May 26, 2026
ঢাকা: সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়রানির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দ্বারা বিশেষ করে নতুন ছাত্রদের দ্বারা হয়রানির ঘটনা বেশি ঘটছে। তবে ছাত্রীদের চেয়েও বেশি উত্যক্ত করা হয় বহিরাগত নারীদের।

গত ছয় মাসের মধ্যে বেশ কয়েকজন ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও পুলিশের কাছে তাদের হয়রানির বিষয়ে অভিযোগ করেও তার কোনও সুরাহা পায়নি। তাছাড়া এসব বন্ধের ক্ষেত্রেও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। গত নভেম্বরের মাঝামাঝি ফুলার রোড এলাকায় আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও দর্শনের তৃতীয় বর্ষের দুই ছাত্রী তাদের এক ছেলে বন্ধুর সঙ্গে বসে থাকার সময়ে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্রদের দ্বারা হয়রানির শিকার হয়।
তাদের বন্ধু ও আইনের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শুলোব চাকমা বলেন, তাদের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়ে সলিমুল্লাহ হলের কয়েকজন তার সঙ্গে বসে থাকা এক ছাত্রীর গায়ে পাথর ছুঁড়ে মারে। এরপর তারা বলে যে তারা তার সঙ্গে কথা বলতে চায় এবং বন্ধুত্ব করতে চায়। সে আরও জানায়, ওই ছাত্রদের তারা জানায় যে তারাও ক্যাম্পাসেরই শিক্ষার্থী। কিন্তু তাতে তারা কান দেয়নি। তারা তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে এবং সেখান থেকে জোর করে তাদের তাড়িয়ে দেয়।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ওই দুই ছাত্রী বলেন, ঢাবির শিক্ষার্থী হওয়ার পরেও আমাদের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটায় আমরা সত্যিই বিস্মিত। আমাদের ক্যাম্পাসেই যদি আমরা নিরাপদ না হই তবে আমরা কোথায় যাব ?
গত ৫ নভেম্বর শহীদুল্লাহ হলের চার ছাত্র বেগ আর্ট ইনস্টিটিউট অব ফটোগ্রাফির প্রধান ইমতিয়াজ আলম বেগকে মারধর করে। এসময় তার সঙ্গে থাকা তার দুই ভাতিজির কাপড় ছিঁড়ে ফেলে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এতে ইমতিয়াজ দারুণভাবে আহত হয়।
ইমতিয়াজ বলেন, আমি আমার ভাতিজিদের সঙ্গে শহীদুল্লাহ হলের পুকুরের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। এসময় দুষ্কৃতিকারীরা আমাদের কাছে আসে এবং জিজ্ঞাসা করে যে আমরা ক্যাম্পাসের কিনা। উত্তরে আমরা ক্যাম্পাসের না জানালে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় হলের অনেক আবাসিক ছাত্ররা পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের লাঞ্ছিত হতে দেখছিলো কিন্তু কেউই আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেনি।
এ ঘটনায় লাঞ্ছিতরা শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করলেও এখনও এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এছাড়া, এ ঘটনায় শহীদুল্লাহ হলের হাউস টিউটরের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছিলো। ঘটনার পর প্রায় দুই সপ্তাহ পরে তারা প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে। কিন্তু প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপও নেয়া হয়নি। এমনকি প্রতিবেদনের বিষয়ে কাউকে কিছু জানানোও হয়নি। গত ১ নভেম্বর দেশব্যাপী ব্ল্যাকআউটের দিন সন্ধ্যার পরে ক্যাম্পাসে অনেক ছাত্রীকেই শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সুমা জানান, কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিতে আমার বোন সেদিন দেখা করতে এসেছিল। আমরা ব্যবসায় অনুষদের সামনে বসেছিলাম। এসময় কলা ভবনের দিক থেকে আসা কিছু ছাত্র তাদের দেখেই খুবই কুরুচিপূর্ণ ভাষায় কথা বলতে থাকে।
ছাত্রীদের বার বার হয়রানির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আমজাদ আলী বলেন, কর্তৃপক্ষ মেয়েদের হয়রানির বিষয়ে খুব উদ্বিগ্ন।
এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশানুরূপ সহযোগিতা না করায় ছাত্রদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছে না।
ঢাকা ট্রিবিউন