পৃথিবীকে জেনে নিন আপনার ভাষায়….24 Hrs Online Newspaper

চাহিদা বাড়লেও নষ্ট হচ্ছে অর্ধকোটি টাকার চিনি

Posted on November 21, 2014 | in ব্যবসা-অর্থনীতি | by

Thakurgaon-suger-mill-e1416573482821জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও চিনিকলে চিনি বিক্রি না হওয়ায় অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে। অর্থের অভাবে তাদের বেতনসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।
নিরুপায় কর্তৃপক্ষ অবিক্রিত চিনি দিয়ে পরিশোধ করেছে শ্রমিক-কর্মচারীদের গ্রাচ্যুইটির টাকা। তবে মিল থেকে পাওয়া চিনি বিক্রি করতে না পারায় বিপাকে পড়েছে তারা। এ নিয়ে অসন্তোষ আরো বাড়ছে।
দেশে চিনির চাহিদা বাড়লেও ঠাকুরগাঁও চিনিকলে স্তূপ হয়ে পড়ে আছে অবিক্রিত চিনি। গুদাম ভর্তি সেসব চিনির রঙ নষ্ট হয়ে ইতোমধ্যে গলতে শুরু করেছে। আর উৎপাদিত এসব চিনি বিক্রি করতে না পারায় শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।
মিল গেটে প্রতি কেজি চিনি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর খোলাবাজারে এ চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩৮ টাকা কেজি দরে। এ কারণে মিলের তালিকাভূক্ত ডিলাররা লোকসানের ভয়ে মিল থেকে চিনি উত্তোলন করার সাহস পাচ্ছে না।
একদিকে, মিল থেকে সরাসরি খোলাবাজারে বিক্রির অনুমতি না থাকায় বিপাকে পড়েছে কর্তৃপক্ষ অন্য দিকে ডিলারদের লোকসানের ভয়ে লালচে রংয়ের চিনি উন্নতমানের হলেও পরিত্যক্ত অবস্থায় গুদামেই পড়ে থাকছে।
ঠাকুরগাঁও চিনিকল কর্তৃপক্ষ (ঠাচিক) সূত্রমতে, গেল তিন মওসুমের সাড়ে ১২ হাজার মেট্রিক টন চিনি গুদামে পড়ে আছে অবিক্রিত অবস্থায়। এসব চিনির মূল্য অর্ধশত কোটি টাকার বেশি। গুদাম ভর্তি এসব চিনির রঙ নষ্ট হয়ে ইতোমধ্যে গলতে শুরু করেছে। টাকার অভাবে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য পাওনাদি দিতেও হিমসিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ব্যাহত হচ্ছে মিলের মেরামত কাজ। ফলে আগামী ২০১৪- ১৫ মাড়াই মওসুমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চিনিকল চালু করা নিয়ে অনিশ্চিতা দেখা দিয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বাংলামেইলকে জানান, খোলাবাজারে ভালোমানের সাদা চিনি এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪১ টাকা কেজি দরে। বেসরকারি মিল মালিকদের কাছ থেকে চিনি কিনে তারা বাজারজাত করে ব্যবসা চালাচ্ছে। চিনিকলের মিলরেট ৪০ টাকা, সেই সঙ্গে ভ্যাট-ট্যাক্স, পরিবহন খরচ দিয়ে কেজি প্রতি চিনির দাম পড়ছে ৫৪ টাকা। এতে কেজি প্রতি ৫ টাকা লোকসানের আশঙ্কায় মিল থেকে চিনি তুলছেন না ডিলাররা।
ঠাকুরগাঁও চিনিকলের তালিকাভূক্ত ডিলার শাহাজাহান খান বাংলামেইলকে জানান, সরকারের খামখেয়ালিপনায় চিনিশিল্প ধ্বংসের পথে। সরকারি মিলগুলোতে চিনি পড়ে থাকলেও ভ্রান্তনীতির কারণে তা উত্তোলন ও বিক্রি করা যাচ্ছে না। খোলা বাজারের চিনি ঝরঝরে ও পরিষ্কার। ক্রেতারা ওই চিনি কিনতে বেশি আগ্রহী। ফলে ডিলার হওয়া সত্ত্বেও চিনিকলের ভারি ও ভেজা চিনি উত্তোলন করা হয়নি।
এদিকে চিনি বিক্রি না হওয়ায় শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। এতে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে মিলে। নিরুপায় মিল কর্তৃপক্ষ শ্রমিক-কর্মচারীদের গ্রাচ্যুইটির টাকার পরিবর্তে এবার দেয়া হয়েছে চিনি। কিন্তু ওই চিনি বাজারে বিক্রি করতে পারছে না তারা। এ ঘটনায় শ্রমিক কর্মচারীদের ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়ার মতো অবস্থা হয়েছে।
ঠাচিক শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দস বাংলামেইলকে জানান, চিনিকলে কয়েকটি গুদাম ভর্তি চিনি পড়ে আছে। অথচ গত রমজানে সারাদেশে খোলাবাজারে চিনির ব্যাপক চাহিদা ছিল। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় এই চিনি বিক্রি হয়নি।
ঠাকুরগাঁও চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ বাংলামেইলকে জানান, প্রাইভেট রিফাইনারিরা কম দামে বাজারে চিনি বিক্রি করতে পারছে। দেশের চিনি শিল্পের সাথে সঙ্গতি রেখে সরকারি চিনিকলের ভ্যাট, ট্যাক্স, শুল্কায়ন হওয়া উচিত। তাহলে চিনির অসম বাজার ব্যবস্থা থাকবে না।

Comments are closed.

সর্বশেষ খবর

আজকের ছবি

www.facebook.com

Tag Cloud