May 6, 2026
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সকাল ১০টা। ভোটকেন্দ্র আগরদাঁড়ি আমিনিয়া মাদ্রাসা। জামায়াত অধ্যুষিত জেলার সদর উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্র এটি। এ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৪৯ জন। প্রাচীর ঘেরা এই ভোটকেন্দ্রের সামনের সড়কে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। এরা এসেছেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা খাদিজা, আফরোজা, মর্জিনাসহ আরও অনেকে জানান, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে সেই তখন থেকে ঠাঁই দাঁড়িয়ে রয়েছেন তারা। কিন্তু তাদের অপেক্ষার প্রহর আর শেষ হচ্ছে না। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা কি ভোট দিতে পারব না’? সরেজমিন ওই কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কেন্দ্রের বাইরে দীর্ঘ লাইন থাকলেও ভেতরে একেবারেই ফাঁকা। সেখানে কোনো ভোটারকে দেখা যায়নি।
জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়নি কেন?
সকাল ১১টা। এ সময় ওই ভোটকেন্দ্রে তিনটি গাড়ি নিয়ে আসেন সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক। তিনি গাড়ি থেকে নামতেই পুলিশ ও আনসার সদস্যরা বাঁশি বাজিয়ে ভোটারদের ওপর চড়াও হন। এ সময় ভোটারদের উদ্দেশে এনামুল হক বলেন, ‘আপনারা জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেননি, এখন কেন ভোট দিতে এসেছেন?’
‘ভোটারদের কেন ভোট দিতে দিলেন না’- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এনামুল হক পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘এরা জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেয়নি কেন?’ তিনি বলেন, ‘এরা এই সরকারকে মানে না। গাছ কেটে রাস্তায় ফেলে অবরোধ করেছিল। তাই এদের ভোট দেওয়ার কি প্রয়োজন আছে?’
প্রিসাইডিং অফিসারের হার্ট অ্যাটাক
ভোট শুরু হওয়ার আগে সকাল ৭টায় এই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার আবদুল মালেক সরদার হার্ট অ্যাটাকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার সরোয়ার হোসেনকে।
‘হঠাৎ আবদুল মালেক সরদারের হার্ট অ্যাটাক হলো’- এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘উপর মহল থেকে উনাকে বলা হয়েছিল ভোট শুরুর আগে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ব্যালেট পেপারে সিল মারার জন্য। এই প্রস্তাবের পর তিনি হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।’