April 30, 2026
নিউজ ডেস্ক: মুস্তাফিজুর রহমানের ওই এক ওভারই ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। চার বলের ব্যবধানে হাশিম আমলা, জেপি ডুমিনি আর কুইন্টন ডি কককে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে প্রোটিয়া ইনিংসে যে বিপর্যয়ের সূচনা তিনি করেছিলেন, সেই বিপর্যয়ের ধারাবাহিকতাতেই ২৪৮ রানেই গুটিয়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। 
মুস্তাফিজের ওই অবিশ্বাস্য ওভারটির পর তরুণ লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন তুলে নেন আরও ৩ উইকেট। একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন তেম্বা বাভুমা। চাপের মুখে দারুণ একটা ফিফটিও করেছেন তিনি। কিন্তু তিনিও শিকার ওই মুস্তাফিজের। নিজের অভিষেক টেস্টে ৩৭ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে চট্টগ্রাম টেস্টের নায়ক এখন সাতক্ষীরার এই তরুণই।
মুস্তাফিজের ৪ আর জুবায়েরের ৩ উইকেটের পাশাপাশি একটি করে উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম ও মাহমুদউল্লাহ। দারুণ বল করেও প্রোটিয়াদের বিপর্যয়ের এই দিনে উইকেট-শূন্য মোহাম্মদ শহীদ।
ক্রিকেটের বড় ফরম্যাট টেস্টে পরীক্ষিত ছিলেন না মুস্তাফিজুর রহমান। অনেকেই বলছিলেন, বোলার সংকটের দোহাই দিয়ে এই তরুণ বোলিং প্রতিভাকে একটু আগেভাগেই টেস্টের কঠিন মঞ্চে অভিষিক্ত করা হল কিনা! সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাতে খুব বেশি সময় নিলেন না সাতক্ষীরার এই অনন্য বোলিং প্রতিভা। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামকে সাক্ষী বানিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর দিয়ে বইয়ে দিলেন ঝড়। চা-বিরতির পর নিজের এক ওভারে তিন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে আবারও চেনালেন নিজেকে।
হাশিম আমলা, জেপি ডুমিনি আর কুইন্টন ডি কক তাঁর শিকার। হাশিম আমলাকে (১৩) উইকেটের পেছনে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। জেপি ডুমিনি হন এলবি। এক বল বিরতি দিয়ে কুইন্টন ডি ককের স্টাম্প উড়িয়ে দিয়ে প্রোটিয়াদের পুরোপুরি ব্যাকফুটে ঠেলে দেন তিনি। ১৬৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চা-বিরতিতে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা পরিণত হয় ১৭৩ /৬-এ।
ছয় উইকেট হারিয়ে দিশেহারা দক্ষিণ আফ্রিকাকে আলো দেখাচ্ছিলেন ভারনন ফিল্যান্ডার ও তেম্বা বাভুমা। এই দুজন ৩৭ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন জুবায়ের হোসেনের বলে। জুবায়েরের একটি ক্ল্যাসিক লেগ ব্রেকে ফিল্যান্ডার স্লিপে ক্যাচ দেন সাকিবের হাতে। বাভুমা অবশ্য এখনো চিন্তার কারণ হয়ে ব্যাট করছেন ৪২ রানে। এই প্রতিবেদন লেখার সময় দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২২৭ রান।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা ছিল বেশ ভালোই। উদ্বোধনী জুটিতে ৫৮ রান আসার পর বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম আঘাত হানেন মাহমুদউল্লাহ। তাঁর বলে উইকেটের পেছনে স্টিয়ান ফন জিলের ক্যাচ ধরেন লিটন দাস। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৭৮ রান তুলে ডিন এলগার আর ফ্যাফ ডু প্লেসি আবারও চোখ রাঙাচ্ছিলেন বাংলাদেশকে। এই জুটি ইঙ্গিত দিচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহকে স্ফীত করে তোলার। খুব দ্রুতলয়ে না হলেও ধীর-স্থির ব্যাটিংয়ে অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকেই এগোচ্ছিলেন এই দুই ব্যাটসম্যান, কিন্তু তাইজুল ইসলাম আর সাকিব আল হাসানের জোড়া আঘাত এ যাত্রায় স্বস্তি দিয়েছে বাংলাদেশকে। ১৩৬ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানো দক্ষিণ আফ্রিকার তৃতীয় উইকেট নেই ওই ১৩৬-এই। এই মুহূর্তে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৩৯।
তাইজুলের বলে প্রথমে ফেরেন এলগার। অফ স্টাম্পের বাইরের বলটি কাট করতে গিয়ে তিনি ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় লিটনের ক্যাচটি কিন্তু হয়েছে দুর্দান্তই। তাইজুলের পরের ওভারের প্রথম বলেই আবার আঘাত হানেন সাকিব। টেস্টে নিজের ১৪৭ তম উইকেটটি তিনি তুলে নেন ডু প্লেসিকে এলবি’র ফাঁদে ফেলে। এলগার ফিরেছেন ৪৭ রান করে। ১১১ বলের এই ইনিংসে চারের মার মাত্র তিনটি। ডু প্লেসি ১২২ বল খেলে, পাঁচটি চার মেরে করেন ৪৮।
মুস্তাফিজের ৩ উইকেটের পাশাপাশি বাংলাদেশের পক্ষে একটি করে উইকেট তুলে নিয়েছেন সাকিব, জুবায়ের, তাইজুল আর মাহমুদউল্লাহ।