পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

কানাডার ভিসা মিললেও তথ্যের নিশ্চয়তা মেলেনি দুদক উপদেষ্টার

Posted on October 20, 2013 | in স্বাস্থ্য | by

Douduk-sm20131020080452ঢাকা: অবশেষে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতিনিধিকে ভিসা দিয়েছে ঢাকাস্থ কানাডা হাইকমিশন। দুদকের উপদেষ্টা ও হাইকোর্কের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এই ভিসা পেয়েছেন।  ১ নভেম্বর কানাডায় পদ্মাসেতু দুর্নীতির মামলায় অনুষ্ঠেয় শুনানি পর্যবেক্ষণ এবং তদন্তের আরও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে আগামী সপ্তাহে দেশটির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন আনিসুল হক।

রোববার বিকেলে   এ বিষয়ে নিশ্চিত করেন দুদক চেয়ারম্যান মো: বদিউজ্জামান। কে যাচ্ছেন সে বিষয়ে সরাসরি কথা না বললেও দুদকের প্রধান এ নির্বাহী জানান ভিসার বিষয়টি রোববারই অবগত হয়েছেন।  এক সদস্যের একটি টিম চলতিমাসের শেষ দিকেই কানাডা যাবে। দুদক সূত্র জানায়, সংস্থাটির আইন উপদেষ্টা আনিসুল হক যাচ্ছেন কানাডায়। এ সফরে তার সঙ্গে তদন্ত টিমের আর কোনো সদস্য যাচ্ছেন না।  উল্লেখ্য আবেদনের প্রায় দেড়মাস পর কানাডার ভিসা পেলেন দুদকের আইন উপদেষ্টা।  এদিকে ভিসা পেলেও কানাডার রয়্যাল মাউন্টেড পুলিশের (আরসিএমপি) কাছে থাকা পদ্মাসেতু দুর্নীতির তথ্য পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা পায়নি দুদক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কানাডার আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণেই তাদের দেশে চলমান এ তদন্তের কোনো তথ্য দুদক পাচ্ছে না।

এর আগে গত ১৯ মে দুদকের পক্ষ থেকে আনিসুল হক ও পদ্মাসেতু দুর্নীতি তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জা জাহিদুল আলম কানাডায় গেলেও শূন্য হাতে ফিরে আসেন। কানাডা থেকে তথ্য পাওয়ার কোনো ধরনের নিশ্চয়তা না পাওয়ার পরও দ্বিতীয়বার এ সফরে তদন্তের কতটা অগ্রগতি হবে তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পদ্মাসেতু দুর্নীতির ঘুষের তালিকা তৈরি করার অভিযোগে কানাডায় গ্রেফতার হয়েছিলেন এসএনসি লাভালিনের কর্মকর্তা ভারতীয় বংশোদ্ভূত রমেশ শাহ ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইসমাইল। গ্রেফতারের পর তারা এখন জামিনে রয়েছেন।

কানাডার অন্টারিও সুপিরিয়র কোর্ট অব জাস্টিসে তাদের বিচার চলছে। সুপিরিয়র কোর্ট অব জাস্টিসে দুই দফা তারিখ পরিবর্তনের পর ৯ সেপ্টেম্বর প্রাক-শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তখনও প্রাক শুনানি হয়নি। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতে ১ নভেম্বর প্রাক-শুনানির দিন নির্ধারণ করে। এ শুনানি পর্যবেক্ষণ করতেই দুদক টিম কানাডায় যাবে।

কানাডার আদালতের নিয়মানুসারে কোনো অভিযোগ চূড়ান্ত বিচারে যাবার আগে তার প্রাক শুনানি হতে হয়।
কানাডা থেকে সূত্রগুলো জানাচ্ছে, ১ নভেম্বর সকলপক্ষের আইনজীবী আদালতে এসে মামলা কিভাবে অগ্রসর হবে তা নির্ধারণ করবেন।

এদিকে সেপ্টেম্বরে কানাডার পুলিশ এই দুর্নীতি মামলায় বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী ও ব্যবসায়ী জুলফিকার আলী ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে দেশটির আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয়। এর মাধ্যমে কানাডায় চলমান এ দুর্নীতির ঘটনায় প্রথম দু’জন বাংলাদেশি আসামি হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, প্রায় দু’বছর আগে পদ্মাসেতু নির্মাণে দরপত্র আহ্বানেই দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ মহাজোট সরকারকে বেকায়দায় ফেলে। এ সময় বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, পদ্মাসেতুর পরামর্শকের কাজ পাইয়ে দিতে বিতর্কিত এসএনসি- লাভালিনকে ঘুষ দেওয়ার চক্রান্ত করেছিল বাংলাদেশের প্রভাবশালী মহল।

কাকে কত শতাংশ ঘুষ দেওয়া হবে, ডায়েরিতে তার একটি তালিকা করেছিলেন এসএনসি-লাভালিনের সাবেক কর্মকর্তা রমেশ শাহ। আর ইসমাইলের ল্যাপটপেও ঘুষ-দুর্নীতির কিছু তথ্য ছিল।

কানাডিয়ান পুলিশ ইসমাইল এবং রমেশ শাহর বাসা থেকে উদ্ধার করা ল্যাপটপ ও ডায়েরিতে পদ্মাসেতু প্রকল্পে ঘুষের কিছু তথ্য পায়। এর মধ্যে রমেশ শাহর ডায়েরিতে কিছু সাংকেতিক নাম পাওয়া যায়। এসএনসি-লাভালিনকে কাজ পাইয়ে দিতে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে, সেই তালিকাও রমেশের ডায়েরিতে পাওয়া যায়।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর মোট সাতজনকে আসামি করে রাজধানীর বনানী থানায় মামলা (মামলা নং-১৯) দায়ের করে দুদক।

এ মামলায় তিন বিদেশি আসামি ইসমাইল, রমেশ ও কেভিন ওয়ালেস। বাংলাদেশের আসামিরা হচ্ছেন- সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদৌস, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিয়াজ আহমেদ জাবের, ইপিসি’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা।

তিন বিদেশি আসামির মধ্যে কেভিন ওয়ালেস কানাডিয়ান, ইসমাইলের পূর্বপুরুষের বাড়ি বাংলাদেশের চট্টগ্রামে, আর রমেশের ভারতে। দুদকের মামলার বিদেশি এ তিন আসামি বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। বাংলানিউজ

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud