March 10, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট : নানা জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা–সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে আপাতত রাজনীতিতে সক্রিয় না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ ও দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবায়দা রহমান।
ইতোমধ্যে দুই দুইবার তার কাছে দলের দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে নিয়ে যাওয়া রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তাবও তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত রমজানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাসহ বেশ কয়েকজন নেতা লন্ডনে জুবায়দা রহমানকে প্রথম রাজনীতিতে সরাসরি সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। তারা যুক্তি হিসেবে দেখান, যেহেতু তারেক রহমান এখন দেশে ফিরতে পারছেন না এবং বেগম খালেদা জিয়ার বয়স বেড়েছে তাই আগামী নির্বাচন সামনে রেখে জিয়া পরিবারের কাউকে মাঠে সরব হওয়া জরুরি।
নেতারা বলেন, বিএনপির তৃণমূলে ইতোমধ্যে জুবায়দা রহমানের একটি গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার ইমেজ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ১/১১ এর সময় পর্দার সামনে না আসলেও ধৈর্যের সঙ্গে পরামর্শ দিয়ে জিয়া পরিবারের সদস্য হিসেবে জুবায়দা রহমান বিএনপির থিংক ট্যাংকে সমাদৃত হয়েছিলেন।
রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আহ্বানের পর জুবায়দা রহমান স্পষ্ট জানান, তিনি পুরোদস্তুর একজন একাডেমিক লোক। পড়াশোনা, গবেষণা ও চিকিৎসা সেবাতেই তার আগ্রহ বেশি। এ মুহূর্তে তিনি রাজনীতিতে আগ্রহী নন। তবে সময় যদি কখনো টেনে নিয়ে যায় তা ভিন্ন বিষয়।
সম্প্রতি বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন যাওয়ার পর আবার বিষয়টি উত্থাপনের চেষ্টা করেন কয়েকজন নেতা। কিন্তু সে সুযোগই দেননি জুবায়দা রহমান। বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতা দেশে ও লন্ডনে জুবায়দা রহমানকে সক্রিয় করার এসব উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার জানান, বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে ফিরে দলের স্থায়ী কমিটির শূন্য পদগুলো পূরণ করবেন। কিন্তু এটাও সত্য যে, স্থায়ী কমিটিতে জায়গা দেওয়ার মতো যোগ্য লোক পাওয়া যাচ্ছে না।
জুবায়দা রহমানকে দলে সক্রিয় করার চলমান উদ্যোগের কথা স্বীকার করে জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘অবশ্যই তার (জুবায়দা রহমানের) তৃণমূলে খুব ভাল ইমেজ রয়েছে। কিন্তু ডিফিকাল্ট হলো, উনি দেশে ফেরার আগে কিছু করার নেই। এখানেই আটকে আছে। দেশে ফেরার আগে দলে পদ দিলেও প্রশ্ন উঠবে।’
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘জুবায়দা রহমানকে রাজনীতিতে আনার বিষয়ে বেগম খালেদা জিয়া তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা এখনও করেননি।’
গত বছর ১৯ সদস্যের বিএনপির নতুন জাতীয় স্থায়ী কমিটির নাম ঘোষণা করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে দুটি পদ খালি রাখা হয়েছিল। তখন থেকেই আলোচনায় ছিল তারেক ও আরাফাত রহমানের স্ত্রীদের দলে সক্রিয় করতে ওই দুটি পদ খালি রাখা হয়েছে।
পরিবর্তন ডট কম থেকে নেয়া
ডেস্ক রিপোর্ট : হলো শোকাবহ আগস্ট। বাঙালি জাতির জন্য এই মাসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ । ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের বুলেটের আঘাতে সপরিবারে নিহত হন বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
ঘাতকরা চেয়েছিল জাতির জনককে হত্যার মাধ্যমে সদ্য স্বাধীন দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে। আর সেই জন্য বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শিশু শেখ রাসেলও বাঁচতে পারেনি তাদের হিংস্রতা থেকে।
শুধু তাই নয়, সেই ঘটনার ত্রিশ বছর পর ঘাতকরা এ মাসেই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকেও হত্যার নীল নকশা এঁকেছিল। জাতির ইতিহাসের আরও একটি দূর্বিষহ বিয়োগান্তক ঘটনা। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো হয় ইতিহাসের ভয়াবহতম গ্রেনেড হামলা। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে চালানো ওই গ্রেনেড হামলা থেকে আওয়ামী লীগ সভাপতি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও ঝরে যায় মহিলা আওয়ামী লীগ নেতা আইভি রহমানসহ ২৪টি তাজা প্রাণ। আহত হন আরো ৫ শতাধিক নেতাকর্মী।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালোরাতে ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি। তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল। ঘাতকদের ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, ভগ্নীপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি, তার সহধর্মিণী আরজু মনি ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ সদস্য।
১৫ আগস্টের রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য গুলি করে হত্যা করে বঙ্গবন্ধুকে। এর পরই গোটা বিশ্বে নেমে আসে শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণা।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির নোবেল জয়ী নেতা উইলি ব্রানডিট বলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে তারা যেকোন জঘন্য কাজ করতে পারে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ সি চৌধুরী বলেন বাঙালিরা বিশ্বাসঘাতক। বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে তারা।
দ্য টাইমস অব লন্ডন এর ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় উল্লেখ করে, সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করা হবে। কারণ তাকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই।
একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।
মৃত্যুঞ্জয়ীর তিরোধান দিবস মিলেছে আগস্টে। তাইতো, এই মাস বেদনার হয়েও অফুরান শক্তি যোগায় বাঙালিকে। বাংলাদেশের সত্তার অন্বেষায়, তাদের পাবো বাঙালির পরম আপনজন হিসাবে। মৃত্যুর সাথে সাথে জাতির পিতা নতুন করে জন্ম নিয়েছেন বাঙালির অন্তরে। সেখানে প্রবলভাবে আলোড়িত করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়তই। আর এভাবেই তিনি বেঁচে থাকবেন শ্রদ্ধায় আর স্মরণে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে।
ডেস্ক রিপোর্ট : রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক- ই-এলাহী। তিনি বলেছেন, ‘ইউনেস্কো’র ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটির প্রতিবেদনেও বলা আছে, এই প্রকল্পের কাজে কোনও বাধা নেই।’
সোমবার (৩১ জুলাই) বিকালে বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. তৌফিক- ই-এলাহী ব্রিফিংয়ে জানান, ইউনেস্কো’র ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ছোট ছোট অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাওয়া যাবে। তবে এই কেন্দ্রের আশপাশে বড় আকারে কোনও শিল্প কারখানা বা কোনও ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করা যাবে না।
তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনের কোনও ক্ষতি হোক, তা আমরাও চাই না। হেরিটেজ কমিটি বাংলাদেশকে এনভায়রনমেন্টাল স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট তৈরি করতে বলেছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে এই রিপোর্ট তৈরি করা হবে। পাশাপাশি আগামী ২০১৮ সালের মধ্যেই আমরা ওই কমিটিকে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেবো।’
গণমাধ্যমে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, ‘রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে হেরিটেজ কমিটির অনুমোদন নেই- গণমাধ্যমে এ বিষয়ে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো বিভ্রান্তিকর।’
প্রেস ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ এবং পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : সময় অনলাইন।
ডেস্ক রিপোর্ট : লন্ডনে পারিবারিক আবহে অনেকটা ‘হলিডে’র আমেজে দিন কাটছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। ছেলে, দুই ছেলের বউ, আর নাতনিদের সান্নিধ্যে পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন তিনি। এদিকে বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, খালেদার সঙ্গে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি’র উচ্চ পর্যায়ের একটি দলের শিগগিরই সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
আজ সোমবার (৩১ জুলাই) খালেদা জিয়ার এবারের লন্ডন সফরের ১৫ দিন অতিবাহিত হলো। এ সময়ে তিনি কিংসস্টনের বাসা থেকে তিনবার বাইরে বের হয়েছেন। তাও প্রতিবারই চিকিৎসার প্রয়োজনে।
লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পূর্ব লন্ডনের বিখ্যাত মন্টিফিউরি হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চোখের চিকিৎসা চলছে। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে এ হাসপাতালে তার চোখের অপারেশন সম্পন্ন হবার কথা। হাঁটুর চিকিৎসাও চলছে। তবে বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় হাঁটুতে অপারেশনের বিকল্প ব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়েছেন চিকিৎসকরা। শাশুড়ির চিকিৎসার পুরো বিষয়টি এককভাবে দেখভাল করছেন পূত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান। আর মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন তারেক রহমান নিজেই।
গত ১৫ দিনে তারেক রহমানের একান্ত ঘনিষ্ট কয়েক ব্যক্তি ছাড়া কেউই খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ পাননি। যুক্তরাজ্য বিএনপি’র মেয়াদোত্তীর্ণ বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সুধীজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের মতবিনিময় সভা আয়োজনের জন্য একাধিকবার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। জবাবে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- ‘পরে জানানো হবে’, দায়িত্বশীল নেতারা বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানিয়েছেন ।
খালেদা জিয়ার গতবারের লন্ডন সফরকালে কোরবানির দিনে লন্ডনের একটি হলে দলীয় নেতাকর্মী ও সুধীজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। চরম অব্যবস্থাপনা ও হট্টগোলের কারণে তারেক রহমানের নির্দেশে ওই সভা তখন সংক্ষিপ্ত করা হয়েছিল। সঙ্গত কারণেই এবার ভেবেচিন্তে প্রস্তুতি নিয়ে সভা আয়োজনের পক্ষে তারেক রহমান। যুক্তরাজ্য বিএনপিতে নেতৃত্ব নিয়ে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা থাকলেও সবগুলো পক্ষই খালেদা জিয়ার সভা সফল করতে যে যার মতো প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সূত্র জানায়, চিকিৎসা কিছুটা শেষ হলে দলীয় নেতাকর্মীদের পর্যায়ক্রমে সাক্ষাৎ দেবেন বিএনপি নেত্রী।
অন্য একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া দলের কয়েকজন নেতা ছাড়া আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনও পর্যায়ে কাউকেই এখনও সাক্ষাৎ দেননি।
বিভিন্ন তথ্য আর গুঞ্জন এড়াতে তারেক রহমান সচেতনভাবেই অনেককে এড়িয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও খালেদার এবারের সফর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ এজন্য তারেক রহমান পুরো সফরটিই পারিবারিক আবহে সম্পন্ন করার চেষ্টা করছেন। আর এ কারণেই এখানকার বিএনপির সিনিয়র নেতারাও রয়েছেন অন্ধকারে।
একটি সূত্র জানায়, ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির উচ্চ পর্যায়ের একটি দলের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের কথা রয়েছে। যদিও এ সাক্ষাতের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ বৈঠকটি ছাড়া ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে আর কোনও বৈঠকের আয়োজন করতে পারেননি তারেকের উপদেষ্টারা।
বিএনপির কেন্দ্রীয় আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান সোমবার (৩১ জুলাই) সকালে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘ম্যাডাম এখানে বিশ্রামে আছ্নে, চিকিৎসার জন্য আছেন।’
খালেদা জিয়ার সঙ্গে লন্ডনে কথিত একটি বৈঠকের গুঞ্জনের বিষয়ে মাহিদুর রহমান জানান, খালেদা জিয়া ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার অপরাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। বিএনপি যেহেতু নির্বাচনে যাবে, তাই সরকার এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। মাহিদুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘আঁতাতের রাজনীতি আওয়ামী লীগই অতীতে করে এসেছে। আইএসআই-এর সঙ্গে বৈঠকের গুঞ্জন সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’
আরেকটি সূত্র জানায়, লন্ডনে খালেদার সঙ্গে আইএসআই-এর বৈঠকের অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার চিন্তাভাবনা চলছে।
এদিকে বিজেপির সঙ্গে খালেদা জিয়ার সম্ভাব্য বৈঠকের ব্যাপারে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক সোমবার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ভারত বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী। বিজেপির সঙ্গে বিএনপি নেত্রীর বৈঠক হলে তা হবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য পদক্ষেপ। ভারতের কূটনৈতিক সিস্টেম সে দেশের স্বার্থের প্রয়োজনে। তারা অন্য দেশে কোনও নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় রাখার বা নামানোর জন্য রাজনীতি করে না। তবে এ ধরনের বৈঠক হলে তা গনমাধ্যমকেও জানানো হবে বলেও জানান এম এ মালেক। এছাড়া বিলেতের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার একটি মতবিনিময় সভা আয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে তিনি চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।
খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব আব্দুস সাত্তার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘ম্যাডাম ভালো আছেন। তার চিকিৎসা এখনও শুরু হয়নি। চিকিৎসার জন্য কনসালটেশন শুরু হয়েছে।’
সূত্র : বাংলাট্রিবিউন।
ডেস্ক রিপোর্ট :বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ২০১৬ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে। এবারও দলটির ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি বলে জানিয়েছেন দলের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।
আজ সোমবার সকালে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার কাছে দলের হিসাব জমা দেওয়া হয়।
আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০১৬ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রধান নির্বাচন কসিশনারের কাছে দাখিল করা হয়েছে। এতে আয় হয়েছে ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ৯৭ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৯৯ টাকা। আয় বেশি হয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ ৪৯ হাজার ২৯৯ টাকা।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আছে ২৫ কোটি ৫৮ লাখ ১১ হাজার ৪৪১ টাকা। ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত মোট সুদের পরিমাণ ১ কোটি ২৪ লাখ ৬৪ ৭৯৬ টাকা।’
আয়ের প্রধান উৎস সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ, জাতীয় কমিটি, সহ-সম্পাদক, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটি, প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ফি, সংসদ সদস্য, মনোনয়ন ফরম বিক্রয় (উপ নির্বাচন) অনুদান এবং ব্যাংক সুদ থেকে আয় হয়েছে।
ব্যয়ের প্রধান উৎসগুলো হলো কর্মচারীদের বেতন, বোনাস, আপ্যায়ন ও অন্যান্য খরচ, কেন্দ্রীয় সভা অথবা জনসভা, নির্বাচনী অফিস ব্যয়, উত্তরণ-পত্রিকা প্রকাশনা ও সংশ্লিষ্ট খরচ, ত্রাণ কার্যক্রম, বিভাগীয় ও জেলা জনসভা, সহযোগী সংগঠন অনুষ্ঠান, সাংগঠনিক খরচ ও অন্যান্য ব্যয়।
হিসাব জমা দিতে যাওয়া প্রতিনিধি দলে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপুমনি এমপি ও উপদপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ২০১৫ সালের আয়-ব্যয়ের যে হিসাব দাখিল করে সেখানে আয় দেখিয়েছিল ৭ কোটি ১১ লাখ ৬১ হাজার ৩৭৫ টাকা। আর ব্যয় ৩ কোটি ৭২ লাখ ৮১ হাজার ৪৬৯ টাকা। অর্থাৎ সে সময় দলটি প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত ছিল।
সদস্যদের চাঁদা, উপ-নির্বাচনের ফরম বিক্রি, ব্যাংকের সুদ, অনুদান, পত্রিকা-প্রকাশনা বিজ্ঞাপণ বাবদ আয় থেকে ওই পরিমাণ অর্থ আয় করেছিল আওয়ামী লীগ। আর কর্মচারীদের বেতন, ত্রাণ কার্যক্রম, বিভিন্ন কর্মসূচি, সভা ও জনসভা প্রভৃতি খাতে দলটি ব্যয় দেখিয়েছিল।
আওয়ামী লীগ বিগত তিন বছরেই উদ্বৃত্ত দেখিয়েছে। ২০১৪ সালে দলটির আয় ছিল ৯ কোটি ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৩ টাকা। আর ব্যয় ছিল ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৪০ হাজার ৮২১ টাকা। এতে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত ছিল।
২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ আয় দেখিয়েছিল ১২ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আর ব্যয় দেখিয়েছিল ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এতে প্রায় ৬ কোটি টাকার দলটির উদ্বৃত্ত ছিল।
সূত্র : জনকন্ঠ।
ডেস্ক রিপোর্ট : আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের মাসিক চাঁদার হার বাড়ানো হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে নেতাদের মাসিক চাঁদা পরিশোধ করতে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে নতুন করে চাঁদার হার নির্ধারণসহ পরিশোধের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নতুন হারে নির্ধারণ করা চাঁদা ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকেই ধরা হবে। রবিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক চাঁদা পরিশোধের তাগাদা দেন। বৈঠকে উপস্থিতি আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মাসিক চাঁদা ধরা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। একই পরিমাণ চাঁদা ধরা হয়েছে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরও।
আগে এ ফোরামের মাসিক চাঁদা ছিল ৩ হাজার টাকা। উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যদের মাসিক চাঁদা ধরা হয়েছে ২ হাজার ১০০ টাকা। এই ফোরামের নতুন করে চাঁদার হার বাড়ানো হয়নি। এছাড়া সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের চাঁদা ধরা হয়েছে ৪ হাজার টাকা। যা আগেহ ছিল ২ হাজার টাকা।
তবে বাড়ানো হয়েছে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্যদের মাসিক চাঁদা। তাদের আগে ১ হাজার টাকা ছিল, এখন তা বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পরিষদের সদস্যদের ২০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০০ টাকা করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বৈঠকে চাঁদার বিষয়ে আলাপ হয়েছে।’
এদিকে, বৈঠক শেষে দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বিগত এক মাস ধরেই অডিট টিমসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে আজ আমরা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করব। সোমবার নির্বাচন কমিশনে দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেব।’
ডেস্ক রিপোর্ট : রবিবার বিকেলে পান্থপথ স্কয়ার হাসপাতাল সংলগ্ন সড়কে সংসদ সদস্য স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেট কার উল্টোপথে এসে তিনটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায়। এরপরই চালক যোহেব মোস্তফা গাড়িতে স্টিকার লাগানোর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নিজেকে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাগ্নে পরিচয় দেন। এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মন্ত্রী-এমপির তো ভাতিজা-ভাগিনার অভাব নেই।’
যোহেব মোস্তফা প্রসঙ্গে জানতে জানতে চাইলে এই নামে কাউকে চেনেন না বলে জানান সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, ‘মন্ত্রী-এমপিদের তো ভাতিজা-ভাগিনার অভাব নেই। তবে আমি এই নামের কাউকে চিনি না। আমার চৌদ্দ গোষ্ঠীতে এমন নামের কেউ নেই।’ এই নামের কারোর গাড়িতে আপনি চড়েন কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নই ওঠে না’।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো গাড়িটি রাসেল স্কয়ারের দিক থেকে পূর্বদিকে কাওরান বাজারমুখী সড়কে ঢোকে। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পর, স্কয়ার হাসপাতালের পশ্চিম পাশের ডিভাইডার দিয়ে রাস্তার দক্ষিণপাশে গিয়ে ফের পূর্বদিকে চলতে থাকে। এ সময় পান্থপথে সিগন্যালের দিক (পূর্ব দিক) আসা দু’টি প্রাইভেট কার ও একটি দাঁড়ানো কারকে ধাক্কা দেয় এমপির স্টিকার গাড়িটি।
ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাড়ির ভেতরে কোনও সংসদ সদস্য ছিলেন না। এমনকি গাড়িটি কোনও সংসদ সদস্যেরও নয়। কেবল সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত স্টিকার লাগানো আছে।
এ সময় কেন সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো গাড়ি চালাচ্ছেন, এমন প্রশ্নে চালক বলেন, ‘আমার মামা সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি যখন এই গাড়িতে চড়েন, তখন স্টিকার লাগানো হয়। তিনি গতকালও (শনিবার) গাড়িটিতে চড়েছিলেন। আজকে স্টিকারটি খুলতে ভুলে গেছি।’
একপর্যায়ে যোহেব মোস্তফা নিজেই জানান, তিনি ‘জে জেড অটোমোবাইলস’-এর ম্যানেজিং পার্টনার। এই গাড়িটির মালিক তিনি। নিজেই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।
নিশ্চয় সবার মনে আছে। গত বছরের ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদের দিনে জঙ্গিদের গুলিতে গৃহিণী ঝর্ণা রানী ভৌমিক মারা গিয়েছিলেন। এসময় তিনি নিজ বাসায় ছেলেদের জন্য রান্না করছিলেন। তাঁর দুই ছেলে, বাসুদেব ভৌমিক ও শুভদেব ভৌমিক। ছোট ছেলে ক্লাস সিক্সে পড়াশোনা করলেও বড় ছেলে হিসাব বিজ্ঞানে মাস্টার্স শেষ করে এমবিএ’তে অধ্যয়নরত ছিলেন। পারিবারিক অবস্থাও সচ্ছল না। তাদের বাবাও ছিলেন বেকার। চর শোলাকিয়া এলাকায় এক শতাংশ জমিতে ছোট্ট একটি ছাপড়া ঘর তুলে তারা বসবাস করতেন।
মাতৃহীন পরিবারটির অসহায়ত্ব এবং দুরাবস্থার কথা বর্ণনা করে নিহত ঝর্ণা রানীর বয়োবৃদ্ধ স্বামী গৌরঙ্গ ভৌমিক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পরিবারটির জন্য সহায়তা ও বড় ছেলের চাকরির জন্য একটি আবেদন করেন। যথাযত নিয়মে চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়।
বলে রাখা ভালো, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রতিদিন এই রকম শত শত আবেদনপত্র প্রক্রিয়া করা হয় এবং সম্মতির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়। উপস্থাপনের আগে, আবেদনগুলোর মূল্যায়ন করে কাকে কী সহায়তা করা যায় সেই পরিমাণটি আবেদনপত্রের উপরে উল্লেখ করে দেয়া হয়। ঝর্ণা রানীর পরিবারের আবেদনের উপরেও উল্লেখ ছিল ২ লক্ষ টাকার।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চূড়ান্ত সম্মতির পর
আবেদনপত্রগুলো কার্যালয়ের এসাইনমেন্ট অফিসারের কাছে ফেরত আসে। এর মধ্যে একটি আবেদনপত্রের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নিজ লেখা, “দুই লক্ষ টাকা মাত্র, মানে একটি চাকরি দেয়া নয়। ”
এবং ২০ লাইনের আবেদনপত্রটির ১৮ নম্বর লাইনটি কালো কালির কলম দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজের হাতে আন্ডারলাইন করা, যেখানে চাকরি চাওয়ার কথাটি উল্লেখ আছে।
অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু কন্যা আবেদনপত্রটির প্রতিটি শব্দ পড়েছেন। যে কাজটি তিনি সবকিছুর ক্ষেত্রেই করে থাকেন। মনোযোগ দিয়ে প্রতিটি শব্দ দেখেন এবং পড়েন।
আজ সকালে এর বাস্তবায়ন ঘটেছে। জঙ্গি হামলায় নিহত ঝর্ণা রানীর ছেলে বাসুদেব ভৌমিক বঙ্গবন্ধু কন্যার কাছ থেকে চাকরির নিয়োগপত্রটি গ্রহণ করেছেন। এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সহকারী অফিসার পদে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। এই সময় হাস্যোজ্জ্বল বাবা গৌরঙ্গ ভৌমিক এবং ছোট ভাই শুভদেব ভৌমিক তার সঙ্গে ছিলেন।
যারা কথায় অন্যদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু কন্যার তুলনা করেন, কথায় কথায় সমালোচনা করেন তাদেরকে বলি, এতটা নির্দয় হবেন না, করলে গঠনমূলক সমালোচনা করুন। নয়তো এক সময় জাতির কাছে আপনাদের গ্রহণযোগ্যতাই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এমন মহানুভব এবং বিচক্ষণ প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের জন্য গর্বের। জনগণের জন্য দিনরাত কাজ করতে বয়স কিংবা ক্লান্তি কোনোটাই তাঁকে ক্ষান্ত করতে পারেনি।
(লেখকের ফেসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত)
ডেস্ক রিপোর্ট :দেশের মূল সমস্যা নির্বাচন থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে ভিত্তিহীন, মিথ্যাচার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ এবং তাদের এজেন্সি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রবিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে বিএনপি অংশ নেবে বলেও জানান তিনি।
চিকিৎসা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডনে যাওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগ নেতা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসব অপপ্রচার চলছে অভিযোগ করে এর বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ক্ষমতায় আসার জন্য কোনও গোষ্ঠী বা দেশের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করার প্রয়োজন হয় না। জনগণই বিএনপির শক্তি।
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে কোনও আইএসআই বা জামায়াত নেতার সাক্ষাৎ হয়নি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন তথ্য।
এধরনের অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না করার জন্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং তাদের এজেন্সিদের আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কিছু গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের ধরন দেখে মনে হচ্ছে তারা গণতন্ত্রের পক্ষের নয়। বরং গণতন্ত্রের শত্রুদের সহযোগিতা করছে ।’
নির্বাচন কমিশনের ডাকা সংলাপে বিএনপি অংশ নিবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলোকে কাজে লাগাতে চাই। নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট হলেও আমরা সংলাপে অংশ নেবো।
সহায়ক সরকারের উল্লেখ সংবিধানে নেই আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্যের উত্তরে তিনি বলেন, সংবিধান বাইবেল নয় যে তাকে পরিবর্তন করা যাবে না। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী তাকে পরিবর্তন করা যায়। এর আগেও সংবিধান পরিবর্তন করা হয়েছে।
বগুড়ায় শ্রমিক লীগ নেতা তুফান এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর মাসহ তার মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সারা দেশের আওয়ামী দুঃশাসনের বহিঃপ্রকাশ এটি। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা দেশের সব রকম অপকর্ম করছে বলেও জানান তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সঞ্জিব কুমার চৌধুরী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
সূত্র : বাংলাট্রিবিউন।
দলীয় নেতাকর্মীদের আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেব। আপনারা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হোন। সবাই নিজনিজ এলাকায় গিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করুন।’
রবিবার জাপা চেয়ারম্যানের বনানীস্থ কার্যালয়ের মিলনায়তনে এক যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ইজাব গ্রুপ-এর স্বত্বাধিকারী বদিউজ্জামান বাবু ও ইসতিয়াক আহম্মেদ সহ ৪০ জন ব্যবসায়ী চেয়ারম্যানের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. হাফেজ আহমেদ, ঠাকুরগাঁও জেলার সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রাজী স্বপন চৌধুরী, যোগদানকারী ইশতিয়াক আহমেদ ও বদিউজ্জামান বাঘু। যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর খালেদ আখতার (অব.), ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু প্রমুখ।