ঢাকা: চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে ৩৪ জেলার ৭৩টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ চলছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। এ উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় থাকবে সরকারি ছুটি।
নির্বাচন কমিশন ৭৪টি উপজেলার তফসিল ঘোষণা করলেও পরে গাজীপুরের শ্রীপুর এর সঙ্গে যুক্ত হয়। এছাড়া শনিবার টাঙ্গাইল-৮ আসনের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ২৮টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণের ওপর হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকায় ওই উপজেলার নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আইন অনুযায়ী শনিবার মধ্যরাতে শেষ হয়েছে পঞ্চম ধাপের প্রচারণা। এছাড়া যানবাহন চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরুর ৩২ ঘণ্টা আগে মিছিল-মিটিংসহ সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ করা হয়েছে এবং তা ভোটগ্রহণের ৬৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বহাল থাকবে। কোনো ব্যক্তি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোষী সাব্যস্ত হলে, সেই ব্যক্তি সর্বনিম্ন ৬ মাস সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
পঞ্চম ধাপে মোট ১ কোটি ৩৮ লাখ ৯১ হাজার ৭৫১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৯ লাখ ৩০ হাজার ২৬৯ জন, নারী ৬৯ লাখ ৬১ হাজার ৪৮২ জন।
পঞ্চম ধাপে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা চেয়ারম্যান পদে ১ হাজার ৫৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৩৬২ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪১৮ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৭৬ জন।
এ দফায় মোট ভোটকেন্দ্র ৫ হাজার ৫৩৪টি। ভোট কক্ষের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৮৮৫টি।
এছাড়া আচারণবিধি লঙ্ঘন করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে ৩৬৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৯১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
গত চার ধাপে উপজেলা নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, সহিংসতা, জালভোট, কেন্দ্র দখল, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শণ, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, ভোটকেন্দ্রে গুলি ও বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার ঘটনায় ভোটার এবং নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে এখনো উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। কারণ প্রতিটা ধাপেই সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি পঞ্চম ধাপের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। শেষ ধাপের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে।
নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে বরাবরের মতো মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী। সহিংসতা রোধে চতুর্থ ধাপের আগে সেনাবাহিনীকে আরো দৃশ্যমান হতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে চিঠি দিলেও তাদের দৃশ্যমান তেমন ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি। বরং চতুর্থ ধাপে সহিংসতার মাত্রা আরও বেড়েছে। ওই দিনের সহিংসতায় ৪ জন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারায়।
নির্বাচনী এলাকায় সেনাবাহিনী ছাড়াও দায়িত্ব পালন করছেন র্যাব, পুলিশ বিজিবি, কোস্টগার্ড ও আনসার।
পঞ্চম দফার ৭৩টি উপজেলা
দিনাজপুর জেলার বিরল, পার্বতীপুর ও হাকিমপুর; নীলফামারী জেলার ডোমার; লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ; গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ। বগুড়া জেলার বগুড়া সদর, রাজশাহী জেলার পবা; সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি ও শাহজাদপুর।
পাবনা জেলার পাবনা সদর ও বেড়া, চূয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা ও চূয়াডাঙ্গা সদর, সাতক্ষীরা জেলার সাতক্ষীরা সদর, দেবহাটা ও তালা, বরগূনা জেলার বামনা, পাথরঘাটা, বরগুনা সদর ও আমতলী; পটুয়াখালী জেলার দশমিনা ও কলাপাড়া; টাঙ্গাইল সদর, ঘাটাইল, মির্জাপুর ও গোপালপুর। জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ; ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও, ত্রিশাল ও নান্দাইল।
কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম ও পাকুন্দিয়া; মুন্সীগঞ্জ জেলার টংগীবাড়ী; সিরাজদিখান ও লৌহজং; গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জও শ্রীপুর; নরসিংদী জেলার মনোহরদী, নরসিংদী সদর ও রায়পুরা; নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার; রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ।
সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর; সিলেট জেলার বিয়ানিবাজার; মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী ও রাজনগর; হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা, আশুগঞ্জ ও সদর; কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর ও চান্দিনা।
ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া; নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর ও হাতিয়া; লক্ষীপুর জেলার রামগতি; লক্ষীপুর সদর, রামগঞ্জ ও রায়পুর; চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ; কক্সবাজার জেলার কক্সবাজার সদর; টেকনাফ ও উখিয়া; খগড়াছড়ি জেলার দিঘিনালা; রাঙ্গামাটি জেলার রাংগামাটি সদর, লংগদু, রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি।