পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

রাজনীতি বাদ দিয়ে পয়সা কামাতে ব্যস্ত আ. লীগ নেতারা

Posted on July 14, 2014 | in জাতীয় | by

দলীয় কার্যক্রম বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য, স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা আজকাল মন্ত্রী-মিনিস্টারদের কাছে টেন্ডার প্রকল্পের কাজ পাওয়া এবং সরকারি চাকুরির তদবির করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন । আওয়ামী লীগের অনেক কেন্দ্রীয় নেতা অভিযোগ করেছেন যে দলীয় সাংসদ, স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কমীরা আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করার জন্য দলীয় কার্যক্রমকে এড়িয়ে চলছেন। নেতা-কর্মীরা দলীয় আদর্শকে অবহেলা করে শুধু পয়সার পেছনে ছুটছেন। যার স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে বিগত মাসে দলীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে। দেখা গেছে দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করতে দলের নেতা-কর্মীরা স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করেননি এমনকি দলীয় অনুষ্ঠানেও নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি কেন্দ্রীয় নেতাদের হতাশ করেছে।25-454x330_29997 দলের একজন জ্যেষ্ঠ নেতার মতে দলীয় সাংসদরা স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে খুব কম সময় দিচ্ছেন। এতে করে তৃণমূল নেতৃবৃন্দের সাথে সাংসদদের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে এবং যার ফলে দলের প্রান্তিক পর্যায়ের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। এছাড়া বিগত ছয় মাস আগে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাও মানছেন না নেতা-কর্মীরা। নেত্রী বলেছিলেন মিলেমিশে দলের সাংগঠনিক শক্তিকে আরও মজবুত ও শক্তিশালী করা কিন্তু আদতে তা হচ্ছে না। কেমন করে হবে, নেতারাতো পয়সা কামাতে ও পয়সা বানাতে ব্যস্ত আছেন। সুতরাং দলের অবস্থাতো খারাপ হবেই।

এর আগে ১৪ মে দলের জাতীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সভায় দলনেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলামকে তৃণমূল আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন। কিন্তু ব্যস্তবে সৈয়দ আশরাফ কোনো কার্যকর পদÿেপ গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে ২৭ মে দলের সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকদের সাথে বৈঠকে সৈয়দ আশরাফ ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে ৭টি জেলায় এবং ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বাকি জেলাগুলোতে দলীয় কাউন্সিল আয়োজন করার জন্য তাগিদ দেন। নির্ধারিত ২১ জুনের মুন্সীগঞ্জ জেলা কাউন্সিলে যোগদান করলেও পরবর্তীতে নির্ধারিত বরগুনা, পটুয়াখালি ও কিশোরগঞ্জের কাউন্সিলে যোগ দিতে পারেননি। অন্য দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ দলীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের বিষয়ে সৈয়দ আশরাফের হেলাফেলাকে দায়ী করছেন। তাদের মতে দলীয় সমন্বয়ের অভাবে জেলা কাউন্সিল নাও হতে পারে।
দলের নির্ধারিত জেলা কাউন্সিলগুলোর সার্থকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে দলের একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান যে অক্টোবরের মধ্যে বাকি জেলাগুলোতে কাউন্সিল করার সম্ভব হবে না। বরগুনা ও পটুয়াখালি জেলার নেতৃবৃন্দ কাউন্সিল আয়োজন করার সকল কাজ শেষ করেছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি দাঁড়ালো যে কেন্দ্রীয় নেতারা কাউন্সিলে যোগ দিলেন না।
২০১২ সালের দলীয় ১৯ তম জাতীয় কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের পÿ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় সাংগঠনিক শক্তিকে জোরদার করা এবং ঝুলে থাকা একাধিক জেলার কাউন্সিল আয়োজন করে দলকে কার্যকর করার আহবান জানানো হয়। অথচ ২০১৩ সাল পর্যন্ত দলটি মাত্র দুটি জেলার কাউন্সিল আয়োজন করতে সমর্থ হয়। সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য বিগত মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতিটি জেলা সফর করার কথা থাকলেও ৩১ মে পর্যন্ত শুধু গাইবান্ধা জেলা সফর করতে সার্থক হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের জেলা সফরকালে স্থানীয় সাংসদ অনুপস্থিত ছিলেন। এতে করেই দলের সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়।
স্থানীয় ও তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় শক্তি বৃদ্ধি দলকে নতুন করে সাজানোর জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে ৭টি কমিটি গঠন করে দেন। ৩০ জানুয়ারির পর এই কমিটির কাজ ছিল সারা দেশ ঘুরে দলীয় নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করা। কিন্তু সেই কাজেও ব্যর্থ হয়েছে আওয়ামী লীগ। এই বিষয়ে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ঈদের পর বিএনপির নতুন করে সরকার বিরোধী আন্দোলনের বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করছি না। কারণ বিএনপির সে ÿমতা নেই। দলের প্রয়োজন তা করা হবে’। অন্য দিকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘দলীয় শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য সরকারের সাথে দলের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় আমাদের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন। আমার শীগ্রই কাজ শুরু করব’।
…..নিউএজ

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud