পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

ভারতের সান্ত্বনার জয়

 

Bangladesh cricketer Mustafizur Rahman (C) celebrates with teammate Shakib Al Hasan (2R) and others after the dismissal of unseen Indian batsman Rohit Sharma during the third one day international (ODI) cricket match between Bangladesh and India at The Sher-e-Bangla National Cricket Stadium in Dhaka on June 24, 2015. AFP PHOTO/Munir uz ZAMAN        (Photo credit should read MUNIR UZ ZAMAN/AFP/Getty Images)

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট : তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ৭৭ রানে হারিয়ে বাংলাওয়াশ এড়ানোর সান্ত্বনা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ধোনির ভারত। প্রথম দুটি ম্যাচে জয়লাভ করায় এদিন হেরেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ মাশরাফিদের দখলেই থাকলো। ভারতের করা ৩১৭ রানের জবাবে বাংলাদেশ ৪৭ ওভারে ২৪০ রানে গুটিয়ে গিয়ে ৭৭ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। বাংলাদেশের হয়ে সাব্বির রহমান ৪৩, সৌম্য সরকার ৪০, লিটন দাস ৩৪ ও নাসির হোসেন করেন ৩২ রান। এছাড়া মুশফিক ২৪ ও সাকিব করেন ২০ রান। ভারতের হয়ে সুরেশ রায়না ৩টি এবং কুলকর্নি ও অশ্বিন ২টি করে উইকেট লাভ করেন। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দেয়ার লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামেন। ৩১৭ রান তাড়া করে ধোনিদের হারাতে পারলে মাশরাফিরা নিশ্চিত ক্রিকেটবিশ্বে আরো উঁচু অবস্থানে যেতে পারতেন। তবে দ্বিতীয় ওভারেই তামিমকে হারিয়ে ধাক্কা খায় টাইগার শিবির। ধাওয়াল কুলকর্নির করা দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন তামিম ইকবাল। আম্পায়াররা অবশ্য ‘নো’ বল হয়েছে কী-না সেটি পরীক্ষা করে দেখেন। যদিও এই যাত্রায় রক্ষা হয়নি তামিমের। শুরুতেই তামিমকে হারিয়ে থমকে যায়নি বাংলাদেশের ইনিংস। বরং দ্বিতীয় উইকেটে লিটন দাসকে নিয়ে ভারতীয় শিবিরে পাল্টা আঘাত হানেন সৌম্য সরকার। একের পর এক বাউন্ডারিতে ধোনির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেন এই তরুণ উদীয়মান ক্রিকেটার। তবে দশম ওভারে সৌম্যকে আউট করে ভারতকে ম্যাচে ফেরান কুলকর্নি। কুলকর্নির করা দশম ওভারে দ্বিতীয় বলে ‘স্লোয়ারে’ বিভ্রান্ত হয়ে মিড-অনে ক্যাচ তুলে দেন সৌম্য সরকার। সহজ ক্যাচ তুলে নিতে কষ্ট হয়নি অশ্বিনের। ৩৪ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৪০ রান করেন তিনি। ৬২ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতনের পর তৃতীয় উইকেটে মুশফিক ও লিটন দাস প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ১৫.২ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ১০০ পেরিয়ে যায়। তবে এরপর ছন্দপতন ঘটে মুশফিকের। রায়নার করা ১৯তম ওভারের শেষ বলে কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ধোনিকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন মুশফিক (২৪)। একটু পর অক্ষর প্যাটেলের বলে লিটন দাস আউট হয়ে সাজঘরে ফিরলে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা। চার ওভারের ব্যবধানে সাকিব আউট হলে সেই বিপদ আরো ঘনীভূত হয়। রায়নার বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে লং অনেক কুলকর্নিকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই টাইগার অলরাউন্ডার। এরপর নাসির ও সাব্বির মিলে ৪৯ রানের জুটি গড়ে দলকে প্রাথমিক বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। ১৪৮ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর নাসির ও সাব্বির মিলে দুর্দান্ত এক প্রতিরোধ গড়েছিলেন। তবে স্টুয়ার্ট বিনির স্লোয়ার অফ-কাটারে বিভ্রান্ত হয়ে বোল্ড হয়ে সাব্বির সাজঘরে ফিরলে ফের চাপের মুখে পড়ে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। এরপর ক্রিজে আসা মাশরাফি অশ্বিনকে ডাউন দ্য ট্র্যাকে এসে তুলে মারতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ০ রানে সাজঘরে ফিরলে বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন ফিকে হতে শুরু করে। একটু পর নাসিরের বিদায়ে পরাজয় ক্ষণ গুনা শুরু করে দেয় স্বাগতিকরা। একের পর এক উইকেটের পতনের ফলে জয়ের পথ ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হতে থাকে, আস্কিং রান রেটও বাড়তে থাকে যেটার সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন নাসির, মুশফিক ও সাব্বিররা। ফলে ২৪০ রানে গুটিয়ে গিয়ে ৭৭ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগাররা। এর আগে শেখর ধাওয়ানের ৭৭ ও ধোনির ৬৯ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩১৭ রান সংগ্রহ করে ভারত। এছাড়া রাইয়ুডু ৪৪ ও রায়না ২১ বলে ৩৮ রান করেন। বাংলাদেশের সফল বোলার মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট লাভ করলেও ১০ ওভারে ৭৬ রান দেন তিনি। মুস্তাফিজ ৫৭ রানের বিনিময়ে নেন ২ উইকেট। প্রসঙ্গত, তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটিতে জিতে আগেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করে ফেলেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। সেই সঙ্গে ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও খেলা নিশ্চিত হয়েছে লাল সবুজের জার্সিধারীদের। সংক্ষিপ্ত স্কোর কার্ড বাংলাদেশ-ভারত তৃতীয় ওয়ানডে। ভারত: ৩১৭/৬, ৫০ ওভার (ধাওয়ান ৭৫, ধোনি ৬৯, রাইডু ৪৪, রায়না ৩৮, রোহিত ২৯, কোহলি ২৫, বিনি ১৭*, প্যাটেল ১০; মাশরাফি ৩/৭৬, মুস্তাফিজ ২/৫৭, সাকিব ১/৩৩)। বাংলাদেশ: ২৪০/১০, ৪৭ ওভার (সাব্বির ৪৩, সৌম্য ৪০, লিটন ৩৪, নাসির ৩২, মুশফিক ২৪, সাকিব ২০, আরাফাত ১৪*; রায়না ৩/৪৫, অশ্বিন ২/৩৫, কুলকার্নি ২/৩৪)। ফল: ভারত ৭৭ রানে জয়ী। ম্যাচ সেরা: রায়না।

Posted in খেলাধুলা, জাতীয় | Comments Off on ভারতের সান্ত্বনার জয়

ইভটিজিং রুখতে সুন্দরী কনস্টেবল টিম!

9726bfb7bb664cc1d4b39fa21e71a217হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র বলেছেন, বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে অনেক নারী নিয়োগ পাচ্ছেন। হবিগঞ্জে কর্মরত নারী পুলিশ কনস্টেবলদের অনেকেই শহরের ডাকসাইটে সুন্দরীদের চেয়েও স্মার্ট। আসন্ন ঈদ বাজারে ইভটিজারদের ধরার জন্য এই সুন্দরী কনস্টেবলদের দিয়ে সাদা পোশাকে বিভিন্ন টিম করে কাজে লাগানো হবে।’
পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বুধবার দুপুরে আইন-শৃঙ্খলা ও হবিগঞ্জ শহরে যানজটসংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন, হবিগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মোতাচ্ছিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম, প্রেস ক্লাব সভাপতি শোয়েব চৌধুরী, অ্যাডভোকেট শাহ ফখরুজ্জামান প্রমুখ।

Posted in সারা দেশ | Comments Off on ইভটিজিং রুখতে সুন্দরী কনস্টেবল টিম!

আঁটোসাঁটো জিন্স পরার বিরুদ্ধে সতর্কতা!

150623064645_skinny_jeans_640x360_thinkstock_nocreditএকেবারে আঁটোসাঁটো জিন্স পরার বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়ে চিকিৎসকরা বলেছেন, এরকম পোশাক শরীরের পেশী এবং নার্ভের ক্ষতি করতে পারে।
সম্প্রতি ৩৫ বছরের এক মহিলার পায়ের গোড়ালি ফুলে ঢোল হয়ে যাওয়ার পর তার পরনের আঁটোসাঁটো জিন্সের ট্রাউজার্স ডাক্তারদের কাঁচি দিয়ে কেটে খুলে নিতে হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার এই মহিলা বাড়ী বদলের জন্য তার ঘরের জিনিসপত্র গোছানোর সময় দীর্ঘ সময় মাটিতে পা মুড়ে বসে কাজ করছিলেন। সন্ধ্যে নাগাদ তার পা পুরোপুরি অবশ হয়ে যায় এবং তিনি আর হাঁটতে পারছিলেন না।
জার্নাল অব নিউরোসার্জারি এন্ড সাইক্রিয়াট্রিতে চিকিৎসকরা এই মহিলার ঘটনা উল্লেখ করে ‘স্কিনি জিন্স’ বা আঁটোসাঁটো জিন্সের পোশাক পরার বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছেন।
চিকিৎসকদের ধারণা এই মহিলা ‘কম্পার্টমেন্টে সিনড্রোমে’ আক্রান্ত হয়েছিলেন। শরীরের একগুচ্ছ পেশী রক্তপাত এবং ফুলে যাওয়ার কারণে যে অবস্থার তৈরি হয় তাকেই চিকিৎসকরা ‘কম্পার্টমেন্টাল সিনড্রোম’ বলেন। এটি বেশ গুরুতর রূপ নিতে পারে।
স্কিনি জিন্স গত এক দশক ধরে ফ্যাশন সচেতন মেয়েদের কাছে খুবই জনপ্রিয় পোশাক। তবে এরকম পোশাকের বিরুদ্ধে এই প্রথম চিকিৎসকদের কাছ থেকে সতর্কবাণী শোনা গেল।

Posted in লাইফস্টাইল | Comments Off on আঁটোসাঁটো জিন্স পরার বিরুদ্ধে সতর্কতা!

দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির কারণেই নায়েক রাজ্জাকের ঘটনা

images (1)স্টাফ রিপোর্টার : সরকারের দুর্বল পররাষ্ট্রনীতি ও নতজানু অবস্থানের কারণেই বিজিবির(বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) নায়েক আবদুর রাজ্জাককে অপহরণের ঘটনাটি ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে.(অব.) মাহবুবুর রহমান। গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয়তাবাদী শক্তির করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভাটির আয়োজন করে অল কমিউনিটি ফোরাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুবুর রহমান বলেন, বিজিবির নায়েক আবদুর রাজ্জাককে মিয়ানমার অপহরণ করে নেয়ার সাতদিন পার হয়ে গেলেও সরকার এখনো তাকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। এর একটাই কারণ, সেটি হলো সরকারের দুর্বল পররাষ্ট্রনীতি ও নতজানু অবস্থান। দেশে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের রাজত্ব চলছে অভিযোগ করে মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারের লোকজন দুর্নীতি করে হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করছেন। আর সেই টাকার বৈধতার জন্য সংসদকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, সরকারের লোকজন কালো টাকা সাদা করার জন্য মহান সংসদকে ব্যবহার করছেন। আর সংসদে মিথ্যাকে সত্য করে দিচ্ছেন। তা হলে সংসদের নীতি-আর্দশ আজ কোথায়? বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়ষন্ত্র চলছে উল্লেখ করে সিনিয়র এই নেতা বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত ষড়ষন্ত্র চলছে। দলের মধ্যে থেকে যাঁরা ষড়ষন্ত্র করছেন তাদেরকে চিহ্নিত করারও আহবান জানান তিনি।
তিনি বলেন, যতোই ষড়ষন্ত্র হোক যাঁরা জিয়াউর রহমানের আর্দশকে লালন করেন সেই বিএনপিকে কখনো ধবংস করা যাবে না, সম্ভবও নয়। মাহবুবুর রহমান বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের ভয়ের কিছু নেই। বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়াবেই।
অল কমিউনিটি ফোরামের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন বকুলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এইচ এম আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান, বিএনপির সহ তথ্য গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাবিরুল হায়দার চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Posted in রাজনীতি | Comments Off on দুর্বল পররাষ্ট্রনীতির কারণেই নায়েক রাজ্জাকের ঘটনা

পাঁচ বছরে বৈধ উপায়ে কোনো স্বর্ণ আমদানি হয়নি

1429537953স্টাফ রিপোর্টার : গত পাঁচ বছরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বৈধ উপায়ে কোনো স্বর্ণ আমদানি করা হয়নি বলে সংসদকে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। গতকাল বুধবার দুপুরে দশম জাতীয় সংসদের টেবিলে উত্থাপিত এম এ হান্নানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে সংসদকে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৪৭ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন গ্রহণপূর্বক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে স্বর্ণ আমদানি করার সুযোগ রয়েছে। বিগত পাঁচ বছরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে স্বর্ণ আমদানির জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করেনি। তাই গত পাঁচ বছরে বৈধ উপায়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কোনো ধরনের স্বর্ণ আমদানি করা হয়নি।
এ সময়ে আমদানিকৃত স্বর্ণ থেকে সরকারের কোনো প্রকার রাজস্ব আয়ও হয়নি।
বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৪৭ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন গ্রহণপূর্বক বাণিজ্যক ভিত্তিতে স্বর্ণ আমদানি করার সুযোগ রয়েছে বলে সংসদকে মন্ত্রী জানান।

Posted in ব্যবসা-অর্থনীতি | Comments Off on পাঁচ বছরে বৈধ উপায়ে কোনো স্বর্ণ আমদানি হয়নি

ক্রিকেট ইতিহাসের নতুন মহাকাব্য

আবদুল মান্নান
22রবিবার রাতে ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লেখা হলো ক্রিকেট ইতিহাসের এক নতুন মহাকাব্য, যার রচয়িতা কিনা সুদূর সাতক্ষীরা থেকে উঠে আসা এক ১৯ বছরের তরুণ মুস্তাফিজুর রহমান। মুস্তাফিজের এই অমর কীর্তির কথা ইতিমধ্যে জেনে গেছে উপমহাদেশের সব ক্রিকেটপ্রেমিক আর সারা বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্রিকেটপ্রেমী কোটি মানুষ। মুস্তাফিজের এই কাব্য রচনায় সহায়তা করেছেন পদ্মাপারের আর ১০ বাঙালি, মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে। সেই রাতে মুস্তাফিজের বিধ্বংসী বোলিংয়ের কাছে সম্পূর্ণ পরাস্ত হয় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের ক্রিকেট সুপারস্টার মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বাধীন টিম ইন্ডিয়া। একটা সময় ছিল, যখন ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ হলেই তা হয়ে উঠত হাই ভোল্টেজ ম্যাচ। এখন তেমনটি আর হয় না; কারণ পাকিস্তানের ক্রিকেটের এখন পড়ন্ত বেলা। জঙ্গি আক্রমণের ভয়ে সেই দেশে এখন আর অন্য কোনো দেশ খেলতে যায় না। বহু বছর পর গত মাসে খেলতে গিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে খেলা চলাকালে জঙ্গিরা আক্রমণ করলে বেশ কজন দর্শক ও জঙ্গি হতাহত হয়। জিম্বাবুয়েকে খেলতে হয়, কারণ দেশটির অর্থ প্রয়োজন। ভারতের কথা আলাদা। ভারতে ক্রিকেটকে ঘিরে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা প্রতিনিয়ত হাতবদল হয়। ভারত যখন কোথাও খেলে, তখনই বাজিকরদের রমরমা অবস্থা। তার ওপর এখন যোগ হয়েছে আইপিএল। ক্রিকেট বা কোনো খেলা যে বাজারি পণ্য হতে পারে, তা বিশ্বাস করা যেত না, যদি না আইপিএলের প্রচলন হতো। তার ওপর আছে আইসিসিতে ভারতের দাদাগিরি। এই দাদাগিরিতে সঙ্গে আছে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। তাদের বিবেচনায় অন্য টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলো এখানে ফালতু। তো সেই প্রতিবেশী দেশ ভারতের ক্রিকেট টিম বাংলাদেশে একটি টেস্ট ও তিনটি এক দিনের ম্যাচ খেলতে এলো। ভারতকে বাংলাদেশে খেলতে আনাটা তেমন একটা সহজ নয়, কারণ বাংলাদেশে এলে তাদের আয়-রোজগার তেমন একটা হয় না। টিভিতে বিজ্ঞাপনদাতারা বিজ্ঞাপন দিতে তেমন একটা উৎসাহ বোধ করে না। ভারতে ক্রিকেট খেলাকে ঘিরে বিজ্ঞাপন ব্যবসাটা মিলিয়ন ডলারের। ভারতের কাছে ক্রিকেট দল হিসেবে বাংলাদেশ গোনা-গুনতির বাইরে। তাদের অনেক ভাষ্যকার আর সিনেমা তারকা বলেন, বাংলাদেশ নিজেদের টাইগার দাবি করলেও বাস্তবে তারা বিড়াল বৈ আর কিছু নয়। সেই বিড়ালরা রবিবার ভারতকে উড়িয়ে দিয়ে সেই পুরনো বাক্যটাকে আরেকবার মনে করিয়ে দিল- প্রতিপক্ষকে কখনো দুর্বল ভাবতে নেই, হোক না সেটি বাংলাদেশ। এর আগে একমাত্র টেস্টটি বৃষ্টির কারণে ভণ্ডুল হয়ে যায়। রবিবারের খেলা টিভিতে দেখতে দেখতে মনে পড়ে ১৯৮৩ সালে ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টের কথা। সেটি ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সোনলি যুগ। আজকের প্রজন্মের ক্রিকেটবোদ্ধাদের বোঝানো যাবে না কেমন ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যালকম মার্শাল, মাইকেল হোল্ডিং বা এন্ডি রবার্টসের ভয়ংকর বোলিং। ব্যাটিংয়ে ছিলেন গর্ডন গ্রিনিজ (পরবর্তীকালে বাংলাদেশের কোচ), ডেসমন্ড হেইন্স, ক্লাইভ লয়েড ও ভিভ রিচার্ডস। ভারতও কম যায় কিস্তে সুনীল গাভাস্কার ও অংশুমান গায়কোয়াড় ওপেনিং করছেন। দলে ছিলেন দিলীপ ভেংসরকার, মহিন্দর অমরনাথ ও রবি শাস্ত্রী। কপিল দেব ও রজার বিনি বোলিংয়ের নিয়মিত সূচনা করেন। মহিন্দ্র সিং, শিবরাম যাদব ও রবি শাস্ত্রী ভালো স্পিন করেন। টিম ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্পিন খেলতে অভ্যস্ত নয়। বলের গতি দেড় শ মাইল না হলে তাদের খেলা জমে না। ভারতের উইকেটরক্ষক তখন বিশ্বসেরা সৈয়দ কিরমানি। ব্যাটও করতেন ভালো। কলকাতার ইডেন গার্ডেনে ডিসেম্বরের ১০ তারিখ থেকে পাঁচ দিনের পঞ্চম টেস্ট শুরু হলো। দুনিয়ার সেরা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অন্যতম ইডেন গার্ডেনস। গ্যালারিতে বসে খেলা দেখলে বোঝা যায়, ইডেনে খেলা দেখাটা কত আনন্দের হতে পারে। প্রথম ইনিংসে মার্শাল, রবার্টস আর হোল্ডিংয়ের ইডেন কাঁপানো বোলিংয়ে কোনো রকমে কাতরাতে কাতরাতে ভারত ২৪১ রান করল। ক্রিকেট ইতিহাসের নতুন মহাকাব্য তিন ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারের তিনটি করে উইকেট। বাকিটা নিয়েছিলেন উইন্সটন ডেভিস। গাভাস্কার খেলেছিলেন এক বল। প্রথম বলে শূন্য রানে যখন ড্রেসিংরুমে ফিরে গেলেন, তখনো ধারাভাষ্যকাররা খেলার ধারাবর্ণনা শুরুই করতে পারেননি। উত্তরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৭৭। ভদ্রলোক ক্রিকেটার বলে সবার কাছে পরিচিত ক্লাইভ লয়েড ১৬১ রান করে নট আউট। এন্ডি রবার্টস শেষে এসে ৬৮ রান। কপিল দেব ৩৫ ওভারে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে আবারও জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি কেন বিশ্বসেরাদের কাতারে। ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস তো দিলীপ কুমার-নার্গিসের ট্র্যাজেডিনির্ভর সিনেমাকেও হার মানায়। ম্যালকম মার্শাল একাই একজন গ্ল্যাডিয়েটরের মতো ক্রিকেট বলকে তলোয়ার বানিয়ে ১৫ ওভার বল করে ৩৭ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে চতুর্থ দিনের বেশ খানিকটা বাকি থাকতেই দর্শকদের ইডেনের খানিক দূরে মেট্রো সিনেমায় ইভনিং শোর টিকিটের লাইন ধরতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। মাইকেল হোল্ডিং ৯ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট। বাকিটা এন্ডি রবার্টসের। ৯০ রানে ভারত অল আউট। তখনো সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলা চালু হয়নি। ভারত কোনোমতে ৩০ ওভার খেলতে পেরেছিল। কলকাতা থেকে প্রকাশিত স্পোর্টস ওয়ার্ল্ড পরের সপ্তাহে প্রচ্ছদ কাহিনী করেছিল গধৎংযধষষ ঞযব ঐধহমসধহ শিরোনামে। মার্শালকে একজন নির্দয় জল্লাদের সঙ্গে তুলনা করেছিল স্পোর্টস ওয়ার্ল্ড। না, আমরা ১৯ বছর বয়সী এই বাংলার এক অখ্যাত গ্রাম তেঁতুলিয়া থেকে উঠে আসা তরুণ মুস্তাফিজকে কোনো জল্লাদের সঙ্গে তুলনা করতে চাই না। তবে রবিবার মুস্তাফিজের ভূমিকা ১৯৮৩ সালের কলকাতার ইডেনের মার্শালের ভূমিকার চেয়ে কম কিস্তে এই তো তিন দিন আগে ভারতের সঙ্গেই প্রথম এক দিনের ম্যাচে মুস্তাফিজ একাই তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট নিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। সেই ম্যাচে ভারত হেরেছিল ৭৯ রানে। কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা ওই খেলার প্রতিবেদনে লিখেছিল, ‘মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পদ্মাপারের ১১ জন সবাই এদিন শেরেবাংলা, বাংলার বাঘ। বাঘ এখন শিকার করতে শিখেছে।’ মুস্তাফিজ প্রথম দুটি এক দিনের ম্যাচে মোট ১১ উইকেট নিয়ে এখন বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী। এই রেকর্ড থাকবে অনেক দিন মনে হয়।
স্রেফ বাজে আম্পায়ারিং আর ভারতের অখেলোয়াড়োচিত আচরণের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় চার মাস আগে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারত-বাংলাদেশ খেলার ঘটনাপ্রবাহ ক্রিকেট ইতিহাসে একটি কালো দাগ হয়ে থাকবে বহুদিন। সেই বর্ণনা বহুবার লেখা হয়েছে। আইসিসির নিয়ম ভেঙে সংস্থার প্রেসিডেন্ট মোস্তফা কামালকে ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে না ডাকা ছিল ক্রিকেট ইতিহাসের আরেকটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই পত্রিকায় একটি কলাম লিখেছিলাম ‘ক্রিকেট একসময় ভদ্রলোকের খেলা ছিল’ শিরোনামে। কিন্তু যখন থেকে এই ভদ্রলোকের খেলায় করপোরেট অর্থ প্রবেশ করতে শুরু করেছে, তখন থেকে আর খেলাটি ভদ্রলোকের থাকেনি। টিম ইন্ডিয়ার বেলায় তা একটু বেশি সত্য। প্রথম ওয়ানডেতে ভারত অধিনায়ক ধোনি ক্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা লিকলিকে শরীরের মুস্তাফিজকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে চোট পেয়ে মুস্তাফিজ কিছু সময়ের জন্য সাজঘরে ফিরে গিয়েছিলেন। ম্যাচ রেফারি আর আম্পায়াররা ঘটনার প্রতিবেদনে উল্লেখ করলেন, ঘটনার জন্য দায়ী ধোনি। তাঁকে দণ্ড দিতে হবে। ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট ও ধোনি মানতে নারাজ। বলল, মুস্তাফিজকেও যদি দণ্ডিত করা না হয় তাহলে তারা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইসিসিতে আপিল করবে। আর আইসিসি তো ভারতের আজ্ঞাবহ সংস্থায় পরিণত হয়েছে অনেক আগেই। এসব সংবাদ ভারতের পত্রপত্রিকার। বাংলাদেশ মুস্তাফিজের দণ্ড মেনে নিল। এটি বাঙালির ঔদার্যের পরিচয়। রবিবারের খেলা শেষে বাংলাদেশের দলনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা মুস্তাফিজকে নিয়ে ভারতের ড্রেসিংরুমে গিয়েছিলেন। ধোনির কাছে চাইলেন মুস্তাফিজের জন্য তাঁর একটা ব্যাট। ধোনি ব্যাট দিয়েছেন কি না জানা যায়নি। আসলে মাশরাফি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গিয়েছিলেন। ক্রিকেট তো আসলেই একটি ভদ্রলোকের খেলা। রবিবারের বড় পাওয়া, বাংলাদেশ এখন ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার নিশ্চয়তা পেল। রবিবারের ক্রিকেট মহাকাব্য রচনার নেতৃত্বে ছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। দুই হাঁটুতে সাতবার অপারেশন। আবার কোনো প্রকারের বড় আঘাত লাগলে পঙ্গু হওয়ার আশঙ্কা। খেলার আগে জানিয়ে দিলেন, ‘আগে তো খেলে নিই, তারপর ওটা নিয়ে ভাবা যাবে।’ বিশ্বকাপের আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি জানালেন, একাত্তরে যদি যুদ্ধের ময়দানে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা আহত হয়ে যুদ্ধ করতে পারেন, তাহলে হাঁটুতে আঘাত নিয়ে কেন তিনি খেলতে পারবেন না? বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন যে! সাতক্ষীরা থেকে উঠে আসা মুস্তাফিজ এখনো নাগরিক জীবনের সঙ্গে সম্পূর্ণ পরিচিত হয়ে উঠতে পারেননি, যা তাঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখলেই বোঝা যায়। বাংলা বলেন গ্রামের সাদাসিধে একজন তরুণের মতো। প্রমিত বাংলা ভাষার পুঁজি এখনো তেমন সমৃদ্ধ নয়। খেলা শেষে টিভি ক্যামেরার সামনে শামীম চৌধুরী তাঁকে প্রশ্ন করলেন, ‘সাতক্ষীরার দূর গ্রাম থেকে ঢাকা এসে এমন একটা খেলা উপহার দেওয়ায় তাঁর অনুভূতি কী?’ মুস্তাফিজ একটু সলজ্জ হাসি দিয়ে বললেন, তাঁর সেজ ভাই তাঁকে সাহায্য করেছেন। কজনের এমন বড় ভাই আছে? খেলার রেশ না ফুরাতেই শুরু হয়ে গেছে খেলার বাইরের একটি কথিত ঘটনা নিয়ে তোলপাড়। সুধীর গৌতম ভারত থেকে এসেছেন বাংলাদেশে খেলা দেখতে। কলকাতার এবিপি টিভি চ্যানেলকে নাকি তিনি জানিয়েছেন, খেলা শেষে স্টেডিয়ামের বাইরে বের হলে তাঁকে কারা নাজেহাল করে। পরে জানা গেল, এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। বিষয়টা স্রেফ বানোয়াট, না হয় অতিরঞ্জিত। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে কিছু মানুষ সদা উদ্গ্রীব থাকে। তবে ঘটনা যদি সত্য হয়ে থাকে, তা অত্যন্ত গর্হিত, দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। ক্রিকেট আবার ভদ্রলোকের খেলা হয়ে উঠুক। রবিবার রচিত মহাকাব্য ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকুক। সব শেষে বড় প্রশ্ন, ভারত কবে বাংলাদেশকে তাদের মাটিতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলতে আমন্ত্রণ জানাবে?
লেখক : গবেষক ও বিশ্লেষক

Posted in নির্বাচিত কলাম | Comments Off on ক্রিকেট ইতিহাসের নতুন মহাকাব্য

হ্যারিসের রেকর্ডে ভাগ বসালেন মুস্তাফিজ

02-Mostafizur--Rahmanস্পোর্টস ডেস্ক : বাংলাদেশি তরুণ পেসার মুস্তাফিজুর রহমান আরও একটি অনন্য রেকর্ডের অংশীদার হলেন। একদিনের আন্তর্জাতিকে তিন ম্যাচ সিরিজে ১৩ উইকেট শিকার করে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের তালিকায় এখন যৌথভাবে শীর্ষে তিনি। বুধবার (২৪ জুন) ভারতের বিপক্ষে চলতি সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে দুটি উইকেট নিয়ে এ কীর্তি গড়েন মুস্তাফিজ। এদিন তিনি ভারতীয় উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান সুরেশ রায়নার উইকেট শিকার করেন তিনি। ২০১০ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলীয় ফাস্ট বোলার রায়ান হ্যারিস এক সিরিজে ১৩ উইকেট শিকার করে রেকর্ড গড়েন। ভারতের বিপক্ষে সাতক্ষীরার বোলিং বিস্ময় মুস্তাফিজ তার দশম ওভারে সুরেশ রায়নাকে সরাসরি বোল্ড করে হ্যারিসের রেকর্ডে ভাগ বসান। চলতি সিরিজের প্রথম ম্যাচে অভিষিক্ত হয়ে ৫০ রান খরচে ৫ উইকেট নেন মুস্তাফিজ। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে ৪৩ রান খরচে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান তিনি। মুস্তাফিজের বিধ্বংসী বোলিংয়েই কুপোকাত হয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ হারায় মহেন্দ্র সিং ধোনির ভারত। এই সিরিজ জয়ের মাধ্যমে টানা তিনটি সিরিজ জয় করলো মাশরাফি বিন মর্তুজার টাইগার বাহিনী।

Posted in খেলাধুলা | Comments Off on হ্যারিসের রেকর্ডে ভাগ বসালেন মুস্তাফিজ

ভারতের সান্ত্বনার জয়, সিরিজ বাংলাদেশের

Prize_00_Banglanews24_568273511স্পোর্টস ডেস্ক : আরেকটি ‘বাংলাওয়াশ’ এর স্বপ্ন নিয়ে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামে স্বাগতিক বাংলাদেশ। তবে, তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে আশা জাগিয়েও হেরে গেল টাইগাররা। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৭৯ রানে আর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬ উইকেটে জয়ের পর সিরিজের শেষ ম্যাচে এসে ৭৭ রানে হারল টাইগাররা। শেষ ম্যাচে জয়ের মধ্য দিয়ে টেস্ট ও ওয়ানডেতে পূর্ণ শক্তির ভারত একমাত্র জয় নিয়ে দেশে ফিরবে। বাংলাদেশ সবকটি উইকেট হারিয়ে ৪৭ ওভার ব্যাট করে ২৪০ রান সংগ্রহ করে। এর আগে ভারতের ছুঁড়ে দেওয়া ৩১৮ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় দ্বিতীয় ওভারে কুলকার্নির বলে এলবি’র ফাঁদে পড়েন তামিম ইকবাল। আউট হওয়ার আগে মাত্র ৫ রান করেন তিনি। বাংলাদেশের দ্বিতীয় উইকেট হিসেবে ফেরেন ব্যাটে ঝড় তোলা সৌম্য সরকার। দলীয় দশম ওভারে ৩৪ বলে ব্যক্তিগত ৪০ রান করে কুলকার্নির বলে অশ্বিনের তালুবন্দি হন সৌম্য। আউট হওয়ার আগে ভারতের বোলারদের সাতবার মাঠের বাইরে পাঠান। যার মধ্যে দুটি ছক্কার মার ছিল।
দলীয় ৬২ রানের মাথায় সৌম্য সরকারকে হারানোর পর ব্যাটিংয়ে আসেন টাইগারদের ‘রান মেশিন’ খ্যাত মুশফিকুর রহিম। তামিম, সৌম্যর পর বিদায় নেন তিনি। লিটনকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন ১৫২ ওয়ানডে খেলা মুশফিক। তবে, দলীয় ১৯তম ওভারে রায়নার একটি লাফিয়ে উঠা বলে উইকেটের

Bangladesh cricketer Mustafizur Rahman (C) celebrates with teammate Shakib Al Hasan (2R) and others after the dismissal of unseen Indian batsman Rohit Sharma during the third one day international (ODI) cricket match between Bangladesh and India at The Sher-e-Bangla National Cricket Stadium in Dhaka on June 24, 2015. AFP PHOTO/Munir uz ZAMAN        (Photo credit should read MUNIR UZ ZAMAN/AFP/Getty Images)

Bangladesh cricketer Mustafizur Rahman (C) celebrates with teammate Shakib Al Hasan (2R) and others after the dismissal of unseen Indian batsman Rohit Sharma during the third one day international (ODI) cricket match between Bangladesh and India at The Sher-e-Bangla National Cricket Stadium in Dhaka on June 24, 2015. AFP PHOTO/Munir uz ZAMAN (Photo credit should read MUNIR UZ ZAMAN/AFP/Getty Images)

পেছনে ধোনির গ্লাভসবন্দি হন টাইগারদের ব্যাটিং স্তম্ভ। আউট হওয়ার আগে মুশফিক ৩০ বলে ২৪ রান করেন। এরপর সাকিবের সঙ্গে বড় জুটি গড়ার আগেই ফিরে যান লিটন কুমার। ৫০ বলে তিন চারে ৩৪ রান করা লিটন আকসার প্যাটেলের বলে বোল্ড হয়ে দলীয় ১১৮ রানের মাথায় টাইগারদের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদায় নেন। দলের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান রায়নার বলে কুলকার্নির হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে স্বাগতিকদের পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদায় নেন। ২৭তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ২১ বলে ২০ রান করেন সাকিব। দলীয় ১৪৮ রানের মাথায় টাইগারদের পঞ্চম উইকেটের পতনে ব্যাটিং ক্রিজের দায়িত্ব নেন সাব্বির রহমান ও নাসির হোসেন। টপ অর্ডারের পাঁচ ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর এ দু’জন ৪৯ রানের (৩৮ বলে) জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে, ৩৩তম ওভারে বিন্নির বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ব্যক্তিগত ৪৩ রান করা সাব্বির। আউট হওয়ার আগে ৩৮ বল মোকাবেলা করে ছয়টি চার হাঁকান সাব্বির। সাব্বিরের বিদায়ে নাসির হোসেনকে সঙ্গ দিতে নামেন টাইগার দলপতি মাশরাফি। তবে, অশ্বিনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। দলীয় ২০৫ রানের মাথায় অধিনায়কের বিদায়ে স্বাগতিকদের সপ্তম উইকেটের পতন ঘটে। ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো খেলতে থাকা নাসিরও অবশেষে বিদায় নেন। ব্যক্তিগত ৩২ রান করে অশ্বিনের বলে রাইডুর হাতে ক্যাচ দেন তিনি। এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শিখর ধাওয়ান, মহেন্দ্র সিং ধোনি, আম্বাতি রাইডু আর সুরেশ রায়নার ব্যাটে ভর করে সফরকারীরা নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩১৭ রান সংগ্রহ করে।
টাইগারদের বোলিং সূচনা করতে আসেন ক্রিকেট বিশ্বের বোলিং চমক মুস্তাফিজুর রহমান। আর ভারতের ব্যাটিং উদ্বোধনের দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট হাতে নামেন রোহিত শর্মা এবং শিখর ধাওয়ান।
জয় নিয়ে দেশে ফিরতে মরিয়া সফরকারীদের ব্যাটিং লাইনআপে যথারীতি আঘাত হানেন মুস্তাফিজ। মুস্তাফিজের করা দলীয় সপ্তম ওভারের শেষ বলে উইকেটের পেছনে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন রোহিত শর্মা। প্রথম দুই ওয়ানডেতেও মুস্তাফিজের বোলিং তোপে রোহিত আউট হয়েছিলেন। আউট হওয়ার আগে রোহিত ২৯ বলে দুই চার আর এক ছয়ে ২৯ রান করেন। দলীয় ২০তম ওভারে আক্রমণে আসেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তার অসাধারণ ঘূর্ণিতে আউট হন ভারতের ব্যাটিং স্তম্ভ বিরাট কোহলি। নিজের প্রথম ওভারে এসেই বাজিমাত করেন সাকিব। বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে কোহলি করেন ৩৫ বলে ২৫ রান। ‘হোয়াইটওয়াশ’ এড়াতে লড়তে থাকা ভারতের ওপেনার শিখর ধাওয়ানকে ফেরান মাশরাফি। দলীয় ২৭তম ওভারে মাশরাফির বলে নাসির হোসেনের তালুবন্দি হন ধাওয়ান। আউট হওয়ার আগে তিনি ৭৫ রান করেন। টাইগারদের অন্যতম ফিল্ডারে পরিণত হওয়া নাসির দারুণ ভাবে ধাওয়ানের ক্যাচটি লুফে নেন। ধোনির সঙ্গে ৪৪ রানের জুটি গড়া ধাওয়ান ৭৩ বলে দশটি চার হাঁকান।
৪১তম ওভারে নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিতে চেয়েছিলেন আরাফাত সানি। ব্যক্তিগত ৩৪ রানের মাথায় সানির হাতে জীবন ফিরে পান রাইডু। দলীয় ১৫৮ রানে টপঅর্ডারের তিন উইকেট খুঁইয়ে ফেলা সফরকারীরা ‘বাংলাওয়াশ’ এড়াতে দলের সংগ্রহ বাড়িয়ে নিতে থাকে। ৪৪তম ওভারে মাশরাফির শিকারে সাজঘরে ফেরেন ব্যক্তিগত ৪৪ রান করা আম্বাতি রাইডু। ধোনির সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে ৯৩ রানের জুটি গড়েন রাইডু। আউট হওয়ার আগে ৪৯ বল মোকাবেলা করেন তিনি। এরপর মাশরাফির তৃতীয় শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন ধোনি। দলীয় ৪৬তম ওভারে আক্রমণে এসে টাইগার দলপতি ব্যক্তিগত ৬৯ রান করা টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ককে মুস্তাফিজের তালুবন্দি করেন। আউট হওয়ার আগে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫৯তম অর্ধশতক হাঁকান ধোনি। ৭৭ বল মোকাবেলা করে ছয় চার আর একটি ছক্কা হাঁকান ভারত অধিনায়ক।
শেষ দিকে ব্যাটিংয়ে নেমে সুরেশ রায়না ২১ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলেন। রায়নাকে বোল্ড করে ফিরিয়ে দেন মুস্তাফিজ। টাইগারদের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন মাশরাফি। দুটি পান মুস্তাফিজ আর একটি উইকেট নেন সাকিব।

Posted in খেলাধুলা | Comments Off on ভারতের সান্ত্বনার জয়, সিরিজ বাংলাদেশের

সবার কথা একটাই ‘হোয়াইটওয়াশ’

cricket_thereport24বিনোদন রিপোর্ট : সারাদেশ উদযাপন করছে ক্রিকেটের বিজয়। মুস্তাফিজ বন্দনায় মেতেছে সবাই। পাশাপাশি আরও একটি বিজয়ের স্বপ্ন দেখছেন। বাংলাদেশ-ভারত সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে বুধবার মাঠে নামছেন টাইগাররা। সবার আশা ভারতকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করবে মাশরাফিবাহিনী।
দেশের শোবিজ তারকারাও মেতেছেন বিজয় উদযাপনে। দ্য রিপোর্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে শুভ কামনা জানিয়েছেন তাদের অনেকে—
2_23282সোহেল রানা : বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে হতাশার দিন মনে হয় শেষ হয়েছে। অনেক দিনের স্বপ্নপূরণের পথে আমরা। আমি বিশ্বাস করি, ভারতকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে বাংলাদেশ নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করবে। এরপর বিশ্বকাপ জয় করবে টাইগাররা। আমি শুধু বলব, বুধবার বাংলাদেশের কাছে ভারত হোয়াইটওয়াশ হবে।
ফেরদৌস ওয়াহিদ : বাংলাদেশের খেলা দেখার জন্য কালকে কোনো কাজ রাখি নাই। আমরা অপেক্ষায় আছি বড় একটা উদযাপনের। রাজনৈতিক হানাহানির এই সময়ে ক্রিকেটাররা আমাদের সবাইকে এক জায়গায় মিলিয়ে দেয়। এটা দারুণ একটা ব্যাপার। আমার কাছে ক্রিকেট এখন আর শুধু খেলা নয়, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। ক্রিকেটের হাত ধরে আমরা বিশ্বে আরও দাপিয়ে বেড়াব। ভারতকে শেষ ম্যাচে হারিয়ে রেকর্ড গড়ুক টাইগাররা।
omarsani-bgওমর সানী : মুস্তাফিজের মধ্যে আমি ওয়াসিম আকরামের ছায়া দেখেছি। এখন তার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের। দুই ম্যাচের মতো ২৪ তারিখও ডেফিনেটলি জয় চাই। আশা রাখি আমরা ভালভাবেই জয়লাভ করব।
আমি ক্রিকেটপ্রেমী সম্মানিত দর্শকদের উদ্দেশে বলতে চাই, ইন্ডিয়া আমাদের দেশে খেলতে এসেছে, আমরা তাদের হারিয়েছি। এ নিয়ে তাদের কটূক্তি করার কিছু নেই। এ ব্যাপারে আমাদের ভাষা সংযত করা উচিৎ। দেশের বাইরে কোথাও গেলে আমরা মুখ দেখাতে পারি না। সবাই মনে করে আমরা ইন্ডিয়ান। প্রতিনিয়তই বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম আমাদের মুখ উজ্জ্বল করছে। বিশ্বের কাছে তুলে ধরছে দেশকে। দেশের বাইরে কোথাও গেলে গর্বের সাথে আমরা বলতে পারব আমরা বাংলাদেশী।
joya-top-20140509190458জয়শ্রী কর জয়া : ক্রিকেট মোড়লদের দারুণ জবাব দিয়েছে আমাদেরই টাইগাররা। উপমহাদেশের ক্রিকেটের রাজত্ব এখন বাংলাদেশের। পাকিস্তানের পর ভারতকে হারিয়ে সেই প্রমাণ দিয়েছে আমাদের ছেলেরা। তৃতীয় ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে— এটা আমার প্রত্যাশা। এবার স্বপ্নের পরিধিটা একটু বেড়েছে। আগামী বিশ্বকাপ আমাদের ঘরে আসবে।
9e9a3b4b7c23c41f33365851fe54963cনাজনীন আক্তার হ্যাপী : বাংলাদেশ এখন অনেক শক্তিশালী ক্রিকেট দল। গত দুই ম্যাচে তো মুস্তাফিজ অসাধারণ খেলেছে। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ ভারতকে হোয়াইটওয়াশ করবে। এই ধারবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে আগামী বিশ্বকাপ আমাদের ঘরেই আসবে। বাংলাদেশে বিশ্বকাপ জয় এখন আর স্বপ্ন নয়। তবে এই মুহূর্তে আমার কথা একটাই হোয়াইটওয়াশ।
331পরী মনি : বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সঙ্গে চুরি করে জিতেছিল ভারত। সেই জবাব আমাদের টাইগাররা দিয়েছে খেলার মাঠে। বিশ্বকাপের পর আমাদের যে জ্বালা তৈরি করেছিল, এবার ভারতকে সেই জ্বালায় জ্বলতে হবে। এরই মধ্যে জ্বালা শুরু হয়ে গেছে। শেষ ম্যাচে হোয়াইটওয়াশের মাধ্যমে ভারতকে বিশ্বকাপের জ্বালাটা হারে হারে বুঝিয়ে দেবে টাইগাররা। এটাই প্রত্যাশা।
prosun-azadপ্রসূন আজাদ : কোটি কোটি মানুষের যা প্রত্যাশা আমারও তা। পাকিস্তানের পর ভারতকে হারিয়ে সারাবিশ্বকে চমকে দিয়েছে বাংলাদেশ। তাই তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ জিতবে এটাই আশা। শুধু দেশে নয়, সারাবিশ্বের সবার ফেভারিট দল এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।
imagesসম্রাট : হোয়াইটওয়াশ এখন পুরনো বিষয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম আমাদের প্রত্যাশা আরও অনেকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের স্বপ্ন এখন বিশ্বকাপ জয়। ভারতকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ করবে টাইগাররা এটা স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা।

Posted in বিনোদন | Comments Off on সবার কথা একটাই ‘হোয়াইটওয়াশ’

রাজধানীতে পাসপোর্ট ও জাল ভিসাসহ আটক ৪

23-06-15-CID Arrested-2স্টাফ রিপোর্টার : বিপুল পরিমাণ পাসপোর্ট এবং জাল কাগজপত্রসহ আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারীর চার সদস্যকে আটক এবং চার ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। গত ২১ জুন মতিঝিল শাপলা চত্বর সংলগ্ন শাপলা ভবনের অষ্টম তলায় অভিযান চালিয়ে মহিদুল ইসলাম (৪৫), হিম্মত আলী (৩১), মো. রাসেল (২৩) ও মো, উজ্জ্বল খানকে (২০) আটক করা হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে চারজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। এরা হলেন- আশরাফুল ইসলাম (৩৫), মো. আলী (৩৫), আবুল কালাম আজাদ (২৮) ও মো. সাইফুল ইসলাম (২৪)। প্রথম তিনজনের বাড়ি নওগাঁ পরের জনের বাড়ি জয়পুরহাট জেলায়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডির সম্মেলন কক্ষে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সিআইডির এএসপি ফজলুল কবীর। তিনি জানান, সাড়ে আটশ’ বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ইরাক, দুবাই, লিবিয়া, মোজাম্বিক, মিশর, ওমান, সৌদি আরব, কাতার, ইথিওপিয়া, মালয়েশিয়া নাইরোবিসহ বিভিন্ন দেশের জাল ভিসা ও এয়ার টিকিট উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও সাগরপথে বিদেশে মানবপাচারের জন্য শিপিং লাইনে ৪০টি ধারাবাহিক ডিসচার্জ জাল সনদ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল, ডিপার্চার, ইমিগ্রেশন ও বিভিন্ন দূতাবাসের জাল সিল-প্যাড উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের ও পাচারকারীদের মূল হোতা মো. টিপু সুলতান, মুজিবুর রহমান ইসমাইলসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

Posted in সারা দেশ | Comments Off on রাজধানীতে পাসপোর্ট ও জাল ভিসাসহ আটক ৪

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud