May 5, 2026
ঢাকা : ‘আজি দখিন দুয়ার খোলা/এসো হে এসো হে এসো হে আমার বসন্ত’-বাংলার কবি এভাবে বরণডালা সাজিয়েছেন বসন্তের আগমনের। এলো বসন্তের মাতাল হাওয়ায়, কুসুম বনের বুকের কাঁপনে, উতরোল মৌমাছিদের ডানায় ডানায়, নিরাভরণ গাছে গাছে নব কিশলয় জেগে উঠবার আভাসে, আর বনতলে কোকিলের কুহুতানে।
আজ পহেলা ফাল্গুন। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায় ‘ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক/আজ বসন্ত…। অশোকে-পলাশে-কৃষ্ণচূড়ার আগুনঝরা ঔজ্জ্বল্যে সেজে উঠেছে বাংলার সবুজ-শ্যামল প্রান্তর। দক্ষিণ হাওয়ায় কুসুম বনের বুকে কাঁপন, কোকিলের কূহু কূহু তান, নিরাভরণ গাছের কচি পাতায়, মৌমাছিদের ডানায় ডানায় ধ্বনিত ‘আজি বসন্তন্ত জাগ্রত দ্বারে…।’
অথবা ‘ওরে গৃহবাসী খোল, দ্বার খোল, লাগল যে দোল!/ স্থলে জলে বনতলে লাগল যে দোল!/ দ্বার খোল, দ্বার খোল…।’ দক্ষিণা হাওয়ায় দোল জাগিয়ে আবারও বসন্ত এল প্রকৃতি ও জীবনে।
সাগর, নদী, সবুজ ছায়ায় ও গ্রীষ্মের খরতাপে নিঃশ্বাস নেবার ফালগুনে পায় শেষ পরিতৃপ্তি। নিরাভরণ বৃক্ষের কচি পাতা বাতাসের নাচনের মতই বাঙালীর মনে দেয় দোলা। হৃদয় হয় উচাটন। তরুণ প্রজন্ম সাজে নতুন সাজে। পুরো বাংলা জেগে ওঠে নতুন আঙিনায়। ফুল ফোটার কোলাহলে ভরে ওঠে চারদিক।
গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কোকিলের মধুর কূহু কূহু তান, আবার ব্যাকুল করে তোলে অনেক বিরহীকে। বসন্তের আহ্বান শুধু মিলনেই নয়, প্রেমেও। প্রেমে থাকে আবার নানা শঙ্কা। তাই এমন মধুর দিনে অমন শঙ্কাও জাগে অধীর প্রতীক্ষায় থাকা কোন মনে! সে কি আমায় নেবে চিনে?
তবে বসন্তের এই সমীরণ বলছে আজ মিলনের দিন। নব-তরুণ ও তরুণীর প্রাণ মেলায় জাগ্রত থাকবে পুরো বাংলা। বসন্তের এই আহ্বানে সাড়া দিবে সবাই। জাগবে নতুন বন্ধুত্বের আহ্বান।
শীত শেষ। তাই শীতের জীর্ণতা সরিয়ে ফুলে ফুলে সেজেছে এখন পুরো প্রকৃতি। গাছে গাছে নতুন কলি, সবুজ ছায়া যেন আহ্বান করছে নতুন করে সাজার। শীতের শেষ অন্ধকারের পর সূর্যোদয়ের সঙ্গে শুরু হল ফালগুনের নতুন অভিষেক ঋতুরাজ বসন্তের।
শীতের আবরণে থাকা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম এখন অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠেছে পুরো বাংলায়। পলাশ, শিমুল ও কৃষ্ণচূড়ায় লেগেছে আগুন। প্রকৃতির মধুর সাজে মন রাঙিয়ে অনেকেই গুন গুন করে গেয়ে উঠছেন কবিগুরু রবি ঠাকুরের কবিতা-
আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে।
তব অবগুন্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে
কোরো না বিড়ম্বিত তারে।
আজি খুলিয়ো হৃদয় দল খুলিয়ো,
আজি ভুলিয়ো আপনপর ভুলিয়ো,
এই সংগীতমুখরিত গগণে
তব গন্ধ করঙ্গিয়া তুলিয়ো।
এই বাহির ভূবনে দিশা হারা হয়ে
দিয়ো ছড়ায়ে মাধুরী ভারে ভারে।
বসন্তের এই দিনে বসে থাকতে রাজি নয় নবপ্রজন্ম। তারা গায়ে হলুদ আর বাসন্তির রঙের শাড়ি-পাঞ্জাবি পরে হাতে হাত রেখে বেরিয়ে পড়বে নতুন স্বপনে।
বসন্তের শুরুতেই নাগরিক সৌন্দর্য ও বসন্তের ফুল কিছুটা কম দেখা গেলেও দু’চার দিনেই পুরো বাংলা হয়ে উঠবে নতুন সাজে। এর মধ্যে গ্রামেগঞ্জে বসন্তের রাজা কোকিল তার সুরেলা কণ্ঠে ডাক শুরু করেছে।
শহরের যান্ত্রিকতার আবেগহীন সময়ে বসন্ত যেন কেবল বৃক্ষেরই, মানুষের আবেগে নাড়া দেয় কমই। তারপরও আজ বসন্তের পহেলা দিনে নানা আয়োজনে আলোড়িত হবে ঢাকা। এবারের বসন্ত দিন একাকার হয়ে গেছে তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে। সারাদেশ এখন ভাসছে তারুণ্যের জোয়ারে। তাই এবারের পহেলা ফাল্গুন বাংলায় আসছে নতুন বার্তা নিয়ে।