April 20, 2026
ঢাকা: হলমার্কের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার বিকেলে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রদীপ কুমার দত্ত একথা জানান।
এমডি জানান, ‘মূলত খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকটি কিছুটা সমস্যায় পড়েছে। গত বছর এ ব্যাংকের একটি শাখায় ঘটে যাওয়া অনাকাক্সিক্ষত দুর্ঘটনার পর খেলাপি ঋণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে ব্যাংকটি। যেটা আগে কখনো হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘এই খেলাপি ঋণ আদায়ে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। কর্মকর্তাদের চাপে রেখে হলেও আমরা এই ঋণ আদায় করবো। এ বছর আমরা আট হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি। আশা করছি, এর মধ্যে পাঁচ হাজার কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমরা কৃষিখাতে পর্যাপ্ত ঋণ বিতরণ করে যাচ্ছি। ২৪ লাখ কৃষক এ ব্যাংক থেকে ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খুলেছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় খাতের সর্ববৃহৎ ব্যাংক হিসেবে আমরা কেবল বাণিজ্যিক সেবাই দিচ্ছি না, দেশ ও জনগণকেও সেবা করে যাচ্ছি। এই ব্যাংকটি ৩৭ ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাÐ করে থাকে; যার মধ্যে ২৪ ধরনের সেবার কোনো মাশুল নেয় না। বেসরকারি ব্যাংকের মতো মুনাফাকামী ব্যাংক হলে এই সেবার বিপরীতে আমরা কোটি কোটি টাকা আয় করতে পারতাম।’
এমডি ব্যাংকটির অবনতির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘সব সূচকে সোনালী ব্যাংকের অবনতি ঘটেনি। ঘটেছে, কেবল দুটি সূচকে। প্রভিশন ও মূলধন ঘাটতি আমাদের বেশি। এই ঘাটতি মেটাতে আমরা সরকারের কাছে আবেদন করেছি। এই বিষয়ে শিগগরিই হয়ত ঘোষণা আসবে।’
প্রদীপ কুমার দত্ত বলেন, ‘গত বছরের ১৭ জুন এমডি হিসেবে যোগদানের পর আমি ব্যাংকের অনেক উন্নতি ঘটেছে। আগে মূলধন সংরক্ষণ করতে গিয়ে যেখানে ব্যাংকটিকে প্রতিদিন কয়েক হাজার কোটি কলমানি মার্কেট থেকে ধার করতে হতো। এখন সেখানে আমরা প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকা কলমানি মার্কেটে খাটাচ্ছি।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক খোন্দকার মো. ইকবাল, মো. দিলওয়ার হোসেন ভূঁইয়া, মো. খোরশেদ হোসেন, প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক হাসান ইকবাল প্রমুখ।