May 7, 2026
ঢাকা: বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে দুদকের করা মানি লন্ডারিং মামলার কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন, ‘আদালতে উত্থাপিত হয়নি’, এই মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি মো.মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
ফলে বিচারিক আদালতে এ মামলা চলতে আর কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো.খুরশীদ আলম খান।
আদালতে মামুনের পক্ষে ছিলেন,ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. খুরশীদ আলম খান।
খুরশীদ আলম খান জানান,‘গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের পক্ষে স্থগিত আবেদন তুলে নেওয়ার জন্য একটি আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ‘মামলা স্থগিতের আবেদন উত্থাপিত হয়নি’ মর্মে খারিজ করে দেন।” -বাংলানিউজ
ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান জানান,‘ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ শুনানিতে বলেছেন-হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিবিধ আবেদনটি (সিএমপি) চালাতে চাই না। আমরা ২/১ দিনের মধ্যে হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পেলে নিয়মিত লিভ টু আপিল (সিপি) করার চিন্তা করবো। এরপর আদালত আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন।’
এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি এ মামলার স্থগিতে আবেদন (রিভিশন) খারিজ করে দেন হাইকোর্ট (তৃতীয় বেঞ্চ)।
প্রসঙ্গত, দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় এ মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, টঙ্গীর বিসিক শিল্প এলাকায় একটি ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কার্যাদেশ তারেক রহমানের মাধ্যমে পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মামুন খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে ২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০০৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে মোট ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা গ্রহণ করে তা সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংকে পাচার করেন।
এরপর সরকারের অনুমতি না নিয়ে এই মামলার কার্যক্রম চলতে পারে না মর্মে যুক্তি দেখিয়ে মামুন বিচারিক আদালতে একটি আবেদন করে। গত বছরের ১৮ অক্টোবর বিচারিক আদালত এ আবেদন খারিজ করে দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করেন গিয়াসউদ্দিন আল মামুন। এ রিভিশন আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি রুল জারি করেন। অন্যদিকে, কনিষ্ঠ বিচারপতি আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেন।
বর্তমানে নিম্ন আদালতে এই মামলার কার্যক্রম চলছে। সেখানে অষ্টম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
উল্লেখ্য,বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এই মামলার আসামি।