April 21, 2026
যেই গ্রুপে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা সেখানে পাকিস্তানকে কেউ হাতেই গোনেনি। এমনকি ভারতের কাছেই বিশাল ব্যবধানে হেরে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরু করেছিল তারা। এর পর সবাইকে চমকে দিলো সরফরাজ আহমেদের দল। দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কাকে দাঁড়াতে দিলো না, গেল সেমিফাইনালে। স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে কোনও পাত্তা না দিয়ে টিকিট কাটল ফাইনালের, যেখানে অপেক্ষা করছিল তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত। প্রথম ম্যাচ হারের শোধ পাকিস্তান নিয়েছে কড়ায়গণ্ডায়। রবিবার বার্মিংহামের এজবাস্টনে ভারতকে ১৮০ রানে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা জিতল পাকিস্তান।
১৯৯২ সালের পর প্রথমবার আইসিসির ওয়ানডে টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হলো পাকিস্তান। সেবার বিশ্বকাপে শিরোপা জিতেছিল ইমরান খানের পাকিস্তান। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ব্যাট হাতে ফখর জামান, এর পর বোলিংয়ে মোহাম্মদ আমির। দুইজনের পারফরম্যান্সের কাছে হার মানতে হয়েছে ভারতকে। ফখরের সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটে ৩৩৮ রান করা পাকিস্তান আমিরের কল্যাণে ছিল বোলিংয়েও দুর্দান্ত। ৬ রানে ২ উইকেট হারানো ভারত ৬ উইকেট হারায় ৭২ রানে। আর অলআউট হয় ১৫৮ রানে।
বিরাট কোহলির দলকে ফাইনালে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনও পাত্তা দেয়নি পাকিস্তান। প্রথম ৬ উইকেট হারানোর পর দলকে বড় লজ্জা থেকে বাঁচাতে হার্দিক পান্ডিয়া নেমে রান প্রচণ্ড গতিতে বাড়ান। ৯.৩ ওভারে রবীন্দ্র জাদেজাকে নিয়ে ৮০ রানের ঝড়ো জুটি গড়েন তিনি। কিন্তু নিজের ভুলে রান আউট হতে হয় তাকে। ৪৩ বলে চারটি চার ও ছয়টি ছয়ে ৭৬ রান করেন পান্ডিয়া। তিনি আউট হলে বিনা বাধায় পাকিস্তান জয় পায়। ভারত শেষ ৪ উইকেট হারায় ৬ রানে।
পাকিস্তানের শক্তিশালী বোলিংয়ের মুখোমুখি হয়ে শুরু থেকে বিপদে পড়ে ভারত। আমির তাদের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দাঁড়াতে দেননি। এ বাঁহাতি পেসার তুলে নেন ভারতের প্রথম তিন উইকেট। ৩৩ রানের মধ্যে রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও শিখর ধাওয়ানকে সাজঘরে পাঠান আমির।
ইনিংসের তৃতীয় বলে আমিরের এলবিডব্লিউর শিকার রোহিত। রানের খাতা না খুলে বিদায় নেন ভারতীয় ওপেনার। পাকিস্তানের ছুড়ে দেওয়া ৩৩৯ রানের লক্ষ্যে এটা ছিল ভারতের বড় হোঁচট। এখানেই শুরু। আমির তার দ্বিতীয় ওভারেই কোহলিকে বানান শাদাব খানের ক্যাচ। আগের বলেই জীবন পাওয়া ভারতীয় অধিনায়ক ৫ রানে আউট হন। নিজের পঞ্চম ওভারে ভারতের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান ধাওয়ানকে ২২ রানে সরফরাজ আহমেদের ক্যাচ বানান আমির।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ৩৩৮/৪ (আজহার ৫৯, জামান ১১৪, বাবর ৪৬, মালিক ১২, হাফিজ ৫৭*, ওয়াসিম ২৫*; ভুবনেশ্বর ১/৪৪, বুমরাহ ০/৬৮, অশ্বিন ০/৭০, পান্ডিয়া ১/৫৩, জাদেজা ০/৬৭, কেদার ১/২৭)
ভারত: ৩০.৩ ওভারে ১৫৮ (রোহিত ০, ধাওয়ান ২১, কোহলি ৫, যুবরাজ ২২, ধোনি ৪, কেদার ৯, পান্ডিয়া ৭৬, জাদেজা ১৫, অশ্বিন ১, ভুবনেশ্বর ১*, বুমরাহ ১; আমির ৩/১৬, জুনায়েদ ১/২০, হাফিজ ০/১৩, হাসান ৩/১৯, শাদাব ২/৬০, ওয়াসিম ০/৩, জামান ০/২৫)
ফল: পাকিস্তান ১৮০ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা- ফখর জামান
সিরিজসেরা- হাসান আলী
সেরা ব্যাটসম্যান- শিখর ধাওয়ান (৫ ম্যাচে ৩৩৮)
সেরা বোলার- হাসান আলী (৫ ম্যাচে ১৩ উইকেট)