May 2, 2026
ঢাকা: ডেসটিনি, যুবকসহ বিভিন্ন মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানির প্রতারণার অসংখ্য উদাহরণ সামনে থাকার পরও যশোরের ১২ হাজার গ্রাহক এ ধরনের ভুয়া প্রতিষ্ঠানের শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন মর্মে খবর বেরিয়েছে। এহসান নামাঙ্কিত তিনটি প্রতিষ্ঠান- যথাক্রমে এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ, এহসান রিয়েল এস্টেট ও এহসান সোসাইটির কর্মকর্তারা এসব গ্রাহকের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন। উল্লেখ্য, উধাও হয়ে যাওয়া কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের নামের আগে মাওলানা যুক্ত রয়েছে। তারা পবিত্র কোরআন-হাদিসের নানা ব্যাখ্যা দিয়ে প্রচলিত ধারার ব্যাংকিংয়ের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেন, অতঃপর শরিয়াভিত্তিক কো-অপারেটিভ সোসাইটি গড়ে তুলে ধর্মপ্রাণ মানুষের সরলতার সুযোগ গ্রহণ করেছেন। দারিদ্র্যপীড়িত, বিশেষত গ্রামীণ
সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করা কঠিন কোনো কাজ নয়। তাৎক্ষণিক আর্থিক লাভের আশায় তারা ঝুঁকিও নিয়ে থাকেন। আর তাদের এই ঝুঁকিপ্রবণতাকে পুঁজি করে ভুয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে প্রতারণার ফাঁদও তৈরি করা সহজ। কিন্তু প্রশ্ন হল- গোয়েন্দা সংস্থা, সমবায়সংশ্লিষ্ট দফতর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সর্বোপরি সরকার কী করছে? যশোর জেলা সমবায় কর্মকর্তা বলেছেন, এহসান মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ কোম্পানি সমবায় অধিদফতরের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান। কথা হচ্ছে, সমবায় অধিদফতর কিংবা জেলা সমবায় দফতরের কাজ কি নিবন্ধনেই সন্তুষ্ট হওয়া? নাকি তাদের আরও কাজ আছে? নিবন্ধিত সংস্থাগুলো নিবন্ধনের সুযোগে তাদের কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করছে কিনা, তা মনিটর করবে কে? দ্বিতীয় কথা, এহসান নামের বাকি দুটি প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের আইনি ভিত্তি ছাড়া কার্যক্রম চালাল কীভাবে? ১২ হাজার লোক সেসব প্রতিষ্ঠানে যে অর্থ ঢালছিল, সেটা তো কোনো গোপন ব্যাপার ছিল না, প্রকাশ্যেই চলছিল অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া। দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাহলে চোখ বুজেই ছিলেন! আমরা এমএলএম বা কোনো ধরনের ভুয়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার খবর শুনতে চাই না আর। যথেষ্ট হয়েছে। কীভাবে রোধ করা যাবে এ প্রতারণা? প্রথম কথা, কোথাও কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডে সামান্য অসঙ্গতি দেখা দিলেই সংশ্লিষ্ট দফতর, গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা দুদক প্রতিষ্ঠানটিকে পর্যবেক্ষণে রাখবে, প্রয়োজনে নামতে হবে তদন্তে- এটাই হওয়ার কথা। দ্বিতীয় কথা, নিুস্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তরা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ভুয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে কি-না, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তা নজরে রাখতে হবে। তৃতীয়ত, জনগণের মধ্যে এই সচেতনতা জাগাতে হবে যে, কোথাও বিনিয়োগ করার আগে তারা যেন পুরো বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করে নেন। যশোরের প্রতারকদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান তিনটির সম্পদ জব্দ করে সেগুলো থেকে যথাসম্ভব ফিরিয়ে দিতে হবে গ্রাহকদের টাকা।