April 20, 2026
ঢাকা: ‘জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিল আওয়ামী লীগের আমলে। অথচ এখন বিএনপিকে নতুন করে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়ানোর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।’ এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী যুবদল।
‘বিএনপি জঙ্গিবাদী সংগঠন’ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে ফখরুল বলেন, ‘আপনি (ইনু) অতীত ইতিহাস একেবারেই ভুলে গেছেন। সেই সঙ্গে তো জনগণকেও ভুলিয়ে দিতে চান। কিন্তু আপনারাই জঙ্গিবাদ শুরু করেছিলেন। আপনার আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে জাসদ গঠন করে ত্রিশ হাজার মানুষকে হত্যা করেছিলেন। এর জন্য আপনাদেরকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’
আওয়ামী লীগকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের জনক আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘অস্ত্র তাদের হাতে, বোমা মারছে তারা, মিছিলে গুলি করছে তাদের পুলিশ, হামলা করছে তাদের লোকজন। সহিংসতা তারা করে আর দোষ দেয় বিএনপির।’
সমস্ত চক্রান্তের সঙ্গে আওয়ামী লীগ জড়িত উল্লেখ ফখরুল বলেন, ‘আগে সকল কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চান, তারপর কথা বলুন।’ আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি সন্ত্রাসে বিশ্বাস করে না। শান্তিতে বিশ্বাস করে। বিএনপি উদারপন্থি দল।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বেশিদিন টিকে থাকলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে না। সমস্ত অর্জন শেষ হয়ে যাবে। একটি গোষ্ঠি বার বার ষড়যন্ত্র করেছে এদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে পিছিয়ে দিতে। আর আওয়ামী লীগ বরাবরই এতে বিরাট ভূমিকা রেখেছে।’
ছাত্রলীগ দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সন্ত্রাসী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী করে রণক্ষেত্রে পরিণত করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশ ধ্বংসের দিকে যাবে। আওয়ামী লীগ দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। আওয়ামী লীগ কখনো চায়নি শক্ত ভীতের উপর মাথা তুলে দাঁড়াক বাংলাদেশ ‘
নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা যদি এতোই জনপ্রিয় দল হোন তাহলে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন দিন। লেভেল প্লেইং ফিল্ডে নির্বাচনে আসুন তাহলেই বোঝা যাবে আপনারা কতটা জনপ্রিয়।’ তারেক রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছিল দাবি করে মির্জা আলমগীর বলেন, ‘তারেক রহমান এই জাতিকে এগিয়ে নিতে চাইছেন। তিনি চাইছেন জাতিকে একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে। আর এজন্য তাকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন চালানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সেদিন তারেক রহমানকে শুধু গ্রেপ্তারই করা হয়নি তাকে হত্যার চক্রান্ত হয়েছিল।’
‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের অস্তিত্ব টিকে থাকবে না’ দাবি করে মির্জা আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এর আগে ১৯৭৫ সালে মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ করে বাকশাল কায়েম করেছিল। জনগণের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার গুলো কেড়ে নিয়েছিল। এবারও একটু ভিন্ন আঙ্গিকে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নির্বাচন করে জনগণের অধিকার হরণ করেছে। এরা দ্বিতীয় বারের মতো দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। দেশকে ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের অস্তিত্ব টিকে থাকবে না। তাই এদের বিদায় করতে হবে।’
খালেদা জিয়ার ডাকে সবাইকে আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, ‘আসুন আজকে শপথ নেই, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে স্বেরাচারী সরকারের পতন নিশ্চিত করবো। তাহলে এটাই হবে তারেক রহমানের এবারের জন্মদিনে সবচেয়ে বড় উপহার।’
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, কবি আব্দুল হাই শিকদার, যুব দলের সিনিয়র সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সেলিমুল্লাহ সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীবর, ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তরের সভাপতি মামুন হাসান, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর, দক্ষিনের সাধারন সম্পাদক রফিকুল আলম মজুমদার প্রমুখ।