পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

‘আর মাত্র ২ দিন, মহাপ্রলয় ধেয়ে আসছে আমেরিকায়’!

Posted on May 26, 2015 | in আন্তর্জাতিক | by

nyc1আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : হাতে আর মাত্র সময় আছে দুই দিন। তারপর ধ্বংস হয়ে যাবে আমেরিকা! বৃহস্পতিবার প্রলয়ংকারী ভূমিকম্পে তছনছ হতে পারে আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের ভিত্তিতে মহাতাণ্ডবের পূর্বাভাসে আলোড়িত সোশ্যাল মিডিয়া। ধেয়ে আসছে মহাপ্রলয়। সৌরমণ্ডলের সম্ভাব্য গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান বিচার করে জানা গেছে, নেপালে সদ্য ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি তাণ্ডবে ধ্বংস হতে পারে লস এঞ্জেলেস ও সান ফ্রান্সিসকোর বেশ কিছু এলাকা। ধারণা মনে করা হচ্ছে, রিখটার স্কেলে সম্ভাব্য কম্পনের মাত্রা ৯.৮ ছুঁতে পারে, যা নেপালের চেয়ে ২ পয়েন্ট বেশি।

এমনই দাবি জানিয়েছে ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ভিডিও। থ্রি-ডি ভিডিওটি তৈরি করেছে ডাইট্রায়ানাম মিডিয়া নামের সংস্থা। নেপথ্য কণ্ঠ নেদারল্যান্ডসের বাসিন্দা জনৈক ফ্র্যাঙ্কের। ভিডিওতে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সৌরমণ্ডলের একাধিক গ্রহ-নক্ষত্র-উপগ্রহ সমান্তরাল রেখায় অবস্থান করবে। ফ্র্যাঙ্কের দাবি, এর জেরে ওই দিন বিকেল ৪টা নাগাদ প্রচণ্ড কম্পনে ছারখার হবে আমেরিকার একাংশ। তিনি জানিয়েছেন, গত এপ্রিল মাসে নেপালের প্রবল ভূমিকম্পের আগেও এভাবেই সবাইকে সতর্ক করেছিলেন।
কীভাবে প্রলয়ের আগাম বার্তা পেলেন ফ্র্যাঙ্ক? শোনা যাক তার মুখেই, বিদেহী আত্মারা তার কাছে সর্বনাশের পূর্বাভাস করে। তিনি জানান, ২০১৩ সালের অগস্ট মাসে প্রথম প্রকৃতির ধ্বংসলীলার আগাম খবর পান তিনি, এবং তা মিলে যায়। ইউটিউবের ভিডিওতে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার পৃথিবীর ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি এও জানান, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর। ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হলে লস এঞ্জেলেস সমুদ্রগর্ভে চলে যাবে। জাপানে আছড়ে পড়বে দৈত্যাকৃতির সুনামি। সেই সঙ্গে তিনি জানান, আমার কথা ভুল প্রমাণিত হলে সবচেয়ে খুশি হব।

তবে এ বিষয়ে কী বলছেন বিজ্ঞানীরা? মহাকাশ বিজ্ঞানী ফিল প্লেইটের বক্তব্য, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখলাম বৃহস্পতিবার সৌরমণ্ডলে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান ও তার জেরে ৯.৮ মাত্রার ভূমিকম্প নিয়ে জোর আলোচনা চলেছে। প্রথমেই জানিয়ে দিই, এমন কিছু হবে না, হতে পারে না। এটাও জানাচ্ছি, গ্রহ-নক্ষত্রের সমান্তরাল রেখায় চলে আসার এমন কোনো সম্ভাবনা নেই। অন্তত পৃথিবীর সঙ্গে অন্য কোনো গ্রহ-নক্ষত্র-উপগ্রহ একই রেখায় অবস্থান করার কোনো সম্ভাবনা সেদিন নেই। এসবই বাজে কথা।

প্লেইটের মতে, গ্রহ-নক্ষত্রের একই রেখায় অবস্থান আমাদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। এর জেরে আমরা শূন্যে ভাসি না, ভূকম্পনও হয় না। এমনকি সুপারমুন উঠলেও কেউ মারা যায় না।

বিজ্ঞান যা-ই বিশ্লেষণ করুক, এতো সহজে প্রলয়ের পূর্বাভাস উড়িয়ে দিতে নারাজ সোশ্যাল মিডিয়ার হুজুগে দুনিয়া। তাই প্রায় হাওয়ার গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে গুজব। বলা বাহুল্য, তার সুবাদে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছে গেছেন এ-যুগের নস্ত্রাদামু ফ্র্যাঙ্ক।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud