April 22, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর ইস্কাটন রোডে ছিনতাইকারীর হাত থেকে ৫৯ লাখ টাকা পুলিশ উদ্ধার করতে পারলেও মালিকের দাবি টাকা ছিল ৬৫ লাখ। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ছিনতাইকারীসহ টাকাভর্তি কার্টন উদ্ধার হলেও মুহূর্তের মধ্যে পুলিশের সামনে থেকে উধাও হয়েছে ছয় লাখ টাকা। এ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। এতোগুলো টাকা গোলাগুলির সময় কারা নিয়ে গেল। তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। বাকি ছয় লাখ টাকার হদিস এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর ছিনতাইকারীদের এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। টাকার প্রকৃত অংক নিয়ে পুলিশ ও টাকার মালিকের ভিন্ন ভিন্ন মত পাওয়া গেছে। আসলে কত টাকা ছিল?
টাকার প্রকৃত মালিক ব্যবসায়ী মো. জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন ৮ জুলাই রমনা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। রোববার জিয়াউর রহমানের দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই ইফতেখার মো. আল আমীনের কাছে মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত লিটনের স্বীকারোক্তিতে আসামি কামাল (৩০) এবং অন্য আসামি লিটনকে (৩২) পুলিশ খুজচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে কয়েকবার অভিযানও পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু তাদের ধরা যায়নি।
টাকার বিষয় জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘গোলাগুলির স্পট থেকে প্রায় তিনশ’ গজ দূরে এবি ব্যাংকের এটিএম বুথের সামনে টাকা ভর্তি কার্টনটি পাওয়া গেছে বলে তদন্তে উঠে আসছে। কার্টনের একপাশ ছেড়া পাওয়া গেছে। বাকি টাকা কি হয়েছে তা তদন্তের পর বেরিয়ে আসবে।’
এদিকে, ছিনতাইকারীদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় উপস্থিত এসআই মনিরুজ্জামান তার দায়েরকৃত মামলার এজাহারের একাংশে উলেøখ করেছেন, ‘অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে ছিনতাইকারীদের আমরা ধাওয়া করি। এ সময় ছিনতাইকারীরা অফিসার ইনচার্জকে লক্ষ করে গুলি ছুড়ে। ছিনতাইকারীদের হাত থেকে নিজেদের জানমালামাল এবং ছিনতাইকৃত টাকা উদ্ধারে অফিসার ইনচার্জসহ আরো দুই পুলিশ কনস্টেবল গুলি করে। উভয় পক্ষের গোলাগুলির সময় একজন ছিনতাইকারী তার বাম পায়ের হাটুর নীচে গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে থাকে। এ সময় একটি কার্টনসহ তাকে আটক করা হয়। অপর দু’জন পালিয়ে যায়।’
এজাহারে ঘটনার যেভাবে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তাতে স্পট থেকে টাকা উধাও হওয়াটা রহস্যজনক। আসলে কার্টনে কত টাকা ছিল? সত্যি যদি ৬৫ লাখ টাকা হয়ে থাকে তাহলে বাকি ৬ লাখ টাকা পুলিশের চোখের সামনে থেকে কিভাবে উধাও হলো। না অন্য কেউ সরিয়ে ফেলেছে।
এসআই মনিরুজ্জামান তার এজাহারে এরপর উলেøখ করেছেন, ‘উপিস্থত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আটককৃত ছিনতাইকারীর কাছ থেকে উদ্ধারকৃত কার্টনের মধ্যে ৫৯ লাখ টাকা পাওয়া যায়। তা ৭ জুলাই রাত ৯টা ৫ মিনিটে জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়।’
এ বিষয় টাকার মালিক ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কর্টনের ভেতর ৬৫ লাখ টাকাই ছিল। কিভাবে কিভাবে ছিল। সেই হিসাব আমি এজাহারে উলেøখ করেছি।
পুলিশ এবং টাকার মালিকের মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে লিটনকে (৩২) পুলিশ গ্রেফতার দেখিয়েছে। অপর আসামি কামাল (৩০) এবং লিটনকে (৩২) পলাতক দেখানো হয়েছে।
জিয়াউর রহমানের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আল আমীন বলেন, ‘গ্রেফতারকৃত লিটন গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছে। সম্ভবত তার একটি পা কেটে ফেলেছে চিকিৎসক। সে সুস্থ হলে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যাবে আসলে বাকি টাকা কোথায় গেল?