May 2, 2026
ঢাকা: বিদেশিদের কাছে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার সময় বাড়িওয়ালাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (দক্ষিণ) উপ-কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়। অবৈধভাবে অবস্থানকারী ৩১ বিদেশি নাগরিক আটকের পর শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে কৃষ্ণপদ রায় বলেন, সম্প্রতি ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকরা খুন, প্রতারণা, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কাজ করছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার ভোররাতে ডিএমপি’র গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ অভিযান চালিয়ে রাজধানীতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের ৩১ নাগরিককে আটক করে। অভিযানটি রামপুরা, গুলশান, উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম থানার মোট ১৪৭টি বাড়িতে পরিচালনা করা হয়। তিনি আরও বলেন, রামপুরা থানার বনশ্রী এলাকা থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে তিনজন গাম্বিয়ান, একজন সেনেগাল, দুইজন উগান্ডা ও পাঁচজন নাইজেরিয়ান নাগরিক। তবে দুইজন নাইজেরিয়ান ও একজন গাম্বিয়ান নাগরিকের ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন বিভাগের ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অন্য আটজনের বৈধ কোনো কাগজপত্র না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার আরো বলেন, গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় চারজনকে আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে তিনজন উগান্ডা ও একজন কেনিয়ার নাগরিক। উত্তরা থেকে আটক করা হয় ১৬ জনকে। এদের মধ্যে দুইজন নারী।
এছাড়া সাতজন নাইজেরিয়ান, চারজন ক্যামেরুনের নাগরিক, দুইজন আইভোরিকোস্টের নাগরিক, একজন টোগো, একজন মালি ও একজন মোজাম্বিকের নাগরিক। তাদের সবার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষ্ণপদ রায় বলেন, আটক অবৈধ বিদেশি নাগরিকরা কেন ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটকদের মধ্যে বেশিরভাগই আফ্রিকান নাগরিক। এরা স্টুডেন্ট ও টুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। তারা বড় কোনো অপরাধে জড়িত কিনা তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এর আগেও নাইজেরিয়ান এক নাগরিক হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং আফ্রিকান কয়েকজন নাগরিক মাদক ব্যবসা ও বৈদেশিক মুদ্রা জালের দায়ে আটক হয়েছেন বলেও জানান তিনি। অনেক অভিযোগ আসে। কিন্তু আসল অপরাধীদের তখন খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ অভিযোগ পাওয়ার আগেই তারা নিজ দেশে পালিয়ে যান বলেও মন্তব্য করেন কৃষ্ণপদ রায়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম, পুলিশের (মিডিয়া) উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান, এডিসি (দক্ষিণ) আব্দুল আহাদ প্রমুখ।