off on কন্টাক্ট লেন্স: ঝুঁকি ও সাবধানতা

সুস্বাদু ফল আনারসের ১০ টি মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

urlফাতেমা খাতুন; আমাদের দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ফল হল আনারস। অনেকেই আনারস খেতে ভালোবাসেন। তাছাড়া এই ফলটি প্রায় ১২ মাসই হাতের নাগালে পাওয়া যায়। এই ফলটিতে আছে নানা রকমের ভিটামিন ও অনেক সময় চিকিৎসা সংক্রান্ত কোন কাজে এর ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিন্তু আপনি কি জানেন সুস্বাদু এই আনারসের বেশ কিছু খারাপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। চলুন জেনে নেই বিষয় গুলো।

১। অ্যালার্জীর আক্রমনঃ আনারস খাওয়ার ফলে অনেক নারী ও পুরুষের দেহে অ্যালার্জী দেখা দিতে পারে। আনারস খাওয়ার ফলে অ্যালার্জীর উপসর্গ হল ঠোঁট ফুলে যাওয়া ও গলায় সুরসুরি বোধ হওয়া। তাই আনারস খাওয়ার আগে তা কেটে লবন পানি দিয়ে ধুয়ে নেয়া উচিত। এভাবে ধুয়ে নিয়ে খেলে কোন সমস্যা হওয়ার সম্ভবনা থাকেনা।

২। নারীর গর্ভপাত ঝুঁকিঃ আনারসের কারণে নারীদের গর্ভপাত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। গর্ভাবস্থায় থাকলে নারীদের আনারস খেতে বারণ করা হয়। তাছাড়া গর্ভাবস্থার পরে চাইলে আনারস খেতে পারেন কিন্তু শরীরের অবস্থা বুঝে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে।

৩। বাতের ব্যথা হওয়ার ঝুঁকিঃ যখন আপনি আনারস খাবেন তখন এটি আপনার গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল নালীর কাছে পৌঁছানোর পর এটি অ্যালকোহলে পরিনত হয়। এবং এই কারণে মানুষের দেহে বাতের ব্যথা শুরু হতে পারে। তাই যে সকল মানুষের দেহে বাতের ব্যথা আছে কিংবা সন্দেহ করা হচ্ছে বাত হতে পারে তাদের আনারস না খাওয়াটাই ভালো।

৪। রক্তে চিনির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়ঃ আনারসে আছে অনেক বেশি পরিমানে প্রাকৃতিক চিনি। আনারসের ২ টি চিনি উপাদান সুক্রোজ এবং ফ্রুক্টোজ যা ডায়বেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু দেহের ক্ষতি, এটি খাওয়ার উপর নির্ভর করে। এবং আনারসের মধ্যে অতিরিক্ত চিনি আমাদের দেহে রক্তের চিনির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। তাই আনারস বেশি না খেয়ে সপ্তাহে ২ দিন খেতে পারেন।

৫। ওষুধের প্রতিক্রিয়াঃ আনারসে আছে ব্রমিলেইন যা দিয়ে ওষুধ বানানো হয়ে থাকে এবং কোন রোগীর প্রয়োজন পরলে তাকে তা দেয়া হয়ে থাকে। তাছাড়া আপনি যদি কোন কারণে অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিকনভালসেন্ট ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আনারস খেতে ডাক্তাররা নিষেধ করে থাকেন। কারন এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

৬। কাঁচা আনারসে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ অনেকেই কাঁচা আনারস ব্যবহার করে থাকেন জুস বানানোর জন্য কিন্তু এটি দেহের জন্য ক্ষতিকর এবং খুব বিষাক্ত। এবং মাঝে মাঝে কাঁচা আনারস খাওয়ার কারণে বমির প্রবনতা দেখা দেয়।

৭। কাঁচা আনারস মুখ ও গলার জন্য ক্ষতিকরঃ কাঁচা আনারসে আছে অনেক বেশি পরিমানে এসিডিটি যা আমদের মুখের ভিতর ও গলায় শ্লেষ্মা তৈরি করে। এবং ফলটি খাওয়ার পর মাঝে মাঝে অনেকের পেটে ব্যথাও হতে পারে।

৮। রক্ত তরলিকরন ওষুধঃ রক্ত তরল করার জন্য যে ওষুধ বানানো হয় তাতে আনারস ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই ফল দেহে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াতে বাঁধা প্রদান করে থাকে।

৯। আনারসের ব্রমিলেইনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ ব্রমিলেইন আনারসের একটি উপাদান যা আমদের দেহের প্রোটিনের পরিমাণ নষ্ট করাতে দায়ী থাকে। এবং এই ফল দেহে ডার্মাটাইটিস ও অ্যালার্জী সংক্রামন করে।

১০। দাঁতের জন্য ক্ষতিকরঃ আনারস আমাদের দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। যাদের দাতে কেভিটিস ও জিংজাইভেটিভস এর সমস্যা আছে তাদের আনারস না খাওয়াই ভালো।

Posted in জতীয় সংসদ | Comments Off on সুস্বাদু ফল আনারসের ১০ টি মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud