April 19, 2026

ঢাকা : আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর) সাভারের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে যাওয়া তাজরীন ট্র্যাজেডির দুই বছর পূর্ণ হলো।
এদিন তাজরীন ট্র্যাজেডির দুই বছর পূর্ণ উপলক্ষে সোমবার জুরাইন কবরস্থানে পরিবারের সদস্য ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এসময় পরিবারের সদস্যরা কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়ে।
এদিকে সকালে নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন গার্মেন্টসের সামনে আগুনে পুড়ে যাওয়া নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহত শ্রমিকরা জড়ো হয়েছেন। প্রধান ফটকের সামনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের দুই বৎসর পেরিয়ে গেলেও এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি অনেক শ্রমিকই। তাই শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ ও মালিক দেলোয়ার হোসেনের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
২০১২ সালরে ২৪ নভেম্বর তুবা গ্রুপের মালিকানাধীন তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সরকারি হিসাবে প্রাণ হারায় ১১১ জন। তবে বাস্তবিক এই সংখ্যা হয়তো আরো কয়েক গুণ বেশি। জীবন বাঁচাতে মাটিতে লাফিয়ে পড়েন অনেক শ্রমিক।

বর্তমানে বিকলাঙ্গ জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের। তবে ভয়াবহ এ ঘটনাকে নাশকতা হিসেবে দাবি করেছিলো প্রশাসন। অন্যদিকে সকালে সাভারে ধসে পড়া বহুল আলোচিত রানা প্লাজার সামনে ২০ মাস পূরণে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রানা প্লাজা ও আশুলিয়ার তাজরীন গার্মেন্টসের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ।
চার্জশিট হলেও শুরু হয়নি বিচার
মামলার চার্জশিট হলেও শুরু হয়নি তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বরের ওই ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনায় ১শ’ ১১ জন পোশাক শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন আরও ১০৪ জন।গত বছরের ২২ ডিসেম্বর ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাজরীন ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক মহসীন উজ্জামান খান। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনার এক বছর ১ মাস পর এ চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশিটভুক্ত অপর ১৩ আসামি হলেন, তাজরীনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন, তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার, প্রকৌশলী এম মাহবুবুল মোর্শেদ, ফ্যাক্টরি ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক, কোয়ালিটি ম্যানেজার শহিদুজ্জামান দুলাল, প্রডাকশন ম্যানেজার মোবারক হোসেন মঞ্জু, প্রশাসনিক কর্মকর্তা দুলাল, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম লাভলু, সিকিউরিটি সুপারভাইজার আল আমিন, ইনচার্জ আনিসুর রহমান, সিকিউরিটি গার্ড রানা ওরফে আনারুল, স্টোর ইনচার্জ আল আমিন ও লোডার শামীম মিয়া।আসামিদের সবার বিরুদ্ধে অপরাধজনক নরহত্যা (ধারা- ৩০৪ দণ্ডবিধি) ও অবহেলার কারণে মৃত্যুর (ধারা- ৩০৪ক দণ্ডবিধি) অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস, কাটিং লোডার সুজন হাওলাদার ও সোহেল রানাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বরে ভয়াবহ এ অগ্নি দুর্ঘটনার পর দিন আশুলিয়া থানার এসআই খায়রুল ইসলাম একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। এছাড়াও গত বছরের ২৯ মে অগ্নিকাণ্ডে নিহত রেহানার ভাই আব্দুল মতিন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাজরীন ফ্যাশনসের মালিক দেলোয়ার হোসেনসহ অজ্ঞাত ৩০ জনের বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা দায়ের করেন।
ভবনটির নকশায় ত্রুটি ও জরুরি নির্গমনের পথ না থাকা এবং আগুন লাগার পর শ্রমিকরা বাইরে বের হতে চাইলে নিরাপত্তা কর্মীরা আগুনটিকে অগ্নি নির্বাপন মহড়া বলে শ্রমিকদের কাজে ফেরত পাঠিয়ে কলাপসিবল গেট লাগিয়ে দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটে বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়। ১৩ জন আসামির মধ্যে এখনও চারজন আসামি পলাতক থাকায় এ বিচার শুরু হয়নি। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে জারি করা পলাতক ও ক্রোকি পরোয়ানা তামিল প্রতিবেদনের জন্য ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হক শ্যামল আগামী ৩০ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন।পলাতক আসামিরা হলেন, প্রকৌশলী এম মাহবুবুল মোর্শেদ, ফ্যাক্টরি ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক, কোয়ালিটি ম্যানেজার শহিদুজ্জামান দুলাল, প্রডাকশন ম্যানেজার মোবারক হোসেন মঞ্জু।গার্মেন্টসটিতে এক হাজার ১শ’ ৬৩ জন শ্রমিক কাজ করতেন। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় ৯৮৪ জন শ্রমিক সেখানে কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১শ’ ১১ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন ১০৪ জন শ্রমিক।নিহত ১শ’ ১১ জনের মধ্যে তৃতীয় তলায় ৬৯ জন, চতুর্থ তলায় ২১ জন, পঞ্চম তলায় ১০ জন, পরবর্তীতে বিভিন্ন হাসপাতালে মারা যান ১১ জন। মরদেহ শনাক্ত হওয়ায় ৫৮ জনকে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাকি ৫৩ জনের মরদেহ শনাক্ত না হওয়ায় তাদের অশনাক্ত অবস্থায় জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।