April 20, 2026
ঢাকা: পদ্মাসেতুর ঘুষ কেলেঙ্কারিতে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী ও কানাডীয় নাগরিক জুলফিকার আলী ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন কানাডার এক আদালত।
১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার আদালতের শুনানিতে তাদের হাজির হতে বলা হয়েছে। অন্টারিও কোর্ট অব জাস্টিসের বিচারক নারডিক হেইমারের আদালতে এই শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার অন্যতম অভিযুক্ত কেভিন ওয়ালসকে এরইমধ্যে আটক করে পরে নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার মুচলেকায় জামিন দিয়েছেন আদালত। তাকেও বৃহস্পতিবারের শুনানিতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বুধবার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) আবুল হাসান চৌধুরী, কেভিন ওয়ালস, রমেশ শাহ, মোহাম্মদ ইসমাইল এবং জুলফিকার আলী ভুঁইয়াকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়।
কানাডা থেকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তার সঙ্গে রমেশ শাহর আইনজীবী ডেভিড কাজিন্স এবং ইসমাইল হোসেনের আইনজীবী ক্যাথরিন ওয়েলসের কথা হয়েছে। আইনজীবীরা তাকে জানিয়েছেন কানাডীয় সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কানাডার প্রেক্ষাপটে এটি একটি হাই প্রোফাইল বৃহৎ ইস্যু বলেই মনে করছেন আইনজীবীরা।
আরসিএমপি এই মামলার তদন্ত বিষয়ে ঢাউস ঢাউস ফাইল হাজির করেছেন। তাতে অভিযুক্তদের ব্যাপারে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য রয়েছে। কানাডার কোম্পানিগুলো যাতে বাইরে সততার সঙ্গে ব্যবসা করে তা নিশ্চিত করতে চায় কানাডিয়ান সরকার। এসএনসি-লাভালিনের এ ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তির বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে এই বিবেচনা থেকেই তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে।
আবুল হাসান চৌধুরীকে আদালতে হাজির করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে কি না কিংবা বৃহস্পতিবার তার পক্ষে কোনো আইনজীবী থাকবে কি না তা জানা যায়নি। সূত্রমতে, অনেক দিন ধরেই মামলাটি চলে আসছে। কিন্তু হঠাৎ করেই আরসিএমপি বুধবার তার চার্জ জমা দেওয়াতে বিষয়টি নিয়ে গোটা কানাডা জুড়ে বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে হৈচৈ ফেলে দিয়েছে।
একই সঙ্গে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন অন্টারিও কোর্ট অব জাস্টিসও।
আবুল হাসান চৌধুরী উপস্থিত না থাকলেও মামলার অপর অভিযুক্তরা আদালতে হাজির থাকবেন এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে এ মামলার দু’টি শুনানির তারিখ পিছিয়ে যায়। অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন উপস্থিত না থাকার কারণেই তার আইনজীবীর আবেদনের শুনানি পেছানো হয়। পরপর দুই বার শুনানির তারিখ পাল্টানোর পর বৃহস্পতিবারের শুনানিকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানি ছিলো।
পুলিশের ভলিউমে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। আদালতে প্রজেক্টরের মাধ্যমে তারা অনেক তথ্যই উপস্থাপন করেছে। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে সেগুলো তুলে ধরা যাচ্ছে না বলেই জানায় সূত্র।
এ নিয়ে বাংলানিউজের কথা হয় টরন্টোভিত্তিক প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম মিন্টুর সঙ্গে। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারের শুনানির পর মামলার গতি প্রকৃতি বোঝা যাবে। মামলার শুনানিতে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে আদালতে হাজির হতে হবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মিন্টু জানান, করাপশন অব ফরেন অফিসিয়াল অ্যাক্ট এর আওতায় এই বিচারকে গুরুত্ব দিচ্ছে কানাডীয় আদালত।
সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে কানাডার পুলিশ বিভাগ পদ্মাসেতুর ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় অভিযুক্ত করলেও তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন তিনি। একটি বিদেশি সংবাদমাধ্যমকে টেলিফোনে তিনি বলেছেন, কানাডার পুলিশ বিভাগ কি অভিযোগ করেছেন তা তার জানা নেই।
বিষয়টিকে ফালতু বলে উড়িয়ে দিয়েছেন আবুল হাসান চৌধুরী।
বুধবারই ঢাকা থেকে ওই সংবাদমাধ্যমটির সঙ্গে কথা বলেন এই আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে বুধবারই রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) আবুল হাসান চৌধুরী ছাড়াও কানাডার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সাবেক কর্মকর্তা কেভিন ওয়ালস, রমেশ শাহ, মোহাম্মদ ইসমাইল এবং কানাডীয় নাগরিক জুলফিকার আলী ভুইয়াকে অভিযুক্ত করে।
আরসিএমপি এক বিবৃতিতে জানায়, পদ্মাসেতু নির্মাণে পরামর্শ ও তদারকির কাজ পেতে ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করেই এদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তবে আবুল হাসান চৌধুরী এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভুয়া বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, সুস্পষ্টভাবেই আমি বলছি এর সঙ্গে আমার কোনো যোগসাজশ নেই।
এর আগে অবশ্য আবুল হাসান চৌধুরী বলেছিলেন পদ্মাসেতুর দরপত্র আহ্বান পর্যায়ে তিনি একটি বৈঠকে মামলায় অভিযুক্ত অন্যদের সঙ্গে ছিলেন। বাংলানিউজ