May 2, 2026
বিনােদন ডেস্ক: জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘অনেক সাধের ময়না’ ছবিটি মুক্তির আগে থেকেই ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়ে আসছিল। আর এই আলোচনার পেছনের মুল কারণ হল প্রেমের ছবির পরিচালক বলে খ্যাত কাজী জহিরের ১৯৬৯ সালের ‘ময়নামতি’র রিমেক এটি। তবে ৭ নভেম্বর মুক্তির পর পরিচালক রাজুর মুখে শোনা গেল ভিন্ন সুর তিনি জানালেন ছবিটি ‘ময়নামতি’র রিমেক নয়, ‘অনেক সাধের ময়না’ আমি নিজের মতো করে বানিয়েছি। এখানে নতুন অনেক টেকনোলোজির ব্যবহার হয়েছে। তাই আমি বলবোনা যে এটি রিমেক। ‘ময়নামতি’র আধুনিকায়ন হল ‘অনেক সাধের ময়না।’ ছবিতে প্রধান তিনটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন আনিসুর রহমান মিলন, মাহিয়া মাহি ও বাপ্পি। ছবির গল্পে দেখা যায়, মনা ( আনিসুর রহমান মিলন) ভালবাসে ময়নাকে (মাহিয়া মাহি)। কিন্তু মনা তার এই ভালবাসার কথাটা ময়নাকে সামনা সামনি বলতে পারেনা। মনা গ্রামের একজন সহজ সরল যুবক। বাবার রেখে যাওয়া সব জমি বিক্রি করে লটারির প্রথম পুরস্কার জেতার আসায় বান্দেল বান্দেল টিকেট কিনে। কিন্তু ফলাফল শূন্য। এদিকে ময়না খুব চঞ্চল স্বভাবের মেয়ে। কৃষক বাবাকে (আলী রাজ) নিয়েই তার বসবাস। মনা পাখি ভাইকে (শামিম, ছবিতে মাহির বাড়ির কাজের লোক) জানায় যে সে ময়নাকে ভালোবাসা। তবে পাখি ভাইও মনাকে ভাঙ্গিয়ে টাকা খায়। এমন যখন অবস্থা ছবির গল্পে আগমন ঘটে আমেরিকা ফেরত মতির (বাপ্পি)। গ্রামে আসতেই প্রথমেই ময়নার দুষ্টুমির শিকার হন তিনি। মতি ব্যাপারীর ছেলে (সোহেল খান) ৬ বছর পর ছেলেকে কাছে পেয়ে মতির মা ও বাবা দুজনেই খুশিতে আটখানা হয়ে যান। কিন্তু ঝামেলাটা বাধে অন্যখানে ছেলেকে কম্পিউটারের উপরে পড়তে পাঠালেও মতি আমেরিকায় কৃষির উপরে পড়াশোনা করেছেন। এটা শোনার পর ব্যাপারির মাথা ঠিক থাকে না। বাপ-ছেলের মাঝে বেঁধে যায় দ্বন্দ্ব। এবার সেই ময়নার বাপ্পির বাসায় অবাধ বিচরণ শুরু। কেন এই বিচরণ কারণ ময়না মতির মায়ের হাতের কাজ করে দেয়। মতির মা ময়নাকে অনেক ভালবাসে।
শুরু হয় ময়না-মতির প্রেম। ময়নার সাথে মতির প্রেমের গুঙ্গনে ভেঙ্গে যায় মনার মন। ভালোই চলে ময়না-মতির প্রেম কাহিনী। কিন্তু ভালো থাকাটা বেশিক্ষন স্থায়ী হয়না। আর তার কারণ হলো পর্দায় প্রবেশ ঘটেছে চৌধুরী সাহেব নামক কটিপতি লম্পটের। ময়নার উপরে খারাপ নজর পড়ে তার। যেকোনো মূল্য ময়নাকে পেতে চায় সে। ময়নার বাড়িতে চৌধুরী বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়। বিয়ে নয় আক্ষরিক অর্থে ময়নাকে ভোগ করতে চায় চৌধুরী সাহেব। কিন্তু ময়না এই বিয়েতে রাজি হয়না। সোজা আঙুলে ঘি উঠলো না। এবার বাকা পথ অবলম্বন করলেন ক্ষমতাধর চৌধুরী। চৌধুরী সাহেবের বাকা আঙুলে ঘি উঠে কিনা কিংবা কতোটা উঠে তা জানতে হলে পাঠক হলে গিয়ে ছবিটি দেখতে পারেন। ছবিটির ভুল গুলো- বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জল খাওয়ার কথা পাঠক হয়তো শুনেছেন। কিংবা বাংলার আরেক আলোচিত চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল বিজ্ঞাপনে ‘দিনকে রাত রাতকে দিন বানিয়েছেন। তবে ‘অনেক সাধের ময়না’ ছবিতে পরিচালক জাকির হোসেন রাজুর একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যে রাত ও দিনকে একজায়গায় করে ফেলেছেন। একদিকে দিনের আলোতে মাহির বিয়ে। অপরদিকে মিলনকে তার দুই সাগরেদ যে ঘরের মধ্যে বেঁধে রেখেছে জানালা দিয়ে বাইরে পুরোপুরি রাত দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি দর্শক বিরক্তির অন্যতম একটি কারণ। বন্ধ ল্যাপটপের কিবোর্ড চাপছেন বাপ্পি। যেহেতু নির্মাতা ছবিটি এই যুগের প্রেক্ষাপটের উপরে তৈরি করেছেন। সুতরাং জানতে ইচ্ছে করছে গ্রামের মেয়েরা এখন ময়নার মতো তিন প্যাচে শাড়ি পড়ে কিনা। তীব্র রোদে আমেরিকা থেকে গ্রামে আসা বাপ্পির মোটা জ্যাকেট পড়লেও পুরো গ্রামের কাউকেই শীতের পোশাক পড়তে দেখা যায়নি। ছবির গানগুলো গতানুগতিক মনে হয়েছে। বাপ্পির অভিনয়ে মনোযোগ দেবার সময় হয়েছে। গ্রামের মেয়ের চরিত্রে মাহি মানান সই। মনা চরিত্রে মিলনের অভিনয় দেখেই বোঝা যায় ছোট পর্দার জনপ্রিয় এই অভিনেতা বড় পর্দায়ও রাজত্ব করতেই এসেছেন। ছবির গল্পে ময়না যারই হোকনা কেন। ‘অনেক সাধের ময়না’ ছবিটি আনিসুর রহমান মিলনের কথাটি বললে খুব একটা ভুল হবেনা।