May 1, 2026
স্টাফ রিপোর্টার : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যশোরে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মাথাপিছু ১০ কেজি চাল দেয়ার নিয়ম হলেও দেওয়া হচ্ছে ৮ থেকে সাড়ে ৮ কেজি। এর বাইরে চৌগাছার এক ইউপি চেয়ারম্যান ১৬০ বস্তা চাল খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোকজ করেছেন। সূত্র মতে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যশোরের ৮টি উপজেলা ও ৮টি পৌরসভায় গরিব ও অসহায় মানুষের মধ্যে ভিজিএফের ৩ হাজার ৯ দশামিক ৮৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করে সরকার। জুন মাসের শেষের দিকে জনপ্রতিনিধিরা এ চাল বিতরণ শুরু করেন। বর্তমানে বিতরণ কার্যক্রম চলামান রয়েছে। কিন্তু গরীবের এই চাল আত্মসাতে লিপ্ত রয়েছেন ‘অবস্থাসম্পন্ন গরীব’ জনপ্রতিনিধিরা। তারা খাদ্য গুদাম থেকে চাল উত্তোলন করে পরিষদে না নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছেন। এমন একটি অভিযোগ করেছেন চৌগাছার ধুলিয়ানী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি মেম্বার গোলাম মোস্তফা। তিনি তার পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে ৮ মেট্রিক টন বা ১৬০ বস্তা চাল আত্মসাতের অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রথমে তদন্ত করেন উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা ইয়ারুল হক। তিনি জানান, ‘চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন ১৬০ বস্তা চাল উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করলেও ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ে যাননি। কোথায় আছে সেটাও জানাননি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তিনি অবহিত করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুষমা সুলতানাসহ কর্মকর্তারা সরজমিন ওই ইউনিয়ন পরিষদে যান। তারাও বরাদ্দকৃত চালের মধ্য থেকে ১৬০ বস্তা চাল কম দেখতে পেয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিনকে কারণ দর্শানো নোটিশ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুষমা সুলতানা বলেন, ‘চেয়ারম্যান খাদ্য গুদাম থেকে চাল উত্তোলন করলেও তদন্তে তারা পরিষদের গোডাউনে চাল কম পেয়েছেন। এজন্য তাকে দুই দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। তবে দুই দিন পার হলে তিনি জবাব দেননি। জবাব না দিলে বা সন্তোষজনক জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষমতাসীন দলের নেতা আলাউদ্দিনের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি। তবে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, ‘তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক। মেম্বাররা হেয় করতে এই কাহিনি করছেন।’
এদিকে, জেলার ৯১ ইউনিয়নে দুস্থদের মধ্যে ২ লাখ ৭১ হাজার ৭১৬ কার্ডে ২ হাজার ৭১৭ দশমিক ১৬০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা পুরোটা পাচ্ছে না গরীবরা। মাথাপিছু তাদের ১০ কেজি চাল দেয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে না। অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১০ কেজির পরিবর্তে ৮ থেকে সাড়ে ৮ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো উচ্চবাচ্যও করতে পারছে না ভুক্তভোগীরা। চৌগাছার ফুলসর ইউনিয়নে বালতি মেপে এবার চাল বিতরণ শুরু করা হয়। দাঁড়িপাল্লায় না মেপে ওই চাল বিতরণ করায় মাথাপিছু দেড় কেজি কম পান দরিদ্ররা। এতে ক্ষুব্ধ লোকজন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেমিম উদ্দিন খানকে বিষয়টি অবহিত করেন। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়। তখন উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআও) সরজমিনে দেখতে ঘটনাস্থলে আসেন। ওই কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ইউপি মেম্বার জিয়াউর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় সলুয়া বাজারে যান। সেখান থেকে ১০ কেজি চাল ধরে এমন একটি বালতি কিনে দেন।
শুধু সেখানে নয়, শার্শার ডিহি, লক্ষণপুর, নিজামপুর, বাঘারপাড়া রায়পুর, সদর উপজেলার হৈবতপুর, চুড়ামনকাটি, রামনগরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে যায় সেখানেও বালতিতে চাল ওজন করে দেওয়া হচ্ছে। এতে ১০ কেজির পরিবর্তে ৮ থেকে সাড়ে ৮ কেজি চাল পাচ্ছেন গরীবরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ বিষয়ে শার্শার এক চেয়ারম্যান বলেন, ‘তারা মেট্রিক টন হিসেবে চাল পান। আর বিতরণ করেন খুচরা। তাই চাল মেকাপ দেওয়া যায় না। এজন্য কম দিয়ে মেকাপ দেন। এ ছাড়া খাদ্য গুদাম থেকে চাল পরিষদে আনতে কোনো ভাড়া দেওয়া হয় না। তাই চাল সামান্য কম দিয়ে পরে বিক্রি করে ভাড়ার টাকা তুলতে হয়।’