April 22, 2026
নিউজ ডেস্ক: গত এক যুগের মধ্যে ২০১৩ সালে রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়ে সবচেয়ে বেশি পুলিশ আহত ও নিহত হয়। গত ১২ বছরের মধ্যে কোনো বছর ৭শ” অতিক্রম না করলেও ২০১৩ সালে এ সংখ্যা কয়েকগুন বেড়ে ১২শ”৫৭-তে দাঁড়ায়। এ বছরই ১৭ পুলিশ সদস্য নিহত হয়। বিএনপি-জামায়াতের সহিংস আন্দোলনে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের ওপর পরিকল্পিত আক্রমন এবং হামলার কারনে ২০১৩ সালে পুলিশ আহত ও নিহত হওয়ার ঘটনা অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করে বলে জানাগেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক কালো অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা ২০১৩ সালটি অতিক্রম করেছে। এ বছর রেকর্ড পরিমাণ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এর নেপথ্যে ছিল দেশের অপ-রাজনীতির ধারকদের ইন্ধন। এ বছর প্রথম থেকেই জামাত বিএনপিজোট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। আন্দোলন ও সহিংসতা ঠেকাতে সরকার পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মাঠে নামায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আক্রমনাত্নক হয়ে পুলিশ মাঠ থেকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন তৎকালীন ১৯ দলীয় ( বর্তমানে ২০ দলীয়) জোটকে কোনঠাসা করে ফেলে। এতে ১৯ দলীয় জোট বিশেষ করে জামাতের আঁতে ঘা লাগে। মুক্তিযুদ্ধে বিরোধীতাকারী এ দলটি পুলিশকে টার্গেট করে। তারা আন্দোলনের নামে পুলিশের ওপর আঘাত হানে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে যেখাইেন পুলিশ সেখানেই চলে চোরাগুপ্তা হামলা। উপুর্যপুরী চোরাগুপ্তা হামলার শিকার হয়ে পুলি সদস্যরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে পুলিশ এই রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে এ্যাকশনপ্ল্যান করে মাঠে নামে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হয়।

সূত্রমতে এ সংখ্যা ২০০২-এ ২শ’৮১, ২০০৩-এ২শ’৭১, ২০০৪-এ২শ’৮০, ২০০৫এ ২শ’৪০, ২০০৬-এ৩শ’৩৭ ২০০৭-এ২শ’৭৮, ২০০৮-এ২শ’৯৬, ২০০৯-এ৩শ’৫৭, ২০১০-এ ৪শ’৭১, ২০১১-এ ৫শ’৮১, ২০১২-এ৬শ’৫৯ হলেও ২০১৩ সালে কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়ে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১২শ’৫৭। এ বছরই মতিঝিলে হেফাজতে উশৃঙ্খল আন্দোলন দমাতে গিয়ে এবং রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়ে ১৭ জন পুলিশ নিহত হন।
এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্তকালে আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, যারা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ এ্যাকশনে যাবে এটাই স্বাভাবিক। দুঃখজনক হলেও ২০১৩ সালে জনগণের জানমালে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ওপর পরিকল্পিতভাবে আক্রমন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্নস্থানে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের শিকার হয়েছে পুলিশ যে কারনে এ বছর ১৭ পুলিশ সদস্য আহত এবং ১২শ’৫৭ জন আহত হয়। তিনি আরো বলেন, পুলিশ অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। ফলে চোরাগুপ্তা হামলাকারী, পেট্রোলবোমা মেরে বাসপুড়িয়ে মানুষ হত্যাকারীরা আজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে বিলিন হয়ে গেছে। সেসব এখন অতীত। বর্তমানে সবকিছু ঠিকঠাক এবং স্বাভাবিক আছে-এটা সর্বজন স্বীকৃত। তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে কেউ রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত হলে পুলিশ নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে কার্পন্য করবেনা।
এ ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এ আজিজ গতকাল যমুনা নিউজকে বলেন, জামায়াত বিএনপিজোটের সাথে আওয়ামী লীগের তুলনা চলবেনা। তারা করে স্বার্থের রাজনীতি আর আওয়ামীলীগ করে আদর্শেও লড়াই। সুতরাং ক্ষমতার মোহে অন্ধ জামাত বিএনপিজোট কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে শুধু পুলিশ হত্যা কেন-তারা দেশের পাকা ধানে মই দিতে কোনো কার্পন্য করবেনা।
তিনি আরো বলেন, যান-জীবন বাজি রেখে পুলিশ সদস্যরা রাজনৈতিক সহিংসতা মোকাবেলা করেছে বলেই আজ সাধারন মানুষ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্নভাবে জীবন-যাপন করতে সক্ষম হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, জননেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের অব্যাহত সাফল্যে ঈর্ষান্বিত জামায়াত-বিএনপি জোট রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে এখন বিবৃতি সর্বস্ব সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তাদের মুখোশ জনগণের কাছে উন্মোচিত হয়ে গেছে বলেই তাদের ডাকে এখন আর কেউ সারা দেয়না।
সত্যসুত্র……যমুনা