April 20, 2026
মেহেরপুর: মুজিবনগর উপজেলার গৌরিনগরে জামায়াত, শিবির ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত ও ওসি-এসআইসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও ৮ রাউন্ড গুলি চালায় বলে জানা গেছে।
টানা ৪৮ ঘণ্টা হরতালের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম দেলাওয়ার হোসেন (৩৪)। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি দরিয়াপুর এলাকার তোহাব মিয়ার ছেলে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
আহত পুলিশ সদস্যদের মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে আর অন্যরা মুজিবনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। মুজিবনগর থানার এসআই এস মান্নানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এদিকে মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়কের বন্দরে অবরোধের সময় পুলিশ বহনকারী একটি মিনি ট্রাক (ঢাকা ন-১৪-৬৩৯৬) ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ট্রাকটিতে আগুন দেয় পিকেটাররা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোর থেকে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা সমবেত হয়ে মেহেরপুর সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। তারা ইটপাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হাশেম, উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মান্নান, কনস্টেবল খায়রুল, আজহারুল, মিরুলসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও ৮ রাউন্ড গুলি চালায়।
পুলিশ সুপার একেএম নাহিদুল ইসলাম
জানান, সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
কিন্তু ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) আবদুল জলিল কোনো ব্যক্তির নিহত হওয়ার খবরটি সত্য নয় বলে জানিয়েছিলেন। তবে পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে জামায়াতের এক কর্মীর নিহত হওয়ার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সদর উপজেলার কায়েম কাটার মোড়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে ও আগুন ধরিয়ে অবরোধ করে রেখেছে। ভোর রাত থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মী সেখানে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেছে।