April 18, 2026
ঢাকা: আন্দোলন সফল করতে রাজধানীকে আট ভাগে ভাগ করে আটজনকে আলাদা দায়িত্ব দিয়েও মাঠে নামাতে পারেননি বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। এই আটজনের মধ্যে দু’জন বর্তমানে আটক আছেন। বাকিদের মধ্যে একমাত্র নজরুল ইসলাম খান দলীয় কার্যালয়ে মাঝে মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করলেও অন্যরা আসছেন না প্রকাশ্যে। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনের ‘চূড়ান্ত পর্ব’ ঘোষণা করে নভেম্বরের শেষদিকে রাজধানীকে আট ভাগে ভাগ করে আটজন নেতাকে আন্দোলন সমন্বয়ের দায়িত্ব দেন বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। এদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আসম হান্নান শাহকে খিলক্ষেত, কাফরুল, ক্যান্টনমেন্ট, বনানী, রামপুরা, বাড্ডা ও গুলশান; মির্জা আব্বাসকে মতিঝিল, খিলগাঁও, সবুজবাগ, পল্টন ও মুগদা; গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে মোহাম্মদপুর, আদাবর, দারুসসালাম, পল্লবী, মিরপুর এবং শাহআলী; সহ-সভাপতি সাদেক হোসেন খোকাকে শাহবাগ, সূত্রাপুর, কোতোয়ালি, বংশাল, গেণ্ডারিয়া, ওয়ারী; যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমানকে ধানমণ্ডি, নিউমার্কেট, লালবাগ, নবাবগঞ্জ ও হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর; বরকত উল্লাহ বুলুকে উত্তরা, উত্তরখান ও দক্ষিণখান, তুরাগ, বিমানবন্দর; মহানগরের সদস্য সচিব আবদুস সালামকে শেরেবাংলা নগর, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল; যুগ্ম-আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন আহমেদকে ডেমরা, শ্যামপুর, যাত্রাবাড়ী ও কদমতলী এলাকায় আন্দোলন সমন্বয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। দায়িত্ব পাওয়ার পর বিএনপির এই নেতারা জোরালো আন্দোলন গড়ার কথা গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে জানিয়েছিলেন। কিন্তু ২৫ নভেম্বর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার রাতে বিএনপি অবরোধ দেয়ার পর পর হান্নান শাহ আটকের হলে অন্য নেতারা বলতে গেলে হাওয়া হয়ে যান।
তবে ২৬ নভেম্বর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমানকে একদিনের জন্য রাজপথে সক্রিয় দেখা যায়। এরপর আর প্রকাশ্যে আসেননি তিনিও। আবার বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ, রফিকুল ইসলাম মিয়া, আবদুল আউয়াল মিন্টো ও শিমুল বিশ্বাসকে ৮ নভেম্বর আটকের পর দলের কার্যালয়ে বসে রিজভী আহমেদ দলের হয়ে একমাত্র বক্তব্য দিয়ে গেছেন। ৩০ নভেম্বর তাঁকেও আটকের পর দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পেয়ে যুগ্ম মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিও বার্তায় কর্মসূচি ঘোষণা শুরু করেন।
জঙ্গি সংগঠন তালেবান নেতাদের মতো এভাবে কর্মসূচি ঘোষণা করায় সমালোচনার মুখে গত দুই কর্মসূচি সংবাদ সম্মেলন করেই ঘোষণা করেছেন নজরুল ইসলাম খান। এরপর থেকে সালাউদ্দিন আহমেদ আর কোনো ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেননি।
এভাবে নেতারা আত্মগোপনে যাওয়ায় কর্মীরাও রাজপথে সক্রিয় নন একেবারেই। ফলে তফসিল বাতিল করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ডাকা চতুর্থ দফা অবরোধে কর্মসূচি রাজধানীতে তেমন কোনো প্রভাবই ফেলতে পারেনি। বরং অবরোধের মধ্যে বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ এবং মানিকগঞ্জ থেকে রাজধানীতে বাসও চলেছে।
তবে এখনও ৫ জানুয়ারির ভোট ঠেকাতে জোরালো আন্দোলনের হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি নেতারা।রাজপথে সক্রিয় না থেকে কীভাবে আন্দোলন করবেন। আর নেতারা রাজপথে সক্রিয় থাকছেন না- জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অনেকেই কারাগারে আছেন।অন্যরা মাঠে থাকার চেষ্টা করছেন। কিন্তু পুলিশের ধরপাকড়ের মুখে অনেকে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।