May 1, 2026
ক্রীড়া প্রতিবেদক: চার নম্বর ওয়ানডের আগে সুরটা কেমন যেন একটু ছাড়া ছাড়া লাগছিল। আগের দিন বিসিবি সভাপতির তীর্যক মন্তব্য_ স্কোয়াডে পরিবর্তন নিয়ে বিতর্কসহ আরও কয়েকটি বিষয় নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা ছিল। সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছিল, আবহাওয়া বুঝি আগের মতো নেই। ৩২ রানে ৪ উইকেট পতনের পর তো শঙ্কা জাগছিল, সফরে প্রথমবারের মতো জয়ের মুখ বুঝি দেখতে যাচ্ছে জিম্বাবুয়ে। কিন্তু কোথায় কী! এই ম্যাচেও জয় বাংলাদেশেরই হলো। জিম্বাবুয়ের জন্য উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, সফরে তারা প্রথম দুইশ’ রানের গণ্ডি পার হতে পেরেছে।

চতুর্থ ওয়ানডের আগের দিন তোলপাড় পড়ে যাওয়ার মতো এক মন্তব্য করে বসেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। এতদিন নাকি জাতীয় দলে একটি সিন্ডিকেট কাজ করত। এজন্য নতুন ক্রিকেটার দলে সুযোগ পেতেন না। উদাহরণ হিসেবে তিনি নাসির ও রিয়াদের নামও বলেছিলেন। তাদের জন্য নাকি পারফর্ম করা সত্ত্বেও মুমিনুল পর্যাপ্ত সুযোগ পেতেন না_ এমন মন্তব্যের পরদিনই দলের বিপদের মুখে ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসটা খেলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এ মন্তব্য ছুঁয়ে যায় মুশফিকুর রহিমকেও। কারণ তিনি তখন দলের সব ফরম্যাটের অধিনায়ক। তাছাড়া মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ তার নিকটাত্মীয়। টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। বিসিবি সভাপতির মন্তব্য তাদের মনোবলে কোনো চির ধরাতে পারেনি। মাঠের বাইরের ঘটনা তাদের মনোবল ও পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি।
স্কোয়াডে পরিবর্তন নিয়েও কম সমালোচনা হয়নি। চোট পাওয়া শফিউল ইসলামের বদলে আবুল হাসান রাজুর ডাক পাওয়া নিয়ে কোনো সমালোচনা হয়নি। তবে প্রথম তিন ওয়ানডের সেরা পারফরমারদের অন্যতম আরাফাত সানিকে বাদ দিয়ে তাইজুল ইসলামকে দলভুক্ত করায় অনেক বিতর্ক হয়। তিন ম্যাচে সানি ১০ উইকেট নিয়েছিলেন। তাইজুলকে অবশ্য শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি। তবে আরও একটি বিষয় ভালোই হয়েছে। তৃতীয় ম্যাচ শেষে রাতেই তাদের দু’জনের দলভুক্তির বিষয়টি ঘোষণা করে বিসিবি। কিন্তু চতুর্থ ম্যাচের আগের দিন আবুল হাসান রাজু দলের সঙ্গে অনুশীলন করলেও তাইজুল প্রাইম ব্যাংকের হয়ে প্রিমিয়ার লীগে খেলেন। এত সমালোচনার জন্যই কি-না মাঠে নামিয়ে দেওয়া হলো জুবায়ের হোসেনকে। আর ওয়ানডে অভিষেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এ তরুণ লেগস্পিনার। টিমস্পিরিট এখন এমন জায়গায় আছে যে, যে কোনো বোলারকে নামিয়ে দিলেও তিনি সফল হবেন।
সিরিজের প্রথম চার ম্যাচের দুটিতে বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যর্থ হয়েছে। একটিতে মিডল অর্ডারে ধস নেমেছিল। তার পরও আড়াই রানের গণ্ডি পার হয়েছে বাংলাদেশ। নিজেদের আটাশ বছরের ওয়ানডে ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো টানা চার ম্যাচে আড়াইশ’ করল বাংলাদেশ। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ছিল চতুর্থ ম্যাচে। ৩২ রানেই সাকিব-তামিমসহ ৪ উইকেট নেই। বাংলাদেশের টানা জয়ের পেছনে অনেকেই হয়তো মনে করছেন, জিম্বাবুয়ে দুর্বল দল বলেই এমনটা সম্ভব হচ্ছে। তবে জিম্বাবুয়ের এ দলটিই কিন্তু ক্লার্ক, ম্যাক্সওয়েল, বেইলিদের অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল।