March 10, 2026
ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ব্যবহার করে নাজেহাল হওয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তারিক সালমানের পক্ষে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা করে শিশুদের আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করে ইউএনও প্রশংসনীয় কাজ করেছেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হুবহু ছবি আজ পর্যন্ত কেউ আঁকতে পারেনি। আমরাও যেগুলো ব্যবহার করি ওইসব ছবিতেও কিছু খুঁত থাকে। হুবহু হয় না, আমি তো জানি।’ ছবি বিতর্কের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিগোচর হলে এসব মন্তব্য করেন তিনি। গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ঘটনাটি নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পঞ্চম শ্রেণিতে পড়া শিশুটি যে ছবি একেঁছে, তা খারাপ আকেঁনি। শিশুদের কল্পনায় বঙ্গবন্ধু যেভাবে ফুটে উঠেছেন তা তারা প্রকাশ করেছে, আর ওই ছবি ব্যবহার করে ইউএনও’র কার্ড ছাপানোর উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা হয়েছে এটিই বড় ব্যাপার। প্রশংসনীয় এই উদ্যোগকে বিতর্কিত করা হয়েছে।’ বঙ্গবন্ধুর ছবি নিয়ে ইউএনও’র নাজেহালের ঘটনাটি নিয়ে ভীষণ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘ছবি ব্যবহার করা নিয়ে যারা এটা করেছে, তারা নিশ্চয়ই দলের ও সরকারের জন্যে ভালো কিছু করেনি।’ তিনি বলেন, ‘যে বিচারক সরকারি একজন কর্মকর্তাকে জেলে পাঠিয়েছেন তিনি হয়তো নিজে অতিউৎসাহী হয়ে এটা করেছেন, অথবা কারও ফোন পেয়ে প্রভাবিত হয়েছেন। এখন খুঁজে বের করতে হবে সেই ফোন কার ছিল। একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে বিভাগীয় অনুমতি লাগে। তিনি কি তা নিয়েছেন-আমার প্রশ্ন।’
সূত্র জানায়, ইউএনও’র এ ঘটনায় প্রশাসনের ভেতরে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আর এ প্রতিক্রিয়া সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী নিজে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। গণভবনের একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানায়। ওই সূত্র আরও জানায়, ইউএনও নাজেহালের ঘটনা প্রধানমন্ত্রী অনেক পরে অবগত হয়েছেন। এটা জেনে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই হস্তক্ষেপ করেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিকৃত ছবি ব্যবহারের অভিযোগে বরিশালে দায়ের করা একটি মামলায় আগৈলঝাড়ার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক সালমান নাজেহাল হন।
আগৈলঝাড়া উপজেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮-তম জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস ২০১৭ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথম ও দ্বিতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই শিশুর আঁকা দু’টি ছবি ব্যবহার করে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৭-এর আমন্ত্রণপত্রটি তৈরি করা হয়েছিল।
আমন্ত্রণপত্রের প্রচ্ছদে (ফ্রন্ট কাভার) ওই প্রতিযোগিতায় ‘গ’ গ্রুপে প্রথম হওয়া আগৈলঝাড়া এসএম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জ্যোতির্ময়ের আঁকা মুক্তিযুদ্ধের রণক্ষেত্রের একটি ছবি এবং শেষ প্রচ্ছদে (ব্যাক কাভার) ‘খ’ গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী আগৈলঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী অদ্রিজা করের আঁকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছিল।
শিশুদের সৃজনশীল ও সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে উৎসাহ দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের আঁকা ছবি ব্যবহার করে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আমন্ত্রণপত্রটি ডিজাইন করা হয়।
আমন্ত্রণপত্রটি ছাপা হওয়ার পর শেষ প্রচ্ছদে জাতির পিতার প্রতিকৃতিটি বেমানান মনে হওয়ায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৭-এর আমন্ত্রণপত্রটি সংশোধন করে পুনরায় ছাপা হয়। সংশোধিত আমন্ত্রণপত্রে জাতির পিতার প্রতিকৃতিটি প্রচ্ছদে ও মুক্তিযুদ্ধের রণক্ষেত্রের ছবিটি শেষ প্রচ্ছদে ব্যবহার করা হয়।
বাংলা ট্রিবিউন থেকে নেয়া।
ডেস্ক রিপোর্ট : বিএনপির কারো মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না। সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াত যেভাবে মানুষ হত্যা করেছে, তা পৃথিবীর কোনো দেশে ঘটেনি বলে মন্তব্য করলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী মো. শাজাহান খান।
শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘গণতন্ত্র বিকাশে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি আরও বলেন, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে আন্দোলনে শত শত মানুষকে হত্যা করেছে বিএনপি। এই কর্মকাণ্ড কোনো গণতন্ত্রের সংজ্ঞায় পড়ে? গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একক দায়িত্ব সরকারের নয়, এ দায়িত্ব সবার।
ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, জিয়া তার পাকিস্তানপন্থী রাজনীতির পথ পরিষ্কার করতেই ঠান্ডা মাথায় কর্নেল তাহেরকে হত্যা করে। কর্নেল তাহের হত্যাকাণ্ড একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।
শুক্রবার তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে তাহের দিবস উপলক্ষে জাসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
জাসদ সভাপতি বলেন, জিয়া আর কর্নেল তাহেরের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ ছিল। জিয়া বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ধারায় ঠেলে দিতে চেয়েছিল। তাহের বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ধারায় ঠেলে দেয়ার বিপরীতে বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় পরিচালিত করার জন্য ৭৫ এর ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার অভ্যুত্থান সংগঠিত করেছিলেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, গণ আজাদী লীগের সভাপতি অ্যাড. এস কে সিকদার, ন্যাপ এর সহ-সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর আহবায়ক রেজাউর রশিদ প্রমুখ।
দলীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, কার্যকরী সভাপতি অ্যাড. রবিউল আলম, শহীদ কর্নেল তাহেরের অনুজ ও জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন ও সিপাহী জনতার অভ্যুত্থান শহীদ কর্নেল তাহের এর সহযোগী ফ্লাইট সার্জেন্ট রফিকুল হক বীর প্রতীক প্রমুখ।
জিয়া ও তাহেরের যে রাজনৈতিক বিরোধ ছিল সেই বিরোধ এখনো অবসান হয়নি উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বেগম জিয়া ও বিএনপি জিয়ার পাকিস্তানপন্থী রাজনীতি বহন করছে। আর আমরা জাসদ, ১৪ দল তাহেরের মুক্তিযুদ্ধের রাজনীতি বহন করছি। রাজনীতির মাঠ থেকে রাজাকারদের বিদায় করতে হবে। রাজাকাররা বাংলাদেশে আর কোন দিনই ক্ষমতায় আসবে না। রাজাকার মুক্তিযোদ্ধার মিউজিক্যাল চেয়ার খেলা আর হবে না। সরকারেও মুক্তিযোদ্ধা থাকবে, বিরোধী দলেও মুক্তিযোদ্ধা থাকবে।
দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল ভোর ৬ টায় জাসদ কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন এবং সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে কর্নেল তাহেরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান। জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তম এর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এছাড়াও শহীদ কর্নেল আবু তাহের বীরউত্তমের ৪১তম বার্ষিকীতে গতকাল সকাল ১১টায় নেত্রকোনার পূর্বধলায় তার সমাধীতে জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির পক্ষ থেকে পুস্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও শহীদ কর্নেল তাহেরের সহধর্মীনী মিসেস লুৎফা তাহের এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সাদিক হোসেনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃত করে কার্ড ছাপানোর অভিযোগে একজন ইউএনও গ্রেফতারের ঘটনায় খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত ছিলেন বিস্মিত।
বৃহস্পতিবার পত্র-পত্রিকায় এই খবর দেখে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের কর্মকর্তারাও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। ঘটনার পরপরই তাঁরা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আনেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও প্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বিবিসি বাংলার রাতের অধিবেশন- পরিক্রমায় মাসুদ হাসান খানের সাথে এক সাক্ষাৎকারে একথা জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে সরাসরি দেয়া এই সাক্ষাৎকারে এইচ টি ইমাম বলেন, “আমরা সবাই, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ যত কর্মকর্তা ছিলেন, এটি দেখে আমরা সকলেই বিস্মিত হয়েছি। যে ব্যক্তি এই মামলা করেছেন, আমরা মনে করি তিনি অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ করেছেন।”
এইচ টি ইমাম জানান, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে একজন ইউএনওকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার এই ছবিটি দেখান।
এইচ টি ইমাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে বলেন, ছবিটি দেখে তিনি বিস্মিত হলেন। “প্রধানমন্ত্রী বললেন, ক্লাস ফাইভের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে এই অফিসার সুন্দর একটি কাজ করেছেন। এবং সেখানে যে ছবিটি আঁকা হয়েছে, সেটি আমার সামনেই আছে, আপনারা দেখতে পারেন। এবং এই ছবিটিতে বিকৃত করার মতো কিছু করা হয়নি। এটি রীতিমত পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। এই অফিসারটি রীতিমত পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। আর সেখানে উল্টো আমরা তার সাথে এই করেছি, এই বলে প্রধানমন্ত্রী তিরস্কার করলেন। বললেন, এটি রীতিমত নিন্দনীয় “
প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারীকে কিভাবে গ্রেফতার করা হলো, কোনরকম অনুমোদন ছাড়া? এ প্রশ্নের উত্তরে এইচ টি ইমাম বলেন, “এটি করা যায় না। কারণ ইউএনও হচ্ছেন উপজেলা পর্যায়ে সরকারের সবচেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তাঁকে কোন শাস্তি দিতে হলে বা তার বিরুদ্ধে কোন মামলা বা কোন রকম কিছু করতে হলে সরকারের অনুমোদন প্রয়োজন।”
এইচ টি ইমাম এই ঘটনার জন্য বরিশালের ডিসি, এসপিকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, “পুলিশ যে ব্যবহার করেছে এই ছেলেটির (ইউএনও) সাথে, যেভাবে তাকে নিয়ে গেছে, এ নিয়ে ওখানকার ডেপুটি কমিশনার, পুলিশ সুপার, এদের প্রত্যেককে আমি দায়ী করবো। এদের বিরুদ্ধেও আমাদের বোধহয় ব্যবস্থা নিতে হবে।”
কিভাবে পুলিশ এরকম একটি মামলা নিল আর জেলা জজই বা কিভাবে এই মামলা গ্রহণ করলেন, সেটা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
এইচ টি ইমাম বলেন, “এই ঘটনায় মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে তিনিও তাদের সাথে একমত।”
“আমাদের অফিসারটিকে যেন হেনস্থা করার জন্য পুলিশ যেভাবে গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে, এই পুরো ঘটনায় যেরকম তীব্র ক্ষোভ ফেটে পড়েছে, আমি তার সাথে সম্পূর্ণ একমত।”
এইচ টি ইমাম বলেন, “ঘটনাটি শোনার পরপরই প্রধানমন্ত্রী জানতে চেয়েছিলেন, যে ব্যক্তি এই মামলা করেছে, সে কে?”
মামলা দায়েরকারী ব্যক্তি সম্পর্কে সাথে সাথে তাঁরা খোঁজ খবর নেন, একথা জানিয়ে এইচ টি ইমাম বলেন, “এই লোক পাঁচ বছর আগেও আওয়ামী লীগে ছিল না। দলের ভিতরে ঢুকা পড়া এই ‘অতি উৎসাহীরাই’ এই কাণ্ড ঘটিয়েছে, এই চাটুকাররাই আমাদের ক্ষতি করছে” বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এইচ টি ইমাম বলেন, “এই ঘটনার পিছনে তিনটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, এই অফিসারের বিরুদ্ধে হয়তো তাদের কোন ক্ষোভ ছিল। তাঁকে অপমানিত করা ছিল তাদের লক্ষ্য। দ্বিতীয়ত বিভিন্ন সার্ভিসের মধ্যে একটি অসন্তোষ সৃষ্টি করা। আর তৃতীয়ত, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা।”
দলের মধ্যেও ক্ষোভ:
এ ঘটনা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং দলটির সমমনাদের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
দলটির সমমনাদের অনেকে বলেছেন, এক শ্রেণীর চাটুকার বিভিন্ন সময়ই এ ধরনের মামলা করে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে।
অনেকে আবার বলেছেন, শেখ মুজিবের নাম ব্যবহার করে অতিউৎসাহী অনেক ব্যক্তি এবং অনেক ভূঁইফোড় সংগঠনের কর্মকাণ্ড তাদের দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।
বরিশালে আওয়ামী লীগের একজন নেতা এবং সেই জেলার আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদ উল্লাহ সাজু আদালতে মামলাটি করেন গত ৭ জুন।
তাতে অভিয়োগ করা হয়েছে, জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আমত্রণপত্রে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বিকৃত করে ছাপা হয়েছে।
অভিযুক্ত করা হয়েছে আগৈলঝাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক সালমানকে। তিনি বরগুনা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা।
মামলার শুনানিতে বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত প্রথমে ওই নির্বাহী কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল। গত বুধবার এই নির্দেশ দেয়ার দুই ঘন্টা পর আদালত তাকে জামিন দেয়।
একটি শিশুর আঁকা ছবি আমন্ত্রণপত্রে ব্যবহার করা হয়েছিল। মামলার বাদির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে তার পক্ষের আইনজীবী এবং সেখানকার আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম খোকন বলছিলেন, “কার্ডের উপরে এবং ভিতরে বঙ্গবন্ধুর কোনো ছবি নাই। কার্ডের পিছনে একবারে নিচে ছবি ছাপা হয়েছে। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে অবজ্ঞা করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। সে কারণে আমরা মামলা করেছি।”
বরিশালে এমন মামলা করার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক নেটওয়ার্ক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগেরই সমমনাদের অনেকে সামাজিক নেটওয়ার্কে তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেছেন।
তাদের মধ্যে সাংস্কৃতিক কর্মী এবং গণজাগরণ মঞ্চের একজন সংগঠক কামাল পাশা চৌধুরী বলেন, “বঙ্গবন্ধুর ছবিটা এঁকেছে একটা শিশু। একটা শিশুর ছবি যে স্বাভাবিকভাবে রিয়েলিস্টিক ছবি হয় না, এই ধারণাটাই তাদের নাই। এর সাথে চাটুকারিতার মিশ্রণে তারা এই মামলা করেছে।”
কামাল পাশা চৌধুরী বলেন, “সারা দেশে এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, এই দলকে, নেত্রীকে এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনরকম চাটুকারিতা করা যায় কি না। এই অতিউৎসাহীদের শুধু দল থেকেই নয়, সমাজ থেকেই এদের বিতাড়িত করা প্রয়োজন।”
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরও অনেকে এই মামলার বিষয়কে ভালভাবে নেননি। দলটির নেতাদের অনেকে মনে করেন, এখন মামলার পিছনে অতি উৎসাহ কাজ করেছে।
আবার দলটির অনেকে বলেছেন, শেখ মুজিব এবং আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে অতি উৎসাহী এবং ৫০টির মতো সংগঠন কাজ করে থাকে। এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বিভিন্ন সময় দলে আলোচনা হলেও তাদের থামানো যাচ্ছে না।
এ নিয়ে দলের ভিতর ক্ষোভও রয়েছে। আওয়ামী লীগের সিনিয়র কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে।
তবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বিবিসিকে বলেছেন, “একটি শিশু তার কল্পনা শক্তি দিয়ে অনেক কিছু করতে পারে বা ভুল করতে পারে। কিন্তু একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা শিশুর আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভুল করতে পারেন না।”
এদিকে, সিনিয়র সাংবাদিক আবেদ খান মনে করেন, অতি উৎসাহ থেকে বরিশালে মামলাটি হয়েছে এবং সেটি আওয়ামী লীগেরই ক্ষতি করছে। বিবিসি
ডেস্ক রিপোর্ট : ভারতের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রাম নাথ কোভিন্দকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা| বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে দেয়া এক প্রেস রিলিজে এ কথা জানানো হয়েছে।
ভারতের ১৪তম রাষ্ট্রপতিকে দেয়া অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ কার্যালয়ে নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ এবং আমার নিজের পক্ষ থেকে আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও সভ্যতার মিলের বন্ধনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত। এই সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছি। দুই দেশের জনগণের উন্নতি অর্জনের লক্ষ্যে আমরা ভারত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বিভিন্ন প্রেক্ষিতে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী ভারতের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সাফল্য কামনা করে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান ।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডনে গেছেন। টেমস নদীর তীরে বসে খালেদা জিয়া সহায়ক সরকারের রূপরেখা ও পরিকল্পনা করছেন। বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলছেন, নির্বাচনী ফর্মুলা আনতে গেছেন। ধার করা ফর্মুলা দিয়ে নির্বাচন হবে না। এ দেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। নির্বাচনের মাধ্যমেই খালেদা জিয়াকে জনগণের কাছে আসতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের জাতীয় বীর আবদুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভা ও সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন হবে। যথাসময়ে হবে। নির্বাচন কমিশনের অধীনেই হবে। যেসব সংস্থা রাখা দরকার, তাদের নিয়ে কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে। বিএনপি নির্বাচনে হেরে যাবে বলেই নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করার খেলায় মেতে উঠেছে।
ঈদের পর বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি বলেছে, রোজার ঈদের পর আন্দোলন হবে। ঈদের পর দেখতে দেখতে ২৫ দিন পার হয়ে গেল। আন্দোলনের ঘোষণা যিনি দিলেন, তিনি দুই মাসের জন্য লন্ডনে চলে গেলেন। টেমস নদীর তীরে বসে
আছেন। এক মাস পর কোরবানির ঈদ।
বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতা–কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ষড়যন্ত্র যতই আসুক আমাদের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। বিএনপিকে নিয়ে বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাদের একজন মামলার ভয়ে লন্ডনে পালিয়ে আছেন। দেশে আসার সাহস থাকতে হবে তো!’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ২০১৫ সালে ৯৩ দিনে ২৩১ জনকে হত্যা, ২০০০ জনকে দগ্ধ করেছে বিএনপি। তখন তো তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েননি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ফয়েজুর রহমান, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বক্তব্য দেন।
ডেস্ক রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত হয়। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে পাঁচবার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করে আন্তর্জাতিকভাবে দেশকে তিরস্কৃত করে।’
বুধবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০১৭’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মৎস্য উৎপাদন ও মৎস্য সম্প্রসারণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা মৎস্য অধিদফতরকে এডওয়ার্ড ট্রমা পুরস্কারে ভূষিত করে।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে পুরস্কৃত হয়। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল পাঁচ বছরই বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আন্তর্জাতিকভাবে তারা বাংলাদেশকে তিরস্কৃত করে। আর আওয়ামী লীগ থাকলে পুরস্কৃত হয়।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা প্রথমবার ক্ষমতায় এসে ১৯৯৮ সালে জাতীয় মৎস্যনীতি প্রণয়ন করি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলমহল রক্ষা, সমাজভিত্তিক মাছ চাষ এবং মাছের প্রজননের অভয়াশ্রম তৈরি, এ সব কাজ আমরা করি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেগুলো আমাদের দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেই। দেশে মৎস্য চাষ এবং সম্পদের সঙ্গে প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত রয়েছে। কাজেই আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জিডিপিতে একটা বিরাট অংশ এই মৎস্য উৎপাদন থেকেই আসে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা এমন একটা সময় ছিল, মানুষ একবেলা খেতে পেতো না। এত দরিদ্র মানুষ আমাদের দেশে ছিল। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে গবেষণা শুরু করি। আপনারা জানেন, ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আমরা বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করি। শুধু খাদ্য দিলে হবে না, পুষ্টিও দিতে হবে। সেজন্য মৎস্য চাষের ওপরে আমরা গুরুত্ব দেই।’
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমানার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের সমুদ্রসীমা আইন করে দিয়ে যান। কিন্তু পঁচাত্তরের পরে জিয়া সরকার, এরশাদ সরকার, খালেদা জিয়া সরকার তারা কোনও সময় এ বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেয়নি। ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা সমুদ্রসীমা আইন করেন। আর ১৯৮২ সালে জাতিসংঘ সমুদ্রসীমা আইন করে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে কিন্তু আমাদের সমুদ্রসীমার বিষয়ে উদ্যাগ নেই। দু’টি প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে আমাদের ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে হবে। ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারিনি। ২০০৯-এ যখন সরকার গঠন করি তখন দেখি, আমরা যেখানে রেখে এসেছিলাম, সেখানেই পড়ে আছে। আমরা উদ্যোগ নিলাম। দু’টি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি লড়াই করে আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘সমুদ্র সম্পদকে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করতে পারি। সমুদ্র সম্পদ আমাদের কাজে লাগাতে হবে। এখানেও আমাদের বিশাল মৎস্য ভাণ্ডার আছে। গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণের অভিজ্ঞতা আমাদের নাই। ইতোমধ্যে আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। একটা সার্ভে জাহাজ কিনেছি। তবে আমি মনে করি, একটা বড় সার্ভে জাহাজ এবং গবেষণা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে এই সম্পদ কিভাবে আমরা কাজে লাগতে পারি, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশি-বিদেশি ভোক্তাদের মানসম্পন্ন চিংড়ি সরবরাহ করতে জাতীয় চিংড়ি নীতিমালা প্রণয়ন করি।বাগেরহাটে চিংড়ি গবেষণা ইনস্টিটিউট আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি। মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করণের লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন নীতিমালা ও গবেষণার ওপর জোর দিচ্ছি।’
মৎস্য ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মৎস্য রফতানির সময় আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনোভাবেই আমাদের বিরুদ্ধে কোনও প্রকার অভিযোগ না আসে। হঠাৎ মুনাফার লোভে কিছু কিছু মানুষের ভেজাল দেওয়ার প্রবণতা আছে। ভেজাল দিয়ে বেশি মুনাফা করতে গিয়ে নিজের ব্যবসারও সর্বনাশ, দেশেরও সর্বনাশ। এই পথে যেন কেউ না যান। সামান্য একটু মুনাফার লোভে নিজের ব্যবসাটা নষ্ট করবেন না। দেশের সম্মান নষ্ট করবেন না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিদেশে মাছ রফতানি করি। তার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি। এক সময় ফরমালিন সম্পর্কে সবাই খুব উঠে-পড়ে উদ্বিগ্ন ছিল। আমরা কিন্তু ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ করেছি।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটি সোনার মাটি। আমরা একটু চেষ্টা করলেই যে কোনও ফসল ফলাতে পারি। হাওর অঞ্চলে আমরা যে ফসল ফলাতে চাই, প্রায়ই সেখানে আগাম বন্যা হয় আর ফসল নষ্ট হয়। সেখানে মৎস্য চাষের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু মাছ উৎপাদন নয় সেগুলো সংরক্ষণ করা এবং প্রক্রিয়াজাত করা। সিলেট এবং উত্তরবঙ্গের রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগে টেস্টিং ল্যাব থাকা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘জাটকা ইলিশ না ধরা, মা ইলিশ রক্ষা করা। শ্রাবণ মাসে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে ১ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন বেড়েছে। ইলিশের সাইজটাও একটু বড় হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বৈশাখ মাসে ইলিশ খাওয়ার একটা ধুম পড়েছিল। কোনও যুক্তি নেই। আমি আহ্বান করেছি, পহেলা বৈশাখে ইলিশ মাছ খেতে হবে এরকম কোনও কথা নেই। এ সকল পদক্ষেপের সুফল আমরা পাচ্ছি। আমি তো একেবারে বন্ধ করে দিয়েছি। বৈশাখে ইলিশ মাছ খাই না, খাবো না।’
সূত্র জনকন্ঠ।
ডেস্ক রিপোর্ট : বেনাপোল ও পেট্রাপোল স্থলবন্দর সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ব্যবসায়ীদের দাবি ও আমদানি-রফতানি বাণিজ্যকে সহজ ও গতিশীল করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।
শাহজাহান খান বলেন, ‘আগামী ১ আগস্ট একটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে বন্দরের অটোমেশন ব্যবস্থাকে উন্নত করার চেষ্টা চলছে। অন্যান্য স্থলবন্দরগুলোও পর্যায়ক্রমে সক্ষমতা বাড়িয়ে এ অবস্থায় আনা হবে। এরপর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরকে এ অবস্থায় আনা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম স্থলবন্দরের সমস্যা সমাধানে এখন তিনটি রাবার টায়ার ও গেনটি ক্রেন আনা হবে। এছাড়া ২০১৮ সালের মধ্যে আরও আটটি রাবার টায়ার ও গেনটি ক্রেন আনা হবে। এ সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামের পতেঙ্গাসহ তিনটি নতুন টার্মিনাল যুক্ত হবে। ’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নৌ-পরিবহন অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার তদন্ত চলছে। তাই এ বিষয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’
বৈঠকে নৌ-মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায়সহ পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : বাংলাট্রিবিউন।
ডেস্ক রিপোর্ট: ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে কোনও ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। জাতীয় শোক দিবসে দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মন্ত্রী ওই সভা করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় শোক দিবসে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়িসহ এর আশপাশের এলাকা, গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া ও রাজধানীর বনানী কবরস্থান এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এদিন দেশের যেকোনও স্থানে কোনও ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিঞা ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গোলাম মোস্তফাকে দেখতে যান। গোলাম মোস্তফা শহীদ শেখ কামালের সহধর্মিনী সুলতানা কামালের বড় ভাই। তিনি শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে ভুগছেন।
প্রধানমন্ত্রী কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছে গোলাম মোস্তফার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন এবং তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ড. সুরাইয়া বেগম এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ড. জুলফিকার লেনিন এসময় উপস্থিত ছিলেন।