পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

কার্বাইড দিয়ে পাকানো হচ্ছে আম

Posted on May 27, 2015 | in স্বাস্থ্য | by

50596_1
 খুলনা প্রতিনিধি : পাইকগাছা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় বিষাক্ত কেমিকেল (কার্বাইড) দিয়ে পাকানো হচ্ছে আমসহ বিভিন্ন মওসুমি ফল।
এলাকার চাহিদা পূরণ করে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শত শত মণ ফল রপ্তানি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বিষাক্ত ফল খেয়ে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনিক দুর্বল মনিটরিং ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়াকে দায়ী করছেন ভূক্তভোগীদের অনেকে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার কপিলমুনি, কাশিমনগর, রামনগর, নোয়াকাটি, হরিদাশকাটি, হরিঢালী, আগড়ঘাটা, গদাইপুর, গোপালপুর ও কপিলমুনির ক্যাচমেন্ট এরিয়া তালার প্রত্যন্ত এলাকায় অসাধুপায়ী ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার আশায় অপরিপক্ক আমসহ বিভিন্ন মওসুমি ফল কিনে চিহ্নিত ও গোপন গুদামে সংরক্ষণ করে তাতে বিষাক্ত কার্বাইড দিয়ে পাকিয়ে বাজারজাত করছে।

এছাড়া অনেক ব্যবসায়ীরা ওই বিষাক্ত ফল প্রশাসনের নাগের ডগা দিয়ে প্রতিদিন ট্রাক ও পিকআপে দেশের বিভিন্ন মোকামে নিয়ে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ফলের রং ভালো করতে ও অপরিপক্ক ফল পাকাতে তারা আইনি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কার্বাইড ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ ব্যাপারে প্রশাসনিক তৎপরতা সম্পর্কে তারা বলেন, গত মওসুমে স্থানীয় উপজেলা সেনেটারি কর্মকর্তা বেশ তৎপরতা দেখালেও বর্তমানে তাদের পদচারণা একটু কম। এ সময় তারা এলাকার চাহিদা পূরণ করে প্রতিদিন শত শত মণ আমসহ অন্যান্য ফল বাইরে চালান দিয়ে থাকেন বলেও জানান।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় কপিলমুনি হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. এম কে হক রানা বলেন, ‘কার্বাইড মিশ্রিত ফল খেলে হার্ট, কিডনি, লিভার ও ডায়াবেটিকসহ নানাবিধ দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।’

উপজেলা সেনেটারি কর্মকর্তা উদয় কুমার মণ্ডল বাজারে কার্বাইড মিশ্রিত ফলের বিকিকিনির কথা স্বীকার করে তা প্রতিরোধে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান। তবে গতবারের তুলনায় কার্বাইড মিশ্রিত আম এবার তুলনামূলক কম। কার্যত উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভাতে মাত্র একজন কর্মকর্তা দিয়ে মনিটরিং ও ব্যবস্থা গ্রহণকে ঠিক যথাযথ বলে মনে করছেন না ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
তাদের মতে, মওসুমের শুরু থেকে বিস্তীর্ণ জনপদে উৎপাদিত ব্যাপক পরিমাণের ফলের সুষ্ঠু প্রক্রিয়া ও বাজারজাতকরণে জনসচেতনতার পাশাপাশি ব্যাপক ভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে এলাকাবাসী বলেন, ‘রাসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত ফলের বাজারজাত রোধে বিভিন্ন সময় কিছু পদক্ষেপ যেমন পাকা আম বিনষ্টসহ যৎসামান্য জরিমানা করা হলেও তা প্রতিরোধে যথার্থ নয়।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud