পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

নতুন বীমার লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ

Posted on February 14, 2013 | in ব্যবসা-অর্থনীতি | by

bZyb exgvi jvB‡mÝ †`Iqvi D‡`¨vMঢাকা: নতুন ব্যাংকের পর এবার কয়েকটি বীমা কোম্পানির লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ মাসেই বীমা কোম্পানি স্থাপনে আগ্রহীদের কাছ থেকে আবেদন (লেটার অব ইনটেন্ট) চেয়ে বিজ্ঞাপন দেবে বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
আইডিআরএর সদস্য ফজলুল করিম বলেন, “নতুন বীমা কোম্পানির লাইসেন্স বিষয়ক গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। সেই আলোকে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই বীমা কোম্পানি স্থাপনে আগ্রহীদের কাছ থেকে আবেদন চেয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে।”
কতগুলো এবং কি ধরনের বীমা কোম্পানির লাইসেন্স দেওয়া হবে জানতে চাইলে ফজলুল করিম বলেন, “তা এখনও ঠিক হয়নি। আমরা আবেদন পেলে তা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবো। নতুন সাধারণ বীমা কোম্পানি দেওয়ার সুযোগ খুব একটা নেই, জীবন বীমা কোম্পানির লাইসেন্স দেওয়া হবে।”
ইতোমধ্যে নতুন বীমা কোম্পানির লাইসেন্স দিতে বেশ কিছু শর্তজুড়ে দিয়ে এ সংক্রান্ত প্রবিধানের গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। গত ১০ ফেব্র“য়ারি প্রকাশিত গেজেটটি বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে আইডিআরএ কার্যালয়ে এসে পৌঁছেছে।
নতুন বীমা কোম্পানির লাইসেন্স দিতে আইডিআরএ গত বছরের নভেম্বর মাসে অর্থমন্ত্রণালয়ে ‘বীমা কোম্পানির নিবন্ধন’ শীর্ষক একটি খসড়া প্রবিধানমালা পাঠায়।
সূত্র জানায়, আবেদন ফরম সরবরাহ করবে আইডিআরএ। একটি বীমা প্রতিষ্ঠানের জন্য ৭টি ভিন্ন ভিন্ন ফর্ম নিতে হবে। এর মোট মুল্য হবে ৫ লাখ টাকা।
বর্তমানে দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৬১টি বীমা কোম্পানি কাজ করছে। এর মধ্যে সরকারের জীবন বীমা কর্পোরেশনসহ ১৯টি জীবন বীমা এবং সাধারণ বীমা কর্পোরেশনসহ ৪২টি সাধারণ বীমা কোম্পানি রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে বীমা কোম্পানির লাইসেন্স দেওয়ার দাবি রয়েছে। অর্থমন্ত্রনালয়ে আগ্রহীদের প্রায় ৫০০ আবেদন জমা পড়েছিলো। এরমধ্যে প্রায় ১৫০টি আবেদন অর্থমন্ত্রনালয় আইডিআরএর কাছে পাঠিয়েছে। তবে এসব আবেদন এখন গ্রহণযোগ্য হবে না।
বীমা খাতের বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যমতে, জীবন বীমা দেশে জনপ্রিয়তা পায়নি। দেশের ৫ শতাংশ মানুষ জীবন বীমার আওতাধীন।
সম্প্রতি দেশের কৃষি খাতকেও বীমার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এদিকে বর্তমান সরকার বেসরকারি খাতে ৯টি নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের আর ৬টি দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য। এরমধ্যে ৫টি ব্যাংকের চুড়ান্ত লাইসেন্সের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গেজেটের শর্ত মতে, অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিকে ৩ বছরের মধ্যে পাবলিক শেয়ার ইস্যু করতে হবে। বীমা আইন ২০১০-এর সিডিউল ১ অনুযায়ী পাবলিক শেয়ার ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধনের ৪০ শতাংশ হবে।
সাধারণ বীমার জন্য প্রত্যেক উদ্যোক্তার ন্যূনতম শেয়ার হবে ৪৮ লাখ টাকা ও জীবন বীমার ক্ষেত্রে হবে ৩৬ লাখ টাকা। একজন উদ্যোক্তার সর্বোচ্চ শেয়ার কোম্পানির মোট শেয়ারের ১০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারবে।
তবে শেয়ার ধারণের সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ শিথিল করা যাবে যদি বীমা কোম্পানিটি কোনো বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সংযুক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এ ছাড়া বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ব্যবসা শুরুর ৩ বছরের মধ্যে উদ্যোক্তারা শেয়ার হস্তান্তর করতে পারবে না।
পরিচালক হওয়ার জন্য প্রস্তাবিত বীমা কোম্পানির উদ্যোক্তোদের দক্ষতা, সততা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হবে। উদ্যোক্তাদের পূর্ববর্তী কাজকর্ম, নিয়ন্ত্রণ ও বিচারিক দক্ষতা, পেশাগত দক্ষতা, নিরপেক্ষ বিচার ও মূল্যায়নের বিবেচনা করা হবে।
সন্ত্রাসী ও মানবতাবিরোধী কোনো কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত বা আইন লঙ্ঘনকারী কার্যকলাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরিচালক হতে পারবেন না। কোনো ব্যক্তি বা তার পরিবারের কোনো সদস্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ৫ বছরের মধ্যে ঋণখেলাপি হয়ে থাকলে তিনি প্রস্তাবিত বীমা কোম্পানির উদ্যোক্তা হিসাবে আবেদনে অযোগ্য হবেন।
প্রস্তাবিত বীমা কোম্পানির কোনো পরিচালক একই শ্রেণির অন্য কোনো বীমা বা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হতে পারবে না। দুইজন স্বাধীন পরিচালকসহ বীমা কোম্পানির পরিচালক সংখ্যা ২০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এক্ষেত্রে একই পরিবার হতে সর্বোচ্চ দুই জন পরিচালক থাকতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে তাদের কোম্পানির ৫ শতাংশ শেয়ারের অধিক মালিকানা থাকতে হবে।
প্রস্তাবিত বীমা কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হতে আগ্রহী কোনো ব্যক্তিকে অবশ্যই একই শ্রেণির বীমা ব্যবসায় কমপক্ষে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসহ উক্ত পদের পূর্ববর্তী পদে ৩ বৎসর কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বয়স ৪০ থেকে ৬৭ বছরের মধ্যে হতে হবে।

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud