May 8, 2026
ঢাকা: প্রতিবারের ন্যায় এবারও রোজার প্রথম দিন ওলামা-মাশায়েখ ও এতিমদের সঙ্গে ইফতার করলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে লেডিস ক্লাবে রমজান উপলক্ষে ওলামা-মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে খালেদা জিয়ার উদ্যোগে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এসময় তিনি (খালেদা জিয়া) এতিম শিশু ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ও তাদের খোঁজ-খবর নেন। ইফতারের আগে দেশের সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করে মোনাজাত করা হয়। রাজধানীর রহমত জামেয়া ইসলামিয়া মাদরাসা রহমাতে আলম ইসলামী মিশন থেকে ১৫০ জন, শান্তিনগর মাদরাসা থেকে ২৫ জন এবং ফকিরাপুর মাদরাসা থেকে ২৫ এতিম ইফতারে অংশ নেন বলে ওলামা দলের সভাপতি আব্দুল মালেক বাংলামেইলকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এছাড়া রাজধানী ২ শত আলেম ইফতারে অংশগ্রহণ করেন। দেশ বরেণ্য বিশিষ্ট আলেমদের মধ্যে বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চেয়ারম্যান মাওলানা কামাল উদ্দিন জাফরী, বারিধারা মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা নূর হোসেন কাশেমী, চট্টগ্রামে পটিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মোজাফ্ফর আহমেদ, ছারছিনা দরবার শরীফের ছোট হুজুর শাহ আরিফ বিল্লা সিদ্দিকী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে ও উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা মাসুদ বিন সাঈদী, লালবাগ মাদরাসার প্রিন্সিপাল আবুল হাসনাত আমিনী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, এমকে আনোয়ার, বেগম সারোয়ারি রহমান, ড. মঈন খান, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহামন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও দলের মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ তালুকদার, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, ওলামা দলের সভাপতি আব্দুল মালেক, সহ-দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গ, আমাগী ২১ জুন রাজনীতিবিদদের এবং ২২ জুন বিশিষ্ট নাগরিকদের সম্মানে বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে ইফতার মাহফিলে অংশ নিবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
ওয়েব ডেস্ক: একটা বছর আগেও নিজের স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সুরাটে সুখের সংসার কাটাচ্ছিলেন তিনি। তখনও জানা ছিল না আগামী দিন গুলি হতে চলেছে জীবনের সবথেকে ভয়ানক অধ্যায়। ২০১৪-এর জুলাই। অপহৃত হন ২৩ বছরের ওই মহিলা। এরপর ৮ মাস ধরে লাগাতার গণধর্ষিত হন তিনি। ধর্ষণে অভিযুক্ত ৫ জন ওই মহিলাকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যান এবং একাধিকবার ধর্ষণ করে।
৮ মাস পর কোনওরকমভাবে প্রাণ বাঁচিযে ওই মহিলা ধর্ষকদের ডেরা থেকে পালিয়ে নিজের বাড়িতে ফেরেন। তারপর ১৬ মার্চ ওই মহিলা সুরাটের বোটাড জেলার রানপুর থানায় অপহরণ ও ধর্ষনের অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু তখন জানতে পারেন তিনি ৬ মাসের গর্ভবতী। এরপর ওই মহিলাকে ঘরে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করে তাঁর শ্বশুরবাড়ি। এমনকি কোর্টে যখন গর্ভপাতের আর্জি করেন তিনি, সেখানেও খারিজ করে দেয় আদালত। ভারতের একটি ইংরাজি দৈনিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোর্ট থেকে বলা হয়, ‘ সাহসের সঙ্গে লড়াই করুন। নিজের সন্তানকে জন্ম দিন…’।
শ্বশুরবাড়ি থেকে তিরস্কৃত হওয়ার পর ওই মহিলা তাঁর স্বামী এবং দুই সন্তানকে নিয়ে দেবলিয়া গ্রামে নিজের বাপের বাড়িতে চলে আসেন। এখানেই ঘটনার যবনিকা নয়। আরও ভয়ঙ্কর পরীক্ষার সম্মুখীন হন তিনি। নিজের পরিবারকে বাঁচাতে ‘চোখা থাবানি বিধি’ পালনে বাধ্য করা হয় তাঁকে। এই বিধি অনুযায়ী একজন তান্ত্রিকের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে ওই ধর্ষিতা মহিলাকে। সেখানে তান্ত্রিক তাঁর মাথায় ১০ কেজি ওজনের একটি পাথর বসিয়ে দিয়ে তন্ত্র মন্ত্রও শুরু করবেন। কালা যাদুর মাধ্যমে ওই মহিলাকে সত্য কথা বলতে বাধ্য করা হবে। সত্যি কথা না বলা পর্যন্ত পাশবিক অত্যাচার চলবেই। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে মহিলার।
বিবিসি সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী ওই গ্রামের মানুষ এই ‘চোখা থাবানি বিধি’-কে একটি ধর্মীয় প্রথা মনে করেন। অনেক বছর ধরেই এই প্রথা চলে আসছে। গ্রামের মানুষ মনে করেন ঈশ্বর ওই কালা যাদুর মধ্যে মহিলার ওপর ভর করবেন এবং সব সত্য কথা ওই মহিলার মুখ দিয়ে বলবেন। ঘটনার ফলাফল যাই হোক না কেন, ওই মহিলার স্বামী তাঁর পরিবারের সঙ্গেই থাকবেন বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন।
অনলাইন ডেস্ক : বাজারে ফিরে আসবে ফিনল্যান্ডের নকিয়া ব্র্যান্ডের ফোন।শিগগিরই বাজারে পাওয়া যাবে অ্যান্ড্রয়েড কিংবা উইন্ডোজচালিত নকিয়া ফোন। বড় বড় ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো নকিয়ার নামে পছন্দসই অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে ফোন তৈরি করে বাজারে ছাড়বে। শুধু ফোনের নকশা আর নাম ব্যবহারের অনুমতি দেবে ফিনল্যান্ডের নকিয়া।
আগামী বছর থেকেই আবার ফোনের বাজারে ফিরে আসছে নকিয়া। এক সময়ের জনপ্রিয় ও বিশ্বের বৃহত্তম মোবাইল নির্মাতা ছিল ফিনল্যান্ডের মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। গত বছরে নকিয়ার মোবাইল বিভাগটি কিনে নিয়েছে মাইক্রোসফট। তবে ফিনল্যান্ডের বর্তমানে টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি নির্মাতা নকিয়ার প্রধান নির্বাহী আবারও মোবাইল ফোন নির্মাণে ফেরার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।
জার্মানির ম্যানেজার ম্যাগাজিনকে নকিয়ার প্রধান নির্বাহী রাজিভ সুরি বলেছেন, ২০১৬ সাল থেকে যখন মাইক্রোসফটের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে তখন থেকেই ফোনের নকশা ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স দিতে শুরু করবে নকিয়া।
রাজিভ বলেন, ‘এখন নকিয়ার ফোন তৈরির জন্য আমরা উপযুক্ত অংশীদার খুঁজছি। মাইক্রোসফট এখন মোবাইল ফোন তৈরি করছে। আমরা আমাদের অংশীদারকে ফোনের নকশা ও নকিয়া ফোন তৈরির লাইসেন্স দেব।’
অ্যাপলের আইফোনের মতো উদ্ভাবনী পণ্যের সঙ্গে পেরে না ওঠে নকিয়ার স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করায় গত বছর মাইক্রোসফট অধিগ্রহণ করে নকিয়ার মোবাইল ফোন বিভাগটি।
মাইক্রোসফটের কাছে ফোন বিভাগটি বিক্রি করার মাস কয়েকের মধ্যেই আবার ভিন্ন পথে হাঁটা শুরু করে নকিয়া। তাইওয়ানের প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা ফক্সকনকে ব্র্যান্ড লাইসেন্স বিক্রি করে নকিয়া। নকিয়া ব্র্যান্ড নামে ট্যাব বাজারে ছাড়ে ফক্সকন এবং ভবিষ্যতে আরও নতুন পণ্য বাজারে ছাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত বছর ৭২০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করে নকিয়ার মোবাইল হ্যান্ডসেট ইউনিটটি কিনেছিল মাইক্রোসফট যা বর্তমানে মাইক্রোসফটের লোকসানি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে এবং স্মার্টফোন বাজারেও মাত্র তিন শতাংশ দখল করতে পেরেছে মাইক্রোসফট।
মাইক্রোসফট ছেড়ে অবসরে চলে যেতে হচ্ছে উইন্ডোজ বিভাগের বর্তমান প্রধান ও নকিয়ার সাবেক বস স্টিফেন ইলোপকে। একই সঙ্গে আরও মাইক্রোসফটের আরও চারজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠাচ্ছে মাইক্রোসফট। বিশ্বের বৃহত্তম সফটওয়্যার নির্মাতা মার্কিন প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট তাঁদের ব্যবসা পরিকল্পনায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে যাতে স্টিফেন ইলোপের আর দরকার পড়বে না। মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সত্য নাদেলা জানিয়েছেন, মাইক্রোসফট তাদের মূল ব্যবসার দিকে অধিক গুরুত্ব দিতে যাচ্ছে। মাইক্রোসফট তাদের সফটওয়্যার ও ক্লাউড সেবাকে অধিক গুরুত্ব দেবে এখন।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইলোপের বিদায়ের মধ্য দিয়ে মাইক্রোসফট হার্ডওয়্যার ব্যবসায় গুরুত্ব কমিয়ে মূল সফটওয়্যার ব্যবসার দিকে আরও বেশি ঝুঁকে গেল। ইলোপের অধীনে থাকা ডিভাইস গ্রুপ মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ইউনিট হিসেবে পরিচালিত হবে। ইলোপ যে দায়িত্বে ছিলেন সেই ডিভাইস বিভাগটির নাম পরিবর্তন করে উইন্ডোজ অ্যান্ড ডিভাইস গ্রুপ রাখছে মাইক্রোসফট। এই বিভাগটির দায়িত্ব নিচ্ছেন অপারেটিং সিস্টেম বিভাগের প্রধান টেরি মেয়ারসন।
এফবিআর ক্যাপিটাল মার্কেটসের বিশ্লেষক ড্যানিয়েল আইভস মনে করেন, নকিয়াকে কিনে নেওয়া মাইক্রোসফটের জন্য এক ধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাদেলা এই মাথাব্যথার বিষয়টি নিজ ঘাড়ে নিয়ে মন্দের মাঝ থেকে ভালো কিছু বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
নাদেলা বলেছেন, এখন থেকে ব্যক্তিগত কম্পিউটিং অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেবে মাইক্রোসফট যার চালিকাশক্তি জলে উইন্ডোজ ইকোসিস্টেম।
২৯ জুলাই উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম উন্মুক্ত করছে মাইক্রোসফট যা প্রথমবারের মতো পিসি, ট্যাব ও ফোনের জন্য নকশা করা হয়েছে।
মাইক্রোসফট যখন হার্ডওয়্যার থেকে সফটওয়্যারে ঝুঁকছে নকিয়া সেখানে তাদের নেটওয়ার্ক ব্যবসাকে আরও বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফোনের নকশা ও লাইসেন্স বিক্রির পাশাপাশি নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি নির্মাতা অ্যালকাটেল-লুসেন্টকে অধিগ্রহণ করতে যাচ্ছে নকিয়া। নকিয়া তাদের জনপ্রিয় ম্যাপ ব্যবসাকেও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। জার্মানির গাড়ি নির্মাতা বিএমডব্লিউ, অডি, মার্সিডিজ থেকে শুরু করে সিলিকন ভ্যালি ও চীনের ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায়ীরা নকিয়ার ম্যাপ কিনে নিতে আগ্রহী।

বিনোদন ডেস্ক : এক সদ্য তরুণী ভালোবাসে তার প্রিয় বন্ধুকে। কিন্তু যখন সে জানতে পারে তার সেরা বন্ধুটি ভালোবাসে অন্য নারীকে তখন কান্না তার বাধ মানে না। আকাশ ভেঙে বৃষ্টি ঝরে। তার চোখের জল মিশে যায় বৃষ্টিধারায়। ঠিক ধরেছেন, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবিতে ‘তুঝে ইয়াদ না মেরি আয়ি’ গানের সঙ্গে বৃষ্টিতে কাজলের কান্নার দৃশ্যের কথা বলা হচ্ছে। অথবা
মনে করা যাক ‘রিমঝিম রিমঝিম’ গানের বিন্দু বিন্দু বৃষ্টির সঙ্গে মনীষা কৈরালা ও অনীল কাপুরের ভালোবাসায় সিক্ত হাসির ঝরে পড়ার কথা। ‘১৯৪২-এ লাভ স্টোরি’ ছবিতে রাহুলদেব বর্মণের অসাধারণ সুরে কুমার শানুর এ গান এবং সিনেমার দৃশ্যটি এখনও বলিউডি সিনেমায় বর্ষার সেরা গানগুলোর অন্যতম। বলিউডের প্রায় ছবিতেই বৃষ্টির মধ্যে একটি গানের দৃশ্য থাকে। কখনও তা প্রকাশ করে ভালোবাসা, কখনও তীব্র কষ্ট ও হতাশা, কখনও বিরহ। আবার অনেক ক্ষেত্রে বৃষ্টি ব্যবহৃত হয়েছে যৌনতার অনুষঙ্গ হিসেবে। বাণিজ্যিক ছবিতেই বৃষ্টির মধ্যে গানের দৃশ্য চিত্রায়নের মূল উদ্দেশ্য থাকে অভিনেতা অভিনেত্রীদের বৃষ্টিভেজা দেহ প্রদর্শন। এজন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্টুডিওর অভ্যন্তরে কৃত্রিম বৃষ্টি ব্যবহার করা হয়। বর্ষার অসংখ্য গান থাকলেও সব গান তো আর চিরকালীন হয়ে ওঠে না। এর মধ্যে কয়েকটি গান হয়ে ওঠে কালজয়ী। শ্রোতার মনে তা চিরদিন জেগে থাকে।
যেমন, ‘নিমক হালাল’ সিনেমায় ‘আজ রাপাট যায়ে’ গানের দৃশ্যে অমিতাভ বচ্চন ও স্মিতা পাতিলের অনন্য অভিব্যক্তি। কিশোর কুমারের কণ্ঠে গানটি যে আবেদন সৃষ্টি করে তা অতুলনীয়। গানটি একই সঙ্গে যেমন শরীরী আবেদনের দিক থেকে দুর্দান্ত তেমনি রোমান্টিক। ‘চালবাজ’ সিনেমায় ‘না জানে কাহাসে আয়ি হ্যায়’ গানে শ্রীদেবীর কৌতুক এবং ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ সিনেমায় ‘কোই লাড়কি হ্যায়’ গানের সঙ্গে মাধুরীর অসাধারণ নাচ এখনও দর্শককে বিনোদন দেয়। রোমান্টিক আবহ সৃষ্টিতে বৃষ্টির জুড়ি নেই। ‘শ্রী ৪২০’ ছবিতে বৃষ্টিভেজা রাজপথে নার্গিস ও রাজকাপুরের হেঁটে চলার দৃশ্য এবং সেই সঙ্গে ‘পেয়ার হুয়া ইকরার হুয়া’ গান তো হিন্দি সিনেমার ক্ল্যাসিক। একইভাবে ‘চলতি কা নাম গাড়ি’ সিনেমায় বৃষ্টিমুখর রাতে নায়ক কিশোর কুমারের জীবনে আসেন বৃষ্টিস্নাত মধুবালা। দৃশ্যটি দারুণ রোমান্টিক হয়ে ওঠে জলপতনের মধুর শব্দে এবং ‘এক লাড়কি ভিগি ভাগি সি’ গানে। গানটি কিশোর কুমারই গেয়েছিলেন। ‘চামেলি’ সিনেমাতেও নায়িকা কারিনা কাপুরের সঙ্গে নায়ক রাহুল বোসের দেখা হয় এক বৃষ্টিমুখর রাতে। যা দুজনের মনেই সমাজ ও সংস্কারের অতীত এক অনুভূতির সৃষ্টি করে। সেই সঙ্গে ‘ভাগো রে মান’ গান নিয়ে আসে এক অনন্য অনুভূতি। সুভাষ ঘাইয়ের ‘তাল’ সিনেমায় অঝোর বর্ষণ, সবুজ শৈলশ্রেণি, ঐশ্বরিয়া রাইয়ের বৃষ্টিতে ভেজা স্নিগ্ধ রূপ আর এ আর রহমানের সুর ‘তাল সে তাল মিলা’ যেন সত্যিই একটির সঙ্গে অন্যটির এক অনন্য ঐক্যতানের সৃষ্টি করে। পুরো সিনেমার সবচেয়ে রোমান্টিক দৃশ্য এটি। একইভাবে ‘গুরু’ ছবিতে শ্রেয়া ঘোষালের কণ্ঠে ‘বারসো রে’ গানের সঙ্গে পাহাড়ি জলপ্রপাত ও ঐশ্বরিয়ার নৃত্য, মন্দিরের ভাস্কর্য এবং গ্রামের বরষামুখর দৃশ্য অসাধারণ।
রাজ কাপুরের ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’ সিনেমার ক্লাইমেক্সে প্রবল বৃষ্টির ভিতর নায়কের (শশী কাপুর) নিজের প্রকৃত ভালোবাসার মানুষ রূপাকে (জিনাত আমান) খুঁজে পাওয়ার দৃশ্যটি মেলো ড্রামাটিক হলেও এর দৃশ্যায়ন অসাধারণ, অসাধারণ সেই সঙ্গে গান ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’।
কল্পনা লাজমির রুদালিতেও বৃষ্টির একটি চমৎকার দৃশ্য রয়েছে। যেখানে খরাপীড়িত রাজস্থানের এক গ্রামে ডিম্পল কাপাডিয়া বৃষ্টিতে বাড়িয়ে দেয় হাত। শত দুঃখ কষ্টের মধ্যেও মানবসত্তার বেঁচে থাকার আকাঙ্খা ফুটে ওঠে এই দৃশ্যতে । ‘লগন’ সিনেমায় বৃষ্টি এসেছে জয়ের প্রতীক হয়ে। খরা ও দুর্দশাপীড়িত গ্রামে বৃষ্টি নামে সব প্রতিকূলতাকে জয় করে বেঁচে থাকার ও নতুন জীবনের প্রত্যাশা নিয়ে। বৃষ্টিতে ‘ঘানান ঘানান’ গানের সঙ্গে পুরো গ্রাম মেতে ওঠে আনন্দে। আমির খান ও গ্রেসি সিংয়ের অভিব্যক্তি অনন্য হয়ে ধরা দেয় এ গানে।
বৃষ্টিতে শুধু রোমান্টিকতা নয় সেইসাথে যৌনতার আবেদনও সৃষ্টি করেছে অনেক গানের দৃশ্যায়ন। ‘মোহরা ছবিতে ‘টিপ টিপ বারসে পানি’র সঙ্গে রাভিনার আবেদনময় নাচ সে কথা প্রমাণ করে। ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’তে কিশোর কুমার-আলিশা চিনয়ের কণ্ঠে ‘কাটে নেহি কাটতে’ গানের দৃশ্যে শ্রীদেবী-অনীল কাপুরের অভিব্যক্তি অনন্য। বিশেষ করে দুর্দান্ত ছিল শ্রীদেবীর শরীরী আবেদন। ‘চাঁদনি ছবিতে ‘লাগি আজ শাওন কি’ গানের সঙ্গে শ্রীদেবীর নাচও অসাধারণ আবেদনময়। ‘ফানা’ ছবিতে ‘ইয়ে সাজিশ হ্যায় বুন্দো কি’ গানে বৃষ্টিভেজা কাজল-আমির খানের অভিব্যক্তি যেমন আবেদনময় তেমনি রোমান্টিক। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ ছবিতে ‘মেরে খোয়াবো মে যো আয়ে’ গানটি বৃষ্টি কাজলের নাচের ভঙ্গিমায় আবেদনময় হয়ে ওঠে।
‘ফারার’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চন ও শর্মিলা ঠাকুরের বৃষ্টিস্নাত পর্দা-রোমান্স দারুণ জমে ওঠে ‘ম্যায় পিয়াসা তু শাওয়ান’ গানের সঙ্গে। ‘পিয়াসা শাওন’ ছবিতে ‘মেঘা রে মেঘারে’ গানের সঙ্গে জিতেন্দ্র ও মৌসুমী চ্যাটার্জিও রোমান্সও দারুণ। রোমান্টিক ও
আবেদনময় বৃষ্টিভেজা গানের তালিকায় যুক্ত হতে পারে অসংখ্য শিরোনাম। ‘আয়া শাওন ঝুমকে’ ছবিতে ‘আয়া শাওন’ গানের সঙ্গে আশা পারেখ-ধর্মেন্দ্র, ‘অভিনেত্রী’ ছবিতে ‘ও ঘাটা সাওয়ারি’ গানে শশী কাপুর-হেমা মালিনী, ‘আজনাবি’ ছবিতে ‘ভিগি ভিগি রাতো মে’ গানে রাজেশ খান্না-জিনাত আমান, ‘বেতাব’ ছবিতে ‘বাদল ইয়ু গরাজতা হ্যায়’ গানে অমৃতা সিং-সানি দেওল এবং ‘হামতুম’ ছবিতে ‘সাসো কো সাসো মে’ গানের সঙ্গে সাইফ-রানির রোমান্স মনে রাখার মতো।
শত বর্ষা বৃষ্টির মধ্যেও ভালোবাসার দীপকে নিভতে দেয়নি ‘দেবদাস’-এর পারু। ‘সিলসিলা ইয়ে চাহাত কা’ গানটির দৃশ্যায়নে ঐশ্বরিয়ার নৃত্যভঙ্গীর মধ্যে যেন ফুটে ওঠে ভালোবাসার নিবিড়তা। আকাশে যতই গর্জে উঠুক মেঘ, বৃষ্টি নামুক অঝোরে, ভালোবাসার দীপ চিরদিন জ্বলবেই। বলিউডের বর্ষাকাব্যও চিরদিনই নতুন নতুন গানের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করবে মানবমনের আনন্দ-বেদনা।
ডেস্ক রিপোর্ট : সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঘটে গেলো ঘটনাটি। এক ব্যক্তি তার সহকর্মীকে অভিশাপ দিয়েছিলেন। মুখে নয়, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং সেবা হোয়াটসঅ্যাপে। জরিমানা হিসেবে ৬৮,০০০ ডলার অর্থদ- গুণতে হতে পারে তাকে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। দেশটির আইন অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীরা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ভঙ্গ করতে পারবেন না। সেটা করলে গুণতে হবে বড় অঙ্কের অর্থদ-। সম্প্রতি এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক বার্তায় তার সহকর্মী তাকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং তার ক্ষতি করার হুমকিও দিয়েছেন। প্রমাণস্বরূপ, তিনি তার মোবাইল ফোনটি উপস্থাপন করেছেন আদালতে। ওই ব্যক্তি তাকে কি লিখেছিলেন, তা প্রকাশ করা হয়নি। তবে তা দেশটির সাইবার দ-বিধির আওতায় পড়ে। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ আদালত এ অপরাধে ওই ব্যক্তির স্বল্প অর্থদ-ের রায় বাতিল করে দিয়েছে। ফলে, বড় অঙ্কের অর্থদ- থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না তিনি। হোয়াটসঅ্যাপে অপর ব্যক্তিকে অভিশাপ দেয়ার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায়, নিম্ন আদালতের দুটি রায়ে ওই ব্যক্তিকে মাত্র ৮০০ ডলার জরিমানা পরিশোধ করতে নির্দেশ দিয়েছিল। সর্বোচ্চ আদালত ফেডারেল সুপ্রিম কোর্ট (এফএসসি) রায় দুটি বাতিল করে দেয়। নতুন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর রায় দেয়া হয়। জরিমানা হিসেবে তাকে ৬৮ হাজার ডলার পরিশোধ করতে হতে পারে। সেই সঙ্গে কারাদ-ও হতে পারে তার। নতুন আইনে জরিমানাসহ কারাদ-ের বিধান রাখা হয়েছে। আর, প্রবাসীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে, তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের বিধান রয়েছে। নতুন বিচার প্রক্রিয়া কবে নাগাদ শুরু হবে, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। ওই ব্যক্তির পরিচয় বা জাতীয়তা প্রকাশ করেনি আদালত। এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে কেউ যদি মধ্যাঙ্গুলি প্রদর্শনের ইমোটিকন পাঠান, তিনিও একই সাইবার দ-বিধির আওতায় পড়বেন।
লাইফস্টাইল ডেস্ক : শুরু হয়ে গেলো সিয়াম সাধনার মাস। রোজার মাসে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সবকিছুতেই আসে বড় পরিবর্তন। এ সময় সুস্থতার জন্য তাই সঠিক খাদ্যাভাস খুবই জরুরী। জনস্বাস্থ্য পুষ্টিবিদ আসফিয়া আজিম পরামর্শ দিলেন কিভাবে রমজানে সুস্থ থাকবেন তা নিয়ে।
দিন বড় হওয়ায় এবার দীর্ঘক্ষণ রাখতে হচ্ছে রোজা। শরীরের অতিরিক্ত পানির চাহিদা পূরণ করতে ইফতারির পর থেকে রাতের খাবার পর্যন্ত পানি, স্যুপ, জুস, ফল, দই, লাচ্ছি, সালাদ এগুলো বার বার খান।
দিনভর রোজা রাখার পর ইফতারি শুরু করা যেতে পারে ঘরে তৈরি মৌসুমি ফলের শরবত দিয়ে। খেজুর দু-তিনটির বেশি খাওয়া ঠিক নয়, কারণ এতে সুক্রোজের পরিমাণ অনেক। অঙ্কুর ওঠা কাঁচা ছোলা ভিটামিন সির খুব ভালো উৎস। প্রতিদিনের ইফতার মেনুতে কাঁচা ছোলাটা তাই নিশ্চিত করুন।
সারা দিনের অনাহারের পর ভাজাপোড়া, তেল মসলা শরীরের জন্য একদমই ভালো না, তা খেতে যতই মুখোরোচক হোক না কেন। ইফতারিতে সহজপাচ্য খাবার শরীরকে ঠান্ডা রাখবে। দই-চিঁড়া, দুধ-কলা-ভাত বা দই-চিঁড়া-ফলের কাস্টার্ড রাখতে পারেন ইফতারিতে। একটু পেঁয়াজু, বেগুনি বা ছোলা না খেলে যদি ইফতারি অসম্পূর্ণ মনে হয়, তবে দই-চিড়া বা ফলাহারের পর সামান্য ভাজাপোড়া খাওয়া যেতে পারে।
রোজার কটা দিন রাতের খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিন। ইফতারিতে বেশি খেয়ে ফেললে স্বাভাবিকভাবেই রাতের খাবার খেতে বেশ রাত হয়ে যায়। আর রাত যত বাড়তে থাকে আমাদের পরিপাকক্রিয়ার ক্ষমতা ততই কমে আসতে থাকে। এ কারণে রোজার সময়ে রাতের খাবার মেন্যু খুব সাধারণ হওয়া চাই। মাছ, ভাত বা রুটি, সবজি, ডাল এগুলো রাখা যেতে পারে রাতের খাবারে।
তবে সেহরি যেহেতু সারা দিনের রসদ জোগাবে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ও নিজের রুচিমতো খাবার খান এ সময়। সম্ভব হলে সেহরিতে এক গ্লাস দুধ পান করুন। এতে সারা দিনের প্রোটিনের একটা বড় অংশ পূরণ হবে।
বিনোদন : মধুর ভান্ডারকার মানেই বলিপাড়ায় নয়া চমক কিংবা সমালোচনার সূত্রপাত। ঐশ্বরিয়া এবং কারিনা বিতর্কের ‘হিরোইন’ ছবির পর তার ‘ক্যালেন্ডার গার্ল’ ছবির ফার্স্ট লুকেও চমকে দিয়েছেন তিনি। তবে পোস্টারে নতুন নায়িকাদের সাহসী পোজের আড়ালে মাথাচাড়া দিয়েছে এক নগ্ন শট। ছবির প্রোমোতে নাকি এমন শট ছিল, কিন্তু পরে তা বাদ দিতে বাধ্য হন পরিচালক।
নগ্ন শটের প্রসঙ্গে চোখ কপালে তুলছেন পরিচালকের ঘনিষ্টমহল। তাদের প্রশ্ন, কোথায় নগ্নতা? পরিচালক নিজে তো এরকম কিছু শুট করেননি। তিনি নিজেও নিশ্চয়ই দেখতে চাইবেন ছবিতে কোথায় নগ্ন শট আছে? কিন্তু বিনা কারণে এমন গুজব ছড়ায়নি, তা নিয়ে নিশ্চিত বলিউডের একাংশ। তবে সংশয় সৃষ্টি করছেন স্বয়ং পরিচালক, এত কথাতেও নিশ্চুপ মধুর।
এ ছবির বিষয় ক্যালেন্ডারে শুটের মডেলরা। একেবারে নতুন নায়িকাদের নিয়ে এবার কাজ করছেন মধুর। ছবির বিষয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে খুব স্বাভাবিকভাবেই এই দৃশ্য আসতে পারে। অবশ্য পরিচালকের ঘনিষ্টমহলের কেউ কেউ বলেছেন, ঠিক নগ্ন শট নয়, তবে একটি দৃশ্য ছিল যেখানে দেখানো হয়েছে একজন ক্যালেন্ডার গার্ল পোশাক খুলতে খুলতে সমুদ্র থেকে উঠে আসছে। সেই দৃশ্যটির স্থায়ীত্ব নাকি খুবই কম ছিল। তাছাড়া এ ছবির প্রযোজক সঙ্গীতা আহির, নিজে মহিলা হয়েএরকম কোনও কিছুকে প্রশ্রয় দেবেন না বলেই অনেকের বিশ্বাস। তারপর আবার তিনি এ ছবিকে উইম্যান এমপাওয়ারমেন্ট হিসেবেই দেখছেন। পরিচালক অবশ্য এ বিতর্কে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তার বক্তব্য, ছবি মুক্তি পেলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।
নিত্যদিনের বিভিন্ন খাবারে ধনেপাতা ব্যবহার করে থাকেন খাবারের গন্ধ এবং স্বাদে একটা পরিবর্তন আনার জন্য। ধনেপাতার বৈজ্ঞানিক নাম হল কোরিয়ানড্রাম স্যাটিভাম। কিন্তু কখনও কি কল্পনা করেছেন যে এই সুস্বাদু খাবারটির কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে?
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি কথা হল, এই সুপরিচিত সবুজ সবজিটির অনেক ঔষধি গুণাগুণের পাশাপাশি অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও বিদ্যমান। যা নিয়মিত খেলে আমাদের শরীর দিনদিন অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।
লিভারের ক্ষতিসাধন
অতিরিক্ত ধনেপাতা খেলে এটি লিভারের কার্যক্ষমতাকে খারাপভাবে প্রভাবিত করে থাকে। এতে থাকা এক ধরনের উদ্ভিজ তেল শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আক্রান্ত করে ফেলে। এছাড়া এটাতে এক ধরনের শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে যেটা সাধারণত লিভারের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে কিন্তু দেহের মাঝে এর অতিরিক্ত মাত্রার উপস্থিতি লিভারের ক্ষতিসাধন করে।
নিম্ন রক্তচাপ
অতিরিক্ত ধনেপাতা খাওয়ার ফলে দেহের হৃৎপিন্ডের স্বাস্থ্য নষ্ট করে ফেলে, যার ফলে নিম্ন রক্তচাপ সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞরা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এই ধনেপাতা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তাই এটি অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে নিম্ন রক্তচাপের উদ্ভব ঘটতে পারে। এছাড়া এটি হালকা মাথাব্যথারও উদ্রেক করতে পারে।
পেট খারাপ
স্বাভাবিকভাবে ধনেপাতা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল বিষয়ক সমস্যা দূর করে থাকে কিন্তু বেশি পরিমাণে ধনেপাতা সেবন পাকস্থলীতে হজমক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি করে থাকে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে এক সপ্তাহে ২০০ এমএল ধনেপাতা আহারে গ্যাসের ব্যথা ওঠা, পেটে ব্যথা, পেট ফুলে ওঠা, বমি হওয়া হওয়ারও সম্ভাবনা দেখা যায়।
ডায়রিয়া
ধনেপাতা অল্প খেলে পেটের সমস্যা দূর হয় কিন্তু এটি বেশি পরিমাণে খেলে ডায়রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। এছাড়া এর ফলে ডিহাইড্রেশন হতে থাকে। ফলে ডায়রিয়ার সমস্যাটি হতেই থাকে। তাই এই ধরনের সমস্যা এড়াতে প্রতিদিনের খাবারে ধনেপাতা কম পরিমাণে ব্যবহার করুন।
নিঃশ্বাসের সমস্যা
আপনি যদি শ্বাসকষ্টের রোগী হয়ে থাকেন তাহলে এই ধনেপাতা আহার থেকে বিরত থাকুন। কেননা এটি আপনার শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যা করে থাকে যার ফলে ফুসফুসে অ্যাজমার সমস্যা হতে পারে। এই ধনেপাতা খেলে মাঝে মাঝে ছোট ছোট নিশ্বাস নিতেও সমস্যা তৈরি হয়।
বুকে ব্যথা
অতিরিক্ত ধনেপাতা আহারে বুকে ব্যথার মত জটিল সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এটা শুধুমাত্র অস্বস্তিকর ব্যথাই সৃষ্টি করে না তা দীর্ঘস্থায়ীও হয়ে থাকে। এজন্য এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে দৈনন্দিন আহারে কম করে এই ধনেপাতা খেতে পারেন।
ত্বকের সংবেদনশীলতা
সবুজ ধনেপাতাতে মোটামুটিভাবে কিছু ঔষধি অ্যাসিডিক উপাদান থাকে যেটি ত্বককে সূর্যরশ্মি থেকে বাঁচিয়ে সংবেদনশীল করে থাকে। কিন্তু অতিরিক্ত সেবনে সূর্যের রশ্মি একেবারেই ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না ফলে ত্বক ভিটামিন কে থেকে বঞ্চিত হয়। এছাড়া ধনেপাতা ত্বকের ক্যান্সার প্রবণতাও তৈরি করে থাকে।
অ্যালার্জীর সমস্যা
ধনেপাতার প্রোটিন উপাদানটি শরীরে আইজিই নামক অ্যান্টিবডি তৈরি করে যা শরীরের বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানকে সমানভাবে বহন করে থাকে। কিন্তু এর অতিরিক্ত মাত্রা উপাদানগুলোর ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলে। ফলে অ্যালার্জীর তৈরি হয়। এই অ্যালার্জীর ফলে দেহে চুলকানি, ফুলে যাওয়া, জ্বালাপোড়া করা, র্যা শ ওঠা এই ধরনের নানা সমস্যা হয়ে থাকে।
প্রদাহ
অতিরিক্ত ধনেপাতা সেবনের আরেকটি বিশেষ পার্শ্ব প্রতক্রিয়া হল মুখে প্রদাহ হওয়া। এই ঔষধিটির বিভিন্ন এসিডিক উপাদান যেটি আমাদের ত্বককে সংবেদনশীল করে থাকে পাশাপাশি এটি মুখে প্রদাহেরও সৃষ্টি করে। বিশেষ করে এর ফলে ঠোঁট, মাড়ি এবং গলা ব্যথা হয়ে থাকে। এর ফলে সারা মুখ লাল হয়েও যায়।
ভ্রূণের ক্ষতি
গর্ভকালীন সময়ে অতিরিক্ত ধনেপাতা খাওয়া ভ্রূণের বা বাচ্চার শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকারক। ধনেপাতাতে থাকা কিছু উপাদান মহিলাদের প্রজনন গ্রন্থির কার্যক্ষমতাকে নষ্ট করে ফেলে যার ফলে মহিলাদের বাচ্চা ধারণ ক্ষমতা লোপ পায় এবং বাচ্চা ধারণ করলেও গর্ভকালীন ভ্রূণের মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে।
বিনোদন : ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ তৌকীর আহমেদ, অপি করিম ও মাহফুজ আহমেদ। তাদের অভিনীত নাটক নামেই দর্শকদের কাছে অন্যরকম ভালোলাগা। এবার এক নাটকে দেখা যাবে দর্শকপ্রিয় এই তিন তারকাকে। এনটিভির বর্ষপূর্তিতে ‘কেমন আছো?’ নাটকে অভিনয় করবেন তারা। নাটকটি লিখেছেন রুম্মান রশিদ খান। পরিচালনা করবেন চয়নিকা চৌধুরী। নির্মাণ প্রতিষ্ঠান নকশীকাঁথা থেকে নাটকটি প্রযোজনা করেছেন মাহফুজ আহমেদ। আগামীকাল ২০ জুন থেকে নাটকটির শুটিং শুরু হবে।
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রামে রোজার বাজারে কাঁচা মরিচের দাম বাড়িয়ে বিক্রেতাদের ‘লাল হওয়ার’ চেষ্টায় ছেদ পড়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের কারণে।
রোজার প্রথম দিন শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের প্রধান কাঁচাবাজার রিয়াজ উদ্দিন বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছিল ৬০ টাকায়। দুই ঘণ্টার অভিযান শেষে সেই মরিচের দামই ২০ টাকায় নেমে আসে। সকাল ১০টায় এই অভিযানের শুরু করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলম। সোয়া ১১টার দিকে তার সঙ্গে যোগ দেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন নিজে। বেশি দামে মরিচ বিক্রির অভিযোগে তিন বিক্রেতাকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন তারা। পাঁচজনকে আটক করে দেওয়া হয় বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড। অভিযানের শুরুতেই কাঁচা মরিচ ও শসার আড়ত মেসার্স বায়েজিদ স্টোরে যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। বিক্রেতা মো. আতাহার ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানান, বগুড়া থেকে ‘বেশি দামে’ মরিচ কিনতে হয়েছে। তার বক্তব্য শুনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বগুড়ার পাইকার বেপারীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এরপর ওই আড়তে থাকা তিন বস্তা কাঁচা মরিচ বিক্রি করার নির্দেশ দেন ৩০ টাকা কেজি দরে। অভিযানের শেষ দিকে ওই আড়তে গিয়ে দেখা যায় ৫০ টাকা কেজি দরে এক বস্তা মরিচ বিক্রি করা হয়েছে। এরপর বিক্রেতা মো. আতাহারকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মেম্বার বাণিজ্যালয় নামে আরেক আড়তে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছিল ৪৫ টাকা কেজি দরে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলম বলেন, “পরশু এই আড়তে ২০-২৫ টাকায় মরিচ বিক্রি হয়েছে। সরবরাহও ভাল। অতিরিক্ত মুনাফার জন্য দুই দিনের ব্যবধানে মরিচের দ্বিগুণ দাম নেওয়া হচ্ছে।” বেশি দাম রাখায় মেম্বার বাণিজ্যালয়ের মালিক মো. জসিম উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর মেসার্স মিতালী বাণিজ্যালয়কে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত। ইলিয়াস মিঞা সওদাগরের আড়তে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল মানভেদে ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশের পর বিক্রেতা ৩০ টাকা ও ৪২ টাকা কেজিতে বিক্রি শুরু করেন। ততক্ষণে অভিযানের খবর পুরো বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। মুক্তা বাণিজ্যালয় ও নিউ সুমন ট্রেডার্সে গিয়ে দেখা যায়, তারা কাঁচা মরিচ বিক্রি করছে মানভেদে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে। জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন অভিযানে যোগ দেন বেলা ১১টার দিকে। বাজারে ঘুরে ঘুরে তিনি খুচরা বিক্রেতাদের কাছে কাঁচা মরিচের দাম জানতে চান। আমিন নামের এক বিক্রেতা জানান, আরমান ট্রেডার্সের কাছ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে কিনে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ তিনি বিক্রি করছেন ৫০ টাকায়।
এরপর আরমান ট্রেডার্স থেকে বিক্রেতা মো. জনি ও আমিনকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আড়তদার সেলিম বাণিজ্যালয়ের ব্যবস্থাপক রতন চক্রবর্তীকেও আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আবদুল মান্নান নামের এক খুচরা বিক্রেতা জেলা প্রশাসককে জানান, ৪৪ টাকা কেজি দরে তিনি এক মণ মরিচ কিনেছেন পেয়ারা বাবা বাণিজ্যালয় থেকে।
আবদুল মান্নানকে সঙ্গে নিয়ে ওই আড়তে গেলে আড়তের লোকজন প্রথমে দাবি করে, মান্নানের কাছে তারা মরিচ বিক্রিই করেনি। আবার পরে বলে, সকালে গাড়ি কম আসায় মরিচের দাম বেশি ছিল। এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পেয়ারা বাবা বাণিজ্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. রফিককে আটক করা হয়। অভিযান শেষে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, “ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ৬০ টাকার কাঁচা মরিচ ২০ টাকায় বিক্রি হল। যখনই বাজার মনিটরিং অভিযান শুরু হল, তখনই দাম কমে গেছে। এ থেকে বোঝা যায় তারা কম দামেই বিক্রি করতে পারত।” তিনি জানান, বিক্রির হিসাব রাখতে এই ব্যবসায়ীরা তিন রকমের খাতা রাখে। এর একটির সঙ্গে অন্যটির মিল নেই। “এটা অমানবিক ও অনৈতিক কাজ। খুচরা এবং পাইকারিতে দামের অনেক ব্যবধান। পণ্যমূল্য টাঙিয়ে রাখার নিয়ম থাকলেও তারা তা মানে না। পুরো রোজার মাসই আমাদের অভিযান চলবে।” আশরাফুল আলম বলেন, “দেশে কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেই, মহাসড়কেও কোনো ভোগান্তি নেই; তারপরও অতিরিক্ত মুনাফার লোভে এমন দামে বিক্রি হচ্ছে।” তিনি জানান, আরমান ট্রেডার্সের জনিকে ১৫ দিন, এবং আতাহার, রতন, আমিন ও রফিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারে সাত দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রিয়াজ উদ্দিন বাজারের নিয়মিত ক্রেতা শামসুদ্দিন বলেন, “ব্যবসার নামে এখানে জনসাধারণের পকেট কাটা চলে। এরকম অভিযান প্রতিদিন চললে ভালো হয়।”