April 20, 2026
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে সাজেদা খাতুনকে (৫০) শ্বাসরোধ করে হত্যা ও ছেলে জিন্নাহকে (৩০) কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার মধ্য রাতে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বাগুটিয়া মাঠ থেকে পুলিশ নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। জিন্নাহকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জিন্নাহ আলম জানান, ১৯৮৩ সালে আবাইপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার মা সাজেদা খাতুনের বিয়ে হয়। ১৯৮৪ সালের ১৫ জুন জিন্নাহ জন্মগ্রহণ করেন। কিছুকাল পরে সাজেদা খাতুন জানতে পারেন রফিকুল আগে বিয়ে করেছেন এবং তার বউ আছে। এ নিয়ে তিনি প্রতিবাদ করায় রফিকুল তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাজেদা ও ছেলে জিন্নাহকে সব অধিকার থেকে বঞ্চিত করেন। এরপর থেকে তার পিতা রফিকুল ইসলাম তাদেরকে অস্বীকার করে আসছিলেন বলে জিন্নাহ অভিযোগ করেন। পিতৃত্বের দাবিতে জিন্নাহ আলম বাদি হয়ে চলতি বছরে ঝিনাইদহ আদালতে একটি মামলাও দায়ের করেন। সম্প্রতি সাজেদা বেগম স্ত্রীর স্বীকৃতি ও সন্তানের পিতৃ পরিচয় দাবি করে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। এ ঘটনার জের ধরে রফিকুল লোকজন দিয়ে তার মাকে হত্যা করায় বলে জিন্নাহ অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে আবাইপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,‘আমাকে ফাঁসানোর জন্য সুপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।’ স্ত্রী-সন্তানকে বঞ্চিত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাজেদা আমার স্ত্রী নয়। সুতরাং জিন্নাহ আমার সন্তান হবে কী করে। স্ত্রী-সন্তান না হলে অধিকারের প্রশ্নই ওঠে না।’ শৈলকূপা থানা ওসি ছগির মিয়া বলেন, ‘শৈলকুপার বাগুটিয়া গ্রামের মাঠে সোমবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে । এ ঘটনায় শৈলকুপা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।